• Sitemap
  • Advance Search
Infrastructure

জীবনযাত্রার সহজীকরণ: ভারতের অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতির যাত্রা

১২ বছরের রূপান্তর: ভারতের জীবনযাত্রার সহজীকরণের গল্প

Posted On: 15 JUN 2026 4:05PM

নয়াদিল্লি, ১৫ জুন, ২০২৬ 

 

২০১৪ সাল থেকে ভারতের যাত্রা মর্যাদা, সুযোগ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতির দিকে একটি সুনির্দিষ্ট পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটায়। গত ১২ বছর উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি এবং সংস্কারের মাধ্যমে পরিচালিত শাসনের একটি উদ্দেশ্যমূলক রূপান্তর দ্বারা চিহ্নিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে নিরাপদ বাড়ি, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং জল জীবন মিশনের অধীনে নিরাপদ পানীয় জল দৈনন্দিন জীবনকে পুনর্রূপদান করেছে। স্বচ্ছ ভারত মিশনের মাধ্যমে দেশব্যাপী স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে, এবং সৌভাগ্য (SAUBHAGYA) যোজনার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ পরিবারে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। নতুন মহাসড়ক, টানেল, সেতু, মেট্রো নেটওয়ার্ক এবং আঞ্চলিক বিমান রুটের মাধ্যমে অভূতপূর্ব গতিতে পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটেছে।

প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নাগরিকদের ব্যাংকিং, ঋণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ক্ষমতায়ন করেছে। অটল মিশন ফর রিজুভেনেশন অ্যান্ড আরবান ট্রান্সফরমেশনের অধীনে নগর রূপান্তর হাজার হাজার শহরের পরিকাঠামো ও সেবাকে শক্তিশালী করেছে। ডিজিটাল সংস্কার এবং মাইগভ (MyGov)-এর মতো নাগরিক প্ল্যাটফর্মগুলি প্রশাসনে অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা এবং বিশ্বাসকে আরও গভীর করেছে। একত্রে, এই উদ্যোগগুলি স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা এবং সুযোগের একটি নতুন পরিবেশ তৈরি করেছে।

