• Sitemap
  • Advance Search
Infrastructure

কেন-বেতওয়া সংযোগ প্রকল্প

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি

Posted On: 21 AUG 2026 4:19PM

নয়াদিল্লি, ২১ আগস্ট ২০২৬

 

প্রকল্প সম্পর্কে

১. কেন-বেতওয়া সংযোগ প্রকল্প কি?

কেন-বেতওয়া সংযোগ প্রকল্প বা কেবিএলপি একটি গুরুত্বপূর্ণ জলসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প। মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাভাব এবং সেচ-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান এর লক্ষ্য। দৌধন বাঁধ, সংযোগ খাল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন অববাহিকা থেকে বেতওয়া অববাহিকায় জল স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। নদী সংযোগের জাতীয় পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনার অধীনে বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছনো এটিই প্রথম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প।

২. প্রকল্পটির রূপরেখা কি?

মধ্যপ্রদেশের পান্না ও ছতরপুর জেলায় কেন নদীর উপর ৯৬.৭ মিটার উঁচু দৌধন বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। খাজুরাহো থেকে বাঁধটির দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। দৌধন বাঁধের কাছে শুরু হবে ২১৬.৪৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কেন-বেতওয়া সংযোগ খাল। ঝাঁসির কাছে বরুয়া সাগরে গিয়ে এটি মিলবে। প্রকল্পের অন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল লোয়ার ওর প্রকল্প, কোথা ব্যারাজ এবং বিনা কমপ্লেক্স বহুমুখী প্রকল্প। উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ সরকার বিভিন্ন সেচ ও জল-পরিকাঠামো প্রকল্পও বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান খাল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও শক্তিবৃদ্ধি, জলাধার ও ক্ষুদ্র বাঁধের সংস্কার, ব্যারাজ নির্মাণ, পাম্পিং ও চাপযুক্ত পাইপ এবং ক্ষুদ্র সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যমান সেচ এলাকার স্থিতিশীলতা এবং নতুন সেচ এলাকার উন্নয়ন। এর সঙ্গে জল সরবরাহ ও সেচ-সংক্রান্ত অন্যান্য প্রকল্পও বাস্তবায়িত হবে।

৩. প্রকল্পটির মোট ব্যয় কত?

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৪৪,৬০৫ কোটি টাকা।

৪. প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা কি?

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৪-এর ২৫ ডিসেম্বর প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। খাল নির্মাণের কাজ এখনও শুরু হয়নি।

লোয়ার ওর প্রকল্প, কোথা ব্যারাজ এবং বিনা কমপ্লেক্স বহুমুখী প্রকল্পের কাজ চলছে। মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের অন্য রাজ্য-নির্দিষ্ট প্রকল্পগুলির বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন তৈরির কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

৫. এই প্রকল্প কেন প্রয়োজন?

বুন্দেলখণ্ড অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বারবার জলাভাবের সমস্যায় ভুগছে। কৃষি মূলত বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত সেচের সুবিধারও অভাব রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলের প্রাপ্যতা কমেছে। খরার সময়ে কৃষিক্ষেত্র বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কেন-বেতওয়া সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে সেচ ও পানীয় জলের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য জল সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প থেকে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিও উৎপাদিত হবে। বুন্দেলখণ্ডের সামগ্রিক আঞ্চলিক উন্নয়নেও এটি সহায়ক হবে।

সুতরাং এটি শুধু একটি সেচ প্রকল্প নয়। বুন্দেলখণ্ডে জল সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের একটি বিস্তৃত উদ্যোগ হিসেবেও প্রকল্পটির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

৬. প্রকল্পটির প্রধান সুবিধাগুলি কী?

প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ১০.৬২ লাখ হেক্টর জমিতে সেচের সুবিধা পৌঁছবে। প্রায় ৬২ লাখ মানুষ পানীয় জল পাবেন। উৎপাদিত হবে ১০৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ এবং ২৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ।

এর ফলে মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সারা বছর নির্ভরযোগ্য সেচের ব্যবস্থা হবে। পরিষ্কার পানীয় জল ও বিদ্যুতের সুবিধাও মিলবে। বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলসংকট মোকাবিলায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

৭. কোন কোন এলাকা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে?

মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের জলাভাবগ্রস্ত বুন্দেলখণ্ড অঞ্চল প্রকল্পটির সুবিধা পাবে।

মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর, নিবাড়ি, টিকমগড়, পান্না, সাগর, দামোহ, দাতিয়া, বিদিশা, শিবপুরী ও রাইসেন জেলা উপকৃত হবে।

উত্তরপ্রদেশের বান্দা, মহোবা, ঝাঁসি ও ললিতপুর জেলাও প্রকল্পটির সুবিধা পাবে।

৮. কেন-বেতওয়া সংযোগ প্রকল্পে স্থানীয় এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে কি?

হ্যাঁ। কেন-বেতওয়া সংযোগ প্রকল্প নির্মাণপর্বে স্থানীয় এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অসামরিক নির্মাণ, প্রকৌশল, পরিবহণ, নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ, যন্ত্র পরিচালনা, নিরাপত্তা, পরিষেবা এবং অন্যান্য সহায়ক কাজে কর্মসংস্থান হচ্ছে।

স্থানীয় দোকানদার, পরিবহণ ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী এবং পরিষেবা প্রদানকারীরাও বাড়তি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুবিধা পাচ্ছেন।

দীর্ঘমেয়াদে সেচ ও জলের প্রাপ্যতা বাড়লে কৃষি এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রেও নতুন জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

৯. কেন-বেতওয়া সংযোগ প্রকল্প বুন্দেলখণ্ডের কৃষিক্ষেত্রকে কিভাবে উন্নত করবে?

প্রকল্পের মাধ্যমে সেচের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য জল পাওয়া যাবে। অনিশ্চিত বৃষ্টির উপর নির্ভরতা কমবে। কৃষকেরা আরও নিশ্চিন্তভাবে কৃষিকাজের পরিকল্পনা করতে পারবেন।

সেচের জল বাড়লে ফসলের নিবিড়তা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। ফসলের বৈচিত্র্য বাড়বে। উচ্চমূল্যের ফসল চাষের সুযোগও তৈরি হবে। খরার ক্ষতির ঝুঁকি কমবে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা মিলবে। এর ফলে, বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে গ্রামীণ জীবিকা আরও শক্তিশালী হবে।

১০. কেবিএলপি কি বুন্দেলখণ্ড থেকে খরার সমস্যা সম্পূর্ণ দূর করবে?

প্রকল্পটি খরার সমস্যা সম্পূর্ণ দূর করে দেবে, এমন দাবি করা সমীচীন নয়।

তবে কেবিএলপির সেচ এলাকা ও সুবিধাপ্রাপ্ত অঞ্চলে জল সুরক্ষা এবং খরা মোকাবিলার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। নির্ভরযোগ্য সেচ ও পানীয় জলের সহায়তাও মিলবে।

১১. ভূগর্ভস্থ জলের স্তর কি উন্নত হবে?

সেচ ও অন্যান্য প্রয়োজনে ভূপৃষ্ঠের জলের ব্যবহার বাড়লে উপযুক্ত এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমতে পারে।

প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব হলে সংযোগ খালের পাশের জলাধারগুলিতে জল পুনরায় ভরার ব্যবস্থাও রয়েছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণ এবং স্থানীয় জল সুরক্ষায় সহায়তা মিলতে পারে।

তবে ভূগর্ভস্থ জলের প্রকৃত উন্নতি স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করবে। ভূগর্ভস্থ জলের সুস্থায়ী ব্যবহারও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

১২. এই উন্নয়নের ফলে বৃহত্তর অঞ্চল কিভাবে উপকৃত হবে?

খরার ক্ষতি থেকে ফসলকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। কৃষি উৎপাদন বাড়বে। ক্ষতি কমবে। কৃষক পরিবারের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

উন্নত নাগরিক পরিষেবা ও যোগাযোগের ফলে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষিকাজ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং কাজের সন্ধানে বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রবণতা কমার ফলে এই অনুন্নত অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক সমৃদ্ধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। উন্নত পরিকাঠামো নতুন স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বাণিজ্যিক বাজার ও কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে সহায়ক হতে পারে।

১৩. নিম্নপ্রবাহের গ্রামগুলিতে কি জলের ঘাটতি দেখা দেবে?

না। পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে সারা বছর ন্যূনতম পরিবেশগত জলপ্রবাহ নিশ্চিত রাখা হবে। এর ফলে নিম্নপ্রবাহের কৃষিকাজ, পানীয় জলের প্রয়োজন এবং জলজ বাস্তুতন্ত্রের উপর বিরূপ প্রভাব এড়ানো সম্ভব হবে।

এই অঞ্চলে গড়ে ওঠা জল-পরিকাঠামো ভূগর্ভস্থ জলের প্রাপ্যতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।

১৪. প্রবল বর্ষার সময়ে বন্যার ঝুঁকি কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে?

