Social Welfare
সোমনাথ : ভারতের চিরন্তন জ্যোতি
বিশ্বাস, সাহস ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার ৭৫ বছর উদ্যাপন
Posted On:
08 MAY 2026 6:05PM
নয়াদিল্লি, ০৮ মে, ২০২৬
সোমনাথ ভারতের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান এবং ভগবান শিবের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে প্রথম। ১০২৬ সাল থেকে বারবার আক্রমণের শিকার হলেও সোমনাথ বিশ্বাস, সহনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবেই অটুট থেকেছে। জাতীয় নেতৃত্বের উদ্যোগে ১৯৫১ সালে মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হয় এবং তার পুনরায় উদ্বোধন ভারতের সভ্যতাগত পুনর্জাগরণের প্রতীক হয়ে ওঠে। সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব ১০২৬ সালে মন্দিরের ওপর প্রথম আক্রমণের এক হাজার বছর পূর্তি স্মরণ করছে। একই সঙ্গে ১৯৫১ সালের মে মাসে মন্দির পুনরায় উদ্বোধনের ৭৫ বছরও উদ্যাপিত হচ্ছে। এই পর্ব মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে তুলে ধরে এবং তার চিরন্তন ঐতিহ্যকে উদ্যাপন করে। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ১১ মে সোমনাথ মন্দির পরিদর্শনে যাচ্ছেন।
সোমনাথের পবিত্র উপকূল
গুজরাটের সৌরাষ্ট্র উপকূলে প্রভাস পাটনে অবস্থিত সোমনাথ ভারতের অন্যতম পবিত্র তীর্থকেন্দ্র। এই মন্দিরে শিব পুরাণে উল্লিখিত অন্যতম পবিত্র জ্যোতির্লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। ভগবান শিব, ভগবান কৃষ্ণ এবং শক্তির উপাসনার জন্য এই স্থান বিশেষভাবে পূজিত।
দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ স্তোত্রমে সোমনাথকে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে প্রথম স্থানে রাখা হয়েছে। এটি ভারতের আধ্যাত্মিক ও সভ্যতাগত ঐতিহ্যে তার শ্রেষ্ঠ স্থানকে প্রতিফলিত করে।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সোমনাথ মন্দির বারবার আক্রমণ ও লুণ্ঠনের শিকার হয়েছে। প্রতিবারই ভক্ত ও শাসকেরা মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করে তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে এনেছেন। তাই সোমনাথ ভারতের অটুট বিশ্বাসের এক জীবন্ত সাক্ষ্য, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বারবার আঘাতের পরও বিজয়ী হয়ে উঠেছে। এটি আমাদের সভ্যতার ধারাবাহিকতা, বিশ্বাসের গভীরতা এবং সম্মিলিত সংকল্পের শক্তিকে প্রতিফলিত করে।
চিরন্তন জ্যোতি : সময় ও সংগ্রামের পথে সোমনাথ
সোমনাথের উৎপত্তি প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যের গভীরে প্রোথিত। এই স্থান ভগবান শিব এবং চন্দ্রদেবের উপাসনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সোমনাথ একাধিক নির্মাণপর্বের সাক্ষী থেকেছে। প্রাচীন ঐতিহ্যে বিভিন্ন উপাদান দিয়ে নির্মিত ধারাবাহিক মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা পুনর্জাগরণ ও ধারাবাহিকতার প্রতীক।
সোমনাথের ইতিহাসের সবচেয়ে অশান্ত অধ্যায় শুরু হয় একাদশ শতকে। ১০২৬ সালের জানুয়ারিতে সোমনাথ প্রথম নথিভুক্ত আক্রমণের মুখোমুখি হয়। এর পর একাদশ থেকে অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে মন্দিরটি বারবার ধ্বংস করা হয়।
প্রতিবার মন্দির ধ্বংস হওয়ার পর ভক্ত ও রাজারা তা পুনর্নির্মাণে এগিয়ে আসেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন দ্বাদশ শতকে মন্দির পুনর্নির্মাণকারী রাজা কুমারপাল। ত্রয়োদশ শতকে জুনাগড়ের রাজা আবার এটি নির্মাণ করেন। পরবর্তী আরেক দফা ধ্বংসের পর অষ্টাদশ শতকে ইন্দোরের মারাঠা রানি লোকমাতা অহল্যাবাই হোলকর সোমনাথে নতুন মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে, বারবার ধ্বংসের পরও সোমনাথ কখনও মানুষের সম্মিলিত চেতনা থেকে হারিয়ে যায়নি।
স্বাধীনতার পর ১৯৪৭ সালে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল সোমনাথের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করেন এবং মন্দির পুনর্নির্মাণের সংকল্প নেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, ভারতের সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের জন্য সোমনাথ পুনর্নির্মাণ অপরিহার্য। জনঅংশগ্রহণ ও জাতীয় সংকল্পের ভিত্তিতে বর্তমান মন্দিরটি কৈলাস মহামেরু প্রসাদ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হয়।
