Social Welfare
১১তম আয়ুর্বেদ দিবস
স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যতের জন্য আয়ুর্বেদ
Posted On:
22 SEP 2026 11:08AM
নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১১তম আয়ুর্বেদ দিবসে ভারত তার ৫,০০০ বছরের প্রাচীন চিকিৎসা ব্যবস্থাকে প্রমাণভিত্তিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে আধুনিক দৈনন্দিন স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করার এক দশক পূর্ণ হওয়ার উদযাপন করছে। বর্তমানে, দেশের সরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলিতে প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও রয়েছে। বিনামূল্যে অনলাইন চিকিৎসকের পরামর্শ, বিমার আওতায় চিকিৎসা এবং উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলে এই প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিগুলি এখন আরও নিরাপদ এবং মানুষের কাছে সহজলভ্য হয়েছে। শক্তিশালী বিভিন্ন দেশের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারত বিশ্বকে দেখাচ্ছে, কীভাবে ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও আধুনিক বিজ্ঞান একসঙ্গে স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।
আয়ুর্বেদ: সামগ্রিক জীবনযাপনের ভিত্তি
আয়ুর্বেদ ৫,০০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন জীবনবিজ্ঞান। এর শিকড় ঋগ্বেদ পর্যন্ত বিস্তৃত। ‘আয়ুর্বেদ’ শব্দটি ‘আয়ু’ অর্থাৎ জীবন এবং ‘বেদ’ অর্থাৎ বিজ্ঞান থেকে এসেছে। এর মূল লক্ষ্য হল, “স্বাস্থ্যস্য স্বাস্থ্য রক্ষণম, আতুরস্য বিকার প্রশমন”। অর্থাৎ সুস্থ মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং অসুস্থ মানুষের রোগ নিরাময়।
আয়ুর্বেদে প্রকৃত স্বাস্থ্য বলতে শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় উপাদানের মধ্যে সামঞ্জস্যকে বোঝানো হয়। এর জন্য প্রয়োজন জৈবশক্তি বা দোষ, বিপাকীয় অগ্নি বা অগ্নি, দেহের ধাতু এবং বর্জ্য নিষ্কাশন বা মলের মধ্যে সঠিক সামঞ্জস্য। এর পাশাপাশি আত্মা, মন এবং ইন্দ্রিয়ের প্রশান্তিও প্রয়োজন। চরক সংহিতা ও সুশ্রুত সংহিতায় বর্ণিত উদ্ভিদ, প্রাণীজ উপাদান এবং খনিজের ঔষধি ও চিকিৎসাগত গুণাবলির ব্যবহার আয়ুর্বেদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক সময়েও এই প্রাচীন চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। ব্যক্তি-শরীর, মন ও আত্মার সঙ্গে চারপাশের পরিবেশের পূর্ণ সামঞ্জস্যই সুস্বাস্থ্যের মূল ভিত্তি।
এই ঐতিহ্যকে সম্মান ও প্রসারের জন্য প্রতি বছর ২৩ সেপ্টেম্বর আয়ুর্বেদ দিবস পালন করে সরকার। শরৎ বিষুবের সঙ্গে এই দিনটির যোগ রয়েছে। প্রকৃতির ভারসাম্যের প্রতীক হিসাবেই এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে। “স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যতের জন্য আয়ুর্বেদ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঐতিহ্যগত চিকিৎসা ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে জাতীয় স্তরে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো শক্তিশালী করা
ন্যাশনাল আয়ুষ মিশন (NAM) এবং ন্যাশনাল হেলথ মিশনের মাধ্যমে সরকার আয়ুর্বেদ-সহ বিভিন্ন আয়ুষ চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসার, আধুনিকীকরণ এবং মূলধারার সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করছে। আয়ুষ মন্ত্রক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত এই দুই জাতীয় মিশনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়ুষ ক্লিনিক, হাসপাতাল, বিভাগ এবং কমিউনিটি পাবলিক হেলথ সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে।
দেশে আয়ুষ চিকিৎসার প্রসার ও সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে NAM। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার NAM-এর মাধ্যমে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ৬,৪০৬.৯৯ কোটি টাকারও বেশি অর্থ দিয়েছে। প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে আয়ুষ চিকিৎসাকে যুক্ত করতে এই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। NHM-ও এই উদ্যোগগুলির কয়েকটিতে সহায়তা করছে।
