Economy
ভারতের দেউলিয়া বিষয়ক কাঠামো: আর্থিক সংকটের সমাধান
ভারতে দেউলিয়া সংক্রান্ত নিরসনে অগ্রগতি
Posted On:
28 MAY 2026 11:37AM
২৮ মে, ২০২৬
স্বাধীনতার পর ভারতীয় কোম্পানিগুলি সাধারণ ব্যবসায়িক কাজকর্ম পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর অধীনে কাজ করত। আর্থিক সংকট দেখা দিলে তারা সমাধানের জন্য কোম্পানি আইন, ঋণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এবং সুরক্ষিত পাওনাদার কাঠামোর মতো একাধিক আইনি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করত। প্রতিটি ব্যবস্থার জন্য পৃথক ফোরাম ও পদ্ধতি ছিল, যা প্রায়শই সমন্বয়সাধনকে জটিল এবং সময়সাপেক্ষ করে তুলত।
এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করতে সরকার 'অর্থশূন্যতা ও দেউলিয়া কোড, ২০১৬' (IBC) চালু করে। এটি বিদ্যমান আইনগুলিকে একটি একক ব্যবস্থায় একীভূত করেছে। এই কোড পাওনাদারদের অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করেছে এবং সব অংশীদারের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার সঙ্গে সঙ্গে সম্পদের মূল্য সর্বাধিক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
ব্যবস্থাটি বিকশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থেকে উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়। কার্যকারিতা এবং ফলাফল বৃদ্ধির জন্য এতে কিছু পরিমার্জন আনা হয়। এই ধারাবাহিক সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে 'দেউলিয়াপরিস্থিতি ও দেউলিয়া কোড (সংশোধন) আইন, ২০২৬' প্রণয়ন করা হয়, যা সংযুক্তিকরণের পরবর্তী পর্যায়কে চিহ্নিত করে।
*দেউলিয়াত্ব বা পরিশোধ ক্ষমতাহীনতা ও দেউলিয়া কোড, ২০১৬: ভারতের প্রধান দেউলিয়া সংক্রান্ত আইন*
*আইবিসি-পূর্ব কাঠামো এবং সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা*
২০১৬ সালে দেউলিয়া ও দেউলিয়া কোড প্রণয়নের আগে ভারতে দেউলিয়াত্ব সমাধান প্রক্রিয়া একাধিক ওভারল্যাপ করা (একই এক্তিয়ারে থাকা) আইনি কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হতো। আর্থিক সংকটে পড়া কোম্পানিগুলির ক্ষেত্রে কোম্পানি আইন, সিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানিজ অ্যাক্ট (SICA), ঋণ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং SARFAESI-সহ সুরক্ষিত পাওনাদার কাঠামোর মতো বিভিন্ন আইন প্রয়োগ করা হতো। এই প্রক্রিয়াগুলি পৃথক প্রতিষ্ঠান ও ফোরামের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কারণে প্রায়শই খণ্ডিত আইনি প্রক্রিয়া এবং এক্তিয়ারের আংশিক আবৃত হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো।
এর ফলে সমাধান প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ত। বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকায় সংকটাপন্ন সম্পদের মূল্য কমতে থাকত। এই বিলম্ব পাওনাদারদের পাওনা আদায়ের ক্ষমতাকে দুর্বল করেছিল এবং কার্যকর ব্যবসাগুলি পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছিল। একটি সংযুক্ত এবং সময়াবদ্ধ ব্যবস্থার অভাবে সামগ্রিক ঋণ শৃঙ্খলা এবং বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসও প্রভাবিত হয়েছিল। এই কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলি অনুধাবন করে সরকার একটি ব্যাপক সংস্কার হিসেবে 'দেউলিয়া ও দেউলিয়া কোড, ২০১৬' প্রবর্তন করে।
*একটি সুসংবদ্ধ এবং সময়াবদ্ধ দেউলিয়া বিষয়ক কাঠামো*
'দেউলিয়া ও দেউলিয়া কোড, ২০১৬' কোম্পানি, অংশীদারী প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির পরিষোধ ক্ষমতাহীনতার সমস্যা সমাধানের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করেছে। এটি একাধিক দেউলিয়া বিষয়ক আইনকে একটি একক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসেছে, যা আরও সমন্বিত এবং অনুমানযোগ্য সমাধান প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে।
