• Sitemap
  • Advance Search
Economy

সহজে ব্যবসা করার ব্যবস্থা: ভারতের ব্যবসায়িক কাঠামোর সশক্তিকরণ

Posted On: 07 JUN 2026 10:55AM

ভারতের ব্যবসায়িক পরিবেশের রূপান্তর

ভারতের ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতির জন্য বিগত বছরগুলিতে এখানে ক্রমাগত সংস্কার করা হয়েছে। সরকারের মনোযোগ ধীরে ধীরে নিয়মকানুনের কঠোর বাধ্যবাধকতা থেকে সহজ উপায়ে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দিকে সরে এসেছে। এই সংস্কারগুলির লক্ষ্য ছিল প্রতিটি প্রক্রিয়ার গতি, স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে পরিচালনা ব্যবস্থা বাড়ানো। এর ফলে, ভারতের ব্যবসায়িক পরিবেশের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে এবং  হজে ব্যবসা করার বিধিব্যবস্থাগুলি (Ease of Doing Business) উন্নত হয়েছে।

এই অগ্রগতি ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের 'ডুইং বিজনেস রিপোর্ট ২০২০'-এর পাশাপাশি বৈশ্বিক মূল্যায়নেও দেখা গেছে। ভারতের র‍্যাংক ২০১৪ সালের ১৪২ থেকে উন্নত হয়ে ২০১৯ সালে ৬৩ হয়েছে, যা পাঁচ বছরে ৭৯ ধাপের একটি বড় অগ্রগতি।

আইএমডি (IMD) ওয়ার্ল্ড কম্পিটিটিভনেস র‍্যাংকিং ২০২৫-এ দেশের অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা, সরকার ও ব্যবসায়িক দক্ষতা এবং ব্যবসার জন্য পরিকাঠামোগত উন্নয়নকে বিবেচনা করা হয়েছে। ভারতের স্থান ২০২১ সালের ৪৩ থেকে উন্নত হয়ে ২০২৫ সালে ৪১ হয়েছে। এটি একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক পরিবেশ, উন্নত শাসন ব্যবস্থা এবং আরও ভালো ডিজিটাল ও নিয়ন্ত্রণমূলক সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরে।

বিশ্ব ব্যাংকের গভটেক ম্যাচুরিটি ইনডেক্স (GovTech Maturity Index), যা সরকারি খাতের ডিজিটাল রূপান্তর মূল্যায়ন করে, ভারতকে ২০২০, ২০২২ এবং ২০২৫ সালে 'গ্রুপ এ'-তে স্থান দিয়েছে। এই বিভাগটি সেইসব দেশকে নির্দেশ করে, যারা মূল সরকারি ব্যবস্থা, সরকারি পরিষেবা প্রদান, ডিজিটাল নাগরিক সম্পৃক্ততা এবং গভটেক সহায়ক ক্ষেত্রগুলোতে উন্নত ও উদ্ভাবনী চর্চা প্রদর্শন করছে।

বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল প্রশাসনের অবস্থা মূল্যায়নের জন্য রা রাষ্ট্রসংঘও ই-গভর্নমেন্ট সমীক্ষা পরিচালনা করে। এই সমীক্ষায় ভারত সামগ্রিকভাবে উচ্চ স্কোর অর্জন করেছে। এর মধ্যে অনলাইন পরিষেবা সূচকে (Online Services Index) ভারত অত্যন্ত উচ্চ স্কোর পেয়েছে। পাশাপাশি, টেলিযোগাযোগ, পরিকাঠামো এবং মানবসম্পদ সূচকেও ভারত ভালো ফল করেছে। এটি ডিজিটাল জনসেবা প্রদানের সক্ষমতা, সম্প্রসারিত ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর সরকারি পরিষেবায় নাগরিকদের সহজতর প্রবেশাধিকারের প্রতিফলন।

নিয়মকানুন সহজ করার এবং প্রক্রিয়াগুলোকে আরও গতিশীল করার ক্রমাগত প্রচেষ্টার ফলেই এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে। সরকার ব্যবসার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো জীবনচক্রেই নিয়মকানুনের বাধ্যবাধকতার বোঝা কমিয়েছে। এই সংস্কারগুলির পরিধি ব্যবসার নিবন্ধন ও লজিস্টিকস (পরিবহন ও সরবরাহ) সহায়তা থেকে শুরু করে দেউলিয়াত্ব বা ব্যবসায়িক অচলাবস্থা নিরসন (insolvency resolution) পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি ব্যবসায়িক কাজকর্মের ধরন বদলে দিচ্ছে, যা ভারত এবং সমগ্র বিশ্বজুড়ে উদ্যোক্তাদের জন্য কাজ করা আরও সহজ করে তুলছে।

ব্যবসায়িক প্রবেশ সংস্কারের অগ্রগতি

বিগত ১২ বছরে, ভারত সরকার ব্যবসায়িক প্রবেশ এবং আনুষ্ঠানিককরণ প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য বড় ধরনের সংস্কার এনেছে। এই পদক্ষেপগুলো প্রক্রিয়ার বাধা দূর করেছে এবং উদ্যোক্তা ও এমএসএমই (MSME)-দের জন্য দ্রুত, প্রযুক্তি-ভিত্তিক এবং কাগজবিহীন ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।

স্টার্টআপ ইন্ডিয়া

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া স্টার্টআপ ইন্ডিয়া (Startup India) উদ্যোগের লক্ষ্য হল, উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা এবং একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম বা পরিবেশ গড়ে তোলা। এটি ভারতকে চাকরি খোঁজার দেশের পরিবর্তে চাকরি তৈরির দেশে রূপান্তর করতে চায়। সহায়তামূলক পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে সিড ফান্ড (Seed Fund), ফান্ড অব ফান্ডস (Fund of Funds), ইনভেস্টর কানেক্ট পোর্টাল এবং একটি ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম।

২০১৬ সালে মাত্র ৫০২টি স্টার্টআপ স্বীকৃতি পেয়েছিল, যা ৩০৮টি সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি করেছিল। তবে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ২.২৩ লাখেরও বেশি স্টার্টআপ স্বীকৃতি পেয়েছে, যা ২৩.৩ লাখ সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। এই দ্রুত প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ প্রসারিত করেছে। পাশাপাশি, এই স্টার্টআপগুলির প্রায় ৪৮% সংস্থায় অন্তত একজন নারী পরিচালক বা অংশীদার রয়েছেন, যা ক্রমবর্ধমান অন্তর্ভুক্তির পরিচয় দেয়।

স্পাইস প্লাস (SPICe+) ফর্ম

২০২০ সালে স্পাইস প্লাস (SPICe+) ফর্ম চালু করার মাধ্যমে ব্যবসা শুরু এবং আনুষ্ঠানিককরণের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল হয়েছে। এই সমন্বিত ওয়েব ফর্মটি তিনটি কেন্দ্রীয় সরকারি মন্ত্রক ও দপ্তরের ১১টি পরিষেবা প্রদান করে। তিনটি রাজ্য সরকার এবং দিল্লির (NCT) পরিষেবাও এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়েছে। এটি ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া, সময় এবং খরচ কমিয়ে দিয়েছে। এই ফর্মে ১০টি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াকে একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

*কোম্পানি গঠন (Incorporation),

*ডিআইএন (DIN) বরাদ্দ,

*প্যান (PAN) প্রদান,

*ট্যান (TAN) প্রদান,

*ইএসআইসি (ESIC) নিবন্ধন প্রদান,

*ইপিএফও (EPFO) নিবন্ধন প্রদান,

*পেশাগত কর (Profession Tax) নিবন্ধন প্রদান (মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক এবং পশ্চিমবঙ্গ),

*ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা,

*জিএসটিআইএন (GSTIN) বরাদ্দ (যদি আবেদন করা হয়) এবং

*দিল্লিতে গঠিত সমস্ত নতুন কোম্পানির জন্য প্রথমবার দোকান ও প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন (Shops and Establishment Registration)।

রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক তথ্য যাচাইকরণের সুবিধাযুক্ত এই দক্ষ ব্যবস্থাটি অন-স্ক্রিন ফাইলিং সহজ করে তোলে, যা কোম্পানি গঠনে দারুণ সহায়তা করে।

এমসিএ২১ (MCA21) সংস্করণ ৩

এমসিএ২১ (MCA21) প্রজেক্ট হল, একটি দূরদর্শী ও এআই (AI)-চালিত উদ্যোগ, যা ভারতের কর্পোরেট ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। এই প্ল্যাটফর্মটি কোম্পানি এবং লিমিটেড লায়াবিলিটি পার্টনারশিপ (LLP)-গুলির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিবন্ধন ও গঠন সংক্রান্ত পরিষেবার জন্য ব্যবহৃত হয়। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে এমসিএ২১ সংস্করণ ৩ চালু করা হয় এবং এতে ই-স্ক্রুটিনি (e-Scrutiny), ই-অ্যাডজুডিকেশন (e-adjudication) এবং ই-কনসালটেশন (e-consultation)-এর মতো উন্নত বৈশিষ্ট্যগুলি যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কমপ্লায়েন্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (নিয়মপালন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি) এবং এমসিএ ল্যাব-ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মোট প্রায় ৩.৮৪ কোটি ফাইলিং করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩.৩৩ কোটি ফাইলিং 'স্ট্রেইট থ্রু প্রসেস' (Straight Through Process)-এর মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে। এটি প্রক্রিয়াগত সময় কমিয়েছে, মানুষের হস্তক্ষেপ ন্যূনতম করেছে এবং ব্যবসার জন্য নিয়মকানুনের বাধ্যবাধকতা পালন আরও সহজ করেছে।

