Infrastructure
ভারতে জাহাজ পুনর্ব্যবহার: নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার পরিবর্তন ও বিশ্বে ভারতের নেতৃত্ব
Posted On:
11 AUG 2026 1:41PM
১১ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের জাহাজ পুনর্ব্যবহার কর্মকান্ড একটি আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক মানের শিল্পে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালে ভারত বিশ্বের শীর্ষ জাহাজ পুনর্ব্যবহারকারী দেশ হয়ে ওঠে। বিশ্ব বাজারে ভারতের অংশীদারিত্ব ২০২৪ সালের ৩০.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৩৫.৪ শতাংশ হয়েছে। জাহাজ পুনর্ব্যবহারের পরিমাণও ১.৮৬ মিলিয়ন গ্রস টন থেকে বেড়ে ২.৯৯ মিলিয়ন গ্রস টন হয়েছে। অর্থাৎ, পুনর্ব্যবহারের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আলং-সোসিয়া ক্লাস্টার ভারতের জাহাজ পুনর্ব্যবহার ক্ষমতার মূল ভিত্তি হিসেবে রয়েছে। বৃহত্তর আইন প্রণয়ন, হংকং আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রগুলির আধুনিকীকরণ নিরাপত্তা, নিয়ম মেনে চলা এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেছে।
পরিবর্তনশীল সামুদ্রিক শিল্পের চিত্র
একটি শক্তিশালী সামুদ্রিক পরিকাঠামো শুধু জাহাজ নির্মাণ এবং বন্দর পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জাহাজের পরিষেবা জীবন শেষ হওয়ার পর সেগুলির দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনাও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জাহাজ পুনর্ব্যবহার সামুদ্রিক শিল্পের জীবনচক্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর মাধ্যমে জাহাজের কার্যকরী জীবন শেষ হওয়ার পর নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব এবং সম্পদের সুদক্ষ ব্যবহারে সেগুলি ভেঙে ফেলা সম্ভব হয়। শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় এই কাজ করা হলে, ইস্পাত এবং অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে তা চক্রাকার অর্থনীতির লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করে। একইসঙ্গে এটি পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে।
আরও শক্তিশালী আইন এবং উন্নত প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির ফলে প্রচলিত জাহাজ ভাঙার পদ্ধতি থেকে একটি আন্তর্জাতিক মানের শিল্পে রূপান্তর সম্ভব হয়েছে। নিয়ম মেনে চলা, স্থায়িত্ব এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা এখন এই শিল্পের কাজকর্মের মূল বিষয়। এই সংস্কারগুলি বিশ্ব ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। বর্তমানে, পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারত একটি শীর্ষস্থানীয় গন্তব্য হিসাবে উঠে এসেছে।
জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জাহাজ পুনর্ব্যবহার ভারতের সম্পদ সুরক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবেশগত গুরুত্ব
নিয়ন্ত্রিত জাহাজ পুনর্ব্যবহার পরিষেবা জীবন শেষ হওয়া জাহাজগুলির অনিরাপদভাবে ফেলে দেওয়া রোধ করে। এর ফলে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় দূষণের ঝুঁকি কমে।
যথাযথ পুনর্ব্যবহার পদ্ধতির মাধ্যমে কঠোর নিয়ন্ত্রক নজরদারির অধীনে বিপজ্জনক উপকরণ নিরাপদে পরিচালনা করা নিশ্চিত হয়।
সম্পদের গুরুত্ব
জাহাজ পুনর্ব্যবহার দেশীয় ইস্পাত শিল্পের জন্য লৌহজাত স্ক্র্যাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এর ফলে আমদানি করা কাঁচামালের উপর নির্ভরতা কমে এবং সরবরাহের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়।
ইস্পাত পুনরুদ্ধার ও পুনর্ব্যবহার সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং চক্রাকার অর্থনীতির প্রসারে সহায়তা করে।
নতুন ইস্পাত উৎপাদনের তুলনায় পুনর্ব্যবহৃত ইস্পাত তৈরিতে উল্লেখযোগ্যভাবে কম শক্তির প্রয়োজন হয়। এর ফলে, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনও কম হয়, যেটি ভারতের স্থায়িত্ব এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যকে সমর্থন করে।
অর্থনৈতিক ও শিল্পগত গুরুত্ব
জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্প বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। জাহাজ ভাঙা, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিভিন্ন উপকরণ পুনরুদ্ধারের কাজে যুক্ত শ্রমিকদের জীবিকা এতে সহায়তা পায়।
এই শিল্পের সঙ্গে পরিবহণ, রি-রোলিং মিল, সরঞ্জাম সরবরাহকারী এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিষেবা-সহ বিভিন্ন সহযোগী শিল্পের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক যুক্ত রয়েছে।
পুনরুদ্ধার করা ইস্পাত এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন উপাদান দেশীয় উৎপাদন ও শিল্পক্ষেত্রকে সহায়তা করে। এটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর মতো জাতীয় উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জাহাজ পুনর্ব্যবহারে ভারতের শীর্ষস্থান