১৯৫১ সালের ১১ মে রাষ্ট্রপতি ড: রাজেন্দ্র প্রসাদ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দিরটির উদ্বোধন করেন। পঁচাত্তর বছর পরে আজ সোমনাথ জাতীয় গৌরব ও আধ্যাত্মিক স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসাবে পুনরুজ্জীবিত হয়ে দন্ডায়মান রয়েছে।
সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব
সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব সোমনাথ মন্দিরের চিরন্তন ঐতিহ্যকে সম্মান জানায়। এটি ১০২৬ সালে সোমনাথ মন্দিরের ওপর প্রথম নথিভুক্ত আক্রমণের এক হাজার বছর পূর্তি স্মরণ করছে। ২০২৬ সালের ১১ মে একই সঙ্গে ১৯৫১ সালে সোমনাথ মন্দির পুনরায় উদ্বোধনের ৭৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে, যেদিন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড: রাজেন্দ্র প্রসাদ মন্দিরটি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি সোমনাথকে ভারতের আধ্যাত্মিক শক্তি ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক বলে বর্ণনা করেছিলেন। এই পুনরায় উদ্বোধন কেবল একটি মন্দির পুনর্নির্মাণ ছিল না; এটি শতাব্দীর সংগ্রামের পর ভারতের সভ্যতাগত আত্মবিশ্বাসের পুনর্জাগরণের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
তাই সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব ভারতের ইতিহাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে একসঙ্গে তুলে ধরে। প্রথমটি ধ্বংসের প্রতীক, দ্বিতীয়টি ধ্বংসের বিরুদ্ধে ভারতের গভীর বিশ্বাস ও পুনরুত্থানের প্রতীক।
সোমনাথ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী মন্দির পুনরায় উদ্বোধনের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১১ মে সোমনাথ মন্দির পরিদর্শন করবেন।
এই সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী সোমনাথ মন্দির সম্পর্কে নিজের ভাবনা ভাগ করে নেন। তিনি ধ্বংস থেকে পুনর্জাগরণের যাত্রাকে ভারতের ‘অদম্য আত্মার প্রতীক’ বলে উল্লেখ করেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যাঁরা মন্দির রক্ষা ও পুনর্নির্মাণ করেছেন, তাঁদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে “বিকাশ ভি, বিরাসত ভি” ভাবনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে উন্নয়নের পাশাপাশি, ঐতিহ্য সংরক্ষণেও জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি সোমনাথে আগামী ১,০০০ দিন বিশেষ পূজার ঘোষণাও করেন, যা তার ইতিহাসকে সম্মান জানাবে। একই সঙ্গে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মানুষকে সোমনাথ পরিদর্শনের আহ্বান জানান।
এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ১০-১১ জানুয়ারি আয়োজিত সোমনাথ স্বাভিমান পর্বে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে ৭২ ঘণ্টাব্যাপী ওঁকার মন্ত্র জপ, পবিত্র আচার এবং দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছিল। পাশাপাশি, প্রভাস পাটনে ১০৮টি ঘোড়ার প্রতীকী শোভাযাত্রাসহ এক বিশাল শৌর্য যাত্রার আয়োজন করা হয়, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সোমনাথ রক্ষাকারী যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
সোমনাথ মন্দির : মহিমা, ভক্তি ও প্রাণবন্ত ঐতিহ্য
ভগবান শিবের দ্বাদশ আদি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে প্রথম হিসাবে সোমনাথের বিশেষ পবিত্র মর্যাদা রয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে রয়েছে গর্ভগৃহ, সভামণ্ডপ ও নৃত্যমণ্ডপ। আরব সাগরের তীরে এই মন্দির মহিমান্বিতভাবে দাঁড়িয়ে আছে।
মন্দিরের শিখর ১৫০ ফুট উঁচু এবং তার ওপর রয়েছে ১০ টনের কলস। বস্তুত, ২৭ ফুটের ধ্বজদণ্ড মন্দিরের চিরন্তন আধ্যাত্মিক উপস্থিতির প্রতীক। প্রাঙ্গণে রয়েছে ১,৬৬৬টি সোনার আবরণযুক্ত কলস এবং ১৪,২০০টি ধ্বজা, যা শতাব্দীর ভক্তি ও শিল্পকুশলতার প্রতিফলন।
সোমনাথ আজও পূজা ও তীর্থযাত্রার এক প্রাণবন্ত কেন্দ্র। প্রতি বছর প্রায় ৯২ থেকে ৯৭ লক্ষ ভক্ত এখানে আসেন। বিল্ব পূজার মতো আচারেই বছরে ১৩.৭৭ লক্ষেরও বেশি ভক্ত অংশ নেন।
সাংস্কৃতিক উদ্যোগগুলিও সোমনাথের ঐতিহ্যের সঙ্গে মানুষের সংযোগকে আরও গভীর করেছে। ২০০৩ সালে শুরু হওয়া লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো ২০১৭ সালে আধুনিকীকরণ করা হয়। বর্তমানে এতে বর্ণনা ও ত্রিমাত্রিক লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