বাঁধটি বন্যার অভিঘাত কমাতে সহায়ক হবে। স্বয়ংক্রিয় স্পিলওয়ে গেট এবং ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জলপ্রবাহের উপর নজর রাখা হবে। নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলিতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি কমানোই এর উদ্দেশ্য।

১৫. কেবিএলপির সুবিধা কি এর প্রভাবের তুলনায় বেশি?

প্রচলিত প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং সামাজিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্পটির মূল্যায়ন করা হয়েছে। কেবিএলপির মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে সেচ, পানীয় জল ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অনিবার্য প্রভাব মোকাবিলায় প্রশমন এবং পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা ব্যবস্থাও কার্যকর করা হচ্ছে।

প্রভাব উপেক্ষা করা সমাধান নয়। প্রভাব যতটা সম্ভব কমানো, তার প্রতিকার করা, ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকল্পের নির্ধারিত জনকল্যাণমূলক সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে।

১৬. কেন-বেতওয়া সংযোগ প্রকল্প কি শুধু কৃষকদের জন্য উপকারী?

না। কেন-বেতওয়া সংযোগ প্রকল্পের সুবিধা শুধু সেচের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

কৃষকেরা সেচের সুবিধা পাবেন। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের মানুষ পানীয় জল পাবেন। জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শক্তি ক্ষেত্রও উপকৃত হবে। স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়বে।

সামগ্রিকভাবে প্রকল্পটি বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের জল সুরক্ষা, কৃষি উন্নয়ন এবং আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে সহায়ক হবে।

১৭. কেবিএলপি কি পরিবহণ পরিকাঠামোর উন্নতি ঘটাবে?

বৃহৎ জলসম্পদ প্রকল্পের জন্য সংযোগ সড়ক, সেতু, প্রবেশপথ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রয়োজন হয়।

প্রকল্পের অংশ হিসাবে এই ধরনের পরিকাঠামো তৈরি বা উন্নত হলে আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে।

১৮. প্রকল্পের সড়কগুলি কি স্থানীয় মানুষের উপকারে আসবে?

প্রকল্প-সংক্রান্ত সড়ক ও যোগাযোগ পরিকাঠামো আশপাশের মানুষের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। এর মধ্যে রয়েছে:

কৃষিপণ্য পরিবহণ

বাজারে পৌঁছানোর সুবিধা
স্কুল ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় যাতায়াতের সুবিধা
নির্মাণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা
মানুষ ও পণ্য পরিবহণের সুবিধা
প্রকল্পের বিভিন্ন পরিষেবায় পৌঁছনোর সুবিধা

কেবিএলপি কি সরাসরি একটি নতুন পরিবহণ অলিন্দ গড়ে তুলবে?

কেবিএলপি মূলত একটি জলসম্পদ ও শক্তি প্রকল্প। তাই পরিবহণ-সংক্রান্ত সুবিধাকে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সড়ক, সেতু এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরিখে দেখা উচিত।

কোনও নির্দিষ্ট পরিবহণ পরিকাঠামো প্রকল্পের অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না পেলে কেবিএলপিকে স্বতন্ত্র পরিবহণ প্রকল্প হিসাবে বর্ণনা করা সমীচীন নয়।

১৯. কেন-বেতওয়া সংযোগ প্রকল্পে পানীয় জল সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেন?

কৃষির পাশাপাশি, গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার জন্য জল সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভরযোগ্য পানীয় জল জনস্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবারের দৈনন্দিন সুরক্ষায় সহায়ক।

পানীয় জল সংগ্রহে পরিবারের সময় ও শ্রম কমবে। বিশেষ করে মহিলারা উপকৃত হবেন। শিক্ষা, জীবিকা এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সুতরাং কেবিএলপির কৃষি ও মানব উন্নয়ন, দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

জমি, গ্রাম ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ

২০. কেন-বেতওয়া সংযোগ প্রকল্পের জন্য জমির প্রয়োজন কেন?