আবাসন এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধা 

একটি নিরাপদ, পাকা (স্থায়ী) বাড়ির প্রাপ্যতা একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনের ভিত্তি। ২০১৪ সালের আগে, ভারতের শহুরে এবং গ্রামীণ উভয় অঞ্চলেই সরকারি আবাসন বিতরণের পরিধি ও গতি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ছিল। শহরাঞ্চলের জন্য ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY) চালু করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে এটি PMAY-গ্রামীণ-এর অধীনে গ্রামীণ এলাকায় সম্প্রসারিত হয়, যা সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনের লক্ষ্য এবং বাস্তবায়নকে মৌলিকভাবে পুনর্নির্ধারিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা আরবান (PMAY-U)
২০১৫ সালে চালু হওয়া PMAY-U প্রতিটি যোগ্য শহুরে পরিবারকে পাকা বাড়ি প্রদান করে। এই প্রকল্পটি ভারতের সমস্ত শহরাঞ্চলের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণী (EWS), নিম্ন-আয়ের গোষ্ঠী (LIG) এবং মধ্যম-আয়ের গোষ্ঠী (MIG) বিভাগগুলিকে সেবা প্রদান করে।
২০২৪ সালে চালু হওয়া PMAY-U ২.০, যোগ্য পরিবারগুলিকে বেনিফিশিয়ারি-লেড কনস্ট্রাকশন (BLC) ভার্টিক্যালের অধীনে ২.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এই প্রকল্পে পরিবারের একজন নারী সদস্যকে মালিক বা সহ-মালিক হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এর সূচনা থেকে, PMAY-U-এর অধীনে ১.২৫ কোটিরও বেশি বাড়ি মঞ্জুর করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮ লাখেরও বেশি বাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ২০০৫-১৪ সালের মধ্যে, পুরোনো প্রকল্পগুলির অধীনে মাত্র ৮ লাখ শহুরে বাড়ির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা গ্রামীণ (PMAY-G) 
২০১৬ সালে চালু হওয়া PMAY-G, সমতল অঞ্চলের জন্য প্রতি বাড়িতে ১.২০ লাখ টাকা এবং পাহাড়ি ও দুর্গম অঞ্চলের জন্য প্রতি বাড়িতে ১.৩০ লাখ টাকা প্রদান করে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে, নির্মাণের জন্য মোট ৩.৯৮ কোটি বাড়ির লক্ষ্যমাত্রা নিবন্ধিত হয়েছিল। এর মধ্যে ৩.৯১ কোটি বাড়ি মঞ্জুর করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩.০৫ কোটি বাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। মঞ্জুরিকৃত বাড়িগুলির ৭৫ শতাংশ নারীর মালিকানাধীন অথবা যৌথ মালিকানাধীন। সমস্ত বাড়ি শৌচাগার, পানীয় জল এবং বিদ্যুৎ সংযোগের মতো সুযোগ-সুবিধার জন্য সরকারি কর্মসূচির নিয়মাবলি মেনে তৈরি।
অটল মিশন ফর রিজুভেনেশন অ্যান্ড আরবান ট্রান্সফরমেশন (AMRUT)
২০১৫ সালে চালু হওয়া অটল মিশন ফর রিজুভেনেশন অ্যান্ড আরবান ট্রান্সফরমেশন (AMRUT) আরও অনেক বড় পরিসরের শহুরে কেন্দ্রগুলিতে মৌলিক পরিষেবার ঘাটতিগুলো পূরণ করেছে। AMRUT-এর প্রথম পর্যায় ৫০০টি শহরকে কভার করেছিল, যেখানে জল সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন (সিয়্যারেজ), সবুজ স্থান এবং পরিবহনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালের অক্টোবরে, ২.৯৯ লাখ কোটি টাকার ব্যয়ে AMRUT ২.০-এর আওতা সমস্ত ৪,৮০০টি সংবিধিবদ্ধ (স্ট্যাটিউটরি) শহরে সম্প্রসারিত করা হয়। এই বরাদ্দ মূল মিশনের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ছিল। ২০১৫ সালের আগের JnNURM-এর অধীনে থাকা ৬২,৯৮৩ কোটি টাকার তুলনায়, AMRUT এবং AMRUT ২.০-এর অধীনে ২.৭৯ লাখ কোটি টাকার প্রকল্প মঞ্জুর করা হয়েছে।
সকলের জন্য মৌলিক পরিষেবার সর্বজনীন প্রাপ্যতা 
২০১৪ সালের আগে, বহু নাগরিকের মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক পরিষেবাগুলোর অভাব ছিল। গ্রামীণ নারীরা বিশেষ করে পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি, নিরাপদ পানীয় জল এবং স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতেন। দেশজুড়ে পদ্ধতিগতভাবে এবং বড় পরিসরে এই ঘাটতিগুলি পূরণের জন্য সুনির্দিষ্ট মিশনগুলো চালু করা হয়েছিল। এর ফলাফলগুলি রূপান্তরকারী প্রমাণিত হয়েছে, যা প্রতিটি অঞ্চলের কোটি কোটি সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছেছে। এই উদ্যোগগুলি স্বাধীন ভারতের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির একটির প্রতিনিধিত্ব করে। 
প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা (PMUY) 
২০১৬ সালের মে মাসে চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা (PMUY), পরিচ্ছন্ন এলপিজি (LPG) সংযোগের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে গ্রামীণ রান্নার পদ্ধতিতে রূপান্তর ঘটিয়েছে। এই প্রকল্পটি দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হয় এবং ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এর প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ৮ কোটি সংযোগ অর্জন করে। বাকি পরিবারগুলিকে আওতাভুক্ত করতে, ২০২১ সালের আগস্টে আরও ১ কোটি অতিরিক্ত সংযোগের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উজ্জ্বলা ২.০ চালু করা হয়। ২০২২ সালের জানুয়ারির মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়। সরকার পরবর্তীতে আরও ৬০ লাখ সংযোগ মঞ্জুর করে, যা ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ১.৬০ কোটিতে পৌঁছায়। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আরও ৭৫ লাখ সংযোগের কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর ২০২৫–২৬ অর্থ বছরে আরও ২৫ লাখ সংযোগের অনুমোদন দেওয়া হয়, যা এলপিজি প্রাপ্যতার পরিপূর্ণতা (স্যাচুরেশন) নিশ্চিত করে। ব্যাপক পরিসরে প্রাপ্যতা ও মর্যাদা এনে দিয়ে ১০.৫৭ কোটিরও বেশি পরিচ্ছন্ন রান্নার গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।
জাতীয় এলপিজি কভারেজ ৫৫.৯% (এপ্রিল ২০১৪) থেকে বেড়ে ১০৭.২% (এপ্রিল ২০২৬) হয়েছে, যা ব্যাপক প্রাপ্যতার প্রতিফলন ঘটায়। দ্বিগুণ ব্যবহারের সাথে সাথে গ্রাহক সংখ্যা ১৪.৫১ কোটি (এপ্রিল ২০১৪) থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩.৩৯ কোটি (এপ্রিল ২০২৬) হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে পরিবেশক এবং বটলিং পরিকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রামীণ প্রাপ্যতা উন্নত হয়েছে।
জল জীবন মিশন (JJM)
হর ঘর জল' (প্রতিটি ঘরে জল) এর লক্ষ্য নিয়ে জল জীবন মিশন (JJM), পাইপের মাধ্যমে জল পাওয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে। ২০১৯ সালে JJM চালু হওয়ার সময়, মাত্র ৩.২৩ কোটি (১৬.৭২%) গ্রামীণ পরিবারের ট্যাপের জলের সংযোগ ছিল। ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত, ১৫.৮৬ কোটিরও বেশি (৮১.৯৪%) পরিবার পরিচ্ছন্ন পাইপলাইনের জল উপভোগ করছে। মাত্র ছয় বছরে, ২.০৮ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগের সহায়তায় ১২ কোটি নতুন সংযোগ যুক্ত করা হয়েছে।
জল জীবন মিশন গ্রামীণ ভারত জুড়ে রূপান্তরকারী ফলাফল এনে দিয়েছে। বস্তুত, ৯ কোটিরও বেশি নারী জল বয়ে আনার কষ্ট থেকে মুক্তি পেয়েছেন, যা তাঁদের সময় বাঁচাচ্ছে এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাচ্ছে। উল্লেখ্য, ১.৮১ লাখ গ্রামকে গ্রাম সভাগুলোর মাধ্যমে 'হর ঘর জল' হিসেবে প্রত্যয়িত করা হয়েছে, যা সার্বজনীন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে। উপরন্তু, ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গ্রামীণ পরিবারে সম্পূর্ণ আওতাভুক্তি অর্জন করেছে, যা জল সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক।
