Social Welfare
ক্রীড়াপ্রধান রাষ্ট্রের নির্মাণে
Posted On:
03 AUG 2026 5:10PM
০৩ আগস্ট, ২০২৬
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা দ্বারা 'খেলো ইন্ডিয়া' প্রকল্পের অনুমোদন ভারতের ক্রীড়া ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য। ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ সময়কালের জন্য এই প্রকল্পে মোট ৩৬,৪৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলিকে বর্ধিত সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তৃণমূল স্তর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছানোর পথ সুগম করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ভারতীয় ক্রীড়ার চেতনা
খেলাধুলা একটি দেশকে রূপান্তরিত করতে পারে এবং নাগরিকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। ভারতের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া সম্পদ হল এর যুবসমাজ, যাদের জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৫% (৩৫ বছরের নিচে)। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রক যুব উন্নয়নকে শক্তিশালী করতে এই বাজেট বাড়িয়ে ৪,৪৭৯.৮৮ কোটি টাকা করেছে, যেই অংক ২০১৩-১৪ সালে ছিল মাত্র ১,২১৯ কোটি টাকা।
খেলো ইন্ডিয়া কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল, প্রাথমিক স্তর থেকে প্রতিভা শনাক্ত করে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, সাহায্য এবং প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা, যাতে ভৌগোলিক বা আর্থিক কারণে কোনো প্রতিভা পিছিয়ে না পড়ে।
খেলো ইন্ডিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি
২০১৭ সালে তিনটি কর্মসূচি—রাজীব গান্ধী খেল অভিযান, আরবান স্পোর্টস ইনফ্রাস্ট্রাকচার স্কিম এবং ন্যাশনাল স্পোর্টস ট্যালেন্ট সার্চ স্কিমকে একত্রিত করে 'খেলো ইন্ডিয়া' শুরু হয়।
এর পাঁচটি মূল স্তম্ভ হল:
১. বিভিন্ন স্তরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন।
২. কোচ ও সহায়তা কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি।
৩. ক্রীড়া বিজ্ঞান ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার।
৪. প্রতিযোগিতা ও লিগের আয়োজন।
৫. ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন।
এই মিশনের লক্ষ্য হল, ২০৩৬ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াপ্রধান দেশগুলির মধ্যে অন্যতম করে তোলা।
খেলো ইন্ডিয়ায় ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ
* *২০১৭–১৮ থেকে ২০১৯–২০:* ১,৭৫৬ কোটি টাকা অনুমোদন।
* *২০২০–২১:* ৩২৮.৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ।
* *২০২১–২২ থেকে ২০২৫–২৬:* ৩,৭৯০.৫০ কোটি টাকা অনুমোদন।
* *২০২৬–২৭:* ৯২৪.৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ।
*জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রধান সাফল্য:*
* ৩,১৭৬ কোটি টাকা বিনিয়োগে ৩৪৯টি নতুন পরিকাঠামো প্রকল্প অনুমোদিত।
* ১,০৬৭টি খেলো ইন্ডিয়া সেন্টার (KIC) স্থাপিত।
* ২৬৭টি অ্যাকাডেমি সমর্থিত।
* ২,৭৪৫ জন খেলো ইন্ডিয়া ক্রীড়াবিদ (KIA) প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা ও মাসিক ভাতা পাচ্ছেন।
রূপান্তরিত খেলো ইন্ডিয়া স্কিম: তৃণমূল স্তর থেকে আন্তর্জাতিক শ্রেষ্ঠত্ব
২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ মেয়াদে এই প্রকল্পটির পরিধি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে।
* *ক্রীড়াবিদদের জন্য পরিকাঠামো:* ন্যাশনাল সেন্টার অফ এক্সিলেন্স, সাই (SAI) ট্রেনিং সেন্টার, অনুমোদিত অ্যাকাডেমি এবং সশস্ত্র বাহিনীর যুব ক্রীড়া সংস্থাগুলিকে একত্রিত করা হচ্ছে।
* *খেলো ইন্ডিয়া ফিডার স্কুল এবং উৎকর্ষ বিদ্যালয়:* শিক্ষার সঙ্গে খেলাধুলাকে যুক্ত করে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিভা চেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
* *উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের সুযোগ:* তরুণ খেলোয়াড়দের সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বৃদ্ধি পাবে।
* *প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ:* 'ফিট ইন্ডিয়া মুভমেন্ট'-এর প্রসার, ন্যাশনাল কোচ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড গঠন এবং একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে।
