Farmer's Welfare
সুষম সার ব্যবহারের গুরুত্ব: সুস্থায়ী কৃষির অন্যতম ভিত্তি
উৎপাদনশীলতা, মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বের সমন্বয়
Posted On:
31 JAN 2026 10:25AM
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬
মূল বিষয়বস্তু
সুষম সার প্রয়োগ বলতে বোঝায় ফসলের চাহিদা, মাটির উর্বরতা ও জলবায়ু পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান সঠিক অনুপাতে, সঠিক মাত্রায় এবং উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা।
মাটি স্বাস্থ্য কার্ড, পুষ্টি-ভিত্তিক ভর্তুকি, নিম ইউরিয়া, স্বনির্বাচিত ও শক্তিবর্ধিত সার এবং ন্যানো সারের মতো বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত সরকার সুষম সার ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে।
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করে, পুষ্টি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে সুষম সার ব্যবহারের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
মাটি পরীক্ষাভিত্তিক সুপারিশ, কাস্টমাইজড সার ও সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সুনির্দিষ্ট, দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব সার ব্যবহারে সহায়তা করে।
ভূমিকা: সুষম সার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা
সবুজ বিপ্লব উচ্চফলনশীল বীজের ব্যবহার, সেচ সম্প্রসারণ ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতকে খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্যে স্বয়ম্ভর ও রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তরিত করেছিল। তবে, দীর্ঘদিন ধরে একফসলি চাষ, অতিরিক্ত নাইট্রোজেন নির্ভরতা এবং জৈব উপাদানের কম ব্যবহারের ফলে মাটিতে পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে এবং মাটির স্বাস্থ্যের ক্রমশ অবনতি ঘটেছে। এর ফলে, ফসলের ফলন, গুণমান ও সহনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সুস্থায়ী কৃষি ও দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক সুষম সারের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
মাটির উর্বরতা ও স্থায়িত্ব
প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার ব্যবহারে উদ্ভিদের বিপাক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, রোগ ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ বাড়ে এবং কৃষিপণ্যের গুণমান হ্রাস পায়। একই সঙ্গে পুষ্টিহীন পশুখাদ্যের কারণে প্রাণিস্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব পড়ে। এই ঝুঁকিগুলি অনুধাবন করে আইসিএআর দেশের বিভিন্ন কৃষি-জলবায়ু অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা চালায়। এই গবেষণাগুলি মাটির পুষ্টি নিঃশেষ হওয়া ও অবক্ষয়ের প্রমাণ দেয় এবং সুস্থায়ী উৎপাদনের জন্য যুক্তিসঙ্গত সার ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে।
সুস্থায়ী কৃষিতে সুষম সার ব্যবহারের ভূমিকা
সুষম পুষ্টি ব্যবস্থাপনা সার ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ায়, অপচয় কমায়, মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়ায় এবং জীবাণু নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে, ফলন ঘাটতি কমে, পরিবেশ দূষণ (যেমন লিচিং ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন) হ্রাস পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা বজায় থাকে। লিবিগের ‘ন্যূনতমের সূত্র’ অনুযায়ী, যে পুষ্টি উপাদানটি সবচেয়ে কম, সেটিই ফসলের বৃদ্ধিকে সীমিত করে, এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই সুষম সার ব্যবস্থাপনার কৌশল নির্ধারণ করা হয়।
সার কি
সার হল প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম উৎস থেকে প্রস্তুত এমন উপাদান যা উদ্ভিদকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। অজৈব সার দ্রুত পুষ্টি সরবরাহ করে তাৎক্ষণিক ফলন বাড়ায়, অন্যদিকে জৈব সার ধীরে ধীরে পুষ্টি সরবরাহ করে এবং মাটির গঠন, জৈব পদার্থ ও জীবাণু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা উন্নত করে। সুস্থায়ী কৃষির জন্য এই দুই-এর সমন্বিত ব্যবহার অপরিহার্য।
সুষম সার ব্যবহারের সুফল
সুষম সার ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় পুষ্টি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ে, ফসলের গুণমান উন্নত হয়, পরিবেশ দূষণ হ্রাস পায়, মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার হয় এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
সুষম সার ব্যবহারের প্রক্রিয়া: মাটি থেকে সমাধান
সুষম সার ব্যবস্থাপনার জন্য সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, স্বনির্বাচিত সার, মাটি পরীক্ষাভিত্তিক সুপারিশ, Soil Test Crop Response (STCR), Diagnosis and Recommendation Integrated System (DRIS) এবং Site-Specific Nutrient Management (SSNM) পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। এই পদ্ধতিগুলি মাটির বৈচিত্র্য, ফসলের চাহিদা ও লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক ফলনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুনির্দিষ্ট সার প্রয়োগ সুনিশ্চিত করে।
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি: একটি পরিপূরক পন্থা
পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দেয়। কম চাষ, পর্যায়ক্রমিক ফসল উৎপাদন, কভার ক্রপ, মালচিং ও কৃষি-বনায়নের মতো পদ্ধতির মাধ্যমে মাটিতে পুষ্টি ধরে রাখা সহজ হয়, ক্ষয় কমে এবং সুষম সার ব্যবহারের কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়।
সুষম সার ব্যবহারে সরকারের উদ্যোগ
ভারত সরকার সয়েল হেলথ কার্ড, পুষ্টি-ভিত্তিক ভর্তুকি, নিম ইউরিয়া, পরম্পরাগত কৃষি বিকাশ যোজনা, পিএম-প্রণাম, ন্যানো সার, স্বনির্ধারিত ও শক্তিবর্ধিত সার এবং গুণমান নিয়ন্ত্রণমূলক কঠোর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুষম সার ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে। এই উদ্যোগগুলি একসঙ্গে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং সুস্থায়ী কৃষি উৎপাদন সুনিশ্চিত করছে।
উপসংহার
সুষম সার ব্যবহার ভারতের সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। বিজ্ঞানভিত্তিক, সমন্বিত ও কৃষককেন্দ্রিক উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার পুষ্টি ভারসাম্যহীনতা দূর করা, মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার, সার ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃষি ক্ষেত্রের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও উৎপাদনশীলতা সুনিশ্চিত করার পথে এগিয়ে চলেছে।
তথ্যসূত্র
Lok Sabha
Ministry of Agriculture and Farmers Welfare
PIB Press Releases
PIB Backgrounders
Economic Survey 2025-2026
Click here to see pdf
*****
SSS/PK/31.1.26
(Explainer ID: 157134)
आगंतुक पटल : 6
Provide suggestions / comments