• Skip to Content
  • Sitemap
  • Advance Search
Economy

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬

ভারত উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীল অর্থনীতির পথে

Posted On: 30 JAN 2026 3:13PM

নয়াদিল্লি, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

 

মূল বিষয়সমূহ 

- ২০২৭ অর্থবর্ষে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার হতে চলেছে ৭.২%
- মুদ্রাস্ফীতিতে ঐতিহাসিক ঘাটতি, এপ্রিল-ডিসেম্বর ২০২৫-এ ১.৭%
- এই প্রবৃদ্ধিতে সমস্ত ক্ষেত্রের অবদান রয়েছে
- আর্থিক অবস্থানের উল্লেখযোগ্য ক্ষমতায়ন 
- মানুষের আর্থিক অবস্থান ইতিবাচক 

ভূমিকা

২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ভারত শক্তিশালী অর্থনৈতিক গতি নিয়ে প্রবেশ করেছে। স্থিতিশীল সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভিত্তি, ধারাবাহিক নীতি সহায়তা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত কর্মক্ষমতা এই গতি ধরে রেখেছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রতিকূল হলেও দেশের অর্থনীতি স্থির রয়েছে। প্রবৃদ্ধি দৃঢ়, মুদ্রাস্ফীতি ঐতিহাসিকভাবে কম, শ্রমবাজার উন্নত এবং বৈদেশিক ও আর্থিক সুরক্ষা আরও মজবুত হয়েছে। সমন্বিত রাজস্ব, মুদ্রানীতি ও কাঠামোগত নীতির ফলে সামষ্টিক স্থিতি বজায় থেকেছে এবং বিনিয়োগ, ভোগ ও অন্তর্ভুক্তি একসঙ্গে এগিয়েছে।
বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এমন একটি অর্থনীতির ছবি তুলে ধরে, যেখানে আগের অর্জনগুলি সংহত হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদী, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরও শক্ত হচ্ছে।

অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা
প্রবৃদ্ধির মূলে: জিডিপি ও চাহিদা

ভারতের প্রবৃদ্ধি এখনও শক্তিশালী। সামষ্টিক ভিত্তি দৃঢ় এবং চাহিদার গতি বিস্তৃত। প্রথম অগ্রিম হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি পেতে পারে প্রায় ৭.৪ শতাংশ, এবং মোট মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি পেতে পারে প্রায় ৭.৩ শতাংশ।
শক্তিশালী কৃষি ফলনের ফলে, গ্রামীণ আয় ও ভোগ বেড়েছে। কর কাঠামোর যুক্তিসংগত সংস্কারের কারণে শহুরে চাহিদাতেও উন্নতি হয়েছে। এর ফলে ভোগের পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে। ভারতের সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে প্রায় ৭ শতাংশ। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার থাকতে পারে ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে। আন্তর্জাতিক পরিবেশ কঠিন হলেও মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধির সক্ষমতা স্থিতিশীল রয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতির ধারা ও ভবিষ্যৎ
ভারত ভোক্তা মূল্যসূচক চালু হওয়ার পর থেকে সর্বনিম্ন মুদ্রাস্ফীতির হার নথিভুক্ত করেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর সময়কালে গড় মুদ্রাস্ফীতি ছিল মাত্র ১.৭ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানির দামে সামগ্রিক পতন এই প্রবণতাকে শক্ত করেছে।
উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলির মধ্যে ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ভারতের মুদ্রাস্ফীতি কমার হার ছিল অন্যতম সর্বোচ্চ, প্রায় ১.৮ শতাংশ পয়েন্ট।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রিজার্ভ ব্যাংক ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস ২.৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২.০ শতাংশ করেছে। ভাল খরিফ ফলন ও রবি চাষের অগ্রগতি এতে সহায়ক হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে মুদ্রাস্ফীতি ২.৮ শতাংশ এবং ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে ৪.০ শতাংশ হবে বলে অনুমান করেছে। রিজার্ভ ব্যাংকের হিসাবে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ও দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে মুদ্রাস্ফীতি থাকতে পারে যথাক্রমে ৩.৯ শতাংশ ও ৪ শতাংশ।

আগামী দিনে সরবরাহ পরিস্থিতি অনুকূল থাকায় এবং জিএসটি হারের যুক্তিসংগত সংস্কারের প্রভাব ধীরে ধীরে কার্যকর হওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির দৃষ্টিভঙ্গি মোটের উপর স্বস্তিদায়ক থাকবে।