কেবিএলপির বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী অংশ নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য জমির প্রয়োজন।

এর মধ্যে রয়েছে দৌধন বাঁধ ও সংশ্লিষ্ট কাঠামো, জলাধার ও প্লাবিত এলাকা, কেন-বেতওয়া সংযোগ খাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সংযোগ সড়ক, প্রকল্প-পরিকাঠামো, আবাসন, নির্মাণ-সংক্রান্ত ব্যবস্থা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়ক কাজ।

২১. মধ্যপ্রদেশে প্রকল্পের ফলে কতগুলি গ্রাম প্রভাবিত হয়েছে?

মোট ২২টি গ্রাম প্রভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে পান্না জেলায় আটটি এবং ছতরপুর জেলায় ১৪টি গ্রাম রয়েছে।

২২. কেন-বেতওয়া সংযোগ প্রকল্পের জন্য কি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

হ্যাঁ। পরিবেশগত অনুমোদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে পরিবেশ প্রভাব মূল্যায়ন বিজ্ঞপ্তি, ২০০৬-এর বিধান অনুসারে গণ-শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

গণশুনানিতে স্থানীয় মানুষ ও অন্যান্য অংশীজনের উত্থাপিত উদ্বেগ ও পরামর্শ বিবেচনা করা হয়েছে। পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং প্রশমনমূলক ব্যবস্থা চূড়ান্ত করার সময় সেগুলির গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

২৩. মানুষের সম্মতি ছাড়া কি জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে?

না। ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং স্বচ্ছতার অধিকার আইন, ২০১৩ এবং মধ্যপ্রদেশ সরকারের প্রযোজ্য অন্যান্য আইন অনুসারে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে।

আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সম্মতি নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী পুনর্বাসন পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মধ্যপ্রদেশ সরকার প্রকল্পের অধীনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য একটি বিস্তৃত পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সংশ্লিষ্ট সব কাজ এই প্যাকেজের আওতায় করা হচ্ছে।

পুনর্বাসন পরিকল্পনা সম্মতির ভিত্তিতে কার্যকর হচ্ছে। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দুটি বিকল্প দেওয়া হয়েছে। একটি হল সাধারণ ভূমি অধিগ্রহণ আইনের অধীনে ক্ষতিপূরণ। অন্যটি আরও উদার বিশেষ প্যাকেজ।

২৪. জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে?

জমির মালিকানা ও প্রাপ্যতার বিষয়গুলি উপযুক্ত রাজস্ব ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। জেলা শাসকের নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।

মালিকানা, উত্তরাধিকার বা প্রাপ্যতা নিয়ে বিরোধ থাকলে প্রযোজ্য আইন এবং প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসারে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়।

ক্ষতিপূরণ ও বিশেষ পুনর্বাসন প্যাকেজ

২৫. কেবিএলপির অধীনে পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কি মধ্যপ্রদেশ সরকার কোনও বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে?

হ্যাঁ। মধ্যপ্রদেশ সরকার ২০২৩ সালে প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করে।

এই প্যাকেজের অধীনে অধিগৃহীত জমির জন্য আইন অনুসারে নির্ধারিত হার অথবা প্রতি হেক্টরে ১২.৫০ লাখ টাকা, এই দুটির মধ্যে যেটি বেশি, সেই হারে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।

বাড়ি, গাছ, কুয়ো, নলকূপ এবং অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির ক্ষতিপূরণও আইন অনুসারে নির্ধারিত হবে।

যোগ্য পরিবারগুলি গ্রামীণ এলাকায় জমির প্লটের জন্য ৭ লাখ টাকা অনুদান পাচ্ছে। শহরাঞ্চলে এই অনুদানের পরিমাণ ৬.৫০ লাখ টাকা।

জমির প্লট না নিলে যোগ্য পরিবারগুলি এককালীন ১২.৫০ লাখ টাকা সহায়তা পাবেন।

তফসিলি এলাকায় বসবাসকারী যোগ্য তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি পরিবারগুলির জন্য অনুমোদিত প্যাকেজে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।

২৬. ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং স্বচ্ছতার অধিকার আইন, ২০১৩ অনুযায়ী কাদের প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার হিসাবে গণ্য করা হয়?