এই মিশনে জলের গুণমানকেও সমভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থ বছর পর্যন্ত, ২,৮৪৩টি পরীক্ষাগারে ৩৮.৭৮ লাখ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। মোট ২৪.৮০ লাখেরও বেশি নারীকে ফিল্ড টেস্টিং কিট ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা গ্রাম পর্যায়ে এর মালিকানা ও বিশ্বাস নিশ্চিত করেছে। 
২০২৬ সালের মার্চ মাসে, JJM ২.০-এর অধীনে এই মিশনের মেয়াদ ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই বর্ধিত কাঠামোর মধ্যে রয়েছে ৮.৬৯ লাখ কোটি টাকার এক বিশাল ব্যয়বরাদ্দ, যার মধ্যে ৩.৫৯ লাখ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সহায়তা হিসাবে রয়েছে। 
স্বচ্ছ ভারত মিশন (SBM) 
২০১৪ সালে চালু হওয়া স্বচ্ছ ভারত মিশন – গ্রামীণ, সকল গ্রামীণ পরিবারকে শৌচাগার প্রদান করেছে, যা গ্রামগুলিতে মর্যাদা এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করেছে। স্যানিটেশন কভারেজ ২০১৪ সালের ৩৯% থেকে তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯ সালে ১০০%-এ পৌঁছায়, যা একটি দেশব্যাপী রূপান্তরকে চিহ্নিত করে।
SBM-গ্রামীন-এর অর্জনগুলি অসাধারণ। ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত, সামগ্রিকভাবে ১২.১৪ কোটিরও বেশি পারিবারিক শৌচাগার এবং ২.৭৬ লাখ কমিউনিটি স্যানিটারি কমপ্লেক্সের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৫.৬৯ লাখেরও বেশি গ্রামকে 'ওডিএফ প্লাস' (ODF Plus) হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ৫.৩৪ lakh গ্রামে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে ৫.৫৫ লাখ গ্রামে তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্বচ্ছ ভারত মিশন‑নগর: ২০১৪ সালে চালু হওয়া এই মিশনটি শহর ও নগরগুলোর স্যানিটেশন ব্যবস্থায় রূপান্তর ঘটিয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৬৩ লাখের বেশি পারিবারিক শৌচাগার এবং ছয় লাখ কমিউনিটি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ১৬ শতাংশের তুলনায় ২০২৬ সালে নগর বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ বৃদ্ধি পেয়ে ৮২ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১৪ সালের ৪৩ শতাংশের তুলনায় ২০২৬ সালে বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
স্বচ্ছ ভারত মিশনের সামগ্রিক প্রভাব পরিমাপযোগ্য। সমস্ত ৩৫টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আরবান লোকাল বডি (ULB) ২০১৯ সালের অক্টোবরে নিজেদের ওডিএফ (ODF) হিসাবে ঘোষণা করেছে। ডব্লিউএইচও (WHO)-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ডায়রিয়াজনিত মৃত্যু ৩,০০,০০০ কমেছে।
সবার জন্য বিদ্যুৎ: নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি 
নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ একটি স্বাচ্ছন্দ্যময় দৈনন্দিন জীবনের নেপথ্যের নীরব শক্তি। বিগত ১২ বছরে ভারত বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন এবং প্রান্তিক পর্যায়ের সরবরাহে আমূল পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে, প্রতিটি ঘরে আরও বেশি আলো, আরও বেশি স্বাচ্ছন্দ্য এবং আরও বেশি মর্যাদা নিশ্চিত হয়েছে।
উৎপাদন ক্ষমতা এবং একটি নির্ভরযোগ্য, পরিচ্ছন্ন গ্রিড
গত ১২ বছরে মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি ২০১৪ অর্থ বছরের ২৪৮ গিগাওয়াট (GW) থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে ৫৩২ গিগাওয়াটেরও বেশিতে পৌঁছেছে। 
নবায়নযোগ্য উৎসগুলি এখন এই উৎপাদন ক্ষমতার অর্ধেকেরও বেশি জুড়ে রয়েছে। ২০১৪ সালের ৭৬.৩৮ গিগাওয়াটের তুলনায় ২০২৬ সালের মার্চ মাসে নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষমতা ২৭৪.৬৯ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। ভারত এখন বিশ্বে ৩য় বৃহত্তম পরিচ্ছন্ন শক্তির ক্ষমতার অধিকারী। ২০১৪ সালের ২.৮২ গিগাওয়াটের তুলনায় সৌরবিদ্যুৎ এখন ১৫০.২৬ গিগাওয়াট অবদান রাখছে। বায়ু বিদ্যুৎ ক্ষমতা ২.৬৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২১.০৪ গিগাওয়াট (মার্চ ২০১৪) থেকে ৫৬.০৯ গিগাওয়াটে (মার্চ ২০২৬) উন্নীত হয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ ৮৪% বৃদ্ধি পেয়ে ৮.৭৮ গিগাওয়াটে (মার্চ ২০২৬) পৌঁছেছে, যা ২০১৪ সালের মার্চ মাসে ছিল ৪.৭৮ গিগাওয়াট। জলবিদ্যুৎ ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৫১.৪ গিগাওয়াটে (মার্চ ২০২৬), এবং অন্যান্য উৎস (বায়োমাস ইত্যাদি) ১১.৭৪ গিগাওয়াট (মার্চ ২০২৬) অবদান রাখছে।
নাগরিকদের জন্য বিদ্যুৎ এখন প্রায় ২৪ ঘণ্টাই উপলব্ধ। গড় গ্রামীণ সরবরাহ ২০১৪ সালের ১২.৫ ঘণ্টা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালে ২২.৬ ঘণ্টায় উন্নীত হয়েছে। শহরাঞ্চলগুলি এখন প্রতিদিন ২৩.৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছে। জাতীয় বিদ্যুতের ঘাটতি ২০১৩-১৪ সালের ৪.২% থেকে তীব্রভাবে হ্রাস পেয়ে ২০২৫-২৬ সালে মাত্র ০.০৩%-এ নেমে এসেছে। মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহার ২০১৩-১৪ সালের ৯৫৭ কিলোওয়াট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪-২৫ সালে ১,৪৬০ কিলোওয়াটে পৌঁছেছে।
রেকর্ড উৎপাদন ক্ষমতা উচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা মেটাচ্ছে 
ভারত ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল এযাবৎকালের সর্বোচ্চ ২৫৬.১ গিগাওয়াট বিদ্যুতের শীর্ষ চাহিদা পূরণ করেছে। প্রতিবেশী দেশগুলিতে রপ্তানি বজায় রেখেই কোনো ঘাটতি ছাড়াই এই চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়েছে। এই মাইলফলকটি ২০২৪ সালের মে মাসে রেকর্ড করা ২৫০ গিগাওয়াটের পূর্ববর্তী শীর্ষ চাহিদাকে ছাড়িয়ে গেছে। গ্রীষ্মকালীন পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে চাহিদার প্রবৃদ্ধি ঘটেছে, যা ২০২৬ সালের এপ্রিলে ৮.৯ শতাংশ বৃদ্ধি প্রদর্শন করে। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে রেকর্ড ৬৫ গিগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত হওয়ায় তা ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটানোর প্রস্তুতিকে শক্তিশালী করেছে। সৌর, জলবিদ্যুৎ, পারমাণবিক এবং তাপবিদ্যুৎ সহ বিভিন্ন উৎপাদন উৎসগুলি নির্ভরযোগ্যতা এবং গ্রিডের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছে। 
২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে ট্রান্সমিশন লাইনের (২২০ কেভি এবং তার বেশি) নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ সার্কিট কিলোমিটারেরও বেশি হয়েছে। রূপান্তর ক্ষমতা (ট্রান্সফরমেশন ক্যাপাসিটি) ১,৪০৭ জিভিএ (২২০ কেভি এবং তার বেশি)-এ পৌঁছেছে, এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আন্তঃআঞ্চলিক ট্রান্সমিশন ক্ষমতা ১২০ গিগাওয়াট স্পর্শ করেছে। ভারত এখন একক ফ্রিকোয়েন্সিতে চালিত বিশ্বের বৃহত্তম সিঙ্ক্রোনাইজড জাতীয় গ্রিড পরিচালনা করছে। 
সৌভাগ্য (SAUBHAGYA): প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া 
২০১৭ সালে চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী সহজ বিজলি হর ঘর যোজনা (SAUBHAGYA), বিদ্যুৎহীন গ্রামীণ ও শহুরে পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে প্রান্তিক পর্যায়ের সংযোগ প্রদান করেছে। ২০২২ সালের মার্চের মধ্যে প্রায় ২.৮৬ কোটি পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগ লাভ করে। সব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ায় এটি এই প্রকল্পের সমাপ্তি চিহ্নিত করে। 
প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: বাড়িকে বিদ্যুৎ উৎপাদকে রূপান্তর 