উদ্যম নিবন্ধন পোর্টাল

প্রক্রিয়াগত বাধা দূর করতে এবং এমএসএমই (MSME) নিবন্ধন সহজ করতে, সরকার আরও সহজ ও প্রযুক্তি-ভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করেছে। ২০২০ সালের জুলাই মাসে উদ্যম নিবন্ধন পোর্টাল (Udyam Registration Portal) চালু করা হয়। এটি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই-দের জন্য একটি নিখরচায়, কাগজবিহীন এবং স্ব-ঘোষণা-ভিত্তিক (self-declaration-based) ব্যবস্থা প্রদান করে। উদয়ম পোর্টালে এমএসএমই নিবন্ধন ২০২০ সালের অক্টোবর মাসের ১০.০২ হাজার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালের ৫ জুনের মধ্যে ৮৫৮ হাজারের বেশি হয়েছে।

সিবিডিটি (Central Board of Direct Taxes) এবং জিএসটিএন (GST Network) ডাটাবেসের সাথে পোর্টালটিকে যুক্ত করার মাধ্যমে, এটি একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং নথিপত্র-বিহীন নিবন্ধনের অভিজ্ঞতা প্রদান করে, যা প্রশাসনিক বাধাগুলি দূর করে।

সম্পত্তি নিবন্ধন সহজীকরণ

ব্যবসায়িক প্রবেশ সংস্কারের পাশাপাশি, সরকার সম্পত্তি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার জন্যও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতে সম্পত্তি নিবন্ধন ঐতিহ্যগতভাবেই একটি চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়া ছিল, যা বিবাদ, জালিয়াতি এবং অদক্ষ ম্যানুয়ালি বা হাতে-কলমে করার পদ্ধতির কারণে চিহ্নিত হতো। তবে, ডিজিটাল রূপান্তর এবং রাজ্য-পর্যায়ের সংস্কারগুলি ভূমি প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে।

ডিজিটাল ইন্ডিয়া ল্যান্ড রেকর্ডস মডার্নাইজেশন প্রোগ্রাম (DILRMP)

ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকীকরণ এবং জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ কমানোর লক্ষ্যে ২০১৬ সালে ডিআইএলআরএমপি (DILRMP) চালু করা হয়। এই কর্মসূচি ভূমি রেকর্ড সংরক্ষণ ব্যবস্থার নির্ভুলতা বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে, ভূমি প্রশাসন কার্যত “ইন-লাইন” পদ্ধতি থেকে “অনলাইন” পদ্ধতিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

ডিআইএলআরএমপি (DILRMP) সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে:

  • মানচিত্রের ডিজিটালাইজেশন: দেশের ৯৭.৩৭% ক্যাডাস্ট্রাল মানচিত্র (cadastral maps) ডিজিটালাইজড করা হয়েছে।
  • বস্তুত, ১৯টি রাজ্যের নাগরিক এখন বাড়ি বসেই ডিজিটালভাবে স্বাক্ষরিত, আইনগতভাবে বৈধ ভূমি রেকর্ড ডাউনলোড করতে পারেন, এবং ৪০৬টি জেলার ব্যাংকগুলি অনলাইনে বন্ধক যাচাই করতে পারে, যা ঋণ প্রাপ্তির গতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
  • নকশা বা 'নকশা' (National Geospatial Knowledge-based Land Survey of Urban Habitations - NAKSHA) পাইলট কর্মসূচিও শহুরে ভূমি খণ্ডগুলির একটি বিস্তৃত, জিআইএস-সমন্বিত (GIS-integrated) ডাটাবেস তৈরি করছে। উল্লেখ্য, ১১৬টি শহুরে স্থানীয় সংস্থায় (লক্ষ্যের ৮৭%) আকাশপথের মাধ্যমে সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে, যা উচ্চ-রেজোলিউশন ইমেজের মাধ্যমে প্রায় ৫,৯১৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত (ডিসেম্বর, ২০২৫)।
  • ইউনিক ল্যান্ড পার্সেল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ULPIN) হল ভূ-স্থানাঙ্কের (geo-coordinates) ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ১৪-সংখ্যার আলফানিউমেরিক কোড এবং এটিকে "জমির আধার" হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত, ২৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে ৩৬ কোটিরও বেশি ভূমি খণ্ডের জন্য ইউএলপিআইএন (ULPIN) বরাদ্দ করা হয়েছে। এটি নকল বা দ্বৈততা দূর করে, বেনামী লেনদেন রোধ করে এবং একটি সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থার পথ প্রশস্ত করে।

ন্যাশনাল জেনেরিক ডকুমেন্ট রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (NGDRS): এক দেশ, এক নিবন্ধন

এনজিডিআরএস (NGDRS) সম্পত্তি এবং দলিল নিবন্ধনের জন্য একটি সম্পূর্ণ ইউজার ইন্টারফেস প্রদান করে সম্পত্তি লেনদেনকে সহজ ও গতিশীল করেছে, যা ব্যবসা করার সহজলভ্যতাকে (EoDB) উৎসাহিত করে। এই অ্যাপ্লিকেশনটি নাগরিকদের অনলাইনে জমি কিনতেও সাহায্য করে। ক্রেতারা জমির সার্কেল রেট জানতে পারেন, বর্তমান হার অনুযায়ী সম্পত্তির মূল্যায়ন হিসাব করতে পারেন এবং জমির ধরন বুঝতে পারেন।

এটি ভারতের ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ৮৮.৬% সাব-রেজিস্ট্রার অফিস (SRO) রাজস্ব অফিসগুলোর সাথে যুক্ত হয়েছে, যার ফলে, নিবন্ধনের পরপরই ভূমি রেকর্ডের স্বয়ংক্রিয় মিউটেশন বা নামপত্তন সম্ভব হচ্ছে।

অনুমতি প্রক্রিয়ার সহজীকরণ

আগের সংস্কারগুলির পরিপূরক হিসেবে, অনুমতি (পারমিট) প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং প্রক্রিয়াগত বিলম্ব কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালের আগে, ব্যবসায়িক পারমিট এবং লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রায়শই দীর্ঘ প্রক্রিয়া, ব্যাপক নথিপত্র এবং একাধিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। বিগত বছরগুলিতে, সরকার অনুমোদন প্রক্রিয়াগুলিকে সহজ ও ডিজিটাল করতে উল্লেখযোগ্য সংস্কার করেছে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে শ্রম বিধি (Labour codes) চালু করার মাধ্যমে অনুমতি বা পারমিট প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। পেশাগত সুরক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কাজের পরিবেশ সংক্রান্ত বিধি (OSH), ২০২০-এর মাধ্যমে ১৩টি কেন্দ্রীয় শ্রম আইনকে একটি একক বিস্তৃত আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। অনুমতি প্রক্রিয়াটিকে সহজ করতে এটি নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলোও এনেছে:

  • ইলেকট্রনিক বা বৈদ্যুতিন উপায়ে একক নিবন্ধন, একক রিটার্ন, পাঁচ বছরের জন্য বৈধ একক সর্বভারতীয় লাইসেন্স এবং 'ডিমড অ্যাপ্রুভাল' বা অনুমিত অনুমোদন ব্যবস্থা ব্যবসা করার সহজলভ্যতাকে উৎসাহিত করেছে। এই পদক্ষেপগুলি প্রক্রিয়াগত বিলম্ব কমায়, নিয়মপালনের খরচ হ্রাস করে এবং নতুন ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার গতি বাড়ায়।
  • প্রতিষ্ঠানগুলির ইলেকট্রনিক বা বৈদ্যুতিন উপায়ে নিবন্ধনের জন্য ন্যূনতম ১০ জন কর্মচারীর একটি অভিন্ন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি ১০ বা তার বেশি কর্মী থাকা সমস্ত প্রতিষ্ঠানে পেশাগত সুরক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণমূলক মানদণ্ডের সার্বজনীন প্রয়োগ নিশ্চিত করে।
  • একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ছয়টি পৃথক নিবন্ধনের পরিবর্তে মাত্র একটি নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এটি সমন্বয় এবং প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা বাড়াতে একটি কেন্দ্রীভূত ডাটাবেস বা তথ্যভাণ্ডার তৈরি করে।
  • কারখানার লাইসেন্স পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মচারীর ন্যূনতম সংখ্যা বিদ্যুৎচালিত কারখানার ক্ষেত্রে ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০ এবং বিদ্যুৎবিহীন কারখানার ক্ষেত্রে ২০ থেকে বাড়িয়ে ৪০ করা হয়েছে।
  • তাছাড়া, কারখানা নির্মাণ বা সম্প্রসারণের অনুমতি দেওয়ার জন্য ৩০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে 'অনুমিত অনুমতি' (deemed permission)-র বিধান রাখা হয়েছে।
  • প্রচলিত “ইন্সপেক্টর রাজ”-এর প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে সাধারণ পরিদর্শকদের পরিবর্তে “ইন্সপেক্টর-কাম-ফ্যাসিলিটেটর” ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, একটি র‌্যান্ডমাইজড ওয়েবভিত্তিক পরিদর্শন ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় পরিদর্শকেরা কেবল তদারকির ভূমিকা পালন করেন না, বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করেন এবং নিয়োগকর্তাদের আইন, বিধি ও নিয়মকানুন যথাযথভাবে মেনে চলতে সহযোগিতা করেন।

এছাড়াও, সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে শিল্পকারখানাগুলির জন্য সম্মতির নিয়মাবলী সহজ ও গতিশীল করতে সরকার 'বায়ু (দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৮১' এবং 'জল (দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৭৪'-এর অধীনে বিজ্ঞাপিত 'ইউনিফর্ম কনসেন্ট গাইডলাইনস' বা অভিন্ন সম্মতি নির্দেশিকা সংশোধন করেছে।

