Social Welfare
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬
বার্ষিক উদ্যাপন থেকে দৈনন্দিন সুস্থতার আন্দোলন
Posted On:
20 JUN 2026 12:45PM
নয়াদিল্লি, ২০ জুন ২০২৬
২০১৫ সালে প্রথম উদ্যাপনের পর আন্তর্জাতিক যোগ দিবস রাষ্ট্রসংঘ ঘোষিত একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জনঅংশগ্রহণমূলক সুস্থতা আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। যোগচর্চার মাধ্যমে এটি বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের কোটি কোটি মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করেছে।
২০২৬ সালের ভাবনা ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’, যা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও সক্রিয় জীবনযাত্রাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি, দেশব্যাপী অংশগ্রহণ ও সারা বছরের কর্মসূচির মাধ্যমে এই আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
সভ্যতার ঐতিহ্য হিসাবে যোগ
যোগ বিশ্বের প্রাচীনতম জ্ঞান-ঐতিহ্যগুলির অন্যতম, যার শিকড় সিন্ধু-সরস্বতী সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২৭০০)-তে নিহিত। সংস্কৃত শব্দ ‘যোগ’-এর অর্থ, সংযোগ বা ঐক্য, যা শরীর ও চেতনার মিলনকে নির্দেশ করে।
বেদ, উপনিষদ, বৌদ্ধ ও জৈন ঐতিহ্য, মহাভারত এবং রামায়ণে যোগচর্চার উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে মহর্ষি পতঞ্জলি তাঁর যোগসূত্র-এর মাধ্যমে যোগের দার্শনিক ও ব্যবহারিক ভিত্তিকে সুসংহত করেন। যুগে যুগে ঋষি ও যোগাচার্যদের প্রয়াসে এই জ্ঞানভাণ্ডার সংরক্ষিত ও সমৃদ্ধ হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে বিস্তার লাভ করেছে।
ভারত ও যোগ : বিশ্বকল্যাণের এক ঐতিহ্য
ভারত ও যোগের সম্পর্ক হাজার বছরের পুরোনো। ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যে নিহিত যোগ আজ আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক অনুশীলনের গণ্ডি পেরিয়ে শারীরিক, মানসিক ও আবেগগত সুস্থতার এক বৈশ্বিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
যোগের সর্বজনীন আবেদন ও উপকারিতা স্বীকার করে ২০১৪ সালে রাষ্ট্রসংঘ ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসাবে ঘোষণা করে। রাষ্ট্রসংঘের ৬৯তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উত্থাপিত প্রস্তাব ১৭৫টি সদস্য দেশের সমর্থন লাভ করে। প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয় ২১ জুন ২০১৫-তে। ২০১৬ সালে যোগকে ইউনেস্কোর মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এর মাধ্যমে বিশ্বকল্যাণে ভারতের অবদান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় এবং যোগ বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য, সম্প্রীতি ও সুস্থ জীবনযাত্রার এক সেতুবন্ধনে পরিণত হয়।
২০১৫ সালে নয়াদিল্লির রাজপথে প্রথম জাতীয় উদ্যাপনের পর চণ্ডীগড়, লখনউ, দেরাদুন, রাঁচি, মহীশূর, জব্বলপুর, শ্রীনগর ও বিশাখাপত্তনম-সহ বিভিন্ন শহরে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রধান অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে।
সাধারণ (কমন) যোগ প্রোটোকল : আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল ভিত্তি
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে বিশ্বব্যাপী সমন্বিতভাবে উদ্যাপনের জন্য ২০১৫ সালে আয়ুষ মন্ত্রক দেশের বিশিষ্ট যোগগুরু ও প্রতিষ্ঠানের পরামর্শে কমন যোগ প্রোটোকল (সিওয়াইপি) প্রণয়ন করে।
সিওয়াইপি ৪৫ মিনিটের একটি মানসম্মত যোগচর্চা পদ্ধতি, যা আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল কর্মসূচি হিসাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে একসঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়। এতে যোগাসন, কপালভাতি, প্রাণায়াম, ধ্যান ও বিশ্রাম পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২৬ সালের সংস্করণে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ১৫ মিনিটের প্রাণায়াম, যোগনিদ্রা, ধ্যান ও সৎসঙ্গও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
গত ১১ বছরে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস একটি বার্ষিক উদ্যাপন থেকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, সুস্থ জীবনযাপন ও মানসিক ভারসাম্যের জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশে পালিত হয়।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬ : এবারের ভাবনা (থিম)
