Rural Prosperity

সারাস মেলা ২০২৬

গ্রামীণ মহিলাদের উদ্যোগকে জাতীয় বাজারে পৌঁছে দেওয়া

Posted On: 21 OCT 2026 11:03AM

২১ অক্টোবর, ২০২৬ 

 

কেন্দ্রের দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা–জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশনের (ডে-এনআরএলএম) অন্তর্গত আয়োজিত সরস মেলাগুলি গ্রামীণ মহিলা উদ্যোগপতিদের বৃহত্তর বাজার, ক্রেতা এবং ব্যবসার সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করে। বিজয়ওয়াড়ায় আয়োজিত সারাস মেলা দিল্লি-এনসিআর-এর বাইরে প্রথম জাতীয় সারাস মেলা। এতে ৩৪টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মহিলা উদ্যোগপতিরা অংশগ্রহণ করছেন। এই মঞ্চ সুস্থায়ী জীবিকার প্রসারে ডে-এনআরএলএম-এর প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করে এবং আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘লাখপতি দিদি’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সহায়তা করে। বিশেষ প্যাভিলিয়নগুলিতে ব্যবসা পরিচালনা সম্পর্কে শেখা, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা লাভ এবং উদ্যোগের বিকাশের সুযোগ রয়েছে। ই-সরসের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরাসরি মেলার বাইরেও বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ায়, যার ফলে, গ্রামের মহিলারা তাঁদের পণ্য আরও বৃহত্তর বাজারে পৌঁছে দিতে পারেন।

যেখানে গ্রামীণ উদ্যোগের সঙ্গে সুযোগের মেলবন্ধন ঘটে

ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতি ঐতিহ্যবাহী দক্ষতা, হস্তশিল্প এবং উদ্ভাবকদের প্রতিভায় সমৃদ্ধ। মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি (এসএইচজি) এই প্রতিভাকে স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করে। তাঁরা তাঁতবস্ত্র ও হস্তশিল্প থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি অন্যান্য পণ্য উৎপাদন করেন। তবে, পণ্য তৈরি করাই প্রথম ধাপ। গ্রামের উদ্ভাবকদের জন্য ক্রেতা, বাজার-সংক্রান্ত তথ্য এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগও প্রয়োজন। সরস মেলাগুলি মহিলা পরিচালিত উদ্যোগগুলিকে ক্রেতা, ব্যবসায়িক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি এনে এই ব্যবধান দূর করতে সাহায্য করে। দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা–জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশনের (ডে-এনআরএলএম) অধীনে সরকার আয়োজিত সরস মেলাগুলি প্রায় তিন দশক ধরে বিবর্তিত হয়েছে। এগুলি এখন আর শুধু প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে পণ্য বিক্রি, ক্রেতাদের পছন্দ বোঝা, ব্যবসায়িক যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং বৃহত্তর বাজারের সুযোগ খোঁজার মঞ্চ তৈরি হয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় জাতীয় সরস মেলার আয়োজন এই যাত্রায় একটি নতুন পদক্ষেপ। কারণ, দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের বাইরে এটিই প্রথম জাতীয় সারাস মেলা। এ বছর ১৩ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বিজয়ওয়াড়ার পুন্নামি ঘাটে এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোট ৩৪টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে প্রায় ১,৫০০ জন মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (এসএইচজি) উদ্যোগপতি এবং লাখপতি দিদি ৬৫০টিরও বেশি স্টলের মাধ্যমে তাঁদের পণ্য প্রদর্শন করছেন। মেলায় আঞ্চলিক বস্ত্র, হস্তশিল্প, প্রাকৃতিক ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য এবং গ্রামীণ এলাকার অন্যান্য পণ্য স্থান পেয়েছে।

 পাশাপাশি, ইন্ডিয়া ফুড কোর্ট, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিশেষভাবে নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার স্থানগুলি মেলার পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। 

জাতীয় সরস মেলার বিকেন্দ্রীকরণ একটি বৃহত্তর উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যার লক্ষ্য সারা ভারতের উৎপাদক ও ক্রেতাদের আরও কাছাকাছি জাতীয় মঞ্চগুলিকে পৌঁছে দেওয়া। এর মাধ্যমে স্থানীয় দক্ষতার সঙ্গে নতুন বাজারের সংযোগ স্থাপিত হচ্ছে এবং মহিলাদের পরিচালিত উদ্যোগগুলির বিকাশে সহায়তা করা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠান অন্যান্য জাতীয় কর্মসূচির আরও বিকেন্দ্রীকরণের পথ প্রশস্ত করছে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক স্তরে ব্রিকস ও জি২০ বৈঠকের মতো আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

