Economy
নারী, কর্মসংস্থান ও উদ্যোগ : জীবিকার উন্নয়নে ভারতের পদক্ষেপ
মহিলা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সুযোগের প্রসার
Posted On:
15 OCT 2026 12:11PM
নয়াদিল্লি, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ভারতে মহিলা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এখন শুধু কাজের সুযোগ বাড়ানোই নয়, কাজের ধরন ও গুণমানের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শ্রমশক্তিতে নারী অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আরও বেশি নারী শ্রমশক্তিতে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তৈরি হওয়া সুযোগগুলির দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। কর্মসংস্থান থেকে আয়, নিরাপত্তা, স্বীকৃতি এবং আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি স্বাধীনতা পাওয়া গেলে মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন আরও শক্তিশালী হয়।
মহিলাদের জন্য নিরাপদ কর্মক্ষেত্র, সামাজিক সুরক্ষা, উদ্যোগ গড়ে তোলা, ব্যবসার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং আর্থিক সুযোগ বাড়ানোর বিভিন্ন নীতির মাধ্যমে এই পরিবর্তনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর ফলে, অর্থনীতিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং তাঁদের সামনে নিরাপদ ও স্বনির্ভর হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের শ্রমবাজারে মহিলাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সী মহিলাদের ক্ষেত্রে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার (LFPR) ২০১৭-১৮ সালে ২৩.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪০ শতাংশ হয়েছে।
কর্মরত মহিলাদের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০১৭-১৮ সালে মহিলাদের কর্মসংস্থান-জনসংখ্যা অনুপাত (WPR) ছিল ২২ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৮.৮ শতাংশ হয়েছে। সংখ্যার হিসাবে, ২০২৫ সালে ভারতে ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সী আনুমানিক ২০ কোটি মহিলা কর্মরত ছিলেন।
কর্মী, উদ্যোগপতি ও অর্থনৈতিক অবদানকারী হিসেবে নারী
শ্রমশক্তিতে নারী অংশগ্রহণ বাড়ার পাশাপাশি, অর্থনীতিতে তাঁদের ভূমিকার ধরনও বদলাচ্ছে।
উদ্যোগ গড়ে তোলায় মহিলাদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ
আরও বেশি মহিলা নিজের ব্যবসা শুরু করছেন এবং উদ্যোগপতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন। নারী উদ্যোগ গড়ে তোলার ফলে আয় করা, সম্পদ তৈরি করা এবং ব্যবসার প্রসারের সুযোগ বাড়ছে। এর মাধ্যমে আর্থিক স্বাধীনতা বাড়ার পাশাপাশি, দক্ষতা ও বিভিন্ন সম্পদের নাগাল পাওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
নারীদের মালিকানাধীন ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থা (MSME): এই বছর অক্টোবর মাস পর্যন্ত উদ্যম পোর্টালে নথিভুক্ত প্রায় ৩.৬৯ কোটি MSME মহিলা মালিকানাধীন। মোট নথিভুক্ত MSME-র প্রায় ৩৮ শতাংশ এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
স্টার্টআপে নারী অংশগ্রহণ: ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত স্বীকৃত ১.০৭ লাখেরও বেশি স্টার্টআপে অন্তত একজন মহিলা অধিকর্তা বা অংশীদার ছিলেন। এই স্টার্টআপগুলি দেশের মোট স্বীকৃত স্টার্টআপের প্রায় ৪৮ শতাংশ।
প্রযুক্তি ও উচ্চ দক্ষতানির্ভর ক্ষেত্রে নারী অংশগ্রহণ
উদ্যোগ গড়ে তোলার পাশাপাশি উৎপাদন এবং উচ্চ দক্ষতানির্ভর বিভিন্ন ক্ষেত্রেও নারী অংশগ্রহণ বাড়ছে।
- মোবাইল ফোন উৎপাদন : ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত মোবাইল ফোন উৎপাদন ক্ষেত্রে সরাসরি কর্মরত কর্মীদের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী।
- ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন : গত এক দশকে বৈদ্যুতিন পন্য উৎপাদন ক্ষেত্রে যত কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, তার প্রায় ৩০ শতাংশে মহিলারা যুক্ত হয়েছেন।