  • একটি বড় সংশোধন হলো 'কনসেন্ট টু অপারেট' (CTO) বা পরিচালনার সম্মতির বৈধতা সংক্রান্ত। সংশোধিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, সিটিও (CTO) একবার দেওয়া হলে, সেটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত বৈধ থাকবে। এটি বারবার নবায়নের প্রয়োজনীয়তা দূর করে, নথিপত্রের কাজ কমায়, শিল্পকারখানাগুলির ওপর নিয়মপালনের বোঝা হ্রাস করে এবং শিল্প পরিচালনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে।
  • বিজ্ঞাপিত শিল্পতালুক বা শিল্পাঞ্চলগুলিতে অবস্থিত ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্পগুলোর (Micro and Small Enterprises) জন্য বিশেষ বিধান চালু করা হয়েছে। এই ধরনের ইউনিটগুলির ক্ষেত্রে, 'কনসেন্ট টু এস্টাবলিশ' বা স্থাপনের সম্মতি একটি স্ব-প্রত্যয়িত আবেদন জমা দেওয়ার সাথে সাথেই অনুমোদিত বলে গণ্য করা হয়, কারণ সংশ্লিষ্ট জমিটি আগেই পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
  • এই সংশোধনীগুলি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে পাঁচ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত মেয়াদের জন্য এককালীন 'কনসেন্ট টু অপারেট' ফি নির্ধারণ করার অনুমতি দেয়। এটি বারবার ফি সংগ্রহ এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকরণের ঝামেলা কমায়।
  • এর পাশাপাশি, ২০১৬ সালে শিল্পকারখানাগুলোর পরিদর্শন প্রক্রিয়া উন্নত করার জন্য, সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড (কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড) কমিটি এবং রাজ্য বোর্ডগুলিকে পর্যায়ক্রমিক শিল্প পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছিল। দূষণ সূচকের ভিত্তিতে শিল্পগুলোকে "লাল, কমলা এবং সবুজ" (Red, Orange, and Green) বিভাগে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছিল। এগুলি যথাক্রমে প্রতি ছয় মাস, এক বছর এবং দুই বছর পর পর পরিদর্শন করা হত। এই নতুন শ্রেণীকরণ একটি পরিচ্ছন্ন ও জবাবদিহিতামূলক নিয়ন্ত্রক পরিবেশকে সমর্থন করে এবং একই সাথে ঝুঁকিনির্ভর ও অনুমানযোগ্য নিয়মপালন নিশ্চিত করে। এছাড়াও, লাল তালিকাভুক্ত (Red Category) শিল্পগুলির সম্মতি অনুমোদনের প্রক্রিয়াগত সময় ১২০ দিন থেকে কমিয়ে ৯০ দিন করা হয়েছে।

ন্যাশনাল সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম (NSWS)

এনএসডাব্লিউএস (NSWS) হচ্ছে একটি একক উইন্ডো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবসার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী অনুমোদনগুলি চিহ্নিত করতে এবং সেগুলির জন্য আবেদন করতে সহায়তা করে। এটি অনুমোদন পাওয়ার সময়সীমা কমায়, নথিপত্র রাখার ভাণ্ডারকে (document repositories) সুরক্ষিত করে এবং দ্রুততার সাথে যেকোনো জিজ্ঞাসার সমাধান নিশ্চিত করে। এই ব্যবস্থাটি ৩২টি কেন্দ্রীয় দপ্তর এবং ৩৪টি রাজ্য সরকারের অনুমোদন প্রক্রিয়াকে এক সুতোয় বেঁধেছে। এটি ৬৮৬টিরও বেশি কেন্দ্রীয় এবং ৭,৪৯৮টি রাষ্ট্রীয় অনুমোদনের সুবিধা প্রদান করে। ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে, ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর পর্যন্ত এনএসডাব্লিউএস ৮,২৯,৭৫০টিরও বেশি অনুমোদন দিয়েছে।

পরিবেশ (PARIVESH) ২.০ (প্রো-অ্যাক্টিভ অ্যান্ড রেসপনসিভ ফ্যাসিলিটেশন বাই ইন্টারঅ্যাক্টিভ, ভার্চুয়াস, অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সিঙ্গল উইন্ডো হাব)

পরিবেশ (PARIVESH) পোর্টালটি ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে চালু করা হয় পরিবেশগত ছাড়পত্র (EC), বন ছাড়পত্র (FC), বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অনুমোদন (WL) এবং উপকূলীয় নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল (CRZ) সংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করার উদ্দেশ্যে। এর ফলে, ২০২৫-২৬ সালে পরিবেশগত ছাড়পত্র অনুমোদনের গড় সময় নির্ধারিত ১০৫ দিনের পরিবর্তে কমে ৬৪ দিনে নেমে এসেছে। পূর্বে জটিল ও সময়সাপেক্ষ এই সবুজ ছাড়পত্র প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও কেন্দ্রীয়করণের মাধ্যমে এটি ভারতের ব্যবসা পরিচালনার সহজতা (EoDB) বৃদ্ধি করেছে।

সমষ্টিগতভাবে, এই সংস্কারগুলি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুমোদন ও ছাড়পত্র প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করেছে এবং ব্যবসা পরিচালনায় সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলেছে।

বাজার সংযোগ ব্যবস্থার সুদৃঢ়করণ

ডিজিটাল সরকারি ক্রয় প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল বাণিজ্য নেটওয়ার্ক এবং সমন্বিত লজিস্টিকস সংস্কারের মাধ্যমে সরকার ব্যবসার জন্য বাজারে প্রবেশের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। সারা দেশের ক্রেতা, বিক্রেতা, উৎপাদক এবং পরিষেবা প্রদানকারীদের একত্রিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলি প্রান্ত-থেকে-প্রান্ত সমাধান, বৃহত্তর বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ এবং আরও দক্ষ সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত করে, যা বিশেষভাবে এমএসএমই এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলিকে উপকৃত করছে।

বহুমুখী পরিবহন সংযোগের উন্নয়ন এবং পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের ফলে ২০১৪ সালের পর ভারতের লজিস্টিকস প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাংকের লজিস্টিকস পারফরম্যান্স সূচকে ভারত ৩৮তম স্থান অর্জন করেছে, যা ২০১৪ সালের ৫৪তম স্থান থেকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি। জিইএম (GeM), ওএনডিসি (ONDC), প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি (PM GatiShakti), এনএলপি (মেরিন) এবং এলডিবি ২.০-এর মতো উদ্যোগগুলি সম্মিলিতভাবে অন্তর্ভুক্তি, স্বচ্ছতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করে ব্যবসা পরিচালনার সহজতা (EoDB) আরও উন্নত করছে।

জেএম বা জেম (GeM - Government e-Marketplace)

সরকারি কেনাকাটাকে ডিজিটাল, আরও গতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য ২০১৬ সালে জেম (GeM) চালু করা হয়। এই ই-মার্কেটপ্লেসটি নারী উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোগ (MSE), কারিগর, স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG) এবং দিব্যাঙ্গজনদের (প্রতিবন্ধী বা বিশেষভাবে সক্ষম  ব্যক্তি) মূলধারার কেনাকাটার সাথে যুক্ত করে।

জেম (GeM) মোট ১৮.৪ লাখ কোটি টাকার গ্রস মার্চেন্ডাইজ ভ্যালু (GMV) অর্জন করেছে, যার মধ্যে ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষেই এটি ৫ লাখ কোটি টাকার জিএমভি (GMV) ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মোট অর্ডারের ৬৮% ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোগগুলোর (MSE) দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট জিএমভি-র ৪৭.১%। বস্তুত, ৩৫,৭০৫টিরও বেশি স্টার্টআপের জন্য বাজারের সুযোগ সহজ করে জেম "মেক ইন ইন্ডিয়া" উদ্যোগকে সমর্থন জোগাচ্ছে। এই স্টার্টআপগুলো সম্মিলিতভাবে ৫১,৪৯৪ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের অর্ডার সম্পন্ন করেছে।

এছাড়া, ২.০৪ লাখেরও বেশি নারী-পরিচালিত ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোগ (MSE) জেম (GeM)-এ নিবন্ধিত রয়েছে, যারা ৭৯,২৩১ কোটি টাকা মূল্যের ৪২ লাখেরও বেশি অর্ডার সম্পন্ন করেছে (ডিসেম্বর ২০২৫)। জেম-এর পরিচালনায় প্রযুক্তি একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে চলেছে। এই প্ল্যাটফর্মটি জবাবদিহিতা জোরদার করতে, প্রক্রিয়াগুলোকে গতিশীল করতে এবং কেনাকাটা ব্যবস্থার সততা উন্নত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও মেশিন লার্নিং (ML)-এর সুবিধা ব্যবহার করে। জেম দেশের ১০০% রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নিজের আওতায় নিয়ে এসেছে। এর ই-লার্নিং প্রশিক্ষণ কোর্সগুলি ১২টি সরকারি ভাষায় উপলব্ধ রয়েছে - অসমীয়া, বাংলা, ইংরেজি, গুজরাটি, হিন্দি, কন্নড়, মালায়লাম, মারাঠি, ওড়িয়া, পাঞ্জাবি, তামিল এবং তেলুগু, যা বিভিন্ন ব্যবহারকারীর প্রয়োজন পূরণ করে। জেম খণ্ড-বিখণ্ড দরপত্র বা বিডিং ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি স্মার্ট এবং সুস্থায়ী ব্যবস্থা চালু করে ব্যবসা করার সহজলভ্যতাকে (EoDB) বৃদ্ধি করে, যা এমএসএমই (MSME)-দের জন্য বাজারে প্রবেশের বাধাগুলো দূর করে।

