• Sitemap
  • Advance Search
Farmer's Welfare

পিএম-কিষাণের ২৩তম কিস্তি

৯.৪৪ কোটি কৃষকের কাছে সরাসরি হস্তান্তর, ₹১৮,৮৮০ কোটিরও বেশি টাকা

Posted On: 20 JUN 2026 6:38PM

নয়াদিল্লি, ২০ জুন, ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (পিএম-কিষাণ) প্রকল্পের ২৩তম কিস্তি হিসেবে ₹১৮,৮৮০ কোটিরও বেশি অর্থ মুক্ত করেছেন। ২০২৬ সালের ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে এই অর্থমুক্তির ঘোষণা করা হয়। এই কিস্তির অধীনে ৯.৪৪ কোটিরও বেশি কৃষক আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২.১৮ কোটি মহিলা কৃষক। এই অনুষ্ঠানে ১ কোটিরও বেশি কৃষক ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। ২০১৯ সালে প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে মোট ₹৪.৪৬ লক্ষ কোটিরও বেশি অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে পিএম-কিষাণ বিশ্বের বৃহত্তম প্রত্যক্ষ হস্তান্তর (ডিবিটি) উদ্যোগগুলির অন্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দিনটি ‘পিএম কিষাণ উৎসব দিবস’ হিসাবেও পালিত হয়।

পিএম-কিষাণ: কৃষকদের আয় সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করা

প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (পিএম-কিষাণ)-এর ২৩তম কিস্তি ২০২৬ সালের ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গের হুগলির তারকেশ্বরে বিতরণ করা হয়। ২.১৮ কোটিরও বেশি মহিলা-সহ প্রায় ৯.৪৪ কোটি যোগ্য কৃষক প্রায় ₹১৮,৮৮০ কোটি টাকার প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) বা সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অর্থ তাঁদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। এর ফলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা দূর হয়েছে। ‘অন্নদাতা সম্মান’ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্পকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গে কৃষকদের ক্ষমতায়নে নতুন কৃষি উদ্যোগ

পিএম-কিষাণের ২৩তম কিস্তি বিতরণের পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উদ্যোগ চালু করা হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY) এবং পুনর্গঠিত আবহাওয়া-ভিত্তিক শস্য বিমা প্রকল্প (RWBCIS): এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কীটপতঙ্গের আক্রমণ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার বিরুদ্ধে ফসল বিমা সুরক্ষা দেওয়া হবে। প্রায় ৩০ লক্ষ হেক্টর জমিতে ১.১০ কোটি কৃষককে ₹২৮,১৪০ কোটি টাকার বিমা সুরক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল এগ্রিকালচার মিশন: অ্যাগ্রিস্ট্যাকের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে ঋণ, বিমা, ডিবিটি এবং সরকারি ক্রয় পরিষেবায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হবে।

ন্যাশনাল মিশন অন ন্যাচারাল ফার্মিং: ক্লাস্টারভিত্তিক গ্রহণ এবং কৃষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুস্থায়ী ও রাসায়নিকমুক্ত কৃষিকে উৎসাহিত করা হবে। ৩৪৬টি প্রাকৃতিক কৃষি ক্লাস্টারের আওতায় ১৭,৩০০ হেক্টর জমি এবং ৪৩,২৫০ জন কৃষক উপকৃত হবেন।

পিএম ধন-ধান্য কৃষি যোজনা: পশ্চিমবঙ্গের চারটি জেলায় এই প্রকল্প শুরু হয়েছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বহুমুখীকরণ, পরিকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং সেচ ও প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সুযোগ সম্প্রসারণই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।

পিএম-কিষাণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রত্যক্ষ আয় সহায়তা

পিএম-কিষাণ একটি কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত প্রকল্প। এটি ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি চালু করা হয়। দেশের সমস্ত চাষযোগ্য জমির মালিক কৃষক পরিবারকে নিশ্চিত আয় সহায়তা প্রদানই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

এই প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি যোগ্য কৃষক পরিবার বছরে ₹৬,০০০ আর্থিক সহায়তা পায়। এই অর্থ ₹২,০০০ করে তিনটি সমান কিস্তিতে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) ব্যবস্থার মাধ্যমে আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়।