এই উদ্যোগগুলির মধ্যে রয়েছে:
স্থানীয় আয়ুষ ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আধুনিকীকরণ
বর্তমান স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা ডিসপেনসারিগুলিকে আধুনিকীকরণ করে উন্নততর স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এগুলির নাম দেওয়া হয়েছে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির (আয়ুষ)। NHM আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরগুলির জন্য আয়ুষ স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও অর্থসাহায্য দেয়। NAM প্রয়োজনীয় নির্মাণকাজ, সরঞ্জাম, আসবাব এবং ওষুধের ব্যবস্থা করে।
এবছর ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ১২,২৬০টি আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির কার্যকর রয়েছে। NAM-এর লক্ষ্য ১২,৫০০টি আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির গড়ে তোলা।
NHM-এর মাধ্যমে অন্যান্য কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গেও আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরগুলিকে একই জায়গায় পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থায় আনা হচ্ছে। NHM-এর সহায়তায় দেশের ১৩,২৪৯টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি, আয়ুষ পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।
২০২৫-এর ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিষেবার আওতায় রয়েছে:
৬,৩০২টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র
৩,১৯১টি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র
৪৭৫টি জেলা হাসপাতাল
৩,২৮১টি অন্যান্য স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র
কর্মী নিয়োগে সহায়তা
বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কর্মরত ২৫,৩২২ জন আয়ুষ চিকিৎসক এবং ৫,৬৬৬ জন আয়ুষ প্যারামেডিকের বেতন সরকার বহন করছে।
আয়ুর্বেদে স্নাতক অর্থাৎ Bachelor of Ayurveda, Medicine and Surgery ডিগ্রিধারী প্রশিক্ষিত চিকিৎসক কমিউনিটি হেলথ অফিসার (CHO) হিসাবে কাজ করতে পারেন। তাঁরা গ্রাম স্তরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা করতে পারেন। এতে স্বাস্থ্য পরিষেবায় সামগ্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করা সম্ভব হয়।
একই ছাদের নীচে বিভিন্ন পরিষেবা
স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জেলা হাসপাতাল-সহ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি, ঐতিহ্যগত চিকিৎসার কাউন্টার ও চিকিৎসকদের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বর্তমান হাসপাতাল ও ক্লিনিকের উন্নয়ন
স্বতন্ত্র ঐতিহ্যগত চিকিৎসা হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলির মেরামতি এবং আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে।
উন্নত স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ
জীর্ণ ক্লিনিক ভবন মেরামত করা হচ্ছে। ভাড়া নেওয়া জায়গা থেকে ক্লিনিকগুলিকে স্থায়ী ভবনে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যেখানে এখনও ঐতিহ্যগত চিকিৎসার পরিষেবা নেই, সেখানে নতুন ক্লিনিক নির্মাণ করা হচ্ছে।
নতুন সমন্বিত হাসপাতাল
প্রসঙ্গত, ১০, ৩০ অথবা ৫০ শয্যার নতুন হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে। একই ছাদের নীচে বিভিন্ন ঐতিহ্যগত চিকিৎসা পদ্ধতির পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে।
প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ
সরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ঐতিহ্যগত ওষুধ নিয়মিত এবং বিনামূল্যে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি
ঐতিহ্যগত স্বাস্থ্যচর্চা এবং রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়ে বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।
সচেতনতা কর্মসূচি
স্বাস্থ্য, সুস্থতা এবং উপলব্ধ চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কে মানুষকে জানাতে শিক্ষামূলক কর্মসূচি, বিজ্ঞাপন এবং জনসংযোগ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।
নতুন মেডিক্যাল কলেজ