ওএনডিসি (ওপেন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কমার্স)

ওএনডিসি (ONDC) এমন একটি উদ্যোগ যার লক্ষ্য ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পণ্য ও পরিষেবা বিনিময়ের সমস্ত ক্ষেত্রে উন্মুক্ত নেটওয়ার্ককে উৎসাহিত করা। ডিজিটাল কমার্স বা অনলাইন বাণিজ্যকে সবার জন্য উন্মুক্ত (democratize) করতে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে এটি চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে ৬১৬টিরও বেশি শহর জুড়ে ৭.৬৪ লাখের বেশি বিক্রেতা এবং পরিষেবা প্রদানকারী ছড়িয়ে রয়েছেন। উন্মুক্ত প্রোটোকলকে উৎসাহিত করে এবং একচেটিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে, ওএনডিসি ই-কমার্স ক্ষেত্রে নতুনত্ব ও অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ব্যবসা করার সহজলভ্যতাকে (EoDB) ত্বরান্বিত করছে।

পিএম গতিশক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যান

সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে ২০১৪ সাল থেকে ভারতের লজিস্টিকস (পরিবহন ও সরবরাহ) ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। আগে, লজিস্টিকস পরিকল্পনা বিভিন্ন পরিবহন মাধ্যমের মধ্যে খণ্ড-বিখণ্ড অবস্থায় ছিল, যা খরচ বাড়িয়ে দিত এবং সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খলের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিত। ২০২১ সালের অক্টোবরে চালু হওয়া 'পিএম গতিশক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যান' হল সমন্বিত পরিকাঠামো পরিকল্পনা এবং মাল্টিমোডাল (বহুমুখী) সংযোগ ব্যবস্থার জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।

  • এটি সমন্বিত অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের জন্য ৩,১৯৯টি ডেটা লেয়ারসহ একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ৫৮টি কেন্দ্রীয় মন্ত্রক এবং সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে যুক্ত করেছে।
  • এই ইউনিফাইড জিওস্পেশিয়াল ইন্টারফেসটি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত এবং লজিস্টিকস পরিকল্পনায় সহায়তা করার জন্য ২৩০টি কিউরেটেড (নির্বাচিত) ডেটাসেট প্রদান করে।
  • ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, নেটওয়ার্ক প্ল্যানিং গ্রুপ ১৬.১০ লাখ কোটি টাকা মূল্যের ৩৫২টি প্রকল্প মূল্যায়ন করেছে, যার মধ্যে ২০১টি অনুমোদিত হয়েছে এবং ১৬৭টি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
  • পরিবহন ও লজিস্টিকস পরিকাঠামোর সমন্বিত পরিকল্পনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই পরিকল্পনাটি প্রক্রিয়াগত বিলম্ব কমায়। সম্পদের অনর্থক পুনরাবৃত্তি রোধ করে এবং বহুমুখী সংযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে এই পরিকল্পনাটি ব্যবসা করার সহজলভ্যতাকে বৃদ্ধি করে।

ন্যাশনাল লজিস্টিকস পোর্টাল (মেরিন)

ন্যাশনাল লজিস্টিকস পোর্টাল (মেরিন) এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা সামুদ্রিক লজিস্টিকস (পরিবহন ও সরবরাহ) কার্যক্রমকে সহজ ও গতিশীল করতে সরকারি এবং ব্যবসায়িক পরিষেবাগুলিকে একসঙ্গে যুক্ত করে। এটি রপ্তানিকারক, আমদানিকারক এবং সামুদ্রিক লজিস্টিকস পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য একটি একক উইন্ডো (single-window) প্ল্যাটফর্ম। লজিস্টিকস খরচ এবং সময় অপচয় কমাতে ২০২৩ সালে এটি চালু করা হয়েছিল। এটি নথিপত্র আদান-প্রদান এবং রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক কার্গো ট্র্যাকিং (পণ্য পরিবহন নজরদারি)-সহ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ডিজিটাল লজিস্টিকস সমাধানের সুবিধা দেয়। এটি একটি সমন্বিত ইন্টারফেসের মাধ্যমে শিপিং এবং কন্টেইনার ফ্রেইট (পণ্যবাহী জাহাজ) পরিষেবার জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট বা অর্থপ্রদানের সুবিধাও নিশ্চিত করে, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সহজলভ্যতাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে এর মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু হওয়ার পর থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত, এটি ভারতের বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চল জুড়ে ২১,০০০-এরও বেশি ব্যবহারকারীর একটি ভিত্তি বা নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

লজিস্টিকস ডেটা ব্যাংক (LDB 2.0)

এলডিবি (LDB) ২.০ সড়ক, রেল এবং সমুদ্রপথের নেটওয়ার্ক জুড়ে রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক মাল্টিমোডাল কার্গো ট্র্যাকিংয়ের (বহুমুখী পণ্য পরিবহন নজরদারি) মাধ্যমে ভারতের ডিজিটাল লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। গভীর সমুদ্রে কন্টেইনার ট্র্যাকিং এবং কোথায় গতি থমকে যাচ্ছে (bottlenecks) তা চিহ্নিত করার জন্য একটি লাইভ কন্টেইনার হিটম্যাপ চালু করার মাধ্যমে, এলডিবি ২.০ একটি স্বচ্ছ ও ডেটা-ভিত্তিক পরিবেশ তৈরি করে। এটি খরচ কমায় এবং সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার উন্নতি ঘটায়, যা ভারতের লজিস্টিকস খাতকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলে। ২০২৫-২৬ সালে, এটি ১০০% এক্সিম (EXIM - আমদানি ও রপ্তানি) কন্টেইনারের ওপর নজরদারি করেছে এবং প্রায় ৯.৫ কোটি (৯৫ মিলিয়ন) রপ্তানি-আমদানি কন্টেইনার পরিচালনা করেছে।

সহজে ঋণ প্রাপ্তির সুবিধা প্রদান

ব্যবসার চলতি মূলধন (working capital) পরিচালনা, কার্যক্রম সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং দৈনন্দিন পরিচালনগত প্রয়োজন মেটাতে ঋণ প্রাপ্তি অত্যন্ত জরুরি। ঠিক যেমন সহজ নিবন্ধন এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া ব্যবসা শুরু করতে সহায়তা করে, তেমনই সময়োপযোগী ও সাশ্রয়ী ঋণ ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং দক্ষতার সাথে পরিধি বাড়াতে সাহায্য করে।

২০১৪ সালের আগে, ছোট উদ্যোক্তারা জটিল নথিপত্রের মতো বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতেন অথবা অনানুষ্ঠানিক অর্থায়নের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হতেন। সরকারি পদক্ষেপগুলি শুরু হওয়ার পর থেকে, ঋণ বাজার আরও আনুষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে এবং ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সহজে ঋণ পাওয়ার সুবিধা তৈরি হয়েছে।

ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম

ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমগুলো এমএসএমই (MSME) এবং স্টার্টআপগুলির জন্য জামানত-বিহীন (collateral-free) বা তৃতীয় পক্ষের গ্যারান্টি-মুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করে ব্যবসা করার সহজলভ্যতাকে (EoDB) বৃদ্ধি করে। এই স্কিমগুলি ঋণদাতাদের ঝুঁকি কমায়, যার ফলে, উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন পাওয়া সহজ হয়, নতুন নতুন উদ্ভাবন উৎসাহিত হয় এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজতর হয়।

  • 'ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম ফর মাইক্রো অ্যান্ড স্মল এন্টারপ্রাইজেস' (CGTMSE)-এর অধীনে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১.১৫ কোটি সম্মিলিত গ্যারান্টিসহ মোট ৯.৩৪ লাখ কোটি টাকার গ্যারান্টি অনুমোদিত হয়েছে।
  • 'ইমার্জেন্সি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিম' (ECLGS)-এর অধীনে ৩.৬৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে, যার মধ্যে ২.৪৩ লাখ কোটি টাকা এমএসএমই-দের জন্য মঞ্জুর করা হয়েছে।

ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি সহজ করার মাধ্যমে, এই স্কিমগুলো মূলধন বা তহবিল পাওয়ার সাথে জড়িত সময় এবং খরচ কমাতেও সাহায্য করে।

প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা (PMMY)

প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা (PMMY) তৈরি করা হয়েছিল আর্থিক সহজলভ্যতার ব্যবধান দূর করার জন্য, যা ছোট আকারের ব্যবসাকে সহায়তা করতে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানত-বিহীন (collateral-free) ঋণ প্রদান করে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে এই স্কিমের অধীনে ৫৭ কোটিরও বেশি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৪০.০৭ লাখ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ১২ কোটিরও বেশি অ্যাকাউন্ট নতুন উদ্যোক্তাদের, যা তাদের আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে পিএমএমওয়াই (PMMY)-এর ভূমিকাকে তুলে ধরে। মুদ্রা (MUDRA) লেনদেনের ডিজিটালাইজেশন ঋণগ্রহীতাদের জন্য দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং সহজে ঋণ পাওয়ার সুবিধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

 

ঋণ হিসাবের অংশীদারিত্ব

বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণে অংশীদারিত্ব

মহিলা

৫৯.৮১%

৩৭.৪৫%

নতুন উদ্যোক্তা

২১.০০%

৩০.০৯%

এসসি, এসটি এবং ওবিসি

৪৫.৫২%

৩১.৭৭%

 

ক্রেডিট অ্যাসেসমেন্ট মডেল (CAM)

