• Sitemap
  • Advance Search
Industries

ভারতের ইস্পাত ক্ষেত্র আত্মনির্ভরতার পথে এগোচ্ছে

ইস্পাত মূল্য শৃঙ্খলে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি পেল

Posted On: 05 MAY 2026 3:51PM

নয়াদিল্লি, ৫ মে, ২০২৬

 

ভারতের ইস্পাত ক্ষেত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান ক্ষেত্র হিসেবে ধারাবাহিক অগ্রগতি দেখাচ্ছে। ২০১৮ সালে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদক দেশ হিসাবে উঠে আসে। সেই অবস্থান এখনও বজায় রয়েছে।

বিগত ১২ বছরে ইস্পাত ব্যবহারের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে রপ্তানি বেড়েছে এবং আমদানি কমেছে। এর ফলে, আত্মনির্ভরতা শক্তিশালী হয়েছে।

এই অগ্রগতিকে সমর্থন করতে সরকার কাঁচামালের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করেছে। উৎপাদন ব্যয় কমানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে।

প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ বা উৎপাদন সংযুক্ত উৎসাহ-ভিত্তিক প্রকল্পের মাধ্যমে ২৩,০২২ কোটি টাকার বিনিয়োগ বিশেষ ইস্পাত উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে সহায়তা করেছে। এর ফলে ২৪ লক্ষ টন উৎপাদন এবং ১৩,০০০-এর বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

জাতীয় ইস্পাত নীতির উৎপাদন লক্ষ্যের প্রায় ৬৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ভবিষ্যতে হরিৎ ইস্পাত উৎপাদনের মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো হবে। কার্বন নির্গমন হ্রাস এই উদ্যোগের লক্ষ্য। ২০৭০ সালের মধ্যে নেট শূন্য নির্গমন অর্জনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

ইস্পাত ক্ষেত্রে অগ্রগতি

ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইস্পাত ক্ষেত্র একটি প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির পথে এই ক্ষেত্র ধারাবাহিকভাবে এগোচ্ছে। বিশ্বের মোট কাঁচা ইস্পাত উৎপাদনে ভারতের অংশ ২০১৪ সালে ৫.২ শতাংশ ছিল। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৭.৯ শতাংশ হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের প্রতিযোগিতা শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্ব ইস্পাত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভারত তৈরী ইস্পাতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবহারকারী দেশ। ২০১৪-১৫ সালে তৈরী ইস্পাতের ব্যবহার ছিল ৭৭ মিলিয়ন টন। ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে ১৬৩.৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে।

পরিকাঠামো নির্মাণ, নগরায়ন এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে বৃদ্ধির ফলে এই চাহিদা বেড়েছে। দেশীয় বাজারে ধারাবাহিক চাহিদাও এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

আত্মনির্ভরতার পথে

আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিদেশি উৎসের উপর নির্ভরতা কমানো হচ্ছে। শক্তিশালী দেশীয় ইস্পাত পরিকাঠামো নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করবে। শিল্পোন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। পরিকাঠামো নির্মাণেও গতি আসবে। ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন টন ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে। একই সঙ্গে কার্বন নির্গমন কমানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উৎপাদনের দৃঢ় অগ্রগতি

ইস্পাত উৎপাদনে ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে উৎপাদন ২০২৫ সালের মার্চের তুলনায় ২.২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মোট সূচক ৯.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন এবং চাহিদা উভয় ক্ষেত্রেই শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

কাঁচা ইস্পাত

কাঁচা ইস্পাত অন্যান্য ইস্পাত পণ্যের মূল উপাদান। ২০০৪-০৫ সালে উৎপাদন ছিল ৪৩.৪৪ মিলিয়ন টন। ২০১৪-১৫ সালে তা বেড়ে ৮৮.৯৮ মিলিয়ন টন হয়। ২০২৫-২৬ সালে উৎপাদন ১৬৮.৪ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত সময়ে বার্ষিক গড় বৃদ্ধি প্রায় ৯ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন ১০.৭ শতাংশ বেড়েছে।

হট মেটাল, পিগ আয়রন ও স্পঞ্জ আয়রন। হট মেটাল হল ব্লাস্ট ফার্নেসে উৎপাদিত তরল লোহা। ২০২৫-২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর সময়কালে উৎপাদন ৭.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পিগ আয়রন উৎপাদন একই সময়ে ৬.৬ শতাংশ বেড়েছে। স্পঞ্জ আয়রন উৎপাদন ৯.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তথ্যগুলি ইস্পাত শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামগ্রিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।