গ্রামীণ জীবিকা থেকে বাজারে প্রবেশের সুযোগ: ডে-এনআরএলএম-এর ভূমিকা 

ডে-এনআরএলএম গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাস এবং মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসারে সরকারের একটি প্রধান কর্মসূচি। এই কর্মসূচি স্বনির্ভর গোষ্ঠী (এসএইচজি) ও তাদের ফেডারেশনগুলির মাধ্যমে কাজ করে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সুস্থায়ী জীবিকার প্রসারে সহায়তা করে। এই মিশনের মাধ্যমে মহিলারা পারদর্শিতা অর্জন, অর্থায়ন, প্রযুক্তি এবং জীবিকার সুযোগ পেতে পারেন। পাশাপাশি, পণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধি, ব্র্যান্ডিং এবং প্রচলিত, ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মহিলাদের পরিচালিত উদ্যোগগুলির বাজার ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করা হয়।

বাজারের সঙ্গে এই সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উদ্যোগের বিকাশ শুধু উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে না। মহিলাদের নিজেদের স্থানীয় সমবায়ের বাইরেও পণ্য বিক্রির সুযোগ প্রয়োজন। ক্রেতাদের মতামত, পণ্যের আরও উন্নত উপস্থাপনা এবং ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমেও তাঁরা উপকৃত হন। সারাস মেলাগুলি এই চাহিদাগুলির সঙ্গে বাজারের সুযোগের একটি কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলে। এই মেলায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উদ্যোগ, ক্রেতা, প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতা এবং অন্যান্য অংশীদাররা একত্রিত হন। উদ্যোগপতিরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারেন, ক্রেতাদের পছন্দ বুঝতে পারেন এবং এমন অংশীদারিত্বের সুযোগ খুঁজে পেতে পারেন, যা মেলা শেষ হওয়ার পরও অব্যাহত থাকতে পারে।

৬৫ জন সুবিধাভোগী থেকে জাতীয় বাজারের মঞ্চ 

১৯৯৯ সালে সরসের যাত্রা শুরু হয়। সে বছর দিল্লিতে প্রথম জাতীয় সরস মেলার আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রায় ৬৫ জন সুবিধাভোগী অংশগ্রহণ করেছিলেন। তারপর থেকে এই মঞ্চের পরিসর জাতীয়, আঞ্চলিক, রাজ্য এবং জেলা স্তরে প্রসারিত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট ১১৭টি জাতীয় সরস মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ২০০ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতেও প্রতি বছর অন্তত দুটি রাজ্যস্তরের সরস মেলার আয়োজন করা হয়। এর ফলে জাতীয় স্তরে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫০টি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। আঞ্চলিক ও জেলাস্তরের মেলাগুলি স্থানীয় উৎপাদকদের আরও কাছাকাছি বিক্রির সুযোগ নিয়ে আসে। সম্মিলিতভাবে, এই বিভিন্ন স্তরের মেলাগুলি বাজারের সুযোগ খুঁজে পাওয়া, ব্র্যান্ডিং করা, ক্রেতা-বিক্রেতার সংযোগ স্থাপন এবং উদ্যোগের বিকাশে সহায়তা করে।

লাখপতি দিদি: জীবিকাকে আরও সুস্থায়ী করে তোলার ক্ষেত্রে লাখপতি দিদি উদ্যোগটি ডে-এনআরএলএম-এর আওতায় একটি ফলাফলভিত্তিক জীবিকা উন্নয়ন কর্মসূচি। স্বনির্ভর গোষ্ঠী (এসএইচজি) ও তাদের ফেডারেশনগুলির মাধ্যমে সংগঠিত মহিলাদের সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে এই উদ্যোগ পরিচালিত হয়। এর মূল লক্ষ্য হল জীবিকার বহুমুখী সুযোগের মাধ্যমে মহিলাদের ও তাঁদের পরিবারের সুস্থায়ী আয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করা। লাখপতি দিদি হলেন এমন একজন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য, যাঁর পরিবারের বার্ষিক আয় সুস্থায়ীভাবে অন্তত ১ লক্ষ টাকা। এই মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অন্তত চারটি কৃষি মরশুম এবং/অথবা ব্যবসায়িক চক্র বিবেচিত হয়। ২০২৩ সালের আগস্টে সরকার দুই কোটি লাখপতি দিদি গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করলে এই উদ্যোগ জাতীয় স্তরে আরও গতি লাভ করে। ২০২৪-২৫ সালের অন্তর্বর্তী বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে তিন কোটি করা হয়। পরবর্তীকালে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই উদ্যোগ তিন কোটি লাখপতি দিদির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে।