পাবলিক সেক্টর বা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলি (PSBs) ২০২৫ সালে এমএসএমই (MSME)-দের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে 'ক্রেডিট অ্যাসেসমেন্ট মডেল' (CAM) চালু করেছে। এই মডেলটি এমএসএমই-দের স্বয়ংক্রিয় ঋণ মূল্যায়নের জন্য ডিজিটালভাবে সংগৃহীত এবং যাচাইযোগ্য তথ্য ব্যবহার করে। সিএএম (CAM)-এর অধীনে পাবলিক সেক্টর ব্যাংকগুলো ৩.৯৬ লাখের বেশি এমএসএমই ঋণের আবেদন মঞ্জুর করেছে, যার মোট পরিমাণ ৫২,৩০০ কোটি টাকারও বেশি (১ এপ্রিল-২১ ডিসেম্বর ২০২৫)। এই মডেলটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় কমিয়ে আনে, যা একটি ব্যবসা-বান্ধব কাঠামো তৈরি করতে সাহায্য করে।

টিআরইডিএস (TReDS - Trade Receivables Discounting System)

ট্রেডস (TReDS) একটি ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্ম, যা একাধিক অর্থায়নকারীর মাধ্যমে এমএসএমইগুলির বাণিজ্যিক পাওনা অর্থের অর্থায়ন বা ডিসকাউন্টিংয়ের সুবিধা প্রদান করে। এই পাওনা অর্থ কর্পোরেট সংস্থা, অন্যান্য ক্রেতা, সরকারি দপ্তর এবং পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস (পিএসইউ)-এর কাছ থেকেও পাওনা হতে পারে।

এমএসএমইগুলির তারল্য বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ কেন্দ্রীয় পাবলিক সেক্টর এন্টারপ্রাইজ বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির লেনদেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ট্রেডস ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ইনভয়েস ডিসকাউন্টিংয়ের জন্য একটি ঋণ গ্যারান্টি ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। এছাড়া, জিইএম (GeM)-এর সঙ্গে ট্রেডসকে যুক্ত করার ফলে দ্রুত অর্থায়নের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে, ট্রেডসের পাওনা অর্থকে সম্পদ-সমর্থিত সিকিউরিটি (Asset-Backed Securities) হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে একটি গৌণ বাজার (Secondary Market) গড়ে উঠছে, যা লেনদেন নিষ্পত্তিকে আরও কার্যকর ও সহজতর করবে।

কর বিধি পালনের সহজীকরণ

বিগত এক দশকে, ভারত ডিজিটালাইজেশন বা ডিজিটাল রূপান্তর, সহজীকরণ এবং কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে তার কর ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে, যা করের নিয়মকানুন পালনকে (compliance) আরও সহজ এবং স্বচ্ছ করে তুলেছে। গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST), ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট (ব্যক্তিগত উপস্থিতিহীন মূল্যায়ন) এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মতো উদ্যোগগুলো প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমিয়ে দিয়েছে। এই সংস্কারগুলি করদাতাদের ওপর থেকে বোঝা হ্রাস করেছে, আনুষ্ঠানিককরণকে (formalisation) উৎসাহিত করেছে এবং একটি আরও অনুমানযোগ্য ও ব্যবসা-বান্ধব কর পরিবেশ তৈরি করেছে।

পণ্য ও পরিষেবা কর (Goods and Services Tax - GST)

জিএসটি (GST) ২০১৭ সালে চালু করা হয়েছিল এবং এটি একটি খণ্ড-বিখণ্ড ও জটিল পরোক্ষ কর ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করেছিল, যা ব্যবসা ও ভোক্তা উভয়ের ওপরই বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জিএসটি-র আগে, কর কাঠামোর মধ্যে ছিল আবগারি শুল্ক (excise duty), পরিষেবা কর (service tax), ভ্যাট (VAT), সিএসটি (CST) এবং আরও অনেক ধরনের ট্যাক্স। এই করগুলোর প্রতিটির নিজস্ব নিয়মপালনের চ্যালেঞ্জ এবং ত্রুটি ছিল। এই বহুবিধ করের কারণে ব্যবসা করার খরচ বেড়ে গিয়েছিল এবং করের বাধার কারণে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পণ্যের নির্বিঘ্ন চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটত।

এছাড়া, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ঘোষিত জিএসটি সংস্কারগুলি সহজে  ব্যবসা করার ব্যবস্থাকে (EoDB) আরও গতিশীল করেছে। একটি সহজ দুই-হারের কাঠামোতে (two-rate structure) এই রূপান্তর নিয়মপালন এবং লেনদেনের খরচ কমিয়ে দেয়, আর অন্যদিকে হারের যৌক্তিকীকরণ খরচ সাশ্রয়ী করতে সাহায্য করে এবং উদ্যোক্তা হওয়াকে উৎসাহিত করে।

এর প্রভাব করের পরিধি বা ট্যাক্স বেসের প্রসারণে প্রতিফলিত হয়, যেখানে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা ২০১৭ সালের প্রায় ৬০ লাখ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিলে ১.৬৪ কোটিরও বেশি হয়েছে, যা আরও গভীর আনুষ্ঠানিককরণের (formalisation) ইঙ্গিত দেয়।

জিএসটি-কে এর ডিজিটাল মেরুদণ্ড অর্থাৎ জিএসটিএন (GSTN) প্ল্যাটফর্মও সহায়তা জোগায়। এটি এক কোটিরও বেশি করদাতার জন্য একটি সমন্বিত ইন্টারফেস প্রদান করে, যা অনায়াসে বিটুবি (B2B) ইলেকট্রনিক ইনভয়েসিং নিশ্চিত করে। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই পোর্টালের মাধ্যমে ১০৭.৬৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থপ্রদান বা পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই স্বয়ংক্রিয় ইকোসিস্টেমটি একটি সুবিন্যস্ত এবং প্রযুক্তি-চালিত রাজস্ব কাঠামো গড়ে তোলে।

ব্যক্তিগত উপস্থিতিহীন মূল্যায়ন (Faceless Assessment)

বহু পুরনো হাতে-কলমে কর মূল্যায়নের (manual assessment) পদ্ধতি বদলে ফেলার লক্ষ্যে ২০১৯ সালে 'ই-অ্যাসেসমেন্ট স্কিম' (E-Assessment Scheme) চালু করা হয়েছিল। এই স্কিমের উদ্দেশ্য ছিল কর প্রশাসন ব্যবস্থার ভেতরের অনভিপ্রেত বা অনাকাঙ্ক্ষিত চর্চাগুলি বন্ধ করা। এর ফলে, করদাতা এবং কর কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি দেখা করার বা যোগাযোগের (physical interface) প্রয়োজনীয়তা দূর হয়েছে। এই মূল্যায়ন ব্যবস্থাটি বড় আকারের পরিচালনা (economies of scale) এবং কার্যকরী বিশেষায়নের (functional specialization) মাধ্যমে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে।

নতুন আয়কর ই-ফাইলিং পোর্টাল (New Income Tax e-Filing Portal)

আয়কর বিভাগ ২০২১ সালের জুনে একটি নতুন ই-ফাইলিং পোর্টাল চালু করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো করদাতাদের আরও বেশি সুবিধা এবং একটি আধুনিক ও নির্বিঘ্ন অভিজ্ঞতা প্রদান করা। পোর্টালটি দ্রুত রিফান্ড বা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য আইটিআর (ITR)-এর তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়াকরণ নিশ্চিত করে। এটি সমস্ত পারস্পরিক যোগাযোগ এবং বকেয়া কাজগুলোর জন্য একটি একক ড্যাশবোর্ড প্রদান করে। আগে থেকে পূরণ করা তথ্যসহ বিনামূল্যে আইটিআর (ITR) তৈরির টুলগুলি করদাতাদের পরিশ্রম কমাতে সাহায্য করে। এর উন্নত সহায়তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs), টিউটোরিয়াল এবং চ্যাটবট বা কল সেন্টারের সাহায্য। পোর্টালে নেট ব্যাংকিং, ইউপিআই (UPI), ক্রেডিট কার্ড এবং আরটিজিএস/এনইএফটি (RTGS/NEFT)-সহ একাধিক ডিজিটাল পেমেন্টের বা অর্থপ্রদানের বিকল্পও রয়েছে।

ই-ওয়ে বিল (E-Way Bill)

ই-ওয়ে বিল ব্যবস্থা ভারতে লজিস্টিকস খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এটি পণ্য পরিবহনের জন্য বিভিন্ন রাজ্যভিত্তিক অনুমতিপত্রের পরিবর্তে একটি একক ইলেকট্রনিক নথি চালু করেছে। এই সংস্কারের ফলে স্থায়ী সীমান্ত চেকপোস্টের প্রয়োজনীয়তা দূর হয়েছে, পরিবহন সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং কর-অনুবর্তিতা (ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স) বৃদ্ধি পেয়েছে।

জুলাই ২০১৮ থেকে মার্চ ২০১৯ সময়কালে যেখানে ১৫.৭৪ কোটি ই-ওয়ে বিল তৈরি হয়েছিল, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৮৮.২৭ কোটিতে পৌঁছেছে। এটি ডিজিটাল বাণিজ্য এবং লজিস্টিকস ব্যবস্থার আরও শক্তিশালী সমন্বয়ের প্রতিফলন।

আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য দক্ষতার উন্নয়ন

নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক সংস্কার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভারত আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যে (cross-border trade) আমূল পরিবর্তন এনেছে। যেহেতু বাণিজ্য ব্যবসায়িক জীবনচক্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই এটি সংস্থাগুলিকে বিশ্ববাজারের সাথে যুক্ত হতে, ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে এবং প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ ঘোষিত পদক্ষেপগুলি, যেমন 'কাস্টমস ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেম' (CIS), বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসা করার সহজলভ্যতাকে (EoDB) আরও শক্তিশালী করে তোলে। অতিরিক্ত পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে অনাবাসীদের (non-residents) জন্য মিনিমাম অল্টারনেট ট্যাক্স (MAT) বা ন্যূনতম বিকল্প কর থেকে ছাড় এবং শুল্ক স্থগিত রাখার বর্ধিত সময়সীমা (extended duty deferral period)। একত্রে, এই সংস্কারগুলি প্রক্রিয়াগুলিকে আরও সুবিন্যস্ত করেছে, লেনদেনের খরচ কমিয়েছে এবং ভারতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য একটি আরও বেশি কার্যকর বাণিজ্য পরিবেশ তৈরি করেছে।

ডিস্ট্রিক্টস অ্যাজ এক্সপোর্ট হাবস (DEH) উদ্যোগ

“জেলা রপ্তানি কেন্দ্র” (Districts as Export Hubs বা DEH) উদ্যোগের লক্ষ্য হল, তৃণমূল স্তরে রপ্তানি, উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা। রপ্তানি প্রসার এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য দেশের সব ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রাজ্য/জেলা রপ্তানি উন্নয়ন কমিটি (SEPCs) গঠন করা হয়েছে। মোট ৫৯০টি জেলার জন্য খসড়া জেলা রপ্তানি কর্মপরিকল্পনা (DEAPs) প্রস্তুত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৪৯টির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানিকারকদের সমস্যার সমাধানের জন্য বিভিন্ন প্রচার ও যোগাযোগমূলক কর্মসূচিও আয়োজন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ স্থানীয় রপ্তানিকারক ও উৎপাদকদের ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশে সহায়তা করে। পাশাপাশি, এটি দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন রপ্তানিকারক তৈরি এবং পণ্য ও পরিষেবার জন্য নতুন বাজার চিহ্নিত করতেও সহায়তা করে।

রপ্তানি উন্নয়ন মিশন (Export Promotion Mission)

রপ্তানি উন্নয়ন মিশন (EPM) একটি প্রধান উদ্যোগ যা রপ্তানি ব্যবস্থার প্রধান উপাদানগুলোতে সমন্বিত সহায়তা প্রদানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি বাণিজ্য অর্থায়ন (trade finance), মানদণ্ড পালন (standards compliance), লজিস্টিকস (পরিবহন ও সরবরাহ), বিদেশী গুদামজাতকরণ এবং বাজারের উন্নয়নেও সহায়তা করে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুমোদিত এই মিশনটি একটি একক, সমন্বিত এবং ডিজিটালভাবে পরিচালিত কাঠামোর অধীনে একাধিক রপ্তানি-সহায়তামূলক পদক্ষেপকে একত্রে নিয়ে এসেছে। এটি দুটি সমন্বিত উপ-প্রকল্প বা কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়: 'নির্যাত প্রোটসাহান' এবং 'নির্যাত দিশা'। 'নির্যাত প্রোটসাহান' আর্থিক সহায়ক এবং বাণিজ্য-অর্থায়ন সহায়তার ওপর জোর দেয়। অন্যদিকে, 'নির্যাত দিশা' অ-আর্থিক, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং সামগ্রিক পরিবেশগত সহায়ক বিষয়গুলির সমাধান করে। সর্বোপরি, ইপিএম (EPM) রপ্তানির প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা বাড়াতে এবং বিশ্বজুড়ে ভারতের উপস্থিতি প্রসারিত করতে চায়।

আইসিগেট (ICEGATE) - ভারতীয় শুল্ক বিভাগের ইলেকট্রনিক গেটওয়ে।

আইসগেট (ICEGATE) ভারতীয় শুল্ক বিভাগ (customs) এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সমস্ত ইলেকট্রনিক বা বৈদ্যুতিন যোগাযোগের একটি কেন্দ্রীভূত কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এটি ই-ফাইলিং, অনলাইনে সংশোধনী জমা দেওয়া, অনলাইনে শুল্ক প্রদান এবং যেকোনো জিজ্ঞাসার সমাধানের মতো বিভিন্ন পরিষেবা প্রদান করে। এটি ব্যবসায়ীদের জন্য ইন্টিগ্রেটেড গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (IGST) রিফান্ড প্রক্রিয়াকরণের সুবিধাও দেয়। এই গেটওয়েটি আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যে শুল্ক প্রক্রিয়াকে সহজ ও গতিশীল করে, যা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের জন্য কাজ করা সহজ করে তোলে। বিলস অব এন্ট্রি (Bills of Entry) ফাইলিং ২০১৯ সালের এপ্রিলের প্রায় ৪ লাখ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ৫.৮৯ লাখ হয়েছে, যা ডিজিটাল শুল্ক প্রক্রিয়াকরণ এবং বাণিজ্য কার্যক্রমের প্রবৃদ্ধিকে প্রতিফলিত করে।

ই-সিওও (eCoO - এনহ্যান্সড সার্টিফিকেট অব অরিজিন) ২.০ সিস্টেম

ই-সিওও (eCoO) ২.০ সিস্টেম হলো একটি ডিজিটাল আপগ্রেড বা উন্নত সংস্করণ, যা রপ্তানিকারকদের জন্য শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট পাওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। এতে একটি একক ইমপোর্টার এক্সপোর্টার কোড (IEC)-এর অধীনে একাধিক ব্যবহারকারীর প্রবেশের মতো ব্যবহারকারী-বান্ধব সুবিধা রয়েছে। এই ব্যবস্থায় আধার-ভিত্তিক ই-সাইনিং (e-signing) এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement)-র তথ্যের জন্য একটি সমন্বিত ড্যাশবোর্ডও রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলি বাণিজ্যের ধারাবাহিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করে। "ইন-লিও" (পরিবর্তে) সার্টিফিকেট অব অরিজিনের জন্য সহজ অনলাইন আবেদনের সুযোগ দিয়ে এই সিস্টেমটি রপ্তানিকারকদের সংশোধনের অনুরোধ করার অনুমতি দেয়। বাণিজ্য সহজীকরণের এই উদ্যোগটি শংসাপত্র প্রক্রিয়াকে গতিশীল করেছে এবং রপ্তানিকারকদের জন্য প্রয়োজনীয় সময় কমিয়ে এনেছে। প্ল্যাটফর্মটি প্রতিদিন ৭,০০০-এরও বেশি ই-সিওও (eCoO) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক (preferential) এবং অ-অগ্রাধিকারমূলক (non-preferential) উভয় শংসাপত্রই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এটি ১২৫টি প্রদানকারী সংস্থাকে যুক্ত করেছে (জানুয়ারি, ২০২৫)।

ট্রেড কানেক্ট ই-প্ল্যাটফর্ম

ট্রেড কানেক্ট ই-প্ল্যাটফর্ম এমএসএমই (MSME)-সহ সমস্ত রপ্তানিকারকদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত বিস্তৃত তথ্য ও পরিষেবা প্রদান করে, যা তাদের বিশ্ববাজারে সহজে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে। এটি বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশনগুলির সাহায্যে বিশ্বব্যাপী ক্রেতা এবং ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুবিধা দেয়। বর্তমানে, এতে ২০ লাখের বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছেন এবং ৫ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত ৩৫ লাখেরও বেশি সার্টিফিকেট অব অরিজিন (উৎপত্তি শংসাপত্র) প্রদান করা হয়েছে।

ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিজিটাল জন-অবকাঠামো) ব্যবস্থার প্রসার

ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিজিটাল জন-অবকাঠামো) বিগত এক দশকে অর্থপ্রদান (পেমেন্ট), যাচাইকরণ এবং নথিপত্র ব্যবস্থাপনার প্রধান চ্যালেঞ্জগুলির সমাধান করেছে। আগে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে লেনদেনে বিলম্ব এবং কাগজের নথিপত্রের ওপর নির্ভরশীলতার মতো বাধার মুখোমুখি হতে হতো। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি এখন দ্রুত অর্থপ্রদান, নির্বিঘ্ন অনবোর্ডিং (অন্তর্ভুক্তি) এবং যাচাইকৃত ডিজিটাল রেকর্ডে নিরাপদ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে। এই উদ্যোগগুলি ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতি জুড়ে ডিজিটাল শাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।

ইউপিআই (UPI - ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস)

ইউপিআই (UPI) একটি রিয়েল-টাইম ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, যা ২০১৬ সালে চালু করা হয়। এটি ব্যবসার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে, কারণ এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক, স্বল্প-খরচে এবং নির্বিঘ্ন ডিজিটাল লেনদেন সম্ভব হয়েছে। এর ফলে নগদ প্রবাহের উন্নতি হয়েছে, গ্রাহকভিত্তি বিস্তৃত হয়েছে এবং সারা দেশে ব্যবসার বিকাশে সহায়তা মিলেছে। ইউপিআই একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে একটি অ্যাপের মধ্যে নিয়ে আসে এবং বিভিন্ন ধরনের সুবিধা প্রদান করে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থ স্থানান্তর, ব্যবসায়িক লেনদেনের অর্থপ্রদান এবং ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি অর্থপ্রদানের অনুরোধের সুবিধা, যা ডিজিটাল লেনদেনকে দ্রুত ও সহজ করে তোলে। এটি নিরাপদ ও দ্রুত অর্থপ্রদানের সুবিধা দেয়, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিশ্চিত করে এবং কিউআর (QR) কোডের মাধ্যমে সহজে অর্থপ্রদানের সুযোগও প্রদান করে।

