Culture & Tourism
ইন্ডিয়া সিনে হাব
চলচ্চিত্রের শুটিং-এর অনুমতি পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা
Posted On:
22 SEP 2026 1:54PM
নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ইন্ডিয়া সিনে হাব (ICH) একটি সিঙ্গল উইন্ডো ডিজিটাল পোর্টাল ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে দেশি ও বিদেশী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য চলচ্চিত্রের শুটিং-এর অনুমতি, ভিসা প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা সহজ করা হয়েছে। ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NFDC) এই পোর্টাল পরিচালনা করে। বিভিন্ন রাজ্যের অনুমোদন, পুলিশের ছাড়পত্র এবং যৌথ প্রযোজনার আবেদন একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার ফলে একাধিক রাজ্যে শুটিং-এর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা কমেছে। এর ফলে, ভারতে চলচ্চিত্রের শুটিং-এর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হয়েছে। দেশের দ্রুত বাড়তে থাকা বিনোদন ক্ষেত্রের বিকাশেও এটি সহায়তা করছে।
ভারতে চলচ্চিত্র নির্মাণ আরও সহজ
সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক শিল্প ও প্রাণবন্ত চলচ্চিত্রের জন্য পরিচিত ভারত ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন এবং অনলাইন কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে। ২০২৪ অর্থবর্ষে এই ক্ষেত্র থেকে ১৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় এই আয় ১৮% বেড়েছে। আগামী বছরগুলিতেও এই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৯ অর্থবর্ষে এই ক্ষেত্রের সম্মিলিত আয় প্রায় ১৭.৫ থেকে ১৯.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। তরুণ জনসংখ্যা, দ্রুত বাড়তে থাকা 5G নেটওয়ার্ক এবং অত্যন্ত কম খরচে ডেটা পরিষেবার কারণে ভারতে কনটেন্ট তৈরির ব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
ভারত শুধু চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করছে না। দেশি ও বিদেশী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য ভারত একটি আকর্ষণীয় শুটিং গন্তব্যও হয়ে উঠছে। হিমালয়ের মনোরম অঞ্চল থেকে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সাদা বালির সৈকত পর্যন্ত ভারতের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বিস্তৃত। রাজস্থানের দুর্গ ও প্রাসাদের মতো UNESCO World Heritage Site-সহ দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক স্থান চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং পর্যটক উভয়ের কাছেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
ভারতে চলচ্চিত্র নির্মাণে আরও উৎসাহ দিতে সরকার একাধিক সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল ইন্ডিয়া সিনে হাব (ICH)-এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলচ্চিত্র ও লাইভ ইভেন্টের শুটিং-এর অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা।
ইন্ডিয়া সিনে হাব সিঙ্গল উইন্ডো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে সারা দেশে চলচ্চিত্রের শুটিং-এর অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রন প্রক্রিয়া সরল করার পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের ব্যবস্থা করে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবসা পরিচালনার সুবিধা বাড়াচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাণের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসাবে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।
রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে এই প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন শুটিং-এর স্থান, পরিকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ তুলে ধরার ব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে, পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রক্রিয়ায় আরও দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করে ইন্ডিয়া সিনে হাব চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করছে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণের পছন্দের গন্তব্য হিসাবে ভারতের অবস্থানও শক্তিশালী হচ্ছে।
শুধু চলচ্চিত্রের শুটিং-এর অনুমতির মধ্যেই এই প্ল্যাটফর্মের কাজ সীমাবদ্ধ নেই। Live Events Development Cell (LEDC)-এর জন্য লাইভ ইভেন্টের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি মূল ডিজিটাল পরিকাঠামো হিসাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থানের তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় যুক্ত করে ইভেন্টের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নোডাল অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়। এর ফলে, সমন্বিতভাবে অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হয়। ইতিমধ্যে নয়টি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানস্থল এই ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে।