এ বছর ফেব্রুয়ারিতে, সরকার ছয় কোটি লাখপতি দিদি গড়ে তোলার বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে। এই পরবর্তী পর্যায়ে আয়ের বৃদ্ধি বজায় রাখা এবং উদ্যোগগুলির বিকাশে সহায়তা করার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে বাজারে প্রবেশের সুযোগ, পণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধি, ব্র্যান্ডিং এবং নির্ভরযোগ্য বিক্রয় ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

জীবিকা সৃষ্টির পর্যায় থেকে উদ্যোগের বিকাশের দিকে এগিয়ে যেতে সরস মেলাগুলি যথাযথভাবে সহায়তা করে। পাশাপাশি, এই মেলাগুলি বিপুল পরিমাণে পণ্যের অর্ডার, প্রাতিষ্ঠানিক বিক্রি এবং দীর্ঘমেয়াদি বাজার সংযোগের সুযোগও তৈরি করতে পারে। বিজয়ওয়াড়ার মেলায় সফল উদ্যোগপতিদের জন্য বিশেষ স্থান, ব্যবসা পরিচালনা সম্পর্কে শেখার সুযোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার ব্যবস্থা করে এই সংযোগকে বাস্তব রূপ দেওয়া হয়েছে।
 মহিলারা এখানে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে, নতুন পদ্ধতি শিখতে এবং নিজেদের উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করার উপায় খুঁজতে পারেন।

বিজয়ওয়াড়া: আঞ্চলিক বিস্তার-এর পরেও একটি জাতীয় বাজারের শক্তিশালী মঞ্চ 

বিজয়ওয়াড়ার এই মেলায় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের পণ্য ও ঐতিহ্যকে একটি বাজারের মঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে। দর্শনার্থীরা পাঞ্জাবের ফুলকারি, জম্মু ও কাশ্মীরের পশমিনা, তেলঙ্গানার ইক্কত ও তেলিয়া বস্ত্র এবং মিজোরামের পাউঞ্চেই দেখতে পারবেন। স্টলগুলিতে মীনাকারি, ডোকরা শিল্প, পিতলের সামগ্রী, কাঠের কারুকাজ এবং ঐতিহ্যবাহী চিত্রকলার নিদর্শনও রয়েছে।

“শক্তি – দ্য স্পিরিট অফ লাখপতি দিদি” শীর্ষক ১৬ ফুট উচ্চতার একটি স্থাপনা এই মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এটি ঐতিহ্যবাহী কারুকাজ সংরক্ষণকারী মহিলাদের সম্মিলিত শক্তির প্রতীক। তাঁদের দক্ষতা কিভাবে জীবিকা, স্বনির্ভরতা ও সমৃদ্ধির পথ তৈরি করে, এই স্থাপনার মাধ্যমে তা তুলে ধরা হয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ফর অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট (নাবার্ড) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ রুরাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পঞ্চায়েতি রাজ (এনআইআরডিপিআর)-সহ বিভিন্ন সরকারি সহযোগী সংস্থা এই মেলায় সহায়তা করছে। মেলার পরিকল্পনায় সরাসরি পণ্য বিক্রির পাশাপাশি, শেখার সুযোগ, প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল, দর্শনার্থীদের পাশাপাশি, সুস্থায়ী ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে তুলতে আগ্রহী উদ্যোগপতিদের কাছেও এই অনুষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলা।

