Social Welfare
স্পর্শনেন্দ্রীয়-র বিজয়
ব্রেইল, অধিকার ও অন্তর্ভুক্তির পথে ভারত
Posted On:
04 JAN 2026 11:37AM
৪ জানুয়ারি, ২০২৫
মূল বিষয়বস্তু
প্রতি বছর ৪ জানুয়ারি বিশ্ব ব্রেইল দিবস পালন করা হয়।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আইন, ২০১৬-কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ভারতের নীতিগত কাঠামো শিক্ষা সংস্কার, সহায়ক প্রকল্প এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্রেইলের ব্যবহার ও প্রবেশাধিকার ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত করেছে।
সুগম্য ভারত অভিযান, জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ এবং সুগম্য পুস্তকালয়-এর মতো সরকারি উদ্যোগ রাষ্ট্রসংঘের প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তি কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা “কাউকে পিছনে ফেলে না রাখা”-র প্রতি ভারতের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করে।
বিশ্ব ব্রেইল দিবস
প্রতি বছর ৪ জানুয়ারি পালিত বিশ্ব ব্রেইল দিবস ব্রেইলকে কেবল একটি পাঠব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, মর্যাদা ও সমান অংশগ্রহণের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবে তুলে ধরে। এই গুরুত্ব ভারতের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার লক্ষ্যে ব্রেইল গ্রহণ ও মান্যতা দেওয়ার উদ্যোগেও প্রতিফলিত হয়। ভারতে ব্রেইল লিপির প্রবর্তন হয় ১৮৮৭ সালে। পরে ১৯৫১ সালে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার জন্য অভিন্ন কোড-সহ ভারতী ব্রেইল জাতীয় মান হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, ভারতে ৫০,৩২,৪৬৩ জন দৃষ্টিজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন।
ব্রেইল কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে
ব্রেইল হল, স্পর্শনির্ভর লেখা ও পাঠের একটি পদ্ধতি, যা দৃষ্টিহীন বা স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিরা ব্যবহার করেন। এটি ছয়টি উঁচু বিন্দুর একটি কোষের উপর ভিত্তি করে গঠিত, যা দুই সারিতে তিনটি করে বিন্দুতে সাজানো থাকে। এই বিন্দুগুলির বিভিন্ন বিন্যাসের মাধ্যমে অক্ষর, সংখ্যা, বিরামচিহ্ন ও প্রতীক প্রকাশ করা হয়, যা স্পর্শের মাধ্যমে পড়া সম্ভব করে তোলে।
ভারত সরকার: ব্রেইলকে সহায়তাকারী নীতি ও কর্মসূচির পরিকাঠামো
ভারত সরকার দৃষ্টিজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি ও ক্ষমতায়নের জন্য ব্রেইলের বিকাশ, প্রসার ও ব্যবহারে একটি সুসংহত নীতিগত কাঠামো গড়ে তুলেছে।
১. আইনি ভিত্তি: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আইন, ২০১৬
ভারতের ব্রেইল ব্যবস্থা একটি অধিকারভিত্তিক আইনি কাঠামোর উপর প্রতিষ্ঠিত, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আইন, ২০১৬।
২. ভারতী ব্রেইল: ভারতের মান্যতাপ্রাপ্ত ব্রেইল লিপি
ভারত সরকার বহু ভারতীয় ভাষার জন্য ভারতী ব্রেইল-কে অভিন্ন ও মান্যতাপ্রাপ্ত ব্রেইল লিপি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ভারতী ব্রেইল কিভাবে কাজ করে:
একীভূত ব্রেইল ব্যবস্থা ভারতী ব্রেইল হল, অধিকাংশ ভারতীয় ভাষায় ব্যবহৃত মান্যতাপ্রাপ্ত স্পর্শনির্ভর লেখন পদ্ধতি।
ভাষাভেদে সঙ্গতিপূর্ণ উপস্থাপনা
মানক ভারতী ব্রেইল কোডের মাধ্যমে হিন্দি, মারাঠি, বাংলা, তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম-সহ বিভিন্ন লিপিতে স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, সংখ্যা ও বিরামচিহ্ন একই স্পর্শনির্ভর কাঠামোর মধ্যে উপস্থাপিত হয়।
শিক্ষা, প্রকাশনা ও ডিজিটাল প্রবেশাধিকারের ভিত্তি
ভারতী ব্রেইল ভারতে ব্রেইল শিক্ষা, প্রতিলিপি প্রস্তুত, প্রকাশনা এবং সহজপ্রাপ্য শিক্ষাসামগ্রী তৈরির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
সাম্প্রতিক উদ্যোগ
দৃষ্টিজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন বিষয়ক জাতীয় প্রতিষ্ঠান (NIEPVD) প্রযুক্তিগত সংহতকরণের লক্ষ্যে সংশোধিত ভারতী ব্রেইলের বৈধতা যাচাই প্রকল্প পরিচালনা করেছে এবং লিবলুইস টেবিল যাচাইয়ের পর ভারতী ব্রেইল ২.১-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মশালা ও ফোকাস গ্রুপ আলোচনার মাধ্যমে এই খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
