• Sitemap
  • Advance Search
Social Welfare

ভারতের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে রূপান্তর

Posted On: 06 JUN 2026 12:09PM

নয়াদিল্লি, ০৬ জুন, ২০২৬

 

বিগত ১২ বছরে কেন্দ্রীয় সরকার ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে। বস্তুত, ৪৪ কোটিরও বেশি পরিবারকে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা হয়েছে এবং ১.৮৬ লক্ষেরও বেশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র কার্যকর করা হয়েছে। মোট ১৮ হাজারেরও বেশি জন ঔষধি কেন্দ্রে বাজারদরের তুলনায় ৫০ থেকে ৯০% কম দামে জেনেরিক ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, ৪৭ কোটিরও বেশি টেলিমেডিসিন পরামর্শ পরিষেবা প্রদান করা হয়েছে। দেশে মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ সালের পর ১২টি নতুন এইমস কার্যকর হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাপদ্ধতিকেও আনুষ্ঠানিকভাবে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ২০১৪ সালের তুলনায় মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যক্ষ্মার প্রকোপ হ্রাস পেয়েছে এবং ম্যালেরিয়াজনিত মৃত্যুর হার ৭৮% কমেছে। অন্যান্য বহু রোগের প্রকোপও কমছে। সব মিলিয়ে, এই সাফল্যগুলি উন্নত জনস্বাস্থ্য এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসুরক্ষার পথে ভারতের ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রতিফলন।

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসুরক্ষার পথে

বিগত ১২ বছরে ভারতের জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা এখন আরও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং গুণগত মানসম্পন্ন হয়েছে। এর প্রভাব তৃণমূল স্তরেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরের ২০২৫ সালের সমীক্ষায় ১.৩৯ লক্ষেরও বেশি পরিবারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, আগের তুলনায় আরও বেশি মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করছেন। বহির্বিভাগে পরামর্শ, রোগ নির্ণয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের জন্য সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া বহু রোগীকেই কোনও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে না। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রায় অর্ধেকের চিকিৎসা ব্যয় ১,১০০ টাকারও কম। বিশেষত, আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলি খুব কম বা শূন্য ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যব্যয়ের সুবিধা পাচ্ছে। এটি সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধির পরিচায়ক।

এই পরিবর্তন আকস্মিকভাবে আসেনি। সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়নের ফলেই সর্বজনীন স্বাস্থ্যসুরক্ষার পথে ভারতের অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প থেকে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ—বিগত ১২ বছরে জনস্বাস্থ্যের ভিতকে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী করা হয়েছে।

জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের বিভিন্ন কর্মসূচি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক করেছে। আধুনিক ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং কৃত্রিম মেধার ব্যবহার স্বাস্থ্য পরিষেবাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। চিকিৎসক ও নার্স তৈরির সক্ষমতাও দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০১৮ সালে চালু হওয়া বিশ্বের বৃহত্তম সর্বজনীন স্বাস্থ্যসুরক্ষা কর্মসূচি - আয়ুষ্মান ভারত।

আয়ুষ্মান ভারত : প্রত্যেক নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসুরক্ষা

‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর লক্ষ্য দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে সাশ্রয়ী এবং মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবার এবং ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এটি বিশেষ সহায়ক হয়ে উঠেছে।

আয়ুষ্মান ভারতের কাঠামো চারটি প্রধান স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই স্তম্ভগুলি প্রতিরোধমূলক, স্বাস্থ্যোন্নয়নমূলক, চিকিৎসামূলক এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবাকে শক্তিশালী করে।

প্রথম স্তম্ভ : আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (এবি-পিএমজেএওয়াই)

জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি ২০১৭ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করে। অসংক্রামক রোগের বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি মোকাবিলায় ২০১৮ সালে চালু হয় আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা।

বর্তমানে এটি বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি অর্থপুষ্ট স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলিকে বছরে পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে স্বাস্থ্যবিমা দেওয়া হয়। প্রায় ১২ কোটি পরিবার বা দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ এই সুবিধার আওতায় রয়েছে। এর ফলে চিকিৎসাজনিত বিপুল ব্যয়ের চাপ থেকে পরিবারগুলি সুরক্ষা পায়।

২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ‘আয়ুষ্মান ভারত বয় বন্দনা’ চালু করা হয়। এর ফলে, ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে সমস্ত প্রবীণ নাগরিক স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আসেন।