পণ্য, নৈপুণ্য ও সুযোগের সংযোগ স্থাপনকারী বিভিন্ন পরিসর 

বিজয়ওয়াড়ার জাতীয়
সরস মেলা প্রচলিত প্রদর্শনী ও খুচরো বিক্রির গণ্ডি ছাড়িয়ে বিষয়ভিত্তিক, জ্ঞানবিনিময় এবং অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের জন্য নির্দিষ্ট পরিসর তৈরি করেছে। এই পরিসরগুলিতে উদ্যোগের প্রদর্শন, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ, জ্ঞান বিনিময়, সরকারি সংস্থা ও বাজারের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়, সরাসরি প্রদর্শনী এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাভিত্তিক ক্রেতা-বিক্রেতার সংযোগের সুযোগ রয়েছে।

লাখপতি দিদি প্যাভিলিয়ন: উদ্যোগের যাত্রা থেকে শিক্ষা 
লাখপতি দিদি প্যাভিলিয়নে সফল উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন এমন মহিলাদের তুলে ধরা হয়েছে। এখানে বার্ষিক ১০ লক্ষ টাকার বেশি আয় করেন এমন উদ্যোগপতিদের, যাঁদের মধ্যে এক কোটি টাকার বেশি আয় করেন এমন মহিলারাও রয়েছেন, স্থান দেওয়া হয়েছে। এই মহিলারা অন্যান্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে নিজেদের উদ্যোগের যাত্রা, পণ্য, ব্যবসায়িক মডেল এবং বাজার কৌশল ভাগ করে নেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা কৃষিকাজ, কৃষিবহির্ভূত জীবিকা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, হস্তশিল্প, তাঁতশিল্প এবং পরিষেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্যোগের বিকাশের পথ তুলে ধরে। পারস্পরিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে মহিলারা নিজেদের দক্ষতা ও পরিস্থিতির উপযোগী পদ্ধতি চিহ্নিত করতে পারেন।

লার্নিং অ্যান্ড নলেজ প্যাভিলিয়ন: ব্যবসায়িক দক্ষতা গড়ে তোলা
উন্নত পণ্যের পাশাপাশি, কার্যকর ব্যবসায়িক পদ্ধতিও প্রয়োজন। লার্নিং অ্যান্ড নলেজ প্যাভিলিয়নে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উদ্যোগপতি, রাজ্য গ্রামীণ জীবিকা মিশন (এসআরএলএম), ক্রেতা এবং অন্যান্য অংশীদারদের জন্য কর্মশালা, বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, মাস্টারক্লাস এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের অধিবেশনের আয়োজন করা হয়েছে। প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং, ব্যবসায়িক প্রস্তাব তৈরি, ই-কমার্স এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিপণনের মতো বিষয় এখানে আলোচিত হয়। পাশাপাশি, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ক্ষেত্রের সংস্থাগুলির সঙ্গে মতবিনিময়েও উৎসাহ দেওয়া হয়। এই সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে নাবার্ড, ফিকি, সিআইআই, আইটিসি, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, অ্যামাজন এবং ফ্লিপকার্ট। এই ধরনের মতবিনিময়ের মাধ্যমে উদ্যোগপতিরা পণ্যের উপস্থাপনা উন্নত করা এবং ক্রেতাদের কাছে পৌঁছনোর জন্য কার্যকর পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন।

কনভারজেন্স প্যাভিলিয়ন: মহিলাদের সহায়তার সঙ্গে সংযুক্ত করা
একটি উদ্যোগের বিকাশের জন্য প্রায়শই বাজারে প্রবেশের সুযোগের বাইরেও বিভিন্ন সহায়তার প্রয়োজন হয়। উদ্যোগপতিদের ঋণ, দক্ষতা, প্রযুক্তি, গুণমানের শংসাপত্র এবং সরকারি সহায়তাও প্রয়োজন। কনভারজেন্স প্যাভিলিয়নে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উদ্যোগপতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠানগুলির সংযোগ স্থাপন করা হয়। এই সংস্থা ও প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে রয়েছে আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রক, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ মন্ত্রক, বস্ত্র মন্ত্রক, ওএনডিসি, গভর্নমেন্ট ই-মার্কেটপ্লেস (জিইএম) এবং ট্রাইফেড। এই প্যাভিলিয়নের উদ্দেশ্য হল, মহিলাদের সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, পরিষেবা ও সহায়তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে সাহায্য করা।