এ পর্যন্ত ২৩টি কিস্তির মাধ্যমে দেশের যোগ্য কৃষক পরিবারগুলির মধ্যে মোট ₹৪.৪৬ লক্ষ কোটিরও বেশি অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। পিএম-কিষাণ পোর্টালে জমির নথি সংযুক্ত করার পর কৃষকরা এই প্রকল্পের সুবিধা পান। একই সঙ্গে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আধারের সঙ্গে যুক্ত করতে এবং ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করতে হয়।

কৃষকদের আয় সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সরকারের অব্যাহত প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসাবে কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭-এ পিএম-কিষাণ প্রকল্পের জন্য ₹৬০,০০০ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে।

কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করাই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। এর ফলে ফসলের স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা উন্নত হয়। প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তা কৃষকদের অনানুষ্ঠানিক ঋণের উপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করে এবং কৃষিকাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়।

পিএম-কিষাণ বিশ্বের বৃহত্তম প্রত্যক্ষ হস্তান্তর (ডিবিটি) উদ্যোগগুলির অন্যতম। কৃষকদের কাছে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার পরিচায়ক। প্রকল্পের উপভোক্তাদের মধ্যে ২৩ শতাংশেরও বেশি মহিলা, যা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তিমূলক বিস্তারের দিকটিকে তুলে ধরে।

PM-KISAN-এর প্রভাবে উত্তরপ্রদেশে কৃষি আয় বৃদ্ধি: একটি সমীক্ষা

কৃষি অর্থনীতি গবেষণা কেন্দ্র, এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়, ২০২২ সালে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের পৃষ্ঠপোষকতায় এই সমীক্ষা উত্তরপ্রদেশে PM-KISAN-এর প্রভাব নিয়ে সম্পন্ন হয়।

সমীক্ষার প্রধান পর্যবেক্ষণগুলি নিম্নরূপ:

* অধিকাংশ ভোক্তাই ছিলেন দুই হেক্টরের কম জমির মালিক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক।
* ভোক্তা কৃষকেরা PM-KISAN-এর আওতায় নিয়মিতভাবে বছরে ৬,০০০ টাকা করে পেয়েছেন।
* কৃষি ব্যয়ের প্রধান ক্ষেত্র ছিল চাষের জমি প্রস্তুত করা, সার এবং বীজ।
* ভোক্তা কৃষকদের জমিতে ধানের উৎপাদন, ভোক্তা বহির্ভূত কৃষকদের তুলনায় ৩.০৮ শতাংশ বেশি ছিল।
* ভোক্তা কৃষকদের জমিতে গমের উৎপাদন, ভোক্তা বহির্ভূত কৃষকদের তুলনায় ১.৯৩ শতাংশ বেশি ছিল।
* ভোক্তা পরিবারগুলির নিট কৃষি আয় ভোক্তা বহির্ভূত পরিবারগুলির তুলনায় বেশি ছিল।
* এর ফলে, পরিবারের কৃষি আয়ে ৯.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে।
* PM-KISAN কৃষকদের হাতে নগদ অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধি করেছে এবং কৃষি উপকরণ কেনায় সহায়তা করেছে। এর ফলে, কৃষকদের ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কৃষি উৎপাদন আরও উৎসাহিত হয়েছে।

PM-KISAN তহবিল স্থানান্তরের প্রক্রিয়া

এই প্রক্রিয়া শুরু হয় PM-KISAN পোর্টাল, মোবাইল অ্যাপ অথবা কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC)-এর মাধ্যমে কৃষকের নাম নথিভুক্তির মাধ্যমে। রাজ্য সরকারগুলি ভোক্তাদের যোগ্যতা যাচাই করে এবং তাঁদের তথ্য পোর্টালে আপলোড করে। এরপর ব্যবস্থা অনুযায়ী আধার এবং ব্যাঙ্ক হিসাবের তথ্য যাচাই করা হয় এবং অযোগ্য আবেদনকারীদের বাদ দেওয়া হয়।

রাজ্যের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তথ্যগুলি পাবলিক ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (PFMS)-এ হিসাব যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। যোগ্য ভোক্তাদের তথ্যের ভিত্তিতে তহবিল স্থানান্তরের অনুরোধ এবং অর্থপ্রদানের নির্দেশ তৈরি করা হয়। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতর অনুমোদনপত্র জারি করে। এরপর স্পনসর ব্যাঙ্ক এবং ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)-এর মাধ্যমে অর্থপ্রদান সম্পন্ন হয়। সবশেষে অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক হিসাবে জমা হয়। এর ফলে, দ্রুত, স্বচ্ছ এবং কার্যকর উপায়ে সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