এই বিমার আওতায় ক্যানসার, হৃদরোগসহ বহু জটিল রোগের চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি এবং বিশেষায়িত পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দেশজুড়ে তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে এই পরিষেবা পাওয়া যায়। প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার দাবি নিষ্পত্তি করা হয় এবং ১,৯০০-রও বেশি চিকিৎসা প্যাকেজের সুবিধা দেওয়া হয়।

উল্লেখযোগ্য সাফল্য

- ৪৪.১৪ কোটি আয়ুষ্মান কার্ড তৈরি হয়েছে।

 

- ১২.০৩ কোটি হাসপাতালে ভর্তির খরচ বহন করা হয়েছে।

 

- ১,৮০,৪৩৫ কোটি টাকার চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।

 

- ৩৬,২১৮টি হাসপাতাল তালিকাভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৯,৬৫৯টি সরকারি এবং ১৬,৫৫৯টি বেসরকারি।

 

- এবছর ৫ জুন পর্যন্ত ১.২০ কোটি প্রবীণ নাগরিক ‘আয়ুষ্মান ভারত বয়ো বন্দনা’ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাঁরা ১৩.৮৪ লক্ষেরও বেশি চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করেছেন, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা।

 

আয়ুষ্মান অ্যাপ

এই অ্যাপটি পিএম-জেএওয়াই সুবিধাভোগীদের জন্য একক ডিজিটাল পরিষেবা কেন্দ্র হিসাবে কাজ করে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস - উভয় প্ল্যাটফর্মেই এটি ১৯টি আঞ্চলিক ভাষায় উপলব্ধ।

এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা -

- যোগ্যতা যাচাই করতে পারেন,

 

- আয়ুষ্মান ই-কার্ড ডাউনলোড করতে পারেন,

 

- বিমার সুবিধার হিসাব দেখতে পারেন,

 

- তালিকাভুক্ত হাসপাতাল খুঁজে নিতে পারেন,

 

- অভিযোগ জানাতে পারেন।

 

দ্বিতীয় স্তম্ভ : আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির (AAM)

দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবাকে শক্তিশালী করতে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিরোধমূলক, চিকিৎসামূলক, পুনর্বাসন এবং উপশমমূলক স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হয়। মোট ১২ ধরনের বিনামূল্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া যায়। অসংক্রামক রোগ পরীক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, মুখ ও চোখের চিকিৎসার সুবিধা রয়েছে। বিনামূল্যে ওষুধ, রোগ নির্ণয় পরীক্ষা এবং টেলিমেডিসিন পরিষেবা দেওয়া হয়। ২০২৬-এর ৫ জুন পর্যন্ত ১.৮৬ লক্ষেরও বেশি কেন্দ্র কার্যকর।
এই কেন্দ্রগুলি স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং জনসংযোগ কর্মসূচিরও কেন্দ্রবিন্দু।

তৃতীয় স্তম্ভ : প্রধানমন্ত্রী আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো মিশন (PM-ABHIM)

কোভিড-১৯-এর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করা হয়েছে।

মোট ব্যয় ৬৪,১৮০ কোটি টাকা।

গ্রামীণ ও শহুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলায় জনস্বাস্থ্য পরীক্ষাগার গড়ে তোলা হচ্ছে।
বহু জেলায় ক্রিটিক্যাল কেয়ার হাসপাতাল ব্লক স্থাপন করা হচ্ছে। মহামারি মোকাবিলা, গবেষণা ও নজরদারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হয়েছে।

চতুর্থ স্তম্ভ : আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন (ABDM)

ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ১৪ সংখ্যার ABHA স্বাস্থ্য পরিচয় নম্বর চালু।

দেশের যে কোনও জায়গা থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি ব্যবহারের সুবিধা। হাসপাতাল, চিকিৎসক ও ওষুধের দোকানকে এক ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়েছে।২০.৪৯ কোটিরও বেশি নিবন্ধন হয়েছে।

জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (NHM)

মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য

প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষিত মাতৃত্ব অভিযান চালু হয়েছে। বস্তুত, ৭.৪৭ কোটিরও বেশি গর্ভবতী মহিলার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে।

জননী সুরক্ষা যোজনা নিরাপদ প্রসবকে উৎসাহ দেয়।

জননী শিশু সুরক্ষা কর্মসূচিতে বিনামূল্যে প্রসব, ওষুধ, পরীক্ষা ও যাতায়াতের সুবিধা রয়েছে।মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