- সেমিকন্ডাক্টর শিল্প : এই শিল্পে মহিলাদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত এই ক্ষেত্রে মোট কর্মীর প্রায় ২৫ শতাংশ মহিলা ছিলেন। ভারতের চিপ ডিজাইন ও ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রেও প্রায় এক-চতুর্থাংশ কর্মী নারী।
- অসামরিক বিমান পরিবহণ : এই ক্ষেত্রেও বিশেষ দক্ষতানির্ভর কাজে নারী অংশগ্রহণ বাড়ছে। ভারতে পাইলটদের ১৫ শতাংশ মহিলা। আন্তর্জাতিক স্তরে এই হার অন্যতম উচ্চ। এ ছাড়া, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের ১৫ শতাংশ, ফ্লাইট ডিসপ্যাচারদের ১১ শতাংশ এবং অসামরিক বিমান পরিবহণের ডিরেক্টরেট জেনারেল (DGCA)-এর ফ্লাইট অপারেশনস ইন্সপেক্টরদের ৩৩ শতাংশ মহিলা ছিলেন।
- গবেষণা ও উন্নয়ন : ভারতের গবেষণা ক্ষেত্রেও মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্ট্যাটিস্টিকস ২০২৫-২৬ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণিত (STEM) ক্ষেত্রে গবেষণামূলক কাজে মহিলাদের অংশগ্রহণ ২০০০-০১ সালে ১৩ শতাংশ ছিল। ২০২০-২১ সালে তা বেড়ে ১৮.৬ শতাংশ এবং ২০২৩-২৪ সালে ২৯ শতাংশ হয়েছে।
নারী উদ্যোগ : স্বীকৃতি থেকে বিকাশ
বিভিন্ন ক্ষেত্রে মহিলারা ব্যবসা গড়ে তুলছেন। সেই ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদী বিকাশের জন্য প্রয়োজন যথাযথ সহায়তা। সরকারি স্বীকৃতি, আর্থিক সহায়তা এবং বাজারের সুযোগ মহিলা পরিচালিত উদ্যোগগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি : মহিলাদের কাজকে অর্থনৈতিক পরিচয় দেওয়া
নারী পরিচালিত অনেক অর্থনৈতিক উদ্যোগ ছোট পরিসরে শুরু হয়। তাই সরকারি স্বীকৃতি পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে ব্যবসার আনুষ্ঠানিক পরিচয় তৈরি হয় এবং ঋণ, সরকারি প্রকল্প, দক্ষতা উন্নয়ন ও ব্যবসার প্রসারে সহায়ক পরিষেবা পাওয়া সহজ হয়।
স্বাবলম্বিনী প্রকল্প (২০২৫) : এই প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণীদের ব্যবসার নতুন ভাবনা থেকে শুরু করে উদ্যোগ গড়ে তোলা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে উদ্যোগপতি হওয়ার প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা ও বাজার সংক্রান্ত পরামর্শ এবং আইনি সহায়তা। নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের উদ্যোগ গড়ে তুলতে ২১ সপ্তাহ ধরে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পান। এর লক্ষ্য সুস্থায়ী উদ্যোগ গড়ে তুলতে সাহায্য করা।
স্বাবলম্বিনী প্রকল্পের পরীক্ষামূলক পর্যায়ে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।
- ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় মোট ৮২ জন শিক্ষক ও প্রশিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
- এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রামে নির্ধারিত ১,২০০ জনের লক্ষ্যের বিপরীতে ১,২৭৬ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
- এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে নির্ধারিত ৬০০ জনের লক্ষ্যের বিপরীতে মোট ৬০২ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
যশস্বিনী অভিযান (২০২৪) : এই অভিযানের লক্ষ্য হল ২০২৯ সালের মধ্যে উদ্যম পোর্টাল ও উদ্যম অ্যাসিস্ট প্ল্যাটফর্মে নারী ও পুরুষ উদ্যোগপতিদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, মহিলা মালিকানাধীন ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্প সংস্থার কাছ থেকে সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে উৎসাহ দেওয়া।
এই অভিযানের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যতের স্বাধীনভাবে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা মহিলাদের সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ দেওয়া হয়।
২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত যশস্বিনী অভিযানের মাধ্যমে মহিলা মালিকানাধীন ২২ লাখেরও বেশি MSME-র নথিভুক্তিতে সহায়তা করা হয়েছে। এ ছাড়া, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মহিলা মালিকানাধীন ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্প সংস্থা থেকে সরকারি কেনাকাটার পরিমাণ ছিল ৩.৮ শতাংশ। এর ফলে নির্ধারিত ৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা হয়েছে।
