• Skip to Content
  • Sitemap
  • Advance Search
Infrastructure

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি উত্তরণে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা

Posted On: 27 JAN 2026 5:18PM

নয়াদিল্লি, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ 

 

মূল বিষয়সমূহ
 
- প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য ২৫ হাজার ৪০০ কিলোমিটারের বেশি, যার ফলে দেশের প্রায় শতভাগ সিজিডি'র ভৌগোলিক অবস্থানের আওতায়।

- ইথানল মিশ্রণের হার অর্থবর্ষ ২০২৪–২৫-এ ১৯.০৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি ২০ শতাংশের জাতীয় লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি।

- প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা ১০ কোটি ৪১ লক্ষ পরিবারে পৌঁছেছে।

- ইন্ডিয়া এনার্জি উইক ২০২৬-এ জ্বালানি নিরাপত্তা ও জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে আলোচনা করতে সারা পৃথিবী থেকে অংশগ্রহণকারীরা একত্রিত হচ্ছেন।

পরিবর্তনশীল বিশ্বে ভারতের জ্বালানি প্রয়োজন

জ্বালানি অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক উন্নয়ন ও মানব কল্যাণের মূল ভিত্তি। শিল্প উৎপাদন, পরিবহণ, কৃষি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ডিজিটাল সংযোগ এবং দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে জ্বালানি অপরিহার্য। বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলির মধ্যে অন্যতম ভারত অপরিশোধিত তেলের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রাহক। একই সঙ্গে, ২০৩৫ পর্যন্ত ভারতের জ্বালানি চাহিদা প্রায় সব বড় অর্থনীতির তুলনায় দ্রুতগতিতে বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক অতিরিক্ত জ্বালানি চাহিদার ২৩ শতাংশেরও বেশি ভারতের অংশ হবে।

এই চাহিদা পূরণে ভারত নীতিগত সংস্কার, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিকে গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। জুন ২০২৫-এ ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করে। মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৫০ শতাংশ জীবাশ্ম বহির্ভূত জ্বালানি থেকে এসেছে। এটি প্যারিস চুক্তির অধীনে নির্ধারিত ২০৩০-এর লক্ষ্যের পাঁচ বছর আগেই অর্জিত হয়েছে। হাইড্রোকার্বন ব্যবহারে সংস্কার, জ্বালানি পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত বৃদ্ধি মিলিতভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার সহায়ক।

হাইড্রোকার্বন জ্বালানি শাসনব্যবস্থা ও বিভাগভিত্তিক সংস্কার

ভারতের জ্বালানি চাহিদা বাড়তে থাকায় জ্বালানি রূপান্তরের সাফল্য কেবল পরিকাঠামো সম্প্রসারণ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের উপর নির্ভর করে না, বরং জ্বালানি মূল্য শৃঙ্খল জুড়ে শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর উপরও নির্ভরশীল। স্পষ্ট নীতি, পূর্বানুমেয় নিয়মাবলি এবং সরলীকৃত অনুমোদন প্রক্রিয়া বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় হ্রাস এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে, ভারত জ্বালানি শাসনব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে একাধিক সংস্কার গ্রহণ করেছে।

ভারতের হাইড্রোকার্বন ব্যবস্থা আপস্ট্রীম, মিডস্ট্রীম ও ডাউনস্ট্রীম, এই তিনটি স্তরে বিস্তৃত। আপস্ট্রীম তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত; মিডস্ট্রীম বিভাগ জ্বালানির পরিবহণ ও সংরক্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে; এবং ডাউনস্ট্রীমের আওতায় শোধন ও বিতরণ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত। এই তিনটি স্তরেই সংস্কারের লক্ষ্য দক্ষতা বৃদ্ধি, সরবরাহ নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ধাপে ধাপে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থায় রূপান্তরকে সমর্থন করা।

আপস্ট্রীম বিভাগের সংস্কার

তেলক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন সংশোধনী আইন, ২০২৫: এই সংশোধনী আইন ভারতের আপস্ট্রীম বিভাগের নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আধুনিক করে, প্রক্রিয়া সহজ করে, সমন্বিত জ্বালানি উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করে। এই সংস্কারের লক্ষ্য ঘরোয়া তেল ও গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং একটি স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করা।

পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিধিমালা, ২০২৫: এই বিধিমালা তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের জন্য একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রদান করে। এর মাধ্যমে ব্যবসা করার সুবিধা বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং জ্বালানি নিরাপত্তা লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করা হচ্ছে।

এই সংস্কারের ফলে, হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান লাইসেন্স নীতির আওতায় ৩৭৮০০০ বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকাজুড়ে ১৭২-টি ব্লক বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৪৩৬ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে। ভূকম্পীয় সমীক্ষা, খনন কর্মসূচি এবং সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত উদ্যোগের মাধ্যমে অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।

মিডস্ট্রীম ও ডাউনস্ট্রীম বিভাগে সংস্কার

মিডস্ট্রীম ও ডাউনস্ট্রীম বিভাগে সংস্কারের মূল লক্ষ্য জ্বালানি পরিবহণ উন্নত করা, মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনা এবং বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করা।

সমন্বিত পাইপলাইন ট্যারিফ: ‘এক দেশ, এক গ্রিড, এক ট্যারিফ’ নীতির অধীনে ২০২৩ সালে প্রবর্তিত এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য গ্যাস পরিবহণ ব্যয়ের আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা। এই ব্যবস্থায় জাতীয় গ্যাস গ্রিড জুড়ে পরিবহণ শুল্ক শুরু করা হয়েছে এবং আগের দূরত্বভিত্তিক ট্যারিফ বা শুল্ক কাঠামো প্রতিস্থাপিত হয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কার্যকর পাইপলাইনের প্রায় ৯০ শতাংশ এই ব্যবস্থার আওতায় এসেছে, ফলে প্রাকৃতিক গ্যাসের সাশ্রয়ী মূল্য ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
 
পরিকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে শক্তি নিরাপত্তা জোরদার করা

শাসনব্যবস্থার সংস্কারের পাশাপাশি, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা, গ্যাস সংযোগ এবং পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে সারা দেশে শক্তি তথা জ্বালানি পরিকাঠামো সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে, শক্তি প্রাপ্তি বৃদ্ধি পেয়েছে, ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা উন্নত হয়েছে এবং পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার উৎসাহিত হয়েছে।

জ্বালানি ও গ্যাস পরিকাঠামো

দেশজুড়ে জ্বালানি খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা ২০১৪ সালের প্রায় ৫২০০০ থেকে ২০২৫ সালে ১০০,০০০ এরও বেশি হয়েছে।

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি পরিকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ৯৬৮ থেকে বেড়ে ৭৪৭৭-টির বেশি হয়েছে এবং পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ ২৫ লক্ষ থেকে বেড়ে ১.৫৯কোটি-রও বেশি হয়েছে। এগুলি পরিচ্ছন্ন পরিবহণ ও গৃহস্থালি জ্বালানি ব্যবহারে সহায়ক।

‘এক দেশ, এক গ্যাস গ্রিড’ ভাবনার অধীনে প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য বেড়ে ২৫৪০০ কিলোমিটারের বেশি হয়েছে এবং অতিরিক্ত ১০৪৫৯ কিলোমিটার নির্মাণাধীন রয়েছে।

সমন্বিত গ্যাস গ্রিড ব্যবস্থার মাধ্যমে শতভাগ সিটি গ্যাস বিতরণ এলাকার আওতা নিশ্চিত হয়েছে, যা শক্তি নিরাপত্তা ও গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতির দিকে অগ্রগতিকে মজবুত করেছে।

পেট্রোলিয়াম বিপণন ও বৈদ্যুতিক পরিবহণ পরিকাঠামো

পেট্রোলিয়াম বিপণন পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হয়েছে। বস্তুত, ৯০,০০০-এরও বেশি খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ২৭১০০০-এরও হাজারের বেশি পিওসি যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে।

মোট ৩২০০-র বেশি জ্বালানি বহনকারী যান চালু করা হয়েছে, ফলে, বিশেষত, প্রত্যন্ত ও পরিষেবা-বঞ্চিত এলাকায় বাড়ি বাড়ি জ্বালানি পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

বৈদ্যুতিক পরিবহণ পরিকাঠামো সম্প্রসারিত হয়েছে। দ্রুত বৈদ্যুতিক যান গ্রহণ ও উৎপাদন কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রে ৮৯৩২-টি বৈদ্যুতিক চার্জিং কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলির মাধ্যমে অতিরিক্ত ১৮৫০০-র বেশি চার্জিং কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে।

