Social Welfare
পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে ভারতের উত্থান
Posted On:
31 JUL 2026 6:06PM
৩১ জুলাই, ২০২৬
ভারত তার ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, আধ্যাত্মিক আকর্ষণ এবং সম্প্রসারিত অর্থনীতির ওপর ভিত্তি করে ধীরে ধীরে একটি প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠছে। শক্তিশালী পরিকাঠামো, উন্নত সংযোগব্যবস্থা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং বিশ্বব্যাপী প্রচারের মাধ্যমে এই ক্ষেত্রটি ক্রমান্বয়ে এগিয়ে চলেছে। পর্যটন স্থানীয় জীবিকা, সামাজিক অংশগ্রহণ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বিশ্বব্যাপী এক নন্দিত গন্তব্যস্থল হিসাবে ভারতের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি, অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধিতেও সহযোগিতা করছে।
জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তি হিসাবে পর্যটন
পর্যটন ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে বর্তমানে। এটি নিছক একটি ভ্রমণস্থলের চেয়েও বেশি। এটি আতিথেয়তা, পরিবহন, হস্তশিল্প, খাদ্য পরিষেবা, সুস্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এবং স্থানীয় উদ্যোগের এক বিশাল বাস্তুতন্ত্রের নিদর্শন, যেটি শহর ও গ্রাম উভয় ক্ষেত্রেই জীবিকার সুযোগ তৈরি করে। যেহেতু অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে এবং আন্তর্জাতিক আগমন বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে, পর্যটন ক্ষেত্রটি বিশ্বমঞ্চে ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি, স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও ক্রমান্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
আজ, এই ক্ষেত্রটি পরিমাপ এবং গতি উভয়ই প্রতিফলিত করে। আসুন দেখে নিই এই ক্ষেত্রের উল্লেখযোগ্য সাফল্য:
২০২৪ সালে এদেশে ২.৯ বিলিয়ন অভ্যন্তরীণ পর্যটক সফর করেন, যেই অংক অতিমারী পূর্বের স্তরকেও অতিক্রম করেছে।
২০২৫ সালে প্রায় ২.০২ কোটি আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগমন ঘটেছে।
২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপিতে ১৫.৭৩ লাখ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেটি অর্থনীতির ৫.২২%।
২০২৩-২৪ সালে পর্যটন এবং আতিথেয়তা ক্ষেত্রে ৮৪.৬ মিলিয়ন চাকরি হয়েছে।
২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটন থেকে প্রায় ৩১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে।
তথাপি, ভারতের পর্যটনের কাহিনীটি কেবল ক্রমবর্ধমান পর্যটকদের সংখ্যার ওপর বিচার করে তৈরি নয়। দেশের অতুলনীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, বৈচিত্র্যময় ভূদৃশ্য এবং আধ্যাত্মিকতা বিশ্বব্যাপী একটি শীর্ষস্থানীয় ও পর্যটন গন্তব্য হিসাবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করতে পেরেছে।
ভারতের পর্যটনকেন্দ্রিক সুযোগসুবিধা: বৈচিত্র্য, চাহিদা এবং সফট পাওয়ার
ভারতের সবচেয়ে বড় পর্যটন শক্তি লুকিয়ে রয়েছে এর বৈচিত্র্যের মধ্যে। একটি দেশের মধ্যেই, দর্শকরা প্রাচীন সভ্যতা, জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পবিত্র তীর্থস্থান, বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণী-সহ আদিম বন, বরফাবৃত পর্বত, প্রাণস্পন্দিত উৎসব, বৈচিত্র্যময় রন্ধনপ্রণালী এবং খ্যাতনামা সুস্বাস্থ্যের অনুশীলনস্থলগুলি অন্বেষণ করতে পারেন। মূর্ত ও বিমূর্ত ঐতিহ্যের এই অনন্য সংমিশ্রণ আমাদের দেশকে সারা বছর ধরে বর্ধিত ভ্রমণকারীদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