ঋণ : ব্যবসার বিকাশে আর্থিক সহায়তা
ব্যবসার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি উদ্যোগগুলিকে স্বীকৃত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করে। অন্যদিকে, আর্থিক সহায়তা পেলে সেই ব্যবসায় বিনিয়োগ, নতুন ভাবনা বাস্তবায়ন এবং ব্যবসার প্রসার ঘটানো সম্ভব হয়।
মহিলা পরিচালিত MSME-র জন্য আর্থিক সহায়তা
প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা (PMMY) : ২০১৫ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল কর্পোরেট নয়, এমন সংস্থা এবং কৃষিক্ষেত্রের বাইরে আয় সৃষ্টিকারী কাজে যুক্ত ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোগগুলিকে জামানত ছাড়া ঋণ পাওয়ার সুযোগ দেওয়া। এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায়।
প্রকল্পটি শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৫৭.৭৯ কোটিরও বেশি ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে। মঞ্জুর হওয়া মোট ঋণের দুই-তৃতীয়াংশ পেয়েছেন মহিলা ব্যবসায়িক পরিকল্পনাকারীরা।
ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্প সংস্থার জন্য ঋণ নিশ্চয়তা প্রকল্প: এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্প সংস্থাগুলির কাছে ঋণ পৌঁছে দেওয়া এবং যাঁরা এখনও পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা পান না, তাঁদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো।
এই প্রকল্পে মহিলা পরিচালিত ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্প সংস্থাগুলির জন্য ঋণ নিশ্চয়তার পরিমাণ বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ঋণ নিশ্চয়তার ফি-তে ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়।
২০০০-০১ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী, মহিলাদের মালিকানাধীন ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্প সংস্থার জন্য প্রায় ৩০.৭৫ লাখ ঋণ নিশ্চয়তা অনুমোদিত হয়েছে। এর মোট মূল্য প্রায় ২.০৭ লাখ কোটি টাকা।
প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টি কর্মসূচি (PMEGP): এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রের বাইরে নতুন ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তোলার জন্য ঋণের সঙ্গে ভর্তুকি দেওয়া হয়। উপভোক্তারা ব্যাঙ্ক ঋণের বিপরীতে প্রাথমিক মূলধন হিসেবে ভর্তুকি পান।
এই প্রকল্পে মহিলাদের জন্য শহরাঞ্চলে ২৫ শতাংশ এবং গ্রামীণ এলাকায় ৩৫ শতাংশ ভর্তুকির ব্যবস্থা রয়েছে।
এ বছর মে মাস পর্যন্ত PMEGP-র আওতায় সহায়তা পাওয়া মোট ক্ষুদ্র উদ্যোগের প্রায় ৪০ শতাংশের মালিক ছিলেন নারী। মোট বিতরণ করা প্রাথমিক মূলধনের ভর্তুকির প্রায় ৪৫ শতাংশও পেয়েছেন তাঁরা।
মহিলা পরিচালিত স্টার্টআপে আর্থিক সহায়তা
২০১৬ সালে শুরু হওয়া স্টার্টআপ ইন্ডিয়া উদ্ভাবনকে উৎসাহ দিতে এবং দেশে শক্তিশালী স্টার্টআপ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভারত সরকারের একটি প্রধান উদ্যোগ। এই উদ্যোগের আওতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রের স্টার্টআপকে ব্যবসার বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়।
স্টার্টআপের জন্য তহবিল (FFS): ২০১৬ সালে গঠিত এই তহবিলের মাধ্যমে SEBI-তে নথিভুক্ত বিকল্প বিনিয়োগ তহবিলকে (AIF) মূলধন দেওয়া হয়। এই তহবিলগুলি পরে শেয়ার বা শেয়ার-সংযুক্ত আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্টার্টআপে বিনিয়োগ করে।
২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত, ২০২৫ সাল থেকে এই প্রকল্পের আওতায় সহায়তাপ্রাপ্ত AIF-গুলি মহিলা পরিচালিত স্টার্টআপে প্রায় ২,৯৯৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।
স্টার্টআপ ইন্ডিয়া সীড ফান্ড স্কিম (SISFS): ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে অনুমোদিত ইনকিউবেটরের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রের স্টার্টআপকে প্রাথমিক মূলধন দেওয়া হয়।