এই কোডের একটি অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দেনাদার-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা থেকে পাওনাদার-চালিত সমাধান কাঠামোর দিকে রূপান্তরের ব্যবস্থা করা। শুধুমাত্র ঋণ পুনরুদ্ধারের গণ্ডি পেরিয়ে এটি সম্পদের মূল্য সর্বাধিকীকরণ, কার্যকর ব্যবসার ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং অংশীদ্বারের প্রতি সুষম আচরণের ওপর জোর দিয়েছে। কোডটি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল যে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে এন্টারপ্রাইজ বা উদ্যোগের মূল্য নষ্ট হওয়ার আগেই প্রাথমিক পর্যায়ে আর্থিক সংকটের সমাধান করা যায়।
এই কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে 'কর্পোরেট দেউলিয়াত্ব সমাধান প্রক্রিয়া' (CIRP), যা কর্পোরেট দেউলিয়া পরিস্থিতির সমাধানের জন্য একটি সুবিন্যস্ত ব্যবস্থা প্রদান করে। আর্থিক পাওনাদারদের নিয়ে গঠিত 'পাওনাদারদের কমিটি' (CoC) সমাধান পরিকল্পনাগুলি মূল্যায়ন করে। এরপর তারা সংকটাপন্ন সত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেয়।
কোডটি সমাধানের জন্য একটি সময়াবদ্ধ কাঠামোও প্রবর্তন করেছে। CIRP প্রক্রিয়াটি ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ৩৩০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এই সময়সীমা-ভিত্তিক পদ্ধতির লক্ষ্য ছিল অনির্দিষ্টকালের বিলম্ব রোধ করা এবং সংকটাপন্ন ব্যবসার অর্থনৈতিক মূল্য রক্ষা করা। নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে সমাধান না হলে কোডের বিধান অনুযায়ী সত্তাটি অবলুপ্তির (Liquidation) দিকে এগিয়ে যায়।
*IBC-এর অধীনে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো*
IBC কাঠামোর কার্যকারিতা কোডের অধীনে প্রতিষ্ঠিত একটি নিয়ন্ত্রিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। 'ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংকরাপ্সি বোর্ড অফ ইন্ডিয়া' (IBBI) এই কাঠামোর অধীনে দেউলিয়া প্রক্রিয়া, ইনসলভেন্সি প্রফেশনালস (IPs) এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি তদারকি করার জন্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে। এটি দেউলিয়া পরিস্থিতির কাজ পরিচালনার নিয়ম ও মানদণ্ডও তৈরি করে।
*ইনসলভেন্সি প্রফেশনালস (IPs) কারা?*
IPs বা দেউলিয়া পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করছেন যে সমস্ত পেশাদাররা, তাঁরা সংকটাপন্ন সত্তার বিষয়াবলি পরিচালনা করেন, সম্পদ রক্ষা করেন এবং পাওনাদারদের প্রয়োজনে বৈঠকের সুবিধা করে দেন। তারা কোড এবং প্রযোজ্য বিধিবিধান মেনে সমাধান প্রক্রিয়া তদারকি করেন।
এছাড়াও, কর্পোরেট দেউলিয়া বিষয়গুলি 'ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল' (NCLT) দ্বারা বিচার করা হয়, যা এই কাঠামোর অধীনে বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ হিসাবে কাজ করে। এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির দায়িত্বে রয়েছে 'ন্যাশনাল কোম্পানি ল অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনাল' (NCLAT)। একত্রে এই প্রতিষ্ঠানগুলি ভারতে দেউলিয়াত্ব সমাধানের জন্য একটি সুবিন্যস্ত, তত্ত্বাবধানমূলক এবং আইনগতভাবে প্রয়োগযোগ্য ব্যবস্থা তৈরি করে।
*দেউলিয়া ও দেউলিয়া কোড-এর সাফল্য*
প্ৰণয়নের পর থেকে 'দেউলিয়া ও দেউলিয়া কোড, ২০১৬' ভারতের দেউলিয়া এবং ঋণ ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে, এই কাঠামো পুনরুদ্ধার ব্যবস্থাকে উন্নত করেছে, পাওনাদারদের শৃঙ্খলা জোরদার করেছে এবং সংকটাপন্ন সত্তাগুলির জন্য আরও সুবিন্যস্ত সমাধান প্রক্রিয়া তৈরি করেছে।
