Technology
কার্বন ক্যাপচার, ইউটিলাইজেশন অ্যান্ড স্টোরেজ
ভারতের শিল্পক্ষেত্রকে নেট জিরো ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া
Posted On:
27 OCT 2026 11:54AM
২৭ অক্টোবর, ২০২৬
যেসব শিল্পক্ষেত্রে নির্গমন হ্রাস করা কঠিন, সেগুলিতে নির্গমন কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল CCUS। কার্বন ডাইঅক্সাইডকে ক্রমশ কেবল নির্গমন হিসেবে নয়, বরং সম্ভাব্য সম্পদ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
শিল্পক্ষেত্রের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও সম্পদের দক্ষ ব্যবহার জোরদার করার পাশাপাশি, CCUS ২০৭০ সালের মধ্যে নেট জিরো অর্জনের ভারতের লক্ষ্যে সহায়তা করতে পারে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং বেসরকারি শিল্পক্ষেত্রকে একত্রিত করে সরকার এই সংক্রান্ত একটি সমন্বিত পরিমণ্ডল গড়ে তুলছে। এই ক্রমবর্ধমান পরিমণ্ডলে একাধিক রাজ্যে চালু প্রকল্প, বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রচেষ্টাগুলি দেশীয় CCUS সক্ষমতা, কার্বনকে কাজে লাগানোর প্রযুক্তি এবং নিরাপদে কার্বন সংরক্ষণের ভিত্তি গড়ে তুলছে।
ভারতের নেট জিরো লক্ষ্যে পৌঁছনোর পথে ব্যবধান কমাতে CCUS
২০৭০ সালের মধ্যে নেট জিরো অর্জনের জন্য ভারতকে তার জ্বালানি ও শিল্পক্ষেত্রে নির্গমন কমাতে হবে। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে নির্গমন হ্রাস করতে পারে, তবে কিছু শিল্পপ্রক্রিয়াকে সহজে বিদ্যুতের সাহায্যে চালানো সম্ভব নয়। এর মধ্যে রয়েছে এমন প্রক্রিয়া, যেখানে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা বা কার্বন-ভিত্তিক উপাদানের প্রয়োজন হয়। কার্বন ক্যাপচার, ইউটিলাইজেশন অ্যান্ড স্টোরেজ (CCUS) এই ধরনের নির্গমন মোকাবিলার একটি অতিরিক্ত পথ। এর মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রের উৎস থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়ার আগেই ধরে রাখা হয়। ধরে রাখা কার্বন ডাইঅক্সাইডকে এরপর উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা ভূগর্ভে নিরাপদে সংরক্ষণ করা যায়। ফলে, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির পরিপূরক হিসেবে CCUS কম কার্বন-নির্ভর শিল্প অর্থনীতির দিকে ভারতের উত্তরণে সহায়তা করতে পারে।
নীতি আয়োগ ইস্পাত, সিমেন্ট, তেল ও গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যাল, রাসায়নিক এবং সার-সহ যেসব শিল্পক্ষেত্রে নির্গমন কমানো কঠিন, সেগুলির কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের জন্য CCUS-কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে। এই শিল্পগুলি শিল্পক্ষেত্রের মোট নির্গমনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে এবং গভীরভাবে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। বিদ্যমান উৎপাদনকেন্দ্রগুলি থেকে নির্গমন কমানোর পাশাপাশি, CCUS অত্যাবশ্যক পণ্যগুলির উৎপাদন অব্যাহত রাখতেও সহায়তা করতে পারে। ভারতে নতুন প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং শিল্পক্ষেত্রের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগও তৈরি হতে পারে। কার্বন ক্যাপচার, তার ব্যবহার এবং নিরাপদ সংরক্ষণের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এই পদ্ধতি বিভিন্ন পর্যায়ের নির্গমন মোকাবিলা করতে পারে। এভাবে, শিল্পের বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বজায় রেখেও CCUS ভারতের জলবায়ু সংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে।
সৃজনশীল মন, বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, প্রযুক্তির ক্ষমতায়ন,