সোবিধাভোগী চিহ্নিতকরণ, লক্ষ্যভিত্তিক নির্বাচন এবং তথ্যভান্ডার পরিচালনা

যোগ্য কৃষক পরিবার চিহ্নিত করা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ উপভোক্তা তথ্যভান্ডার তৈরি করার দায়িত্ব রাজ্য সরকারগুলির। এই তথ্যভান্ডারে নাম, বয়স, শ্রেণী, আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক হিসাবের তথ্য এবং মোবাইল নম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। দ্বৈত অর্থপ্রদান রোধে রাজ্যগুলি এই তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করে।

সুবিধা সরাসরি হস্তান্তর (DBT) নির্বিঘ্ন করতে এই তথ্যগুলি নিয়মিত হালনাগাদ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং আধার ও ব্যাঙ্ক হিসাবের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গ্রামস্তরে যোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হয়। এর ফলে, ভুলবশত বাদ পড়া কৃষকেরা নির্ধারিত অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারেন।

এ ছাড়া, অযোগ্য ব্যক্তিদের কাছে বিতরণ করা অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর মধ্যে আয়করদাতা, সরকারি কর্মচারী, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মী এবং সাংবিধানিক পদাধিকারীরা অন্তর্ভুক্ত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে অযোগ্য ভোক্তাদের কাছ থেকে মোট ৪১৬.৭৫ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

PM-KISAN-এর আওতায় অন্তর্ভুক্তি ও প্রবেশাধিকার আরও মজবুতিকরণ

যোগ্য কৃষকদের কাছে PM-KISAN-এর সুবিধা সহজলভ্য করতে কেন্দ্র সরকার একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপগুলির লক্ষ্য হল নথিভুক্তিকরণ, যাচাই এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও ক্ষেত্রস্তরে আরও কার্যকর করা।

কৃষকদের নথিভুক্তিকরণ এবং e-KYC সম্পূর্ণ করতে ৫ লক্ষেরও বেশি কমন সার্ভিস সেন্টারকে যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ স্যাচুরেশন অভিযানের মাধ্যমে প্রকল্পের আওতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

‘বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা’র সময় PM-KISAN-এর আওতায় ১ কোটিরও বেশি যোগ্য কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের ১০০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির অধীনে ২৫ লক্ষেরও বেশি কৃষককে যুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে মুলতুবি স্ব-নিবন্ধন সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি করে আরও ৩০ লক্ষের বেশি কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

বহুস্তরীয় পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা

PM-KISAN-এর বাস্তবায়ন তদারকি করা হয় জাতীয়, রাজ্য এবং জেলা স্তরে পরিচালিত একটি বহুস্তরীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে। জাতীয় স্তরে এই পর্যালোচনা ব্যবস্থার নেতৃত্ব দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। রাজ্য ও জেলা পর্যায়ের মনিটরিং কমিটিগুলি নিজ নিজ এলাকায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন তদারকি করে।

কৃষকেরা PM-KISAN পোর্টাল এবং সেন্ট্রালাইজড পাবলিক গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম (CPGRAMS)-এর মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারেন। এর ফলে অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে PM-KISAN পোর্টালে মোট ২৪,৬০৫টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছিল।

PM-KISAN-এর প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা প্রদান ব্যবস্থা

PM-KISAN একটি কৃষক-কেন্দ্রিক ডিজিটাল পরিকাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা সুবিধা প্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং পরিষেবা প্রদানে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে। আধার-ভিত্তিক প্রমাণীকরণ এই ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীর পরিচয় নির্ধারণ এবং অর্থপ্রদান যাচাই নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়। কৃষকেরা নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে e-KYC সম্পূর্ণ করতে পারেন—

* OTP-ভিত্তিক প্রমাণীকরণ
* বায়োমেট্রিক প্রমাণীকরণ
* মুখমণ্ডল-ভিত্তিক প্রমাণীকরণ

PM-KISAN ওয়েব পোর্টাল উপভোক্তা নথিভুক্তিকরণ, যাচাই এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে। এটি কৃষকদের একটি একক জাতীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ করে এবং পাবলিক ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (PFMS)-এর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। একই সঙ্গে এটি দেশব্যাপী আর্থিক লেনদেনের রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেয়। কর্মসূচির বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পোর্টালে অঞ্চলভিত্তিক ভোক্তা কৃষকদের তালিকাও উপলব্ধ রয়েছে।