* *মামলা ও সমাধান:* এবছর মার্চ পর্যন্ত কোডের অধীনে ৮,৯৮৭টি CIRP গৃহীত হয়েছে। ১,৪১৯টি কর্পোরেট দেনাদারের সমাধান অনুমোদিত সমাধান পরিকল্পনার মাধ্যমে করা হয়েছে। এছাড়া, ধারা ১২এ-এর অধীনে নিষ্পত্তি, আপিল, পর্যালোচনা এবং প্রত্যাহারের মাধ্যমে আরও বেশ কিছু মামলা বন্ধ করা হয়েছে।
* *অর্থ পুনরুদ্ধার:* ২০২৬-এর মার্চ পর্যন্ত পাওনাদাররা আইবিসি-র অধীনে অনুমোদিত সমাধান পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রায় ₹৪.৩২ লক্ষ কোটি টাকা উদ্ধার করেছেন। এই পুনরুদ্ধার অবলুপ্তি মূল্যের (Liquidation value) ১১৬.৮৫% এবং ন্যায্য মূল্যের (Fair value) ৯৪.৫৬%-এর বেশি।
* *ব্যাংকিং ক্ষেত্রে প্রভাব:* আরবিআই (RBI)-এর 'ট্রেন্ডস অ্যান্ড প্রোগ্রেস অফ ব্যাংকিং ইন ইন্ডিয়া ২০২৪-২৫' রিপোর্ট (যা ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ প্রকাশিত হয়েছে) অনুযায়ী, তপশিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলি (SCBs) বিভিন্ন মাধ্যমে মোট যে ₹১,০৪,০৯৯ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করেছে, তার মধ্যে একা আইবিসি-র অবদান ছিল ₹৫৪,৫২৮ কোটি টাকা—যা মোট পুনরুদ্ধারের ৫২.৪%। এটি SARFAESI, ঋণ পুনরুদ্ধার ট্রাইব্যুনাল এবং লোক আদালতের মাধ্যমে পুনরুদ্ধারের চেয়ে বেশি ছিল।
* *আইআইএম আহমেদাবাদের গবেষণা:* আইআইএম আহমেদাবাদের একটি সমীক্ষায় আইবিসি-র অধীনে সমাধান হওয়া সংস্থাগুলির দৃঢ় পুনরুদ্ধার চিত্র দেখা গেছে। পাওনাদাররা অনুমোদিত দাবির ৩২% এবং অবসায়ন মূল্যের ১৬৮% পুনরুদ্ধার করেছেন। সমাধান হওয়া সংস্থাগুলির বিক্রি ৭৬% বৃদ্ধি পেয়েছে, তৃতীয় বছরের মধ্যে তারা পরিচালনগত ব্রেক-ইভেন (লাভ-ক্ষতিহীন অবস্থা) অর্জন করেছে এবং কর্মচারী ব্যয়ে ৫০% বৃদ্ধি ঘটেছে—যার অর্থ উচ্চতর কর্মসংস্থান। এই সংস্থাগুলির মোট সম্পদ ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে, মূলধনী ব্যয় (Capital expenditure) ১৩০% বেড়েছে এবং লাভজনকতা শিল্পের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির বাজার মূল্যায়ন ₹২ লক্ষ কোটি থেকে তিন গুণ বেড়ে ₹৬ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে এবং তারল্য (Liquidity) ৮০% উন্নত হয়েছে।
* *আইআইএম ব্যাঙ্গালোরের গবেষণা:* আইআইএম ব্যাঙ্গালোরের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ঋণের খরচ ৩% হ্রাস পেয়েছে এবং স্বতন্ত্র পরিচালকদের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুশাসন উন্নত হয়েছে। একইসঙ্গে কর্পোরেট ঋণের ওপর করা এই গবেষণাটি দেখায় যে আইবিসি ঋণগ্রহীতাদের নির্ধারিত ঋণ পরিশোধের সময়সূচী মেনে চলতে বাধ্য করেছে। পর্যালোচনাকালীন সময়ে 'ওভারডিউ' বা বকেয়া হিসাবে বিবেচিত ঋণ অ্যাকাউন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে (টাকার পরিমাণ এবং অ্যাকাউন্ট সংখ্যা উভয় ক্ষেত্রেই)। একইভাবে, ঋণ অ্যাকাউন্ট 'বকেয়া' বিভাগ থেকে 'স্বাভাবিক' বিভাগে রূপান্তরিত হওয়ার বার্ষিক অনুপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি কোনো ঋণ অ্যাকাউন্ট স্বাভাবিক বিভাগে ফিরে আসার গড় সময় ২৪৮-৩৪৪ দিন থেকে কমে ৩০-৮৭ দিন হয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে, দেনাদার ও পাওনাদার উভয় পক্ষই দ্রুততম সময়ে খেলাপি সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছে।
তবে, কিছু পরিচালনগত চ্যালেঞ্জ রয়েই গেছে। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে গড় সমাধানের সময়সীমা আইনি সীমা ৩৩০ দিন অতিক্রম করেছে। বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং দীর্ঘায়িত মামলার কারণে কিছু কার্যধারায় সম্পদের মূল্য সর্বাধিকীকরণের লক্ষ্য ব্যাহত হয়েছে।