যে সব রাজ্য ও অঞ্চলে পড়ুয়াদের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি সুযোগ নেই, সেখানে নতুন ঐতিহ্যগত চিকিৎসা কলেজ তৈরি করা হচ্ছে।
মেডিক্যাল কলেজের উন্নয়ন
বর্তমান কলেজগুলির ক্যাম্পাস, শ্রেণিকক্ষ ও সরঞ্জামের উন্নতি করা হচ্ছে। উন্নততর ডিগ্রি, ফার্মাসি কোর্স এবং প্যারামেডিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
সরকার কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতালগুলিতে ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেও আয়ুষ চিকিৎসার প্রসার ঘটাচ্ছে।
বর্ধমান মহাবীর মেডিক্যাল কলেজ (VMMC) ও সফদরজং হাসপাতাল
লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ
এই বিভাগগুলিতে রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যোন্নয়ন এবং চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়। পূর্ণাঙ্গ পঞ্চকর্ম ইউনিটও রয়েছে।
এছাড়া, আয়ুষ গবেষণা পরিষদগুলির সম্প্রসারিত বহির্বিভাগের পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে:
বর্ধমান মহাবীর মেডিক্যাল কলেজ (VMMC) ও সফদরজং হাসপাতাল
লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ
ড. রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতাল
নতুন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসেও আয়ুষ পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে।
টেলিমেডিসিন
সরকার বিনামূল্যে টেলিমেডিসিন পরিষেবা ই-সঞ্জীবনী প্রদান করছে। এখনও পর্যন্ত ৫০ কোটিরও বেশি রোগী এই পরিষেবা পেয়েছেন। প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি, ই-সঞ্জীবনীতে আয়ুষ বহির্বিভাগের পরিষেবাও রয়েছে। এর মাধ্যমে রোগীরা আয়ুর্বেদ এবং অন্যান্য আয়ুষ চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি অনলাইনে পরামর্শ করতে পারেন।
স্বাস্থ্য বিমা
স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পে আয়ুষ চিকিৎসাকে অন্তর্ভুক্ত করতে বিমা নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৪ সালে ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া (IRDAI) নির্দেশ দেয়, সব বিমা সংস্থাকে বোর্ড অনুমোদিত আন্ডাররাইটিং নীতির অধীনে আয়ুর্বেদ-সহ সব ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য বিমা পণ্য বা অতিরিক্ত সুবিধা দিতে হবে।
এ বছর ১০ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লির অল-ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ আয়ুর্বেদ (AIIA) জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কাউন্সিল (GIC)-এর সঙ্গে কমন এমপ্যানেলমেন্ট মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (MoU) স্বাক্ষর করে। এর ফলে, AIIA ভারতের ৩২টি সাধারণ বিমা সংস্থার সঙ্গে এমপ্যানেলমেন্টের আওতায় এসেছে। নগদহীন চিকিৎসার জন্য কোনও আয়ুষ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই ধরনের সর্বজনীন এমপ্যানেলমেন্ট চুক্তি এই প্রথম হয়েছে।
আয়ুষ বিমা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং সুবিধাভোগীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে AIIA একটি পৃথক আয়ুষ হেলথ ইন্স্যুরেন্স হেল্পলাইনও চালু করেছে। নম্বর: ১৮০০-১১-০০০৮।
আয়ুর্বেদ শিক্ষার পরিসর বৃদ্ধি
আয়ুষ স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিসর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশিক্ষিত আয়ুষ স্বাস্থ্যকর্মীরও প্রয়োজন হচ্ছে। NAM-এর মাধ্যমে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফার্মাসি এবং প্যারামেডিক্যাল কোর্সও এর অন্তর্ভুক্ত।
দেশে NAM-এর অধীনে ১৭টি আয়ুষ কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি আয়ুর্বেদ শিক্ষার প্রসারে বিশেষভাবে কাজ করবে।
দেশে সরকারি ও বেসরকারি আয়ুর্বেদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে। ১৩ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশে রয়েছে:
মোট ৫৯৩টি আয়ুর্বেদ কলেজ
মোট ৪৫,২৪৫টি স্নাতক স্তরের আয়ুর্বেদ আসন
মোট ৫,৬৭৩টি স্নাতকোত্তর স্তরের আয়ুর্বেদ আসন
