Farmer's Welfare
খেত বাঁচাও অভিযান - রবি ২০২৬
“মাটির স্বাস্থ্য ও সুস্থায়ী কৃষি”
Posted On:
02 NOV 2026 11:01AM
নয়াদিল্লি, ২ নভেম্বর ২০২৬
খেত বাঁচাও অভিযান (কেবিএ)-রবি ২০২৬ একটি দেশব্যাপী কর্মসূচি। এবছর ২২ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। দেশের ৩৪টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, ৭০০-রও বেশি জেলা এবং ৫০,০০০ গ্রামে মাটির স্বাস্থ্য, সুষম সার প্রয়োগ ও সুস্থায়ী কৃষির প্রসার এই অভিযানের লক্ষ্য। প্রায় ৫০ লক্ষ কৃষকের কাছে পৌঁছনোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সুষম পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক কৃষি, ফসলের অবশিষ্টাংশের ব্যবস্থাপনা, শস্য বৈচিত্র্য এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে) এবং কৃষি প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এটিএমএ)-কে নিয়ে ৪,১৫০টি দল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের সহায়তায় থাকবেন ১২,০০০-এরও বেশি বিজ্ঞানী ও এটিএমএ কর্মী। এই অভিযানে ৫০,০০০টি মাঠ পর্যায়ের প্রদর্শনী এবং ১১,৭৫০টি নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ১.৫ কোটি কৃষকের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সামগ্রিক ডিজিটাল প্রচারের পরিসর বাড়িয়ে ২.৫ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছনোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
কৃষির ভিত্তি মাটির গভীরে
মাটির স্বাস্থ্য কৃষি উৎপাদন, খাদ্য সুরক্ষা এবং গ্রামীণ জীবিকার মূল ভিত্তি। ভারতের মোট কর্মীবাহিনীর ৪৬ শতাংশেরও বেশি মানুষ কৃষি ও সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাই মাটির স্বাস্থ্য খাদ্য ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। সুস্থ মাটি ফসলের উৎপাদন বাড়ায় এবং বাইরে থেকে সংগ্রহ করা উপকরণের উপর নির্ভরতা কমায়।
মাটির স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে খেত বাঁচাও অভিযান (কেবিএ)-রবি ২০২৬, “স্বাস্থ ধরা, সমৃদ্ধ কিষান” একটি দেশব্যাপী কর্মসূচি হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এবছর ২২ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। কৃষি দপ্তর, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের একত্র করে এই অভিযানে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুষম ও বিবেচনাপূর্ণ সার প্রয়োগ এবং সুস্থায়ী পুষ্টি ব্যবস্থাপনার প্রসারই এর লক্ষ্য। সুস্থায়ী কৃষির প্রসার, মাটির স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং কৃষি সম্পদের বিবেচনাপূর্ণ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি, প্রাকৃতিক কৃষি, জল সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সারের অসম প্রয়োগ, মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ হ্রাস, চাষের খরচ বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অবক্ষয়ের মতো সমস্যাগুলির মোকাবিলাও এই অভিযানের লক্ষ্য।
এই উদ্যোগে দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং উন্নত কৃষি প্রযুক্তির প্রদর্শনের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার এবং জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
খেত বাঁচাও অভিযান
(১ থেকে ৩০ জুন ২০২৬)