ভারতের উদীয়মান বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সম্মেলন ESTIC-2026-এর দ্বিতীয় সংস্করণ ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (CSIR) আয়োজিত এই সম্মেলনের মূল ভাবনা হলো “সৃজনশীল মন, বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, প্রযুক্তির ক্ষমতায়ন”। কার্বন ক্যাপচার, ইউটিলাইজেশন অ্যান্ড স্টোরেজ (CCUS)-এর মতো শক্তি প্রযুক্তি-সহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর এই সম্মেলনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মোট ১২টি বিষয়ভিত্তিক ক্ষেত্র জুড়ে আয়োজিত ESTIC-2026-এ রয়েছে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন, প্রযুক্তিগত আলোচনা এবং প্রদর্শনী। বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যে সহায়তা করতে এই সম্মেলন কৌশলগত সহযোগিতাকেও উৎসাহিত করছে।
CCUS প্রক্রিয়া: কার্বন ধরে রাখা থেকে সংরক্ষণ পর্যন্ত
ধাপ ১: নির্গমনের উৎসেই কার্বন ডাইঅক্সাইড ধরে রাখা
এই প্রক্রিয়া শুরু হয় এমন একটি শিল্পকেন্দ্রে, যেখানে কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়। জ্বালানি দহন বা শিল্পপ্রক্রিয়ার সময় নির্গত গ্যাস থেকে ক্যাপচার সিস্টেমের সাহায্যে কার্বন ডাইঅক্সাইড আলাদা করা হয়। এরপর ধরে রাখা গ্যাসকে পরিশোধন ও শুকিয়ে ঘনীভূত অবস্থায় সংকুচিত করা হয়, যাতে তা পরিবহণ বা ব্যবহারের উপযোগী হয়।
ধাপ ২: কার্বন ধরে রাখা থেকে পরিবহণ
উপযুক্ত দূরত্বে কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবহণের জন্য সাধারণত পাইপলাইন ব্যবহার করা হয়। বিশেষত দীর্ঘ দূরত্বে পরিবহণের ক্ষেত্রে জাহাজ এবং অন্যান্য পরিবহণ মাধ্যম আরও নমনীয়তা দিতে পারে। দূরত্ব, পরিমাণ, পরিকাঠামো এবং গন্তব্যের ওপর পরিবহণের মাধ্যম নির্ভর করে। এরপর কার্বন ডাইঅক্সাইডকে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট কেন্দ্রে অথবা ভূতাত্ত্বিক সংরক্ষণস্থলে পাঠানো যেতে পারে।
আপনি কি জানেন? ভূতাত্ত্বিক সংরক্ষণস্থল হল, ভূগর্ভের গভীরে অবস্থিত একটি নিরাপদ স্থান, যেখানে ধরে রাখা CO₂-কে স্থায়ীভাবে পৃথক করে রাখা হয়। CO₂-এর ভূতাত্ত্বিক সংরক্ষণ বা জিও-স্টোরেজ গ্রীহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানোর একটি সম্ভাবনাময় পদ্ধতি।
ধাপ ৩: কার্বনের ব্যবহার ও স্থায়ী সংরক্ষণ
শেষ পর্যায়ে ধরে রাখা কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা ভূগর্ভে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। উন্নত তেল উত্তোলন, খাদ্য ও পানীয় উৎপাদন, ইউরিয়া, গ্রিন মিথানল এবং কংক্রিট তৈরির মতো কাজে এটি ব্যবহার করা যায়। স্থায়ী সংরক্ষণের জন্য কার্বন ডাইঅক্সাইডকে ভূগর্ভের গভীরে উপযুক্ত ভূতাত্ত্বিক স্তরে প্রবেশ করানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে তেল ও গ্যাসের নিঃশেষিত ভাণ্ডার, গভীর লবণাক্ত জলাধার এবং ব্যাসল্ট শিলার স্তর।
CCUS হাব ও ক্লাস্টার মডেল
ভারতের CCUS কাঠামোতে আঞ্চলিক ক্লাস্টার ও হাবের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা অভিন্ন পরিকাঠামোর মাধ্যমে কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমনকারী একাধিক সংস্থাকে যুক্ত করবে। এই মডেলের মাধ্যমে কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবহণ, ব্যবহার ও সংরক্ষণের জন্য অভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। বিভিন্ন উৎস থেকে ধরে রাখা কার্বন ডাইঅক্সাইড সংগ্রহ করে অভিন্ন পরিবহণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এরপর তা উপযুক্ত ব্যবহারকেন্দ্র বা ভূতাত্ত্বিক সংরক্ষণস্থলে পাঠানো যেতে পারে। নীতি আয়োগ ভারতের জন্য হাব ও ক্লাস্টার পদ্ধতিকে উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে। এই মডেল বৃহৎ পরিসরে কাজ করার ফলে ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে, পরিকাঠামোগত ঝুঁকি কমাতে পারে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের জোগানের সঙ্গে সম্ভাব্য চাহিদার সংযোগ স্থাপন করতে পারে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের CCUS রোডম্যাপ ২০২৫ এই ধরনের ক্লাস্টার গড়ে তোলার জন্য সম্ভাবনাময় শিল্পাঞ্চল ও ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলগুলিকে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গুজরাট উপকূল, যেখানে শোধনাগার