ইন্ডিয়া সিনে হাব : চলচ্চিত্রের শুটিং-এর অনুমতির জন্য একক পোর্টাল
National Film Development Corporation of India (NFDC)-এর পরিচালনায় ইন্ডিয়া সিনে হাব (ICH) চলচ্চিত্রের শুটিং-এর অনুমতির জন্য একটি ডিজিটাল সিঙ্গল উইন্ডো পোর্টাল হিসাবে কাজ করে। ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রসার ও উন্নয়নে NFDC-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটি ভারত সরকারের অধীন একটি সংস্থা।
NFDC : ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
ভারত সরকার ১৯৭৫ সালে NFDC প্রতিষ্ঠা করে। ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের প্রসার ও উন্নয়নই এর মূল দায়িত্ব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে Film Finance Corporation এবং Indian Motion Picture Export Corporation-এর কাজ NFDC-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ২০২০ সালে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, Films Division, Directorate of Film Festivals, National Film Archive of India এবং Children's Film Society, India-ও NFDC-এর সঙ্গে যুক্ত হয়।
বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন ভাষায় চলচ্চিত্রের উন্নয়ন, প্রযোজনা, প্রসার ও সংরক্ষণের জন্য NFDC একটি সমন্বিত সংস্থা হিসাবে কাজ করছে।
প্রধান কাজ
১. সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রকল্পে যৌথ প্রযোজনা করা।
২. ভারতে বিদেশি চলচ্চিত্রের শুটিং-এর জন্য লাইন প্রোডাকশন পরিষেবা এবং বিদেশে অ্যানিমেশন পরিষেবা প্রদান করা।
৩. গোয়ায় International Film Festival of India (IFFI)-এর পাশাপাশি, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যৌথ প্রযোজনা ও চলচ্চিত্র বিতরণ বাজার Film Bazaar India আয়োজন করা।
মূল নীতি
মিশন : বহুভাষিক ভারতীয় চলচ্চিত্রকে সহায়তা করে চলচ্চিত্রের উৎকর্ষ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
ভিশন : দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে স্বাধীন ভারতীয় চলচ্চিত্রের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো।
লক্ষ্য
ক. চিত্রনাট্য উন্নয়ন, কর্মশালা ও যৌথ প্রযোজনার মাধ্যমে প্রতিভার বিকাশে সহায়তা করা।
খ. চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্বের সামনে ভারতীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরা।
গ. চলচ্চিত্র শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম একটি কার্যকর সংস্থা হিসাবে কাজ করা।
ইন্ডিয়া সিনে হাবের বৈশিষ্ট্য
ভারতে চলচ্চিত্রের শুটিং বা লাইভ ইভেন্ট আয়োজন করতে আগ্রহী নির্মাতাদের জন্য ইন্ডিয়া সিনে হাবের প্রধান সুবিধাগুলি হল:
- দেশি ও বিদেশী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের শুটিং-এর অনুমতির জন্য একটি একক পোর্টাল প্রদান করে। রাজ্যস্তরের ব্যবস্থাগুলিকে এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। যে রাজ্যগুলিতে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া নেই, সেখানেও একটি সাধারণ আবেদনপত্রের মাধ্যমে আবেদন করা যায়।
- বিদেশী চলচ্চিত্র নির্মাতারা ICH-এর মাধ্যমে শুটিং-এর অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন। এই পোর্টাল Film Visa পাওয়ার প্রক্রিয়াতেও সহায়তা করে।
- যৌথ প্রযোজনার প্রকল্পের অনুমতির আবেদন প্রক্রিয়া করে এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রদান করে।
৩. চলচ্চিত্রের ভিসা, নিয়মকানুন, আকাশপথে শুটিং, পশুপাখিকে নিয়ে শুটিং, বনাঞ্চল এবং ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধে শুটিং-এর বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রদান করে।
৪. GIS-ভিত্তিক একটি বিস্তারিত লোকেশন ডিরেক্টরি প্রদান করে। এতে শুটিংয়ের স্থান, সংশ্লিষ্ট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ এবং ভারতের বিভিন্ন ফিল্ম হাব সম্পর্কে তথ্য রয়েছে।
ভারতের ফিল্ম সিটি
ভারতে একাধিক বড় চলচ্চিত্র নির্মাণ কেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিতে ১.৬ লক্ষেরও বেশি মানুষ কাজ করেন। মুম্বই, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, তিরুবনন্তপুরম/কোচি, গুয়াহাটি, ভুবনেশ্বর এবং দিল্লিতে এই ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ কেন্দ্র রয়েছে।
এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠিত ও গুরুত্বপূর্ণ ফিল্ম সিটি হল মুম্বই-এর Film City (মহারাষ্ট্র), হায়দরাবাদের Ramoji Film City (তেলেঙ্গানা) এবং নয়ডার Noida Film City (উত্তরপ্রদেশ)। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আকর্ষণ করে এই ফিল্ম সিটিগুলি ভারতকে মিডিয়া ও বিনোদন পরিষেবার একক গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মুম্বই ফিল্ম সিটি
