• Sitemap
  • Advance Search
Social Welfare

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বাল পুরস্কার

ভারতের অসাধারণ শিশুদের সম্মান প্রদান

Posted On: 23 JUN 2026 12:44PM

২৩ জুন, ২০২৬

 

মূল বিষয়সমূহ

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বাল পুরস্কার (PMRBP) হল দেশের ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অসাধারণ শিশুদের জন্য ভারতের সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মান। এই পুরস্কার শিশুদের সাহসিকতা, অধ্যবসায়, সৃজনশীলতা এবং অদম্য মানসিকতাকে স্বীকৃতি দেয়। প্রতি বছর রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতের রাষ্ট্রপতি এই পুরস্কার প্রদান করেন। সাহসিকতা, সমাজসেবা, পরিবেশ, ক্রীড়া, শিল্প ও সংস্কৃতি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি—এই ছয়টি ক্ষেত্রে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়। বীর বাল দিবস (২৬ ডিসেম্বর)-এ এই সম্মান প্রদান করে সরকার আজকের প্রজন্মের কৃতিত্বকে ইতিহাসের বীরত্বগাথার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

ভারতের অসাধারণ শিশুরা

ভারত সাহস, জ্ঞান ও আত্মত্যাগের এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের দেশ। ক্ষুদিরাম বসুর মতো তরুণ স্বাধীনতা সংগ্রামী থেকে শুরু করে অল্প বয়সেই বেদে পারদর্শী আদি শঙ্করাচার্য—অসাধারণ প্রতিভা ও দৃঢ়তার বহু উদাহরণ ভারতের ইতিহাসে ছড়িয়ে রয়েছে।

এই ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অসাধারণ বালক-বালিকাদের প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বাল পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব অর্জনকারী শিশুদের স্বীকৃতি দেওয়াই এই পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য। জাতীয় স্তরে তাদের সাফল্যকে তুলে ধরে অন্য শিশুদেরও অনুপ্রাণিত করা হয়।

প্রতি বছর ২৬ ডিসেম্বর পালিত বীর বাল দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতি এই পুরস্কার প্রদান করেন। একটি পদক, প্রশংসাপত্র এবং সনদ নিয়ে গঠিত এই সম্মান ভারতের তরুণ পরিবর্তনসাধকদের সাহস, সৃজনশীলতা ও অদম্য মনোবলের স্বীকৃতি।

২০১৯ সালে চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০৩ জন শিশু এই সম্মানে ভূষিত হয়েছে।

বীর বাল দিবসে পুরস্কার প্রদান

প্রতি বছর ২৬ ডিসেম্বর বীর বাল দিবস পালিত হয়। এই দিনটি শিখদের দশম গুরু গুরু গোবিন্দ সিংয়ের দুই পুত্র সাহিবজাদা জোরাওয়ার সিং ও সাহিবজাদা ফতেহ সিং-এর আত্মত্যাগকে স্মরণ করে।

মাত্র ৯ ও ৭ বছর বয়সে তাঁরা ধর্মত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়ে ১৭০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শহিদ হন। তাঁদের সাহস, নৈতিক দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগ আজও দেশের শিশুদের অনুপ্রেরণা জোগায়।

বীর বাল দিবসে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বাল পুরস্কার প্রদান করে দেশের বর্তমান প্রজন্মের প্রতিভা ও সাফল্যকে সেই ঐতিহাসিক বীরত্বের উত্তরাধিকার হিসাবে তুলে ধরা হয়।

পুরস্কারের বিভাগ

প্রতি বছর প্রায় ২৫টি পুরস্কার প্রদান করা হয় নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে—

সাহসিকতা

নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে অন্যের প্রাণ রক্ষা, দুর্যোগ বা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে অসাধারণ সাহসিকতা এবং উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেওয়া শিশুদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

সমাজসেবা

নারী, শিশু ও সমাজের কল্যাণে নেতৃত্ব, সচেতনতা এবং জনসংযোগ তৈরিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

পরিবেশ

পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক অবদানের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।

ক্রীড়া

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ধারাবাহিক ক্রীড়া সাফল্যের জন্য সম্মানিত করা হয়।

শিল্প ও সংস্কৃতি

সংগীত, নৃত্য, চিত্রকলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য এই সম্মান দেওয়া হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

সমাজের উপকারে আসে এমন উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য শিশুদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