* *অংশীদারিত্ব:* বেসরকারি অ্যাকাডেমি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ এবং ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস ও অলিম্পিক আয়োজনের প্রস্তুতির সঙ্গে সংগতি রক্ষা।
খেলো ইন্ডিয়া গেমস: ভবিষ্যৎ চ্যাম্পিয়নদের মঞ্চ
২০১৮ সালে নিউ দিল্লিতে 'খেলো ইন্ডিয়া স্কুল গেমস' হিসাবে এটি শুরু হয়। পরে এটি 'খেলো ইন্ডিয়া ইউথ গেমস' (KIYG) নামে পরিচিতি পায়। এতে এ পর্যন্ত ৬৩,০০০-এর বেশি প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন। পরবর্তীতে যুক্ত হয় খেলো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি গেমস (২০২০), উইন্টার গেমস (২০২০), প্যারা গেমস (২০২৩), বিচ গেমস (২০২৫), ওয়াটার স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল (২০২৫) এবং ট্রাইবাল গেমস (২০২৬)।
ভারতের ক্রীড়া সাফল্যকে চালনা করা
* *টার্গেট অলিম্পিক পডিয়াম স্কিম (TOPS):* সেপ্টেম্বর ২০১৪-এ শুরু হওয়া এবং এপ্রিল ২০১৮-তে রূপান্তরিত হওয়া এই স্কিমে ক্রীড়াবিদদের বিদেশি প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও প্রতি মাসে ৫০,০০০ টাকা (ডেভেলপমেন্ট গ্রুপের জন্য ২৫,০০০ টাকা) ভাতা দেওয়া হয়। এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এই স্কিম ৫০টি কোর, ৫২টি প্যারা কোর এবং ১৩০টি উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের সহায়তা দিচ্ছে।
* *কীর্তি (KIRTI):* ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু/কিশোর/যুবকদের প্রতিভা বিকাশের জন্য এতে এআই (AI) এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে ১৭৪টি সেন্টার চালু রয়েছে এবং ১,৮৭,৯২১টি অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে।
*
* *ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদন:* ২০২৬-২৭ বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে ভারতকে বিশ্বমানের ক্রীড়া সামগ্রী তৈরির হাব হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে ভারতের উত্থান
* *অলিম্পিক গেমস:* রিও ২০১৬-তে দুটি মেডেল থেকে টোকিও ২০২০-তে সাতটি এবং প্যারিস ২০২৪-এ ছয়টি মেডেল ভারত অর্জন করেছে। নীরজ চোপড়া টোকিওতে ঐতিহাসিক সোনা জেতেন।
*
* *প্যারালিম্পিক গেমস:* রিও ২০১৬-এর চারটি মেডেলের তুলনায় টোকিও ২০২০-তে ১৯টি এবং প্যারিস ২০২৪-এ ভারত সেরা পারফরম্যান্স করে ২৯টি মেডেল পায়।
* *এশিয়ান গেমস:* ২০১৪ সালে ৫৭টি, ২০১৮ সালে ৬৯টি এবং ২০২৩ সালের হাংঝাউ এশিয়ান গেমসে ভারত রেকর্ড ১০৭টি মেডেল অর্জন করে।
* *কমনওয়েলথ গেমস:* ২০১৪ সালে ৬৪টি, ২০১৮ সালে ৬৬টি এবং ২০২২ বার্মিংহামে ভারত ৬১টি মেডেল পায়।
কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬
গ্লাসগোতে ২৩ জুলাই থেকে ২ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ভারত ১৩টি সোনা, ১৭টি রূপা ও নয়টি ব্রোঞ্জ-সহ মোট ৩৯টি মেডেল জিতে চতুর্থ স্থান অধিকার করে।
* *প্যারা পাওয়ারলিফটিং:* ঝান্ডু কুমার ব্রোঞ্জ জিতে পদকের খাতা খোলেন।
*
* *ভারত্তোলন:* ঋষিকান্ত সিং (রূপা), মীরাবাই চানু (সোনা) এবং রাজা মুথুপান্ডি (রূপা) জয়ী হন।
*
* *বক্সিং:* ভারতীয় বক্সাররা ১০টি মেডেল জেতেন, যার মধ্যে সাতটিই সোনা (আরুন্ধতী চৌধুরীসহ)।
*
* *অন্যান্য সাফল্য:* অস্মিতা দে এবং হর্ষ তোকাস জুডোতে সোনা জেতেন। গুলবীর সিং ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে দুটি ব্যক্তিগত মেডেল এবং তেজস্বিন শঙ্কর ডিক্যাথলনে প্রথম মেডেল পান। নীরজ চোপড়া জ্যাভলিনে রূপা পান।
খেলো ইন্ডিয়া থেকে গ্লাসগোর গৌরব
* *অরুন্ধতী চৌধুরী:* কোটার এই বক্সার খেলো ইন্ডিয়া গেমসে টানা তিনটি সোনা (২০১৮, ২০১৯, ২০২০) জেতার পর গ্লাসগো ২০২৬-এ মহিলাদের ৭০ কেজি বিভাগে সোনা জেতেন।
* *অস্মিতা দে:* ত্রিপুরার বেলোনিয়ার একজন সাইকেল মেকানিকের মেয়ে অস্মিতা খেলো ইন্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় গেমসে সফল হওয়ার পর গ্লাসগোতে কানাডার হেইডি কোয়াচকে হারিয়ে জুডোতে ভারতের প্রথম কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়ন হন।
ক্রীড়া উৎকর্ষতার সন্ধান
ভারতের এই সফল পথচলা অব্যাহত রয়েছে। ক্রমাগত বিনিয়োগ এবং সঠিক সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি হচ্ছে যা দেশের তরুণ প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করতে অনুপ্রাণিত করছে।
PIB Backgrounders:
Ministry of Youth Affairs and Sports
Ministry of Textiles
Commonwealth Sport:
Olympic Games:
Others
Click here to see pdf
SSS/PK...
(Explainer ID: 159416)
आगंतुक पटल : 11
Provide suggestions / comments