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা, উদার কেন্দ্রীয় ভর্তুকির মাধ্যমে পরিবারগুলিকে ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনে সহায়তা করে। প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়ার যোগ্য। এই ভর্তুকির পরিমাণ ৭৮,০০০ টাকা পর্যন্ত, যা সরাসরি সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে জমা হয়। ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে ৪০ লাখের বেশি পরিবার ছাদে সৌর ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। এই প্রকল্পটি ৭৫,০২১ কোটি টাকার সহায়তায় ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের মধ্যে এক কোটি বাড়িকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। পরিবারগুলে এখন তাদের বিল কমাচ্ছে এবং এমনকি উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে উপার্জনও করছে। 
উন্নত জ্যোতি বাই অ্যাফোর্ডেবল এলইডি ফর অল (UJALA): সাশ্রয়ী এবং শক্তি-দক্ষ আলোকায়ন
UJALA প্রকল্পের অধীনে, গত বারো বছরে ৩৭ কোটি এলইডি (LED) বাল্ব বিতরণ করা হয়েছে, যা বার্ষিক পারিবারিক সঞ্চয়ে ১৯,১৫৩ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে।
নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ এখন গ্রামীণ ও শহুরে উভয় অঞ্চলেই শিক্ষা, শিল্প এবং পারিবারিক স্বাচ্ছন্দ্যকে সহায়তা করছে। পরিচ্ছন্ন শক্তির উৎসগুলি দ্রুত প্রসারিত হয়েছে, যা স্থায়িত্বকে শক্তিশালী করেছে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ক্ষমতায়ন 
২০১৪ সাল থেকে, ভারত আন্তঃসংযুক্ত আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রকল্পগুলি চালু করেছে যা সঞ্চয়, ঋণ, বিমা এবং পেনশন কভার করে একটি ব্যাপক ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। এই উদ্যোগগুলো সুযোগের প্রসার ঘটিয়েছে, নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করেছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থায় আত্মবিশ্বাসের সাথে অংশগ্রহণের যোগ্য করে তুলেছে।
প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা (PMJDY) 
জন ধন, আধার এবং মোবাইলের 'জ্যাম ট্রিনিটি' (JAM Trinity) ভারতের কল্যাণমূলক পরিষেবা বিতরণের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা (PMJDY) ছিল এর প্রথম স্তম্ভ, যা কোটি কোটি বাদ পড়া নাগরিকের জন্য ব্যাংকিং সুবিধার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। এটি কোনো প্রকার চুইয়ে পড়া (লিকেজ) ছাড়াই সরাসরি স্থানান্তরের ভিত্তি স্থাপন করেছে, যার ফলে সুবিধাভোগীদের কাছে স্বচ্ছ ও নিরাপদভাবে সুযোগ-সুবিধা পৌঁছানো নিশ্চিত হয়েছে।
২০১৪ সালের আগস্টে ঘোষিত PMJDY হলো বিশ্বের বৃহত্তম আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ। ২০১৫ সালের ১৪.৭২ কোটি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ৫৮ কোটিরও বেশি হয়েছে। ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত আমানত বৃদ্ধি পেয়ে ৩ লাখ কোটি টাকারও বেশিতে দাঁড়িয়েছে, যা মানুষের বিশ্বাস এবং সক্রিয় ব্যবহারের প্রমাণ দেয়।
PMJDY অ্যাকাউন্টগুলি এক অভূতপূর্ব স্কেলে কল্যাণমূলক পরিষেবা বিতরণের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কেবল ২০২৪-২৫ অর্থ বছরেই ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) প্রকল্পগুলির অধীনে সরাসরি ৬.৯ লাখ কোটি টাকা জমা করা হয়েছে। ডিবিটি (DBT) ৩২৭টি প্রকল্পকে কভার করে, যা দেশব্যাপী শাসনব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিমূলক এবং প্রতিটি সুবিধাভোগীর প্রতি দায়বদ্ধ করে তুলেছে। ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত, দুর্ঘটনা বিমা আওতাভুক্তি-সহ ৪০.৬০ কোটি রুপে (RuPay) ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হয়েছে।
এটি নতুন ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় আসা লক্ষ লক্ষ নাগরিকের আর্থিক সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে, যা দৈনন্দিন জীবনের মান বাড়িয়েছে এবং তাঁদের অসহায়ত্ব কমিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা (PMMY)
বছরের পর বছর ধরে, ক্ষুদ্র ও অতি-ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক ঋণের ক্ষেত্রে সীমিত সুযোগ ছিল। তাঁরা শোষণমূলক হারে চার্জ করা অনানুষ্ঠানিক ঋণদাতাদের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। ২০১৫ সালে চালু হওয়া PMMY, অতি-ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলিকে প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং জামানতহীন প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ প্রদান করেছে।
চালু হওয়ার পর থেকে, PMMY-এর অধীনে ৪০ লাখ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ৫৭.৭ কোটিরও বেশি ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে। মুদ্রা (MUDRA) ঋণের ৬৬% নারীদের মঞ্জুর করা হয়েছে, যার পরিমাণ ১৬.৮৮ লাখ কোটি টাকা। প্রায় অর্ধেক সুবিধাভোগী এসসি (SC), এসটি (ST) এবং ওবিসি (OBC) সম্প্রদায় থেকে এসেছেন, যা সামাজিক ন্যায়বিচারের সাথে ঋণের প্রাপ্যতাকে একত্রিত করেছে।
২০২৪-২৫ অর্থ বছরে একটি নতুন 'তরুণ প্লাস' (Tarun Plus) ক্যাটিগরির মাধ্যমে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ২০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই ক্যাটাগরিটি সেইসব উদ্যোক্তাদের সহায়তা করেছে যাঁরা পূর্ববর্তী ঋণ পরিশোধ করেছিলেন। লেবার ব্যুরোর গবেষণা দেখিয়েছে যে, PMMY ঋণ ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ১.১২ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
পরিবহন এবং যোগাযোগ
যোগাযোগ হল, উন্নয়নের শক্তি, যা দেশব্যাপী সুযোগ তৈরি করে এবং জীবনযাত্রার সহজীকরণকে উন্নত করে। ২০১৪ সালে ভারতের পরিবহন অবকাঠামোতে ধীরগতির মহাসড়ক নির্মাণ, সীমিত মেট্রো কভারেজ এবং নামমাত্র আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ পরিলক্ষিত হতো। আধুনিক আন্তঃনগর রেল পরিষেবা অনুপস্থিত ছিল, যার ফলে, সাধারণ যাত্রীদের সীমিত এবং অদক্ষ পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হতো। ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে, ভারত সড়ক, রেল, বিমান চলাচল এবং নগর গণ পরিবহন জুড়ে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পরিবহনের রূপান্তর ঘটিয়েছে।
সড়ক এবং জাতীয় মহাসড়ক
২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতের সড়ক নেটওয়ার্ক উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হয়েছে, যা যোগাযোগ এবং দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যবস্থাকে পুনর্রূপদান করেছে। ৬৩.৭৩ লাখ কিলোমিটারের এই নেটওয়ার্কটি এখন বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক নেটওয়ার্ক। জাতীয় মহাসড়ক প্রায় ৬১% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের ৯১,২৮৭ কিমি থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ১,৪৬,৫৭২ কিমি হয়েছে। চার লেন এবং তার বেশি বৈশিষ্ট্যের মহাসড়ক ২০১৪ সালের ১৮,৩৭১ কিমি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫,৫১৬ কিমি হয়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে মোট ৩,৬৪৪ কিমি এক্সেস-কন্ট্রোলড হাই-স্পিড করিডোর/এক্সপ্রেসওয়ে সচল রয়েছে, যা যাতায়াতের সময় এবং যানজট কমিয়ে দিয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ভারতমালা প্রকল্পের অধীনে ২২,৫৯০ কিমি সড়ক নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ল্যান্ডমার্ক যোগাযোগের ১২ বছর:
জেড-মোর/সোনমার্গ টানেল (২০২৫): লাদাখের প্রবেশাধিকার উন্নত করেছে, যা পর্যটন এবং স্থানীয় জীবিকাকে শক্তিশালী করছে।
সুদর্শন সেতু (২০২৪): ওখাকে বেট দ্বারকার সাথে সংযুক্ত করেছে, যা তীর্থযাত্রা এবং উপকূলীয় কার্যক্রমকে সহায়তা করছে।