ভারতের পর্যটন সম্পদের ভিত্তির মধ্যে রয়েছে:
বস্তুত, ৪৪টি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট, যেগুলি দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে। এর সঙ্গে রয়েছে ১০৬টি জাতীয় উদ্যান এবং ১৮টি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ, যেগুলি বন্যপ্রাণী এবং প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটনকে উৎসাহিত করে।
তীর্থক্ষেত্র, ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিসৌধ, জাদুঘর, সংরক্ষিত বন, সৈকত, দ্বীপ এবং সাংস্কৃতিক ভূদৃশ্যের এক বিশাল আধার ভারতবর্ষ।
হস্তশিল্প, রন্ধনপ্রণালী, উৎসব, পরিবেশন শিল্প, যোগ এবং আয়ুর্বেদ- সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সবই রয়েছে এই দেশে।
প্রধান পর্যটন ক্ষেত্রসমূহ
ভারতের পর্যটন একাধিক উচ্চ-সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র জুড়ে বিস্তৃত, যা গন্তব্যস্থলগুলিকে পর্যটকদের আগ্রহ পূরণ করতে এবং সারা বছর ধরে পর্যটনের চাহিদা পূরণ করতে সাহায্য করে।
আধ্যাত্মিক এবং তীর্থক্ষেত্র ভিত্তিক পর্যটন
হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্ম এবং শিখধর্মের জন্মস্থান হিসাবে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তীর্থস্থানের আবাসস্থল। চার ধাম, কাশী এবং অযোধ্যার পবিত্র সার্কিট থেকে শুরু করে বোধগয়া, অমৃতসর, তিরুপতি এবং পুরীর পবিত্র স্থানগুলি পর্যন্ত, আধ্যাত্মিক পর্যটন প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে চলেছে। সংযোগ, পরিকাঠামো এবং দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ বিশ্বব্যাপী আধ্যাত্মিক পর্যটন গন্তব্য হিসাবে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বৌদ্ধ সার্কিট এবং আন্তঃদেশীয় সাংস্কৃতিক বন্ধন
ভারতের বৌদ্ধ ঐতিহ্য এশিয়া এবং তার বাইরের তীর্থযাত্রী ও পণ্ডিতদের আকর্ষণ করে চলেছে। ভগবান বুদ্ধের জীবনের সঙ্গে যুক্ত গন্তব্যগুলি, অন্যান্য যৌথ সভ্যতাগত এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে, একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে আমাদের রাষ্ট্রের ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক পর্যটন
ভারতের সমৃদ্ধ সভ্যতাভিত্তিক ঐতিহ্য এর দুর্গ, প্রাসাদ, মন্দির, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, জাদুঘর এবং ঐতিহাসিক শহরগুলিতে প্রতিফলিত হয়। এই মূর্ত সম্পদগুলির পরিপূরক হল দেশের প্রাণস্পন্দিত ঐতিহ্য—শাস্ত্রীয় নৃত্য, সঙ্গীত, উৎসব, হস্তশিল্প এবং আঞ্চলিক রন্ধনপ্রণালী—যা দর্শনার্থীদের স্মৃতিসৌধের বাইরেও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এগুলি একত্রে প্রজন্ম ধরে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিকতা এবং স্থায়ী প্রাণশক্তি প্রদর্শন করে।
সুস্বাস্থ্য, যোগ এবং চিকিৎসা ভিত্তিক পর্যটন
সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা প্রদানের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে ভারত ওয়েলনেস ট্যুরিজমের একটি শীর্ষস্থানীয় গন্তব্য হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সমগ্র বিশ্বের কাছে ভারতের উপহার হিসাবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত যোগ, আয়ুর্বেদ, প্রাকৃতিক চিকিৎসা এবং ঐতিহ্যবাহী নিরাময় ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতি রেখে এই দ্রুত বর্ধনশীল ক্ষেত্রের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এইগুলির পরিপূরক হল বিশ্বমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং উচ্চ-মানের, সাশ্রয়ী মূল্যের চিকিৎসা, যা মেডিকেল ট্যুরিজমের জন্য একটি পছন্দের গন্তব্য হিসাবে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ইকো-ট্যুরিজম এবং বন্যপ্রাণী পর্যটন
