Farmer's Welfare
কৃষি ব্যবস্থার পুনর্গঠন: সক্ষম ভারতের জন্য পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষিব্যবস্থা
Posted On:
23 AUG 2026 10:28AM
২৩ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের কৃষিক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে কৃষি উৎপাদনের বৃদ্ধি বজায় রয়েছে। তবে, দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনশীলতা নির্ভর করে সুস্থ মাটি এবং জলবায়ু ও অন্যান্য চাপ মোকাবিলায় সক্ষম বাস্তুতন্ত্রের ওপর। পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি মাটির প্রাণশক্তি পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং জলবায়ুজনিত চাপ মোকাবিলায় কৃষির সক্ষমতা বাড়ানোর একটি কার্যকর পথ। সারা দেশে কৃষকরা প্রাকৃতিক কৃষি, কৃষিবনায়ন, ক্ষুদ্র সেচ, সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাটি ব্যবস্থাপনার মতো পদ্ধতি গ্রহণ করছেন। সরকারি সহায়তা এই পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৮.৮০ লক্ষ হেক্টর জমি প্রাকৃতিক কৃষি ক্লাস্টারের আওতায় এসেছে এবং ১৮.১৯ লক্ষ কৃষক এতে যুক্ত হয়েছেন। ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত প্রায় ১০৯ লক্ষ হেক্টর জমি ‘পার ড্রপ মোর ক্রপ’ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকে মোট ২৫.৮৯ কোটি মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড তৈরি করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলি ভারতের কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, সম্পদ-সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব করে তুলতে সহায়তা করছে।
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষির প্রয়োজনীয়তা
ভারতের কৃষি ও সহযোগী ক্ষেত্রগুলি শক্তিশালী ও ধারাবাহিক অগ্রগতি প্রদর্শন করেছে। ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে এই ক্ষেত্রে ৪.৪৫ শতাংশ দশকভিত্তিক বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের দশকগুলির তুলনায় সর্বোচ্চ। এই সাফল্য কৃষি ক্ষেত্রের সক্ষমতা এবং সারা দেশের কৃষকদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রতিফলন। তবে এই অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে দীর্ঘমেয়াদি কৃষি উৎপাদনশীলতার সহায়ক পরিবেশগত ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
প্রতিটি মরশুমে কৃষকরা নতুন আশা ও বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে একই জমিতে ফিরে আসেন। বছরের পর বছর নিবিড় চাষাবাদ, অতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের ফলে অনেক জমির মাটির উর্বরতা ও কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে। যে ফসল একসময় সহজেই উৎপাদিত হত, এখন তার জন্য আরও বেশি উপকরণ ও বিনিয়োগের প্রয়োজন হচ্ছে। অন্যদিকে, তাপপ্রবাহ, দীর্ঘ সময় বৃষ্টির অভাব বা অতিরিক্ত বৃষ্টি কয়েক মাসের পরিশ্রম নষ্ট করে দিতে পারে। কোটি কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের কাছে মাটির স্বাস্থ্য হ্রাসের অর্থ প্রায়শই উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং অনিশ্চিত ফসল। ফলে, কৃষির স্থায়িত্ব ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতিতেই পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষির গুরুত্ব রয়েছে। মাটির প্রাণশক্তি পুনর্গঠন, বাস্তুতন্ত্রের কার্যকারিতা শক্তিশালী করা এবং জলবায়ুর পরিবর্তনশীলতার বিরুদ্ধে কৃষির সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে এটি মাটির স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা- উভয় ক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত ভারসাম্য এবং কৃষকদের সমৃদ্ধিকে সহায়তা করার পাশাপাশি এটি ভারতের কৃষির ভিত্তিকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি পথ তৈরি করে।