এই চ্যালেঞ্জগুলি সত্ত্বেও দেউলিয়া ও দেউলিয়া কোড ভারতের আর্থিক এবং কর্পোরেট সমাধান কাঠামোর একটি বড় গাঠনিক সংস্কার। 'দেউলিয়া ও দেউলিয়া কোড (সংশোধন) আইন, ২০২৬'-সহ পরবর্তী সংশোধনীর উদ্দেশ্য হলো সময়সীমা, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা এবং অর্থ পুনরুদ্ধারের ফলাফল আরও উন্নত করা।
*দেউলিয়া ও দেউলিয়া কোডের আইনি অগ্রগতি*
২০২৬ সালের সংশোধন আইনটি ধারাবাহিক কিছু আইনি সংশোধনীর মাধ্যমে দেউলিয়া কাঠামোর বিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে।
*২০২৬ সালের আগে প্রবর্তিত মূল সংশোধনীসমূহ নিম্নরূপ:*
* *২০১৮ সালের সংশোধনী:* আবেদন প্রত্যাহারের বিধান এবং ভোটিং থ্রেশহোল্ডে পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাধান কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিমার্জন আনা হয়। এটি পাওনাদারদের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করে এবং মূল আইনের ধারা ২৯এ-এর অধীনে যোগ্যতার মানদণ্ড সংশোধন করে।
* *২০১৯ সালের সংশোধনী:* প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য সামগ্রিকভাবে ৩৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে দেউলিয়া সমাধান কাঠামো উন্নত করা হয়।
* *২০২০ সালের সংশোধনী:* সমাধানের পর কর্পোরেট দেনাদারদের দায়মুক্তি-সহ গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কোভিড-১৯-এর প্রতিক্রিয়া হিসাবে নির্দিষ্ট খেলাপির জন্য দেউলিয়া কার্যধারা স্থগিত করা হয়েছিল।
* *২০২১ সালের সংশোধনী:* MSME-গুলির জন্য 'প্রি-প্যাকেজড ইনসলভেন্সি রেজোলিউশন প্রসেস' চালু করা হয়, যা পাওনাদারদের তত্ত্বাবধানে দ্রুত 'দেনাদার-ইন-পোজিশন' সমাধানের সুযোগ দেয়। দেউলিয়াত্ব কার্যধারায় কার্যকারিতা এবং সময়সীমা উন্নত করার বিধানও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
*দেউলিয়া ও দেউলিয়া কোড (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট*
প্রায় এক দশকের বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের সংশোধন আইনটি তৈরি করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হল, দেউলিয়াত্ব সমাধান এবং অবলুপ্তি কার্যধারার সময় পদ্ধতিগত বিলম্ব, আইনি অস্পষ্টতা থেকে তৈরি মামলা এবং পরিচালনগত চ্যালেঞ্জগুলির সমাধান করা।
এই আইনটি দেউলিয়া প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে সংস্কার এনেছে। এটি মামলা গ্রহণ ও অনুমোদনের সময়সীমাকে কঠোর করেছে, অবলুপ্তির সময় CoC-এর ভূমিকা সম্প্রসারিত করেছে এবং সিকিউরিটি ইন্টারেস্ট (সুরক্ষিত স্বার্থ), অ্যাভয়েডেন্স ট্রানজাকশন (এড়ানো লেনদেন) ও সমাধান পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিধানগুলি স্পষ্ট করেছে।
সংশোধনীটি অনুমোদিত সমাধান পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে লাইসেন্স, পারমিট এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ধারাবাহিকতা রক্ষা অন্তর্ভুক্ত। এটি প্রতারণামূলক এবং অন্যায় ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত বিধানগুলিকেও শক্তিশালী করে।
এই সংশোধনীর একটি মূল বৈশিষ্ট্য হল, নির্দিষ্ট শ্রেণীর কর্পোরেট দেনাদারদের জন্য পাওনাদার-উদ্যোগী দেউলিয়া পরিস্থিতির সমাধান প্রক্রিয়া চালু করা। আইনটি অবসায়ন এবং বিলুপ্তি কার্যধারার জন্য আরও সুবিন্যস্ত সময়সীমাও প্রবর্তন করে। সামগ্রিকভাবে, সংশোধনীর উদ্দেশ্য হল, আইবিসি ২০১৬-এর মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে দেউলিয়া কাঠামোকে আরও সময়াবদ্ধ, অনুমানযোগ্য এবং সমাধান-মুখী করা।