সমাপ্ত ইস্পাত

সমাপ্ত ইস্পাত আধুনিক পরিকাঠামো ও উৎপাদনের একটি মৌলিক উপাদান।

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে উৎপাদন ১৬০.৯ মিলিয়ন টন হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি ৯.৭ শতাংশ।

সমাপ্ত ইস্পাতের ব্যবহার ১৬৩.৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। বৃদ্ধি ৭.৬ শতাংশ।

দেশীয় চাহিদার ধারাবাহিক শক্তি এই প্রবণতা নির্দেশ করে।

ইস্পাত বাণিজ্যের চিত্র

ভারতের ইস্পাত বাণিজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশীয় শিল্প আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে।
২০২৬ সালের মার্চ মাসে ইস্পাত রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯.১ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে আমদানি ৯.৫ শতাংশ কমেছে।
এই প্রবণতা দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। বিদেশি সরবরাহের উপর নির্ভরতা কমেছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত একটি নির্ভরযোগ্য ইস্পাত সরবরাহকারী হিসাবে উঠে এসেছে। দেশীয় চাহিদা পূরণের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত লোহা ও ইস্পাত মিশ্র ধাতুর অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ইস্পাত ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ছে। এর ফলে, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়তা মিলছে।

আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য পূরণে একটি স্থিতিশীল শিল্প কাঠামো গড়ে তুলতে এই প্রবণতা সহায়ক। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে সমাপ্ত ইস্পাত রপ্তানির প্রধান গন্তব্য ছিল ভিয়েতনাম, বেলজিয়াম এবং তাইওয়ান। এই তিনটি দেশ মিলিয়ে মোট রপ্তানির অর্ধেকেরও বেশি অংশ জুড়ে রয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সমাপ্ত ইস্পাত রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৩৫.৮০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে আমদানি ৪৬.৪৭ শতাংশ কমেছে।

ইস্পাত ক্ষেত্রে সরকারি পদক্ষেপ

ইস্পাত ক্ষেত্রে কাঁচামালের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে,

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে।
আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলির ফলে উৎপাদন ব্যয় কমেছে। শিল্পক্ষেত্রে বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে।
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং ছোট ইস্পাত উৎপাদকরাও এর ফলে উপকৃত হয়েছে।

বিশেষ ইস্পাতের জন্য প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI)

প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) প্রকল্প একটি সরকারি উদ্যোগ। যোগ্য সংস্থাগুলিকে অতিরিক্ত বিক্রয়ের ভিত্তিতে আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা শক্তিশালী করাই এর উদ্দেশ্য। বিশেষ ইস্পাত হল ইস্পাত উৎপাদনের একটি মূল্য সংযোজিত নিম্নস্তরের পণ্য। এটি PLI প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ১৪টি ক্ষেত্রের একটি। উচ্চমূল্যের ইস্পাতের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এই উদ্যোগের লক্ষ্য। ২০২১ সালে এই প্রকল্প শুরু হয়। মোট বরাদ্দ ৬,৩২২ কোটি টাকা। এই উদ্যোগ বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নত করবে। রপ্তানি থেকে আয় বাড়াবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং মূল্য শৃঙ্খলে উপরের স্তরে ওঠার সুযোগ তৈরি করবে। এই প্রকল্পে নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণকারী সংস্থাগুলিকে পাঁচ বছর প্রণোদনা দেওয়া হয়। সময়কাল ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ থেকে ২০৩০-৩১ পর্যন্ত। এই প্রকল্পের ফলে রপ্তানি তিনগুণের বেশি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৯-৩০ সময়কালে আমদানি প্রায় চারগুণ কমতে পারে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান

ইস্পাত মন্ত্রকের PLI ১.০ এবং PLI ১.১ প্রকল্পে মোট ৪৪,১০৬ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে ৩৩,৪৬০ জনের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ১ কোটি ৪৩.৪ লাখ টন।

প্রধান সাফল্য

প্রায় ২৩,০২২ কোটি টাকার বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হয়েছে।
মোট ২৪ লাখ টন বিশেষ ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে।
প্রায় ১৩,২৬৪টি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
প্রায় ২৩৬ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ হয়েছে।
মোট ২ কোটি ৪০ লাখ টন বিশেষ ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে উঠেছে।
প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকার আমদানি প্রতিস্থাপন হয়েছে।