২১ জুন পালিত হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-এর ১২তম সংস্করণ। এবারের জাতীয় মূল অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে কলকাতায়।
এ বছরের ভাবনা ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’, যা সব বয়সে সুস্থ, সক্রিয় ও উন্নত জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যার বার্ধক্য বৃদ্ধি এবং জীবনধারাজনিত রোগের প্রেক্ষাপটে শুধু আয়ু বৃদ্ধি নয়, বরং সুস্বাস্থ্য, জীবনমান ও সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টিকেই এবারের যোগ দিবসের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।
যোগের মাধ্যমে সুস্থ বার্ধক্যের ভিত্তি গড়ে তোলা
বর্তমানে সুস্থ বার্ধক্য বলতে সারা জীবন কর্মক্ষমতা, চলাফেরার সক্ষমতা, মানসিক সুস্থতা এবং সামাজিক অংশগ্রহণ বজায় রাখাকে বোঝায়।
এই ক্ষেত্রে যোগ একটি সমন্বিত অনুশীলন, যেখানে শারীরিক ব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ এবং মনোসংযোগের চর্চা একসঙ্গে হয়। তাড়াসন ও ত্রিকোণাসন দেহভঙ্গি ও নমনীয়তা উন্নত করতে সাহায্য করে। ভুজঙ্গাসন ও মকরাসন মেরুদণ্ডের সুস্থতা ও শরীরের প্রশান্তি বজায় রাখতে সহায়ক। অনুলোম-বিলোম ও ভ্রামরী প্রাণায়াম মানসিক শান্তি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সচেতনতা বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি, ধ্যান একাগ্রতা ও মানসিক সুস্থতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
ফলে, যোগ সুস্থ বার্ধক্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিককে একসঙ্গে শক্তিশালী করে।
২১ জুন ২০২৬-এর পথে প্রস্তুতি
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-কে সামনে রেখে দেশজুড়ে ধারাবাহিক কাউন্টডাউন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৩ মার্চ নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে ১০০ দিনের কাউন্টডাউনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এবারের উদ্যাপনের সূচনা হয়। এরপর মহারাষ্ট্রের লোনারে ৭৫ দিনের এবং হায়দ্রাবাদের কানহা শান্তি বনমে ৫০ দিনের কাউন্টডাউন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আইডিওয়াই ২০২৬-এর আগে ১৪ জুন আয়োজিত বিশেষ দেশব্যাপী সরাসরি যোগাভ্যাস কর্মসূচিতে ৪ লক্ষের বেশি মানুষ একযোগে অংশ নিয়ে গিনেস বিশ্বরেকর্ড গড়েন।
এবারের উদ্যাপনকে দেশের সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে। খাজুরাহো স্মারকগুচ্ছে আয়োজিত ২৫ দিনের কাউন্টডাউন কর্মসূচিতে যোগ ও ঐতিহ্যের অনন্য সমন্বয় দেখা যায়। পাশাপাশি, ‘১০০ দিন, ১০০ শহর, ১০০ সংস্থা’ অভিযান চালু করা হয়েছে, যার লক্ষ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যোগকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলা।
আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণের জন্য নতুন উদ্যোগ
যোগ ৩৬৫ : একদিনের উদ্যাপন থেকে প্রতিদিনের সুস্থতা
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-এ একদিনের উদ্যাপনের পরিবর্তে সারা বছর যোগচর্চার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘যোগ ৩৬৫’ উদ্যোগের মাধ্যমে যোগকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
জনসচেতনতা প্রচার, ডিজিটাল কর্মসূচি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সব বয়সের মানুষের কাছে যোগকে সহজলভ্য করে তোলার চেষ্টা চলছে। বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র ও সমাজজীবনে নিয়মিত যোগচর্চাকে উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
এই কর্মসূচি কমন যোগ প্রোটোকল, চিকিৎসামূলক যোগ কর্মসূচি এবং কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমানোর জন্য চালু ওয়াই-ব্রেক উদ্যোগের পরিপূরক হিসাবে কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬: নতুন উদ্যোগ, নতুন দিগন্ত
যোগকে আরও সহজলভ্য ও প্রয়োজনভিত্তিক করে তুলতে এবারের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে একাধিক নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে ‘এয়ার ট্রাভেলের জন্য যোগ’, যা দীর্ঘ যাত্রাপথে ভ্রমণকারীদের জন্য মোরারজি দেশাই জাতীয় যোগ প্রতিষ্ঠান (এমডিএনআইওয়াই) তৈরি করেছে। এটি আধুনিক জীবনযাত্রার সঙ্গে যোগের ব্যবহারিক প্রয়োগকে তুলে ধরে।