মৈত্রী সেতু (২০২১): ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশকে যুক্ত করেছে, যা বাণিজ্য এবং যাত্রী চলাচলকে ত্বরান্বিত করছে।
অটল টানেল (২০২০): মানালি এবং লাহুল-স্পিতির মধ্যে সব আবহাওয়ায় যোগাযোগের সুবিধা প্রদান করেছে, যা দূরত্ব ৪৬ কিমি কমিয়ে দিয়েছে।
ডক্টর শ্যামা প্রসাদ মুখার্জী টানেল (পূর্বে চেনানি-নাশরি টানেল নামে পরিচিত, ২০১৭): জম্মু-শ্রীনগরের যাতায়াতের সময় দুই ঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে।
ধোলা সাদিয়া সেতু (২০১৭): আসাম এবং অরুণাচল প্রদেশকে সংযুক্ত করেছে, যা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছে।
সাম্প্রতিক প্রকল্পগুলি নগর ও আঞ্চলিক গতিশীলতাকে ত্বরান্বিত করেছে:
দিল্লি-দেরাদুন অর্থনৈতিক করিডোর (২০২৬): যাতায়াতের সময় ছয় ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ২.৫ ঘণ্টা করেছে, যাতে এশিয়ার দীর্ঘতম এলিভেটেড ওয়াইল্ডলাইফ করিডোর রয়েছে।
আহমেদাবাদ-ধোলেরা এক্সপ্রেসওয়ে (২০২৬): লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে এবং যাতায়াতের সময় কমিয়েছে।
বিহারের এনএইচ-৩১ (NH-31) এ গঙ্গা নদীর ওপর সেতু (২০২৫): ভারী যানবাহনের রুট ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি কমিয়ে দিয়েছে।
আর্বান এক্সটেনশন রোড II (২০২৫): দিল্লির এই তৃতীয় রিং রোডটি পণ্য পরিবহনকে দ্রুততর করেছে।
দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ের দিল্লি অংশ (২০২৫): দিল্লি এবং এনসিআর (NCR) অঞ্চলের যানজট নিরসন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (PMGSY): এই প্রকল্পটি টেকসই, সব আবহাওয়ার উপযোগী গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ প্রদানের জন্য চালু করা হয়েছিল। এটি গ্রামগুলোকে বাজার, স্কুল এবং হাসপাতালের সাথে সংযুক্ত করেছে, যার ফলে যাতায়াত সহজ হয়েছে এবং দৈনন্দিন জীবনের মান উন্নত হয়েছে। বাজেট সহায়তা ২০১৪-১৫ সালের ৩৮৬ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬-২৭ সালে ১৯,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ পর্যন্ত, যোগ্য জনবসতির ৯৯.৬% সংযুক্ত করা হয়েছে, যেখানে সম্পন্ন হওয়া সড়কের পরিমাণ ২০০০-২০১৪ সালের ৩.৮৬ লাখ কিমি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৪-২০২৬ সালের মধ্যে ৪.১১ লাখ কিমি হয়েছে। একই সময়ে সেতুর সংখ্যা ৪৮৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০,২৯৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা বিচ্ছিন্নতা দূর করেছে এবং গ্রামীণ প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করেছে।
২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়কের জন্য বাজেট বরাদ্দ প্রায় দশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মহাসড়কের এই সম্প্রসারণ একাধিক অঞ্চল জুড়ে লজিস্টিকস, পর্যটন, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করেছে।
রেলওয়ে
ভারতীয় রেলওয়ে দেশের লাইফলাইন হিসাবে অব্যাহত রয়েছে। এটি প্রতিদিন কোটি কোটি যাত্রী এবং লক্ষ লক্ষ টন পণ্য পরিবহন করে। ২০১৪ সাল থেকে গতি, স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা এবং সক্ষমতার দিকে সুনির্দিষ্টভাবে মনোযোগ স্থানান্তরিত করা হয়েছে। রেল নেটওয়ার্কের বিদ্যুতায়ন দ্রুত গতিতে অগ্রসর হয়েছে, যা ২০১৪ সালের আগের ২০% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে ৯৯.৬%-এ পৌঁছেছে। এটি ৬৯,৮৭৩ রুট কিলোমিটার কভার করে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করার পাশাপাশি, দক্ষতা বৃদ্ধি করছে। 'কবচ' (Kavach), ভারতের নিজস্ব স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা, ট্রেনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এবং সংঘর্ষ এড়াতে ব্রেক প্রয়োগ করে। এটি ৩,১০৩ রুট কিমি জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে এবং ২৪,৪২৭ কিমি জুড়ে বাস্তবায়নের কাজ চলছে; এটি ৪,২৭৭টি লোকোমোটিভে স্থাপন করা হয়েছে এবং আরও ৮,৯৭৯টিতে এর কাজ এগিয়ে চলেছে। এর ফলে, ট্রেন দুর্ঘটনা ২০১৪-১৫ সালের ১৩৫টি থেকে তীব্রভাবে হ্রাস পেয়ে ২০২৫-২৬ সালে মাত্র ১৬টিতে নেমে এসেছে। 
লক্ষ্যমাত্রার এই বিশাল পরিধি বাজেটের মধ্যেই দৃশ্যমান। এই সময়ের মধ্যে রেলওয়ের জন্য মোট বাজেট বরাদ্দ (গ্রস বাজেটারি অ্যালোকেশন) প্রায় নয় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি ২০১৪-১৫ সালের প্রায় ৩২,০০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬-২৭ সালে প্রায় ২.৭৮ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এই ধারাবাহিক বিনিয়োগ দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যবস্থায় দৃশ্যমান স্বাচ্ছন্দ্য এনে দিয়েছে।
বন্দে ভারত
প্রথম বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে ডিজাইন করা সেমি-হাই-স্পিড ট্রেন হিসেবে চালু করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশব্যাপী ১৬২টি পরিষেবা চালু হয়, যা ভারতীয় রেলওয়ে জুড়ে দ্রুত সম্প্রসারণকে চিহ্নিত করে। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে এই ট্রেনগুলো ৩.৯৮ কোটি যাত্রী পরিবহন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪% বৃদ্ধি প্রদর্শন করে। এর সূচনা থেকে, প্রায় এক লাখ ট্রিপ জুড়ে ৯.১ কোটিরও বেশি যাত্রী ভ্রমণ করেছেন, যা জনসাধারণের প্রবল গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন ঘটায়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অত্যাধুনিক 'বন্দে ভারত স্লিপার' পরিষেবা চালু করা হয়, যা হাওড়া ও গুয়াহাটিকে সংযুক্ত করেছে। চালুর প্রথম তিন মাসের মধ্যে এই স্লিপার ট্রেনটি ১১৯টি ট্রিপ জুড়ে ১.২১ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে।
অমৃত ভারত ট্রেন
অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি দীর্ঘ রুটে সাশ্রয়ী মূল্যের স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে এসেছে। বর্তমানে চালু থাকা ষাটটি সম্পূর্ণ নন-এসি অমৃত ভারত ট্রেন পরিষেবা টিয়ার ২ (Tier 2) এবং টিয়ার ৩ (Tier 3) শহরের যাত্রীদের সেবা দিচ্ছে। এই ট্রেনগুলি আধুনিক আসন ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সহ সাশ্রয়ী, নন-এসি, উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ভ্রমণের সুবিধা প্রদান করে। এগুলি সমাজের দুর্বল ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য সাশ্রয়ী এবং আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করে দূরপাল্লার অন্তর্ভুক্তিমূলক যোগাযোগকে প্রসারিত করছে।
অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম
২০২৩ সালে চালু হওয়া অমৃত ভারত স্টেশন স্কিমের অধীনে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্উন্নয়নের জন্য ১,৩৩৮টি স্টেশনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৭টি স্টেশন অ্যাসপিরেশনাল ডিস্ট্রিক্ট বা আকাঙ্ক্ষিত জেলাগুলোতে অবস্থিত, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকাঠামোগত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিলের মধ্যে ২০৮টি স্টেশনকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং উন্নত যাত্রী পরিষেবার সাথে আপগ্রেড করা হয়েছে। এই আপগ্রেডগুলির মধ্যে রয়েছে পার্কিং, ওয়েটিং লাউঞ্জ, লিফট, এসকেলেটর, উন্নত শৌচাগার এবং রিয়েল-টাইম তথ্য ব্যবস্থা। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ১১৯টি পুনর্উন্নত স্টেশনের উদ্বোধন করা হয়েছে, যা এই কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নির্দেশ করে।
উচ্চ-গতির রেল করিডোর (হাই-স্পিড রেল করিডোর)