মাটির স্বাস্থ্য, সুষম সার প্রয়োগ এবং সুস্থায়ী কৃষি পদ্ধতির প্রসারে এবছর ১ জুন দেশব্যাপী এক মাসের খেত বাঁচাও অভিযান শুরু হয়। সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ১,৬৫৭টি বহুমুখী দল নিয়োগ করা হয়েছিল। এই অভিযানে ৯২.৪৪ লক্ষ কৃষকের কাছে পৌঁছে ১.৩৪ লক্ষেরও বেশি সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। হরিৎ সার প্রয়োগ এবং জৈব সারের ব্যবহার নিয়ে ৬,৬৮৫টি প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে উপকৃত হন ৪.৯৪ লক্ষ কৃষক। এ ছাড়াও, ৩,১৬৭টি মাঠ পর্যায়ের প্রদর্শনী এবং ৪,৭৭৯টি মতবিনিময়মূলক কর্মসূচির মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়। সার ও কৃষি উপকরণ বিক্রেতাদের অংশগ্রহণ-সহ আরও ৪,৯১৬টি জনপ্রতিনিধি সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূল স্তরে যোগাযোগ আরও জোরদার করা হয়। সব মিলিয়ে, প্রায় ১.০৭ কোটি কৃষক ও অন্যান্য অংশীদারের কাছে সরাসরি পৌঁছেছিল এই অভিযান। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে প্রায় ৪.৫ কোটি নাগরিকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছিল।
খেত বাঁচাও অভিযান-রবি ২০২৬-এর প্রধান লক্ষ্য
এই অভিযানের লক্ষ্য, কৃষকদের স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করা। এর ফলে, কৃষি উপকরণের দক্ষ ব্যবহার বাড়বে এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষির প্রসার ঘটবে।
সুষম পুষ্টি ব্যবস্থাপনা: সাধারণ সার সুপারিশ (জিএফআর)-ভিত্তিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং সার প্রয়োগের ৪ আর নীতি প্রচার করা। এই নীতির চারটি দিক হল, সঠিক উৎস, সঠিক মাত্রা, সঠিক সময় এবং সঠিক স্থান। রবি মরশুমের ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম ও দক্ষ সার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এই পদ্ধতির লক্ষ্য।
প্রাকৃতিক কৃষি: সচেতনতা অভিযান, দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রদর্শনী এবং কৃষকদের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে প্রাকৃতিক কৃষি গ্রহণে উৎসাহ দেওয়া।
সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (আইএনএম): সচেতনতা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং উপযুক্ত জৈব ও জীবাণুভিত্তিক উপকরণের ব্যবহার বাড়ানো।
ফসলের অবশিষ্টাংশের ব্যবস্থাপনা: তথ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগমূলক (আইইসি) কর্মসূচির মাধ্যমে ফসলের অবশিষ্টাংশের সুস্থায়ী ব্যবস্থাপনা প্রচার করা। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো নিরুৎসাহিত করা।
শস্য বৈচিত্র্য: তৈলবীজ ও ডালশস্যের উৎপাদন বাড়ানো, শস্য বৈচিত্র্যে উৎসাহ দেওয়া এবং সচেতনতা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে ধান কাটার পর পতিত জমির উৎপাদনশীল ব্যবহার বাড়ানো।
ধৈঞ্চা ও মুগ মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়নের পথ দেখাচ্ছে
বিহারের পূর্ব চম্পারণের ধান উৎপাদনকারী অঞ্চলে সার ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি, মাটির উর্বরতা বজায় রাখা কৃষকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাটিতে জৈব কার্বনের পরিমাণ হ্রাস এবং অণুপুষ্টির ঘাটতি এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। এবছর খেত বাঁচাও অভিযানের অধীনে বিহারের মোতিহারিতে আইসিএআর-মহাত্মা গান্ধী সমন্বিত কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (এমজিআইএফআরআই) দেখিয়েছে, হরিৎ সার প্রয়োগ এবং জৈবিক নাইট্রোজেন সংবন্ধন কিভাবে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করতে পারে।
বিহারের পূর্ব চম্পারণ জেলার রক্সৌল ব্লকের পান্তোকা পঞ্চায়েতে কৃষকদের নিয়ে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে খামারের গোবর সার, কম্পোস্ট, জৈব সার এবং ফসলের অবশিষ্টাংশের সঙ্গে সুপারিশ অনুযায়ী রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। আলোচনায় ধানের বীজতলার পরিচর্যা এবং ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল কম্পোস্ট তৈরি, মাটির উপর জৈব আচ্ছাদন এবং কেঁচো সার প্রস্তুত।
কৃষকদের কাছে অভিযান পৌঁছে দেওয়া: বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ও দায়িত্ব
রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কৃষি দপ্তর: অভিযানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি, প্রস্তুতিমূলক বৈঠক আয়োজন, জেলা স্তরের কর্মসূচির সময়সূচি অনুমোদন, মাঠ পর্যায়ের কর্মী ও সমন্বয়কারী সংস্থাগুলিকে একত্র করা, বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিষেবার সুযোগ পেতে সহায়তা এবং প্রতিবেদন একত্র করার দায়িত্ব পালন করবে।
কৃষি প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এটিএমএ) এবং জেলা কৃষি প্রশাসন: জেলা, ব্লক ও গ্রাম স্তরে অভিযানের বিভিন্ন কাজের সমন্বয়, ক্ষুদ্র পরিকল্পনা তৈরি, কৃষক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে একত্র করা, কর্মসূচির স্থান ও মাঠে প্রবেশের ব্যবস্থা, তথ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগমূলক উপকরণ এবং প্রয়োজনীয় আয়োজনের ব্যবস্থা করবে। উপস্থিতি ও কর্মসূচি-সংক্রান্ত নথিও সংরক্ষণ করবে।
আইসিএআর প্রতিষ্ঠান, কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (এটিএআরআই), কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে) এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (জ্ঞান সহযোগী প্রতিষ্ঠান): বিজ্ঞানসম্মত প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী সুপারিশ প্রদান, বিশেষজ্ঞ মনোনয়ন, প্রশিক্ষণে সহায়তা, প্রদর্শনী আয়োজন এবং অনুরোধ অনুযায়ী কৃষক-বিজ্ঞানী মতবিনিময়ের ব্যবস্থা করবে। প্রযুক্তিগত তথ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগমূলক উপকরণ এবং পরামর্শ তৈরি বা যাচাই, গবেষণালব্ধ তথ্য ভাগ করে নেওয়া এবং অভিজ্ঞতা নথিবদ্ধ করার দায়িত্বও পালন করবে। পৃথকভাবে অনুমোদন না থাকলে রাজ্য স্তরে বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, আইন প্রয়োগ বা ব্যয়ের দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বর্তাবে না।
এই অভিযানে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে) এবং কৃষি প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এটিএমএ)-কে নিয়ে ৪,১৫০টি দল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। ১২,০০০-এরও বেশি বিজ্ঞানী ও এটিএমএ কর্মী এই অভিযান বাস্তবায়নে সহায়তা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এটিএমএ এবং আইসিএআর-এর মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি অংশগ্রহণকারীর কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা ও যোগাযোগ বৃদ্ধি
উন্নত কৃষি পদ্ধতির প্রসার, প্রযুক্তিগত জ্ঞান বৃদ্ধি এবং কৃষকদের কাছে অভিযানের বার্তা পৌঁছে দিতে সচেতনতা কর্মসূচি, দক্ষতা বৃদ্ধি, মাঠ পর্যায়ের প্রদর্শনী, হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য পরিদর্শন এবং ডিজিটাল প্রচারের সমন্বয় করা হয়েছে।
বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি
সাধারণ সার সুপারিশ (জিএফআর)-ভিত্তিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক কৃষি, সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (আইএনএম), ফসলের অবশিষ্টাংশের ব্যবস্থাপনা (সিআরএম) এবং তৈলবীজ ও ডালশস্য উৎপাদনের উন্নত প্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকদের সচেতনতা ও জ্ঞান বাড়ানো এই অভিযানের লক্ষ্য। খরা-কবলিত জেলাগুলিতে আপৎকালীন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত কার্যপদ্ধতি (এসওপি) এবং কৃষি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্প সম্পর্কেও তথ্য প্রচার করা হবে।
আইসিএআর প্রতিষ্ঠানের ৯৫০টি দলের প্রত্যেককে প্রতি সপ্তাহে তিনটি গ্রাম পরিদর্শনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বস্তুত, ৭০০টি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের দলকে প্রতি সপ্তাহে চারটি গ্রাম পরিদর্শন করতে হবে। প্রতিটি পরিদর্শনে ১০০ জন কৃষকের অংশগ্রহণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