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি হল একটি সমন্বিত কৃষি পদ্ধতি, যার মূল লক্ষ্য মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার এবং জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি করা। একইসঙ্গে, এই পদ্ধতি কৃষি ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনশীলতা এবং জলবায়ু ও অন্যান্য চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে চায়। সুস্থ মাটি বেশি খাদ্য ও পুষ্টি উৎপাদনে সহায়তা করে, বেশি পরিমাণ কার্বন সঞ্চয় করে এবং জীববৈচিত্র্য বাড়ায়। প্রচলিত টেকসই কৃষি যেখানে মূলত বিদ্যমান পরিস্থিতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়, সেখানে পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষির লক্ষ্য হল সেই পরিস্থিতির উন্নতি করা। এটি আরও এক ধাপ এগিয়ে সক্রিয়ভাবে মাটির স্বাস্থ্য পুনর্গঠন, জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং বাস্তুতন্ত্রের সক্ষমতা শক্তিশালী করার ওপর জোর দেয়।
এটি নিম্নলিখিত নীতিগুলির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে:
মাটির ক্ষতি ও নাড়াচাড়া কমিয়ে আনা
বহুবর্ষজীবী ফসলের জীবন্ত শিকড় সংরক্ষণ করা
মাটির আবরণ বজায় রাখা
পশুপালনকে কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত করা
রাসায়নিক উপকরণের ব্যবহার সীমিত করা
জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি করা
সার্বিকভাবে, পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি কৃষির প্রাকৃতিক ভিত্তি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী পথ দেখায়।
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষির সক্ষমতা শক্তিশালী করা
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি ভারতে গ্রহণ করা বিভিন্ন ধরনের কৃষি পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি পদ্ধতির পরিধি আরও বিস্তৃত হলেও, এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিকে মোটামুটিভাবে নিম্নলিখিত শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:
জল ও সম্পদের দক্ষ ব্যবহার
ড্রিপার, স্প্রিঙ্কলার এবং ফগারের মতো ক্ষুদ্র সেচ ব্যবস্থা সরাসরি গাছের শিকড়ে জল পৌঁছে দেয়। এর ফলে জলের অপচয় কমে এবং জল ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ে। খামার পর্যায়ে জল ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করে এই ব্যবস্থাগুলি ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়ায় এবং খরা ও জলসংকট মোকাবিলায় কৃষির সক্ষমতা শক্তিশালী করে। এর ফলে, কৃষি ব্যবস্থা জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও সক্ষম এবং অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর হয়ে ওঠে।
কৃষি যান্ত্রিকীকরণে বিভিন্ন কৃষিকাজকে সহজ ও স্বয়ংক্রিয় করার জন্য কৃষি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে জল, জ্বালানি এবং সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের ব্যবহার আরও কার্যকর করা সম্ভব হয়। ফলে অপচয় কমে এবং কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পায়। সময়মতো এবং নির্ভুলভাবে কৃষিকাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য করার মাধ্যমে যান্ত্রিকীকরণ সম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নত করে, উৎপাদনশীলতা বাড়ায় এবং কৃষির পরিবেশগত প্রভাব কমাতে সহায়তা করে।
মাটি ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা
নাইট্রোজেন সার ব্যবস্থাপনা ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি, নাইট্রাস অক্সাইডের নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে। এর মূল লক্ষ্য হল সঠিক সার নির্বাচন এবং প্রয়োগের সময় ও পরিমাণ যথাযথভাবে নির্ধারণ করা। অন্যান্য পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে সুপারগ্র্যানুলার ইউরিয়া মাটির গভীরে প্রয়োগ এবং নাইট্রোজেনের অবস্থা সঠিকভাবে নির্ধারণের জন্য পাতার রং নির্ণায়ক চার্টের ব্যবহার। এই পদ্ধতিতে সায়ানোব্যাকটেরিয়া এবং ডালশস্যের আন্তঃফসল চাষের মতো জৈব উপকরণ ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সামগ্রিকভাবে, এই ব্যবস্থাগুলি নাইট্রোজেন ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ায় এবং পরিবেশে নাইট্রোজেনের ক্ষয় কমিয়ে আনে।