এই পোর্টালের পরিপূরক হিসাবে ২০২০ সালে চালু করা হয় PM-KISAN মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য এই অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিষেবা সহজলভ্য হয়েছে। এর সাহায্যে কৃষকেরা স্ব-নিবন্ধন করতে পারেন, সুবিধা প্রাপ্তির অবস্থা অনুসরণ করতে পারেন এবং e-KYC সম্পূর্ণ করতে পারেন।

২০২৩ সালে অ্যাপটিতে মুখমণ্ডল-ভিত্তিক প্রমাণীকরণ সুবিধা যুক্ত করা হয়। এর ফলে, কৃষকেরা শুধুমাত্র মুখ স্ক্যান করেই e-KYC সম্পূর্ণ করতে পারেন। OTP অথবা আঙুলের ছাপভিত্তিক যাচাইয়ের প্রয়োজন থাকে না। এই ব্যবস্থা প্রকল্পটির প্রাপ্যতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহায়ক ব্যবস্থা: কিষাণ-eমিত্র

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সরকার PM-KISAN-এর ডিজিটাল পরিকাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সমৃদ্ধ চ্যাটবট ‘কিষাণ-eমিত্র’ চালু করে। EkStep Foundation এবং BHASHINI-এর প্রযুক্তিগত সহায়তায় এটি গড়ে তোলা হয়েছে। এই চ্যাটবট কৃষকদের প্রকল্পের অর্থপ্রদান, নথিভুক্তিকরণ এবং যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্য একাধিক ভারতীয় ভাষায় তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ করে।

এই প্ল্যাটফর্ম ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা প্রদান করে এবং ১১টি প্রধান ভাষায় উপলব্ধ - হিন্দি, ইংরেজি, তামিল, বাংলা, ওড়িয়া, মালয়ালম, গুজরাতি, পাঞ্জাবি, তেলুগু, মরাঠি এবং কন্নড়। এর ফলে, বিভিন্ন ভাষাভাষী কৃষকদের জন্য পরিষেবাটি আরও সহজলভ্য হয়েছে।

ভয়েস এবং টেক্সট-ভিত্তিক প্রশ্নের মাধ্যমে কৃষকেরা তাঁদের আবেদনের অবস্থা জানতে পারেন, অর্থপ্রদানের অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারেন এবং প্রকল্প-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

কৃষক-কেন্দ্রিক, কৃষি উন্নয়নের ভবিষ্যৎ

প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN) শুধুমাত্র একটি আয়-সহায়তা প্রকল্প নয়। এটি কৃষক-কেন্দ্রিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কৃষি উন্নয়নের প্রতি সরকারের বৃহত্তর নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।

এই প্রকল্প সুবিধাভিত্তিক সহায়তা থেকে ক্ষমতায়নভিত্তিক সহায়তার দিকে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছে। এর ফলে, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং কৃষক সমাজের পারস্পরিক সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞা তৈরি হয়েছে।

PM-KISAN শুধু আর্থিক সহায়তাই দেয়নি। এটি কৃষকদের নতুন উদ্যোগ গ্রহণের আত্মবিশ্বাসও জুগিয়েছে। উন্নত মানের বীজে বিনিয়োগ, নতুন ফসলের চাষ এবং কৃষিকাজের পদ্ধতিগত উন্নয়ন— নানা ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে।

ভারতের গ্রামীণ অঞ্চলের বহু মানুষের কাছে এই প্রকল্প এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এটি শুধু সহায়তাই দেয়নি, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশা এবং নিরাপত্তাবোধও সৃষ্টি করেছে।

তথ্যসূত্র 

 

Ministry of Agriculture & Farmers Welfare

https://www.nic.gov.in/project/pm-kisan/

https://sansad.in/getFile/annex/270/AU3226_xbrVz9.pdf?source=pqars

https://www.allduniv.ac.in/upload/file_collection/PM_Kisan_PDF_Final.pdf

 

PIB Backgrounders

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2242295&reg=48&lang=2

Click here to see pdf 

 

 

***
SSS/SS.....

(Explainer ID: 158975) आगंतुक पटल : 6
Provide suggestions / comments
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , हिन्दी