ও রাসায়নিক শিল্পের ঘনত্ব বেশি। ওড়িশা–ঝাড়খণ্ড অঞ্চল ইস্পাত ও সিমেন্ট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ক্লাস্টার গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতেও তেল ও গ্যাসের সম্পদকে কেন্দ্র করে এ ধরনের উদ্যোগের সুযোগ রয়েছে। এই আঞ্চলিক ক্লাস্টারগুলির মাধ্যমে নির্গমনকারী সংস্থা, পরিবহণ পরিকাঠামো, কার্বন ব্যবহারের কেন্দ্র এবং সংরক্ষণস্থলগুলিকে একত্রিত করা যেতে পারে। এই পদ্ধতি ভারতের শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সমন্বিত CCUS পরিমণ্ডল গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।
কম কার্বন নির্ভর অর্থনীতির দিকে উত্তরণে CCUS-এর ভূমিকা
ভারতের কম কার্বন নির্ভর অর্থনীতির দিকে উত্তরণের জন্য এমন সমাধান প্রয়োজন, যা অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সঙ্গে নির্গমন আরও ব্যাপকভাবে হ্রাস করার সমন্বয় ঘটায়। CCUS নির্গমনের উৎসেই কার্বন ডাইঅক্সাইড নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এবং তা পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে এই ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। এটি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির প্রসারের পরিপূরক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি, শিল্পক্ষেত্র, হাইড্রোজেন উৎপাদন এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড অপসারণের মতো ক্ষেত্রেও ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে।
যেসব শিল্পক্ষেত্রে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা কঠিন, সেগুলির কার্বনমুক্তকরণ
যেসব শিল্পক্ষেত্রে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা কঠিন, যেমন ইস্পাত, সিমেন্ট, শোধনাগার ও রাসায়নিক শিল্প এবং সার শিল্প, সেগুলির উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকেই সরাসরি কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়। শুধুমাত্র বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি করে বা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির দিকে উত্তরণের মাধ্যমে এই নির্গমন সম্পূর্ণ দূর করা কঠিন। এই শিল্পক্ষেত্রগুলি এবং তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক প্রায় ২,৩০০ মিলিয়ন টন নির্গমন হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তাই এই নির্গমন ধরে রাখা ও হ্রাস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলমান শিল্পকার্যক্রম থেকে উৎপন্ন এই নির্গমন মোকাবিলার একটি উপায় CCUS প্রযুক্তি প্রদান করে।
আপনি কি জানেন? গ্রীন হাইড্রোজেন পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ ব্যবহার করে জলের তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। ব্লু হাইড্রোজেন তৈরিতে প্রাথমিক কাঁচামাল হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস বা কয়লা ব্যবহার করা হয়।
কম কার্বন নির্ভর হাইড্রোজেন অর্থনীতির প্রসার
কার্বন ক্যাপচারের সঙ্গে কয়লা গ্যাসীকরণ প্রক্রিয়ার সমন্বয় ঘটিয়ে ব্লু হাইড্রোজেন উৎপাদনের মাধ্যমে ভারতের হাইড্রোজেন ব্যবহারের দিকে উত্তরণে CCUS গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কম কার্বন নির্ভর হাইড্রোজেন অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারতের প্রচেষ্টার পরিপূরক।
কয়লা গ্যাসীকরণ