মুম্বই-এর গোরেগাঁওয়ে অবস্থিত Mumbai Film City বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্টুডিও কমপ্লেক্স। চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুবিধা এখানে রয়েছে। মোট ৫২০ একরেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ফিল্ম সিটিতে প্রায় ৪২টি আউটডোর শুটিং-এর স্থান রয়েছে।
Film City-তে পাহাড়, উপত্যকা ও খাত, সমতল খোলা জায়গা, প্রাকৃতিক বনভূমি, ঝোপঝাড় এবং জলাশয়-সহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রয়েছে।
মহারাষ্ট্র সরকার ১৯৭৭ সালে Film City প্রতিষ্ঠা করে। ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা দাদাসাহেব ফালকের স্মরণে ২০০১ সালে এর নাম পরিবর্তন করে Dadasaheb Phalke Chitranagari রাখা হয়।
Ramoji Film City (হায়দ্রাবাদ)
Ramoji Group ১৯৯৬ সালে Ramoji Film City প্রতিষ্ঠা করে। Guinness World Records এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম ফিল্ম স্টুডিও কমপ্লেক্স হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম সমন্বিত ফিল্ম সিটি এবং ভারতের একমাত্র থিমভিত্তিক পর্যটন গন্তব্য।
এই কমপ্লেক্সে একই সময়ে প্রায় ৪০টি ভারতীয় চলচ্চিত্রের শুটিং করা সম্ভব। এখানে প্রায় ৬,০০০ কর্মী কাজ করেন। বস্তুত, ২,০০০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ফিল্ম সিটিতে ৫০০-রও বেশি শুটিং-এর স্থান রয়েছে। একই সময়ে ২০টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।
Noida Film City
Noida Film City-তে বিভিন্ন চলচ্চিত্র স্টুডিও ও মিডিয়া সংস্থা রয়েছে। এখানে স্যাটেলাইট চ্যানেল, মাল্টিপ্লেক্সের কার্যালয়, প্রকাশনা সংস্থা, রেডিও সম্প্রচার কেন্দ্র, অডিও শিল্পের বড় সংস্থা এবং চলচ্চিত্র সংস্থার কার্যালয় রয়েছে।
১০০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত Noida Film City-তে ১৬টি স্টুডিও রয়েছে। এখান থেকে ১৬২টি দেশে ৩৫০টি চ্যানেলে সম্প্রচার করা হয়। এটি টেলিভিশন ও মিডিয়া ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
Film City-তে প্রায় ১৭,০০০ মিডিয়া পেশাদার কাজ করেন। এর সঙ্গে যুক্ত ও সহায়ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় ১.৫ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৃহত্তর অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে।
নতুন ফিল্ম সিটির পত্তন
ডিজিটাল কনটেন্ট ও মিডিয়া বর্তমানে ভারতের মিডিয়া ক্ষেত্রের অন্যতম বৃহৎ অংশ। ডিজিটাল কনটেন্টের গ্রাহকদের মধ্যে ভারত অন্যতম তরুণ দেশ। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী বিপুল সংখ্যক মানুষ এই কনটেন্ট ব্যবহার করেন। পাশাপাশি, দেশে কনটেন্ট নির্মাতাদের সংখ্যাও বাড়ছে।
এই প্রজন্ম শুধু আন্তর্জাতিক কনটেন্টের চাহিদা বাড়াচ্ছে না। Short-form video, gaming, live streaming এবং বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা নতুন প্রবণতাও তৈরি করছে।
ভারতে ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিসরও দ্রুত বাড়ছে। ২০১৪ সালে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ২৫.১৫ কোটি। ২০২৬ সালের মার্চের শেষে তা বেড়ে ১০৯.২ কোটিরও বেশি হয়েছে।
ওয়্যারলেস ডেটার খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৪ সালে প্রতি GB ডেটার খরচ ছিল ৩০৮ টাকা। ২০২৬ সালে তা কমে ৭.৫১ টাকা হয়েছে। ফলে, ডিজিটাল পরিষেবা আরও সাশ্রয়ী হয়েছে।
বর্তমানে সকল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৯৯.৯% জেলায় 5G পরিষেবা উপলব্ধ রয়েছে।
ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ গ্রাহকদের হাত ধরে ডিজিটাল কনটেন্টের চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং সাশ্রয়ী ওয়্যারলেস ডেটা পরিষেবার কারণে এই ক্ষেত্রের দ্রুত সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, অসম, ছত্তিশগড়, ওড়িশা ও বিহারের মতো রাজ্যগুলি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতায় ফিল্ম সিটির পরিকাঠামো গড়ে তুলছে।
আঞ্চলিক চলচ্চিত্রের প্রসার এবং বিভিন্ন রাজ্যের চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগের ফলে, এই ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান প্রায় ৩.২% হারে বাড়তে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশজুড়ে প্রায় ২ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ভারত দ্রুত ডিজিটাল কনটেন্টের বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাহক বাজার থেকে কনটেন্ট তৈরি, উদ্ভাবন ও বিতরণের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হয়ে উঠছে।
রাজ্যভিত্তিক যাচাই করা চলচ্চিত্র ও অ-চলচ্চিত্র পরিষেবা প্রদানকারীদের ডিরেক্টরি রয়েছে। এতে স্থানীয় বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারীর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে :
- পোস্ট-প্রোডাকশন সংস্থা
- সম্পত্তি ভাড়ার পরিষেবা
- চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিল্পী
- ফিল্ম স্টুডিও