৩. সুগম্য ভারত অভিযান
২০১৫ সালে শুরু হওয়া সুগম্য ভারত অভিযান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী-সহ সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য পরিকাঠামো, চলাচল এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে বাধামুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার জাতীয় উদ্যোগ।
৪. জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ ও ব্রেইল সংযোজন
জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছে যে, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার জন্য ব্যবহারিক সহায়তা—সহায়ক যন্ত্র ও ব্রেইল-সহ সহজপ্রাপ্য শিক্ষাসামগ্রী অপরিহার্য।
৫. উচ্চশিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ব্রেইলের প্রবেশাধিকার
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় ব্রেইল ও অন্যান্য সহজপ্রাপ্য ফরম্যাট সংযোজনের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়।
সুগম্য পুস্তকালয়
সুগম্য পুস্তকালয় হল, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও অন্যান্য মুদ্রণ-প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল গ্রন্থাগার, যেখানে বহু ভাষায় সহজপ্রাপ্য বই ও আন্তর্জাতিক উৎসের সংযোগ রয়েছে। এটি NIEPVD, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস এবং ডেইজি ফোরাম অফ ইন্ডিয়ার যৌথ উদ্যোগে গড়ে উঠেছে।
৬. ব্রেইল শিক্ষাসামগ্রী অর্থায়ন ও বাস্তবায়নকারী কর্মসূচি
ভারত সরকার ব্রেইল শিক্ষাসামগ্রীকে বাস্তব ও বৃহৎ পরিসরে পৌঁছে দিতে পৃথক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তুলেছে।
DALM প্রকল্প
SIPDA প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত DALM প্রকল্প (পূর্বে ব্রেইল প্রেস প্রকল্প) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা স্তরে বিনামূল্যে ব্রেইল পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করে।
৭. ব্রেইলকে সুস্থায়ী করার লক্ষ্যে সক্ষমতা বৃদ্ধি (প্রশিক্ষণ, বিশেষ শিক্ষা)
সরকারি সংস্থা ও বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলি প্রশিক্ষণ মান্যতা, প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি এবং পেশাগত মান বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া
১৯৯২ সালের আইনে গঠিত রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা। এর লক্ষ্য হল পুনর্বাসন ও বিশেষ শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার মান নির্ধারণ, প্রতিষ্ঠান ও কোর্স স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় পুনর্বাসন রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ এবং গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নকে উৎসাহিত করা।
উপসংহার: বাধামুক্ত ভবিষ্যতের পথে
বিশ্ব ব্রেইল দিবস একটি সহজ অথচ শক্তিশালী সত্য তুলে ধরে - তথ্যে প্রবেশাধিকারই সুযোগের প্রবেশাধিকার নির্ধারণ করে। আইনি ভিত্তি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির উপর দাঁড়িয়ে ভারতের ব্রেইল ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ভিত আরও মজবুত করছে। স্পর্শনির্ভর তথ্যকে জনপরিষেবায় সংযুক্ত করা এবং পেশাগত সক্ষমতা গড়ে তোলার মাধ্যমে সাংবিধানিক নীতিকে বাস্তব ও অর্থবহ প্রবেশাধিকারে রূপান্তর করা হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলি সম্প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেইল ক্রমেই একটি বিশেষ সুবিধা নয়, বরং সমতা, অংশগ্রহণ ও মর্যাদার এক অপরিহার্য সেতু হিসাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।
তথ্যসূত্র
Ministry of Social Justice and Empowerment:
Ministry of Education
United Nations:
Government of India (Central Govt) and the Government of NCT of Delhi
Download PDF
**
SSS/SS
(Explainer ID: 156823)
आगंतुक पटल : 11
Provide suggestions / comments