শুধু চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার প্রসার যথেষ্ট নয়। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় আয়ুর্বেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে কঠোর বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং প্রমাণভিত্তিক যাচাইও প্রয়োজন।
আয়ুর্বেদে গবেষণা ও উন্নয়ন
আয়ুর্বেদে গবেষণা ও উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার একাধিক প্রকল্প পরিচালনা করছে। ঐতিহ্যগত চিকিৎসা পদ্ধতিকে আধুনিক করে তোলা এবং ওষুধ উন্নয়নের কাজ শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য।
আয়ুরজ্ঞান প্রকল্প
এই উদ্যোগগুলির অন্যতম হল আয়ুরজ্ঞান প্রকল্প। আয়ুষ মন্ত্রক ২০২১-২২ সালে এই প্রকল্প গ্রহণ করে। গবেষণা ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগে এই প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থসাহায্য দেওয়া হয়।
মোট ৩৪টি প্রকল্পের জন্য মোট ১৭.৭৯ কোটি টাকার গবেষণা তহবিলের মধ্যে আয়ুর্বেদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৯.৩৮ কোটি টাকা। আয়ুর্বেদ নিয়ে নির্দিষ্ট ১৭টি প্রকল্পে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের গোড়ার দিকে ১১টি নির্দিষ্ট গবেষণা প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি প্রকল্পে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ একক আয়ুর্বেদিক উদ্ভিদের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সংক্রান্ত নথি তৈরির কাজ হচ্ছে।
২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬ সময়কালে আয়ুর্বেদ-নির্দিষ্ট ৩৩টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। ২০০১-০২ সাল থেকে মোট প্রকাশনার সংখ্যা ৭৭।
আয়ুর স্বাস্থ্য যোজনা
আয়ুরজ্ঞান প্রকল্পের পাশাপাশি, ২০২১-২০২৬ মেয়াদের আয়ুর স্বাস্থ্য যোজনার মাধ্যমে সরকারি বা অলাভজনক আয়ুষ প্রতিষ্ঠানগুলিকে অর্থসাহায্য দেওয়া হয়েছে। আয়ুষের চিকিৎসা ও ওষুধ নিয়ে গবেষণা, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ এবং উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নে এই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে।
২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত ২৫টি প্রকল্পকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২২টি প্রকল্পে আয়ুর্বেদভিত্তিক উদ্যোগ ছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২৮টি বিশেষায়িত উৎকর্ষ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২২টি আয়ুর্বেদকেন্দ্রিক গবেষণা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসারে নিয়োজিত।
সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ ইন আয়ুর্বেদিক সায়েন্সেস (CCRAS)
প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ ইন আয়ুর্বেদিক সায়েন্সেস (CCRAS) আয়ুর্বেদ নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার পরিকল্পনা, সমন্বয় ও প্রসারে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আয়ুষ মন্ত্রকের অধীন পাঁচটি স্বশাসিত গবেষণা সংস্থার অন্যতম CCRAS।
দেশের ৩০টি জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থার মাধ্যমে CCRAS গবেষণার পরিসর বাড়াচ্ছে। ফেলোশিপ, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং SPARK Programme-এর মতো পড়ুয়াকেন্দ্রিক উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
SPARK Programme
Studentship Programme for Ayurveda Research Ken বা SPARK Programme আয়ুর্বেদে স্নাতক স্তরের পড়ুয়াদের মধ্যে গবেষণার আগ্রহ ও দক্ষতা বাড়ায়। আয়ুর্বেদ নিয়ে স্বাধীন গবেষণায় পড়ুয়াদের উৎসাহ দিতে স্বল্পমেয়াদী প্রকল্পে সহায়তা দেওয়া হয়।
২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ সময়কালে SPARK Programme-এর মাধ্যমে ২৮৯টি আয়ুর্বেদ কলেজ উপকৃত হয়েছে।
আয়ুর্বেদ গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অনুবাদ
বৈজ্ঞানিক জ্ঞান সকলের কাছে পৌঁছে দিতে CCRAS ২০২৬ সালের মার্চে অনুবাদিনী AI-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে। অনুবাদিনী AI হল শিক্ষা মন্ত্রকের AICTE-এর তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অনুবাদ প্ল্যাটফর্ম।
