• Skip to Content
  • Sitemap
  • Advance Search
Technology

ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০

বাজেট ২০২৬-এ স্বনির্ভর সেমিকন্ডাক্টর ব্যবস্থার বড় পদক্ষেপ

Posted On: 07 FEB 2026 12:56PM

নতুন দিল্লি, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

 

ভূমিকা

২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট ভারতের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মোর সৃষ্টি করেছে। এই বাজেটে ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০ ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন পর্যায় স্পষ্ট নীতি নির্দেশ করে যে দেশে সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতা গভীর করতে হবে। আধুনিক ডিজিটাল ও শিল্প ব্যবস্থার মূলে রয়েছে চিপ। সেই বাস্তবতা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০ দেশে সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জাম ও উপকরণ তৈরি, পূর্ণাঙ্গ ভারতীয় নকশা গড়ে তোলা এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উপর জোর দেবে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য এই মিশনে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শিল্প পরিচালিত গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং দক্ষ কর্মশক্তি তৈরি।

আধুনিক অর্থনীতিতে সেমিকন্ডাক্টরের ভূমিকা

সেমিকন্ডাক্টর আধুনিক ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার ভিত্তি। কম্পিউটার, মোবাইল, টেলিযোগাযোগ, গাড়ি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল।

ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ১.০-এর মাধ্যমে দেশ ইতিমধ্যেই নকশা, উৎপাদন, সংযোজন ও পরীক্ষা ব্যবস্থা বিস্তৃত করেছে। এই অগ্রগতি আত্মনির্ভর ভারত দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এখন দেশ নীতি থেকে উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০ ভারতের অবস্থানকে আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর ব্যবস্থায় নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে আরও মজবুত করবে।

ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রের অগ্রগতি

ভারত দ্রুত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে। বড় বিনিয়োগ, বাড়তি উৎপাদন ক্ষমতা এবং সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৫-এর মতো উদ্যোগ এই বিশ্বাসকে মজবুত করেছে।

ভারতের চিপ বাজারের আকার

২০২৩ সালে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৩ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা

২০২৪-২৫ সালে ৪৫ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার থেকে ৪ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা

২০৩০ সালের মধ্যে ১ লক্ষ কোটি ডলার অর্থাৎ প্রায় ৮৩ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা

এই বৃদ্ধি মেক ইন ইন্ডিয়া এবং মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড দর্শনের সঙ্গে যুক্ত। ভারত শুধু উৎপাদক নয়, আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী হয়ে উঠছে।

ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ১.০-এর সাফল্য

ডিসেম্বর ২০২১ সালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই মিশন অনুমোদন করে। মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকার উৎসাহ-ভিত্তিক কাঠামো তৈরি হয়।

ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত

ছয়টি রাজ্যে ১০টি প্রকল্প অনুমোদিত

মোট বিনিয়োগ প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা

এর মধ্যে রয়েছে সিলিকন কারখানা, উন্নত প্যাকেজিং কেন্দ্র এবং পরীক্ষা ব্যবস্থা

২০২৯ সালের মধ্যে দেশ ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ অভ্যন্তরীণ চিপের প্রয়োজন নিজেই মেটাতে পারবে।

পরবর্তী লক্ষ্য

৩ ন্যানোমিটার এবং ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তি উন্নয়ন

২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর দেশগুলির মধ্যে নিয়ে আসা

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে লক্ষ্য

সংশোধিত সেমিকন্ডাক্টর ও ডিসপ্লে উৎপাদন কর্মসূচির মোট বরাদ্দ ৮ হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত ফলাফল

একটি সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় ৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ

প্রায় ১,৫০০ কর্মসংস্থান

নয়টি উৎপাদন কেন্দ্রে ১১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ

প্রায় ৩,০০০ কর্মসংস্থান

মোট ৩০টি নকশা সংস্থাকে সহায়তা

মোট ১০টি নতুন সেমিকন্ডাক্টর নকশা তৈরি

২০০ প্রকৌশলীর কাজের সুযোগ

কেন এই মিশন গুরুত্বপূর্ণ

সেমিকন্ডাক্টর আধুনিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, আর্থিক বাজার, হাসপাতাল, পরিবহণ এবং মহাকাশ প্রযুক্তি এর উপর নির্ভরশীল।

করোনা অতিমারীর সময় চিপ সংকট ১৬৯টির বেশি শিল্পকে প্রভাবিত করেছিল। এর ফলে উৎপাদন কমে যায় এবং খরচ বাড়ে।

বর্তমানে তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন নির্ভরশীল। তাইওয়ান একাই বিশ্বের ৬০ শতাংশ চিপ তৈরি করে। উন্নত চিপের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৯০ শতাংশ। এই নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ।

এই পরিস্থিতিতে ভারত নিজস্ব শক্তিশালী উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।

ভারতীয় মাইক্রোপ্রসেসর

ধ্রুব৬৪ নামের ৬৪-বিট মাইক্রোপ্রসেসর সিড্যাক তৈরি করেছে। এটি ৫জি, গাড়ি, শিল্প ব্যবস্থা এবং ইন্টারনেট অফ থিংস ব্যবস্থায় ব্যবহার করা যাবে।

এর পাশাপাশি, শক্তি, অজিত, বিক্রম এবং তেজস নামের দেশী প্রসেসরও তৈরি হয়েছে। এগুলি ডিজিটাল ইন্ডিয়া রিস্ক-ভি কর্মসূচির অংশ।

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি

দেশজুড়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলছে।

মোট ৩৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নকশা সরঞ্জাম সরবরাহ

মোট ৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৬টি চিপ তৈরি

ক্যালিকাটের নিএলআইটি-তে ১ লাখ প্রকৌশলী প্রশিক্ষণের লক্ষ্য

ইতিমধ্যে ৬২ হাজার প্রকৌশলী প্রশিক্ষিত

ল্যাম রিসার্চের সঙ্গে অংশীদারিত্বে ৬০ হাজার বিশেষজ্ঞ তৈরির পরিকল্পনা

উপসংহার

ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০ দেশকে শুধু উৎপাদক নয়, প্রযুক্তি উদ্ভাবক হিসাবে প্রতিষ্ঠা করবে।

২০২৬-২৭ সালের বাজেট এই পথে বড় গতি দিয়েছে। আগামী দশকে ভারত বিশ্বের শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর দেশগুলির মধ্যে জায়গা করে নিতে চলেছে।

তথ্যসূত্র

PIB Backgrounders:

Ministry of Electronics & IT:

Union Budget:

India Semiconductor Mission 2.0

SSS/RS.......

(Explainer ID: 157246) आगंतुक पटल : 8
Provide suggestions / comments
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Gujarati , Malayalam
Link mygov.in
National Portal Of India
STQC Certificate