এছাড়া অসংক্রামক রোগ ও বিভিন্ন বয়সভিত্তিক গোষ্ঠীর জন্য ১০টি বিশেষ যোগ প্রোটোকল চালু করা হয়েছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি ও মানসিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি, শিশু, কিশোর-কিশোরী, প্রবীণ, নারী, গর্ভবতী মহিলা এবং নেশামুক্তি প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য পৃথক মডিউল তৈরি করা হয়েছে।
পাশাপাশি, মাইগভ প্ল্যাটফর্মে কুইজ, আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা, পোস্টার তৈরি ও স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
জনঅংশগ্রহণের সর্বজনীন আন্দোলন
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-কে সামনে রেখে সরকার ও সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণভিত্তিক উদ্যোগ গড়ে তোলা হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্পোরেট সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে সমাজের প্রতিটি স্তরে যোগের প্রসার ঘটে।
এই উদ্যোগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যোগ সঙ্গম পোর্টাল-এর মাধ্যমে দেশজুড়ে নিবন্ধন ও কর্মসূচির সমন্বয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি, যোগ পার্ক পোর্টাল নিয়মিত যোগচর্চার জন্য নির্দিষ্ট স্থান গড়ে তোলা ও সেগুলির তথ্য সংরক্ষণে সহায়তা করছে। এই প্রচেষ্টার লক্ষ্য হলো যোগকে সারা বছর মানুষের জীবনের অংশ করে তোলা।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস: এক দশকের বিস্তার, উদ্ভাবন ও জনঅংশগ্রহণ
অতিমারীর সময়ে যোগ: সুস্থতার ভরসা
কোভিড-১৯ অতিমারীর সময় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ভার্চুয়াল কর্মসূচি ও ঘরে বসে যোগচর্চার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছেছিল। ‘ঘরে যোগ, পরিবারের সঙ্গে যোগ’ (২০২০) এবং ‘সুস্থতার জন্য যোগ’ (২০২১) ভাবনা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে।
বিশ্বমঞ্চে যোগের যাত্রা
২১ জুন ২০১৫-তে প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়। নয়াদিল্লির রাজপথে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ৮৪টি দেশের প্রতিনিধিসহ ৩৫,৯৮৫ জন অংশ নেন। বৃহত্তম যোগাভ্যাস এবং সর্বাধিক দেশের অংশগ্রহণের জন্য দুটি গিনেস বিশ্বরেকর্ডও গড়ে ওঠে।
দেশজুড়ে বিস্তার
পরবর্তী বছরগুলিতে জাতীয় অনুষ্ঠান চণ্ডীগড়, লখনউ, দেরাদুন, রাঁচি, মহীশূর, জবলপুর, শ্রীনগর ও বিশাখাপত্তনম-সহ বিভিন্ন শহরে আয়োজিত হয়। বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, সেনাবাহিনী, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণে যোগ একটি সর্বজনীন জন-আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
২০২৫: এক দশকের মাইলফলক
‘এক পৃথিবী, এক স্বাস্থ্য-এর জন্য যোগ’ ভাবনায় পালিত আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৫ ছিল ১০ বছর পূর্তির বিশেষ সংস্করণ। দেশজুড়ে, ১৩ লক্ষের বেশি কর্মসূচিতে ২৬ কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নেন।
বিশাখাপত্তনমে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ৩ লক্ষের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দেন এবং বৃহত্তম যোগাভ্যাস ও একযোগে সর্বাধিক সূর্যনমস্কারের জন্য দুটি গিনেস বিশ্বরেকর্ড গড়া হয়।
এক দশকের এই যাত্রা আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে বার্ষিক উদ্যাপন থেকে স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও জনঅংশগ্রহণের এক বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে পরিণত করেছে।
বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস আজ একটি বিশ্বব্যাপী জন-আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালে রাষ্ট্রসংঘের সদর দপ্তর, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, সৌদি আরব-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক উৎসাহে যোগ দিবস পালিত হয়েছে।
এ বছর ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর)-এর সহযোগিতায় বিশ্বের ২১০টিরও বেশি ভারতীয় মিশন প্রায় ২,৫০০টি স্থানে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করছে।