প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের ফলে কোনও পরিবারের জমি, বাড়ি, সম্পত্তি, বনাধিকার অথবা প্রধান জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই পরিবারকে প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার হিসেবে গণ্য করা হয়।

এর মধ্যে রয়েছে:

যাঁদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে
যাঁদের জীবিকা জমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
ভাড়াটে, কৃষিশ্রমিক এবং ভাগচাষি, যাঁদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
স্বীকৃত বনাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া তফসিলি উপজাতি ও ঐতিহ্যগত বনবাসী
ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং স্বচ্ছতার অধিকার আইন, ২০১৩-এর ধারা ৩(গ)-এর আওতায় থাকা অন্যান্য যোগ্য পরিবার

এই পরিবারগুলি আইন এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হতে পারে।

২৭. কেবিএলপিতে পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুবিধার জন্য একটি পরিবারকে কিভাবে গণ্য করা হয়?

ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং স্বচ্ছতার অধিকার আইন, ২০১৩-এর ধারা ৩(এম) অনুযায়ী একটি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি, তাঁর স্বামী বা স্ত্রী, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান এবং নির্ভরশীল অপ্রাপ্তবয়স্ক ভাই ও বোন।

পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুবিধার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিতদের পৃথক পরিবার হিসাবে গণ্য করা হয়:

১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি পুত্র বা কন্যা, বিবাহিত বা অবিবাহিত নির্বিশেষে
বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্না এবং পরিবার পরিত্যক্ত মহিলা

সুতরাং কেবিএলপিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইন অনুসারে যোগ্য পৃথক পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সমীক্ষা ও যাচাইয়ের ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

২৮. প্রকল্পের ফলে জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের জন্য কেবিএলপিতে কি সহায়তা রয়েছে?

ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং স্বচ্ছতার অধিকার আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শুধু জমির মালিকানাই পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুবিধার একমাত্র ভিত্তি নয়। 

যোগ্য পরিবারগুলি কেবিএলপির অনুমোদিত পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা ব্যবস্থার অধীনে প্রযোজ্য সুবিধা পাবেন।

২৯. স্থানান্তরের পরে মানুষকে জীবিকা অর্জনে কিভাবে সহায়তা করা হচ্ছে?

বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে জীবিকা পুনর্গঠনের বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৃত্তিমূলক ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জন্য আর্থিক অনুদান, ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য সহায়তা এবং প্রকল্প পরিচালনায় অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ।

৩০. যাঁদের নিজস্ব জমি নেই, কিন্তু প্রকল্পের ফলে যাঁদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের জন্য কেবিএলপিতে কি সহায়তা রয়েছে?

কেবিএলপির কারণে যাঁদের প্রধান জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন যোগ্য ভূমিহীন পরিবারগুলিকেও প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। আইন এবং প্রযোজ্য রাজ্য সরকারের বিধান অনুযায়ী তাঁদের যোগ্যতা নির্ধারিত হবে।

ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন

৩১. জমির জন্য কত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়?

পরিবারগুলিকে ভূমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্য অথবা মধ্যপ্রদেশ সরকার ঘোষিত বিশেষ প্যাকেজ অনুযায়ী প্রতি হেক্টরে ১২.৫০ লক্ষ টাকা, দুটির মধ্যে যেটি বেশি, সেই পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

৩২. জমির উপর থাকা বাড়ি, গাছ ও কুয়োর জন্য কী ব্যবস্থা রয়েছে?

বাড়ি, গাছ, কুয়ো, নলকূপ এবং অন্যান্য স্থায়ী সম্পত্তির জন্যও আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

৩৩. কোনও পরিবার শুধু নগদ অর্থের পরিবর্তে নতুন বাড়ির জন্য জমি চাইলে কি হবে?

যোগ্য পরিবারগুলি গ্রামীণ এলাকায় বাড়ির জমির জন্য ৭ লক্ষ টাকা এবং শহরাঞ্চলে ৬.৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান পেতে পারে।

৩৪. কোনও পরিবার জমি না নিতে চাইলে কী হবে?
সেক্ষেত্রে পরিবারটি এককালীন ১২.৫০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা বেছে নিতে পারে।

৩৫. তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি পরিবারের জন্য কি অতিরিক্ত সহায়তা রয়েছে?

হ্যাঁ। তফসিলি এলাকায় বসবাসকারী যোগ্য তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি পরিবারগুলি সাধারণ প্যাকেজের অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা পায়।

৩৬. এই বিশেষ প্যাকেজ কে অনুমোদন করেছে?
মধ্যপ্রদেশ সরকার ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পরে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ বিশেষ প্যাকেজটি অনুমোদন করে।

৩৭. এখনও পর্যন্ত কত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে?

সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৩৬০.৬৬ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে পরিবারগুলিকে প্রায় ৩২১.৯৭ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৮৯ শতাংশ, প্রদান করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের বসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের ৯৪ শতাংশেরও বেশি অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

৩৮. গোটা প্রকল্পে ক্ষতিপূরণ প্রদানের পরিমাণ কত?

গোটা প্রকল্পে ৫,০৩৯টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য প্রায় ৬২৯.৮৭ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০৪.৭৪৫ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৯৬ শতাংশ, প্রদান করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাকি অর্থ দেওয়া হবে।

৩৯. জমির ক্ষতিপূরণ কিভাবে নির্ধারণ ও প্রদান করা হয়?

সরকারি বাজারদর এবং আইন অনুযায়ী পুনর্বাসন ভাতা বিবেচনা করে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা এবং অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এড়াতে জমির মালিকদের যাচাইকৃত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানো হয়।

৪০. বিশেষ স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সংক্রান্ত কোনও উদ্যোগ রয়েছে কি?

হ্যাঁ। চলতি জনকল্যাণ কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির, ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য পরিষেবা, স্কুলের পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।

৪১. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি কেবিএলপিএ-র দৃষ্টিভঙ্গি কী?

কেন-বেতওয়া লিঙ্ক প্রকল্প কর্তৃপক্ষ, কেবিএলপিএ স্বীকার করে যে, ভূমি অধিগ্রহণের প্রভাব শুধু জমি ও সম্পত্তির উপর পড়ে না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জীবন ও জীবিকাও প্রভাবিত হয়। সেই কারণে সময়মতো ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, পুনঃস্থাপন, জীবিকা সহায়তা, প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানান্তর, পুনর্বাসন এলাকায় নাগরিক সুবিধা, ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে পরামর্শ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুনর্বাসন ও পুনঃস্থাপন প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে আচরণ করাই এর লক্ষ্য।

৪২. ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকেরা কি ক্ষতিপূরণ পাবেন?
হ্যাঁ। যোগ্য জমির মালিক এবং জমির উপর স্বীকৃত অধিকার বা স্বার্থ থাকা অন্যান্য ব্যক্তিরা প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য অনুমোদিত সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।

ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হল, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা আইন অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা পান তা নিশ্চিত করা।

কাউকে যাতে বাদ না দেওয়া হয়

৪৩. কারও নাম ক্ষতিপূরণের তালিকা থেকে বাদ পড়লে কি হবে?
উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির আবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন ছতরপুর ও পান্নার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলিতে পুনরায় সমীক্ষা করেছে। আগে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নাম এখন ক্ষতিপূরণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

৪৪. প্রক্রিয়াটি ন্যায্য ও নির্ভুল রাখার দায়িত্ব কার?

জেলা প্রশাসন নিয়মিত ভূমি সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে। ভূমি অধিগ্রহণ আইনের অধীনে গঠিত জাতীয় পর্যবেক্ষণ কমিটিও গোটা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার তদারকি করে।

৪৫. নথিপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্রের কাজে পরিবারগুলিকে কে সহায়তা করে?

নির্দিষ্ট মাঠ-সহায়তা আধিকারিকেরা প্রতি সপ্তাহে গ্রামে যান। তাঁরা প্রাপ্যতার যাচাই, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং আবেদনপত্র জমা দেওয়ার কাজে বিনামূল্যে সহায়তা করেন।

৪৬. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি কি এখনও অভিযোগ জানাতে পারে?

হ্যাঁ। অভিযোগ নিয়মিত গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলিতে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির অভিযোগ শোনা ও সমাধানের জন্য প্রশাসন বিশেষ শিবিরও আয়োজন করেছে।

৪৭. প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের প্রতি কেবিএলপিএ-র বার্তা কি?
কেবিএলপিএ-র বার্তা স্পষ্ট। বুন্দেলখণ্ডের উন্নয়নের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণের সমন্বয় ঘটাতে হবে। ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পুনঃস্থাপন এবং পরিবেশ সংক্রান্ত ব্যবস্থা কার্যকর করতে কেবিএলপিএ সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করছে। সমস্ত কাজ প্রযোজ্য আইন, অনুমোদিত পরিকল্পনা এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই করা হচ্ছে। লক্ষ্য হল ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা।

উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির জন্য সহায়তা

৪৮. উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির শিশুদের বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

হ্যাঁ। শিশুদের শিক্ষা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য তাদের স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ভর্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

৪৯. উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলিকে কি স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হয়?