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে CCRAS তার গবেষণার ফলাফল, শিক্ষামূলক উপকরণ এবং ত্রৈমাসিক মেডিক্যাল জার্নাল ১৩টি ভারতীয় আঞ্চলিক ভাষায় অনুবাদ করছে।
ভাষার বাধা দূর করে এই উদ্যোগ আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা গবেষণার জ্ঞান মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়া, চিকিৎসক এবং সাধারণ মানুষ এই বৈজ্ঞানিক গবেষণা সহজে পড়তে ও বুঝতে পারবেন।
ঔষধি উদ্ভিদের উন্নয়ন
ঔষধি গাছ সংরক্ষণ, চাষ এবং প্রক্রিয়াকরণের কাজে সরকার কৃষক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সহায়তা করছে। সরবরাহ ব্যবস্থার ঘাটতি দূর করা হচ্ছে। কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো হচ্ছে। ওষুধ তৈরির নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছে।
নিয়ন্ত্রণমূলক মানদণ্ড শক্তিশালী করা: ওষুধের নিরাপত্তা ও ভোক্তা খাদ্য
আয়ুর্বেদ পণ্যের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আইনি কাঠামোও শক্তিশালী করছে।
ওষুধের গুণমান নিয়ন্ত্রণ
আয়ুর্বেদ ওষুধ Drugs & Cosmetics Act, 1940 এবং Drugs Rules, 1945-এর অধীনে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।
এই আইনি কাঠামোর অধীনে:
প্রস্তুতকারকদের Good Manufacturing Practices (GMP) মেনে চলতে হয়।
ওষুধের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রমাণ করতে হয়।
ফার্মাকোপিয়া নির্ধারিত মান পূরণ করতে হয়।
সরকারি ড্রাগ ইন্সপেক্টররা নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করেন।
গুণমান নিয়ন্ত্রণে সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO)-এর অধীনে বিশেষ আয়ুষ বিভাগ কাজ করছে।
ওষুধ তৈরির লাইসেন্সের আবেদনপত্রের কাজ সহজ করতে সরকার ই-আয়ুষধি পোর্টাল চালু করেছে। কাগজবিহীন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি, আবেদনের অগ্রগতি সরাসরি দেখা যায়।
আয়ুর্বেদ আহার
ওষুধের পাশাপাশি, খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একই ধরনের মানদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI) আয়ুষ মন্ত্রকের সহযোগিতায় আয়ুর্বেদ আহারের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম চালু করেছে।
প্রামাণিক প্রাচীন গ্রন্থের ভিত্তিতে আয়ুর্বেদিক খাদ্যপণ্যের একটি নির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ঐতিহ্যগত খাদ্য প্রস্তুতকারকদের লাইসেন্স ও নথিভুক্তির ক্ষেত্রেও এই তালিকা গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে ঐতিহ্যগত খাদ্য প্রস্তুতকারকদের জন্য স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। দেশে ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভোক্তাদের আস্থাও বাড়ছে।
বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ
আয়ুষ চিকিৎসার গ্রহণযোগ্যতা এবং বাজারে প্রসার বাড়াতে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব, গবেষণা সহযোগিতা এবং শিক্ষা বিনিময়ের ব্যবস্থা করেছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি এবং ওষুধের আন্তর্জাতিক মানপত্রের মাধ্যমে এই উদ্যোগ এগিয়ে চলেছে।
বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা
বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব, যৌথ গবেষণা কাঠামো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়ুষ চেয়ার এবং বিশেষ বৃত্তির মাধ্যমে ঐতিহ্যগত ও সমন্বিত চিকিৎসায় ভারতের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
ভারত স্বাক্ষর করেছে:
ঐতিহ্যগত চিকিৎসা ও হোমিওপ্যাথি নিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ২৭টি MoU
আয়ুষ অ্যাকাডেমিক চেয়ার প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৬টি MoU
যৌথ গবেষণা ও শিক্ষামূলক কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ৫৭টি MoU
২০২৫-২৬ সালে অ্যাঙ্গোলা, কাজাখস্তান ও তানজানিয়ার সঙ্গে ৩টি দেশের মধ্যে MoU
ঘানা, দক্ষিণ আফ্রিকা, রিইউনিয়ন দ্বীপ, জার্মানি, মালয়েশিয়া ও মঙ্গোলিয়ার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ছয়টি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক MoU