শিশু স্বাস্থ্য

নবজাতকের জন্য গৃহভিত্তিক স্বাস্থ্য পরিষেবা। শিশুদের বিকাশ পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি। জন্মগত ত্রুটি ও রোগ শনাক্তকরণের জন্য রাষ্ট্রীয় শিশু স্বাস্থ্য কর্মসূচি।

পুষ্টি ও কিশোর স্বাস্থ্য

অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত কর্মসূচি।
আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড সরবরাহ। স্তন্যপান বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি।
কিশোর-কিশোরীদের জন্য স্বাস্থ্য পরামর্শ কেন্দ্র। মাসিক স্বাস্থ্যবিধি কর্মসূচি।

মিশন ইন্দ্রধনুষ

অপূর্ণ টিকাপ্রাপ্ত শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের টিকাকরণ। দেশের  ৫.৪৬ কোটি শিশু টিকা পেয়েছে। মোট ১.৩২ কোটি গর্ভবতী মহিলা টিকাকরণের আওতায় এসেছেন। প্রসঙ্গত, ৯৫ শতাংশের বেশি শিশুর পূর্ণ টিকাকরণ সম্পন্ন হয়েছে।
শূন্য-ডোজ শিশুর সংখ্যা আরও কমেছে।

ইউ-উইন (U-WIN)

শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের টিকাকরণের ডিজিটাল নথি সংরক্ষণ। নির্ধারিত টিকার সময় সম্পর্কে স্বয়ংক্রিয় তথ্য প্রদান।

যক্ষ্মা নির্মূল

জাতীয় যক্ষ্মা নির্মূল কর্মসূচির মাধ্যমে সংক্রমণ কমেছে।
৩.৭৮ লক্ষের বেশি নিক্ষয় মিত্র রোগীদের সহায়তা করছেন।২০ কোটিরও বেশি মানুষের যক্ষ্মা পরীক্ষা হয়েছে। দেশের ২৮ লক্ষের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ

ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্যে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা। রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে।

অন্যান্য রোগে সাফল্য

এইচআইভি সংক্রমণে মা থেকে সন্তানে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
কালাজ্বর নিয়ন্ত্রণে সাফল্য।
জাপানি এনসেফালাইটিসে মৃত্যুর হার কমেছে। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার কমেছে। কুষ্ঠরোগ নির্মূলে অগ্রগতি হয়েছে।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ভারতের সাফল্য

প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার আগেই বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়। ২০২০ সালে টিকা প্রস্তুতির জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়।
২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয়। বস্তুত, ২২০ কোটিরও বেশি কোভিড টিকা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে। কো-উইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ডিজিটাল শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাগারের সংখ্যা ১৪ থেকে বেড়ে ৩,৪০০ হয়েছে। আইসিইউ শয্যার সংখ্যা ২,১৬৮ থেকে ১.৪৫ লক্ষে পৌঁছেছে।অক্সিজেন-সহায়ক শয্যা ৫০,৫৮৩ থেকে ৫.১৫ লক্ষে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিদিন ৫ লক্ষেরও বেশি পিপিই কিট উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলা হয়েছে।উল্লেখ্য, ১,৫৬৩টি অক্সিজেন উৎপাদন কেন্দ্র অনুমোদিত হয়েছে। ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’ উদ্যোগে প্রায় ১০০টি দেশে টিকা সরবরাহ করা হয়েছে।

অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ

হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও স্ট্রোকের মতো রোগ প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।
আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরগুলিতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
ক্যানসার দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ক্যানসার স্ক্রিনিং

মুখগহ্বর ক্যানসারের জন্য ৩৫.৩ কোটি মানুষের পরীক্ষা হয়েছে। স্তন ক্যানসারের জন্য ১৬.৫ কোটিরও বেশি পরীক্ষা হয়েছে। জরায়ুমুখ ক্যানসারের জন্য ৮.৭৩ কোটি পরীক্ষা হয়েছে। বহু রোগীকে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ

দেশের ৪১.৫ কোটি মানুষের উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ৭.১ কোটি রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
৪১.৩ কোটি মানুষের ডায়াবেটিস পরীক্ষা হয়েছে। ৪.৭ কোটি রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

ক্যানসার চিকিৎসা সম্প্রসারণ

সারা দেশে ১৯টি রাজ্য ক্যানসার ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০টি তৃতীয় স্তরের ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। দেশের ২২টি নতুন এইমসে ক্যানসার চিকিৎসা সুবিধা অনুমোদিত হয়েছে। দেশজুড়ে ক্যানসার ও স্ট্রোক রেজিস্ট্রি সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