হ্যাঁ। স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং ওষুধ বিতরণ করা হয়। পানীয় জলের হাতপাম্প মেরামতের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

৫০. উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলি কি অন্যান্য সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পান?

হ্যাঁ। বিশেষ শিবিরের মাধ্যমে পরিবারগুলিকে অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধার সঙ্গেও যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে পশুপালন, সামাজিক সুরক্ষা এবং মহিলা ও কন্যাদের কল্যাণমূলক প্রকল্প রয়েছে।

৫১. স্থানান্তরের পরেও কি সরকার উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখে?

হ্যাঁ। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। এর ফলে কোনও সমস্যার কথা দ্রুত জানা যায় এবং অভিযোগ ন্যায্য ও দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।

আদিবাসী ও বননির্ভর জনগোষ্ঠীর অধিকার

৫২. এই প্রকল্পে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার কি সুরক্ষিত?

হ্যাঁ। বনাধিকার আইন, ২০০৬ অনুযায়ী তফসিলি উপজাতি এবং অন্যান্য বননির্ভর জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বনাধিকার স্বীকৃতি ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

৫৩. বন ছাড়পত্রের আগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মতি নেওয়া হয়েছিল কি?
সংশ্লিষ্ট জেলা শাসকেরা বনাধিকার আইন, ২০০৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট গ্রামসভার স্বাধীন, পূর্ববর্তী ও অবহিত সম্মতি নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। প্রযোজ্য আইনি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই ৩ অক্টোবর ২০২৩ প্রকল্পটির জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক বন ছাড়পত্র দেয়।

পরিবেশ ও আইনি ছাড়পত্র

৫৪. প্রকল্পটি কি প্রয়োজনীয় সব সরকারি ছাড়পত্র পেয়েছে?
হ্যাঁ। প্রকল্পটি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব বিধিবদ্ধ ছাড়পত্র পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৭ সালের পরিবেশগত ছাড়পত্র, ২০১৬ সালের বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত ছাড়পত্র, ২০১৭ সালের জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রকের ছাড়পত্র এবং ২০২৩ সালের বন ছাড়পত্র।

৫৫. কেন-বেতওয়া লিঙ্ক প্রকল্পের কি পরিবেশগত প্রভাব পড়বে?
বৃহৎ জলসম্পদ প্রকল্পের মতো কেন-বেতওয়া লিঙ্ক প্রকল্পেরও পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে। এর জন্য সতর্ক মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

প্রকল্পে পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রযোজ্য পরিবেশ, বন ও বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত শর্তও মানা হচ্ছে।

উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে পাশাপাশি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নীতির ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

৫৬. প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে কেন-বেতওয়া লিঙ্ক প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে কি সমীক্ষা হয়েছিল?
হ্যাঁ। বিধিবদ্ধ ছাড়পত্র প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে কেন-বেতওয়া লিঙ্ক প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা করা হয়েছিল। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে ২০১৭-র ২৫ আগস্ট  প্রকল্পটিকে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়া হয়। নির্ধারিত শর্ত এবং ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর ব্যবস্থা সাপেক্ষে বন্যপ্রাণ ও বন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও দেওয়া হয়।

চিহ্নিত পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলা ও কমাতে প্রকল্পে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, ক্ষতিপূরণমূলক বনসৃজন, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিভিন্ন ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।

৫৭. পান্না টাইগার রিজার্ভের মূল এলাকায় বনভূমি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি কিভাবে পূরণ করা হচ্ছে?
কেন-বেতওয়া লিঙ্ক প্রকল্পের অনিবার্য বনভূমি ক্ষয় ও জীববৈচিত্র্যের উপর প্রভাব মোকাবিলায় একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিপূরণমূলক বনসৃজন, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ও আবাসস্থল ব্যবস্থাপনা, জলগ্রহণ এলাকা উন্নয়ন এবং বৃহত্তর পান্না ভূদৃশ্যের সমন্বিত ভূদৃশ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

এ ছাড়াও ক্ষতিপূরণমূলক ব্যবস্থার জন্য পান্না টাইগার রিজার্ভের মূল এলাকার সংলগ্ন সমপরিমাণ বন-বহির্ভূত জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ সংরক্ষিত এলাকার আশপাশের আবাসস্থল ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

৫৮. পান্না টাইগার রিজার্ভ নিয়ে কি উদ্বেগ রয়েছে?
পান্না অঞ্চলের সঙ্গে প্রকল্পটির অবস্থানগত ও পরিবেশগত সম্পর্ক রয়েছে। এই কারণে বন্যপ্রাণ ও বন সংক্রান্ত বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রকল্প পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সরকার প্রকল্পের সঙ্গে যুক্তভাবে বৃহত্তর ভূদৃশ্যভিত্তিক পরিকল্পনা ও সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে।

৫৯. পরিবেশ ও বন্যপ্রাণ রক্ষায় কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?