ভারতের বৈচিত্র্যময় বাস্তুতন্ত্র প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটন অভিজ্ঞতার একটি ভাণ্ডার। জাতীয় উদ্যান, ব্যাঘ্র প্রকল্প, জলাভূমি, ম্যানগ্রোভ, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ এবং হিমালয়ের ভূদৃশ্য বন্যপ্রাণী সাফারি, পাখি দেখা, ট্র্যাকিং, কচ্ছপ সংরক্ষণ, ট্রেইল, প্রকৃতি ব্যাখ্যা ইত্যাদির সুযোগ প্রদান করে। একই সময়ে, দায়িত্বশীল ইকো-ট্যুরিজম প্রাকৃতিক বাসস্থানের সংরক্ষণ ও সুরক্ষাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য জীবিকার সুযোগও তৈরি করছে।
সম্প্রদায়ভিত্তিক পর্যটন
প্রতিষ্ঠিত গন্তব্যগুলির বাইরে, গ্রামীণ পর্যটন দর্শনার্থীদের ভারতের গ্রাম, স্থানীয় ঐতিহ্য এবং দেশীয় জ্ঞান ভিত্তিক ব্যবস্থার কাছাকাছি নিয়ে আসছে। হোমস্টে, গ্রামে হাঁটা, ঐতিহ্যবাহী রন্ধনপ্রণালী, হস্তশিল্প, কৃষি অভিজ্ঞতা এবং অর্থপূর্ণ সাংস্কৃতিক মিথস্ক্রিয়া ভ্রমণকারীদের গ্রামীণ পরিবার, কারিগর এবং সামাজিক উদ্যোগের জন্য জীবিকা এবং প্রত্যক্ষ আয় তৈরি করার পাশাপাশি স্থানীয় জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সাহায্য করে।
মাইস (MICE) ট্যুরিজম
বিস্তৃত কনভেনশন পরিকাঠামো এবং প্রধান আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের প্রমাণিত রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে ভারত মিটিং, ইনসেনটিভ, কনফারেন্স এবং এক্সিবিশন (MICE) পর্যটনের জন্য একটি শীর্ষস্থানীয় গন্তব্য হিসাবে আত্মপ্রকাশ করছে। আধুনিক কনভেনশন সেন্টার, উন্নত সংযোগ এবং গন্তব্য-ভিত্তিক ব্যবসায়িক ইভেন্টগুলি অবসরে ভ্রমণের বাইরে দেশের পর্যটন ক্ষেত্রগুলিকে বৈচিত্র্যময় করছে।
জি২০: বিশ্বমঞ্চে ভারতের পর্যটন সম্ভাবনার প্রদর্শন
ভারতের জি২০ সভাপতিত্ব বিশ্বমঞ্চে দেশের পর্যটন বৈচিত্র্য প্রদর্শনের একটি নজিরবিহীন সুযোগ প্রদান করতে পেরেছে।
মোট ৬০টিরও বেশি শহর জুড়ে ২০০টিরও বেশি জি২০ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের প্রথাগত মেট্রোপলিটন শহরের বাইরেও নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
এই ইভেন্টগুলি বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে ভারতের ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিসৌধ, স্থানীয় কারুশিল্প, আঞ্চলিক রন্ধনপ্রণালী, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং পর্যটন অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে সাহায্য করছে।
বহু-শহরের দৃষ্টিভঙ্গি ব্র্যান্ডিংকে শক্তিশালী করেছে, কম পরিচিত স্থানগুলিকে প্রচারের আলোয় এনেছে এবং বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতাকে প্রদর্শন করেছে।
এই অভিজ্ঞতাটি MICE পর্যটনের গন্তব্য হিসাবে ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনাকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি, এর বিশ্বব্যাপী দৃশ্যমানতা এবং সফট পাওয়ার-ও বৃদ্ধি করেছে।
উপকূলীয়, ক্রুজ, অ্যাডভেঞ্চার এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক পর্যটন
