Technology

ভারতের উদীয়মান সুপারকম্পিউটিং বাস্তুতন্ত্র

Posted On: 04 OCT 2026 5:53PM

০৪ অক্টোবর, ২০২৬

 

ভারতের সুপারকম্পিউটিং সক্ষমতা বৃদ্ধি

১৯৯০-এর দশকের শুরুতে পরম ৮০০০ (PARAM 8000) দিয়ে ভারতের সুপারকম্পিউটিং যাত্রা শুরু হয়, যেটি বর্তমানে, ২০১৫ সালে চালু হওয়া জাতীয় সুপারকম্পিউটিং মিশন (NSM)-এর আওতায় একটি জাতীয় বাস্তুতন্ত্রে রূপ নিয়েছে। প্রসঙ্গত, এবছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৮ পেটাফ্লপস (PF) ক্ষমতা সম্পন্ন ৪০টি সুপারকম্পিউটার ভারতের উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং (HPC) ব্যবস্থার প্রসার বৃদ্ধি করে চলেছে। জলবায়ু, মহাকাশ, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রকৌশল ক্ষেত্রের জটিল হিসেব ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর ফলে, আত্মনির্ভর ভারত অর্জনের লক্ষ্য সমৃদ্ধ হচ্ছে।

ইএসটিআইসি-২০২৬ (ESTIC-2026)

ভারতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচনে এ বছর ২৭-২৯ অক্টোবর নতুন দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত হতে চলেছে ইএসটিআইসি-২০২৬। সিএসআইআর (CSIR) আয়োজিত এই কনক্লেভটি 'উন্নত ভারত ২০৪৭'-এর রূপকল্প বাস্তবায়ন এবং সুপারকম্পিউটিং সহ ১২টি ক্ষেত্র নিয়ে আলাপ-আলোচনায় বসবে।

জাতীয় সুপারকম্পিউটিং মিশনের কৌশল

২০১৫ সালের এপ্রিলে প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা খরচ করে এই মিশন চালু হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ (DST) এবং বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) যৌথভাবে এটি পরিচালনা করছে। পুণের সি-ড্যাক (C-DAC) এবং বেঙ্গালুরুর আইআইএসসি (IISc) এটি বাস্তবায়ন করছে। স্বদেশী সুপারকম্পিউটিং পরিকাঠামো তৈরির জন্য মিশনটি সংযোজন, উৎপাদন এবং ডিজাইন, উৎপাদন সহায়তার এই তিনটি ধাপ অনুসরণ করে।

সুপারকম্পিউটার সম্পর্কে কিছু তথ্য

সুপারকম্পিউটার সাধারণ কম্পিউটারের চেয়ে অনেক দ্রুত এবং সমান্তরাল প্রক্রিয়াকরণে (parallel processing) কাজ করে। এর ক্ষমতা ফ্লপস (FLOPS)-এ পরিমাপ করা হয়। ১ টেরাফ্লপস (TF) হল, প্রতি সেকেন্ডে ১ ট্রিলিয়ন গণনা এবং ১ পেটাফ্লপস (PF) হল, প্রতি সেকেন্ডে ১ কোয়াড্রিলিয়ন গণনা। এ বছর বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটারের গতি প্রায় ২.১৯ এক্সাফ্লপস।

মিশনের বর্তমান অবস্থা

এনএসএম-এর অধীনে দেশের বিভিন্ন গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানে মোট ১২৩ পেটাফ্লপসেরও বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন ৫০টি সুপারকম্পিউটার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরম (PARAM) সিরিজের বিবর্তন

১৯৯১ সালে সি-ড্যাক নির্মিত পরম ৮০০০ (গতি ১ গিগাফ্লপ) দিয়ে এই যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে পরম যুবার (৫৪ টেগাফ্লপস) মতো শক্তিশালী ব্যবস্থা বায়ুমণ্ডল ও ফ্লুইড ডায়নামিক্সের মতো জটিল গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছে।

কম্পিউটিং সক্ষমতা সম্প্রসারণ

এ বছর সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দেশে ৬৮ পেটাফ্লপস ক্ষমতার ৪০টি সুপারকম্পিউটার স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ পেটাফ্লপসের বেশি ক্ষমতার ১৩টি হাই-এন্ড সিস্টেম, ৫০০ টেরাফ্লপস থেকে ১ পেটাফ্লপস ক্ষমতার ১২টি মিড-রেঞ্জ সিস্টেম এবং ৫০০ টেরাফ্লপসের কম ক্ষমতার ১৫টি সিস্টেম রয়েছে।

