Farmer's Welfare
সুপারফুড মিষ্টিবর্ধক
ভারতে গুড় উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ
Posted On:
16 MAY 2026 10:40AM
নয়াদিল্লি, ১৬ মে, ২০২৬
বিশ্বের মোট গুড় উৎপাদনের ৭০ শতাংশেরও বেশি ভারতের দখলে, ফলে, প্রাকৃতিক মিষ্টিকারকের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের মোট আখ উৎপাদনের প্রায় ২০–৩০ শতাংশ গুড় তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়, যা প্রায় ২৫ লক্ষ গ্রামীণ মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত।
এই ক্ষেত্রের রফতানিও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫–১৬ থেকে ২০২৪–২৫ সালের মধ্যে গুড় রফতানির মূল্য ১০৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে এর ক্রমবর্ধমান চাহিদার ইঙ্গিত বহন করে।
আয়রন, খনিজ এবং প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টে সমৃদ্ধ গুড় পরিশোধিত চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসাবে বিবেচিত হয়। এই বৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করেছে বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ, যেমন প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্পদা যোজনা, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষুদ্র খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ উদ্যোগ প্রকল্প এবং এক জেলা এক উৎপাদন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিকীকরণ। পাশাপাশি GI ট্যাগিং মূল্য সংযোজন, গ্রামীণ উদ্যোগকে শক্তিশালী করা এবং রফতানি সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ভারতে গুড় ক্ষেত্র: উৎপাদন, গুরুত্ব এবং জীবিকা
গুড়, একটি ঐতিহ্যবাহী, অপরিশোধিত এবং প্রাকৃতিক মিষ্টিবর্ধক। রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই আখের রস ঘনীভূত করে এটি তৈরি করা হয়। একে অনেক সময় “ঔষধি চিনি” বলেও উল্লেখ করা হয়, কারণ পুষ্টিগুণের দিক থেকে এটি মধুর সমতুল্য বলে বিবেচিত।
এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে বিভিন্ন স্থানীয় নামে গুড়ের ব্যবহার ব্যাপক। প্রাকৃতিক উৎস, ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন পদ্ধতি এবং রাসায়নিকমুক্ত মিষ্টিকারকের প্রতি ক্রমবর্ধমান ভোক্তা আগ্রহের কারণে এর চাহিদা বাড়ছে।
মিষ্টি সাফল্যের পথে: ভারতের বিস্তৃত গুড় অর্থনীতি
ভারতের গুড় ক্ষেত্র মূলত বৃহৎ আখ উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল। ২০২৪–২৫ সালে দেশে মোট আখ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ৪৪৪.৯ মিলিয়ন টন (MT)। এর মধ্যে উত্তরপ্রদেশ একাই মোট উৎপাদনের ৪৮.৫ শতাংশ অবদান রেখেছে। এরপর রয়েছে মহারাষ্ট্র (২৪.১ শতাংশ) এবং কর্ণাটক (১০.৫ শতাংশ)। এছাড়াও গুজরাট, তামিলনাড়ু, বিহার, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ এবং হরিয়ানাও উল্লেখযোগ্য আখ উৎপাদনকারী রাজ্য।
বিভিন্ন বছরের বৃদ্ধির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ সালের এপ্রিল-জানুয়ারি সময়কালে গুড় রফতানির পরিমাণ পৌঁছেছে ৪৫০.১ MT-এ, যার মূল্য ছিল ৩৮৪.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের অর্থবর্ষের একই সময়ে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩৮৬.২ MT এবং মূল্য ছিল ৩৩১.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় রফতানির পরিমাণে প্রায় ১৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যে ১৫.৯ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
গুড়ের প্রাচীন ঐতিহ্য: ভারতে এর ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার
গুড় ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য হিসাবেই গণ্য হয়। এর ইতিহাস নিবিড়ভাবে যুক্ত আখচাষ ও আখ প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে, যার সূত্রপাত বৈদিক যুগে। খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক ১৪০০–১০০০ অব্দের ভারতীয় গ্রন্থে প্রথম আখচাষের উল্লেখ পাওয়া যায়। গবেষকদের মতে, আখের প্রাথমিক শীর্ণ জাতগুলি উত্তর-পূর্ব ভারতের আর্দ্র অঞ্চলে বিকশিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে আখচাষ ক্রমে উষ্ণ ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যে পরিণত হয়।
