Social Welfare
সার্ভিক্যাল ক্যান্সার টিকাকরণ অভিযানের সূচনা
Posted On:
28 FEB 2026 7:26PM
নয়াদিল্লি, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মূল বিষয়বস্তু
সমগ্র দেশের ১৪ বছর বয়সী ১.১৫ কোটি কন্যাশিশুর জন্য বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ শুরু হয়েছে। লক্ষ্য সার্ভিক্যাল ক্যান্সার অর্থাৎ জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রতিরোধ। এটি ভারতে মহিলাদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক সাধারণ ক্যান্সার।
গার্ডাসিল-৪-এর এক ডোজ সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের জন্য দায়ী এইচপিভি প্রজাতির বিরুদ্ধে ৯৩% - ১০০ % কার্যকারিতা দেয়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত ১৬০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে যুক্ত হল। ওই দেশগুলি তাদের জাতীয় টিকাকরণ সূচিতে এইচপিভি টিকা অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সূচনা
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাজস্থানের আজমেড়ে দেশব্যাপী এইচপিভি টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা করেন। লক্ষ্য মহিলাদের সার্ভিক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধ।

জাতীয় সূচনার পর সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল একই দিনে নিজ নিজ স্তরে কর্মসূচি শুরু করে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ১.১৫ কোটি কন্যাশিশুকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে।
সূচনা থেকে ৯০ দিনের মধ্যে যাদের বয়স ১৫ বছরে পূর্ণ হবে, তারাও এই বিশেষ তিন মাসের অভিযানের আওতায় আসবে। ৯০ দিনের নিবিড় টিকাকরণ কর্মসূচী প্রতিদিন চলবে। এরপর নিয়মিত টিকাকরণ দিনে টিকা দেওয়া হবে।
সার্ভিক্যাল অর্থাৎ, জরায়ুমুখের ক্যান্সার
বিশ্বব্যাপী মহিলাদের মধ্যে এটি চতুর্থ সর্বাধিক সাধারণ ক্যান্সার। ২০২২ সালে প্রায় ৬.৬ লক্ষ নতুন সংক্রমণ এবং প্রায় ৩.৫ লক্ষ মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস সংক্রমণের ফলে এই ক্যান্সার হয়।
ভারতে প্রতি বছর ১.২০ লক্ষের বেশি নতুন সংক্রমণ এবং প্রায় ৮০ হাজার মৃত্যু ঘটে। বিশ্বে সার্ভিক্যাল ক্যান্সারজনিত মোট মৃত্যুর প্রায় ২৫% ভারতের অংশ।
সমস্ত ক্ষেত্রে প্রায় বেশি ঝুঁকিসম্পন্ন এইচপিভি প্রজাতি, বিশেষত ১৬ ও ১৮ নম্বর প্রজাতি দায়ী। ভারতে ৮০% বেশি ক্ষেত্রে এই দুই প্রজাতির সংক্রমণ দেখা যায়। সময়মতো টিকা নিলে এই ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব।
টিকা : গার্ডাসিল-৪
জাতীয় কর্মসূচিতে গার্ডাসিল-৪ ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি এইচপিভি ১৬ ও ১৮ প্রজাতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। পাশাপাশি, ৬ ও ১১ প্রজাতির বিরুদ্ধেও কার্যকর।
ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা টিকাটিকে অনুমোদন দিয়েছে। মান ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। জিএভিআই-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে।
জিএভিআই, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স একটি জন-নিজি অংশীদারিত্ব। এতে বিভিন্ন সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, বিশ্বব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য সংস্থা যুক্ত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৪ বছর বয়সে, যৌন সক্রিয়তার আগে টিকা দেওয়া হয়।
টিকাকরণ কেন্দ্র ও নিরাপত্তা
শুধুমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকাকরণ করা হচ্ছে। সেখানে কার্যকর শীতল সংরক্ষণ ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক এবং ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে।
সাধারণত সকাল নটা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত টিকাকরণ হয়। প্রয়োজনে ছুটির দিনেও আয়োজন করা হয়। টিকা নেওয়ার আগে খালি পেটে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টিকা নেওয়ার পর ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
নিবন্ধন ও নথিভুক্তি
U-WIN ডিজিটাল মঞ্চে স্বনিবন্ধন করা যায়। স্বাস্থ্যকর্মীর সহায়তায় বা সরাসরি উপস্থিত হয়েও নিবন্ধন সম্ভব।
টিকার মজুত ও সরবরাহ U-WIN ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। টিকাকরণ সনদ অনলাইনে পাওয়া যায়। প্রয়োজনে মুদ্রিত কপি দেওয়া হয়। তিন মাসের অভিযানে টিকা নেওয়ার পর বাম হাতের তর্জনীতে চিহ্ন দেওয়া হয়।
যাঁরা টিকা পাবেন না
মাঝারি বা গুরুতর অসুস্থতা থাকলে সম্পূর্ণ সেরে ওঠার পর টিকা নেওয়া যাবে।
ইস্ট অ্যালার্জি বা পূর্বে টিকায় অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া থাকলে টিকা দেওয়া হবে না।
গর্ভবতী মহিলারা এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত নন।
১৪ বছরের নীচে বয়স হলে অন্তর্ভুক্তি নেই।
আগে এইচপিভি টিকা নেওয়া থাকলে পুনরায় টিকা দেওয়া হবে না।
উপসংহার
২০০৬ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ৫০ কোটির বেশি ডোজ এইচপিভি টিকা প্রয়োগ হয়েছে। গার্ডাসিল-৪ ৯৩ থেকে ১০০% কার্যকর।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভারত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সার্ভিক্যাল ক্যান্সার নির্মূলের লক্ষ্যে এগিয়ে গেল।
নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবারের শক্তি বৃদ্ধি সরকারের অঙ্গীকারের অংশ। প্রতিরোধ, সুরক্ষা এবং সমতা-ভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।
তথ্যসূত্র
Cervical Cancer Vaccination Campaign Launched
*****
SSS/AS....28.02.2026
(Explainer ID: 157595)
आगंतुक पटल : 8
Provide suggestions / comments