ওমানের সঙ্গে একটি অ্যাকাডেমিক চেয়ার MoU
এই উদ্যোগের পাশাপাশি:
উল্লেখ্য, ৪৩টি বিদেশি দেশে ৪৬টি আয়ুষ ইনফরমেশন সেল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
International Ayush Fellowship/Scholarship Programme-এর অধীনে বিদেশি নাগরিকদের জন্য ১০৪টি বৃত্তি দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলন, কাঠামো ও কৌশলগত চুক্তি
ঐতিহ্যগত চিকিৎসা নিয়ে নীতি ও মানদণ্ড তৈরির ক্ষেত্রে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে দ্বিতীয় WHO Global Summit on Traditional Medicine অনুষ্ঠিত হয়।
প্রসঙ্গত, ১০০টিরও বেশি দেশ এবং ২২ জন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই সম্মেলনে অংশ নেন। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল “Restoring Balance: The Science and Practice of Health and Well-being”।
অংশগ্রহণকারী দেশগুলি দিল্লি ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবায় ঐতিহ্যগত চিকিৎসাকে যুক্ত করার বিষয়ে সদস্য দেশগুলিকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
মানদণ্ড নির্ধারণ ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ
কঠোর গুণমান ও প্রশিক্ষণ মানদণ্ড ভারতের এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গুজরাতের জামনগরে WHO Global Traditional Medicine Centre ঐতিহ্যগত চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা ও নীতি প্রণয়নের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসাবে কাজ করছে।
আয়ুষ মন্ত্রক WHO-এর সঙ্গে মিলে আয়ুর্বেদ ও ইউনানি চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা তৈরি করেছে। মোট ১৭টি দেশের সঙ্গে ভেষজ ওষুধের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কর্মশালারও আয়োজন করা হয়েছে। আমেরিকায় International Conference on the Science of Botanicals-এ গবেষণাও উপস্থাপন করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক যোগাযোগের কর্মসূচিও বাড়ছে।
২০২৫ সালের জুনে ১১তম International Day of Yoga উপলক্ষে ১৯১টি দেশে প্রায় ২,০০০টি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। জাপানের ওসাকায় World Expo 2025-এ ভারতীয় প্যাভিলিয়নে প্রতিদিন যোগাসনের আয়োজন করা হয়। এর ফলে, ভারতীয় প্যাভিলিয়নটি প্রদর্শনীর অন্যতম বেশি দর্শক সমাগমের জায়গা হয়ে ওঠে।
বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও চিকিৎসা পর্যটন
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জোটের সঙ্গে ঐতিহ্যগত চিকিৎসাকে যুক্ত করছে ভারত। রিও ডি জেনেইরো ঘোষণা-সহ সাম্প্রতিক BRICS ঘোষণার পর চণ্ডীগড়ে ১৬তম BRICS Health Ministers' Meeting অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে Traditional, Complementary, and Integrative Medicine নিয়ে একটি পৃথক Expert Working Group গঠন করা হয়েছে।
বিদেশি রোগীদের ভারতে আয়ুষ চিকিৎসা নিতে আসার ব্যবস্থাও সহজ করা হচ্ছে। বিশেষ আয়ুষ ভিসার মাধ্যমে যাতায়াতের প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। রোগীদের জন্য M-3 ভিসা এবং তাঁদের সঙ্গে আসা পরিচর্যাকারীদের জন্য M-4 ভিসার ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসা পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসাবে ভারতকে গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ এটি।
কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ আয়ুষের জন্য বরাদ্দ
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে আয়ুষ মন্ত্রকের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেটে ৪,৪০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। দেশের আয়ুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা শক্তিশালী করা, প্রমাণভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানো এবং আয়ুষ-সংক্রান্ত অন্যান্য ব্যবস্থা ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করার ওপর এই বরাদ্দে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজেটে ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলি হল:
শিক্ষা, চিকিৎসা পরিষেবা ও গবেষণা শক্তিশালী করতে তিনটি নতুন অল-ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ আয়ুর্বেদ (AIIA) প্রতিষ্ঠা।
গুণমান, মানদণ্ড এবং প্রশিক্ষিত কর্মীর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে আয়ুষ ফার্মাসি ও ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরির উন্নয়ন।
ঐতিহ্যগত চিকিৎসায় প্রমাণভিত্তিক গবেষণা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে জামনগরের WHO Global Traditional Medicine Centre-এর উন্নয়ন।
আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে ঐতিহ্যের সমন্বয়
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা জ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি থেকে আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি ক্রমবর্ধমান প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেওয়া আয়ুর্বেদের যাত্রা তার বর্তমান প্রাসঙ্গিকতাকে তুলে ধরে।
স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, গবেষণা, নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা, ডিজিটাল পরিষেবা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতার প্রসার আয়ুর্বেদের বিকাশ ও দায়িত্বশীল সমন্বয়ের জন্য বৃহত্তর পরিসর তৈরি করেছে। বৈজ্ঞানিক যাচাই, গুণমানের মানদণ্ড এবং প্রমাণভিত্তিক গবেষণার ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব আধুনিক সময়ে আয়ুর্বেদের প্রাসঙ্গিকতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আয়ুর্বেদের অন্তর্ভুক্তি এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তার বাড়তে থাকা সহযোগিতা প্রমাণ করছে, কিভাবে ঐতিহ্যগত জ্ঞান আধুনিক প্রতিষ্ঠান ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। আয়ুর্বেদের এই ক্রমবিকাশ ভারতের সভ্যতাগত জ্ঞান, আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক সুস্থতার লক্ষ্যের মধ্যে একটি চলমান সংযোগ তৈরি করছে।
তথ্যসূত্র
Ministry of Ayush
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2297703®=48&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2287031®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2040904®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2209338®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2292389®=6&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2225996®=1&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1994921®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2297704®=48&lang=1
https://anudan.Ayush.gov.in/rni_dashboard
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2209249®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2246931®=3&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2179805®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2151745®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2310151®=3&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2287033®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2296193®=48&lang=2
https://ccras.nic.in/
Ministry of Health and Family Welfare
https://aam.mohfw.gov.in/
https://nhsrcindia.org/sites/default/files/2021-03/Operational%20Guidelines%20For%20Comprehensive%20Primary%20Health%20Care%20through%20Health%20and%20Wellness%20Centers.pdf
https://esanjeevani.mohfw.gov.in/#/
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2171329®=48&lang=2
Directorate of Ayush, Government of NCT of Delhi
https://Ayush.delhi.gov.in/Ayush/ayurveda
UNESCO
https://www.unesco.org/en/memory-world/rigveda
Other Sources
https://www.ibef.org/research/case-study/the-growth-of-ayurveda-in-india
https://www.ibef.org/industry/Ayush
https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC5871155/
Click here to see pdf
*****
SSS/SS.. ......
(Explainer ID: 160084)
आगंतुक पटल : 2
Provide suggestions / comments