অনুপ্রেরণাদায়ী পুরস্কারপ্রাপ্তরা

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বহু শিশু তাঁদের সাহস, সৃজনশীলতা ও মানবিকতার জন্য এই পুরস্কার পেয়েছে।

২০২৫ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগে মহারাষ্ট্রের অরনব অনুপ্রিয়া মহর্ষি হাতের পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পুনর্বাসন ব্যবস্থা তৈরি করে সম্মানিত হন।

২০২৪ সালে সাহসিকতার জন্য করিনা থাপা আগুন লাগা একটি স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার সরিয়ে ৩৬ জনের প্রাণ বাঁচানোর জন্য পুরস্কৃত হন।

একই বছর আদিত্য বিজয় ব্রাহ্মণে নিজের জীবন উৎসর্গ করে ডুবে যাওয়া আত্মীয়দের বাঁচানোর চেষ্টা করায় মরণোত্তর সম্মান পান।

অনুষ্কা পাঠক, আরমান উভরানি, হেতভি খিমসুরিয়া, চারভি এ, আর. সূর্য প্রসাদ, আদিত্য প্রতাপ সিং চৌহান, অনৌশ্কা জলি এবং অবনীশ তিওয়ারির মতো শিশুরাও তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য এই পুরস্কার অর্জন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বাল পুরস্কার ২০২৬

যোগ্যতা

আবেদনকারীকে অবশ্যই—

- ভারতের নাগরিক ও বাসিন্দা হতে হবে।
- ২০২৬-এর ৩১ জুলাই তারিখে বয়স ৫ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- পূর্বে এই পুরস্কারপ্রাপ্ত হওয়া যাবে না।
- মনোনীত কৃতিত্ব বা ঘটনা ৩১ জুলাই ২০২৬-এর শেষ তারিখের পূর্ববর্তী দুই বছরের মধ্যে সংঘটিত হতে হবে।

বিশেষ ক্ষেত্রে মরণোত্তর পুরস্কারও প্রদান করা যেতে পারে।

মনোনয়ন

যে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনও শিশুকে মনোনীত করতে পারে। শিশুরাও স্ব-মনোনয়নের মাধ্যমে আবেদন করতে পারে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল, সাংসদ, জেলা শাসক, রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠন, নবোদয় বিদ্যালয় সমিতি-সহ বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তর থেকেও মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়।

আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, সাম্প্রতিক ছবি, প্রাসঙ্গিক নথি এবং সর্বাধিক ১,০০০ শব্দের মধ্যে কৃতিত্বের বিবরণ জমা দিতে হবে।

সমস্ত আবেদন জমা দিতে হবে https://awards.gov.in পোর্টালে।

নির্বাচন কমিটি

মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী পুরস্কার কমিটি গঠন করেন এবং চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেন। মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের সচিবের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি মনোনয়ন যাচাই করে পুরস্কারপ্রাপকদের নির্বাচন করে।

ব্যয়ভার

পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশু এবং সর্বাধিক দুইজন অভিভাবকের যাতায়াত, থাকা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক বহন করে। বিশেষভাবে সক্ষম বালক-বালিকাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী বিজনেস ক্লাস ভ্রমণের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।

জাতির ভবিষ্যৎকে সম্মান

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বাল পুরস্কার কেবল একটি পদক বা সনদ নয়; এটি দেশের বালক ও তরুণ প্রজন্মের সাহস, সৃজনশীলতা, মানবিকতা ও উদ্ভাবনী শক্তির স্বীকৃতি। বীর বাল দিবসে এই সম্মান প্রদানের মাধ্যমে সরকার আজকের কৃতী বালকদের ইতিহাসের বীর সন্তানদের উত্তরাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

আপনার পরিচিত কোনও শিশু যদি অসাধারণ সাহসিকতা, বিজ্ঞান, শিল্প, সমাজসেবা বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করে থাকে, তবে তাকে জাতীয় স্বীকৃতির জন্য মনোনীত করুন। আর যদি সেই বালক তুমি হও, তাহলে আজই আবেদন করো।

 

তথ্যসূত্র

 

Press Information Bureau: 

Others:

Click here for pdf file

 

SSS/PK...

(Explainer ID: 159013) आगंतुक पटल : 9
Provide suggestions / comments
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Gujarati , Kannada