“Sugar” শব্দটির উৎস সংস্কৃত শব্দ শর্করা (sarkara), যা উপমহাদেশে মিষ্টিজাত উৎপাদনের গভীর সাংস্কৃতিক শিকড়ের পরিচয় বহন করে। ঐতিহাসিক বিবরণে জানা যায়, ৬৪৭ খ্রিস্টাব্দে একটি চীনা প্রতিনিধি দল মগধে এসেছিল আখ প্রক্রিয়াকরণের কৌশল শেখার উদ্দেশ্যে। এর মাধ্যমে মিষ্টিজাত উদ্ভিদ উৎপাদনে ভারতের জ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রাচীন আন্তর্জাতিক বিস্তারের প্রমাণ মেলে। আখচাষ, প্রক্রিয়াকরণ এবং জ্ঞান বিনিময়ের এই দীর্ঘ ঐতিহ্যই গুড় উৎপাদনে ভারতের স্থায়ী নেতৃত্বের ভিত্তি গড়ে তুলেছে।
পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্যে গুড়ের গুরুত্ব
বর্তমানে গুড়কে ক্রমশ একটি ‘সুপারফুড’ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, পরিশোধিত চিনির তুলনায় এটি একটি প্রাকৃতিক ও অধিক পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ বিকল্প। রাসায়নিক পরিশোধন ছাড়াই ঘন আখের রস থেকে গুড় তৈরি করা হয়। ফলে, চিনির পরিশোধন প্রক্রিয়ায় যে প্রয়োজনীয় খনিজ ও অণুপুষ্টি উপাদান নষ্ট হয়ে যায়, গুড়ে তা অক্ষত থাকে। ভারতে ভিন্ন ভিন্ন উৎপাদন পদ্ধতির মাধ্যমে আখ থেকে গুড়, খাঁডসারি এবং চিনি উৎপাদিত হয়।
গুড়ের পুষ্টিগুণ
আখের রসে উপস্থিত অধিকাংশ পুষ্টিগুণ গুড়ে বজায় থাকে, ফলে, এটি প্রাকৃতিক মিষ্টিজাত দ্রব্যগুলির মধ্যে অন্যতম পুষ্টিকর হিসাবে বিবেচিত হয়। সাদা চিনি তৈরির সময় যে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, তামা ও ম্যাঙ্গানিজের মতো খনিজ উপাদান হারিয়ে যায়, গুড়ে সেগুলি রয়ে যায়।
ভাল মানের গুড়ে সাধারণত ৭০ শতাংশের বেশি সুক্রোজ, অল্প পরিমাণ গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ এবং প্রায় ৫ শতাংশ খনিজ উপাদান থাকে, পাশাপাশি, এতে আর্দ্রতার পরিমাণও কম। প্রতি ১০০ গ্রাম গুড়ে প্রায় ১০–১৩ মিলিগ্রাম আয়রন থাকায় এটি হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়া, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম হৃদ্যন্ত্র ও পেশির কার্যকারিতা সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পুষ্টি উদ্যোগে গুড়ের অন্তর্ভুক্তি
শিশু অপুষ্টি মোকাবিলা এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে তামিলনাড়ুর পুষ্টি উদ্যোগে গুড়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজ্য সরকার পুষ্টিকর খাদ্য কর্মসূচি এবং সমন্বিত শিশু উন্নয়ন পরিষেবা কাঠামোর অধীনে পরিপূরক শিশুখাদ্য সরবরাহ করে। যোগ্য উপভোক্তাদের প্রতি বছর ৩০০ দিনের জন্য এই খাদ্য ‘টেক-হোম রেশন’ হিসেবে বিতরণ করা হয়।
এই পরিপূরক খাদ্য মিশ্রণের প্রায় ২৭ শতাংশই গুড়, যা খাদ্যের শক্তিমান এবং অণুপুষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এই সম্পূরক খাদ্য জনপ্রিয়ভাবে ‘সাত্তুমাভু’ নামে পরিচিত। এটি ২৫টি মহিলা পরিচালিত উইনিং ফুড উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি এবং দুটি বেসরকারি প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে ৬৫:৩৫ অনুপাতে সংগ্রহ করা হয়।
স্বাস্থ্যে গুড়ের উপকারিতা
গুড় দীর্ঘস্থায়ী শক্তি জোগায়, কারণ এতে থাকা জটিল সুক্রোজ ধীরে হজম হয়। ফলে, এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে না দিয়ে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। ঐতিহ্যবাহী লোহার পাত্রে প্রস্তুতির সময় গুড়ে আয়রন শোষিত হয়, যা রক্তাল্পতা দূর করতে সহায়ক।
এছাড়া, এতে উপস্থিত খনিজ লবণ ও অণুপুষ্টি উপাদান সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
আয়ুর্বেদের মতো প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে গুড় দীর্ঘদিন ধরে ঔষধি গুণসম্পন্ন মিষ্টি হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আয়ুর্বেদ মতে, গুড় গলা ও ফুসফুসের সংক্রমণ উপশম এবং হজমশক্তি বৃদ্ধিতে উপকারী। এর পরিশোধনকারী গুণ শ্বাসনালী ও পরিপাকতন্ত্রের বিষাক্ত উপাদান দূর করতে সহায়তা করে। ফলে, ধুলোবালি ও পরিবেশ দূষণের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী বলে মনে করা হয়।
গুড়ের উষ্ণতা কাশি, সর্দিজনিত জমাটভাব এবং শ্বাসকষ্টজনিত অস্বস্তি উপশমের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
আখ থেকে জীবিকা: গ্রামীণ উন্নয়নে গুড়ের ভূমিকা