মোট ৭,৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত একটি উপকূলরেখা, দ্বীপপুঞ্জ, নদী, বিশাল মরুভূমি এবং পাহাড়ি ভূদৃশ্য সহ, ভারত পর্যটন বিষয়ক অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ হিসাবে পরিগণিত হয়। উপকূল এবং ক্রুজ পর্যটন থেকে শুরু করে ওয়াটার স্পোর্টস, ট্র্যাকিং, পর্বতারোহণ, রিভার রাফটিং, ডেজার্ট সাফারি, ফিল্ম ট্যুরিজম এবং অন্যান্য অভিজ্ঞতাভিত্তিক ভ্রমণের অসুযোগ— অগনিত ভ্রমণপীপাসুদের অনাবিল আগ্রহ পূরণ করতে সমর্থ। এই বৈচিত্র্যগুলি পর্যটকদের পছন্দকে সম্প্রসারিত করতে সাহায্য করেছে এবং বিভিন্ন গন্তব্যস্থলে দীর্ঘ সময় অবস্থানের জন্য উৎসাহিত করতে পেরেছে।
পরিকাঠামো-চালিত গন্তব্যস্থলের উন্নয়ন
ভারতের পর্যটন উন্নয়ন কৌশল ক্রমান্বয়ে একক আকর্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি থেকে সমন্বিত গন্তব্য বাস্তুতন্ত্র তৈরির দিকে এগিয়ে চলেছে। স্বতন্ত্র স্মৃতিসৌধ এবং ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির বিকাশের বাইরে নির্বিঘ্ন সংযোগ, উচ্চ-মানের পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং সুগভীর অভিজ্ঞতা সহ সামগ্রিকভাবে পর্যটন গন্তব্যকে আকর্ষণীয় করার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গির লক্ষ্য হল, সার্বিকভাবে পর্যটনকেন্দ্রিক যাত্রা উন্নতি করা এবং একই সঙ্গে পর্যটনকে স্থানীয় সমাজের জন্য অর্থনৈতিক এবং দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার দিকে নজর দেওয়া।
গন্তব্যস্থলের পরিকাঠামো জোরদার করা
একাধিক ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ সারা দেশে এই রূপান্তরমূলক কর্মকান্ড পরিচালিত করছে। এই বিনিয়োগগুলি ভারতের পর্যটন মডেলকে বিচ্ছিন্ন আকর্ষণ থেকে সমন্বিত গন্তব্যে পরিবর্তিত করেছে। এর ফলে, পর্যটকদের দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান, স্থানীয়ভাবে বেশি খরচা করার প্রবণতা এবং উন্নত পর্যটন সংক্রান্ত অভিজ্ঞতাকে উৎসাহিত করে।
স্বদেশ দর্শন ১৪টি বিষয়ভিত্তিক পর্যটন সার্কিট জুড়ে ৫,২৯৫.২৪ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ-সহ ৭৬টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ৭৫টি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই কর্মসূচিটি বৌদ্ধ, উপকূলীয়, মরুভূমি, ইকো, হিমালয়, উত্তর পূর্ব, রামায়ণ, গ্রামীণ, আধ্যাত্মিক, উপজাতীয় এবং অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক সার্কিট জুড়ে পরিকাঠামো উন্নত করায় ব্রতী।
এর ওপর ভিত্তি করে, স্বদেশ দর্শন ২.০ একটি গন্তব্য-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হয়েছে, যেটি অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে পর্যটনের ওপর জোর দিতে সক্ষম। উন্নত পরিকল্পনা, পরিকাঠামো এবং দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গন্তব্যগুলি বিকাশের জন্য ২,২০৭.০৮ কোটি টাকার ৫৩টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রসাদ (PRASHAD) প্রকল্পের অধীন, প্রধান তীর্থক্ষেত্র এবং ঐতিহ্যবাহী গন্তব্যস্থলগুলিতে পরিকাঠামোর উন্নয়ন, তীর্থযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি, সেই স্থানগুলির সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রক্ষার জন্য ১,৭২৬.২৪ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ৫৪টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্টের জন্য রাজ্যগুলিকে বিশেষ সহায়তা (SASCI)-র মাধ্যমে, ইতিহাস সমৃদ্ধ পর্যটন কেন্দ্রগুলির বিকাশ এবং সেগুলিকে বিশ্বমানের সাথে মেলাতে ৩,২৯৫.৭৬ কোটি টাকা খরচে ২৩টি রাজ্য জুড়ে ৪০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ-ভিত্তিক গন্তব্যস্থলের উন্নয়ন (CBDD) উদ্যোগটি ৬৮৭.৯৯ কোটি টাকার ৩৭টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যেটি আধ্যাত্মিক এবং ইকো-ট্যুরিজম বিভাগের আওতায় উচ্চ পর্যটন সম্ভাবনাময় গন্তব্যগুলির ওপর নজর সৃষ্টি করেছে।