প্রাকৃতিক কৃষি হল একটি রাসায়নিকমুক্ত কৃষি পদ্ধতি, যা ভারতের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই পদ্ধতিতে খামারে তৈরি জৈব উপকরণ যেমন বীজামৃত, জীবামৃত, ঘনজীবামৃত, নিমাস্ত্র এবং দশপর্ণী ব্যবহার করা হয়, যা দেশীয় গবাদি পশু থেকে পাওয়া উপকরণ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়। এই পদ্ধতিতে ঐতিহ্যবাহী বীজের জাত ব্যবহার এবং জমির সীমানায় গাছ লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে খামারে তৈরি উদ্ভিদভিত্তিক উপকরণের মাধ্যমে কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। মাটির উর্বরতা ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে কৃষকদের নিয়মিত আচ্ছাদন ফসল চাষ, বহুফসলি চাষ, মালচিং এবং মাটির ন্যূনতম নাড়াচাড়া করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বৈচিত্র্যপূর্ণ ফসল ব্যবস্থার সঙ্গে পশুপালনকে একীভূত করা মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করতে, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে এবং কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতেও সাহায্য করে।
সবুজ সার প্রয়োগ, আচ্ছাদন ফসল চাষ এবং মালচিংয়ের মতো মাটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি* পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সবুজ সার প্রয়োগে নির্দিষ্ট ফসল চাষ করে তা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়, যাতে মাটিতে জৈব পদার্থ ও পুষ্টি যোগ হয়। এর ফলে মাটির উর্বরতা ও গঠন উন্নত হয় এবং কার্বন সঞ্চয় বৃদ্ধি পায়। আচ্ছাদন ফসল চাষ বলতে মূলত ফসল সংগ্রহের পরিবর্তে মাটিকে ঢেকে রাখার উদ্দেশ্যে ফসল চাষ করাকে বোঝায়। এটি মাটির ক্ষয় রোধ করে, মাটিতে জৈব কার্বন বজায় রাখে এবং পুষ্টির পুনঃচক্রণে সহায়তা করে। মালচিং-এর ক্ষেত্রে পাতা, খড় ইত্যাদির মতো জৈব অবশিষ্টাংশ দিয়ে মাটির উপরিভাগ ঢেকে রাখা হয়। এর ফলে মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষিত হয় এবং মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। মালচিং আগাছা নিয়ন্ত্রণ করে, উপকারী অণুজীবের কার্যকলাপ বাড়ায় এবং ফসলের উৎপাদনশীলতা উন্নত করে।
সমন্বিত ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা
সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা (IFS) হল একটি সমন্বিত কৃষি পদ্ধতি, যেখানে একাধিক কৃষি কার্যক্রমকে একটি একক ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে ফসল উৎপাদন, পশুপালন, মৎস্যচাষ এবং উদ্যানপালন, কৃষিবনায়ন ও মৌমাছি পালনের মতো সহযোগী কার্যক্রমকে একত্রিত করা হয়। এই পদ্ধতিতে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তঃফসল চাষ, ফসল পর্যায়ক্রম, বহুফসলি চাষ এবং মিশ্র চাষের মতো পদ্ধতিকে উৎসাহিত করা হয়। এর ফলে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে, জীবিকার সুযোগের বৈচিত্র্য বাড়ে এবং বন্যা ও খরার মতো চরম জলবায়ুগত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষির সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
কৃষিবনায়ন বহুবর্ষজীবী বৃক্ষ ব্যবস্থাকে ফল ও বাগানজাত ফসলের সঙ্গে একীভূত করে, যার মাধ্যমে আরও টেকসই ও লাভজনক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। এটি মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখতে, স্থানীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং বেশি পরিমাণ কার্বন সঞ্চয় করতে সাহায্য করার পাশাপাশি কৃষকদের অতিরিক্ত আয় অর্জনের সুযোগ দেয়।
বৃষ্টিনির্ভর অঞ্চলে অবক্ষয়িত জমির পুনরুজ্জীবনে কৃষিবনায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ব্যবস্থা অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের প্রভাব কমাতে, কৃষির সক্ষমতা বাড়াতে এবং সময়ের সঙ্গে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে।
জলবায়ু-সহনশীল কৃষি (CRA)-এর আওতায় পরিবর্তনশীল জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় কৃষি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন কৌশল ও প্রযুক্তি রয়েছে। এর প্রধান উপাদানগুলি হল:
পুষ্টি উপাদান ও সারের সুষম ব্যবহার,
কার্যকর কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনা,
জলের দক্ষ ও সঠিক ব্যবহার,
জমির স্তরে মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ, এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত জমি প্রস্তুতির পদ্ধতি।
এছাড়াও, জলবায়ু-সহনশীল কৃষির আওতায় জল ভাগাভাগি গোষ্ঠী, বীজ ও পশুখাদ্য ব্যবস্থা, সম্প্রদায়ভিত্তিক নার্সারি এবং সম্মিলিত বিপণন ব্যবস্থার মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগ রয়েছে। এই পদ্ধতি ও উদ্ভাবনগুলি সম্মিলিতভাবে কৃষি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে এবং জলবায়ুজনিত চাপ ও আকস্মিক পরিবর্তন আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম করে।
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষির বহুমুখী সুফল
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি পরিবেশগত, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রে বিস্তৃত সুফল প্রদান করে। এর মাধ্যমে সুস্থ বাস্তুতন্ত্র এবং সক্ষম কৃষি ব্যবস্থা- উভয়ই শক্তিশালী হয়।
পরিবেশগত সুফল
মাটির পুনরুদ্ধার:
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি পদ্ধতি মাটিতে জৈব পদার্থ পুনর্গঠন করে, মাটির গঠন উন্নত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা বাড়ায়। এর ফলে কৃষি উৎপাদনশীলতা স্থিতিশীল থাকে।
জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি:
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি পদ্ধতি পরাগায়নকারী প্রাণী, উপকারী কীটপতঙ্গ এবং মাটির অণুজীব-সহ বিভিন্ন প্রজাতির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এর ফলে সামগ্রিক বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য আরও শক্তিশালী হয়।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন:
এই কৃষি ব্যবস্থা যতটা কার্বন নিঃসরণ করে, তার তুলনায় বেশি কার্বন শোষণ ও সঞ্চয় করে। এর ফলে কৃষিক্ষেত্রে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করে।
জলের দক্ষ ব্যবহার:
সুস্থ মাটি জল ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায় এবং জলের প্রবাহ কমায়। এর ফলে, মাটির ক্ষয় এবং নদী ও হ্রদে পলি ও দূষিত পদার্থের প্রবাহ কমে, যা জলাশয়গুলিকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল লাভজনকতা:
সুস্থ মাটি কৃত্রিম সার, কীটনাশক এবং সেচের ওপর নির্ভরতা কমায়। এর ফলে উৎপাদন উপকরণের খরচ কমে, ফলন স্থিতিশীল হয় এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পায়।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি: পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি কৃষিকাজ, পরামর্শ পরিষেবা, প্রযুক্তি এবং পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন জীবিকার সুযোগ তৈরি করে।
আরও বেশি সক্ষমতা:
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি পদ্ধতি গ্রহণকারী কৃষি খামারগুলি জলবায়ুর পরিবর্তনশীলতা এবং বাজারের ওঠানামা আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম।
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষির মাধ্যমে সুস্থায়ী উন্নয়নের অগ্রগতি
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি এসডিজি ১৩ (জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। লক্ষ্য ১৩.১-এর মূল উদ্দেশ্য হল জলবায়ুজনিত ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা এবং অভিযোজন ক্ষমতা শক্তিশালী করা।
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি পদ্ধতি গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করে। ফলে, কৃষি জমির স্তরে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি কমাতে এই পদ্ধতিগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ফলে, ক্রমবর্ধমান জলবায়ুর পরিবর্তনশীলতার মধ্যে কৃষির জলবায়ু-সহনশীলতা বাড়ে এবং অভিযোজন ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়।
লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষির প্রসার
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি পদ্ধতির প্রসারের জন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে প্রাকৃতিক ও জৈব কৃষি, কৃষিবনায়ন, ক্ষুদ্র সেচ, সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-কে সহায়তা করা হচ্ছে।