*২০২৬ সালের সংশোধন আইনের প্রধান পরিবর্তনসমূহ*
নতুন কোনো কাঠামো প্রবর্তনের পরিবর্তে ২০২৬ সালের সংশোধন আইনটি ২০১৬ সালের মূল আইনে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ পাওয়া ফাঁকফোকরগুলি পূরণ করার চেষ্টা করেছে। প্রধান পরিবর্তনগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:
*১. আইনকে আরও স্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট করা*
* *আগে:* ২০১৬ সালের মূল আইনের অধীনে কিছু শব্দ এবং ধারণা সংজ্ঞায়িত ছিল না বা ব্যাখ্যার সুযোগ ছিল। এর ফলে প্রায়শই মামলা এবং পদ্ধতিগত বিলম্ব ঘটত।
* *এখন:* সংশোধনীতে "পরিষেবা প্রদানকারী" (service provider), "এড়ানো লেনদেন" (avoidance transaction) এবং "প্রতারণামূলক বা অন্যায় ব্যবসা"-র মতো শব্দগুলির সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। "পরিষেবা প্রদানকারী"-র সংজ্ঞায় দেউলিয়া পেশাদার, দেউলিয়া পেশাদার সংস্থা, তথ্য উপযোগিতা (information utilities) এবং IBBI-র সঙ্গে নিবন্ধিত অন্যান্য বিজ্ঞাপিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনটি "সিকিউরিটি ইন্টারেস্ট"-এর অর্থও স্পষ্ট করেছে। এতে বলা হয়েছে যে সিকিউরিটি ইন্টারেস্ট কেবল তখনই থাকবে যখন এটি পক্ষগুলির মধ্যে কোনো চুক্তি বা ব্যবস্থার মাধ্যমে তৈরি হবে। কেবল আইনের প্রয়োগ দ্বারা তৈরি সিকিউরিটি ইন্টারেস্টকে এই সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সংশোধনীতে "এড়ানো লেনদেন"ও সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পাওনাদারদের প্রতি অন্যায্য পক্ষপাতিত্ব, মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে সম্পদ হস্তান্তর, পাওনাদারদের সঙ্গে প্রতারণা বা অন্যায্য ক্রেডিট ব্যবস্থা তৈরি। মূল আইনের ৬৬ ধারার অধীনে "প্রতারণামূলক বা অন্যায় ব্যবসা"-কেও আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
*২. দেউলিয়া প্রক্রিয়ায় দ্রুত প্রবেশ নিশ্চিত করা*
* *আগে:* দেউলিয়া পরিস্থিতিতে থাকা সংস্থার আবেদন গ্রহণের সময়সীমা থাকলেও ঘনঘন বিলম্ব হতো এবং অনেক সময় তা অব্যাখ্যায়িত থেকে যেত। এটি কোডের সময়াবদ্ধ বৈশিষ্ট্যকে দুর্বল করেছিল।
* *এখন:* বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে (Adjudicating Authority) ১৪ দিনের মধ্যে আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই সময়সীমা মানা না হলে আনুষ্ঠানিক কারণ নথিভুক্ত করতে হবে, যা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
*৩. মামলা প্রত্যাহারে শৃঙ্খলা আনা*
* *আগে:* প্রক্রিয়ার অগ্রবর্তী স্তরেও মামলা প্রত্যাহার করা যেত। কিছু ক্ষেত্রে অনেক সময় পার হওয়ার পর এটি ঘটত, যার ফলে ইতিমধ্যে বিনিয়োগ করা শ্রম ও প্রচেষ্টার অপচয় হতো।
* *এখন:* মামলা প্রত্যাহার এখন সীমিত করা হয়েছে। CoC গঠনের আগে এটি করা যাবে না এবং সমাধান পরিকল্পনার আহ্বান জানানোর পর এটি নিষিদ্ধ। এটি গুরুত্বপূর্ণ স্তরগুলিতে ব্যাঘাত রোধ করে স্থায়িত্ব আনে এবং অংশীদ্বারের স্বার্থ রক্ষা করে।
*৪. মোরেটোরিয়াম (স্থগিতাদেশ) সুরক্ষাকে শক্তিশালী করা*
* *আগে:* মোরেটোরিয়াম বা সাময়িক স্থগিতকরণ কিভাবে কাজ করবে তা নিয়ে কিছু ফাঁক ছিল, বিশেষ করে গ্যারান্টির ক্ষেত্রে। পাওনাদাররা কখনও কখনও পরোক্ষ পথে সমান্তরাল ব্যবস্থা শুরু করতে পারত।
* *এখন:* সংশোধনী স্পষ্ট করেছে যে মোরাটোরিয়াম এই জাতীয় পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এটি নিশ্চিত করে যে দেউলিয়া প্রক্রিয়া এড়াতে গ্যারান্টি ব্যবহার করা যাবে না। সমাধান প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া কোম্পানিকে সমান্তরাল পুনরুদ্ধার কার্যধারা থেকে মুক্ত একটি নিরাপদ পরিবেশ দেওয়া হয়েছে।
*৫. প্রক্রিয়ার দক্ষতা এবং তথ্য প্রাপ্তি উন্নত করা*
