• Sitemap
  • Advance Search
Energy & Environment

ভারতে সবুজায়ন

Posted On: 04 JUN 2026 12:49PM

৪ জুন, ২০২৬

 

পরিবেশগত পরিবর্তনের রূপরেখা

বিগত ১২ বছর ধরে সুপরিকল্পিত নীতি নির্ধারণ ও ধারাবাহিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভারত একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত রূপান্তর অর্জন করেছে। এই সময়ে দেশে বনাঞ্চল বৃদ্ধি, জলাভূমি ও ম্যানগ্রোভের পুনরুদ্ধার এবং 'নমামি গঙ্গে' কর্মসূচির মাধ্যমে নদীর দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে। বাঘ, সিংহ, চিতা, হাতি ও গন্ডারের মতো বিপন্ন বন্যপ্রাণীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। কঠিন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বর্ধিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা (EPR) কাঠামোর মাধ্যমে ভারত বৃত্তাকার অর্থনীতির (Circular Economy) দিকে এগিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক স্তরে সময়ের অনেক আগেই জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা (NDC) পূরণ করে এবং International Solar Alliance (ISA), Mission LiFE ও International Big Cat Alliance (IBCA) এর মতো আন্তর্জাতিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়ে ভারত বিশ্বমঞ্চে নিজের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করেছে।

স্তম্ভ ১: পরিবেশগত সামর্থ্য এবং জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি

বনাঞ্চল পুনরুদ্ধার

 * সবুজায়ন ও কার্বন স্টক: 'ইন্ডিয়া স্টেট অফ ফরেস্ট রিপোর্ট' (ISFR) ২০২৩ অনুযায়ী, ভারতের বন ও বৃক্ষ আচ্ছাদন বর্তমানে ৮.২৭ লাখ বর্গকমি, যা দেশের মোট ভৌগোলিক এলাকার ২৫.১৭%। ভারতের বনাঞ্চলে বর্তমানে ৩০.৪৩ বিলিয়ন টন কার্বন স্টক সঞ্চিত রয়েছে।

 * গ্রীন ইন্ডিয়া মিশন (GIM): বনাঞ্চল ও বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ₹১,০১৯.২৬ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।

 * ক্যাম্পা (CAMPA): ২০১৬ সালের আইনের অধীনে গঠিত এই তহবিলের মাধ্যমে ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে ৩.২০ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমিতে বনায়ন করা হয়েছে।

 * আরাবল্লী গ্রীন ওয়াল ইনিশিয়েটিভ: রাজস্থান, গুজরাট, হরিয়ানা এবং দিল্লির ক্ষয়প্রাপ্ত ৬.৩১ মিলিয়ন হেক্টর ভূমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এক পেড় মা কে নাম (Ek Ped Maa Ke Naam): ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী কর্তৃক চালু হওয়া এই গণ-আন্দোলনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে ২৬২.৪ কোটি চারা রোপণ করা হয়েছে, যা ‘মেরি লাইফ’ (Meri LiFE) পোর্টালের মাধ্যমে ডিজিটালভাবে ট্র্যাক করা হচ্ছে।

নদী বাস্তুতন্ত্র পুনরুজ্জীবন (নমামি গঙ্গে)

২০১৪ সালের জুনে শুরু হওয়া এই ফ্ল্যাগশিপ মিশনটির দ্বিতীয় পর্যায় ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছে, যার মোট বাজেট ₹৪২,৫০০ কোটি (Phase I: ₹২০,০০০ কোটি + Phase II: ₹২২,৫০০ কোটি)।

 * পরিকাঠামো: ₹৪৩,০৩০ কোটি মূল্যের ৫২৪টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫৫টি সম্পন্ন। মোট ২১৮টি পয়ঃনিষ্কাশন (STP) প্রকল্পের মাধ্যমে ৬,৬১০ এমএলডি (Million Litres per Day) বর্জ্য জল শোধনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

 * শিল্প দূষণ হ্রাস: ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শিল্পজাত বিওডি (BOD) লোড প্রতিদিন ২৬ টন থেকে কমে ১০.৭৫ টনে নেমে এসেছে।

 * জীববৈচিত্র্য: গঙ্গা অববাহিকায় ৩,০৩৭টি ঘড়িয়াল এবং ৬,৩২৭টি গাঙ্গেয় ডলফিন নথিভুক্ত করা হয়েছে। ২০২০ সালে 'প্রজেক্ট ডলফিন' চালুর মাধ্যমে গাঙ্গেয় ও সিন্ধু ডলফিনকে বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন, ১৯৭২-এর অধীনে পৃথক প্রজাতির স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

জলাভূমি ও ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ

 * রামসার সাইট (Ramsar Sites): ২০১৪ সালে ভারতে রামসার সাইটের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৬টি, যা ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়ে ৯৯টিতে দাঁড়িয়েছে।