- শুটিং সরঞ্জাম ভাড়ার পরিষেবা
- কাস্টিং সংস্থা
- ক্যাটারিং সংস্থা
- হোটেল ও থাকার ব্যবস্থা
- চিকিৎসা পরিষেবা
- নিরাপত্তা পরিষেবা
- ট্র্যাভেল অপারেটর
Made in India চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ভারতীয় পর্যটনের প্রসার
ভারতীয় চলচ্চিত্র অনেক সময় পর্যটনের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এর অন্যতম উদাহরণ 3 Idiots। EY-FICCI Report অনুযায়ী, চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর লাদাখে পর্যটকের আগমন ২.৪ গুণ বেড়েছিল।
একইভাবে, Singapore Tourism Board-এর সহযোগিতায় সিঙ্গাপুরে Krrish চলচ্চিত্রের শুটিং হয়। এর ফলে, সিঙ্গাপুরে ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা ৬০ লক্ষ থেকে বেড়ে ৭০ লক্ষে পৌঁছয়।
দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র এবং রাজস্থানের মতো আঞ্চলিকভাবে জনপ্রিয় গন্তব্যের পাশাপাশি, ভারতের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং তুলনামূলক কম খরচে চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রকল্পগুলিকেও আকর্ষণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে Slumdog Millionaire ও Life of Pi-এর মতো অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র এবং Netflix ও Amazon Prime-এর মতো আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব প্রযোজনা।
৬৮তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে অন্তর্ভুক্তিমূলক পর্যটন ব্যবস্থার জন্য মধ্যপ্রদেশ “Most Film Friendly State” পুরস্কার পায়। রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, কেরল ও উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যগুলিও পরিকাঠামোগত সুবিধা, সরকারি উদ্যোগে শুটিংয়ের স্থান ব্যবহারের ফি মকুব এবং সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকির মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আকর্ষণ করছে।
ফিল্ম ট্যুরিজম বা চলচ্চিত্র-কেন্দ্রিক পর্যটটন স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে আয় বাড়াতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি, তা সংরক্ষণেও সহায়তা করছে।
৬. নিরাপদ ও উন্নত ডিজিটাল পরিকাঠামো
শক্তিশালী এনক্রিপশন ব্যবস্থার মাধ্যমে তৈরি এই পোর্টাল বিপুল সংখ্যক আবেদন ও ব্যবহারকারীর চাপ সামলানোর জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী সম্প্রসারণযোগ্য।
এছাড়াও, একটি ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে মোট আবেদনের সংখ্যা এবং রাজ্য, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে অনুমোদনের বিস্তারিত তথ্য দেখা যায়।
ভারতকে একটি প্রধান চলচ্চিত্র নির্মাণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চলচ্চিত্র শিল্প হিসাবে ভারতের চলচ্চিত্র ক্ষেত্র ফিল্ম ট্যুরিজমের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত বিভিন্ন স্থানকে মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলার পাশাপাশি শুটিং-এর স্থানগুলিকে পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করতে সহায়তা করছে চলচ্চিত্র। এর মাধ্যমে ভারতের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও তুলে ধরা হচ্ছে।
এই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করছে ইন্ডিয়া সিনে হাব (ICH)। এটি একটি কেন্দ্রীভূত সিঙ্গল উইন্ডো প্ল্যাটফর্ম। চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সহজ করাই এর লক্ষ্য।
চলচ্চিত্র নির্মাতারা অনলাইনে শুটিং-এর অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদনগুলি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক এবং রাজ্যের নোডাল অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়। এর ফলে, একাধিক দপ্তরের অনুমোদন, শুটিং-এর স্থান ব্যবহারের অনুমতি এবং Film Visa পাওয়ার ক্ষেত্রে সমন্বিত ও সহজ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা যায়।
তথ্যসূত্র
Ministry of Information & Broadcasting
https://indiacinehub.gov.in/
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2279150®=48&lang=1
https://nfdcindia.com/company-profile/en
Ministry of Commerce and Industry
https://www.investindia.gov.in/team-india-blogs/exploring-potential-film-tourism-india-catalyst-economic-growth-and-cultural
PIB Backgrounders
https://www.pib.gov.in/FactsheetDetails.aspx?Id=150840®=3&lang=2
Deloitte
https://www.deloitte.com/in/en/Industries/telecom-media-entertainment/perspectives/economic-impact-of-the-film-television-and-online-curated-content.html
EY
https://www.ey.com/content/dam/ey-unified-site/ey-com/en-in/insights/media-entertainment/documents/ey-a-studio-called-india-v1.pdf
Click here to see pdf
*****
SSS/AS......
(Explainer ID: 160092)
आगंतुक पटल : 1
Provide suggestions / comments