* *আগে:* সমাধান পেশাদার নিয়োগে বিলম্ব এবং মূল অংশীদারদের কাছ থেকে সহযোগিতার অভাব প্রায়শই প্রক্রিয়াটিকে ধীর করে দিত। অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজে পাওয়া যেত না।
* *এখন:* সংশোধনী সমাধান পেশাদারদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করেছে, যা প্রাথমিক বিলম্ব কমায়। এটি সহযোগিতার বাধ্যবাধকতা সম্প্রসারিত করেছে—কর্মচারী, প্রোমোটার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুরো প্রক্রিয়া জুড়ে সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ এবং উন্নত তথ্য প্রাপ্তির ফলে, সমাধান প্রক্রিয়াটি আরও দক্ষ হয়ে উঠেছে।
*৬. সর্বস্তরে পাওনাদারদের ভূমিকা বৃদ্ধি করা*
* *আগে:* সমাধানের সময় CoC কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করলেও অবসায়ন (Liquidation) পর্যায় শুরু হলে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেত। এটি বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিচ্ছিন্নতা তৈরি করত।
* *এখন:* সংশোধনী পাওনাদারদের ভূমিকা অবলুপ্তির পর্যায় পর্যন্ত প্রসারিত করেছে। তারা অবসায়ন কার্যক্রম তদারকি করতে এবং প্রয়োজনে লিকুইডেটর পরিবর্তন করার ক্ষমতা পেয়েছে। পাওনাদাররা দেউলিয়াত্ব প্রক্রিয়ার পুরো জীবনচক্র নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, যা তদারকি উন্নত করে এবং সিদ্ধান্তগুলিকে অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখে।
*৭. অতীত লেনদেনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা*
* *আগে:* অন্যায্য সম্পদ হস্তান্তর, নির্দিষ্ট পাওনাদারদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ বা প্রতারণামূলক আচরণের মতো লেনদেনগুলি প্রায়শই মূল দেউলিয়াত্ব প্রক্রিয়া থেকে আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হতো। এটি সমাধান বা অবলুপ্তির পর এই জাতীয় কার্যধারা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করত।
* *এখন:* সংশোধনী স্পষ্ট করেছে যে, এড়ানো লেনদেন এবং প্রতারণামূলক বা অন্যায় ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত কার্যধারা দেউলিয়া সংক্রান্ত সমাধান বা অবলুপ্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেও চলতে পারে। দেউলিয়া পরিস্থিতি নিয়ে কাজকর্ম করছেন যে পেশাদার বা লিকুইডেটর দ্বারা এই ধরনের লেনদেন রিপোর্ট করা না হলে পাওনাদার, সদস্য বা অংশীদাররা বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হতে পারবেন।
*৮. সমাধানের জন্য সম্পদের ভিত্তি প্রসারিত করা*
* *আগে:* সমাধান প্রক্রিয়াটি মূলত কর্পোরেট দেনাদারের সম্পদের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করত। সম্পদ অপর্যাপ্ত হলে তা পুনরুদ্ধারকে সীমিত করে দিত।
* *এখন:* সংশোধনী গ্যারান্টারদের (জামিনদার) সম্পদকেও সমাধান প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেয় (পাওনাদারদের অনুমোদন এবং কিছু শর্ত সাপেক্ষে)। সম্পদের পরিধি বাড়ানোর ফলে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা উন্নত হয়, বিশেষ করে গ্যারান্টি যুক্ত জটিল আর্থিক কাঠামোর ক্ষেত্রে।
*৯. সব পাওনাদারের প্রতি ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করা*
* *আগে:* ভিন্নমত পোষণকারী পাওনাদাররা প্রায়শই মনে করতেন যে, সমাধান পরিকল্পনাগুলি তাদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করছে না, যা বিরোধ এবং মামলার দিকে পরিচালিত করত।
* *এখন:* আইনে এখন স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ভিন্নমত পোষণকারী পাওনাদাররা অন্তত অবলুপ্তি মূল্য (Liquidation value) অথবা সমাধান পরিকল্পনার অধীনে প্রাপ্য পরিমাণের মধ্যে যেটি কম, সেটি পাবেন—যদি ধারা ৫৩-এর অধীনে অগ্রাধিকার ওয়াটারফল (priority waterfall) অনুযায়ী এই জাতীয় পরিকল্পনার অর্থ বিতরণ করা হয়। এটি অধিকতর ন্যায্যতা আনে এবং দ্বন্দ্ব কমায়।