ভারতে গুড় উৎপাদন অসংগঠিত কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি গ্রামীণ জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গুড় উৎপাদন ও রপ্তানিতে ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ। এই ক্ষেত্র একদিকে যেমন কৃষকদের জীবিকা সুরক্ষিত করে, তেমনই দেশীয় ভোগের পাশাপাশি, ক্রমবর্ধমান রপ্তানি চাহিদাও পূরণ করে।
ভোক্তাদের পছন্দের পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আখকেন্দ্রিক মূল্যশৃঙ্খলে বৈচিত্র্য আনা জরুরি হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ও অর্থনৈতিকভাবে সুস্তাটি উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব। গুড় উৎপাদনের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন, কাঁচা আখ চিনিকলে বিক্রির তুলনায় অনেক বেশি লাভজনক।
গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ী, ফসলের বৈচিত্র্যকরণ ও আন্তঃফসল চাষের মতো পদ্ধতির সঙ্গে গুড় উৎপাদন যুক্ত করলে প্রতি ইউনিট জমিতে নিট আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
জৈব গুড়ের গুঁড়ো: লাভজনক মূল্য সংযোজনমূলক উদ্যোগ
তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলি জেলার কৃষক Anthonisamy গুড় উৎপাদনকে একটি সফল মূল্য সংযোজনমূলক উদ্যোগ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি জৈব গুড়ের গুঁড়ো উৎপাদন করেন।
বিশুদ্ধতা এবং উৎকৃষ্ট স্বাদের জন্য তাঁর পণ্য স্থানীয় বাজার, পার্শ্ববর্তী রাজ্য এবং এমনকি রপ্তানি বাজারেও ব্যাপক চাহিদা অর্জন করেছে। জৈব চাষপদ্ধতি গ্রহণ এবং স্থানীয় আখের জাত ব্যবহার করে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তিনি একটি ঐতিহ্যবাহী কর্মকাণ্ডকে লাভজনক উদ্যোগে রূপান্তরিত করেছেন।
গুড়ভিত্তিক মূল্যশৃঙ্খলকে শক্তিশালী করতে নীতিগত উদ্যোগ
ভারতের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প মন্ত্রক (MoFPI) বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ক্ষেত্রভিত্তিক প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও উদ্যোগ সম্প্রসারণকে উৎসাহ দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে:
প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্পদা যোজনা,
প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিম ফর ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি (PLISFPI), এবং
প্রধানমন্ত্রী ফরমালাইজেশন অফ মাইক্রো ফুড প্রসেসিং এন্টারপ্রাইজেস (PMFME) প্রকল্প।
এই চাহিদাভিত্তিক উদ্যোগগুলি সারা দেশে কার্যকর করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট স্থাপন ও সম্প্রসারণে এগুলি সহায়তা করে। ভোক্তা ইউনিটগুলিকে ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মান নির্ধারণ কর্তৃপক্ষের (FSSAI) নিয়মাবলী মেনে চলতে হয়। পাশাপাশি, রপ্তানি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেও উৎসাহিত করা হয়।
PMKSY-র অধীনে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ সক্ষমতা সৃষ্টি/সম্প্রসারণ (CEFPPC) নামে একটি উপাদান রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এর আওতায় পাঁচটি গুড় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট অনুমোদন পেয়েছে। এ জন্য মোট ১৭.০৭ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
অন্যদিকে, PMFME প্রকল্পের মাধ্যমে ৩,৫২৮টি গুড়কেন্দ্রিক ক্ষুদ্র খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটকে মোট ১০২.৩১ কোটি টাকার ভর্তুকি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় সমষ্টিগত উদ্যোগগুলিকে, যেমন কৃষক উৎপাদক সংগঠন (এফপিও), স্বনির্ভর গোষ্ঠী (এসএইচজি), সমবায় সমিতি বা ক্ষুদ্র উদ্যোগের বিশেষ উদ্দেশ্যমূলক সংস্থা, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনের জন্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তাও প্রদান করা হয়।
ভারতে GI-স্বীকৃত গুড়ের বিভিন্ন প্রজাতি
GI বা ভৌগোলিক নির্দেশক হল এমন একটি স্বীকৃতি, যা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চল বা উৎপত্তিস্থলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পণ্যের জন্য প্রদান করা হয়। এটি কোনও অঞ্চল, শহর বা দেশের বিশেষ পরিচিতিকে তুলে ধরে।
গুড় ক্ষেত্রে GI স্বীকৃতি আঞ্চলিক ব্র্যান্ডিংকে শক্তিশালী করে, ঐতিহ্যবাহী প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতিকে উৎসাহ দেয় এবং গ্রামীণ উৎপাদকদের বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করে। ভারতে একাধিক GI-স্বীকৃত গুড়ের প্রজাতি রয়েছে, যেগুলি নিজস্ব আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন পদ্ধতির জন্য পরিচিত।
মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর গুড় তার সোনালি রং ও উচ্চ সুক্রোজ মাত্রার জন্য বিখ্যাত। উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগর গুড় উচ্চমানের আখ থেকে তৈরি এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদনের জন্য পরিচিত। কেরলের মারায়ুর ও সেন্ট্রাল ট্রাভাঙ্কোর গুড় বিশুদ্ধতা, ওষধিগুণ, ঐতিহ্যবাহী প্রক্রিয়াকরণ এবং স্বতন্ত্র আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যের জন্য স্বীকৃত।
স্থিতিশীল ও মূল্যসংযোজিত গুড় ক্ষেত্রে
গুড় উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ ভারতের কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াকরণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি কৃষি, পুষ্টি, গ্রামীণ জীবিকা এবং রপ্তানির সম্ভাবনাকে একসূত্রে যুক্ত করে। বিশ্বের বৃহত্তম গুড় উৎপাদক হিসাবে ভারত সুদৃঢ় আখভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা, ঐতিহ্যবাহী প্রক্রিয়াকরণ বিষয়ক জ্ঞান এবং প্রাকৃতিক মিষ্টিজাত দ্রব্যের ক্রমবর্ধমান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদার সুবিধা ভোগ করছে।
এই ক্ষেত্র বিকেন্দ্রীভূত কুটিরশিল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা সুরক্ষিত করে এবং মূল্য সংযোজন, গ্রামীণ উদ্যোগ ও কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করে।
অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি, গুড়ের খনিজ উপাদান ও ওষধিগুণ একে পরিশোধিত চিনির তুলনায় অধিক স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অণুপুষ্টির ঘাটতি পূরণে এটি একটি কার্যকর খাদ্য উপাদান হিসাবেও বিবেচিত হয়।
খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামো, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, মান নির্ধারণ, GI স্বীকৃতি এবং মূল্যশৃঙ্খল উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগগুলি বাজার সম্প্রসারণ ও পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তা, উন্নত প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি এবং মূল্য সংযোজিত পণ্যে বৈচিত্র্য আনার মাধ্যমে গুড়ের ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুস্থায়ী গ্রামীণ উন্নয়নের এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
***
তথ্যসূত্র
Ministry of Commerce and Industry
https://apeda.gov.in/JaggeryAndConfectionery
https://apeda.gov.in/Food_Agri_Products_Registered_GI
https://agriexchange.apeda.gov.in/production/India/index
https://agriexchange.apeda.gov.in/India/ExportSummary/Index
https://agriexchange.apeda.gov.in/India/ExportAnalyticalReport/Index
https://agriexchange.apeda.gov.in/India/ComparativeStatement/Index
https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2113966®=3&lang=2
https://apeda.gov.in/sites/default/files/study_reports/Report_Indian_Organic_Market_and_Export_Promotion_Strategy.pdf
Ministry of Agriculture and Farmers Welfare
https://www.agriwelfare.gov.in/Documents/AR_Eng_2024_25.pdf
Ministry of Food Processing Industries
https://niftem-t.ac.in/pmfme/DPR-Jaggery.pdf
https://www.mofpi.gov.in/mediapr/enewsfeb4.html
https://niftem.ac.in/newsite/pmfme/wp-content/uploads/2022/08/jaggeryprocessing.pdf
https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/187/AU116_pneN8S.pdf?source=pqals
Niti Aayog
https://www.niti.gov.in/sites/default/files/2024-07/Report-on-Promoting-Best-practices-on-Millet-26_4_23.pdf
Tamil Nadu Government
https://cuddalore.nic.in/geographical-indications/
https://agritech.tnau.ac.in/success_stories/sstories_farm_enter_2015_organic_jaggery.html
The Superfood Sweetener
SSS/SS....
(Explainer ID: 158637)
आगंतुक पटल : 1
Provide suggestions / comments