আহমেদাবাদ-মুম্বাই বুলেট ট্রেন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলছে, যার সুরাট-বিলিমোরা অংশটি ২০২৭ সালে চালু হতে যাচ্ছে। ৫০৮ কিলোমিটারের এই করিডোরটি ঘণ্টায় ৩২০ কিমি পর্যন্ত গতিতে ট্রেন পরিচালনার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। উচ্চ-গতির রেলের মাধ্যমে প্রধান শহরগুলিকে আরও দ্রুত এবং দক্ষতার সাথে সংযুক্ত করতে ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে আরও সাতটি বুলেট ট্রেন করিডোর ঘোষণা করা হয়েছে। এই রুটগুলির মধ্যে রয়েছে:
মুম্বাই-পুনে
পুনে-হায়দরাবাদ
হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু
হায়দরাবাদ-চেন্নাই
চেন্নাই-বেঙ্গালুরু
দিল্লি-বারাণসী
বারাণসী-শিলিগুড়ি
এই ঘোষণাগুলি ভারতের প্রবৃদ্ধি, একীকরণ এবং টেকসই উন্নয়নে উচ্চ-গতির রেলের কৌশলগত ভূমিকাকে তুলে ধরে।
বেসামরিক বিমান চলাচল – উড়ান (UDAN)
২০১৪ সালে মাত্র ৭৪টি বিমানবন্দর চালু ছিল, যার ফলে ছোট শহরগুলিতে বিমান যোগাযোগের কোনো সুবিধা ছিল না। ২০১৬ সালের অক্টোবরে চালু হওয়া আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রকল্প, 'উড়ে দেশ কা আম নাগরিক' (UDAN), এই চিত্রটিকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত, উড়ান (UDAN) প্রকল্পের অধীনে ৯৫টি বিমানবন্দর, হেলিপোর্ট এবং ওয়াটার অ্যারোড্রোম জুড়ে ৬৬৫টি রুট সচল করা হয়েছে। এর ফলে, ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে ভারতের মোট বিমানবন্দরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৬৫টিতে দাঁড়িয়েছে। এই সম্প্রসারণকে বজায় রাখতে, সরকার ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং (VGF) সহায়তা সম্প্রসারিত করেছে, যা বিমানসংস্থাগুলিকে নতুন রুটগুলি দক্ষতার সাথে পরিচালনা করতে সক্ষম করেছে। এই সহায়তা সাশ্রয়ী ভাড়া নিশ্চিত করেছে এবং আঞ্চলিক যোগাযোগকে শক্তিশালী করেছে, যার ফলে, লক্ষ লক্ষ নাগরিকের কাছে বিমান ভ্রমণ সহজলভ্য হয়েছে।
চালু হওয়ার পর থেকে, উড়ান (UDAN) প্রকল্পের অধীনে ৩.৪৫ লাখ ফ্লাইটে ১.৬৪ কোটিরও বেশি যাত্রী ভ্রমণ করেছেন। উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পাহাড়ি রাজ্য এবং দ্বীপ অঞ্চলসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলি প্রথমবারের মতো জাতীয় বিমান চলাচল গ্রিডের সাথে যুক্ত হয়েছে। ৪,৮০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ পরিষেবা-বিহীন বিমানবন্দরগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে, এবং ২০১৪ সালের পর নভি মুম্বই, নয়ডা, মোপা, কান্নুর এবং হোলঙ্গিসহ ২৫টি গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের মার্চ মাসে 'সংশোধিত উড়ান স্কিম' (Modified UDAN Scheme) অনুমোদিত হয়েছে, যার লক্ষ্য ১২০টি নতুন গন্তব্য এবং অতিরিক্ত ৪ কোটি যাত্রীকে পরিষেবা দেওয়া। এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ১০০টি বিমানবন্দর, ২০০টি আধুনিক হেলিপ্যাড এবং আকাঙ্ক্ষিত জেলাগুলিতে (অ্যাসপিরেশনাল ডিস্ট্রিক্ট) ছোট বিমান উড্ডয়ন পট্টি (এয়ারস্ট্রিপ)।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়া 'ডিজি যাত্রা' (Digi Yatra)-র মতো উদ্যোগের মাধ্যমে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যও উন্নত হয়েছে, যা ঝামেলাহীন এবং কাগজবিহীন ভ্রমণের সুবিধা দেয়। ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত, ৩৮টি বিমানবন্দর জুড়ে ৯.৩ কোটিরও বেশি যাত্রী এই সুবিধা ব্যবহার করেছেন। ২০২৪ সালে চালু হওয়া 'উড়ান যাত্রী ক্যাফে' (UDAN Yatri Cafés) এবং অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। একত্রে, এই পদক্ষেপগুলি বিমান ভ্রমণকে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে, যা লক্ষ লক্ষ নাগরিকের যাতায়াতের ধরণকে পুনর্রূপদান করেছে।
মেট্রো রেল
মেট্রো রেল গণ-যোগাযোগের জন্য সবচেয়ে দক্ষ সমাধান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা সারা দেশে নগর পরিবহনে রূপান্তর ঘটিয়েছে। ২০১৪ সালে মাত্র পাঁচটি শহরে ২৪৮ কিলোমিটারের নেটওয়ার্ক নিয়ে মেট্রো রেল পরিচালিত হতো। ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে ভারতের ২৬টি শহর জুড়ে ১,১৫৫ কিলোমিটারের মেট্রো নেটওয়ার্ক সচল হয়েছে। এই সম্প্রসারণ ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মেট্রো নেটওয়ার্কের মর্যাদা এনে দিয়েছে।
প্রতিদিনের যাত্রী সংখ্যা ২০১৩-১৪ সালের ২৮ লাখ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালে ১.১৫ কোটিরও বেশি হয়েছে। প্রকল্প চালুর গতি নয় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে—যা ২০১৪ সালের আগে প্রতি মাসে ছিল ০.৬৮ কিমি, তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি মাসে প্রায় ৬ কিলোমিটার। বাজেট সহায়তাও তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০১৩-১৪ সালের ৫,৭৯৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ২৯,৫৫০ কোটি টাকা হয়েছে।
ভারতের মেট্রো সম্প্রসারণ ল্যান্ডমার্ক বা ঐতিহাসিক কিছু অর্জন এনে দিয়েছে। কলকাতা ২০২৪ সালে হুগলি নদীর তলদেশ দিয়ে দেশের প্রথম আন্ডারওয়াটার বা জলের তলদেশের মেট্রো টানেলের উদ্বোধন করেছে। কোচি প্রথম শহর হিসেবে ওয়াটার মেট্রো পরিষেবা চালু করেছে, যা ইলেকট্রিক হাইব্রিড নৌকার মাধ্যমে ১০টি দ্বীপকে সংযুক্ত করেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদ (EAC-PM) 'গোল্ডেন ডেকেড অফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ইন ইন্ডিয়া' (ভারতে অবকাঠামো উন্নয়নের সোনালী দশক) শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, মেট্রো রেলের সুবিধা পারিবারিক ঋণ পরিশোধের শৃঙ্খলা উন্নত করে এবং আর্থিক মানসিক চাপ কমায়। এই মাইলফলকগুলো প্রতিফলিত করে যে, কিভাবে মেট্রো রেল নগর যাতায়াত ব্যবস্থাকে পুনর্রূপদান করেছে এবং ভ্রমণক্লান্তি কমিয়ে লাখ লাখ নাগরিকের কাছে আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা পৌঁছে দিয়েছে।
নমো ভারত - রিজিওনাল র‍্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (RRTS)
দিল্লি-মিরাট RRTS রুটে নমো ভারত ট্রেনটি ২০২৩ সালে শুরু হয়েছিল এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি সম্পূর্ণভাবে সচল হয়েছে। দ্রুততর যাতায়াত নিশ্চিত করতে এটি ১৮০ কিমি/ঘণ্টা ডিজাইন স্পিড সহ ১৬০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে চলে। এই ব্যবস্থায় এলটিই (LTE) রেডিও ব্যাকবোন ব্যবহার করে হাইব্রিড লেভেল III সিগন্যালিং সহ বিশ্বের প্রথম ইউরোপীয় ট্রেন কন্ট্রোল সিস্টেম (ETCS) লেভেল II অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রথমবারের মতো, এই করিডোরে একটি এলটিই (LTE) ব্যাকবোনের ওপর হাইব্রিড লেভেল III রেডিও-ভিত্তিক সিগন্যালিং পরিচালিত হচ্ছে। এই উন্নত প্রযুক্তি ট্রেনের কার্যক্রমকে আরও চৌখস এবং নিরাপদ করে তুলেছে, যা পুরো ভ্রমণ জুড়ে যাত্রীদের আস্থা ও নিরাপত্তা বাড়িয়ে তোলে।
প্রশাসনিক সংস্কার
প্রশাসনিক সংস্কারগুলি প্রতিষ্ঠানের সাথে নাগরিকদের যোগাযোগের ধরণকে পুনর্রূপদান করেছে। বিধিনিষেধের বোঝা হ্রাস করা, জবাবদিহিতা শক্তিশালী করা এবং পরিষেবাগুলিকে আরও স্বচ্ছ করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। আইনি পরিবর্তন এবং নাগরিক-মুখী প্ল্যাটফর্মগুলি দৈনন্দিন প্রয়োজনের জন্য আরও দ্রুত, ন্যায্য এবং সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা তৈরি করেছে।
আইনি সরলীকরণ: জন বিশ্বাস আইন
জন বিশ্বাস (বিধানের সংশোধনী) আইন, ২০২৩, নিয়মকানুন পালনের বোঝা কমানোর ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী মোড় ছিল| এটি একাধিক কেন্দ্রীয় আইনের বিভিন্ন বিধান সংশোধন করে ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতিকে ফৌজদারি শাস্তির পরিবর্তে দেওয়ানি প্রতিকারে স্থানান্তরিত করেছে। এর ফলে, ছোটখাটো ভুলের জন্য নাগরিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আর কারাবাসের মুখোমুখি হতে হয় না, যা ভয় কমিয়েছে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইন মান্য করাকে উৎসাহিত করেছে।