নিয়ন্ত্রিত তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে কয়লা গ্যাসীকরণ প্রক্রিয়ায় কঠিন কয়লাকে পরিষ্কার ও কার্যকর গ্যাসে রূপান্তরিত করা হয়। এই গ্যাসকে সিন্থেসিস গ্যাস বা সিনগ্যাস বলা হয়। কয়লা থেকে এই গ্যাস উৎপাদনের প্রক্রিয়াটিই কয়লা গ্যাসীকরণ নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়ার দুটি প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি রয়েছে। ভূ-পৃষ্ঠে কয়লা গ্যাসীকরণ পদ্ধতিতে খনি থেকে উত্তোলিত কয়লাকে ভূ-পৃষ্ঠের গ্যাসিফায়ারে প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। ভূগর্ভস্থ কয়লা গ্যাসীকরণ পদ্ধতিতে ভূগর্ভস্থ স্তরের কয়লাকে সরাসরি গ্যাসে রূপান্তরিত করা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই প্রচলিত দহন প্রক্রিয়ার মতো কয়লাকে সম্পূর্ণ পোড়ানো হয় না। পরিবর্তে, সীমিত পরিমাণ অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সঙ্গে কয়লার বিক্রিয়া ঘটানো হয়। এই প্রক্রিয়া সাধারণত ৮০০° সেলসিয়াস থেকে ১,৬০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সম্পন্ন হয়। এই পরিস্থিতিতে কয়লার জটিল গঠন ভেঙে সরলতর গ্যাসে পরিণত হয়।
বিদ্যমান জ্বালানি পরিকাঠামো বজায় রাখা
এ বছর আগস্ট মাস পর্যন্ত, জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক উৎসগুলি ভারতের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৪৫.১২ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল। পরিচ্ছন্নতর শক্তির উৎসে উত্তরণের সময়েও এই বিদ্যমান পরিকাঠামো ভারতের জ্বালানি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে থাকবে। তাই দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু সংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই পরিকাঠামো থেকে নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যমান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্পক্ষেত্রগুলিকে নির্গমন কমাতে সক্ষম করে CCUS এই প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে পারে। ইস্পাত ও সিমেন্ট উৎপাদনকেন্দ্রগুলিতেও প্রয়োজন অনুযায়ী CCUS ব্যবস্থা সংযোজন করা যেতে পারে। এর ফলে, অত্যাবশ্যক জ্বালানি ও শিল্প পরিকাঠামোর কাজকর্ম অব্যাহত রেখেই কার্বন ডাইঅক্সাইডের নির্গমন কমানো সম্ভব হবে।
কার্বনের ব্যবহার
কার্বন ক্যাপচার, ইউটিলাইজেশন অ্যান্ড স্টোরেজ কাঠামোর আওতায় ধরে রাখা কার্বন ডাইঅক্সাইডকে বিভিন্ন উপাদান, জ্বালানি, রাসায়নিক এবং জৈব পণ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর ফলে কার্বন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্রে মূল্য সংযোজনের সুযোগ তৈরি হয়। এর ব্যবহারক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে কংক্রিট ও অ্যাগ্রিগেটের মতো নির্মাণসামগ্রী, কৃত্রিম জ্বালানি ও রাসায়নিক, পলিমার, ভূগর্ভে কার্বন সংরক্ষণের সঙ্গে উন্নত পদ্ধতিতে তেল উত্তোলন এবং জৈব জ্বালানি-সহ শৈবালভিত্তিক পণ্য। এই ব্যবহারগুলি উপাদান, জ্বালানি, রাসায়নিক ও জৈব পণ্য তৈরির বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্বন ডাইঅক্সাইডের ব্যবহার সম্প্রসারিত করে এবং একই সঙ্গে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার বাড়ায়।
কয়লা গ্যাসীকরণ কেন্দ্রে ভারতের প্রথম ধরনের CCU পরীক্ষামূলক পরিকাঠামো
সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলির মধ্যে একটির আওতায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তর (DST) দুটি প্রযুক্তি প্রয়োগ পরীক্ষামূলক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়েছে। এগুলি আইআইটি দিল্লি–থারম্যাক্স লিমিটেড এবং CSIR-IICT হায়দরাবাদ–BHEL-এর মধ্যে শিল্প ও গবেষণা সংস্থার কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। কয়লা গ্যাসীকরণ কেন্দ্রে মিথানল ও ডাইমিথাইল ইথার (DME) উৎপাদনের জন্য পরীক্ষামূলক পর্যায়ে প্রদর্শনী ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য। তাপবিদ্যুতের মতো যেসব ক্ষেত্রে নির্গমন হ্রাস করা কঠিন, সেখানে CCU প্রযুক্তি প্রয়োগের জন্য শিল্প সংস্থাগুলি সমাধান প্রদানকারী হিসেবে এবং প্রযুক্তি-নকশাকারী বা জ্ঞান-সহযোগী সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করবে।
ভারতের প্রথম সমন্বিত CCUS ফিল্ড ল্যাবরেটরি