এই ব্যবস্থাটি একটি একক প্ল্যাটফর্মে ৭১৩টি ব্যাংককে যুক্ত করেছে, যার ফলে, মানুষ কোন ব্যাংক ব্যবহার করছেন তা নিয়ে চিন্তা না করেই সহজে অর্থপ্রদান করতে পারেন। এই ব্যবস্থাটি এখন প্রায় ৫৪০.২৭ মিলিয়ন (৫৪.০২ কোটি) ব্যক্তি এবং ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) মার্চেন্ট বা ব্যবসায়ী ব্যবহার করছেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালনার মাধ্যমে ইউপিআই (UPI) অসাধারণ পরিধি ও গতি প্রদর্শন করেছে। বার্ষিক লেনদেনের সংখ্যা ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষের মাত্র ২ কোটি লেনদেন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৪,১৬২ কোটিরও বেশি লেনদেনে পৌঁছেছে। এটি লেনদেনের পরিমাণের ক্ষেত্রে প্রায় ১২,০০০ গুণ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। সমান্তরালভাবে, লেনদেনের মূল্য ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষের ০.০৭ লাখ কোটি টাকা থেকে তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রায় ৩১৪ লাখ কোটি টাকা হয়েছে। এটি লেনদেনের মূল্যের ক্ষেত্রে ৪,০০০ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি প্রকাশ করে।

ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড (IMF) বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডার-ও লেনদেনের পরিমাণের দিক থেকে ইউপিআই-কে বিশ্বের বৃহত্তম রিয়েল-টাইম অর্থপ্রদান ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি পরিমাপযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং উদ্ভাবনী ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা জন-পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারতের নেতৃত্বকে তুলে ধরে।

সিকেওয়াইসি (cKYC - সেন্ট্রাল নো ইয়োর কাস্টমার) রেজিস্ট্রি

সিকেওয়াইসি (cKYC) রেজিস্ট্রি আর্থিক খাতে গ্রাহকদের কেওয়াইসি (KYC) রেকর্ডের একটি কেন্দ্রীভূত ভাণ্ডার। এটি সমস্ত খাত জুড়ে অভিন্ন কেওয়াইসি নিয়মাবলী এবং রেকর্ডের পারস্পরিক ব্যবহারের সুবিধা নিশ্চিত করে। এই রেজিস্ট্রিটি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বারবার কেওয়াইসি নথিপত্র জমা দেওয়ার এবং যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয়। এটি গ্রাহকদের অন্তর্ভুক্তিকরণ (onboarding) সহজ করে এবং পুরো খাত জুড়ে আর্থিক পরিষেবাগুলোতে সহজে প্রবেশের সুবিধা উন্নত করে।

এনটিটিলকার (EntityLocker)

এনটিটিলকার (EntityLocker) ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাগুলির জন্য একটি ডিজিটাল লকার, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চালু করা হয়েছিল। এটি ডিজিটাল নথিপত্র এবং শংসাপত্রগুলি সংরক্ষণ, আদান-প্রদান এবং যাচাই করার জন্য একটি নিরাপদ ও ক্লাউড-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে সংস্থাগুলোকে ক্ষমতায়ন করে। এটি একটি নিরাপদ ডিজিটাল ডকুমেন্ট ওয়ালেটের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য বা আসল ডিজিটাল নথিপত্র ব্যবহারের সুবিধা দেয়। এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থাগুলির জন্য নিরাপদ ও সুবিন্যস্ত নথিপত্র ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে। মাত্র এক বছরের মধ্যে, এনটিটিলকারে অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির ৩৮ হাজার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৪০ হাজারেরও বেশি হয়েছে।

একটি বিশ্বাস-ভিত্তিক পরিচালনা কাঠামো (Governance Framework) গড়ে তোলা

জটিল নিয়মকানুন থেকে শুরু করে নিয়মপালনের বাধ্যবাধকতা (compliance) কমানো পর্যন্ত-নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপগুলি বিভিন্ন খাতে এবং রাজ্যে প্রশাসনিক বোঝা হ্রাস করেছে। এই সংস্কারগুলি ব্যবসায়িক যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বিশ্বাস-ভিত্তিক পরিচালনা ব্যবস্থাকে (governance) উৎসাহিত করেছে। এই পদক্ষেপগুলি ব্যবসায়িক জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়কেও শক্তিশালী করেছে, যা দ্রুত এবং আরও নির্বিঘ্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করছে।

জন বিশ্বাস আইন

জন বিশ্বাস (সংশোধনী বিল) আইন, ২০২৩-এর মাধ্যমে ৪২টি আইনের অধীনে ১৮৩টি ধারাকে অপরাধমুক্ত করা হয়েছিল, যা ছোটখাটো ও প্রযুক্তিগত অপরাধের জন্য ফৌজদারি দায়বদ্ধতা হ্রাস করেছে। এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে, ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল 'জন বিশ্বাস (সংশোধনী বিল) আইন, ২০২৬' কার্যকর হয়েছে। এটি বিশ্বাস এবং আনুপাতিক নিয়ন্ত্রণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি পরিচালনা কাঠামোকেও এগিয়ে নিয়ে যায়। এই আইনটির ফলে:

  • ৭১৭টি ধারা অপরাধমুক্ত করা হয়েছে
  • ২৩টি মন্ত্রণালয় দ্বারা পরিচালিত ৭৯টি কেন্দ্রীয় আইনের ৭৮৪টি ধারা সংশোধন করা হয়েছে

এই আইনটি ১,০০০-এরও বেশি অপরাধের বিষয়কে যৌক্তিক করে তুলেছে এবং পুরনো ও অপ্রয়োজনীয় ধারাগুলি সরিয়ে দিয়েছে, যার ফলে সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি হয়েছে।

নিয়ন্ত্রণমূলক নিয়মপালনের বোঝা (Regulatory Compliance Burden)

অপরাধমুক্তকরণ সংস্কারের পাশাপাশি, সরকার বিভিন্ন খাত এবং রাজ্যজুড়ে বেশ কিছু পরিপূরক পদক্ষেপ চালু করেছে।

তার মধ্যে কয়েকটি নিচে দেওয়া হলো:

  • পরিবেশ (সুরক্ষা) আইন, ১৯৮৬, বায়ু (দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৮১ এবং ভারতীয় বন আইন, ১৯২৭ এবং জল (দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৭৪-এর ফৌজদারি ধারাগুলিকে অপরাধমুক্ত করা হয়েছে। এগুলো জীবনযাত্রা এবং ব্যবসা করার সহজলভ্যতা বাড়াতে বিশ্বাস-ভিত্তিক পরিচালনা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে ছোটখাটো অপরাধগুলিকে যৌক্তিক করে তুলেছে।
  • রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে নিয়মকানুন সহজ করার জন্য ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে 'টাস্ক ফোর্স অন কমপ্লায়েন্স রিডাকশন অ্যান্ড ডিরেগুলেশন' (নিয়মপালন হ্রাস ও নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ টাস্ক ফোর্স) গঠন করা হয়েছিল। এটি ভূমির ব্যবহার, নির্মাণ, শ্রম, ইউটিলিটি বা জনপরিষেবা, অনুমতি এবং সামগ্রিক অগ্রাধিকারসহ পাঁচটি খাতের প্রধান ক্ষেত্রগুলোকে চিহ্নিত করেছে। এই খাতগুলি দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও নিয়ন্ত্রণের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে এই টাস্ক ফোর্সের তিন দফা সফর সম্পন্ন হয়েছে। এই সফরগুলি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, রাজ্যগুলোর সাথে সমস্যার সমাধান এবং নিয়ন্ত্রণমূলক সংস্কারের জন্য তাৎক্ষণিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছে।
  • নিয়মপালনের বোঝা কমানোর (Reducing Compliance Burden) প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ৪৭,০০০-এরও বেশি কমপ্লায়েন্স বা নিয়মপালনের বাধ্যবাধকতা কমানো হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১৬,১০৮টি সহজীকৃত কমপ্লায়েন্স, ২২,২৮৭টি ডিজিটালাইজড কমপ্লায়েন্স, ৪,৪৫৮টি অপরাধমুক্ত কমপ্লায়েন্স এবং ৪,২৭০টি অপ্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্স অপসারণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
  • রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়াও (RBI) বিভিন্ন শ্রেণির নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য ৯,০০০-এরও বেশি সার্কুলার এবং নির্দেশিকাকে একত্রিত করে ২৩৮টি কার্যভিত্তিক মাস্টার ডিরেকশনে (Master Directions) রূপান্তর করেছে। এই উদ্যোগের অধীনে, নিয়ন্ত্রণের স্পষ্টতা এবং ব্যবসা করার সহজলভ্যতা উন্নত করতে ৯,৪৪৬টি সার্কুলার বাতিল, একত্রিত বা অপ্রচলিত বলে গণ্য করা হচ্ছে।

বিজনেস রিফর্মস অ্যাকশন প্ল্যান (BRAP) এবং জেলা স্তরের সংস্কার

শক্তিশালী ডিজিটাল পরিকাঠামোর সহায়তায় সরকার BRAP (Business Reforms Action Plan)-এর মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার সহজতা (EoDB) সংক্রান্ত সংস্কারকে আরও জোরদার করেছে। ২০১৫ সাল থেকে BRAP স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে পরিষেবা প্রদানের মান উন্নয়নে কাজ করে চলেছে।