জন বিশ্বাস (বিধানের সংশোধনী) আইন, ২০২৬, এর আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত করেছে। এটি ৭৯টি কেন্দ্রীয় আইনের আওতাধীন ৭৮৪টি বিধানকে কভার করে, যার মধ্যে ৭১৭টি বিধানকে অপরাধমুক্ত করে এবং নাগরিকদের সরাসরি প্রভাবিত করে এমন ৬৭টি বিধান সংশোধন করে।
কারাদণ্ডের ধারাগুলিকে আর্থিক জরিমানা বা সতর্কবার্তা দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে, যা ছোটখাটো পদ্ধতিগত ভুলের উদ্বেগ কমিয়েছে।
প্রথমবার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পরামর্শমূলক নোটিশ জারি করা হয়, যা শাস্তির আগে ন্যায্যতা নিশ্চিত করে।
অপরাধের অনুপাতে জরিমানা যুক্তিসঙ্গত করা হয়েছে, যা একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ ব্যবস্থা তৈরি করেছে।
দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে এবং নিয়মকানুন সংক্রান্ত মামলার বিলম্ব কমাতে বিচারক কর্মকর্তা (অ্যাডজুডিকেটিং অফিসার) নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে।
সময়মত প্রতিকার প্রদান এবং প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি বজায় রাখতে আপিল কর্তৃপক্ষ (অ্যাপেলেট অথরিটি) নিয়োগের বিধান রয়েছে।
জরিমানা এবং দণ্ডগুলি পর্যায়ক্রমিক সংশোধন সাপেক্ষ করা হয়েছে, যা প্রয়োগ ব্যবস্থাকে প্রাসঙ্গিক এবং প্রতিক্রিয়াশীল রাখে।
নাগরিক-মুখী প্ল্যাটফর্ম
নাগরিক-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলি তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার অগ্রভাগে পরিণত হয়েছে, যা দ্রুত অভিযোগ প্রতিকার এবং অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।
সেন্ট্রালাইজড পাবলিক গ্রিভেন্স রিড্রেস অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম (CPGRAMS): অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়ে নাগরিকদের সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য এটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য একটি নিবেদিত ফিডব্যাক পোর্টাল। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রায় ৬ লাখ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৯.৮% অভিযোগকারী সন্তোষজনক বলে রেটিং দিয়েছেন। এটি দায়বদ্ধ পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক পরিবর্তনের প্রমাণ দেয়।
মাইগভ (MyGov): ২০১৪ সালে চালু হওয়া মাইগভ প্রশাসনে নাগরিকদের অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করেছে। এই প্ল্যাটফর্মটি একটি ইন্টারেক্টিভ বা পারস্পরিক সহযোগিতামূলক গণতন্ত্রের নতুন যুগের সূচনা করেছে, যা নীতি নির্ধারণে জনগণের কণ্ঠস্বরকে প্রসারিত করেছে। ৬০ মিলিয়নেরও বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সাথে এটি নাগরিক এবং সরকারের মধ্যে একটি গতিশীল সেতু হিসেবে কাজ করে। মাইগভ দেশব্যাপী এর অংশগ্রহণমূলক প্রচার প্রসারিত করতে ২৮টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে স্টেট ইনস্ট্যান্স বা রাজ্য সংস্করণ চালু করেছে। এই সংস্করণগুলো নির্দিষ্টভাবে একক রাজ্যগুলোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। মাইগভ আলোচনা, নীতি প্রচার এবং বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য প্রদান সহজতর করে, যা নিশ্চিত করে যে শাসনব্যবস্থা যেন যৌথ প্রজ্ঞার প্রতিফলন ঘটায়।
এই প্ল্যাটফর্মগুলি নাগরিকদের সরাসরি কথা বলার সুযোগ এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির সুবিধা দিয়েছে, যার ফলে, প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি জাতীয় মহাপরিকল্পনা (PM GatiShakti National Master Plan)
২০২১ সালে চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি প্রকল্পটিতে সমন্বিত পরিকল্পনার জন্য ৫৮টি মন্ত্রণালয় এবং বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত (অনবোর্ড) করা হয়েছে। তাদের ডেটা লেয়ার বা উপাত্তের স্তরগুলিকে জাতীয় মহাপরিকল্পনায় একত্রিত করা হয়েছে, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করে। এই জিআইএস (GIS)-ভিত্তিক পোর্টালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক এবং রাজ্যগুলির ৩,২০৪টি ডেটা লেয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মটি প্রথাগত পরিকাঠামোর বাইরে গিয়ে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো সামাজিক ক্ষেত্রগুলিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য কভার করে। ব্যাপক অংশগ্রহণের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি জাতীয় মহাপরিকল্পনাটি সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানের জন্যই উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
এই সংস্কার এবং প্ল্যাটফর্মগুলি নিয়মকানুন মেনে চলার বোঝা কমিয়েছে, স্বচ্ছতা জোরদার করেছে এবং দৈনন্দিন পারস্পরিক যোগাযোগকে উন্নত করেছে। নাগরিকরা আরও দ্রুত পরিষেবা, আরও ন্যায়সঙ্গত আইন প্রয়োগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বৃহত্তর অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা লাভ করছেন। এর ফলে দৈনন্দিন প্রক্রিয়াগুলি কম চাপযুক্ত, আরও সুনির্দিষ্ট এবং অধিক ক্ষমতায়নকারী হয়ে উঠেছে, যা মানুষের আস্থা ও স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে একটি সুনির্দিষ্ট পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটায়।
বিক্ষিত ভারত-এর ভিত্তি হিসাবে জীবনযাত্রার সহজীকরণ
২০১৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রশাসনিক যাত্রার মূল কথা হলো মানুষের জীবন আরও মর্যাদাপূর্ণ এবং ক্ষমতায়ন সম্পন্ন হয়ে ওঠা। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে প্রতিটি বাড়ি পরিবারগুলিকে নিরাপত্তাহীনতা থেকে মুক্তি দিয়েছে, অন্যদিকে প্রতিটি ট্যাপের জলের সংযোগ দীর্ঘ সময়ের হাড়ভাঙা খাটুনি থেকে রেহাই দিয়েছে। বিশেষ করে নারীরা শিক্ষা ও জীবিকার জন্য বাড়তি সময় পেয়েছেন। প্রতিটি জন ধন অ্যাকাউন্ট পরিবারগুলিকে মূলধারার আর্থিক ব্যবস্থায় স্বাগত জানিয়েছে, যা তাঁদের সঞ্চয় ও ঋণের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করেছে। সড়ক, মেট্রো এবং বিমানবন্দরগুলি জনবসতিকে সুযোগের সাথে যুক্ত করেছে, যা বিচ্ছিন্নতা হ্রাস করেছে এবং প্রবৃদ্ধির দ্বার উন্মুক্ত করেছে। এই অর্জনগুলি কেবল কোনো পরিসংখ্যান নয়; এগুলি গ্রাম, নগর এবং শহরজুড়ে দৈনন্দিন জীবনের দৃশ্যমান ও বাস্তব পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে।
ভারত যখন ২০৪৭ সালের মধ্যে 'বিক্ষিত ভারত' (Viksit Bharat) অর্জনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তখন এই ভিত্তিটি জাতীয় অগ্রগতির কেন্দ্রবিন্দু হিসাবেই রয়ে গেছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, স্থায়িত্ব এবং প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা হলো একে অপরের পরিপূরক লক্ষ্য, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী অগ্রাধিকার নয়। ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের এই ১২ বছর প্রমাণ করেছে যে নাগরিক-কেন্দ্রিক, মিশন-চালিত এবং প্রযুক্তি-সমর্থিত শাসনব্যবস্থা এক বিশাল পরিসরে সুফল এনে দিতে পারে। এই সুফলগুলি অত্যন্ত দ্রুত ও গভীরভাবে মানুষের জীবনকে পুনর্রূপদান করেছে, যা বিশ্বকে রূপান্তরের এমন কিছু শিক্ষা দেয় যা থেকে শেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে।