 * মিশটি স্কিম (MISHTI): উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষার জন্য এই ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের ম্যানগ্রোভ আচ্ছাদন ২০১৩ সালের ৪,৬২৮ বর্গকমি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩ সালে ৪,৯৯২ বর্গকমি হয়েছে (নিট বৃদ্ধি ৩৬৩ বর্গকমি)।

সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সীমান্ত (Blue Horizons)

 * ব্লু ফ্ল্যাগ শংসাপত্র (Blue Flag Certification): ডেনমার্কের সংস্থা দ্বারা পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন সৈকতকে দেওয়া এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ভারতের ক্ষেত্রে ২০২০ সালের আটটি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫-২৬ সালে ১৮টি সৈকতে পৌঁছেছে।

 * ন্যাশনাল মেরিন টার্টল অ্যাকশন প্ল্যান: সামুদ্রিক কচ্ছপ সংরক্ষণের এই উদ্যোগে ৭,৯৭৯টি কচ্ছপের ছানা নিরাপদে সাগরে ছাড়া হয়েছে, যার সাফল্যের হার ৯৬.৭%।

সমন্বিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ

 * প্রজেক্ট টাইগার (Project Tiger): বাঘের সংখ্যা ২০১৪ সালের ২,২২৬ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ সালে ৩,৬৮২ হয়েছে। ব্যাঘ্র সংরক্ষণের সংখ্যা ৪৬ থেকে বেড়ে ৫৮টি হয়েছে, যা বিশ্বের মোট বন্য বাঘের ৭০%-এরও বেশি।

 * প্রজেক্ট চিতা (Project Cheetah): ২০২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর চালু হওয়া এই আন্তঃমহাদেশীয় স্থানান্তর প্রকল্পের অধীনে নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও বৎসোয়ানা থেকে আনা চিতার মাধ্যমে বর্তমানে দেশে মোট চিতার সংখ্যা ৫৩টি।

 * প্রজেক্ট লায়ন (Project Lion): গুজরাটের এশীয় সিংহের সংখ্যা ২০১৫ সালের ৫২৩টি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে ৮৯১টি হয়েছে (৭০% বৃদ্ধি)।

 * চিতাবাঘ (Leopard): ২০২২ সালের গণনা অনুযায়ী, দেশে চিতাবাঘের সংখ্যা বেড়ে ১৩,৮৭৪টি হয়েছে (২০১৮ সালে ছিল ১২,৮৫২)।

 * তুষার চিতা (Snow Leopard): প্রথম 'স্নো লেপার্ড পপুলেশন অ্যাসেসমেন্ট' (SPAI) অনুযায়ী, ভারতে আনুমানিক ৭১৮টি তুষার চিতা রয়েছে।

 * হাতি ও গন্ডার: দেশে বন্য হাতির সংখ্যা ২২,৪৪৬ এবং এলিফ্যান্ট রিজার্ভের সংখ্যা ৩৩টি। অন্যদিকে, একশৃঙ্গ গন্ডারের সংখ্যা ১৯৮০-এর দশকের ১,৫০০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৪,০০০ পার করেছে।

স্তম্ভ ২: সুস্থায়ী রূপান্তরের জন্য জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি

কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বৃত্তাকার অর্থনীতি

 * বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ: ২০১৪ সালে দেশে মাত্র ১৭% কঠিন বর্জ্য বৈজ্ঞানিকভাবে প্রক্রিয়াকরণ করা হতো, যা ২০২৪ সালের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়ে ৭৭%-এর বেশি হয়েছে। বর্তমানে শহুরে ভারতে প্রতিদিন উৎপাদিত ১,৫৯,১০৯ টন বর্জ্যের মধ্যে ১,২৯,২০৬ টন প্রক্রিয়াকরণ করা হয়।

 * ল্যান্ডফিল ও ডাম্পসাইট মুক্তকরণ: 'বায়োমাইনিং' পদ্ধতির মাধ্যমে ১,০৪৮টি শহরে ১,১৩৮টি ডাম্পসাইট সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে ৮৭৭ লাখ মেট্রিক টন বর্জ্য সরানো হয়েছে এবং ৭,৬৪৬ একর জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত ডাম্পসাইট শূন্য করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের নভেম্বরে DRAP (Dumpsite Remediation Accelerator Programme) চালু করা হয়েছে।

 * Solid Waste Management Rules, 2026: ২০১৬ সালের বিধির পরিবর্তে নতুন এই নিয়মে বর্জ্যকে ৪টি ভাগে (ভেজা, শুকনো, স্যানিটারি ও স্পেশাল কেয়ার) উৎসস্থলেই আলাদা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং বড় বর্জ্য উৎপাদনকারীদের সরাসরি দায়বদ্ধ করতে EBWGR কাঠামো আনা হয়েছে।

বর্ধিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা (EPR) ও পুনর্ব্যবহার পরিকাঠামো