পাঁচ সপ্তাহে মোট ৫,৬৫০টি সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আনুমানিক ২৮.২৫ লক্ষ কৃষকের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি
সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (আইএনএম), ফসলের অবশিষ্টাংশের ব্যবস্থাপনা (সিআরএম), প্রাকৃতিক কৃষি, তৈলবীজ ও ডালশস্য উৎপাদনের উন্নত পদ্ধতি, সমন্বিত কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে কৃষকদের জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পারদর্শিতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
আইসিএআর প্রতিষ্ঠানের ৯৫০টি দলের প্রত্যেককে প্রতি সপ্তাহে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করতে হবে। উল্লেখ্য, ৭০০টি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের দলকে প্রতি সপ্তাহে দুটি কর্মসূচি আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচিতে ৪০ জন অংশগ্রহণকারীর লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
পাঁচ সপ্তাহে মোট ১১,৭৫০টি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আনুমানিক ৪.৭০ লক্ষ কৃষকের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের জমিতে প্রদর্শনী
আইসিএআর প্রতিষ্ঠান এবং কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে) নির্বাচিত কৃষকদের জমিতে মাঠ পর্যায়ের প্রদর্শনীর আয়োজন করে। এর মাধ্যমে উন্নত কৃষি প্রযুক্তির সম্ভাবনা ও সুবিধাগুলি তুলে ধরা হয়। কৃষকরা এই প্রদর্শনীর সাহায্যে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করতে পারেন এবং প্রচলিত কৃষি পদ্ধতির সঙ্গে তার ফলাফলের তুলনা করতে পারেন। প্রদর্শনীর প্রধান বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে গ্রীন অ্যামোনিয়া, ফসলের অবশিষ্টাংশের ব্যবস্থাপনা (সিআরএম), সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (আইএনএম), সমন্বিত কীটপতঙ্গের ব্যবস্থাপনা (আইপিএম), প্রাকৃতিক কৃষি, তৈলবীজ ও ডালশস্যের জন্য সমন্বিত শস্য ব্যবস্থাপনা (আইসিএম), জৈব সার এবং জৈব ও জীবাণুভিত্তিক উপকরণ।
মাঠ দিবস, ফসল কাটার দিন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য পরিদর্শন
মাঠ দিবস, ফসল কাটা বিষয়ক অনুষ্ঠান এবং প্রদর্শনীস্থল পরিদর্শন অভিযানের ‘দেখে শেখা’ পদ্ধতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এই কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে কৃষকরা উন্নত কৃষি প্রযুক্তি সরাসরি দেখতে পারেন, তার ব্যবহারিক প্রয়োগ বুঝতে পারেন এবং মাঠের পরিস্থিতিতে তার সুফল যাচাই করতে পারেন।
প্রসঙ্গত, ১,৬৫০টি দলের প্রত্যেককে ফসলের মরশুমে তিনটি মাঠ দিবস বা ফসল কাটার অনুষ্ঠান এবং দুটি অভিজ্ঞতা বিনিময়মূলক পরিদর্শনের আয়োজন করতে হবে। প্রতিটি কর্মসূচিতে আনুমানিক ১২৫ জন কৃষকের অংশগ্রহণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
এই কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১০ লক্ষ কৃষকের কাছে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রচার
উন্নত কৃষি পদ্ধতি, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং অভিযান-সংক্রান্ত কর্মসূচির তথ্য প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এর ফলে মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচির বাইরেও অভিযানের বার্তা আরও বেশি কৃষকের কাছে পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট দলগুলিকে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, এক্স এবং অন্যান্য উপযুক্ত ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতিদিনের কর্মসূচির তথ্য প্রচার করতে হবে।
সামাজিক মাধ্যমে ১.৫ কোটি কৃষকের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সামগ্রিক ডিজিটাল প্রচারের পরিসর বাড়িয়ে ২.৫ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবার সঙ্গে কৃষকদের সংযোগ