উন্নয়নে সুপারকম্পিউটিং

এনএসএম রাষ্ট্রসংঘের ১১টি সুস্থায়ী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (SDGs) অবদান রাখছে। এটি বন্যা পূর্বাভাস, দাবানল ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু মডেলিং এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সাহায্যে শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কাজে সাহায্য করছে।

এনএসএম-এর অধীনে জাতীয় অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার

সুপারকম্পিউটিং প্রযুক্তি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে:

* *জিনোমিক্স ও ওষুধ আবিষ্কার:* কোভিড-১৯ চলাকালীন ওষুধের ট্রায়াল ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অন্বেষণে ব্যবহৃত হয়েছে।

* *পরিবেশ সংক্রান্ত সহায়তা:* আবহাওয়া ও বায়ু দূষণের পূর্বাভাসে সহায়কের ভূমিকা পালন করেছে।

* *ভূকম্প সং ক্রান্ত চিত্রণ:* মাটির নিচের মানচিত্র তৈরি করে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে সাহায্য করে।

* *মহানন্দা নদী অববাহিকার বন্যা নিয়ে পূর্বাভাস:* দু দিন আগেই বন্যার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম।

* *দাবানল ছড়িয়ে পড়ার মডেল:* উপগ্রহ-ভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করে সিকিম ও হিমালয় অঞ্চলে দাবানল ছড়িয়ে পড়া রোধে কাজ করছে।

* *পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন:* পরমাণু ও অণুর আচরণের অনুকরণ তৈরি করে।

এনএসএম-এর অধীনে তৈরি স্বদেশী উপাদান

* *রুদ্র সিরিজ সার্ভার:* সি-ড্যাক দ্বারা নির্মিত এটি একটি প্রধান প্রক্রিয়াকরণ উপাদান।

* *পরম রুদ্র সিরিজ:* রুদ্র সার্ভার ও স্বদেশী সফটওয়্যার দিয়ে তৈরি পরম রুদ্র সুপারকম্পিউটার মহাকাশ ও পরমাণু গবেষণায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এ বছর সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ৬,০০০ রুদ্র সার্ভার মোতায়েন করা হয়েছে।

* *উচ্চ গতির ইন্টারকানেক্ট নেটওয়ার্ক:* ১০০ ও ২০০ জিবিপিএস (Gbps) গতির যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে।

* *স্বদেশী শীতলিকরণ প্রযুক্তি:* কম্পিউটিং সিস্টেম ঠান্ডা রাখার দক্ষ প্রযুক্তি নির্মাণ করা হয়েছে।

* *পরম শাবক (PARAM Shavak):* এটি প্রকৌশল সংক্রান্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ছোট 'সুপারকম্পিউটিং-ইন-এ-বক্স'।

উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং-এ দক্ষ জনশক্তি তৈরি

এ বছর সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এনএসএম-এর পরিকাঠামো ব্যবহার করে ৪০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের ১৬,০০০ গবেষক (২,৯০০ জনের বেশি পিএইচডি গবেষক- সহ) ১.৫ কোটিরও বেশি গণনা কার্যসম্পাদন করেছেন এবং ১,৯৯০টিরও বেশি গবেষণা প্রকাশ করেছেন।

শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে:

* এইচপিসি ও ডিপ লার্নিং সচেতনতা কর্মসূচি এবং হ্যাকাথন।
* এআইসিটিই (AICTE)-র সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষক উন্নয়ন কর্মসূচি।
* বার্ষিক 'এডুএইচসিপি (EduHPC)' কর্মশালা এবং স্বয়ম (SWAYAM) প্ল্যাটফর্ম।
* এইচপিসি শিক্ষা পোর্টাল ও এনএসএম ব্যবহারকারী ফোরাম।

* *জাতীয় অডিজ্ঞতাকেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক (NKN):* এটি দেশের বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সুপারকম্পিউটিং সুবিধাকে উচ্চগতির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত করেছে।

ভবিষ্যতের পথ

ভারতের সুপারকম্পিউটিং বাস্তুতন্ত্র ভবিষ্যতে দ্রুততর, শক্তি-দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা সৃষ্টির দিকে এগিয়ে চলেছে। আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং-এর (HPC) যৌথ ব্যবহারে আবহাওয়া, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও গবেষণার নানা জটিল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে- যে ব্যবস্থা দেশকে সুরক্ষিত ও আত্মনির্ভর করে তুলতে সাহায্য করবে।

তথ্যবিবরণী:

Department of Science and Technology

 

Ministry of Electronics & IT

Centre for Development of Advanced Computing

Click here to see pdf

 

*******

SSS/PK...

(Explainer ID: 160319) आगंतुक पटल : 3
Provide suggestions / comments
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Tamil , Kannada