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত, এই প্রকল্পের আওতায় সহায়তাপ্রাপ্ত ইনকিউবেটরগুলি মহিলা পরিচালিত স্টার্টআপের জন্য প্রায় ২৯৪ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা অনুমোদন করেছে।
স্টার্টআপের জন্য ঋণ নিশ্চয়তা প্রকল্প (CGSS): ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য স্টার্টআপগুলিকে জামানত ছাড়া ঋণ পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, নন-ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানি (NBFC) এবং SEBI-তে নথিভুক্ত AIF-গুলির দেওয়া ঋণের জন্য এই প্রকল্পে ঋণ নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত, নারী পরিচালিত স্টার্টআপগুলিকে দেওয়া প্রায় ৩৯ কোটি টাকার ঋণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
বাজারের সুযোগ: ক্রেতাদের সঙ্গে মহিলা উদ্ভাবকদের সংযোগ
বাজারের সুযোগ বাড়লে মহিলা উদ্ভাবকরা আরও বেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছতে পারেন। পাশাপাশি, ক্রেতাদের চাহিদা, পণ্যের গুণমান, ব্র্যান্ডিং এবং দাম নির্ধারণ সম্পর্কেও তাঁদের ধারণা বাড়ে।
উওম্যানিয়া উদ্যোগ: সরকারি ই-মার্কেটপ্লেসে (GeM) এই উদ্যোগের মাধ্যমে মহিলা মালিকানাধীন ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্প সংস্থা (MSE) এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে (SHG) সরকারি ক্রেতাদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারেন এবং তাঁত, পাট, কয়ার ও গৃহসজ্জার সামগ্রীর মতো পণ্য বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করতে পারেন।
২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত, GeM-এ মহিলা মালিকানাধীন ২.১৭ লাখেরও বেশি MSE নথিভুক্ত হয়েছে। সরকারি সংস্থা, দপ্তর ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির কেনাকাটার জন্য GeM একটি নির্দিষ্ট অনলাইন বাজার।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মহিলা মালিকানাধীন MSE-গুলিকে দেওয়া মোট বরাতের মূল্য ২৮,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আগের অর্থবর্ষের তুলনায় এই বৃদ্ধি ২৭.৬ শতাংশ।
GeM-এর মাধ্যমে দেওয়া মোট বরাতের মূল্যের ৫.৬ শতাংশ পেয়েছে মহিলাদের মালিকানাধীন সংস্থাগুলি। এর ফলে, সরকারি কেনাকাটায় নির্ধারিত ৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা হয়েছে।
২. ক্রয় ও বিপণন সহায়তা প্রকল্প (PMS): এই প্রকল্পের সাহায্যে নথিভুক্ত MSE-গুলিকে বাণিজ্য মেলা, প্রদর্শনী, সরবরাহকারী উন্নয়ন কর্মসূচি, ই-কমার্স এবং প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়া হয়। বাণিজ্য মেলায় স্টল বা প্রদর্শনীর জন্য তৈরি জায়গার ভাড়ায় মহিলা মালিকানাধীন MSE-গুলি ১০০ শতাংশ ভর্তুকি পেতে পারে।
MSME ট্রেড এনেবলমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং (TEAM) উদ্যোগ: ডিজিটাল বিপণনের সুযোগ বাড়াতে RAMP কর্মসূচির আওতায় ২০২৪ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তিন বছরের জন্য এই উদ্যোগ শুরু করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল ওপেন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কমার্সের (ONDC) মাধ্যমে MSE-গুলিকে নতুন বাজারে পৌঁছতে, আরও বেশি ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত হতে এবং আয় বাড়াতে সাহায্য করা।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত, এই উদ্যোগের আওতায় মহিলা মালিকানাধীন ১,৭০০টি MSE নথিভুক্ত হয়েছে।
বাজারের সুযোগ বাড়লে ব্যবসার প্রতিটি পর্যায়ের মধ্যে সংযোগ তৈরি হয়। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ব্যবসাকে পরিচয় দেয়, ঋণ উৎপাদনের সুযোগ বাড়ায় এবং বাজারের সহায়তা উৎপাদিত পণ্যকে আয় ও সুস্থায়ী বিকাশের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
নতুন ক্ষেত্রের জন্য নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন
প্রযুক্তি ও বিশেষ দক্ষতানির্ভর ক্ষেত্রে নারীদের সুযোগ বাড়ছে। এই সুযোগগুলিতে আরও বেশি মহিলাকে যুক্ত করতে ভবিষ্যতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন জরুরি।
মহিলাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ
কিশোরীদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আকাঙ্ক্ষা পূরণ (NAVYA): ২০২৫ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা ৪.০ (PMKVY 4.0)-এর আওতায় ৩,৮৫০ জন কিশোরীকে প্রচলিত ধারার বাইরে এবং ভবিষ্যতে চাহিদা বাড়বে এমন পেশায় প্রশিক্ষণ দেওয়া।
এ বছর ৩১ আগস্ট পর্যন্ত, এই প্রকল্পের আওতায় ১,১০৫ জন কিশোরী প্রশিক্ষণ পেয়েছে।
নারীদের জন্য AI-সংক্রান্ত পেশার সুযোগ : ২০২৫ সালে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় ছয়টি রাজ্যের মহিলা কলেজে ৩০টি উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলি দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরগুলিতে আরও ১৫০টি সহযোগী কেন্দ্রকে সহায়তা করবে।
এই কর্মসূচির লক্ষ্য ২০,০০০ শিক্ষার্থীকে ব্যবহারিক ও শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রকল্পভিত্তিক কাজের অভিজ্ঞতা তৈরি করা। অংশগ্রহণকারীরা শংসাপত্র, ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজের সুযোগ, ফেলোশিপ, পেশাগত পরামর্শ এবং AI-নির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।
বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে নারী: গবেষণার প্রসারে জ্ঞান ও অংশগ্রহণ (WISE-KIRAN): এই প্রকল্পের মাধ্যমে ফেলোশিপ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচির সাহায্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে গবেষণা ও উন্নয়নের কাজে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হয়।
এই প্রকল্পের অধীনে রয়েছে :
- WISE-PhD: পিএইচডি গবেষণার জন্য ফেলোশিপ।
- WISE-PDF: পিএইচডি-পরবর্তী গবেষণার জন্য ফেলোশিপ।
- WISE-SCOPE: সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে গবেষণার সুযোগ।
- WISE-IPR: মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ।
- WIDUSHI : বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে মহিলাদের গবেষণার অগ্রগতি ও অংশগ্রহণে সহায়তা।
এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে পিএইচডি ও পিএইচডি-পরবর্তী গবেষণা, গবেষণায় ফিরে আসা, গবেষণার ফল বাস্তবে কাজে লাগানো, মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ এবং ধারাবাহিক গবেষণার সুযোগ তৈরি করা হয়।
এ ছাড়া, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য রয়েছে :
- CURIE : বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও উৎকর্ষের প্রসার।
- বিজ্ঞান জ্যোতি : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।
- GATI : প্রতিষ্ঠানের কাজের পদ্ধতিতে লিঙ্গসমতা আনা।
- WiSLP : মহাকাশ ক্ষেত্রে মহিলা নেতৃত্বের সুযোগ বাড়ানো।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে :
- প্রসঙ্গত, ১৮০ জন মহিলা পিএইচডি করেছেন।
- মোট ৬০৬ জন মহিলা বিজ্ঞানী পিএইচডি-পরবর্তী গবেষণা বা গবেষণার ফল বাস্তবে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সহায়তা পেয়েছেন।
- উল্লেখ্য, ২৬ জন প্রবীণ বিজ্ঞানী গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য সহায়তা পেয়েছেন।
- STEM ক্ষেত্রে ২৯,৪৪৩ জন স্কুলছাত্রী সহায়তা পেয়েছে।
এ ছাড়া, ১১০ জনেরও বেশি মহিলা বিজ্ঞানী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। বস্তুত, ৪৫০ জনেরও বেশি মহিলা বিজ্ঞানী গবেষণায় অংশগ্রহণ, দক্ষতা বৃদ্ধি অথবা কর্মজীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে সহায়তা পেয়েছেন।
এই উদ্যোগগুলি প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে নতুন এবং বিশেষ দক্ষতানির্ভর ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে শ্রম সংস্কার
কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে শুধু কাজের সুযোগ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। সেই কাজের সুযোগ পাওয়া এবং দীর্ঘদিন কাজ চালিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত পরিবেশও নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে শ্রম সংক্রান্ত বিধিবিধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই সমন্বিত কাঠামোর আওতায় একাধিক বিধান কর্মক্ষেত্রে নারীদের অধিকার, নিরাপত্তা, প্রতিনিধিত্ব ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও জোরদার করেছে।
