• Sitemap
  • Advance Search
Global Affairs

প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সফর

জ্বালানি, প্রযুক্তি, সংযোগ এবং কৌশলগত সহযোগিতা ক্ষেত্রে অগ্রগতি

Posted On: 15 MAY 2026 8:36PM

১৫ মে ২০২৬

 

ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহী কৌশলগত অংশীদারিত্ব রাজনৈতিক বিশ্বাস, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এবছর ১৫ মে তারিখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সফর জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক পরিকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সুপারকম্পিউটিং, বিনিয়োগ এবং দক্ষতা উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। কৌশলগত, প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলিতে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংগতি দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎ-উপযোগী উন্নিয়নের প্রতি একটি যৌথ অঙ্গীকার প্রতিফলিত করে।

ঐতিহাসিক সম্পর্ক থেকে এক ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব

ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মধ্যে বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং আরব সাগরের দুই পাড়ের মানুষের শক্তিশালী সামাজিক সম্পর্কের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এক দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক রয়েছে। মুক্তা, খেজুর, মশলা, বস্ত্র এবং মৎস্য বাণিজ্য শতাব্দী ধরে পশ্চিম ভারতকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাথে যুক্ত করেছিল। ১৯৭২ সালে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়, যার পর আবুধাবি এবং নয়াদিল্লিতে দূতাবাস খোলা হয়।

২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সফরের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন গতির সঞ্চার হয়, যা ছিল ৩৪ বছরের মধ্যে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী সাতবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সফর করেছেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান পাঁচ বার ভারত সফর করেছেন। এই সময়কালে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে সহযোগিতা সম্প্রসারিত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এখন ভারতের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার, একটি প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী এবং পরিকাঠামো ও নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতে একটি অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক:

দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক পণ্য বাণিজ্য প্রথমবারের মতো ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা ১০১.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। উভয় পক্ষই ২০৩২ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

বিনিয়োগও এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। দুই দেশ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি (Bilateral Investment Treaty) স্বাক্ষর করে, যা ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। ২০০০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ভারতে পুঞ্জীভূত প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের (FDI) পরিমাণ ছিল ২৫.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা সংযুক্ত আরব আমিরশাহীকে ভারতে সপ্তম বৃহত্তম বিদেশী বিনিয়োগকারীতে পরিণত করেছে। রিয়েল এস্টেট, পরিকাঠামো, জ্বালানি, প্রাইভেট ইকুইটি এবং আর্থিক পরিষেবার মতো ক্ষেত্রগুলির ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বিনিয়োগগুলি সুষমভাবে বৈচিত্র্যময় করা হয়েছে। ভারতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সোভেরেন ওয়েলথ ফান্ড (SWF)-এর একটি শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মধ্যে লোকাল কারেন্সি সেটেলমেন্ট (LCS) ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং রেমিট্যান্স ভারতীয় রুপি (INR) এবং ইউএই দিরহামে (AED) নিষ্পত্তি করতে সক্ষম করে, যা ডলারের ওপর নির্ভরতা এবং লেনদেনের খরচ কমায়।

জ্বালানি বাণিজ্য:

ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী বিশেষ করে হাইড্রোকার্বন ক্ষেত্রের ক্ষেত্রে একটি নিবিড় এবং গতিশীল অংশীদারিত্ব ভাগ করে নেয়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ছিল অপরিশোধিত তেলের চতুর্থ বৃহত্তম উৎস, এলএনজি (LNG)-র তৃতীয় বৃহত্তম উৎস, এলপিজি (LPG)-র বৃহত্তম সরবরাহকারী এবং ভারতের উৎপাদিত পেট্রোলিয়াম পণ্যগুলির দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। বর্তমানে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী একমাত্র দেশ যা ভারতের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (Strategic Petroleum Reserve) কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছে।

*দ্বিপাক্ষিক সংযোগ:* 

জ্বালানি ও বাণিজ্য ছাড়াও, যোগাযোগ এবং লজিস্টিকস সহযোগিতা দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। উভয় দেশই সামুদ্রিক সংযোগ জোরদার করতে কাজ করছে।

*প্রতিরক্ষা সহযোগিতা:* 

ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্রের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০৩ সালের জুনে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতাস্মারক (MoU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি মন্ত্রক স্তরে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কমিটির (JDCC) মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সার্ভিস হেডকোয়ার্টার স্তরে, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পথগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য বার্ষিক সার্ভিস (সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনী) স্টাফ টক অনুষ্ঠিত হয়।

*জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক:* 

ভারতীয়রা সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৃহত্তম দল। তারা সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর অর্থনীতি এবং সমাজের মেরুদণ্ড গঠন করে। তাদের কল্যাণ উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, প্রবাসী ভারতীয়রা ভারতে রেমিট্যান্সের একটি ধারাবাহিক উৎস হিসাবে বজায় রয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

১৫ মে ২০২৬: প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সফর

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৫ মে ২০২৬ তারিখে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সফর করেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথে আলোচনা করেন। এই সফর দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের শক্তিশালী গতিকে পুনর্নিশ্চিত করেছে। উভয় দেশই কৌশলগত, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং সামাজিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। আলোচনায় স্থিতিস্থাপক সরবরাহ শৃঙ্খল (supply chains), দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অগ্রাধিকারগুলির ওপর ক্রমবর্ধমান সংগতির ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

মূল ফলাফল এবং এর কৌশলগত গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রীর সফর ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের সূচনা করে। এই ফলাফলগুলি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র জুড়ে বিস্তৃত, যা দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সংগতিকে প্রতিফলিত করে। এগুলি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক সংযোগকে শক্তিশালী করবে।

ফলাফল ১: 

ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভস লিমিটেড (ISPRL) এবং আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (ADNOC)-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতাস্মারক (MoU)

এই চুক্তিটি হাইড্রোকার্বন খাতে গভীর সহযোগিতার মাধ্যমে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করবে। এটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সংস্থানগুলিতে নির্ভরযোগ্য অ্যাক্সেস নিশ্চিত করবে। এই অংশীদারিত্ব ভারতের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ কাঠামোকেও উন্নত করবে। এটি বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করবে।

চুক্তিটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) স্টোরেজ বা মজুতকরণের পরিকাঠামোতে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। এটি জ্বালানির উৎসগুলির বৈচিত্র্যকরণ এবং মজুতকরণের ক্ষমতা সম্প্রসারণে ভারতের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে। এই অংশীদারিত্ব একটি নিরাপদ এবং ভবিষ্যৎ-উপযোগী জ্বালানি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতেও সাহায্য করবে।

ফলাফল ২: 

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) সরবরাহের বিষয়ে ইন্ডিয়ান অয়েল লিমিটেড (IOCL) কোম্পানি এবং আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (ADNOC)-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি

এই যৌথ সহযোগিতা ভারতের দীর্ঘমেয়াদী এলপিজি সরবরাহের নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করবে। এটি অভ্যন্তরীণ চাহিদার জন্য একটি স্থিতিশীল এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানির উৎস নিশ্চিত করবে। এই উদ্যোগটি দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতাকেও গভীর করবে। এটি ভারতের অন্যতম বিশ্বস্ত জ্বালানি অংশীদার হিসাবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।

ফলাফল ৩: কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের রূপরেখা (Framework)

এই কাঠামোটি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা শক্তিশালী করবে। এটি যৌথ অংশীদারিত্ব, সহ-উন্নয়ন এবং বৃহত্তর শিল্পের সমঝোতাকে উৎসাহিত করবে। চুক্তিটি কৌশলগত ক্ষেত্রগুলিতে উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি ভাগাভাগিকেও উৎসাহিত করবে। এটি উন্নত প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং সক্ষমতার ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে সমর্থন করবে। বৃহত্তর স্তরে, এই অংশীদারিত্ব জাতীয় এবং আঞ্চলিক security বা নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফলাফল ৪: 

গুজরাটের ভাদিনারে শিপ রিপেয়ার বা জাহাজ মেরামতের ক্লাস্টার স্থাপনের বিষয়ে কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড (CSL) এবং ড্রাই ডকস ওয়ার্ল্ড (DDW)-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU)

এই উদ্যোগটি শিপিং, বন্দর এবং উপকূলীয় পরিকাঠামোর উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। এটি একটি ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক এবং লজিস্টিক হাব হিসাবে ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। এই সহযোগিতা সামুদ্রিক লজিস্টিক ইকোসিস্টেমেরও উন্নতি ঘটাবে। এটি জাহাজ মেরামত এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এটি প্রয়োজনীয় বাণিজ্য এবং সংযোগকে সমর্থন করবে। এই অংশীদারিত্ব 'মেক ইন ইন্ডিয়া' উদ্যোগকেও এগিয়ে নিয়ে যাবে। এটি অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশীয় সামুদ্রিক সক্ষমতাকে উৎসাহিত করবে।