PLI ১.২ পর্যায়

২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে PLI ১.২ ঘোষণা করা হয়েছে। উন্নত ও উদীয়মান ইস্পাত পণ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো এর লক্ষ্য।

এই পর্যায়ে চারটি পণ্যের শ্রেণিতে মোট ৮৫টি আবেদন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে:

কৌশলগত ক্ষেত্রের জন্য ইস্পাত

বাণিজ্যিক গ্রেড – শ্রেণী ১
বাণিজ্যিক গ্রেড – শ্রেণী ২
প্রলেপযুক্ত ও তারজাত পণ্যে
এই পর্যায়ে পাঁচ বছরের জন্য ৪ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত  উৎসাহভাতা দেওয়া হবে। সময়কাল ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ থেকে শুরু হবে। তবে, উৎসাহভাতা বিতরণ শুরু হবে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে। মোট ৫৫টি সংস্থার ৮৫টি প্রকল্পের জন্য সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মোট বিনিয়োগ ১১,৮৮৭ কোটি টাকা। উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৮.২৯ মিলিয়ন টন বৃদ্ধি পাবে।

দেশীয় উৎপাদনে জোর

দেশীয় ইস্পাত উৎপাদন বাড়াতে সরকার নীতিভিত্তিক পদক্ষেপ নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

দেশে উৎপাদিত লোহা ও ইস্পাত পণ্য নীতি (DMI&SP):

২০২৫ সালের মে মাসে সংশোধিত এই নীতিতে সরকারি ক্রয়ে দেশীয় ইস্পাত পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য ন্যূনতম দেশীয় উপাদান ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিছু মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

মেল্ট অ্যান্ড পোর নিয়ম

দেশে উৎপাদন বাড়াতে ‘মেল্ট অ্যান্ড পোর’ নিয়ম চালু করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, ইস্পাতের সম্পূর্ণ উৎপাদন প্রক্রিয়া ভারতে সম্পন্ন করতে হবে। কাঁচা ইস্পাত গলানো থেকে ঢালাই পর্যন্ত সমস্ত ধাপ দেশের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। এর ফলে, দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে। আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে। আত্মনির্ভরতা আরও শক্তিশালী হবে।

জাতীয় ইস্পাত নীতি

ন্যাশনাল স্টিল পলিসি ২০১৭ বা ২০১৭ সালের জাতীয় ইস্পাত নীতি অনুযায়ী ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে কাঁচা ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্য ২৫৫ মিলিয়ন টন। প্রতি ব্যক্তির সমাপ্ত ইস্পাত ব্যবহার ৬১ কেজি থেকে ১৫৮ কেজিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উচ্চমানের মোটরগাড়ি, বিদ্যুৎ এবং বিশেষ ইস্পাতের দেশীয় চাহিদা পূরণ এই নীতির লক্ষ্য। কোকিং কয়লার আমদানির উপর নির্ভরতা ৮৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৫ শতাংশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

অগ্রগতির চিত্র

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কাঁচা ইস্পাত উৎপাদন ১৬৮ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে।
এর ফলে, জাতীয় ইস্পাত নীতির লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

পরিকাঠামো প্রকল্প

২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে নির্মাণ ও পরিকাঠামো ক্ষেত্র ইস্পাতের চাহিদার প্রধান চালিকাশক্তি ছিল। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৮ শতাংশ এই ক্ষেত্র থেকে এসেছে। ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্যাকেজিং ক্ষেত্রের অবদান প্রায় ২২ শতাংশ। মোটরগাড়ি শিল্পের অংশ প্রায় ৯ শতাংশ।

জানেন কি?

দেশের প্রধান ইস্পাত অঞ্চলগুলি কলিঙ্গনগর, অঙ্গুল, রৌরকেলা, ঝাড়সুগুড়া, নাগনার, ভিলাই, রায়পুর, জামশেদপুর, বোকারো, দুর্গাপুর, কলকাতা ও বিশাখাপত্তনমে অবস্থিত।

ইস্পাত অঞ্চল চিহ্নিতকরণ:

মোট ১২টি প্রধান ইস্পাত অঞ্চলে দ্রুত গতিতে পরিকাঠামো ও লজিস্টিক্স এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
রেল, সড়ক ও বন্দর সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জট কমানো এবং বহুমুখী সংযোগ গড়ে তোলা এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

পিএম গতিশক্তি মাস্টারপ্ল্যান (অক্টোবর ২০২১):