এই বিশ্বব্যাপী অংশগ্রহণে কমন যোগ প্রোটোকল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রাষ্ট্রসংঘের ছয়টি সরকারি ভাষায় উপলব্ধ এই প্রোটোকল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে একই ধরনের যোগাভ্যাসে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬: একদিনের উদ্যাপন থেকে দৈনন্দিন অভ্যাস
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের ১২তম সংস্করণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শুধু ২১ জুনের উদ্যাপনে নয়, বরং সারা বছর নিয়মিত যোগচর্চার ওপর। আন্দোলনের সাফল্য এখন একদিনের অংশগ্রহণের সংখ্যায় নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যোগের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মূল্যায়িত হচ্ছে। যোগ ৩৬৫, কমন যোগ প্রোটোকলের বিস্তার এবং বিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র ও জনপরিসরে যোগের প্রসার এই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’ ভাবনাও নিয়মিত যোগচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-এর মূল বার্তা স্পষ্ট - যোগ যেন শুধু একটি দিন বা নির্দিষ্ট স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। যোগের প্রকৃত সুফল আসে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে, আর সেখানেই নিহিত রয়েছে এই আন্দোলনের স্থায়ী সাফল্য।
***********
তথ্যসূত্র
SSS/AS.........প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো
ভারত সরকার
*********
Explainer ID : 158961
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬
বার্ষিক উদ্যাপন থেকে দৈনন্দিন সুস্থতার আন্দোলন
নয়াদিল্লি, ২০ জুন ২০২৬
২০১৫ সালে প্রথম উদ্যাপনের পর আন্তর্জাতিক যোগ দিবস জাতিসংঘ ঘোষিত একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জনঅংশগ্রহণমূলক সুস্থতা আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। যোগচর্চার মাধ্যমে এটি বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের কোটি কোটি মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করেছে।
২০২৬ সালের ভাবনা ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’, যা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও সক্রিয় জীবনযাত্রাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশব্যাপী অংশগ্রহণ ও সারা বছরের কর্মসূচির মাধ্যমে এই আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
সভ্যতার ঐতিহ্য হিসেবে যোগ
যোগ বিশ্বের প্রাচীনতম জ্ঞান-ঐতিহ্যগুলির অন্যতম, যার শিকড় সিন্ধু-সরস্বতী সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২৭০০)-তে নিহিত। সংস্কৃত শব্দ ‘যোগ’-এর অর্থ হলো সংযোগ বা ঐক্য, যা শরীর ও চেতনার মিলনকে নির্দেশ করে।
বেদ, উপনিষদ, বৌদ্ধ ও জৈন ঐতিহ্য, মহাভারত এবং রামায়ণে যোগচর্চার উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে মহর্ষি পতঞ্জলি তাঁর যোগসূত্র-এর মাধ্যমে যোগের দার্শনিক ও ব্যবহারিক ভিত্তিকে সুসংহত করেন। যুগে যুগে ঋষি ও যোগাচার্যদের প্রয়াসে এই জ্ঞানভাণ্ডার সংরক্ষিত ও সমৃদ্ধ হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে বিস্তার লাভ করেছে।
ভারত ও যোগ : বিশ্বকল্যাণের এক ঐতিহ্য
ভারত ও যোগের সম্পর্ক হাজার বছরের পুরোনো। ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যে নিহিত যোগ আজ আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক অনুশীলনের গণ্ডি পেরিয়ে শারীরিক, মানসিক ও আবেগগত সুস্থতার এক বৈশ্বিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
যোগের সর্বজনীন আবেদন ও উপকারিতা স্বীকার করে ২০১৪ সালে রাষ্ট্রসংঘ ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। রাষ্ট্রসংঘের ৬৯তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উত্থাপিত প্রস্তাব ১৭৫টি সদস্য দেশের সমর্থন লাভ করে। প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয় ২১ জুন ২০১৫-তে। ২০১৬ সালে যোগকে ইউনেস্কোর মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এর মাধ্যমে বিশ্বকল্যাণে ভারতের অবদান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় এবং যোগ বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য, সম্প্রীতি ও সুস্থ জীবনযাত্রার এক সেতুবন্ধনে পরিণত হয়।