২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ভারতে মোট ৪,৫৭৪টি নিবন্ধিত রিসাইকেলার রয়েছে। মোট ৪১৭.৫৭ লাখ মেট্রিক টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ক্যাটিগরি-ভিত্তিক পুনর্ব্যবহারের খতিয়ান নিচে দেওয়া হলো:

| বর্জ্যের ধরন | প্রক্রিয়াকরণের পরিমাণ (লাখ মেট্রিক টন) | নিবন্ধিত রিসাইকলারের সংখ্যা |

| প্লাস্টিক বর্জ্য | ১৯৬.৯৭ | ২,৯৮৬ |
| টায়ার বর্জ্য | ১২২.২৯ | ৫৭৯ |
| ব্যাটারি বর্জ্য | ৬৯.৩৭ | ৫২০ |
| ই-বর্জ্য (E-Waste) | ২৮.৭৫ | ৩৮৬ |
| ব্যবহৃত তেল (Used Oil) | ০.১৯ | ১০৩ |

প্রযুক্তিভিত্তিক বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ও দুর্যোগ সহনশীলতা

 * প্রযুক্তির ব্যবহার: বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় এআই (AI) ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা HAWK এবং মোবাইল প্ল্যাটফর্ম Gajah Suchana ব্যবহার করা হচ্ছে। দেরাদুনের ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউটে একটি 'নেক্সট জেনারেশন ডিএনএ সিকোয়েন্সিং' ল্যাব চালু করা হয়েছে।

 * দুর্যোগ মোকাবিলা: 'কমন অ্যালার্টিং প্রোটোকল' (CAP) ভিত্তিক পরিকাঠামোর মাধ্যমে ৪,৫০০ কোটিরও বেশি ভূ-নির্দিষ্ট সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। হিমালয় অঞ্চলের ২৮,০০০টি হিমবাহ হ্রদের তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়েছে।

স্তম্ভ ৩: নেতৃত্ব ও কূটনীতির মাধ্যমে বৈশ্বিক বিশ্বস্ততা অর্জন

জাতীয় স্তরে নির্ধারিত অবদান (NDC) লক্ষ্যমাত্রা পূরণ
প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ভারত তার প্রতিশ্রুতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক আগেই পূরণ করেছে:

 * নির্গমন তীব্রতা (Emissions Intensity): ২০০৫ সালের তুলনায় নির্গমন তীব্রতা ৩৩-৩৫% কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের ১১ বছর আগেই অর্জন করেছে (বর্তমানে হ্রাস পেয়েছে ৩৬%-এর বেশি)।

 * অ-জীবাশ্ম বিদ্যুৎ ক্ষমতা: ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০% অ-জীবাশ্ম বিদ্যুৎ সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নয় বছর আগেই পূরণ হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৫২.৫৭% অ-জীবাশ্ম বা পুনর্নবীকরণযোগ্য উৎস থেকে আসে।

আন্তর্জাতিক পরিবেশগত উদ্যোগ ও কূটনীতি

 * International Solar Alliance (ISA), 2015: ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে COP21-এ গঠিত এই আন্তর্জাতিক সংস্থায় বর্তমানে ১১২টি সদস্য দেশ রয়েছে।

 * One Sun One World One Grid (OSOWOG): ২০১৮ সালে ভারত কর্তৃক প্রস্তাবিত এই উদ্যোগটি ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে 'গ্রীন গ্রিড ইনিশিয়েটিভ' হিসেবে বিশ্বব্যাপী পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি বণ্টনের জন্য চালুর ঘোষণা করা হয়।

 * Coalition for Disaster Resilient Infrastructure (CDRI), 2019: দুর্যোগ সহনশীল পরিকাঠামো গড়ার এই আন্তর্জাতিক জোটটির সদর দফতর নতুন দিল্লিতে অবস্থিত।

 * Mission LiFE (Lifestyle for Environment), 2022: পরিবেশের জন্য সুস্থায়ী জীবনধারা ও সচেতন ব্যবহারের বার্তা নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের উপস্থিতিতে এটি চালু করা হয়।

 * International Big Cat Alliance (IBCA): বাঘ, সিংহ, চিতা সহ  সাতটি বড় বিড়ালজাতীয় প্রজাতির সংরক্ষণে ভারতের নেতৃত্বে গঠিত এই জোটটি ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫ থেকে একটি চুক্তি-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে (বর্তমান সদস্য: ২৬টি দেশ)।

তথ্যসূত্র

Ministry of Environment, Forest and Climate Change

 

Ministry of Jal Shakti

 

Ministry of Earth Sciences

 

Cabinet

 

Press Information Bureau

 

Parliament of India

 

Ministry of External Affairs

 

Prime Minister's Office

 

Others

Click here to see pdf 

 


****


SSS/PK...

(Explainer ID: 158765) आगंतुक पटल : 8
Provide suggestions / comments
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , हिन्दी