জাতীয় প্রাকৃতিক কৃষি মিশন
২০২৪ সালে চালু হওয়া জাতীয় প্রাকৃতিক কৃষি মিশন (NMNF) কৃষকদের ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক কৃষির দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করার জন্য একটি অনুকূল সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। এই প্রকল্পের আওতায় দুই বছরের জন্য প্রতি একর জমিতে প্রতি বছর ₹৪,০০০ হারে উৎপাদনভিত্তিক আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়, যা প্রতি কৃষকের সর্বোচ্চ এক একর জমির জন্য প্রযোজ্য।
জীবামৃত ও বীজামৃতের মতো জৈব উপকরণ সহজে পাওয়ার সুযোগ কৃষকদের দিতে এই মিশনের আওতায় প্রয়োজনভিত্তিক ১০,০০০টি জৈব উপকরণ সম্পদ কেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও, প্রাকৃতিক কৃষি ক্লাস্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ক্লাস্টারে দু’জন কমিউনিটি রিসোর্স পার্সন (CRP) কৃষকদের প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করেন।
২০২৬ সালের ৫ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে ১৮,৭৮৬টি ক্লাস্টার গড়ে উঠেছে। এই ক্লাস্টারগুলির আওতায় ৮.৮০ লক্ষ হেক্টর জমি রয়েছে এবং প্রাকৃতিক কৃষির প্রসারের জন্য ১৮.১৯ লক্ষ কৃষক এতে যুক্ত হয়েছেন। এছাড়াও, ৩৩,৬৭৬ জন CRP-কে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (KVK), কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (AU) এবং স্থানীয় প্রাকৃতিক কৃষি প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
পরম্পরাগত কৃষি বিকাশ যোজনা
২০১৫ সালে চালু হওয়া পরম্পরাগত কৃষি বিকাশ যোজনা (PKVY) ভারতের জৈব কৃষি উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসাবে উঠে এসেছে। এই প্রকল্প কৃষকদের পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি গ্রহণ, জৈব শংসাপত্র পাওয়া এবং সুস্থায়ী উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে একটি সুসংগঠিত কাঠামো প্রদান করে। এই প্রকল্পের আওতায় জৈব কৃষি গ্রহণকারী কৃষকদের তিন বছরে প্রতি হেক্টর জমির জন্য ₹৩১,৫০০ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত, প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকে মোট ১৬.৯০ লক্ষ হেক্টর জমি PKVY-এর আওতায় এসেছে।
প্রতি ফোঁটায় বেশি ফসল
২০১৫-১৬ সাল থেকে সারা দেশে ‘প্রতি ফোঁটায় বেশি ফসল’ (PDMC) প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্প ক্ষুদ্র সেচ ব্যবস্থা, বিশেষ করে ড্রিপ ও স্প্রিঙ্কলার সেচের মাধ্যমে খামারে জল ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। ড্রিপ সেচে পাইপ ও নির্গমন মুখের মাধ্যমে সরাসরি গাছের শিকড়ে জল পৌঁছে দেওয়া হয়, ফলে, জলের অপচয় কমে। স্প্রিঙ্কলার সেচে পাইপ ও নজলের মাধ্যমে জমিতে জল ছিটিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে সমানভাবে জল পৌঁছানো নিশ্চিত হয়।
PDMC-র আওতায় এই সেচ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য সরকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ৫৫ শতাংশ এবং অন্যান্য কৃষকদের ৪৫ শতাংশ আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এছাড়াও, কিছু রাজ্য নিজস্ব বাজেট থেকে কৃষকদের অতিরিক্ত ভর্তুকি প্রদান করে।
২০১৫-১৬ সাল থেকে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত প্রায় ১০৯ লক্ষ হেক্টর জমি এসেছে। এই প্রকল্পের অধীনে মোট ₹২৬,৩২৫ কোটি কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে, জল ব্যবহারের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৃষ্টিনির্ভর এলাকা উন্নয়ন কর্মসূচি
২০১৪-১৫ সাল থেকে বাস্তবায়িত বৃষ্টিনির্ভর এলাকা উন্নয়ন কর্মসূচি (RAD) এলাকাভিত্তিক ক্লাস্টার পদ্ধতির মাধ্যমে সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা (IFS)-কে উৎসাহিত করে। এই কর্মসূচিতে বহুফসলি চাষ, ফসল পর্যায়ক্রম, আন্তঃফসল চাষ এবং মিশ্র চাষের মতো পদ্ধতিকে উৎসাহিত করা হয়।
এর সঙ্গে উদ্যানপালন, পশুপালন, মৎস্যচাষ এবং মৌমাছি পালনের মতো সহযোগী কার্যক্রমকে একীভূত করা হয়। এর ফলে, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, জীবিকার সুযোগ শক্তিশালী করা এবং চরম জলবায়ুগত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হয়।
RAD-র আওতায় এক বা একাধিক সংলগ্ন গ্রামের মধ্যে প্রায় ২০ হেক্টর জমি নিয়ে ক্লাস্টার গড়ে তোলা হয়। এই পদ্ধতি বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ায়, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে উৎসাহ দেয় এবং সফল মডেলগুলি বৃহত্তর পরিসরে প্রয়োগে সহায়তা করে। সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কৃষকদের প্রতি পরিবার ₹৩০,০০০ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির কার্যক্রমের জন্য প্রতি ক্লাস্টারে অতিরিক্ত ₹১০,০০০ দেওয়া হয়।
প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকে সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজ্যগুলিকে ₹২,২৫১.৯৮ কোটি কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পের আওতায় ৯.৫৩ লক্ষ হেক্টর জমি এসেছে এবং ১৫.৭৩ লক্ষ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রগুলি (KVKs) স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার মডেল সম্পর্কে প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই কর্মসূচিকে আরও সহায়তা করে। ২০২৪-২৫ সালে KVKগুলি বিভিন্ন সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার মডেল নিয়ে ৪,৪১৬টি প্রদর্শনী আয়োজন করে এবং ৯৬,০১৩ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয়।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে RAD বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ₹৩৪৩.৮৬ কোটি বরাদ্দ করা হয়। এর আওতায় ৯৬,০১৩ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
কৃষিবনায়ন বিষয়ক উপ-মিশন
পূর্ববর্তী কৃষিবনায়ন বিষয়ক উপ-মিশন (SMAF)-কে ২০২৩-২৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনা (PM-RKVY)-এর অধীনে কৃষিবনায়ন উপাদান হিসেবে পুনর্গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের উন্নত মানের রোপণ সামগ্রী (QPM) সরবরাহের জন্য কৃষিবনায়ন নার্সারি স্থাপনে সহায়তা করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে:
নতুন নার্সারি স্থাপন,
চলতি নার্সারিতে চারা উৎপাদন, টিস্যু কালচার ইউনিট স্থাপন,
দক্ষতা উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উন্নয়ন,
পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন,
বিশেষায়িত কারিগরি কার্যক্রম, কৃষি ক্ষেত্রে স্বেচ্ছামূলক কার্বন বাজারের জন্য প্রকল্প প্রণয়ন এবং স্থানীয় উদ্যোগ।
এই প্রকল্পের আওতায় সরকারি সংস্থাগুলিকে ১০০ শতাংশ আর্থিক সহায়তা এবং বেসরকারি সুবিধাভোগীদের ৫০ শতাংশ ক্রেডিট-লিঙ্কড ব্যাক-এন্ডেড সহায়তা দেওয়া হয়।
২০২৫-২৬ সালে, ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ২৭টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য ₹৭৮.৩১ কোটি অনুমোদন করা হয়েছে। মোট ১৩৫টি নতুন নার্সারি স্থাপন করা হয়েছে। ৬১৪টি বিদ্যমান নার্সারিতে চারা উৎপাদন করা হয়েছে। এই নার্সারিগুলিতে প্রায় ১৭৬.৫৯ লক্ষ চারা উৎপাদন করা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ২৫,৬৯৩ জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড প্রকল্প
২০১৫ সালে চালু হওয়া মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড প্রকল্প (SHC)-এর মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রতিটি জমির জন্য কৃষকদের জমিভিত্তিক মাটি পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া হয়। এই কার্ডে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডের ভিত্তিতে মাটির স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে মুখ্য পুষ্টি উপাদান, অণুপুষ্টি উপাদান এবং মাটির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতি ২ বছর অন্তর এই মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে কৃষকরা তাঁদের মাটির পুষ্টি উপাদানের অবস্থা এবং ভৌত-রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে পারেন। এতে রাসায়নিক সার, জৈব সার, জৈব উপকরণ এবং মাটি শোধন পদ্ধতির যথাযথ ব্যবহারের বিষয়ে ফসলভিত্তিক পরামর্শ দেওয়া হয়।