২০১৫ সালে নয়াদিল্লির রাজপথে প্রথম জাতীয় উদ্যাপনের পর চণ্ডীগড়, লখনউ, দেরাদুন, রাঁচি, মহীশূর, জব্বলপুর, শ্রীনগর ও বিশাখাপত্তনম-সহ বিভিন্ন শহরে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রধান অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে।
সাধারণ (কমন) যোগ প্রোটোকল : আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল ভিত্তি
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে বিশ্বব্যাপী সমন্বিতভাবে উদ্যাপনের জন্য ২০১৫ সালে আয়ুষ মন্ত্রক দেশের বিশিষ্ট যোগগুরু ও প্রতিষ্ঠানের পরামর্শে কমন যোগ প্রোটোকল (সিওয়াইপি) প্রণয়ন করে।
সিওয়াইপি হলো ৪৫ মিনিটের একটি মানসম্মত যোগচর্চা পদ্ধতি, যা আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল কর্মসূচি হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে একসঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়। এতে যোগাসন, কপালভাতি, প্রাণায়াম, ধ্যান ও বিশ্রাম পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২৬ সালের সংস্করণে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ১৫ মিনিটের প্রাণায়াম, যোগনিদ্রা, ধ্যান ও সৎসঙ্গও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
গত ১১ বছরে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস একটি বার্ষিক উদ্যাপন থেকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, সুস্থ জীবনযাপন ও মানসিক ভারসাম্যের জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশে পালিত হয়।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬ : এবারের ভাবনা (থিম)
২১ জুন পালিত হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-এর ১২তম সংস্করণ। এবারের জাতীয় মূল অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে কলকাতায়।
এ বছরের ভাবনা ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’, যা সব বয়সে সুস্থ, সক্রিয় ও উন্নত জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যার বার্ধক্য বৃদ্ধি এবং জীবনধারাজনিত রোগের প্রেক্ষাপটে শুধু আয়ু বৃদ্ধি নয়, বরং সুস্বাস্থ্য, জীবনমান ও সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টিকেই এবারের যোগ দিবসের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।
যোগের মাধ্যমে সুস্থ বার্ধক্যের ভিত্তি গড়ে তোলা
বর্তমানে সুস্থ বার্ধক্য বলতে সারা জীবন কর্মক্ষমতা, চলাফেরার সক্ষমতা, মানসিক সুস্থতা এবং সামাজিক অংশগ্রহণ বজায় রাখাকে বোঝায়।
এই ক্ষেত্রে যোগ একটি সমন্বিত অনুশীলন, যেখানে শারীরিক ব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ এবং মনোসংযোগের চর্চা একসঙ্গে হয়। তাড়াসন ও ত্রিকোণাসন দেহভঙ্গি ও নমনীয়তা উন্নত করতে সাহায্য করে। ভুজঙ্গাসন ও মকরাসন মেরুদণ্ডের সুস্থতা ও শরীরের প্রশান্তি বজায় রাখতে সহায়ক। অনুলোম-বিলোম ও ভ্রমরী প্রাণায়াম মানসিক শান্তি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সচেতনতা বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি ধ্যান একাগ্রতা ও মানসিক সুস্থতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
ফলে যোগ সুস্থ বার্ধক্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিককে একসঙ্গে শক্তিশালী করে।
২১ জুন ২০২৬-এর পথে প্রস্তুতি
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-কে সামনে রেখে দেশজুড়ে ধারাবাহিক কাউন্টডাউন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ১৩ মার্চ নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে ১০০ দিনের কাউন্টডাউনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এবারের উদ্যাপনের সূচনা হয়। এরপর মহারাষ্ট্রের লোনারে ৭৫ দিনের এবং হায়দ্রাবাদের কানহা শান্তি বনমে ৫০ দিনের কাউন্টডাউন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আইডিওয়াই ২০২৬-এর আগে ১৪ জুন আয়োজিত বিশেষ দেশব্যাপী সরাসরি যোগাভ্যাস কর্মসূচিতে ৪ লক্ষের বেশি মানুষ একযোগে অংশ নিয়ে গিনেস বিশ্বরেকর্ড গড়েন।
এবারের উদ্যাপনকে দেশের সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে। খাজুরাহো স্মারকগুচ্ছে আয়োজিত ২৫ দিনের কাউন্টডাউন কর্মসূচিতে যোগ ও ঐতিহ্যের অনন্য সমন্বয় দেখা যায়। পাশাপাশি ‘১০০ দিন, ১০০ শহর, ১০০ সংস্থা’ অভিযান চালু করা হয়েছে, যার লক্ষ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যোগকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলা।
আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণের জন্য নতুন উদ্যোগ
যোগ ৩৬৫ : একদিনের উদ্যাপন থেকে প্রতিদিনের সুস্থতা
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-এ একদিনের উদ্যাপনের পরিবর্তে সারা বছর যোগচর্চার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘যোগ ৩৬৫’ উদ্যোগের মাধ্যমে যোগকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
জনসচেতনতা প্রচার, ডিজিটাল কর্মসূচি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সব বয়সের মানুষের কাছে যোগকে সহজলভ্য করে তোলার চেষ্টা চলছে। বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র ও সমাজজীবনে নিয়মিত যোগচর্চাকে উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
এই কর্মসূচি কমন যোগ প্রোটোকল, চিকিৎসামূলক যোগ কর্মসূচি এবং কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমানোর জন্য চালু ওয়াই-ব্রেক উদ্যোগের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬: নতুন উদ্যোগ, নতুন দিগন্ত
যোগকে আরও সহজলভ্য ও প্রয়োজনভিত্তিক করে তুলতে এবারের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে একাধিক নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে ‘এয়ার ট্রাভেলের জন্য যোগ’, যা দীর্ঘ যাত্রাপথে ভ্রমণকারীদের জন্য মোরারজি দেশাই জাতীয় যোগ প্রতিষ্ঠান (এমডিএনআইওয়াই) তৈরি করেছে। এটি আধুনিক জীবনযাত্রার সঙ্গে যোগের ব্যবহারিক প্রয়োগকে তুলে ধরে।
এছাড়া অসংক্রামক রোগ ও বিভিন্ন বয়সভিত্তিক গোষ্ঠীর জন্য ১০টি বিশেষ যোগ প্রোটোকল চালু করা হয়েছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি ও মানসিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি শিশু, কিশোর-কিশোরী, প্রবীণ, নারী, গর্ভবতী মহিলা এবং নেশামুক্তি প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য পৃথক মডিউল তৈরি করা হয়েছে।
পাশাপাশি মাইগভ প্ল্যাটফর্মে কুইজ, আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা, পোস্টার তৈরি ও স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
জনঅংশগ্রহণের সর্বজনীন আন্দোলন
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-কে সামনে রেখে সরকার ও সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণভিত্তিক উদ্যোগ গড়ে তোলা হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্পোরেট সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে সমাজের প্রতিটি স্তরে যোগের প্রসার ঘটে।
এই উদ্যোগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যোগ সঙ্গম পোর্টাল-এর মাধ্যমে দেশজুড়ে নিবন্ধন ও কর্মসূচির সমন্বয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি যোগ পার্ক পোর্টাল নিয়মিত যোগচর্চার জন্য নির্দিষ্ট স্থান গড়ে তোলা ও সেগুলির তথ্য সংরক্ষণে সহায়তা করছে। এই প্রচেষ্টার লক্ষ্য হলো যোগকে সারা বছর মানুষের জীবনের অংশ করে তোলা।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস: এক দশকের বিস্তার, উদ্ভাবন ও জনঅংশগ্রহণ
অতিমারির সময়ে যোগ: সুস্থতার ভরসা
কোভিড-১৯ অতিমারির সময় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ভার্চুয়াল কর্মসূচি ও ঘরে বসে যোগচর্চার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছেছিল। ‘ঘরে যোগ, পরিবারের সঙ্গে যোগ’ (২০২০) এবং ‘সুস্থতার জন্য যোগ’ (২০২১) ভাবনা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে।
বিশ্বমঞ্চে যোগের যাত্রা
২১ জুন ২০১৫-তে প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়। নয়াদিল্লির রাজপথে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ৮৪টি দেশের প্রতিনিধিসহ ৩৫,৯৮৫ জন অংশ নেন। বৃহত্তম যোগাভ্যাস এবং সর্বাধিক দেশের অংশগ্রহণের জন্য দুটি গিনেস বিশ্বরেকর্ডও গড়ে ওঠে।
দেশজুড়ে বিস্তার
পরবর্তী বছরগুলিতে জাতীয় অনুষ্ঠান চণ্ডীগড়, লখনউ, দেরাদুন, রাঁচি, মহীশূর, জবলপুর, শ্রীনগর ও বিশাখাপত্তনম-সহ বিভিন্ন শহরে আয়োজিত হয়। বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, সেনাবাহিনী, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণে যোগ একটি সর্বজনীন জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