বন্দে সোমনাথ কলা মহোৎসবের মতো অনুষ্ঠান ১,৫০০ বছরের প্রাচীন নৃত্য ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সোমনাথে নতুন সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটেছে। প্রশাসনিক সংস্কার ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ তার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে।
শ্রী সোমনাথ ট্রাস্টের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম
শিক্ষার উন্নয়ন ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ
ট্রাস্ট শিক্ষা ও কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিকে সক্রিয়ভাবে উৎসাহ দেয়। কারিগরি প্রশিক্ষণ স্থানীয় যুবক ও মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করছে। এই প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার শিক্ষা, সেলাই, বিউটি সার্ভিস এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা। দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর পর উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তিও দেওয়া হয়।
“স্কুল অন হুইলস” উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে মোবাইল ডিজিটাল শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গ্রামীণ ছাত্রছাত্রীরা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও প্রাথমিক ডিজিটাল সাক্ষরতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা ও জল সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় মানুষের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মসূচিও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়।
অন্নদান ও সমাজকল্যাণ
ট্রাস্ট নিয়মিতভাবে ভক্ত ও দরিদ্র মানুষের জন্য অন্নদান কর্মসূচি পরিচালনা করে। জনসহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিদিন বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করা হয়।
দাতাদের অংশগ্রহণের ফলে সারা বছর এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলি সচল রাখা সম্ভব হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রাস্ট দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ায়। ত্রাণকার্যের মধ্যে রয়েছে খাদ্য বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান। সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলিকেও সহায়তা করা হয়।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগ
শ্রী সোমনাথ ট্রাস্ট স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। সোমনাথ-প্রভাস পাটন অঞ্চলের আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলিকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। ফিজিওথেরাপি পরিষেবার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষ কম খরচে পুনর্বাসন ও সুস্থতার সুযোগ পাচ্ছেন। আশপাশের এলাকায় নিয়মিত বিনামূল্যে দাঁত ও চোখের চিকিৎসা শিবির আয়োজন করা হয়।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সহায়তামূলক শিবিরও পরিচালিত হয়। এই শিবিরগুলিতে হুইলচেয়ার, শ্রবণযন্ত্র এবং ক্রাচ বিতরণ করা হয়।
পরিবেশ ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ
পরিবেশ সংরক্ষণ ট্রাস্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে আশপাশের এলাকায় সবুজায়ন বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বিল্ব বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সোমনাথ অঞ্চলে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলছে।
পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মন্দিরের জৈব বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা হয়। এই জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট ও প্রাকৃতিক সার তৈরি করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব তীর্থস্থান গড়ে তুলতে জনস্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন কর্মসূচিও চলছে।
শ্রী সোমনাথ ট্রাস্টের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ কেবল সামাজিক, শিক্ষামূলক ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটের সময়ও ট্রাস্ট সক্রিয়ভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ায়।
সোমনাথে নারী ক্ষমতায়ন ও স্থায়িত্বপূর্ণ উন্নয়ন