BRAP-এর আওতায় বিভিন্ন সংস্কার ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া, নীতি, পদ্ধতি ও কার্যপ্রণালীর মূল্যায়নের ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য সুপারিশ করা হয়। এই ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে তথ্যপ্রাপ্তি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থা, পরিবেশগত অনুমোদন, বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তি, জমির প্রাপ্যতা, নির্মাণ অনুমতির সুবিধা, পরিদর্শন ব্যবস্থার সংস্কার, শ্রম আইন সংক্রান্ত সুবিধা, অনলাইন কর ও রিটার্ন দাখিল এবং ব্যবসার পুরো জীবনচক্র জুড়ে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা প্রভৃতি। BRAP-এর সাতটি সংস্করণ সম্পন্ন হয়েছে এবং অষ্টম সংস্করণটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে চালু করা হয়েছে।

তৃণমূল স্তরে সংস্কারকে আরও গভীর করার লক্ষ্যে শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগ (DPIIT) জেলা ব্যবসা সংস্কার কর্মপরিকল্পনা (D-BRAP) চালু করেছে। এটি জেলা স্তরে ব্যবসা পরিচালনার সহজতা আরও শক্তিশালী করে। জেলার জন্য দৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক ও ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে তুলে শেষ পর্যায়ের পরিষেবা প্রদান (Last-mile Delivery) উন্নত করা, পরিষেবার মান বৃদ্ধি করা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করাই এর লক্ষ্য।

এই সংস্কারগুলি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (District Collectorate), উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (Development Authorities) এবং নগর স্থানীয় সংস্থাগুলির (Urban Local Bodies) মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, পরিদর্শন এবং ব্যবসা-সহায়ক পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

দেউলিয়াত্ব বা ব্যবসায়িক অচলাবস্থা নিরসন

২০১৬ সালে দেউলিয়া পরিস্থিতি ও দেউলিয়া  বিধি (Insolvency and Bankruptcy Code বা IBC) প্রবর্তনের আগে ঋণ নিষ্পত্তি ও পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যবসাগুলিকে একাধিক আইনি কাঠামোর ওপর নির্ভর করতে হতো। এই বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থার কারণে সমন্বয় প্রক্রিয়া প্রায়ই জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠত। আইবিসি বিদ্যমান বিভিন্ন আইনকে একীভূত করে একটি সমন্বিত দেউলিয়াত্ব নিষ্পত্তি কাঠামো গড়ে তোলে। এর মাধ্যমে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ঋণদাতাকেন্দ্রিক (creditor-driven) এবং নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়।

পরবর্তী সংশোধনীগুলির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঋণদাতাদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা হয় এবং নিষ্পত্তির সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে কর্পোরেট ঋণগ্রহীতাদের জন্য দায়মুক্তি-সংক্রান্ত বিধানসহ দেউলিয়াত্ব নিষ্পত্তি কাঠামোকে আরও কার্যকর করার বিভিন্ন ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে, প্রক্রিয়াগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের দেউলিয়াত্ব ও দেউলিয়া বিধি (সংশোধনী) আইন প্রণয়ন করা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে আরও স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিচারিক কর্তৃপক্ষকে আবেদন গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের জন্য ১৪ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট পর্যায়ের পর মামলার প্রত্যাহারেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এছাড়া, নতুন বিধানগুলির মাধ্যমে ঋণদাতাদের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করা হয়েছে এবং দেউলিয়াত্ব প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, দেউলিয়াত্ব নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, দ্রুত এবং পূর্বানুমানযোগ্য করার জন্য আরও কয়েকটি পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব সংস্কারের ফলে ভারতের দেউলিয়াত্ব কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঋণদাতাদের জন্য নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া দ্রুততর ও অধিক নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে।

একটি ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা

গত কয়েক বছরে ভারত আরও স্বচ্ছ ও ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে ব্যাপক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে, ডিজিটাল প্রশাসনকে শক্তিশালী করা হয়েছে, বাজারে প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ব্যবসার পুরো জীবনচক্র জুড়ে অনুবর্তিতা-সংক্রান্ত (কমপ্লায়েন্স) বোঝা কমানো হয়েছে।

বর্তমানে ভারতের ব্যবসা পরিচালনার সহজতা (Ease of Doing Business) কাঠামো শক্তিশালী ডিজিটাল পরিকাঠামো, নীতিগত সংস্কার এবং আস্থাভিত্তিক প্রশাসনের সম্মিলিত সাফল্যের প্রতিফলন। সমষ্টিগতভাবে, এই সংস্কারগুলি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করেছে, উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করেছে এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক গন্তব্য হিসাবে ভারতের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে।

তথ্যসূত্র

 

Ministry of Commerce & Industry

https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=1781851&reg=3&lang=2

https://sansad.in/getFile/annex/270/AU3874_QoKsRW.pdf?source=pqars

https://static.pib.gov.in/WriteReadData/specificdocs/documents/2022/nov/doc20221123133801.pdf

https://www.dpiit.gov.in/ministry/about-us/details/Title=Ease-of-Doing-Business-(EODB)-ITMwETMtQWa

https://www.startupindia.gov.in/content/sih/en/about-startup-india-initiative.html

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2098452&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleaseDetail.aspx?PRID=2227597&reg=6&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2201280&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2154136&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/Pressreleaseshare.aspx?PRID=1570586&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2090097&reg=3&lang=2

https://www.ondc.org/

https://www.pib.gov.in/PressReleseDetailm.aspx?PRID=2225805&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2168993&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2244401&reg=3&lang=1

https://www.trade.gov.in/pages/home

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2246226&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2034302&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2096786&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleaseDetail.aspx?PRID=2204665&reg=1&lang=1

https://www.pib.gov.in/newsite/PrintRelease.aspx?relid=160781&reg=3&lang=2

Ministry of External Affairs

https://www.eoiparis.gov.in/page/ease-of-doing-business/?utm_

Ministry of Corporate Affairs

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1656755&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/Pressreleaseshare.aspx?PRID=1604176&reg=3&lang=2

https://www.mca.gov.in/content/mca/global/en/ease-of-doing-business/features.html

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2099226&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1695473&reg=3&lang=2 

https://www.pib.gov.in/PressReleseDetailm.aspx?PRID=2226017&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1884181&reg=3&lang=2

Ministry of Micro, Small and Medium Enterprises

https://dcmsme.gov.in/Buletin-I-Analysis-of-Udyam-Registration-Data.pdf

https://udyamregistration.gov.in/

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1847452&reg=3&lang=2 https://dashboard.msme.gov.in/

https://www.cgtmse.in/

Ministry of Rural Development

https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2068408&utm_&reg=3&lang=2

https://dolr.gov.in/programmes-schemes/dilrmp-2/

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2210412&utm_&reg=3&lang=2

https://dolr.gov.in/about-naksha/

https://ngdrs.gov.in/NGDRS_Website/

https://dilrmp.gov.in/

Ministry of Environment, Forest and Climate Change

https://www.pib.gov.in/PressReleseDetailm.aspx?PRID=2219415&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2040036&utm_&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/newsite/printrelease.aspx?relid=137373&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2041465&utm_

https://moef.gov.in/uploads/pdf-uploads/Nitin_Rev_4.pdf

Ministry of Ports, Shipping and Waterways

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2101760&reg=3&lang=2

https://nlpmarine.gov.in/landings/about-new

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2040640&reg=3&lang=1

Ministry of Finance

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2119781&reg=3&lang=2

https://financialservices.gov.in/beta/sites/default/files/AnnualReport2015-16%20DFS.pdf

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2216047&reg=3&lang=2

https://www.incometaxindia.gov.in/faceless-scheme

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1643250&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=1720352&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2257087&reg=3&lang=2

https://www.npci.org.in/product/upi/product-statistics

https://www.icegate.gov.in/services/statistics-reports

Ministry of Electronics & IT

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2094574&reg=3&lang=2

Insolvency and Bankruptcy Board of India

https://ibbi.gov.in/uploads/legalframwork/d36301a7973451881e00492419012542.pdf

https://ibbi.gov.in/webadmin/pdf/whatsnew/2018/Aug/The%20Insolvency%20and%20Bankruptcy%20Code%20%28Second%20Amendment%29%20Act%2C%202018_2018-08-18%2018%3A42%3A09.pdf

https://ibbi.gov.in/uploads/legalframwork/2026-04-07-115842-i5nsk-7ed69ef2a4d23a8b0d472cc0fcd55e79.pdf

PIB Headquarters

https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=154772&ModuleId=3&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/FactsheetDetails.aspx?Id=150475&reg=3&lang=2

https://static.pib.gov.in/WriteReadData/specificdocs/documents/2026/apr/doc202648842601.pdf

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2236804&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2223909&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2232079&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2254950&reg=3&lang=1

United Nations

https://www.un-ilibrary.org/content/books/9789211067286/read

World Bank

https://www.worldbank.org/en/programs/govtech/2020-gtmi

https://www.worldbank.org/en/programs/govtech/2022-gtmi

https://www.worldbank.org/en/data/interactive/2022/10/21/govtech-maturity-index-gtmi-data-dashboard

https://www.worldbank.org/en/data/interactive/2022/10/21/govtech-maturity-index-gtmi-data-dashboard

RBI

https://rbidocs.rbi.org.in/rdocs/Bulletin/PDFs/01STATE220520269457A301B061437FB8F5C8A54F6E3BEE.PDF

Others

https://www.itic.org/advocacy/ease-of-doing-business

https://www.imd.org/entity-profile/india-wcr/#_factor_Business%20Efficiency

https://www.gstn.org.in/

https://ldb.co.in/ldb/reports

https://www.gst.gov.in/download/gststatistics

PIB Research     

Click here for pdf file.

 

*******************

 

SSS/RP

(Explainer ID: 158807) आगंतुक पटल : 6
Provide suggestions / comments
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी