Farmer's Welfare
ভারতের মৎস্য শিল্পের অগ্রগতি
Posted On:
06 APR 2026 12:16PM
৬ এপ্রিল, ২০২৬
ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদনকারী দেশ, যা বিশ্বব্যাপী মোট উৎপাদনের প্রায় ৮ শতাংশ দখল করে রয়েছে। জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং বিশেষ করে উপকূলীয় ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে আয় বৃদ্ধিতে মৎস্য শিল্প একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে। কৃষি ও আনুষঙ্গিক ক্ষেত্রের মধ্যে মৎস্য ক্ষেত্রের অবদান (GVA) প্রায় ৭.৪৩ শতাংশ, যা এই ক্ষেত্রের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে প্রমাণ করে।
২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে ভারতে মাছের উৎপাদন ছিল ৯৫.৭৯ লক্ষ টন, যা ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৭.৭৫ লক্ষ টনে। অর্থাৎ, গত দশকে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১০৬ শতাংশ। একইসাথে সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানি বেড়ে ৬২,৪০৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যার মধ্যে হিমায়িত চিংড়ি প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছে।
২০২৬-২৭ কেন্দ্রীয় বাজেট ও মৎস্য শিল্প
মৎস্য শিল্পের উন্নয়নে সরকার এই বছর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে এই ক্ষেত্রের জন্য রেকর্ড ২,৭৬১.৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২,৫৩০ কোটি টাকা সরাসরি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের (আর্থিক সহায়তা, বিমা, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি) মাধ্যমে মৎস্যজীবী ও মৎস্য চাষীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
মৎস্য ক্ষেত্রের রূপান্তরের প্রধান প্রধান স্তম্ভ
ভারতের মৎস্য ক্ষেত্রকে আধুনিক, প্রযুক্তি-চালিত ও বাজারমুখী করার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
* নীল বিপ্লব (Blue Revolution): ২০১৫ সালে শুরু হওয়া এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল উৎপাদন বাড়ানো এবং মৎস্য ক্ষেত্রের পরিকাঠামো শক্তিশালী করা।
* প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা (PMMSY): ২০২০ সালে চালু হওয়া এই মেগা প্রকল্পটি বর্তমানে মৎস্য উন্নয়নের মূল ভিত্তি। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ২,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
* ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (FIDF): ২০১৮-১৯ সালে চালু হওয়া এই তহবিলের মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে মৎস্য বন্দর, কোল্ড চেইন বা হিমায়ন শৃঙ্খল এবং প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকার দুটি বিশেষ আধুনিক পদ্ধতির ওপর জোর দিচ্ছে:
1. রিসার্কুলেটরি অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (RAS): এটি একটি আধুনিক মাছ চাষ পদ্ধতি যেখানে জল ফিল্টার করে পুনর্ব্যবহার করা হয়। এটি অল্প জমিতে ও স্বল্প জলে অধিক মাছ চাষের জন্য আদর্শ। এ পর্যন্ত ১২,০৮১টি RAS ইউনিট অনুমোদিত হয়েছে।
2. বায়ো-ফ্লক প্রযুক্তি (Bio-floc technology): এই পদ্ধতিতে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে বর্জ্যকে খাদ্যে রূপান্তর করা হয়, যা জলের গুণমান বজায় রাখে এবং মাছের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। ৪,২০৫টি বায়ো-ফ্লক ইউনিট এ পর্যন্ত অনুমোদিত হয়েছে।
আর্থিক নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিকরণ
মৎস্যজীবীদের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের আওতায় আনতে এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগসমূহ:
* কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC): মৎস্যজীবীদের জন্য ঋণের সীমা ২ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪.৩৯ লক্ষ মৎস্যজীবী এই সুবিধা পেয়েছেন।
* প্রধানমন্ত্রী মৎস্য কিষাণ সমৃদ্ধি সহ-যোজনা (PM-MKSSY): এটি মৎস্য শিল্পের আনুষ্ঠানিকীকরণ এবং বিমা আওতা বৃদ্ধির জন্য একটি বিশেষ উপ-প্রকল্প।
* সামাজিক সুরক্ষা: মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময় এবং মন্দা মরসুমে প্রায় ৭.৪৪ লক্ষ মৎস্যজীবী পরিবারকে জীবিকা সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
ডিজিটাল গভর্নেন্স ও পরিকাঠামো
* জাতীয় মৎস্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম (NFDP): ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চালু হওয়া এই মঞ্চটি মৎস্যজীবীদের একটি অনন্য ডিজিটাল পরিচয় প্রদান করে। এর মাধ্যমে ঋণ, বিমা এবং সরকারি ইনসেনটিভ বা উৎসাহ ভাতা পাওয়া সহজ হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩০.৬০ লক্ষ স্টেকহোল্ডার বা অংশীদার এখানে নিবন্ধিত হয়েছেন।
* সামুদ্রিক মৎস্য শুমারি (Marine Fisheries Census) ২০২৫: এটি ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও ভূ-নির্দেশিত (Geo-referenced) তথ্য সংগ্রহের অভিযান। এর মাধ্যমে মৎস্যজীবী পরিবারগুলির আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে।
* অমৃত সরোবর ও জলাশয় উন্নয়ন: সারা দেশে ৬৮,৮২৭টি অমৃত সরোবর তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১,২২২টি সরাসরি মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
নীল অর্থনীতি (Blue Economy)
ভারতের ১১,০৯৯ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং ২৪ লক্ষ বর্গকিলোমিটার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ) রক্ষায় সরকার ২০২৫ সালে 'মৎস্য আহরণ বিধি' কার্যকর করেছে। এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে সামুদ্রিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করে। সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (MPEDA) গুণমান নিশ্চিতকরণ এবং বাজার সম্প্রসারণে অগ্রণী কাজ করছে।
উপসংহার
ভারতের মৎস্য ক্ষেত্র বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি মানুষের জীবিকার সংস্থান করছে। ২০২৬-২৭ সালের বাজেট বরাদ্দ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় এই ক্ষেত্রকে কেবল উৎপাদনশীলই করছে না, আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে।
References
Ministry of Fisheries, Animal Husbandry and Dairying
Ministry of Finance
National Fisheries Development Board
Lok Sabha
PIB
***
See PDF
******
SSS/PK...
(Explainer ID: 158037)
आगंतुक पटल : 6
Provide suggestions / comments