Technology
পাম্পড স্টোরেজভিত্তিক জলবিদ্যুৎ
ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরে নতুন শক্তি
Posted On:
02 NOV 2026 4:31PM
নয়াদিল্লি, ২ নভেম্বর ২০২৬
সঞ্চয় ব্যবস্থার হাত ধরে ভারতের জ্বালানির ভবিষ্যৎ নির্মাণ
ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সুস্থায়িত্ব আরও শক্তিশালী করতে দেশের জ্বালানি রূপান্তরের মূল ভিত্তি হয়ে উঠছে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি। ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পরিচ্ছন্ন শক্তির মাধ্যমে মেটাতে দ্রুত সৌর ও বায়ুশক্তির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এ বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে জীবাশ্ম জ্বালানিবহির্ভূত বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট স্থাপিত ক্ষমতা ৩০৮.০২৭ গিগাওয়াট। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশে প্রায় ৫৫.২৯ গিগাওয়াট জীবাশ্ম জ্বালানিবহির্ভূত উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই ক্ষমতা ৫০০ গিগাওয়াটে পৌঁছনোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ভারত। এই লক্ষ্য পূরণে সৌর ও বায়ুশক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তবে, সূর্যালোক, আবহাওয়া এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুতের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎপাদন ওঠানামা করে। ফলে, উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি থাকলে বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের প্রয়োজন ক্রমশ বাড়ছে। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎপাদন কমে গেলে অথবা বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে এই সঞ্চিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব।
পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের প্রয়োজনও দ্রুত বাড়বে। ২০৩১-৩২ সালের মধ্যে ৭৩.৯৩ গিগাওয়াট সঞ্চয় ক্ষমতার প্রয়োজন হবে বলে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (সিইএ) অনুমান করেছে। এর মধ্যে পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্প (পিএসপি)-এর মাধ্যমে ২৬.৬৯ গিগাওয়াট এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস)-এর মাধ্যমে ৪৭.২৪ গিগাওয়াট সঞ্চয় ক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের এই প্রয়োজন মেটাতে পিএসপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিদ্যুতের উদ্বৃত্ত উৎপাদনের সময়ে জলাধারের নিচের অংশ থেকে জল পাম্প করে উঁচু জলাধারে তোলা হয়। বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে সেই জল টারবাইনের মধ্য দিয়ে ছেড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এর ফলে, পুনর্নবীকরণযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য সময়ে ব্যবহার করা যায়। বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও এই ব্যবস্থা সহায়ক। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সঞ্চয় এবং সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে সরবরাহের সুবিধা থাকায় বৃহৎ পরিসরে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সংযুক্তির ক্ষেত্রেও পিএসপি গুরুত্বপূর্ণ।
‘বিনিয়োগ। উদ্ভাবন। অনুপ্রেরণা।’ এই মূল ভাবনাকে সামনে রেখে এ বছর ২ থেকে ৫ নভেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত হচ্ছে ভারত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি শীর্ষ সম্মেলন ও প্রদর্শনী (ভারত আরই) ২০২৬। চার দিনের এই সম্মেলনে ১৩০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৪০ জনেরও বেশি মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পক্ষেত্রের নেতৃবৃন্দ। অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্য, এই নয়টি দেশ অংশীদার দেশ হিসেবে সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে। ভারতের ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলও অংশ নিচ্ছে। তারা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সম্ভাবনা, বিনিয়োগের সুযোগ এবং পরিচ্ছন্ন উৎপাদন ক্ষমতা তুলে ধরছে। সম্মেলনের আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে সৌর ও বায়ুশক্তি, গ্রীন হাইড্রোজেন, বিদ্যুৎ সঞ্চয়, গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্তি, দেশীয় উৎপাদন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ। পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব এবং শিল্পক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য এই সম্মেলন একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ। এতে মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা, মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিকদের গোলটেবিল বৈঠক, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ৪০০-রও বেশি প্রদর্শককে নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন রয়েছে। একই সময়ে নবম আন্তর্জাতিক সৌর জোটের সম্মেলন এবং গ্রীন হাইড্রোজেন বিষয়ক চতুর্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলনও আয়োজিত হচ্ছে। এর ফলে, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।
পিএসপি কিভাবে কাজ করে: বিদ্যুৎ সঞ্চয় ও সরবরাহের চক্র
একটি পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্পে সাধারণত ভিন্ন উচ্চতায় অবস্থিত দুটি জলাধার থাকে। বিদ্যুতের উদ্বৃত্ত উৎপাদনের সময়ে নিচের জলাধার থেকে জল পাম্প করে উপরের জলাধারে তোলা হয়। সেখানে জল বিভব শক্তি হিসেবে সঞ্চিত থাকে। বিদ্যুতের প্রয়োজন হলে উপরের জলাধার থেকে টারবাইনের মধ্য দিয়ে জল ছেড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। চাহিদা কমে গেলে বিদ্যুতের উদ্বৃত্ত উৎপাদনের সময়ে জল আবার পাম্প করে উপরের জলাধারে তোলা হয়। এভাবেই সঞ্চয়ের চক্র সম্পূর্ণ হয়। পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্প বৃহৎ পরিসরে বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সংযুক্তিতেও এগুলি সহায়তা করে।
পাম্পড স্টোরেজ বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রেণীবিভাগ
প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের সঙ্গে জলাধারগুলির সংযোগ এবং অবস্থানের ভিত্তিতে পিএসপি-কে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। এই প্রকল্প তিন ধরনের: অন-স্ট্রিম, অফ-স্ট্রিম ওপেন-লুপ এবং অফ-স্ট্রিম ক্লোজড-লুপ। প্রতিটি ধরনের প্রকল্পে জলাধারের সঙ্গে প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের সম্পর্ক আলাদা।
বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের পরিসর বাড়ছে: ভারতে পাম্পড স্টোরেজের অগ্রগতি
ক্রমবর্ধমান পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদন ক্ষমতার সহায়তায় ভারত দ্রুত পাম্পড স্টোরেজ ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। প্রকল্পগুলির কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে এগোচ্ছে। কিছু প্রকল্প ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে, কিছু নির্মাণাধীন এবং কিছু নির্মাণের আগের পর্যায়ে রয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান প্রকল্পসম্ভার ভারতের দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ সঞ্চয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছে।
কার্যকর উৎপাদন ক্ষমতা:
এবছর আগস্ট পর্যন্ত ভারতে ১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৭.৪৩ গিগাওয়াট পিএসপি ক্ষমতা কার্যকর রয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের স্থাপিত ক্ষমতা ২৫ মেগাওয়াটের বেশি।
নির্মাণ ও বাস্তবায়নের পর্যায়:
দেশের ১১টি পিএসপি-তে আরও ১৫.৮৭ গিগাওয়াট ক্ষমতা নির্মাণাধীন অথবা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।
পরবর্তী পর্যায়ের প্রকল্পসম্ভার:
আটটি প্রকল্পের মোট ১০.৪০ গিগাওয়াট ক্ষমতার বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সম্মতি দিয়েছে অথবা মূল্যায়ন করেছে।
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে পাম্পড স্টোরেজের বিপুল সম্ভাবনা
ভারতে মোট ৩২০টি পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলির সম্মিলিত সম্ভাব্য উৎপাদন ক্ষমতা ৩৪৫.৩৮ গিগাওয়াট। এর মধ্যে ৫৬.৬৭ গিগাওয়াট ক্ষমতার ৬২টি অন-স্ট্রিম প্রকল্প এবং ২৮৮.৭১ গিগাওয়াট ক্ষমতার ২৫৮টি অফ-স্ট্রিম প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পগুলি দেশের পাঁচটি অঞ্চলে বিস্তৃত। কয়েকটি প্রকল্প ইতিমধ্যেই কার্যকর রয়েছে। অন্যগুলি উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
পিএসপি নির্মাণ এবং প্রকল্পের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের জন্য একাধিক প্রযুক্তিগত ও পরিবেশগত বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে ভূপ্রকৃতি, ভূতত্ত্ব, জলবিদ্যা, জলাধারের বৈশিষ্ট্য, ভিত্তির অবস্থা, ভূকম্পন এবং পরিবেশগত বিবেচনা। প্রকল্প মূল্যায়নের সময়ে নির্মাণসামগ্রী, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংযোগের বিষয়গুলিও পরীক্ষা করা হয়।