পর্যটন পরিকাঠামো হিসাবে সংযোগ
পর্যটন পরিকাঠামো গন্তব্যের সীমানা ছাড়িয়ে এখন অনেক দূর বিস্তৃত। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ গন্তব্যস্থল উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে।
জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ, রেল স্টেশনগুলির আধুনিকীকরণ, বন্দে ভারত ট্রেন চালু করা, উড়ান (UDAN)-এর মাধ্যমে আঞ্চলিক বিমান সংযোগ বৃদ্ধি, বিমানবন্দর উন্নয়ন, লাস্ট-মাইল সংযোগের উন্নতি, ই-বাস এবং উন্নত জনপরিষেবা পর্যটন গন্তব্যগুলিকে আরও সহজলভ্য করে তুলছে এবং ভ্রমণের সময় কমিয়ে দিচ্ছে। আঞ্চলিক সংযোগের পরবর্তী পর্যায়, বিকশিত উড়ান (Viksit UDAN), ২৮,৮৪০ কোটি টাকারও বেশি খরচে ১০০টিরও বেশি নতুন এরোড্রোম এবং ২০০টি হেলিপ্যাড উন্নয়ন-সহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহর এবং দুর্গম অঞ্চলগুলিতে বিমান পরিবহনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বিনিয়োগগুলি পর্যটন সার্কিটগুলিকে বিচ্ছিন্ন আকর্ষণ হিসাবে রাখার পরিবর্তে সেগুলিকে যুক্ত করতে সহায়তা করছে, যার ফলে, পর্যটকরা একটি অঞ্চলের মধ্যে একাধিক গন্তব্য অন্বেষণ করতে সক্ষম হন।
ভ্রমণের সুগমতা, ডিজিটাল পর্যটন এবং গ্লোবাল মার্কেট অ্যাক্সেস
একটি ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক পর্যটনকেন্দ্রিক পটভূমিতে, গন্তব্যগুলি কেবল তারা কি অফার করে তা দিয়েই বিচার করা হয় না, সেগুলি অ্যাক্সেস করা, আবিষ্কার করা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করা কতটা সহজ তা দিয়েও বিচার করা হয়। ভিসা সহজীকরণ এবং ডিজিটাল পরিষেবা থেকে শুরু করে গন্তব্য বিষয়ে প্রচার এবং প্রযুক্তি-চালিত উদ্ভাবন, বিশ্বব্যাপী পর্যটন বাজারে তার উপস্থিতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি, ভারত পর্যটকদের একটি নির্বিঘ্ন যাত্রাব্যবস্থা প্রদান করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে।
ভ্রমণ সহজীকরণ
আন্তর্জাতিক পর্যটনের একটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে এই ব্যবস্থা। ভারত ই-ট্যুরিস্ট ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবেশ প্রক্রিয়া সহজ করেছে, যার ফলে, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ আরও সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে।
প্রধান উদ্যোগগুলির মধ্যে রয়েছে:
মোট ১৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ই-ট্যুরিস্ট ভিসার সুবিধা সম্প্রসারিত করা হয়েছে। বস্তুত, ৩৩টি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর, ১৯টি সমুদ্রবন্দর এবং চারটি স্থলবন্দরের মাধ্যমে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ই-ভিসা কাঠামোর অধীনে ভিসার বিভাগ এবং নির্দিষ্ট প্রবেশপথের সম্প্রসারিত হয়েছে।
উচ্চ-সম্ভাবনাময় উৎসের বাজারে পর্যটকদের জন্য সহজীকৃত নথিভুক্তকরণ, ডিজিটাল অনুমোদন এবং সহজ ভ্রমণ পদ্ধতি সৃষ্টির জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
একটি ডিজিটাল ট্যুরিজম বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলে
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি পর্যটকদের অভিজ্ঞতা এবং পর্যটন উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড ডাটাবেস অফ হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি (NIDHI+) পর্যটন পরিষেবা প্রদানকারীদের নিবন্ধন, স্বীকৃতি এবং শ্রেণীবিভাগের প্রয়োজনে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছে। এটি ব্যবসা করার সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি, এন্ড-টু-এন্ড অনলাইন প্রক্রিয়াকরণ, সমন্বিত পেমেন্ট সুবিধা এবং স্বচ্ছ অনুমোদন প্রদান করছে।