পরিবহণ সহায়ক পরিকাঠামো

পাঁচশোর-ও বেশি ‘আপনা ঘর’ ট্রাকচালকদের বিশ্রাম ও সহায়ক কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এগুলি সড়ক নিরাপত্তা, বিশ্রাম সুবিধা এবং পরিবহণ কর্মীদের কল্যাণে সহায়ক।

২০২৫-এর ১ নভেম্বর পর্যন্ত ১০৬৪-টি সমন্বিত শক্তি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি- রূপান্তর ও স্বল্প-কার্বন পথ

জ্বালানি প্রাপ্তি ও পরিকাঠামো সম্প্রসারণ ভারতের শক্তি ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলেছে। এর পাশাপাশি, জ্বালানি ব্যবহারের কার্বনের পরিমাণ কমানোর দিকে জোর দেওয়া হয়েছে।

নবীকরণযোগ্য শক্তি সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প ও স্বল্প-কার্বন জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে ভারত একটি 
বহুমুখী পরিচ্ছন্ন জ্বলানি কৌশল গ্রহণ করেছে। ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচির ফলে, প্রায় ১.৫৯ লক্ষ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে, ৮১৩ লক্ষ মেট্রিক টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ কমেছে এবং ২৭০ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এটি আমদানিনির্ভরতা কমানো ও নিঃসরণ হ্রাসে জৈব জ্বালানির গুরুত্বকে তুলে ধরে।

জৈব জ্বালানি প্রচলিত জ্বালানি ও পরিচ্ছন্ন শক্তি ব্যবস্থার মধ্যে একটি সংযোগ হিসেবে কাজ করে। এর ব্যবহারে বিদ্যমান যান ও জ্বালানি পরিকাঠামোতে বড় পরিবর্তন ছাড়াই নিঃসরণ কমানো সম্ভব হয়। এর পাশাপাশি, হরিৎ হাইড্রোজেন, সুস্থায়ী জ্বালানি ও অন্যান্য উদীয়মান স্বল্প-কার্বন প্রযুক্তিতে উদ্যোগ বাড়ানো হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলি ২০৭০ সালের নিট-শূন্য নিঃসরণ লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, একই সঙ্গে শক্তি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধিও নিশ্চিত করছে।

জৈব জ্বালানি সংক্রান্ত জাতীয় নীতি ২০১৮ (২০২২ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্য ২০৩০ সাল থেকে এগিয়ে এনে ২০২৫–২৬ ইথানল সরবরাহ বছরে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত গড় মিশ্রণ হার ১৯.০৫ শতাংশে পৌঁছেছে এবং শুধুমাত্র জুলাই মাসে ১৯.৯৩ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

গৃহস্থালিতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার শক্তির রূপান্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার অধীনে পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ৪১ লক্ষে পৌঁছেছে। সম্পূর্ণ লক্ষ্য নিশ্চিত করতে ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে অতিরিক্ত ২৫ লক্ষ তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একক বঞ্চনা ঘোষণার মাধ্যমে যোগ্যতা প্রক্রিয়া সহজ করায় এই সুবিধা আরও দ্রুত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে।

স্থায়ী ব্যবহারের জন্য জ্বালানির সাশ্রয়ী মূল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধাভোগীদের জন্য বছরে সর্বোচ্চ নয়টি রিফিলে প্রতি ১৪.২ কিলোগ্রাম সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস ব্যবহারে ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখা গেছে। মাথাপিছু গড় ব্যবহার ২০১৯–২০ সালে প্রায় তিনটি রিফিল থেকে বেড়ে ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ৪.৮৫ রিফিলে পৌঁছেছে।

সুস্থায়ী বিমান জ্বালানি

আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে বিমান টারবাইন জ্বালানিতে সুস্থায়ী বিমান জ্বালানির মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সাল থেকে এক শতাংশ, ২০২৮ সাল থেকে দুই শতাংশ এবং ২০৩০ সাল থেকে পাঁচ শতাংশ।

ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড প্রথম ভারতীয় সংস্থা হিসাবে পানিপথ শোধনাগারে সুস্থায়ী বিমান জ্বালানি উৎপাদনের জন্য আন্তর্জাতিক স্থায়িত্ব ও কার্বন প্রত্যয়ন অর্জন করেছে। এর পর এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের শক্তি নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার

শক্তি ক্ষেত্রে ভারতের উত্তরণের পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক শক্তি সংক্রান্ত মঞ্চগুলিতে অংশগ্রহণ গুরুত্ব পেয়েছে। এসব মঞ্চে বাজার পরিস্থিতি বোঝা, বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা বিনিময় করে নেওয়া এবং শক্তি নিরাপত্তা ও সুস্থায়ী উন্নয়নের বিষয়ে সম্মিলিত উদ্যোগে অবদান রাখা সম্ভব হচ্ছে।

গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্স বা জিবিএ এবং জি২০ দেশের শক্তি রূপান্তর বিষয়ক কার্যকরী গোষ্ঠির মতো উদ্যোগে ভারতের অংশগ্রহণ বাস্তবভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। এই আলোচনাগুলির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের বৈচিত্র্য, সাশ্রয়যোগ্যতা এবং নিঃসরণ হ্রাস সংক্রান্ত বিষয়গুলি বিভিন্ন দেশের বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়া, ইন্ডিয়া এনার্জি উইক সরকার, শিল্প, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলির মধ্যে সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

ইন্ডিয়া এনার্জি উইক

ইন্ডিয়া এনার্জি উইক ২০২৬ গোয়ায় ২৭ থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের আয়োজনে এই অনুষ্ঠান উন্নয়নশীল দেশগুলির চিন্তা থেকে শক্তি সংক্রান্ত আলোচনায় ভারতের ভূমিকা তুলে ধরছে। মোট ১০০-র বেশি দেশ থেকে অংশগ্রহণকারী এবং ৬৫০০-র বেশি প্রতিনিধি এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন।

২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি এখন শক্তি মূল্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে আন্তর্জাতিক সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ সংস্করণে শক্তি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, সাশ্রয়যোগ্যতা এবং পরিচ্ছন্ন শক্তি রূপান্তর সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনা হবে।

সমাপ্তি

সাম্প্রতিক সময় ভারতের শক্তি ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। নীতি সংস্কার, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং লক্ষ্যভিত্তিক পরিচ্ছন্ন শক্তি উদ্যোগের মাধ্যমে শক্তি প্রাপ্তি বৃদ্ধি পেয়েছে, ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা জোরদার হয়েছে এবং নিঃসরণ কমেছে। এই অগ্রগতি ক্রমবর্ধমান শক্তি চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন, পরিসর এবং অন্তর্ভুক্তির উপর গুরুত্ব দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ রূপান্তরের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তথ্যসূত্র

Ministry of Petroleum and Natural Gas:

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2209478&reg=3&lang=1

https://www.indiaenergyweek.com/

https://www.pib.gov.in/PressReleseDetail.aspx?PRID=1896731&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleseDetail.aspx?PRID=2212948&reg=6&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2096817&reg=3&lang=2

https://sansad.in/getFile/annex/268/AU2859_W3x2Fj.pdf?source=pqars

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2208694&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2211769&reg=3&lang=2

https://pngrb.gov.in/pdf/press-note/20251216_PR.pdf

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2200386&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2155110&reg=3&lang=2

https://www.pmuy.gov.in/index.aspx

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2208694&reg=3&lang=1

 

Ministry of External Affairs:

https://www.mea.gov.in/press-releases.htm?dtl/37092/Launch_of_the_Global_Biofuel_Alliance_GBA

 

Ministry of Power:  

https://powermin.gov.in/en/content/energy-transitions-working-group

 

Ministry of Information and Broadcasting:

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2094025&reg=3&lang=2

 

World Bank:

https://openknowledge.worldbank.org/server/api/core/bitstreams/f983c12d-d43c-4e41-997e-252ec6b87dbd/content

 

Petroleum and Natural Gas Regulatory Board:

https://www.pngrb.gov.in/pdf/TPIAs/HLC_20241028.pdf

 

IOCL:

https://iocl.com/NewsDetails/59413

 

IBEF:

https://www.ibef.org/news/india-to-be-the-world-s-largest-driver-of-energy-demand-growth-by-2035-international-energy-agency-s-iea

 

Ministry of Heavy Industries:

https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=1942506&reg=3&lang=2

 

NCERT:

https://ncert.nic.in/textbook/pdf/kech203.pdf

India’s Expanding Role in the Global Energy Transition

 

SSS/RS.......

(Explainer ID: 157104) आगंतुक पटल : 8
Provide suggestions / comments
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , हिन्दी , Gujarati , Kannada
Link mygov.in
National Portal Of India
STQC Certificate