এ বছর মে মাসে উদ্বোধন হওয়া মুম্বইস্থিত আইআইটি ভারতের প্রথম সমন্বিত CCUS ফিল্ড ল্যাবরেটরি একটি পরীক্ষামূলক পরিসরের পরিকাঠামোয় কার্বন ক্যাপচার, ব্যবহার এবং স্থায়ী ভূতাত্ত্বিক সংরক্ষণকে একত্রিত করে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই কেন্দ্রে শিল্পক্ষেত্রের নির্গমন এবং পরিবেষ্টিত বায়ু থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ টন কার্বন ডাইঅক্সাইড ধরে রাখা যায়। এতে, পানযোগ্য নয় এমন জল ব্যবহার করে কার্বন ডাইঅক্সাইডকে মূল্যবান কার্বনেট ও বাইকার্বনেটজাত পণ্যে রূপান্তরিত করা হয়। ডেকান ট্র্যাপসের ব্যাসল্ট শিলাস্তরে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খননকার্য চালিয়ে নিরাপদে ও স্থায়ীভাবে কার্বন ডাইঅক্সাইড সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ভারতের সম্ভাবনাও আরও মূল্যায়ন করা হবে। এই কেন্দ্রটি দেশীয় কার্বন ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির বিকাশ ও বৃহত্তর পরিসরে প্রয়োগের জন্য একটি জাতীয় পরীক্ষামূলক পরিকাঠামো হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে ২০৭০ সালের মধ্যে নেট জিরো অর্জনের লক্ষ্য এবং যেসব শিল্পক্ষেত্রে নির্গমন হ্রাস করা কঠিন, সেগুলির জন্য সমাধান বিকাশে সহায়তা মিলবে।
ভারতের CCUS পরিমণ্ডলকে বলশালী করা
CCUS-এর বিকাশ ত্বরান্বিত করা এবং নির্গমন হ্রাস করার লক্ষ্যে ভারত সরকার গবেষণা, নীতি প্রণয়ন ও শিল্পক্ষেত্র জুড়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপগুলি ২০৭০ সালের মধ্যে ভারতের নেট জিরো লক্ষ্যে পৌঁছানোর ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করছে।
কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭, CCUS প্রকল্প: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত এই প্রকল্পের আওতায় অর্থ মন্ত্রক পাঁচটি প্রধান শিল্পক্ষেত্রে—বিদ্যুৎ, ইস্পাত, সিমেন্ট, শোধনাগার এবং রাসায়নিক শিল্পে—কার্বন ক্যাপচার, ব্যবহার ও সংরক্ষণের প্রসারে পাঁচ বছরে ২০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের CCUS গবেষণা ও উন্নয়ন রোডম্যাপ: ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত এই রোডম্যাপ CCUS সংক্রান্ত গবেষণা, অর্থায়ন, প্রযুক্তির বিকাশ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে কৌশলগত দিশা প্রদান করে। এতে প্রযুক্তির বাণিজ্যিক প্রয়োগের প্রস্তুতি, যুগান্তকারী প্রযুক্তি এবং সহায়ক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নীতি আয়োগের CCUS নীতিগত কাঠামো ও ব্যবস্থা: ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে যেসব শিল্পক্ষেত্রে নির্গমন হ্রাস করা কঠিন, সেগুলির ব্যাপক কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের কৌশল হিসেবে CCUS-এর ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই প্রযুক্তি প্রয়োগের জন্য বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রভিত্তিক নীতিগত পদক্ষেপের রূপরেখাও তুলে ধরা হয়েছে।
জাতীয় CCUS কেন্দ্র: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের সহায়তায় ২০২২ সালে আইআইটি বম্বে এবং বেঙ্গালুরুর JNCASR-এ এই কেন্দ্রগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়। CCUS সংক্রান্ত গবেষণা, প্রযুক্তির বিকাশ, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে প্রদর্শন এবং শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সহযোগিতার ওপর কেন্দ্রগুলি গুরুত্ব দেয়।
ভারতের CCUS উদ্যোগ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তর (DST) এবং জৈবপ্রযুক্তি দপ্তরের (DBT) যৌথ নেতৃত্বে ভারত CCUS-এর ওপর একটি বড়সড় গবেষণা উদ্যোগ শুরু করেছে।
পরিচ্ছন্ন শক্তি সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ মিশন ইনোভেশন-এর অংশ হিসেবে ভারত ১৩টি সহযোগী দেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে, যাতে CO₂ ধরে রাখা, পৃথক করা, নিরাপদে সংরক্ষণ করা এবং তাকে ব্যবহারযোগ্য মূল্য সংযোজিত উপাদানে রূপান্তরিত করার প্রযুক্তির উন্নয়ন করা যায়।
সিমেন্ট শিল্পের জন্য
ভারতের প্রথম CCU পরীক্ষামূলক পরিকাঠামো ক্লাস্টার চালু