*১০. সমাধান পরিকল্পনাগুলিকে আরও বাস্তবসম্মত এবং প্রয়োগযোগ্য করা*
* *আগে:* অনুমোদনের পরেও সমাধান পরিকল্পনাগুলি লাইসেন্স, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং অতীত দায়ের মতো সমস্যার কারণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হত, যা অনিশ্চয়তা তৈরি করত।
* *এখন:* সংশোধনীটি পরিকল্পনার পর্যায়ভিত্তিক অনুমোদনের অনুমতি দেয়, লাইসেন্স ও নিয়ন্ত্রক অনুমতি রক্ষা করে এবং অতীতের দাবিগুলি কিভাবে বিবেচনা করা হবে তা স্পষ্ট করে। এর ফলে বাস্তব পরিস্থিতিতে সমাধান পরিকল্পনাগুলি আরও কার্যকর হয়ে ওঠে।
*১১. অবলুপ্তির আগে নমনীয়তা প্রদান করা*
* *আগে:* প্রক্রিয়াটি একবার অবসায়নের দিকে এগিয়ে গেলে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও সমাধানটি পুনর্মূল্যায়ন করার সীমিত সুযোগ ছিল।
* *এখন:* সংশোধনী অবলুপ্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমাধান প্রক্রিয়াটি এককালীন পুনরুদ্ধারের (one-time restoration) অনুমতি দেয়। কার্যকর ব্যবসাগুলি পুনরুজ্জীবনের অতিরিক্ত সুযোগ পায়, যা অকাল অবসায়ন রোধ করে।
*১২. ব্যবসার পরিসমাপ্তি আরও সুবিন্যস্ত এবং সময়াবদ্ধ করা*
* *আগে:* ব্যবসার পরিসমাপ্তি সংক্রান্ত কার্যধারায় প্রায়শই স্পষ্ট সময়সীমা এবং ধারাবাহিক তদারকির অভাব ছিল, যা দীর্ঘায়িত বন্ধের প্রক্রিয়া তৈরি করত।
* *এখন:* সংশোধনী অবলুপ্তির সময় সুনির্দিষ্ট সময়সীমা, স্পষ্ট ভূমিকা এবং উন্নত তদারকি প্রবর্তন করেছে। সমাধান ব্যর্থ হলেও প্রস্থান (exit) প্রক্রিয়াটি দ্রুত এবং সুশৃঙ্খল হয়।
*১৩. একটি নতুন পাওনাদার-নেতৃত্বাধীন দেউলিয়া প্রক্রিয়া প্রবর্তন*
* *আগে:* সমস্ত দেউলিয়া বিষয়ক প্রক্রিয়ার জন্য বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রয়োজন হতো, যা প্রাথমিক পর্যায়ে বিলম্ব ঘটাতে পারত।
* *এখন:* একটি নতুন ব্যবস্থা পাওনাদারদের সরাসরি দেউলিয়া প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি দেয় (নির্ধারিত অনুমোদন থ্রেশহোল্ড এবং পদ্ধতিগত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা সাপেক্ষে)। এই প্রক্রিয়াটিও সময়াবদ্ধ, যা নমনীয়তা আনে এবং আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ব্যবস্থাকে আরও প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলে।
*একটি শক্তিশালী দেউলিয়া কাঠামোর অভিমুখে*
গত এক দশকে 'দেউলিয়াত্ব ও দেউলিয়া কোড, ২০১৬' ভারতের দেউলিয়া বিষয়ক সমাধান কাঠামোকে নতুন রূপ দিয়েছে। এটি আর্থিক সংকটের প্রতি আরও সুবিন্যস্ত এবং পাওনাদার-চালিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রবর্তন করেছে। বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, বিচার বিভাগীয় ব্যাখ্যা এবং আইনি সংস্কারের মাধ্যমে এই কাঠামোটি ক্রমাগত বিকশিত হয়েছে।
'দেউলিয়াত্ব ও দেউলিয়া কোড (সংশোধন) আইন, ২০২৬' এই বিবর্তনের পরবর্তী স্তরকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই সংশোধনী পদ্ধতিগত নীতিগুলিকে স্পষ্ট করতে এবং সময়সীমাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এর মূল লক্ষ্য হলো দেউলিয়া পরিস্থিতির সমাধান এবং অবসায়ন কার্যধারার কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা। একত্রে এই সংস্কারগুলি ভারতে একটি আরও দক্ষ এবং অনুমানযোগ্য দেউলিয়া কাঠামোকে সমর্থন করে।
তথ্যসূত্র
INSOLVENCY & BANKRUPTCY BOARD OF INDIA
https://ibbi.gov.in/?indexpagetemp=home
https://ibbi.gov.in/uploads/resources/2ce0f4a4a146d49fb96f4939aa4fbe25.pdf