উদ্ভাবন পর্যটন বৃদ্ধিকে চালিত করছে
উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টির মানসিকতা পর্যটন বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করছে। ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে ২৬২টি জেলা জুড়ে ১,৪৯৭টি ডিপিআইআইটি-স্বীকৃত স্টার্টআপ রয়েছে (১৭ এপ্রিল ২০২৩ পর্যন্ত), যেগুলি প্রায় ১৩,৯১৯ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
লক্ষণীয়ভাবে, এই স্টার্টআপগুলির ৫৮% দ্বিতীয় স্তর এবং তৃতীয় স্তরের শহর- ভিত্তিক, যা প্রধান শহরগুলির বাইরে পর্যটন উদ্যোক্তা মানসিকতার ক্রমবর্ধমান বিস্তারকে চিহ্ণিত করে।
এই স্টার্টআপগুলি ট্র্যাভেল-টেক, অনলাইন বুকিং, হোমস্টে, গ্রামীণ ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক পর্যটন, স্মার্ট মোবিলিটি এবং এআই-সক্ষম ভ্রমণ পরিকল্পনার ক্ষেত্রজুড়ে সমাধান তৈরি করছে। উল্লেখযোগ্য উদাহরণের মধ্যে রয়েছে হাইওয়ে ডিলাইট, যা একটি ডিজিটালভাবে সংযুক্ত হাইওয়ে সুযোগ-সুবিধার নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে; ভিলেজটেল, যেটি হোমস্টে এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যটনকে উৎসাহিত করছে; এবং উড় চলো, যেটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ৭০টিরও বেশি বুকিং অফিসের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ২.৮ মিলিয়নেরও বেশি প্রতিরক্ষা কর্মী, ভেটেরান এবং তাদের নির্ভরশীলদের প্রযুক্তি-সক্ষম ভ্রমণ পরিষেবা প্রদান করছে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক পর্যটন: দীর্ঘমেয়াদী মডেল
ভারত বিশ্বব্যাপী একটি আকাঙ্খিত পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে তার অবস্থান শক্তিশালী করার সাথে সাথে, পর্যটন উন্নয়নের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করছে। পরিবেশগতভাবে দায়িত্বশীল, অর্থনৈতিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং উচ্চ-মানের দর্শনার্থী অভিজ্ঞতা প্রদানে সক্ষম গন্তব্য সৃষ্টির ওপর উপর্যুপরি নজর দেওয়া হচ্ছে। পরিকাঠামো, সংযোগ এবং ডিজিটাল রূপান্তরে বিনিয়োগের পাশাপাশি, পর্যটন নীতিগুলি দায়িত্বশীল ভ্রমণ, সামাজিক অংশগ্রহণ, দক্ষতা বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদী গন্তব্য সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনার ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।
সুস্থায়ী গন্তব্যস্থল
ভারত ট্র্যাভেল ফর লাইফ (LiFE) এবং দায়িত্বশীল ভ্রমণ ব্যবস্থাপনাকে উৎসাহিত করে পর্যটনের একটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ মডেল প্রচার করছে। ট্র্যাকিং, পাখি দেখা, কচ্ছপ ট্রেইল এবং অন্যান্য প্রকৃতিভিত্তিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বৈচিত্র্যকরণের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে, সম্যক গন্তব্যগুলির বাইরে দর্শনার্থীদের প্রবাহ বন্টন করতে সাহায্য করার পাশাপাশি, সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জীবিকাও মজবুত হয়। সুস্থায়ী পর্যটন অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত সুরক্ষাকে উৎসাহিত করে সরাসরি সুস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে অবদান রাখে।