পশ্চিমাঞ্চলে পাম্পড স্টোরেজের সর্বাধিক চিহ্নিত সম্ভাবনা রয়েছে। এর পরিমাণ ১২৯.৭২ গিগাওয়াট। পশ্চিমঘাট পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন নদীগুলির ভূপ্রকৃতি এবং খাড়া ঢালকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। মহারাষ্ট্রে ৬৭.৩৬ গিগাওয়াট এবং গুজরাটে ৩৩.৩৬ গিগাওয়াট সম্ভাবনা রয়েছে।
পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্পের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা
পাম্পড স্টোরেজের এই বিপুল সম্ভাবনা দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের ক্ষমতা বাড়ানোর শক্ত ভিত তৈরি করেছে। ২০৩৫-৩৬ সাল পর্যন্ত উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। ২০৩৫-৩৬ সালের মধ্যে মোট ১০০.৮১ গিগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্প কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলিও অন্তর্ভুক্ত। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পিএসপি-র মোট উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে ১০৫.৫৬ গিগাওয়াট হবে। এই সম্প্রসারণ বিদ্যুৎ গ্রিডের নমনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং আরও বেশি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সংযুক্ত করার সুযোগ তৈরি করবে। ভারতের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারে পাম্পড স্টোরেজ।
সরকারি উদ্যোগ ও পদক্ষেপ
পিএসপি-র উন্নয়ন ও ব্যবহার বাড়াতে ভারত সরকার নীতি, নিয়ন্ত্রণ, চাহিদা এবং সরবরাহ, এই চারটি স্তরে একাধিক সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
পিএসপি উন্নয়নের জন্য পৃথক নির্দেশিকা:
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে বিদ্যুৎ মন্ত্রক ভারতে পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্পের উন্নয়ন প্রসারের জন্য নির্দেশিকা জারি করেছে।
প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর জন্য সহায়তা:
পিএসপি উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নির্মাণে বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাস্তা, সেতু, রেলপথের সংযোগস্থল, রোপওয়ে, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। এই পদক্ষেপগুলি প্রকল্পের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করে এবং প্রকল্পের আর্থিক কার্যকারিতা বাড়ায়।
প্রতিযোগিতামূলক ক্রয় কাঠামো:
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুল্কভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র (টিবিসিবি) সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পিএসপি থেকে সঞ্চয় ক্ষমতা এবং সঞ্চিত বিদ্যুৎ সংগ্রহের জন্য এই নির্দেশিকা স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করেছে।
আন্তঃরাজ্য বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার চার্জ মকুব:
২০২৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে নির্মাণের জন্য বরাত পাওয়া পিএসপি-গুলি ১০০ শতাংশ আন্তঃরাজ্য বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা (আইএসটিএস) চার্জ মকুবের সুবিধা পাবে। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর ২৫ বছর পর্যন্ত এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। এর ফলে পিএসপি-র আর্থিক কার্যকারিতা বাড়বে।
দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন:
কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সংশোধিত নির্দেশিকায় বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন (ডিপিআর)-এর সম্মতির সময়সীমা কমানো হয়েছে। সব পিএসপি-র ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ৯০ দিন থেকে কমিয়ে ৫০ দিন করা হয়েছে। আন্তঃরাজ্য বিষয়ক ছাড়পত্রের প্রয়োজনীয়তাও তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
পরিবেশগত মূল্যায়নের সরলীকরণ:
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক পিএসপি-র জন্য পৃথক মূল্যায়ন সংক্রান্ত বিধান প্রবর্তন করেছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী প্রকল্পগুলি প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী বি২ শ্রেণীভুক্তির সুবিধা পেতে পারে। অফ-স্ট্রিম প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তাও কমানো হয়েছে। নিয়ন্ত্রণমূলক সুরক্ষা বজায় রেখেই পরিবেশগত মূল্যায়ন দ্রুত সম্পন্ন করতে এই পদক্ষেপ সহায়ক হতে পারে।