গুরুত্বপূর্ণ কৃষি প্রকল্প, পরিষেবা এবং কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের পরিচিত করতে এই অভিযানে নির্দিষ্ট সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পিএম-কিষান, সুষম কীটনাশক প্রয়োগ, মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড, প্রযোজ্য সার বিক্রির নিয়মকানুন এবং বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাব্য সুফল। কৃষক পরিচয়পত্র তৈরি ও হালনাগাদ করতেও সহায়তা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (পিএমএফবিওয়াই)-র আওতায় ফসল বিমার সুযোগ সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি, কিষান ক্রেডিট কার্ড (কেসিসি) প্রকল্পের অধীনে বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে যোগ্য কৃষকদের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সুস্থায়ী কৃষির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা
খেত বাঁচাও অভিযান-রবি ২০২৬ কৃষি উন্নয়নের কেন্দ্রে মাটির স্বাস্থ্য এবং সুস্থায়ী সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দিতে চায়। বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, সম্প্রসারণ নেটওয়ার্ক এবং কৃষক সমাজের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী, কৃষি পদ্ধতিতে রূপ দেওয়াই এই অভিযানের লক্ষ্য। কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন, মাঠ পর্যায়ের প্রদর্শনী এবং ডিজিটাল প্রচারের সমন্বয়ে উন্নত কৃষি পদ্ধতির প্রসার ঘটানো হবে। সুষম পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক কৃষি এবং কৃষি উপকরণের দক্ষ ব্যবহারের পাশাপাশি, শস্য বৈচিত্র্য, ফসলের অবশিষ্টাংশের ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সহনশীলতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও কৃষকদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তৃণমূল স্তরের সম্প্রসারণ ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে। কৃষি পরিষেবা পাওয়ার সুযোগও বাড়বে।
এই উদ্যোগগুলি সম্পদের সুব্যবহারভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থা, সুস্থ মাটি এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম কৃষিজীবিকা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে বিকশিত ভারত-এর বৃহত্তর স্বপ্ন পূরণেও অগ্রগতি ঘটবে। পাশাপাশি, ক্ষুধামুক্তি (এসডিজি ২) এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা (এসডিজি ১৩)-সহ সুস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণেও এই অভিযান সহায়ক হবে।
তথ্যসূত্র
Ministry of Agriculture and Farmers Welfare
https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=159311&ModuleId=3®=48&lang=1
https://www.manage.gov.in/publications/eBooks/DAESI_%20Vol%20I_Study%20Material.pdf
https://vikalp.kisansarathi.in/#home
https://www.pib.gov.in/PressReleaseDetail.aspx?PRID=2302428®=48&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2326112®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2266794&lang=1®=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2288740®=48&lang=2
https://icar.gov.in/en/icar-mgifri-motihari-takes-khet-bachao-abhiyan-indias-frontier-villages-promotes-soil-health-and
Indian Council of Agricultural Research
https://icar.org.in/sites/default/files/2026-10/Khet-Bachaao-Abhiyaan-2026.pdf
https://icar.org.in/sites/default/files/Circulars/ICAR%20Insights%20Outcomes%20Booklet%20%28English%29.pdf
https://icar.org.in/sites/default/files/Circulars/Farmers%20Innovations_2025___English.pdf
Click to see pdf
****
SSS/S Saha
(Explainer ID: 160673)
आगंतुक पटल : 4
Provide suggestions / comments