ফলাফল ৫: জাহাজ মেরামতের ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড (CSL), ড্রাই ডকস ওয়ার্ল্ড (DDW) এবং সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ইন মেরিটাইম অ্যান্ড শিপবিল্ডিং (CEMS)-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU)

এই ব্যবস্থাটি ভারতীয় সামুদ্রিক কর্মীবাহিনীর সক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে। এটি জাহাজ নির্মাণ এবং জাহাজ মেরামতের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সমর্থন করবে। এই উদ্যোগটি দক্ষ সমুদ্র ক্ষেত্রের পেশাদারদের জন্য একটি বিশ্বব্যাপী হাব হিসাবে ভারতের উত্থানকেও সমর্থন করবে। এটি শিল্পের জন্য প্রস্তুত দক্ষতা শক্তিশালী করবে এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রে সুযোগ সম্প্রসারিত করবে। এই যৌথ সহযোগিতা 'স্কিল ইন্ডিয়া মিশন'-এর উদ্দেশ্যের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি বিকাশমান বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক শিল্পের জন্য একটি ভবিষ্যৎ-উপযোগী কর্মীবাহিনী তৈরিতে সহায়তা করবে।

ফলাফল ৬: ভারতের সি-ড্যাক (CDAC) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জি-৪২ (G-42)-এর মধ্যে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আট এক্সাফ্লপ সুপার কম্পিউটিং ক্লাস্টার স্থাপনের জন্য টার্ম শিট (Term Sheet)

এই অংশীদারিত্ব ভারতের সার্বভৌম এআই (AI) এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং সক্ষমতাকে ত্বরান্বিত করবে। এটি দেশের সুপারকম্পিউটিং পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করবে। এই যৌথ সহযোগিতা 'ইন্ডিয়াএআই মিশন' (IndiaAI Mission)-কেও চাঙ্গা করবে। এটি ডিজিটাল উদ্ভাবন, এআই গবেষণা এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে সমর্থন করবে।

ফলাফল ৭: সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে ভারতে বিনিয়োগ

বিনিয়োগের এই প্রতিশ্রুতিগুলি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতাকে শক্তিশালী করবে। এগুলি ভারতের পরিকাঠামো এবং ব্যাংকিং ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে। এই প্রতিশ্রুতিগুলি দীর্ঘমেয়াদী পুঁজির প্রবাহ এবং বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসও বাড়াবে। এগুলি ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিকাঠামো সম্প্রসারণের লক্ষ্যগুলিকে সমর্থন করবে।

সামগ্রিকভাবে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফলাফলগুলি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি ভবিষ্যৎ-মুখী কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তরের বিষয়টিকে প্রতিফলিত করে। এই সহযোগিতা আশ্বাস, উদ্ভাবন এবং যৌথ সমৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। চুক্তিগুলো জ্বালানি, বাণিজ্য এবং প্রতিরক্ষার মতো ঐতিহ্যবাহী ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতাকে আরও গভীর করে। এগুলি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, লজিস্টিকস, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং উন্নত উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ উন্মোচন করে।

একটি ভবিষ্যৎ-উপযোগী ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহী অংশীদারিত্বের দিকে

ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মধ্যে থাকা সম্পর্ক ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য সংযোগ থেকে একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তরিত হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা এই রূপান্তরকে চালিত করেছে। আজ, এই অংশীদারিত্ব জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে অন্তর্ভুক্ত করে।

প্রধানমন্ত্রীর ২০২৬ সালের সফরের ফলাফল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। এগুলি উদীয়মান প্রযুক্তি, সামুদ্রিক পরিকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কৌশলগত শিল্পগুলিতে সহযোগিতা সম্প্রসারিত করে। যেহেতু উভয় দেশই তাদের অর্থনৈতিক এবং ভূ-রাজনৈতিক অগ্রাধিকারগুলি সমন্বয় করছে, তাই আগামী বছরগুলোতে এই অংশীদারিত্ব regional stability বা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে আরও বড় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র:

  1. Ministry of External Affairs
  1. Press Information Bureau

Click here to see pdf 

 

****

SSS/PK...

(Explainer ID: 158638) आगंतुक पटल : 1
Provide suggestions / comments
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , हिन्दी , Assamese , Gujarati