প্রকল্পটির লক্ষ্য শুধু বুন্দেলখণ্ডে জল সুরক্ষা নিশ্চিত করা নয়। বাঘ, শকুন ও ঘড়িয়ালের মতো ভূদৃশ্যনির্ভর প্রজাতির সামগ্রিক সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনুমোদিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ক্ষতিকর প্রভাব প্রশমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভারতীয় বন্যপ্রাণ সংস্থা পান্না টাইগার রিজার্ভ এবং সংলগ্ন এলাকায় বন্যপ্রাণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য একটি বিস্তৃত সমন্বিত ভূদৃশ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করেছে। বৃহত্তর পান্না ভূদৃশ্যের এই পরিকল্পনা ভারতের সংরক্ষণ ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্বতন্ত্র উদ্যোগ।

৬০. বৃহত্তর পান্না ভূদৃশ্য পরিষদ কি?
পান্না টাইগার রিজার্ভ ও সংলগ্ন এলাকায় বন্যপ্রাণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য একটি বিস্তৃত সমন্বিত ভূদৃশ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।

এই পরিকল্পনা সুশৃঙ্খল ও সময়বদ্ধভাবে কার্যকর করতে মধ্যপ্রদেশ সরকারের মুখ্যসচিবের সভাপতিত্বে বৃহত্তর পান্না ভূদৃশ্য পরিষদ গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতিনিধিরা এই পরিষদের সদস্য।

কেন-বেতওয়া লিঙ্ক প্রকল্পের অধীনে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং সমন্বিত ভূদৃশ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দও রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

৬১. ক্ষতিপূরণমূলক বনসৃজন কি?
অনুমোদিত প্রকল্পের প্রয়োজনে বনভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বন আইন ও অনুমোদন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণমূলক বনসৃজন এবং অন্যান্য নির্ধারিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অনুমোদিত বনভূমি ব্যবহারের প্রভাব পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশ পুনরুদ্ধারে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

৬২. কেন-বেতওয়া লিঙ্ক প্রকল্প কি জীববৈচিত্র্যের উপর প্রভাব ফেলবে?
জীববৈচিত্র্যের উপর সম্ভাব্য প্রভাব প্রকল্প পরিকল্পনার সময় বিবেচনা করা হয়েছে। অনিবার্য প্রভাব কমানো, নিয়ন্ত্রণ এবং তার ক্ষতিপূরণের জন্য প্রকল্পে প্রশমন ও সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্মাণ ও পরিচালনাকালেও পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ চলবে।

আগামী দিনের প্রস্তুতি

৬৩. প্রকল্পটি নির্ধারিত পথে এগিয়ে চলেছে তা নিশ্চিত করতে কি করা হচ্ছে?
ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের কাজ স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সময়বদ্ধভাবে এগিয়ে চলছে। স্থানীয় আধিকারিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

৬৪. আগামী দিনে প্রকল্পটির বৃহত্তর লক্ষ্য কি?
বুন্দেলখণ্ডের উন্নয়নের প্রয়োজন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির অধিকার ও কল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই প্রকল্পটির বৃহত্তর লক্ষ্য। মর্যাদার সঙ্গে পুনর্বাসন সম্পন্ন করার পাশাপাশি, বুন্দেলখণ্ডে দীর্ঘমেয়াদী সেচ, পানীয় জল এবং বিদ্যুতের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

৬৫. প্রকল্প সম্পর্কে আরও তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে?

আরও তথ্যের জন্য কেন-বেতওয়া লিঙ্ক প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সরকারি ওয়েবসাইট, জল শক্তি মন্ত্রক এবং ছতরপুর ও পান্না জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কেবিএলপিএ-র সরকারি ওয়েবসাইট: http://www.kblpa.gov.in/

তথ্যসূত্র 

Ministry of Jal Shakti

Click here to see PDF

****
SSS/SS........

(Explainer ID: 159688) आगंतुक पटल : 9
Provide suggestions / comments
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , हिन्दी , Kannada