২০২৬ সালের ১৩ মার্চ পর্যন্ত, প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকে মোট ২৫.৮৯ কোটি মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড তৈরি করা হয়েছে। সুষম সার ব্যবহারের প্রসারে প্রায় ৭.১৭ লক্ষ প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে। কৃষি প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (ATMA) এবং কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রগুলির (KVK) সহায়তায় প্রদত্ত পরামর্শের মাধ্যমে এই প্রদর্শনীগুলি আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও, তৃণমূল স্তরে মাটির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ পৌঁছে দিতে সহায়তার জন্য ৭০,০০২ জন কৃষি সখীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
আরও সক্ষম ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলা
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি ধীরে ধীরে ভারতের কৃষির ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। এটি মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি, কৃষির সক্ষমতা এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহার বাড়ায়। প্রাকৃতিক কৃষি, কৃষিবনায়ন, ক্ষুদ্র সেচ এবং সমন্বিত কৃষি-র মতো পদ্ধতিগুলি সম্পদ-সাশ্রয়ী কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ কৃষকদের বৃহত্তর পরিসরে এই পদ্ধতিগুলি গ্রহণে সহায়তা করছে। আরও বেশি সংখ্যক কৃষক পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি পদ্ধতি গ্রহণ করলে কৃষি একইসঙ্গে পরিবেশগতভাবে সুস্থায়ৈ এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হয়ে উঠতে পারে। এই যাত্রার শুরু হয় সুস্থ মাটি থেকে এবং তা আরও সক্ষম কৃষি ব্যবস্থা ও সুরক্ষিত জীবিকার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
তথ্যবিবরণী
Ministry of Finance
https://www.indiabudget.gov.in/economicsurvey/doc/echapter.pdf \
Ministry of Agriculture & Farmers Welfare
https://www.pib.gov.in/PressReleaseDetail.aspx?PRID=2197692®=6&lang=1
https://naturalfarming.dac.gov.in/NaturalFarming/Concept
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2244625®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleseDetailm.aspx?PRID=2201002®=3&lang=2
https://agriwelfare.gov.in/sites/default/files/RAD_Operational_Guidelines.pdf
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2201000®=3&lang=1
https://agriwelfare.gov.in/Documents/AR_Eng_2024_25.pdf
https://agriwelfare.gov.in/Documents/DAFW_AnnualReport_2025_26_En.pdf
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2239789®=3&lang=2
Ministry of Electronics and Information Technology
https://climate-resilience.vikaspedia.in/viewcontent/climate-resilience/agriculture/what-is-climate-resilient-agriculture?lgn=en
World Economic Forum
https://www.weforum.org/stories/2022/10/what-is-regenerative-agriculture/
United Nations
https://www.fao.org/family-farming/d%09etail/en/c/1512632/
https://sdgs.un.org/goals/goal13#targets_and_indicators
Government of Tamil Nadu
https://agritech.tnau.ac.in/agriculture/agri_irrigationmgt_microirrigation.html
Government of Odisha
https://agri.odisha.gov.in/sites/default/files/2025-03/RAD%20Operational%20Guidelines%20%28Revised%29.pdf
PIB Backgrounders
https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=155019&ModuleId=3®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2175205®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/FaqDetails.aspx?id=155374&NoteId=155374&ModuleId=4®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2221117®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2259279®=3&lang=1
Click here to see pdf
SSS/RP........
(Explainer ID: 159695)
आगंतुक पटल : 23
Provide suggestions / comments