ইস্পাত মন্ত্রক ২,১০০-র বেশি কার্যকর ইস্পাত ইউনিটের অবস্থানভিত্তিক তথ্য এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেছে। উৎপাদন ও ক্ষমতার তথ্য যুক্ত হওয়ায় তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

আমদানি নির্ভরতা হ্রাস

কাঁচামালের নিরাপত্তা জোরদার, মান উন্নয়ন এবং প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ফেরো নিকেল ও মলিবডেনাম আকরিকের উপর মৌলিক শুল্ক ২০২৪-২৫ বাজেটে শূন্য করা হয়েছে।

স্টিল স্ক্র্যাপ রিসাইক্লিং নীতি (২০১৯): দেশীয় স্ক্র্যাপের প্রাপ্যতা বাড়াতে এই নীতি কার্যকর হয়েছে। উচ্চমানের স্ক্র্যাপ উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো হচ্ছে।

স্টিল কোয়ালিটি কন্ট্রোল অর্ডার: শুধুমাত্র মানসম্পন্ন ইস্পাত ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। নিম্নমানের পণ্যের ব্যবহার ও আমদানি বন্ধ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭২৩টি পণ্যের জন্য ১৪৩টি মান নিয়ন্ত্রণ নির্দেশ জারি হয়েছে।

মিশন কোকিং কয়লা (২০২৪): দেশীয় কোকিং কয়লা উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। ২০২৯-৩০ অর্থবর্ষে ১৪০ মিলিয়ন টন উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সুরক্ষা শুল্ক: ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কিছু নির্দিষ্ট ইস্পাত পণ্যের উপর ১২ শতাংশ সুরক্ষা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

সরল-সিমস ব্যবস্থা (নভেম্বর ২০২৫): আমদানি পর্যবেক্ষণ আরও শক্তিশালী হয়েছে। সহজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বিস্তার

বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ নীতিতে সংস্কারের ফলে বিনিয়োগ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই প্রবাহ ১২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ১০০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ২০০০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ধাতুবিদ্যা ক্ষেত্রে ১,৬০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে। যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

ইস্পাত ক্ষেত্রে কার্বন নির্গমন হ্রাস

ইস্পাত ক্ষেত্রে কার্বন নির্গমন কমানো সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। স্বল্পমেয়াদে ২০৩০ সালের মধ্যে নির্গমন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শক্তি দক্ষতা ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। মধ্যমেয়াদে হরিৎ হাইড্রোজেন এবং কার্বন সংগ্রহ ও সংরক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। দীর্ঘমেয়াদে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে নেট শূন্য নির্গমন অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালে হরিৎ ইস্পাতের জন্য একটি জাতীয় কাঠামো চালু হয়েছে। প্রতি টন সমাপ্ত ইস্পাতে ২.২ টনের কম কার্বন নির্গমন হলে তাকে হরিৎ ইস্পাত হিসাবে ধরা হচ্ছে।২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৮৯টি ইউনিট এই স্বীকৃতি পেয়েছে। মোট উৎপাদন ১২.৩৪ মিলিয়ন টন।

প্রধান লক্ষ্য

হরিৎ ইস্পাতের মান নির্ধারণ ও সরকারি ক্রয়ে অগ্রাধিকার।
উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্ক্র্যাপের ব্যবহার বৃদ্ধি।
২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার।
হাইড্রোজেন ও কার্বন সংগ্রহ প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ।
গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।
কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন।

নিম্ন কার্বন ব্যবহৃত ইস্পাত উৎপাদনে সরকারি উদ্যোগ

২০২৬-২৭ বাজেটে কার্বন সংগ্রহ ও সংরক্ষণ প্রযুক্তির জন্য পাঁচ বছরে ২০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। স্টিল স্ক্র্যাপ রিসাইক্লিং নীতি দেশীয় স্ক্র্যাপের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। এতে শক্তি ব্যবহার কমছে। জল ব্যবহার ৪০ শতাংশ কমছে। গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন ৫৮ শতাংশ কমছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৪টি টাস্ক ফোর্স বা কর্মী গোষ্ঠি গঠন করা হয়েছে। ন্যাশনাল গ্রীন হাইড্রোজেন মিশনের অধীনে চারটি প্রকল্প চালু হয়েছে। যানবাহন স্ক্র্যাপিং নীতি, জাতীয় সৌর মিশন এবং শক্তি দক্ষতা কর্মসূচিও কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ইস্পাত শিল্পে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার

এআই ইন স্টিল প্যাভিলিয়ন একটি নতুন উদ্যোগ। এটি সমস্যা ও সমাধানের সংযোগ তৈরি করে।
শিল্প, গবেষণা সংস্থা ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে একত্রিত করা হয়েছে।
উৎপাদন, লজিস্টিক্স, মান নিয়ন্ত্রণ ও বিপণন ক্ষেত্রে বাস্তব সমস্যার সমাধান তৈরি হচ্ছে।
ইস্পাত মূল্য শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ দিশা

ভারতের ইস্পাত ক্ষেত্র দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। উৎপাদন ক্ষমতা, প্রতিযোগিতা এবং আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাঁচামাল নিরাপত্তা, পরিকাঠামো, মান নিয়ন্ত্রণ এবং প্রণোদনা এই অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করছে। রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিশেষ ইস্পাত উৎপাদন দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও মজবুত করছে। হরিৎ ইস্পাত ও কার্বন নির্গমন হ্রাসের সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি একটি শক্তিশালী, ভবিষ্যৎমুখী এবং স্থিতিশীল ইস্পাত ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।

তথ্যসূত্র

Ministry of Steel

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2039000

https://steel.gov.in/sites/default/files/PLI%20Steel%20Report_Final.pdf

https://steel.gov.in/sites/default/files/lu%204034.pdf

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2123294&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2192033&reg=3&lang=2

https://steel.gov.in/sites/default/files/2025-04/Steel_English_AR_2024%20%281%29.pdf

https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2186206&reg=3&lang=2

https://sims.steel.gov.in/DMISP/About.aspx

https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2083839

https://content.trade.gov.in/News_Letter/Issue+24_1_Ministry+of+Steel+Introduces+SARAL+SIMS+Facility+to+Simplify+Steel+Import+Registration.pdf  

https://steel.gov.in/glossary-of-terms-definitions-commonly-used-in-iron-steel-industry

https://steel.gov.in/sites/default/files/2025-08/ru%202392_0.pdf

https://steel.gov.in/sites/default/files/2025-07/DMISP%2026.05.2025.pdf?utm

https://www.pib.gov.in/PressReleseDetailm.aspx?PRID=2186129&reg=3&lang=2

https://steel.gov.in/sites/default/files/2025-12/lu%20323.pdf

https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/186/AU426_Dl4aU5.pdf?source=pqals

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2229764&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2225496&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1896882&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1738126&reg=3&lang=2

https://steel.gov.in/sites/default/files/2026-04/Monthly%20Economic%20Report-%20March%202026%20%285%29.pdf

https://steel.gov.in/sites/default/files/2025-04/Monthly%20Summary%20for%20March-2024.pdf

 

World Steel Association

https://worldsteel.org/data/world-steel-in-figures/world-steel-in-figures-2025/

https://worldsteel.org/about-steel/what-is-steel/

 

Ministry of Coal

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2083140&reg=3&lang=2

 

Ministry of Commerce & Industry

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2165093

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2192137

https://www.dpiit.gov.in/static/uploads/2025/06/3d9c9c2daeefb97bb9ce964370938b71.pdf

https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2086347&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1945155&reg=3&lang=2

https://pmgatishakti.gov.in/pmgatishakti/faq

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2230777&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2243014&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2253812&reg=3&lang=2

 

Ministry of New and Renewable Energy

https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2002034&reg=3&lang=2

 

Joint Plant Committee

 https://jpcindiansteel.nic.in/writereaddata/files/Trend%20Report%20October%202025.pdf

 

Ministry of Finance

https://www.indiabudget.gov.in/economicsurvey/doc/echapter.pdf

https://www.indiabudget.gov.in/doc/budget_speech.pdf

 

IBEF

https://www.ibef.org/states/steel-presentation  

 

Cabinet

https://www.pib.gov.in/newsite/PrintRelease.aspx?relid=161491

 

Ministry of Coal

https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2124513&reg=3&lang=2

 

Niti Aayog

https://www.niti.gov.in/sites/default/files/2022-12/CCUS-Report.pdf

 

World Economic Forum

https://www.weforum.org/stories/2022/07/green-steel-emissions-net-zero/

 

PIB Headquarters

https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=155082&ModuleId=3&reg=3&lang=2

Click here to see pdf

***


SSS/SS....

(Explainer ID: 158458) आगंतुक पटल : 7
Provide suggestions / comments
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , हिन्दी , Gujarati