তথ্যসূত্র

Ministry of Housing and Urban Affairs:

https://pmaymis.gov.in/pmaymis2_2024/PMAY_SURVEY/EligiblityCheck.aspx

https://www.pib.gov.in/pressreleasepage.aspx?prid=1777284&reg=3&lang=2

https://amrut.mohua.gov.in/uploads/AMRUT_2.0_Operational_Guidelines.pdf

https://sbmurban.org/

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2220345&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2066736&reg=3&lang=2

Ministry of Rural Development:

https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=1944744&reg=3&lang=2

https://pmayg.dord.gov.in/netiayHome/Home.aspx

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2075171&reg=3&lang=2

Ministry of Power:

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2256313&reg=3&lang=1

https://newsonair.gov.in/pm-surya-ghar-scheme-achieves-major-milestone-as-40-lakh-households-embrace-rooftop-solar/

https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2111106&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2217216&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2090639&reg=3&lang=2#:~:text=36.87%20crore%20LED%20bulbs%20distributed,Introduction

Press Information Bureau:

https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=154355&ModuleId=3&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2182568&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2191618&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=155102&ModuleId=3&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2241822&reg=3&lang=2

https://static.pib.gov.in/WriteReadData/specificdocs/documents/2021/oct/doc202110101.pdf

Cabinet:

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2237548&reg=3&lang=1

Ministry of Jal Shakti:

https://ejalshakti.gov.in/jjmreport/jjmindia.aspx

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2226993&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2114291&reg=6&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2114291&reg=6&lang=1

https://swachhbharatmission.ddws.gov.in/about_sbm

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2040171&reg=3&lang=2

https://sbm.gov.in/sbmgdashboard/statesdashboard.aspx

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2248393&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleaseDetail.aspx?PRID=2237010&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2247224&reg=3&lang=1

Prime Minister’s Office:

https://www.pmindia.gov.in/en/government_tr_rec/leveraging-the-power-of-jam-jan-dhan-aadhar-and-mobile/

Ministry of Finance:

https://www.pmjdy.gov.in/account

https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2069170&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2249915&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1896725&reg=3&lang=2

Ministry of Commerce & Industry:

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2246226&reg=3&lang=1

Ministry of Personnel, Public Grievance and Pensions:

https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/187/AU6033_XP4G1y.pdf?source=pqals

MyGov:

https://www.mygov.in/overview

Ministry of Civil Aviation:

https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=1657813&reg=48&lang=2

Ministry of Petroleum and Natural Gas:

https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/187/AU3352_6sijmI.pdf?source=pqals

https://www.facebook.com/PetroleumMinIndia/videos/iea-applauds-india-for-pm-ujjwala-yojanadr-fatih-birol-executive-director-of-iea/378453946154485/

Asian Development Bank (ADB):

https://www.adb.org/publications/energy-resilience-social-protection-india

 

Cleck to See PDF

 

 

SSS/RP/15.6.26....

(Explainer ID: 158913) आगंतुक पटल : 12
Provide suggestions / comments
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Assamese , Gujarati , Tamil , Telugu , Kannada , Malayalam