২০১৮ সালে “স্বচ্ছ আইকনিক প্লেস” হিসাবে ঘোষিত সোমনাথ স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের নানা অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মন্দিরের ফুল থেকে ভার্মিকম্পোস্ট তৈরি করে ১,৭০০টি বিল্ব গাছের পরিচর্যা করা হচ্ছে। মিশন লাইফের আওতায় প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে পেভার ব্লক তৈরি করা হচ্ছে এবং প্রতি মাসে ৪,৭০০টি ব্লক উৎপাদিত হচ্ছে। বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ লক্ষ লিটার নিকাশি জল শোধন করা হয়।
৭২,০০০ বর্গফুট এলাকায় বিস্তৃত ৭,২০০ গাছের একটি মিয়াওয়াকি অরণ্য বছরে প্রায় ৯৩,০০০ কিলোগ্রাম কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে। শোধিত অভিষেকের জল “সোমগঙ্গা জল” নামে বোতলজাত করা হচ্ছে, যার সুবিধা ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১.১৩ লক্ষেরও বেশি পরিবার পেয়েছে।
সোমনাথ নারী ক্ষমতায়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সোমনাথ মন্দির ট্রাস্টের ৯০৬ জন কর্মীর মধ্যে ২৬২ জন মহিলা। বিল্ব বন সম্পূর্ণভাবে মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত। মোট ৬৫ জন মহিলা প্রসাদ বিতরণে এবং ৩০ জন মহিলা মন্দিরের ভোজন পরিষেবায় কাজ করছেন। মোট ৩৬৩ জন মহিলা সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন এবং বছরে প্রায় ৯ কোটি টাকা আয় করছেন, যা অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও মর্যাদার প্রতীক।
সোমনাথ : সময়কে অতিক্রম করা বিশ্বাস
সোমনাথ ভারতের বিশ্বাস, সহনশীলতা ও সভ্যতাগত ধারাবাহিকতার এক চিরন্তন প্রতীক। বারবার ধ্বংস ও পুনর্জাগরণের মধ্য দিয়ে এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভক্তির অমর শক্তিকে প্রতিফলিত করেছে। পুরাণসম্মত গুরুত্ব থেকে ১৯৫১ সালের ঐতিহাসিক পুনর্নির্মাণ পর্যন্ত সোমনাথ কেবল একটি পবিত্র মন্দির নয়; এটি সাংস্কৃতিক গৌরব ও জাতীয় পুনর্জাগরণের এক সম্মিলিত প্রকাশ। এই বছর তার পুনরায় উদ্বোধনের ৭৫ বছর পূর্তি আধুনিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা ভারতের সম্মিলিত ঐতিহ্যে তার বিশেষ স্থানকে আরও দৃঢ় করছে।
সোমনাথ আজও পূজা, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ, স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতির এক প্রাণবন্ত কেন্দ্র হিসাবে বিকশিত হচ্ছে। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রকৃত ঐতিহ্য শুধু সংরক্ষণের মাধ্যমে নয়, ধারাবাহিক পুনর্জাগরণ ও সম্মিলিত বিশ্বাসের মাধ্যমেই টিকে থাকে।
তথ্যসূত্র
PM India
https://www.pmindia.gov.in/en/news_updates/pm-writes-an-oped-on-forthcoming-visit-to-somnath/?comment=disable
https://www.pmindia.gov.in/en/image-gallery/#gallery16769128-15
https://www.pmindia.gov.in/en/image-gallery/#gallery16769128-21
Ministry of Culture
Somnath Swabhiman Parv Yatra from Delhi Flagged Off by Union Minister of Culture Shri Gajendra Singh Shekhawat and Delhi CM Smt. Rekha Gupta | Ministry of Culture
https://amritkaal.nic.in/somnath-swabhiman-parv
https://amritkaal.nic.in/flip-book/somnath-history-english-booklet.html
https://culture.gov.in/events/somnath-swabhiman-parv-yatra-delhi-flagged-union-minister-culture-shri-gajendra-singh
https://culture.gov.in/events/honble-prime-minister-shri-narendra-modi-attends-somnath-swabhiman-parv-and-leads-shaurya
https://amritkaal.nic.in/event-campaign-detail?2831
Ministry of Information and Broadcasting
https://indiacinehub.gov.in/location/somnath
All India Radio
https://www.newsonair.gov.in/pm-modi-leads-shaurya-yatra-at-somnath-pays-tribute-to-temples-defenders/
https://www.newsonair.gov.in/somnath-temples-survival-reflects-countrys-indomitable-civilisational-spirit-pm-modi/
https://www.facebook.com/reel/1212231374334173
Others
https://www.facebook.com/photo?fbid=1301080755386653&set=pcb.1301081125386616
https://www.facebook.com/photo?fbid=1301080755386653&set=pcb.1301081125386616
https://somnath.org/social-activities/
https://www.narendramodi.in/somnath-and-bharat-s-unconquerable-spirit-605118
Somnath: The Eternal Flame of Bharat
*****
SSS/AS.....
(Explainer ID: 158500)
आगंतुक पटल : 3
Provide suggestions / comments