ডেমোনস্ট্রেশন প্যাভিলিয়ন: পণ্য তৈরির প্রক্রিয়া প্রদর্শন
একটি তৈরি পণ্যের নেপথ্যে প্রায়শই দক্ষতা, সময় ও বিশেষ কৌশলের কাহিনি থাকে। ডেমোনস্ট্রেশন প্যাভিলিয়নে দর্শনার্থীরা সরাসরি সেই উৎপাদন প্রক্রিয়া দেখতে পারেন। মহিলা উদ্যোগপতি ও কারুশিল্পীরা প্রচলিত ও আধুনিক পদ্ধতিতে পণ্য তৈরির সরাসরি প্রদর্শন করছেন। এই কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মৃৎশিল্প, সূচিশিল্প এবং আয়না বসানো সূচিকর্ম। লাখপতি দিদিদের সরাসরি প্রদর্শনের মাধ্যমে হাতে-কলমে শেখা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর পাশাপাশি, হাতে তৈরি পণ্যের নেপথ্যে থাকা কারুশিল্পের দক্ষতা উপলব্ধি করতেও দর্শনার্থীরা সহায়তা পাচ্ছেন। ‘ডেমো অ্যান্ড লাইভ লার্নিং এরিয়া’ তাঁদের এক বিশেষ অভিজ্ঞতা প্রদান করছে।

ইন্ডিয়া ফুড কোর্ট: আঞ্চলিক স্বাদ ও মহিলাদের উদ্যোগে পরিচালিত 
খাদ্যও এমন একটি মাধ্যম, যার সাহায্যে গ্রামীণ উদ্যমগুলি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছয়। ইন্ডিয়া ফুড কোর্টে ৫০টি খাবারের স্টল রয়েছে, যেখানে বিশুদ্ধ মশলা ব্যবহার করে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি আঞ্চলিক খাবার তুলে ধরা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠানে ২৮টিরও বেশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে প্রথম প্রজন্মের ২০০-রও বেশি মহিলা খাদ্য পরিষেবা উদ্যোগপতি অংশগ্রহণ করছেন।

 দর্শনার্থীরা গোলগাপ্পা, চাট ও কাবাবের মতো জনপ্রিয় পথখাবারের স্বাদ নিতে পারেন। আঞ্চলিক খাবারের মধ্যে রয়েছে বিহারের লিট্টি চোখা, হায়দরাবাদি দম বিরিয়ানি, অসমের মাশরুম পিঠা এবং পাঞ্জাবের মক্কে দি রোটি ও শাক। কেরলের আট্টাপাড়ির ভানা সুন্দরী এবং ছত্তিশগড়ের চৌসেলাও রয়েছে এই তালিকায়। এই ফুড কোর্ট মহিলাদের জাতীয় স্তরে আঞ্চলিক খাদ্যসংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ করে দিচ্ছে। পাশাপাশি, খাদ্য প্রস্তুতি ও পরিবেশন সংক্রান্ত ব্যবসাকেও মহিলাদের পরিচালিত উদ্যোগের বৃহত্তর পরিসরের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা: ভারতের বৈচিত্র্যের উদ্‌যাপন 
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অঞ্চলগুলির ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা, কারুশিল্প, বস্ত্র, সংগীত ও নৃত্য তুলে ধরা হচ্ছে, যা দর্শনার্থীদের ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। এই পরিবেশনাগুলির মাধ্যমে প্রদর্শিত বহু পণ্যের সঙ্গে জড়িত ঐতিহ্যকে উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি, অংশগ্রহণকারী রাজ্যগুলিও নিজেদের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচিতি তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে। 

ডিজিটাল সংযুক্তি: সরাসরি স্টল থেকে ডিজিটাল বাজারে
সারাস মেলায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমের প্রসারে ডিজিটাল পেমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইউপিআই লেনদেনের মাধ্যমে সহজ ও স্বচ্ছভাবে অর্থ প্রদান করা যায়। ফুড কোর্টে মূলত নগদবিহীন লেনদেনের ব্যবস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে, প্রবীণ নাগরিক এবং নগদে অর্থ প্রদান করতে পছন্দ করেন এমন দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কুপনভিত্তিক নগদ অর্থ প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর ফলে সকলের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নির্বিঘ্ন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এ ছাড়াও, মেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারের সুযোগও শেষ হয়ে যাওয়াটা  ঠিক নয়। ডিজিটাল মাধ্যমের সাহায্যে উদ্যোগগুলি অনুষ্ঠানের পরেও এবং ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছতে পারে। তাই সরস ব্যবস্থায় সরাসরি মেলার পাশাপাশি সরস গ্যালারি এবং ই-কমার্স মাধ্যমকেও যুক্ত করা হয়েছে। ই-সরস (eSARAS) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্রেতারা অনলাইনে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উদ্যোগপতিদের তৈরি পণ্য খুঁজে পেতে ও কিনতে পারেন। এর ফলে, সরাসরি বিক্রির বাইরেও বাজারে প্রবেশের সুযোগ প্রসারিত হয় এবং মেলা শেষ হওয়ার পরেও পণ্যগুলির পরিচিতি বজায় রাখতে সহায়তা করে।