২০২৫: এক দশকের মাইলফলক
‘এক পৃথিবী, এক স্বাস্থ্য-এর জন্য যোগ’ ভাবনায় পালিত আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৫ ছিল দশ বছর পূর্তির বিশেষ সংস্করণ। দেশজুড়ে ১৩ লক্ষের বেশি কর্মসূচিতে ২৬ কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নেন।
বিশাখাপত্তনমে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ৩ লক্ষের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দেন এবং বৃহত্তম যোগাভ্যাস ও একযোগে সর্বাধিক সূর্যনমস্কারের জন্য দুটি গিনেস বিশ্বরেকর্ড গড়া হয়।
এক দশকের এই যাত্রা আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে বার্ষিক উদ্যাপন থেকে স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও জনঅংশগ্রহণের এক বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে পরিণত করেছে।
বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস আজ একটি বিশ্বব্যাপী জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালে রাষ্ট্রসংঘের সদর দপ্তর, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, সৌদি আরব-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক উৎসাহে যোগ দিবস পালিত হয়েছে।
এ বছর ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর)-এর সহযোগিতায় বিশ্বের ২১০টিরও বেশি ভারতীয় মিশন প্রায় ২,৫০০টি স্থানে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করছে।
এই বিশ্বব্যাপী অংশগ্রহণে কমন যোগ প্রোটোকল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রাষ্ট্রসংঘের ছয়টি সরকারি ভাষায় উপলব্ধ এই প্রোটোকল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে একই ধরনের যোগাভ্যাসে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬: একদিনের উদ্যাপন থেকে দৈনন্দিন অভ্যাস
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের ১২তম সংস্করণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শুধু ২১ জুনের উদ্যাপনে নয়, বরং সারা বছর নিয়মিত যোগচর্চার ওপর। আন্দোলনের সাফল্য এখন একদিনের অংশগ্রহণের সংখ্যায় নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যোগের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মূল্যায়িত হচ্ছে। যোগ ৩৬৫, কমন যোগ প্রোটোকলের বিস্তার এবং বিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র ও জনপরিসরে যোগের প্রসার এই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’ ভাবনাও নিয়মিত যোগচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-এর মূল বার্তা স্পষ্ট - যোগ যেন শুধু একটি দিন বা নির্দিষ্ট স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। যোগের প্রকৃত সুফল আসে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে, আর সেখানেই নিহিত রয়েছে এই আন্দোলনের স্থায়ী সাফল্য।
***********
তথ্যসূত্র
Press Information Bureau
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2272997®=3&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2265716®=3&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleaseDetail.aspx?PRID=2116869®=48&lang=2
https://archive.pib.gov.in/yogaday2018/backge.htm
https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=151900&ModuleId=3®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/FeaturesDeatils.aspx?id=154688&NoteId=154688&ModuleId=2®=48&lang=2
Ministry of AYUSH
https://yoga.ayush.gov.in/uploads/assets/cyp/CYP_Book_English_2026.pdf
https://yoga.ayush.gov.in/uploads/assets/IDY/IDY-Handbook-English-2026.pdf
https://yoga.ayush.gov.in/uploads/assets/IDY/IDY_2025_Report.pdf
https://yoga.ayush.gov.in/pm-gallery?type=image
https://yoga.ayush.gov.in/uploads/assets/IDY/IDY%202024%20Report.pdf
https://yoga.ayush.gov.in/CYP/un-languages
Others
https://www.un.org/en/observances/yoga-day
https://www.presidentofindia.gov.in/photo-gallery?field_field_select_year_target_id=319&page=13
Click here to see pdf
SSS/AS
(Explainer ID: 158969)
आगंतुक पटल : 12
Provide suggestions / comments