অভিযোগ জানানোর কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব : কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের অনুপাতে অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটিতে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
মাতৃত্বকালীন সুযোগ-সুবিধা : যোগ্য নারীরা সর্বোচ্চ ২৬ সপ্তাহের সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন। দত্তক নেওয়া মা এবং সারোগেসি বা বিকল্প গর্ভধারণের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী মায়েরা ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন। এ ছাড়াও রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা :
- বিনামূল্যে প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকলে নারীরা ৩,৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন।
- সন্তানের বয়স ১৫ মাস না হওয়া পর্যন্ত কর্মদিবসে দু’বার শিশুকে স্তন্যপান করানোর জন্য বিরতি পাবেন নারীরা।
- অন্তত ৫০ জন কর্মী রয়েছেন, এমন প্রতিষ্ঠানে শিশুদের দেখাশোনার জন্য ক্রেশের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্রামের বিরতি-সহ দিনে চারবার ক্রেশে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে সংশ্লিষ্ট নারী কর্মীকে।
কর্মসংস্থানের আরও সুযোগসুবিধা : সম্মতি এবং নির্ধারিত সুরক্ষাবিধি মেনে রাতের পালায় কাজ-সহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে মহিলারা কাজ করতে পারবেন।
লিঙ্গবৈষম্য নিষিদ্ধ : নিয়োগ, মজুরি এবং কর্মসংস্থানের শর্তের ক্ষেত্রে লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য করা নিষিদ্ধ।
নীতিনির্ধারণে প্রতিনিধিত্ব: কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের উপদেষ্টা বোর্ডে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সদস্য হতে হবে নারী। ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে এই বোর্ড পরামর্শ দেবে।
মহিলাদের কর্মসংস্থানের নতুন দিশা
মহিলাদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ভারতের অভিমুখের কেন্দ্রবিন্দু এখন কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ বাড়ানো। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থান, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গড়ে তোলা এবং অর্থনীতির নতুন নতুন ক্ষেত্রে নারীদের অবদান আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
দক্ষতা অর্জন, আর্থিক সহায়তা, বাজারে প্রবেশের সুযোগ এবং কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিবেশ নারীর এই অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে, ভারতের উন্নয়নে নারীর ভূমিকা আরও সক্রিয় হবে এবং বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে নারী-নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন এগিয়ে যাবে।
তথ্যসূত্র
Ministry of Labour & Employment
https://www.labour.gov.in/static/uploads/2026/06/4b7ec0e8206aa4860576d6f75b432e97.pdf
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2078530&lang=2®=48
https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2256177&lang=2®=48
Ministry of Finance
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2249915&lang=1®=3
Ministry of Micro, Small & Medium Enterprises
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2236871®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2209712®=48&lang=2
https://www.cgtmse.in/
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2236871&lang=1®=20
https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/187/AS289_FewgL8.pdf?source=pqals