২০২৫ সালে একটি বিশেষ সারাস মেলা ডিজিটাল অ্যাপ চালু করা হয়। এই অ্যাপের মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মনোনয়ন, উপস্থিতি পরিচালনা এবং অনুষ্ঠান সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। সরাসরি অনুষ্ঠান ও ডিজিটাল মাধ্যম—উভয়ই বাজারে পৌঁছনোর পরিপূরক সুযোগ তৈরি করে। সরস মেলা ক্রেতা ও গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ করে দেয়। অন্যদিকে, অনলাইন মাধ্যমের সাহায্যে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরেও পণ্যের পরিচিতি ও বিক্রির পরিসর বাড়ানো সম্ভব।

আঞ্চলিক স্তরে জাতীয় বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ

বিজয়ওয়াড়ায় জাতীয় সারাস মেলার আয়োজন নতুন একটি অঞ্চলে বাজারে প্রবেশের এই মঞ্চের সম্প্রসারণকে চিহ্নিত করছে। বিভিন্ন স্থানে জাতীয় স্তরের অনুষ্ঠান আয়োজনের ফলে স্থানীয় ক্রেতা, গ্রাহক ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারদের আরও কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যের উৎপাদকরাও বৃহত্তর বাজারে নিজেদের পণ্য তুলে ধরার সুযোগ পান। এই উদ্যোগ ডে-এনআরএলএম এবং লাখপতি দিদি কর্মসূচির বৃহত্তর লক্ষ্যগুলিকে সমর্থন করতে সাহায্য করেছে। মহিলাদের সুস্থায়ী জীবিকার প্রয়োজন রয়েছে; পাশাপাশি, পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও বিক্রির পরিসর সম্প্রসারণের সুযোগও তাঁদের দরকার। বিক্রি, শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগের সুযোগকে একত্রিত করে এমন মঞ্চগুলি এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে।
দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের বাইরে এই জাতীয় সরস মেলা আয়োজন এবছর ২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সেবা পক্ষকালে সরকারের গৃহীত একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। সরস মেলা ভোকাল ফর লোকাল এবং আত্মনির্ভর ভারত-এর ভাবনাকেও এগিয়ে নিয়ে যায়। এর মাধ্যমে ক্রেতারা সরাসরি গ্রামীণ পণ্য সম্পর্কে জানতে পারেন এবং সেই পণ্যগুলির নেপথ্যে থাকা মহিলা উদ্যোগপতিদের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। এই মেলা মহিলাদের পরিচালিত উদ্যোগগুলিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী দক্ষতা সংরক্ষণের সুযোগও তৈরি করে। মূলত, জাতীয় সারাস মেলা প্রতিটি পণ্য, কারুশিল্প ও উদ্যোগের নেপথ্যে থাকা মহিলাদের এবং দক্ষতা থেকে উদ্যোগ, উদ্যোগ থেকে বাজার এবং বাজার থেকে সুস্থায়ী জীবিকার পথে তাঁদের যাত্রাকে তুলে ধরে।

তথ্যবিবরণী

Ministry of Rural Development

https://www.esaras.in/

https://x.com/esarasaajeevika?lang=en

https://www.pib.gov.in/PressReleaseDetail.aspx?PRID=2322458&reg=48&lang=1

Ministry of Electronics & Information Technology

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.esaras&hl=en_IN

President’s Secretariat

https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2323813&reg=48&lang=2

Government of Telangana

https://www.efms.serp.telangana.gov.in/Livelihoods/SARAS/Views/SarasHome.aspx

 

Click to see pdf


*******

SSS/RP.......

(Explainer ID: 160542) आगंतुक पटल : 9
Provide suggestions / comments
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Assamese , Telugu_Vw , Kannada , Malayalam