সমীক্ষা ও অনুসন্ধানের সুবিধা:
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক পিএসপি-র জন্য বনভূমিতে সমীক্ষার বিধান সম্প্রসারিত করেছে এবং বোরহোল অনুসন্ধানের সীমা বাড়িয়েছে। এর ফলে, সময়মতো প্রযুক্তিগতভাবে নির্ভরযোগ্য বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন তৈরি করা সহজ হবে।
সমন্বিত গ্রিড ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন পরিকল্পনা:
জাতীয় বিদ্যুৎ পরিকল্পনায় বিদ্যুৎ সঞ্চয় এবং সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়নকে একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎপাদনের ওঠানামা সামলানো, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার উপর চাপ কমানো এবং গ্রিডের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ থেকে ২০৩৫-৩৬ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পিএসপি ক্ষমতা সংযুক্ত করার একটি রূপরেখাও তৈরি করা হয়েছে।
ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ:
কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ‘জল বিদ্যুৎ ডিপিআর’ পোর্টালের মাধ্যমে সমীক্ষা ও অনুসন্ধানের কাজের অগ্রগতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যায়। প্রকল্প প্রস্তুতির সময়ে বিভিন্ন অংশীদারের মধ্যে সমন্বয়েও এই পোর্টাল সহায়তা করে। ডিজিটাল এই ব্যবস্থা অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করে এবং পিএসপি-র উন্নয়ন দ্রুত করতে সাহায্য করে।
কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সম্মতির প্রয়োজনীয় মূলধনী ব্যয়ের সীমা পর্যালোচনা:
২০২৫ সালের ১ আগস্ট তারিখের গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সম্মতির প্রয়োজনীয় মূলধনী ব্যয়ের সীমা বাড়িয়ে ৩,০০০ কোটি টাকা করেছে। পাশাপাশি, মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ নির্বিশেষে অফ-স্ট্রিম ক্লোজড-লুপ পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্পগুলিকে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সম্মতির বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
নীতি সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশ, আর্থিক সহায়তা, দ্রুত ছাড়পত্র, প্রতিযোগিতামূলক ক্রয় এবং সমন্বিত গ্রিড পরিকল্পনা, এই সব পদক্ষেপ পিএসপি-র দ্রুত উন্নয়নের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
জ্বালানি রূপান্তরের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানিবহির্ভূত ৫০০ গিগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য ভারতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় এক মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ভূমিকা যত বাড়বে, নির্ভরযোগ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বজায় রাখতে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সঞ্চয় এবং সরবরাহের গুরুত্বও তত বাড়বে। বৃহৎ পরিসরে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের ক্ষমতা থাকায় পাম্পড স্টোরেজকেন্দ্রিক জলবিদ্যুৎ এই প্রয়োজন মেটাতে বিশেষভাবে উপযোগী। সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিবর্তনশীল পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সংযুক্তি, গ্রিডের নমনীয়তা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়ানো, সব ক্ষেত্রেই এর ভূমিকা রয়েছে।
পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থা যত বিকশিত হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যবস্থার সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের কার্যকর সংযুক্তিও তত সংগতিপূর্ণ হয়ে উঠবে। এর মাধ্যমে আরও পরিচ্ছন্ন, নমনীয় এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনের উপযোগী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তথ্যসূত্র
Ministry of Power
Ministry of New and Renewable Energy
Central Electricity Authority
National Thermal Power Corporation Limited
- https://ntpc.co.in/media/employee-blog/role-water-batteries-energy-transition-and-green-energy-integration-india?utm_source
International Renewable Energy Agency
Click to see pdf
***
SSS/S Saha
(Explainer ID: 160702)
आगंतुक पटल : 8
Provide suggestions / comments