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখা গেছে। রাষ্ট্রসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন (UNCTAD)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাহাজ পুনর্ব্যবহারে ভারত বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। বিশ্বে জাহাজ পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারতের অংশীদারিত্ব ২০২৪ সালের ৩০.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৩৫.৪ শতাংশ হয়েছে। এটি দেশের সামুদ্রিক ও শিল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
ভারতে জাহাজ পুনর্ব্যবহারের পরিমাণও ২০২৪ সালের ১.৮৬ মিলিয়ন গ্রস টন (GT) থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২.৯৯ মিলিয়ন GT হয়েছে। অর্থাৎ, পুনর্ব্যবহারের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি ভারতের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার প্রতিফলন এবং বিশ্ব বাজারে ভারতীয় জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রগুলির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। মেরিটাইম ইন্ডিয়া ভিশন (MIV) ২০৩০-এর আওতায় বিশ্বের শীর্ষ জাহাজ পুনর্ব্যবহারকারী দেশ হওয়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর আগেই তা অর্জিত হয়েছে।
আলং-সোসিয়া: ভারতের জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পের মূল চালিকাশক্তি
গুজরাটের আলং-সোসিয়া জাহাজ পুনর্ব্যবহার ক্লাস্টার ভারতের পুনর্ব্যবহার ক্ষমতার মূল ভিত্তি। এটি বিশ্বের বৃহত্তম জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত। ভারতের মোট জাহাজ পুনর্ব্যবহার কার্যক্রমের প্রায় ৯৮ শতাংশ এই ক্লাস্টারে হয়। এর বার্ষিক পুনর্ব্যবহার ক্ষমতা প্রায় ৬ মিলিয়ন GT। প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার না করেই আলংয়ে প্রতি বছর প্রায় ৩.৫০ মিলিয়ন মেট্রিক টন (MMT) ইস্পাত উৎপাদিত হয়। অনুমোদিত জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্র, পরবর্তী পর্যায়ের স্টিল রি-রোলিং মিল এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকাঠামো এই ক্লাস্টারকে সহায়তা করে। বছরের পর বছর ধরে এই ক্লাস্টারে ব্যাপক আধুনিকীকরণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে এটি বিশ্ব জাহাজ পুনর্ব্যবহার বাজারের সঙ্গে ভারতের প্রধান সংযোগস্থল হিসাবে কাজ করছে।
ভারত তার জাহাজ পুনর্ব্যবহার ক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ করে প্রায় ৯ মিলিয়ন লাইট ডিসপ্লেসমেন্ট টন (LDT) করার লক্ষ্য নিয়েছে। আলং শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে এই সম্প্রসারণ করা হবে। ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণের জন্য একটি বিস্তারিত মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হল পরিকাঠামোর উন্নতি করা এবং জাহাজ পুনর্ব্যবহার বাজারে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।
আলং-সোসিয়া জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রে অবস্থিত সেফটি ট্রেনিং অ্যান্ড লেবার ওয়েলফেয়ার ইনস্টিটিউট এখনও পর্যন্ত মোট ১.৫ লক্ষেরও বেশি শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এই প্রশিক্ষণে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, বিপজ্জনক উপকরণ পরিচালনা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে মোকাবিলার বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও, ভারতে কলকাতায় আমার আয়রন উদ্যোগ এবং কেরালায় স্টিল ইন্ডাস্ট্রিয়ালস কেরালা লিমিটেড (SILK)-এ একটি করে জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্র রয়েছে।
আলং-সোসিয়া জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্র
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রগুলিতে ব্যাপক উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। বর্তমানে এগুলিতে নিম্নলিখিত পরিকাঠামো ও ব্যবস্থা রয়েছে:
পরিকল্পিত ও নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত পুনর্ব্যবহার এলাকা।
জল বা তরল পদার্থ যাতে মাটিতে প্রবেশ করতে না পারে এমন কর্মক্ষেত্রের পৃষ্ঠ এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থা।
যান্ত্রিক উপায়ে উপকরণ পরিবহণ ও উত্তোলনের সরঞ্জাম।
বিপজ্জনক বর্জ্য পৃথকভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা।
অনুমোদিত বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ।
সুসংগঠিত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা।
এই উন্নয়নগুলি ভারতের জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা, পরিবেশগত নিয়ম মেনে চলা এবং কাজের দক্ষতা আরও শক্তিশালী করেছে।
নিয়ন্ত্রক ও নিয়ম মেনে চলার কাঠামো