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2099687&lang=2®=3
https://www.msme.gov.in/offerings/schemes-and-services/details/prime-minister-employment-generation-programme-and-other-credit-support-schemes-1-MDMzETMtQWa
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2258590&lang=1®=1
https://www.msme.gov.in/offerings/schemes-and-services/details/marketing-promotion-schemes-1-QzMzETMtQWa
https://ramp.msme.gov.in/ramp/RAMP-initiative/msme-team-initiative/msme-team-initiative
https://www.msme.gov.in/static/uploads/2026/05/1bfda06b460e72543530b40817573495.pdf
https://dashboard.msme.gov.in/#
https://sambandh.msme.gov.in/PPP_Index.aspx
Ministry of Commerce & Industry
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2253019&lang=1®=3
https://www.startupindia.gov.in/content/sih/en/about-startup-india-initiative.html
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1595854&lang=2®=48
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2202984&lang=1®=3
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2127843®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2241313®=48&lang=2
Ministry of Skill Development and Entrepreneurship
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2226498&lang=1®=3
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2204133&lang=1®=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2123510&lang=2®=3
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2225466&lang=1®=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2294851®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2149336&lang=2®=3
https://nstiwshimla.dgt.gov.in/en/node/2209
Ministry of Statistics & Programme Implementation
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2246009&lang=1®=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2057970&lang=2®=3
https://mospi.gov.in/uploads/publications_reports/publications_reports1787307445576_78c40fd2-1acd-40fb-abb8-15f9491ba4b8_QBUSE_Bulletin_(2).pdf
https://www.mospi.gov.in/national-sample-survey-office
Ministry of Electronics & IT
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2284808®=48&lang=2
Ministry of Women and Child Development
https://sansad.in/getFile/annex/270/AU3029_YErb7m.pdf?source=pqars
Ministry of Science and Technology
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2298220&lang=1®=48
Press Information Bureau (PIB) Archive
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2250664&lang=1®=3
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2181702&lang=2®=3
https://newindiasamachar.pib.gov.in/WriteReadData/Magazine//2026/May/M202605011.pdf
https://www.pib.gov.in/FactsheetDetails.aspx?Id=150499®=3&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?ModuleId=3&NoteId=154624®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/blogs/blogsdescr.aspx?feaaid=581&lang=1
Invest India
https://www.investindia.gov.in/team-india-blogs/women-shaping-future-indian-industries
International Organisations
https://www.unwomen.org/sites/default/files/2024-03/un-women-womens-economic-empowerment-strategy-en.pdf
https://www.ilo.org/sites/default/files/wcmsp5/groups/public/%40ed_emp/%40emp_ent/%40ifp_seed/documents/publication/wcms_766156.pdf
https://www.worldbank.org/ext/en/topic/competitiveness/small-and-medium-enterprises-smes-finance#tab-context
https://digitalforwomen.worldbank.org/access-markets
Click here to see PDF
****
SSS/AS.......
(Explainer ID: 160476)
आगंतुक पटल : 13
Provide suggestions / comments