Energy & Environment
গ্রেট নিকোবর প্রকল্প: কৌশলগত গুরুত্ব ও উন্নয়ন
Posted On:
01 MAY 2026 9:21AM
০১ মে, ২০২৬
গ্রেট নিকোবর প্রকল্প একটি অত্যন্ত কৌশলগত উদ্যোগ, যা ভারতকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আন্দামান সাগরে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। পূর্ব-পশ্চিম আন্তর্জাতিক শিপিং রুটের অত্যন্ত কাছে (মাত্র ৪০ নটিক্যাল মাইল) অবস্থিত হওয়ায় এই প্রকল্পটি কলম্বো বা সিঙ্গাপুরের মতো বিদেশী বন্দরগুলির ওপর ভারতের নির্ভরশীলতা কমাবে। প্রকল্পটিতে একটি আন্তর্জাতিক ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল, গ্রীনফিল্ড বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং একটি আধুনিক টাউনশিপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকার পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় উপজাতিদের (শম্পেন ও নিকোবরী) স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
*মূল তথ্যসমূহ (Key Takeaways)*
* *কৌশলগত অবস্থান:* আন্তর্জাতিক শিপিং রুট থেকে মাত্র ৪০ নটিকাল মাইল দূরে।
* *প্রধান উপাদান:* ১৪.২ মিলিয়ন TEU ক্ষমতার কন্টেইনার টার্মিনাল, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ৪৫০ MVA মিশ্র বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ১৬,৬১০ হেক্টরের টাউনশিপ।
* *বাস্তবায়ন পর্যায়:* ২০২৫ থেকে ২০৪৭ সালের মধ্যে তিনটি ধাপে প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে।
* *পরিবেশগত সুরক্ষা:* দ্বীপের মাত্র ১.৮২% বনভূমি ব্যবহার করা হবে এবং এর ক্ষতিপূরণ হিসাবে হরিয়ানায় ৯৭.৩- বর্গ কিমি এলাকায় বনায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
* *উপজাতি কল্যাণ:* শম্পেন এবং নিকোবরী উপজাতিদের কোনো উচ্ছেদ বা স্থানান্তর করা হবে না।
*প্রকল্পের প্রধান পরিকাঠামোসমূহ*
১. *আন্তর্জাতিক কন্টেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল (ICTT):*
ভারতের গভীর সমুদ্রের বন্দরের অভাব দূর করতে গালাথিয়া বে-তে এটি নির্মিত হচ্ছে। মোট ২০ মিটারের বেশি প্রাকৃতিক গভীরতা থাকায় এটি বিশ্বের বৃহত্তম জাহাজগুলি ধারণ করতে সক্ষম হবে।
২. *গ্রীনফিল্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর:*
পর্যটন ও সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষে এটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বছরে ১০ লক্ষ যাত্রী এবং ভবিষ্যতে ১ কোটি যাত্রী সামলানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩. *গ্যাস ও সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র (৪৫০ MVA):*
বর্তমানে এই দ্বীপে ডিজেল জেনারেটরই প্রধান শক্তির উৎস। নতুন হাইব্রিড কেন্দ্রটি নিরবচ্ছিন্ন ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
৪. *টাউনশিপ ও এলাকা উন্নয়ন:*
বন্দর এবং বিমানবন্দরের সাথে যুক্ত পেশাদার ও পরিষেবা দানকারীদের জন্য একটি আধুনিক শহুরে আবাসন ও বাণিজ্যিক এলাকা গড়ে তোলা হবে।
*পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা*
সরকার এই প্রকল্পের জন্য 'এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান' (EMP) গ্রহণ করেছে, যাতে উন্নয়নের পাশাপাশি, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
* *বনায়ন:* আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপে ইতোমধ্যে ৭৫%-এর বেশি বনভূমি থাকায় সেখানে নতুন বনায়ন সম্ভব নয়, তাই হরিয়ানার ৯৭.৩০ বর্গ কিমি জমিতে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন করা হচ্ছে।
* *উপজাতি সুরক্ষা:* শম্পেন নীতি (২০১৫) এবং জারাওয়া নীতি (২০০৪) অনুসরণ করে আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা অক্ষুণ্ণ রাখা হবে। উপজাতি সংরক্ষিত এলাকার নিট পরিমাণ ৩.৯১২ বর্গ কিমি বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
* *তদারকি কমিটি:* দূষণ, জীববৈচিত্র্য এবং উপজাতিদের কল্যাণ তদারকি করার জন্য তিনটি পৃথক স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করা হয়েছে।
*বাস্তবায়ন পর্যায়সমূহ*
| পর্যায় | সময়কাল | এলাকা (বর্গ কিমি) |
|---|---|---|
| *প্রথম পর্যায়* | ২০২৫ – ২০৩৫ | ৭২.১২ |
| *দ্বিতীয় পর্যায়* | ২০৩৬ – ২০৪১ | ৪৫.২৭ |
| *তৃতীয় পর্যায়* | ২০৪২ – ২০৪৭ | ৪৮.৭১ |
*উপসংহার (Conclusion)*
গ্রেট নিকোবর প্রকল্প ভারতের সমুদ্র অর্থনীতির (Blue Economy) একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি প্রমাণ করে যে, যথাযথ পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশ ও আদিবাসীদের স্বার্থ রক্ষা করেও একটি বিশ্বমানের পরিকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। এই প্রকল্প কেবল ভারতের জাতীয় নিরাপত্তাই সুদৃঢ় করবে না, বরং এই অঞ্চলকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করবে।
*তথ্যসূত্র:*
Niti Aayog
Press Information Bureau
Ministry of Environment, Forest and Climate Change
Others:
Click here to see pdf
******
SSS/PK...
(Explainer ID: 158421)
आगंतुक पटल : 7
Provide suggestions / comments