২০২৫ সালের ১১ মে ভারত সিমেন্ট শিল্পের জন্য কার্বন ক্যাপচার ও ব্যবহার সংক্রান্ত পাঁচটি পরীক্ষামূলক পরিকাঠামোর প্রথম ক্লাস্টার চালু করে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের (DST) নেতৃত্বে এই উদ্যোগে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (PPP) মাধ্যমে শীর্ষস্থানীয় সিমেন্ট সংস্থা এবং বিশিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলিকে একত্রিত করা হয়েছে, যাতে শিল্পক্ষেত্রে CCU প্রযুক্তির বিকাশ ও প্রয়োগ করা যায়। এই পরীক্ষামূলক পরিকাঠামোগুলিতে কার্বন ডাইঅক্সাইড ধরে রাখা ও খনিজীকরণ থেকে শুরু করে সেটিকে কংক্রিটজাত পণ্যে রূপান্তরিত করার মতো বিভিন্ন প্রয়োগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ফলে, সিমেন্ট শিল্পের কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের জন্য CCU প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ এগিয়ে যাবে।
CCU ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি ত্বরান্বিত
এ বছর এপ্রিল মাস পর্যন্ত ভারতে বিভিন্ন পর্যায়ে- চালু, নির্মাণাধীন বা বাস্তবায়নাধীন এবং প্রস্তাবিত- একাধিক CCU প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, বেসরকারি শিল্প সংস্থা এবং শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পগুলির মূল লক্ষ্য কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, কার্বনের উৎপাদনশীল ব্যবহার এবং বৃত্তাকার অর্থনীতির প্রয়োগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
- চালু: তিনটি প্রকল্প বর্তমানে চালু রয়েছে- মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং মহারাষ্ট্রে একটি করে।
- নির্মাণাধীন/বাস্তবায়নাধীন: ছয়টি প্রকল্প নির্মাণাধীন বা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তিনটি প্রকল্প নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ শীর্ষে রয়েছে। এরপর তেলঙ্গানায় দুটি এবং মহারাষ্ট্রে একটি প্রকল্প রয়েছে।
- প্রস্তাবিত: মোট ১৬টি প্রকল্প প্রস্তাবিত পর্যায়ে রয়েছে। চারটি করে প্রকল্প নিয়ে অসম ও ওড়িশা শীর্ষে রয়েছে। এরপর গুজরাট ও রাজস্থানে দুটি করে প্রকল্প রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং তামিলনাড়ুতে একটি করে প্রকল্প রয়েছে।
প্রকল্পগুলির এই তালিকা ভারতে কার্বন ব্যবস্থাপনার সমাধানগুলির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও উদ্যোগের প্রতিফলন। পাশাপাশি, দেশীয় কার্বন ক্যাপচার ও ব্যবহার (CCU) প্রযুক্তির প্রয়োগ আরও বিস্তৃত করার ভিত্তিও তৈরি করছে।
ভারতের নিম্ন-কার্বন শিল্পভবিষ্যৎ গড়ে তোলা
নিম্ন-কার্বন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ২০৭০ সালের মধ্যে নেট জিরো অর্জনের লক্ষ্যে ভারতের পঞ্চামৃত অঙ্গীকারগুলি বৃহত্তর প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। যেসব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে নিঃসরণ বন্ধ করা এখনও কঠিন, সেইসব ক্ষেত্রের নিঃসরণ মোকাবিলার মাধ্যমে CCUS গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সমাধান হিসেবে ভূমিকা রাখে। গবেষণা, প্রযুক্তির উন্নয়ন, অর্থায়ন এবং প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রদর্শন– এই সমস্ত ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এর ব্যাপকতর প্রয়োগের ভিত্তি তৈরি করছে। এই প্রচেষ্টাগুলি এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে CCUS সম্পদের দক্ষ ব্যবহার বাড়াতে, সুশিল্পক্ষেত্রে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে সহায়তা করতে এবং আরও বৃত্তাকার কার্বন অর্থনীতি গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।
তথ্যবিবরণী
Department of Science and Technology
Ministry of Chemicals and Fertilisers
NITI Aayog
Ministry of Power
National Power Portal
Press Information Bureau
Mission Innovation
Carbon Capture, Utilisation and Storage
*******
SSS/RP.......
(Explainer ID: 160588)
आगंतुक पटल : 6
Provide suggestions / comments