ভারত জাহাজ পুনর্ব্যবহার কার্যক্রমের জন্য একটি বিস্তৃত আইনগত ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করেছে। এই কাঠামো আন্তর্জাতিক কনভেনশন এবং স্বীকৃত বিশ্বমানের সর্বোত্তম পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি জাহাজ পুনর্ব্যবহারের পুরো প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে জাহাজ প্রস্তুত করা, শংসাপত্র প্রদান, জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রের অনুমোদন, কার্যক্রম পরিচালনা এবং নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
জাহাজ পুনর্ব্যবহার আইন, ২০১৯: এই আইন ভারতে জাহাজ পুনর্ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রধান আইনগত কাঠামো প্রদান করে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডকে দেশের অভ্যন্তরে কার্যকর করা হয়েছে। এই আইনে ডিরেক্টোরেট জেনারেল অফ শিপিংকে জাতীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনে অনুমোদন, শংসাপত্র প্রদান, পরিদর্শন এবং আইন কার্যকর করার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
জাহাজ পুনর্ব্যবহার বিধি, ২০২১: এই বিধিগুলির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত ও কারিগরি প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করে আইনটি কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রের অনুমোদন, জাহাজ পুনর্ব্যবহার পরিকল্পনা, বিপজ্জনক উপকরণ ব্যবস্থাপনা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ এবং রিপোর্ট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জাহাজ পুনর্ব্যবহার প্রবিধান, ২০২৬: এই প্রবিধানগুলির মাধ্যমে বিস্তারিত পরিচালনাগত, নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত মানদণ্ড নির্ধারণ করে আইন ও বিধির বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এর ফলে, জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রগুলিতে একই ধরনের নিয়ম মেনে চলা এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
আইন, বিধি এবং প্রবিধান মিলিয়ে ভারতে জাহাজ পুনর্ব্যবহারের জন্য একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি হয়েছে। এই কাঠামো দেশের জাহাজ পুনর্ব্যবহার পদ্ধতিগুলিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ডের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ করে।
হংকং আন্তর্জাতিক কনভেনশনের (HKC) সঙ্গে সামঞ্জস্য
জাহাজের নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পুনর্ব্যবহারের জন্য হংকং আন্তর্জাতিক কনভেনশন জাহাজ পুনর্ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রধান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা। এই কনভেনশনে জাহাজ এবং জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রগুলির জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক বিভিন্ন শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কনভেনশনটি ২৬ জুন, ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। ঐ তারিখ থেকে এর নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক হয়েছে। ভারত জাহাজ পুনর্ব্যবহার আইন, বিধি এবং প্রবিধানের মাধ্যমে তার দেশের আইনগত কাঠামোকে এই কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে। জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রগুলির আধুনিকীকরণের জন্য ৫৩.৫ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই সহায়তার ফলে ১১৫টি কেন্দ্র হংকং কনভেনশনের শর্ত মেনে চলার উপযোগী হয়েছে।
গুজরাটের আলং-এর ৩৫টি জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্রিন-লিস্টে অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করেছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতীয় কেন্দ্রগুলির পরিদর্শন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। শ্রী রাম ভেসেল স্ক্র্যাপ এবং ওয়াই. এস. ইনভেস্টমেন্টস-কে জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রগুলির ১৬তম ইউরোপীয় তালিকার খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
IHM-এর মাধ্যমে নিরাপদ পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা
বিপজ্জনক উপকরণের তালিকা (IHM) নিরাপদ জাহাজ পুনর্ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে জাহাজের কার্যকরী জীবন চলাকালীন এবং পুনর্ব্যবহারের আগে জাহাজে থাকা বিপজ্জনক পদার্থগুলি চিহ্নিত ও নথিভুক্ত করা হয়। ভারত জাহাজের পুরো জীবনচক্রের ভিত্তিতে নিয়ম মেনে চলার পদ্ধতি অনুসরণ করে। এর ফলে, জাহাজ অনুমোদিত পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রে যাওয়ার আগে স্বচ্ছতা, তথ্যের সঠিক অনুসরণ এবং ঝুঁকি কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।
জাহাজ ভাঙার ক্রেডিট নোট প্রকল্প
শিপ বিল্ডিং ফাইনান্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স স্কিম (SBFA) 2.0-এর অধীনে চালু হওয়া শিপ-ব্রেকিং ক্রেডিট নোট প্রকল্প জাহাজ মালিকদের নিয়ম মেনে চলা ভারতীয় জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রে জাহাজ পুনর্ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে। একইসঙ্গে এটি ভারতীয় জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্রগুলিতে নতুন জাহাজ নির্মাণেও উৎসাহ দেয়। এই প্রকল্পের আওতায় পুনর্ব্যবহার করা জাহাজের স্ক্র্যাপের মূল্যের ৪০ শতাংশের সমপরিমাণ ক্রেডিট নোট দেওয়া হয়, যা জাহাজ ভাঙার কাজে উৎসাহ জোগায়। এই ক্রেডিট নোট ভারতীয় জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্রে তৈরি নতুন জাহাজের মূল্যের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই প্রকল্প সুস্থায়ী জাহাজ পুনর্ব্যবহার এবং ভারতের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের বৃদ্ধি- দুই ক্ষেত্রেই সহায়তা করে।
প্রাক্তন আইএনএস বিরাট - ভারতের দায়িত্বশীল জাহাজ পুনর্ব্যবহার সক্ষমতার উদাহরণ
গুজরাটের আলং-এ প্রাক্তন আইএনএস বিরাটের পুনর্ব্যবহার ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ পুনর্ব্যবহার প্রকল্প হিসাবে বিবেচিত হয়। ভারতীয় নৌবাহিনীতে ৩০ বছর এবং রয়্যাল নেভিতে ২৭ বছর পরিষেবা দেওয়ার পর এই বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজটি ২০১৭ সালের মার্চ মাসে অবসরপ্রাপ্ত হয়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এটি পুনর্ব্যবহারের জন্য আলংয়ে পৌঁছায়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি অনুযায়ী, বিশ্বের দীর্ঘতম সময় ধরে পরিষেবা দেওয়া যুদ্ধজাহাজগুলির মধ্যে অন্যতম প্রাক্তন আইএনএস বিরাট কয়েক দশকের গৌরবময় নৌ-পরিষেবার প্রতীক ছিল। এর শেষ যাত্রা পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধ জাহাজ পুনর্ব্যবহারে ভারতের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে তুলে ধরেছে।
পরিষেবা প্রদানকালে এই জাহাজটি ২২,৬২২ ঘণ্টারও বেশি সময় বিমান পরিচালনা করেছে। এটি সমুদ্রে ২,২৫২ দিন কাটিয়েছে এবং ৫.৮৮ লক্ষ নটিক্যাল মাইলেরও বেশি (১০.৯৪ লক্ষ কিলোমিটার) পথ অতিক্রম করেছে। এত বড় এবং জটিল একটি জাহাজ পুনর্ব্যবহার নিরাপদভাবে মূল্যবান উপকরণ পুনরুদ্ধারে ভারতের সক্ষমতাকে তুলে ধরে। এটি দেশের ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা মানদণ্ডেরও প্রতিফলন, যেটি কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করে।
দায়িত্বশীল পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা
ভারতে জাহাজ পুনর্ব্যবহার একটি আধুনিক, নিয়ন্ত্রিত এবং আন্তর্জাতিক মানের শিল্পে পরিণত হয়েছে। এই শিল্প সম্পদ সুরক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ধারাবাহিকভাবে পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও বিভিন্ন সংস্কারের মাধ্যমে ভারত তার জাহাজ পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ জাহাজ পুনর্ব্যবহারকারী দেশ হিসাবে ভারতের উঠে আসা এই প্রচেষ্টাগুলির সাফল্যকে প্রতিফলিত করে। বিশ্বের বাজারে ভারতের অংশীদারিত্ব এবং জাহাজ পুনর্ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধি ভারতীয় জাহাজ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রগুলির ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতার প্রমাণ। এই সাফল্য মেরিটাইম ইন্ডিয়া ভিশন ২০৩০-এর আওতায় নেওয়া নীতিগত পদক্ষেপগুলির কার্যকারিতাও তুলে ধরে। জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পের আরও উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ভারত এই ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসাবে নিজের অবস্থান ধরে রাখার জন্য উপযুক্ত অবস্থানে রয়েছে।
তথ্যবিবরণী
Ministry of Ports, Shipping and Waterways
https://dgma.gov.in/engineering-wing/ew-ship-recycling-in-india
https://shipmin.gov.in/en/content/nodal-responsibility-entire-shipbuilding-and-ship-repair-industry-vests-ministry-shipping
https://shipmin.gov.in/sites/default/files/Modified%20Guidelines%20for%20implementation%20of%20Shipbuilding%20Financial%20Assistance%20Scheme%20%28SBFAS%29_0.pdf
https://shipmin.gov.in/sites/default/files/Annual%20Report%202024-25%20-%20English.pdf
https://shipmin.gov.in/sites/default/files/Annual%20Report%202025-26%20english.pdf
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2098573®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2280098®=3&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2276739®=3&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1659960&lang=2
Ministry of Defence
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1483700&lang=2
Click here to see pdf
SSS/RP........
(Explainer ID: 159521)
आगंतुक पटल : 10
Provide suggestions / comments