Social Welfare
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবায় রূপান্তর
Posted On:
13 FEB 2026 12:58PM
মূল বিষয়বস্তু
স্বাস্থ্য পরিষেবার ঘাটতি দূর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম, পরিষেবা ও ওষুধের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সমর্থিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও স্ক্রিনিং জোরদার হয়েছে। চিকিৎসা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা বেড়েছে। দূরবর্তী স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান সহজ হয়েছে।
জাতীয় যক্ষ্মা নির্মূল কর্মসূচিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে প্রতিকূল যক্ষ্মা ফলাফলে ২৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ৪,৫০০টিরও বেশি প্রাদুর্ভাব সতর্কবার্তা জারি হয়েছে।
২০২৩-এর এপ্রিল থেকে ২০২৫-এর নভেম্বর পর্যন্ত ২৮.২ কোটি টেলিমেডিসিন পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-প্রস্তাবিত নির্ণয়ের মাধ্যমে ১.২ কোটি রোগী উপকৃত হয়েছে।
ভূমিকা
ভারতে স্বাস্থ্য পরিষেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সমর্থিত রোগনির্ণয়, টেলিমেডিসিন এবং নজরদারি ব্যবস্থার ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই এই প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে পরিষেবা ঘাটতি কমানো হয়েছে। চিকিৎসা পরিষেবার মানোন্নয়ন ঘটেছে। সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করার পথে অগ্রগতি হয়েছে।
২০১৮ সালে নীতি আয়োগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কৌশল প্রকাশ করে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে একটি নতুন স্নায়ুতন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একাধিক ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
ইন্ডিয়া–এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬
আগামী ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে আন্তর্জাতিক দক্ষিণের প্রথম আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন আয়োজন করা হবে। নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব, প্রযুক্তি সংস্থা, উদ্ভাবক ও বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নেবেন। নীতি, গবেষণা, শিল্প ও জনসহযোগিতা বিষয়গুলি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
স্বাস্থ্য পরিষেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ
জনস্বাস্থ্য উদ্যোগগুলির কার্যকারিতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান দীর্ঘদিনের উন্নয়নগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমন্বিত সামাজিক উন্নয়নে অগ্রগতি হয়েছে। আত্মনির্ভর ভারত ও বিকশিত ভারত ভাবনার প্রতিফলন এতে স্পষ্ট।
নিরাপত্তা ও মাননিয়ন্ত্রণে ভিত্তিগত কাঠামো
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উৎকর্ষ কেন্দ্র
মার্চ ২০২৫-এ এইমস দিল্লি, পিজিআইএমইআর চণ্ডীগড় এবং এইমস ঋষিকেশকে উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসাবে মনোনীত করা হয়েছে। দেশীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাধান উন্নয়নে তারা নেতৃত্ব দিচ্ছে। ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি শিক্ষা মন্ত্রকের স্বাস্থ্য উৎকর্ষ কেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
ন্যাশনাল ফেডারেটেড লার্নিং প্ল্যাটফর্ম
২০২৪-এর ১৪ অক্টোবর ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি ও আইআইটি কানপুরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের অংশীদারদের তথ্য ব্যবহার করে স্বাস্থ্য মডেলের মান যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত মাপকাঠি নিরূপণের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে।
নৈতিক তদারকি
২০২৩ সালের আইসিএমআর নৈতিক নির্দেশিকা এবং বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শাসন নির্দেশিকা অনুসরণ করা হচ্ছে। তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষিত বিনিময় নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভারতের জন্য স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৌশল
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের জন্য পৃথক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক কৌশল প্রণয়ন করছে। সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে এই কৌশল প্রস্তুত হয়েছে।
আঞ্চলিক উন্মুক্ত ডিজিটাল স্বাস্থ্য সম্মেলন ২০২৫
গত বছর ১৯ ও ২০ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে আঞ্চলিক উন্মুক্ত ডিজিটাল স্বাস্থ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের অধীন ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি এই সম্মেলনের আয়োজন করে। বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের ন্যাশনাল ই-গভর্ন্যান্স ডিভিশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক দপ্তর এবং ইউনিসেফ সহযোগিতা করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তিবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নেন।
ইন্ডিয়া এআই মিশনের স্বাস্থ্য উদ্যোগ
২০২৪-এর মার্চে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ১০,৩৭১.৯২ কোটি টাকার ইন্ডিয়া এআই মিশন অনুমোদন করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই লক্ষ্য।
এই মিশনের আওতায় স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সমর্থিত উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। ইন্ডিয়া এআই অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর সমাধান তৈরি ও বিস্তারে সহায়তা করছে। উন্নত ও দক্ষ স্বাস্থ্য পরিষেবা তার অন্যতম ফল।
উপসংহার
বিভিন্ন রোগ নির্ণয় থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য উন্নত করা পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উদ্ভাবনী ব্যবহার নতুন দিশা দেখাচ্ছে। বিশুদ্ধ পানীয় জলে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধিতেও প্রযুক্তির ভূমিকা স্পষ্ট। মানবতার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহারের নীতি এতে প্রতিফলিত হয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ সুদৃঢ় হয়েছে। বিকশিত ভারত ২০৪৭ লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে।
Transforming Healthcare Delivery Through Artificial Intelligence
****
SSS/SS
(Explainer ID: 157364)
आगंतुक पटल : 3
Provide suggestions / comments