https://ibbi.gov.in/BLRCReportVol1_04112015.pdf
https://ibbi.gov.in/uploads/whatsnew/9f9dc60d2f3d49b5ab5aed5dfad2ba1a.pdf
https://ibbi.gov.in/legal-framework/act
https://ibbi.gov.in/uploads/publication/63ca2664fde1e59fb2c438e93a0d50f6.pdf
https://ibbi.gov.in/uploads/publication/e42fddce80e99d28b683a7e21c81110e.pdf
https://ibbi.gov.in/uploads/whatsnew/7373b47de45dd16da8313f1863709fcb.pdf
https://ibbi.gov.in/uploads/resources/57420f272e1515f0c9c137f1a6423d78.pdf
MINISTRY OF FINANCE
https://www.pib.gov.in/newsite/printrelease.aspx?relid=145286®=3&lang=2#:~:text=Parliament%20passes%20the%20Insolvency%20and,are%20almost%20a%20century%20old.
https://www.pib.gov.in/PressReleseDetailm.aspx?PRID=1696288®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/newsite/PrintRelease.aspx?relid=110730®=3&lang=2#:~:text=Bankruptcy%20Reforms%20Committee,Ministry%20of%20Finance%2C%20Room%20no.
MINISTRY OF LAW & JUSTICE
https://www.indiacode.nic.in/bitstream/123456789/2154/5/A2016-31.pdf
https://ibbi.gov.in/uploads/legalframwork/2026-04-07-115842-i5nsk-7ed69ef2a4d23a8b0d472cc0fcd55e79.pdf
https://ibbi.gov.in/webadmin/pdf/whatsnew/2018/Aug/The%20Insolvency%20and%20Bankruptcy%20Code%20%28Second%20Amendment%29%20Act%2C%202018_2018-08-18%2018%3A42%3A09.pdf
https://ibbi.gov.in/uploads/legalframwork/d36301a7973451881e00492419012542.pdf
https://ibbi.gov.in/uploads/legalframwork/0150ec26cf05f06e66bd82b2ec4f6296.pdf
https://www.icsi.edu/ccgrt/research/bare-acts/corporate-laws/
MINISTRY OF CORPORATE AFFAIRS
https://ibbi.gov.in/uploads/whatsnew/press_release_of_IBC_Code-1.pdf
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2117411®=3&lang=2
https://ibbi.gov.in/uploads/resources/d75daa3a490fc1bc316632cd993fca06.pdf?utm
LOK SABHA
https://sansad.in/getFile/BillsTexts/LSBillTexts/Asintroduced/INSOLVENCY%20as%20intro812202584142PM.pdf?source=legislation
https://sansad.in/getFile/app/lsscommittee/Select%20Committee%20on%20The%20Insolvency%20And%20Bankruptcy%20Code%20(Amendment)%20Bill,%202025/pr_files/ENG%20Press%20Release%20-%20Report%20on%20examination%20of%20the%20IBC%20Amendment%20Bill%202025.pdf?source=app#:~:text=Shri%20Baijayant%20Panda%2C%20Chairperson%20of,its%20report%20to%20the%20Parliament.
https://sansad.in/ls/legislation/bills
https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/187/AU3813_3TnFbA.pdf?source=pqals
THE INSTITUTE OF COMPANY SECRETARIES OF INDIA
https://www.icsi.edu/media/webmodules/ILP_Study_with_TP.pdf#:~:text=ii%20Page%203%20iii%20Insolvency%20occurs%20when,is%20not%20exactly%20the%20same%20as%20insolvency.
https://www.icsi.edu/ccgrt/research/bare-acts/corporate-laws/
OTHERS
https://www.newsonair.gov.in/parliament-passes-insolvency-and-bankruptcy-code-bill-2026/
https://www.mygov.in/group-issue/interim-recommendations-bankruptcy-law-reforms-committee-blrc/?page=0%2C10#:~:text=A%20Committee%20was%20formed%20under,%E2%80%A2
https://www.ey.com/en_in/insights/strategy-transactions/nine-years-of-ibc-transforming-india-s-insolvency-landscape
Click To See PDF
SSS/PK...
(Explainer ID: 158708)
आगंतुक पटल : 12
Provide suggestions / comments