প্রবৃদ্ধির প্রধান ক্ষেত্রসমূহ

কৃষি: গ্রামীণ চাহিদার ভরকেন্দ্র
কৃষি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড ভারতের প্রবৃদ্ধিতে স্থিতি বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই ক্ষেত্র গ্রামীণ চাহিদা ও আয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে কৃষি ক্ষেত্রের প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে প্রায় ৩.১ শতাংশ। বছরের প্রথমার্ধে অনুকূল বর্ষা এর পেছনে প্রধান কারণ। একই সময়ে কৃষি মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.৬ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের ২.৭ শতাংশের তুলনায় বেশি।
পশুপালন ও মৎস্যচাষের মতো সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ। এর ফলে, কৃষি নির্ভর আয়ের ভিত আরও মজবুত হয়েছে এবং বৈচিত্র্য এসেছে।

শিল্প ও উৎপাদন: গতি সঞ্চার
২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে শিল্পক্ষেত্রে গতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধির হার হতে পারে প্রায় ৬.২ শতাংশ। আগের বছরের ৫.৯ শতাংশের তুলনায় বেশি। অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে শিল্প উৎপাদন বেড়েছে ৭.০ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ের ৬.১ শতাংশ এবং কোভিড-পূর্ব প্রবণতার চেয়েও বেশি।

উৎপাদন ক্ষেত্র প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। প্রথম ত্রৈমাসিকে উৎপাদন মূল্য সংযোজন বেড়েছে ৭.৭২ শতাংশ, এবং দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ৯.১৩ শতাংশ। এটি কাঠামোগত পুনরুদ্ধারের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

সরকারি উদ্যোগ, বিশেষ করে উৎপাদন সংযুক্ত প্রণোদনা প্রকল্প, ১৪টি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ টানতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পে বাস্তব বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা, অতিরিক্ত উৎপাদন ও বিক্রির পরিমাণ ছাড়িয়েছে ১৮.৭ লক্ষ কোটি টাকা, এবং সৃষ্টি হয়েছে ১২.৬ লক্ষের বেশি কর্মসংস্থান।
উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও ভারতের অবস্থান শক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন সূচকে ভারতের স্থান ৩৮-তম। ২০১৯ সালে এটি ছিল ৬৬-তম।

পরিষেবা: প্রবৃদ্ধির প্রধান ভরসা
পরিষেবা ক্ষেত্র ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে প্রায় ৯.১ শতাংশ হারে বেড়েছে। আগের বছরের ৭.২ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। জিডিপিতে পরিষেবা ক্ষেত্রের অংশ প্রথমার্ধে পৌঁছেছে ৫৩.৬ শতাংশে এবং মোট মূল্য সংযোজনে এর অংশ দাঁড়িয়েছে ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ ৫৬.৪ শতাংশে।

ভারত এখন বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম পরিষেবা রপ্তানিকারক দেশ। আন্তর্জাতিক পরিষেবামূলক বাণিজ্যে ভারতের অংশ ২০০৫ সালের ২ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে বেড়ে হয়েছে ৪.৩ শতাংশ। এই ক্ষেত্র এখনও প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য।

বাণিজ্য পরিস্থিতি: রপ্তানি বৈচিত্র্য ও পরিষেবা রপ্তানির শক্তি

বাণিজ্য ক্ষেত্রে ভারতের মোট রপ্তানি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে মোট রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২৫.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে রপ্তানি হয়েছে ৪১৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরিষেবা রপ্তানিতে জোরালো বৃদ্ধি এবং পেট্রোলিয়াম ও রত্ন-গয়না বাদ দিয়ে অন্যান্য পণ্যের রপ্তানিতে ধারাবাহিক গতি এই অগ্রগতির প্রধান কারণ।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের অংশগ্রহণ আরও গভীর হয়েছে। রপ্তানির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য বেড়েছে এবং পরিষেবা নির্ভর প্রবৃদ্ধি শক্ত হয়েছে। ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক পণ্য রপ্তানিতে ভারতের অংশ ছিল ১ শতাংশ। ২০২৪ সালে এই অংশ বেড়ে হয়েছে ১.৮ শতাংশ।
ইউএনসিটিএডি প্রকাশিত ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২৫ অনুযায়ী, বাণিজ্য অংশীদার বৈচিত্র্য সূচকে গ্লোবাল সাউথ-এর দেশগুলির মধ্যে ভারতের স্থান তৃতীয়। এই তালিকায় ভারতের আগে রয়েছে চিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতশাহী। ভারতের সূচক মান ৩.২। গ্লোবাল নর্থ-এর সব দেশের তুলনায় বেশি। এর ফলে, শুল্ক সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখেও ভারতের স্থিতিশীলতা স্পষ্ট হয়েছে।

পরিষেবা রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে পরিষেবা রপ্তানির পরিমাণ পৌঁছেছে সর্বোচ্চ ৩৮৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল ১৩.৬ শতাংশ। এর ফলে প্রযুক্তি, ব্যবসায়িক এবং পেশাগত পরিষেবার ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক পরিষেবা এবং জ্ঞানভিত্তিক ক্ষেত্রগুলিতে চাহিদা বেড়েছে।

বৈদেশিক সুরক্ষা সূচক সক্ষম অবস্থানে রয়েছে। ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার দাঁড়িয়েছে ৭০১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি প্রায় ১১ মাসের আমদানি ব্যয় মেটাতে সক্ষম এবং মোট বৈদেশিক ঋণের ৯৪ শতাংশেরও বেশি অংশ কভার করে। এর ফলে, বাহ্যিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার ক্ষমতা আরও বেড়েছে।

২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ভারত বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের  দেশ হিসেবে অবস্থান বজায় রেখেছে। ওই সময়ে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ১৩৫.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি চলতি হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়েছে। উন্নত দেশগুলি থেকে প্রবাসী আয়ের অংশ বেড়েছে, যা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ ও পেশাদার ভারতীয় কর্মীদের বাড়তি ভূমিকা নির্দেশ করে।

শিল্প উৎপাদন: আইআইপি ও মূল শিল্প সূচক

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শিল্প কার্যক্রমে আরও গতি এসেছে। শিল্প উৎপাদন সূচক এবং আটটি মূল শিল্প সূচক, দুটিতেই বিস্তৃত উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।
আটটি মূল শিল্প সূচকের আওতায় রয়েছে কয়লা, অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, পরিশোধিত তেলজাত পণ্য, সার, ইস্পাত, সিমেন্ট এবং বিদ্যুৎ। এই সূচক শিল্প পরিস্থিতির আগাম ইঙ্গিত দেয় এবং শিল্প উৎপাদন সূচকের মোট ওজনের ৪০.২৭ শতাংশ জুড়ে রয়েছে।

ডিসেম্বর ২০২৫-এ শিল্প উৎপাদন সূচক বেড়েছে ৭.৮ শতাংশ। এটি গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। নভেম্বর ২০২৫-এ এই বৃদ্ধি ছিল ৭.২ শতাংশ। উৎপাদন ক্ষেত্র ৮.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে। খনি ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হয়েছে ৬.৮ শতাংশ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে ৬.৩ শতাংশ।
উৎপাদন ক্ষেত্রের ভিতরে প্রযুক্তি ও পরিবহণ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

এর মধ্যে রয়েছে—
• কম্পিউটার, বৈদ্যুতিন ও অপটিক্যাল পণ্য: ৩৪.৯ শতাংশ
• মোটরগাড়ি, ট্রেলার ও সেমি-ট্রেলার: ৩৩.৫ শতাংশ
• অন্যান্য পরিবহণ সরঞ্জাম: ২৫.১ শতাংশ

মূল শিল্পগুলির মধ্যে সিমেন্ট উৎপাদন বছরে বেড়েছে ১৩.৫ শতাংশ। ইস্পাত উৎপাদন বেড়েছে ৬.৯ শতাংশ। নির্মাণ ও পরিকাঠামো কার্যক্রমে চাহিদা এই বৃদ্ধিকে সমর্থন করেছে। বিদ্যুৎ (৫.৩ শতাংশ), সার (৪.১ শতাংশ) এবং কয়লা (৩.৬ শতাংশ) ক্ষেত্রেও ইতিবাচক বৃদ্ধি হয়েছে।
সব মিলিয়ে শিল্প উৎপাদন সূচক এবং মূল শিল্প সূচকের সমন্বিত উন্নতি শিল্প ভিত্তির শক্তি বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

পরিকাঠামো ব্যয়, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং উৎপাদন ক্ষেত্রের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ এই গতি বজায় রেখেছে।

আর্থিক পরিস্থিতি
আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতা জোরদার ও রেটিং উন্নতি

সরকারের সংযত আর্থিক ব্যবস্থাপনার ফলে, ভারতের আর্থিক কাঠামোর উপর আস্থা বেড়েছে। এর ফলস্বরূপ, ২০২৫ সালে মর্নিংস্টার ডিবিআরএস, এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস এবং রেটিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনফরমেশন ইনকর্পোরেটেড, এই তিনটি সংস্থা ভারতের রেটিং উন্নত করেছে।
কেন্দ্রের রাজস্ব আয়ে উন্নতি
২০১৬–২০ সময়কালে জিডিপির গড় ৮.৫ শতাংশ ছিল কেন্দ্রের রাজস্ব আয়। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে তা বেড়ে হয়েছে ৯.২ শতাংশ। কর্পোরেট-বহির্ভূত কর আদায় বাড়ায় এই উন্নতি হয়েছে। অতিমারীর আগে এই কর আদায় ছিল জিডিপির প্রায় ২.৪ শতাংশ। পরে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩.৩ শতাংশ।
প্রত্যক্ষ করের ভিত্তি সম্প্রসারণ
মোট কর আদায়ে প্রত্যক্ষ করের অংশ অতিমারীর আগে ছিল ৫১.৯ শতাংশ। অতিমারীর পরে তা বেড়ে হয়েছে ৫৫.৫ শতাংশ এবং ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে পৌঁছেছে ৫৮.৮ শতাংশে। একই সঙ্গে আয়কর রিটার্ন জমার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯.২ কোটি। ২০২১–২২ অর্থবর্ষে এই সংখ্যা ছিল ৬.৯ কোটি। প্রযুক্তির ব্যবহার, কর মেনে চলার প্রবণতা এবং আয় বৃদ্ধির ফলে এই সম্প্রসারণ সম্ভব হয়েছে।

জিএসটি আদায় ও লেনদেন পরিস্থিতি

২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর সময়কালে মোট জিএসটি আদায় হয়েছে ১৭.৪ লক্ষ কোটি টাকা। বার্ষিক বৃদ্ধি ছিল ৬.৭ শতাংশ। এই প্রবণতা জিডিপি বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সময়ে ই-ওয়ে বিলের মোট সংখ্যা বেড়েছে ২১ শতাংশ।
মূলধনী ব্যয়ে বৃদ্ধি
সরকারের কার্যকর মূলধনী ব্যয় অতিমারীর আগে জিডিপির গড় ২.৭ শতাংশ ছিল। পরে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩.৯ শতাংশ। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে এই ব্যয় পৌঁছেছে জিডিপির ৪ শতাংশে।

রাজ্যগুলির মূলধনী ব্যয়ে সহায়তা

বিশেষ সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যগুলিকে মূলধনী ব্যয় বজায় রাখতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে রাজ্যগুলির মূলধনী ব্যয় জিডিপির প্রায় ২.৪ শতাংশ পর্যায়ে রয়েছে।
রাজ্যগুলির আর্থিক ঘাটতি
রাজ্য সরকারের সম্মিলিত আর্থিক ঘাটতি মহামারির পরে জিডিপির প্রায় ২.৮ শতাংশ পর্যায়ে স্থিতিশীল ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এই ঘাটতি বেড়ে ৩.২ শতাংশে পৌঁছেছে।
সরকারি ঋণের অনুপাত হ্রাস
২০২০ সালের পর থেকে ভারতের সামগ্রিক সরকারি ঋণ ও মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপির অনুপাত প্রায় ৭.১ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। একই সঙ্গে সরকারি বিনিয়োগের উচ্চ মাত্রা বজায় রাখা হয়েছে।

সমাপ্তি

২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ভারতের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চিত্রে স্থিতি ও গতি একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। কৃষি, শিল্প ও পরিষেবা, সব ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি বিস্তৃত। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে, কর্মসংস্থান পরিস্থিতি উন্নত, এবং বৈদেশিক সুরক্ষা যথেষ্ট শক্ত। ধারাবাহিক মূলধনী ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক শৃঙ্খলাও বজায় রয়েছে। সব মিলিয়ে এই অগ্রগতি দেখায় যে ভারত তার অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত করছে এবং সামষ্টিক স্থিতি বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদী  প্রবৃদ্ধির ক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

তথ্যসূত্র

Ministry of Finance:

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2219907&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2219912&reg=3&lang=1

https://www.indiabudget.gov.in/economicsurvey/doc/eschapter/echap01.pdf

https://www.indiabudget.gov.in/economicsurvey/doc/eschapter/echap02.pdf

https://www.indiabudget.gov.in/economicsurvey/doc/eschapter/echap03.pdf

https://www.indiabudget.gov.in/economicsurvey/doc/eschapter/echap04.pdf

https://www.indiabudget.gov.in/economicsurvey/doc/eschapter/echap05.pdf

Ministry of Commerce & Industry:

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2216458&reg=3&lang=1

Ministry of Statistics & Programme Implementation:

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2219602&reg=3&lang=2

Click here for pdf file. 

 

SSS/RS......

(Explainer ID: 157135) आगंतुक पटल : 6
Provide suggestions / comments
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Gujarati , Kannada
Link mygov.in
National Portal Of India
STQC Certificate