এসডিজি ৮.৯ সুস্থায়ী পর্যটনের ওপর জোর দেয় যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও পণ্যকে তুলে ধরা যায়। একইসঙ্গে,
এসডিজি ১২.বি সুস্থায়ী পর্যটনের প্রভাব পরিমাপের জন্য সরঞ্জাম তৈরির ওপর জোর দেয় এবং
এসডিজি ১৪.৭ পর্যটনসহ সামুদ্রিক সম্পদের সুস্থায়ী ব্যবহারে স্মল আইল্যান্ড ডেভেলপিং স্টেটস এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলির অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে।
ভবিষ্যতের পথচলা
ভারতের পর্যটনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ভ্রমণার্থীদের আগমন বৃদ্ধির গণ্ডি ছাড়িয়ে একটি স্থিতিস্থাপক, উচ্চ-মূল্যের পর্যটন বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলার দিকে বিস্তৃত। গন্তব্য পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ, উন্নত সংযোগ, ডিজিটাল রূপান্তর, ভ্রমণ সহজীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গন্তব্য ব্যবস্থাপনা বিশ্বব্যাপী পর্যটন গন্তব্য হিসাবে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে শক্তিশালী করছে এবং একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করছে। পরিবেশগত দায়িত্ব এবং সামাজিক অংশগ্রহণের পাশাপাশি, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভারসাম্য বজায় রেখে, সরকার এমন একটি পর্যটন ক্ষেত্র তৈরি করছে যেটি ভ্রমণপীপাসুদের উচ্চ ব্যয়কে নিয়ন্ত্রণ করে, মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং স্থানীয় সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা প্রদান করে।
তথ্যসূত্র
Press Information Bureau
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2277629®=48&lang=2&utm
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2226966&utm®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2240649®=3&lang=1&utm
https://www.pib.gov.in/FactsheetDetails.aspx?Id=149085®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2232011®=48&lang=2
Ministry of Tourism
https://www.tourism.gov.in/
https://data.tourism.gov.in/mrd/Uploads/annual-reports/Ministry%20of%20Tourism%20Annual%20Report_2025-26_english_0.pdf
https://nidhi.tourism.gov.in/home/
https://www.tourism.gov.in/static/uploads/2025/07/a7720ca5f98221c4be071b932d2186e4.pdf
https://master-tourism.digifootprint.gov.in/static/uploads/2025/06/21e6726f1430d5deb423df9514ac5c47.pdf
https://master-tourism.digifootprint.gov.in/static/uploads/2025/06/8ac294b0518dd85d090b65906f8fd498.pdf
https://master-tourism.digifootprint.gov.in/static/uploads/2026/02/cab327af634c9575e187fb271602ac88.pdf
NITI Aayog
https://niti.gov.in/sites/default/files/2026-07/Unlocking-Growth-in-Tourism-and-Hospitality-Sector.pdf
Photos
https://www.incredibleindia.gov.in/en
Others
https://whc.unesco.org/en/statesparties/in
https://static.investindia.gov.in/s3fs-public/2022-10/Draft%20Tourism%20Policy%20ver%203%20Nov%2021%20updated.pdf?utm
https://newsonair.gov.in/pm-modi-launches-next-phase-of-viksit-udan-to-give-fillip-to-air-travel-in-tier-2-and-tier-3-cities/
https://www.startupindia.gov.in/content/sih/en/bloglist/blogs/TourismSector.html?utm
https://sdgs.un.org/topics/sustainable-tourism
India as a Tourism Hub
SSS/PK.....
(Explainer ID: 159394)
आगंतुक पटल : 5
Provide suggestions / comments