জাতীয় ডায়ালিসিস কর্মসূচি

দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে ডায়ালিসিস পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। মোট ৩১.৭৪ লক্ষ রোগী পরিষেবা পেয়েছেন। বস্তুত, ৪ কোটিরও বেশি হেমোডায়ালিসিস সম্পন্ন হয়েছে। রোগীদের প্রায় ১০,১০২ কোটি টাকার ব্যক্তিগত ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে।

সুস্থ জীবনযাপনের উদ্যোগ

ইট রাইট ইন্ডিয়া

নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

ফিট ইন্ডিয়া

নিয়মিত শরীরচর্চা ও সক্রিয় জীবনযাপনকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। ‘সানডে অন সাইকেল’ কর্মসূচির মাধ্যমে সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

তামাক সেবনে নিয়ন্ত্রণ

গত এক দশকে তামাক ব্যবহারে ১৭.৩ শতাংশ হ্রাস ঘটেছে। স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে তামাক ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের জন্য ভারত ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজ পুরস্কার পেয়েছে।

সাশ্রয়ী ওষুধ ও রোগ নির্ণয় পরিষেবা

প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্প

বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে জেনেরিক ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশজুড়ে, ১৮ হাজারেরও বেশি জন ঔষধি কেন্দ্র চালু রয়েছে।

অমৃত ফার্মেসি

জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কম দামে পাওয়া যায়।

বিনামূল্যে রোগ নির্ণয় কর্মসূচি

সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হয়। রক্ত, জীবাণুবিজ্ঞান, রেডিওলজি, হৃদরোগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরীক্ষা করা হয়।

জরুরি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা

প্রসঙ্গত, ১০৮ নম্বরে চিকিৎসা ও দুর্ঘটনাজনিত জরুরি পরিষেবা পাওয়া যায় এবং  ১০২ নম্বরে গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের জন্য বিশেষ পরিষেবা দেওয়া হয়। মোট ৩৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই পরিষেবা চালু রয়েছে।

ই-সঞ্জীবনী টেলিমেডিসিন

দূরবর্তী এলাকার মানুষ ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ পাচ্ছেন। স্মার্টফোন, কম্পিউটার বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে পরিষেবা পাওয়া যায়। এটি বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি টেলিমেডিসিন উদ্যোগগুলির অন্যতম।

টেলি-মানস

মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা সহজলভ্য করতে চালু হয়েছে।
ফোন ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পরামর্শ দেওয়া হয়। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্যও বিশেষ সুবিধা রয়েছে।

আই-ড্রোন

দুর্গম এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে ওষুধ, টিকা ও পরীক্ষার নমুনা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বস্তুত, ২২ হাজারেরও বেশি ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য পরিষেবায় কৃত্রিম মেধা

চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তার জন্য কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করা হচ্ছে। যক্ষ্মা শনাক্তকরণে ‘কাফ অ্যাগেইনস্ট টিবি’ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। 'মধুনেত্রএআই’ ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্ত করতে সহায়তা করছে।

চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকর্মী

চিকিৎসা শিক্ষার আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, ১৫৭টি নতুন নার্সিং কলেজ স্থাপন করা হচ্ছে। বিএসসি নার্সিং আসন ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমএসসি নার্সিং আসন ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আয়ুষ ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা

২০১৪ সালে আয়ুষ মন্ত্রক গঠন করা হয়। আয়ুর্বেদ, যোগ, ইউনানি, সিদ্ধ, হোমিওপ্যাথি প্রভৃতি চিকিৎসাপদ্ধতিকে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।মোট ৯৪২টি আয়ুষ প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে। ১৩,০৯৩টিরও বেশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আয়ুষ পরিষেবা যুক্ত হয়েছে।

বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যে

স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, চিকিৎসা শিক্ষা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসুরক্ষার লক্ষ্য পূরণের পথে দেশ এগিয়ে চলেছে। সুস্থ, সক্ষম ও সমৃদ্ধ ভারত গঠনের ভিত্তি আরও মজবুত হয়েছে। আগামী প্রজন্মের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

তথ্যসূত্র

Press Information Bureau

Ministry of Health and Family Welfare

Others

 

Click here to see PDF

 

*****************

 

SSS/AS..........

(Explainer ID: 158803) आगंतुक पटल : 3
Provide suggestions / comments
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी