Social Welfare
পবিত্র মঞ্চ: ভারতের চিরায়ত রীতিনীতি সমৃদ্ধ থিয়েটার সমূহ
Posted On:
29 SEP 2025 5:35PM
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
|
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি
- সাংস্কৃতিক তাৎপর্য: কুটিয়াট্টম, মুড়িয়েট্টু রাম্মান এবং রামলীলার মতো রীতিনীতি সমৃদ্ধ থিয়েটারগুলি ভারতের অধ্যাত্মিকতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করছে
- বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ: এই ঐতিহ্যগুলির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্রামের মানুষের অভিনয়, পল্লীগীতি, সাজসজ্জা সহ বিভিন্ন রীতিনীতি। এক্ষেত্রে সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক পরিচিতি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে
- হস্তান্তর ও ঐতিহ্য: মুখে মুখে এবং গুরু শিষ্য পরম্পরার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান এক প্রজন্মের থেকে অন্য প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করা হয়
- ইউনেস্কোর স্বীকৃতি: ইউনেস্কোর চিরস্থায়ী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় এই থিয়েটারগুলি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিকস্তরে এগুলি সম্পর্কে সকলে ওয়াকিবহাল হচ্ছেন। এরফলে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মধ্যে দিয়ে এই রীতিনীতিগুলির সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সকলে উপলব্ধি করতে পারেন
|
সূচনা
পবিত্র রীতিনীতিগুলিকে নাটকের মাধ্যমে উপস্থাপিত করাকেই ‘রীতিনীতি সমৃদ্ধ থিয়েটার’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। এগুলি মূলত মন্দির চত্বর অথবা কোনো গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রে উপস্থাপিত হয়। মূলত ধর্মীয় উৎসব অথবা কোনো গোষ্ঠী আয়োজিত অনুষ্ঠানের সঙ্গে এগুলি সম্পৃক্ত থাকে।
এই ধরণের থিয়েটারে অভিনয়, গান, নাচ, সঙ্গীত, সংলাপ এবং আবৃত্তি অন্তর্ভুক্তি হয়। কখনও কখনও এগুলির সঙ্গে পুতুল নাচ যুক্ত করা হয়। তবে, এগুলি দর্শকদের কাছে উপস্থাপনার সময় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সংস্কৃতি ও সমাজের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।
রীতিনীতি সমৃদ্ধ এই থিয়েটারগুলি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থাপনার সময় সামাজিক বিভিন্ন দিক সেখানে তুলে ধরা হয়। এই চিরাচরিত নীতি এক প্রজন্ম থেকে আর এক প্রজন্মকে হস্তান্তরিত করা হয়। ইউনেস্কোর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা এগুলিকে চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকার অন্তর্ভুক্ত করার ফলে সেগুলির গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। ভবিষ্যতে সংরক্ষণের বিষয়টিও অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে।

চিয়ায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
এক্ষেত্রে সমসাময়িক ও চিরায়ত ঐতিহ্যগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন রীতিনীতিকেও যুক্ত করা হয়। সমন্বিত এই প্রয়াসে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে তাঁদের পরিচিতি সম্পর্কে নানা তথ্য সকলের সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট সমাজের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে এই দক্ষতা প্রজন্মের পর প্রজন্ম বজায় রাখা সম্ভব হয়। বর্তমানে ইউনেস্কোর এই তালিকায় ১৫টি ঐতিহ্য স্থান পেয়েছে। ফলে, সেগুলি আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

ইউনেস্কোর এই চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার তালিকাটি মূলত ৫টি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বিবেচিত হয়।
১. চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রাখার জন্য ভাষা সহ অন্যান্য অভিব্যক্তিকে বিবেচনা করা হয়
২. পারফর্মিং আর্টস
৩. বিভিন্ন সামাজিক রীতিনীতি ও উৎসব
৪. প্রকৃতি এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে সম্যক জ্ঞান
৫. চিরায়ত হস্তশিল্প
চিরায়ত ঐতিহ্যের তালিকায় ভারতের প্রথাগত থিয়েটারগুলি
ইউনেস্কো বিভিন্ন রীতির সাংস্কৃতিক মূল্যকে স্বীকৃতি দিয়ে কুটিয়াট্টম, মুড়িয়েট্টু, রাম্মান এবং রামলীলার মতো নাট্যশৈলীগুলিতে তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এক্ষেত্রে ধর্মীয় উপকথার গল্পকথন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ এবং সম্প্রদায়গুলির অর্জিত জ্ঞান পরবর্তী প্রজন্মকে হস্তান্তরিত করা হয়ে থাকে।
কুটিয়াট্টম
|

|
কেরলের কুটিয়াট্টম ভারতের অন্যতম প্রাচীন নাট্যকলা – ২ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। সংস্কৃত ধ্রুপদী অভিব্যক্তির সঙ্গে কেরলের স্থানীয় রীতি-নীতির সংমিশ্রণে তৈরি হওয়া এই নাট্যকলায় চোখ এবং হাতের অভিব্যক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন চরিত্রকে নিপুণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তোলা হয়। এই শিল্পকলায় নিপুণ হয়ে উঠতে গেলে অন্তত ১০-১৫ বছরের প্রশিক্ষণ জরুরি।
|

|
শ্বাস নিয়ন্ত্রণ এবং পেশীর সঞ্চালনের জটিল বিষয়গুলি আয়ত্তে আনতে দিনের পর দিন অভ্যাস করতে হয়।
ঐতিহ্যগতভাবে এই নাট্যকলার পরিবেশন হয়ে থাকে মন্দিরের প্রদর্শন-স্থলে। চরিত্রের বিন্যাস অনেকটাই প্রচলিত রীতি-নীতির উপর নির্ভরশীল। মঞ্চে প্রতীক হিসেবে রাখা থাকে একটি প্রদীপ। বর্তমানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থা এই ধ্রুপদী নাট্যকলার সংরক্ষণে বিশেষভাবে প্রয়াসী।
পৌরাণিক কাহিনী – ধ্রুপদী ধারার এই নাট্যকলায় তুলে ধরা হয় পৌরাণিক নানা কাহিনী, যার উৎস সংস্কৃত নাটক, প্রচলিত নানা কাহিনী এবং আধ্যাত্মিক আখ্যান।
ধর্মীয় পরিসর – এই নাট্যকলার পরিবেশন হয় মন্দিরের প্রেক্ষাগৃহে। এর সঙ্গে জড়িত থাকে ধর্মীয় স্থানের স্থাপত্য এবং আধ্যাত্মিক প্রেক্ষিত।
সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ - এই নাট্যকলার পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসেন সাধারণ মানুষ।
শুধুমাত্র দর্শক হিসেবে নয়, আয়োজক এবং অন্য নানাভাবেও এর প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িত থাকেন স্থানীয় জনগোষ্ঠী।
পরম্পরা ও মূল্যবোধ – কঠোর পরিশ্রম জরুরি এই নাট্যকলায় পারদর্শী হয়ে ওঠার জন্য। বছরের পর বছর অভিব্যক্তি এবং কন্ঠস্বরের প্রক্ষেপণ সহ নানা বিষয়ে মনোনিবেশ করতে হয় শিল্পীদের।
এই রীতির সঙ্গে নীতিগত, সংস্কৃতিগত এবং সৌন্দর্য চেতনার ধারাবাহিক অনুষঙ্গ জড়িত।
বিভিন্ন শিল্প ধারার সংমিশ্রণ – এই ধ্রুপদী নাট্য শৈলীর মধ্যে সংস্কৃত নাটক, অভিনয় প্রকৌশল, আবৃত্তি, সঙ্গীত ও অভিনয় – সবকিছুই অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।
মুডিয়েত্তু
|

|
মুড়িয়েত্তু হ’ল – কেরলের নৃত্যনাট্য শৈলী। এর উপজীব্য দেবী কালী এবং অসুর দ্বারিকার যুদ্ধ। ফসল তোলার পর প্রতি বছর এর আয়োজন হয়ে থাকে। প্রথমে আসে শুদ্ধিকরণের পর্ব। উপস্থাপনায় জড়িয়ে থাকেন গ্রামের মানুষজন।
|
প্রবীনরা প্রশিক্ষিত করে তোলেন নবীনদের। এই সাংস্কৃতিক ধারা বহমান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে
পৌরাণিক কাহিনী – কাহিনীর বর্ণনা দেবী কালী এবং অসুর দ্বারিকার যুদ্ধকে ঘিরে। পরিশেষে ঘোষিত হয়, শুভ শক্তির জয়।
ধর্মীয় পরিসর – মন্দিরের পরিসরে পরিবেশিত হয় এই ধরনের নৃত্যনাট্য। এর আগে সেখানে আঁকা হয় দেবীর ছবি।
সাধারণের অংশগ্রহণ – জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে অঞ্চলের প্রতিটি মানুষ জড়িত থাকেন এই পরিবেশনায়। মুখোশ, পোশাক তৈরিতেও হাত লাগান তাঁরা।
পরম্পরা ও মূল্যবোধ – পরিবেশনার সময় এবং আরও নানা বিষয়ে নবীনদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বিভিন্ন শিল্প ধারার সংমিশ্রণ – নৃত্য, সঙ্গীত, আঁকা, পোশাক, নাট্যকলা সবই জড়িত থাকে এর সঙ্গে।
রাম্মান
|

|
রাম্মান অনুষ্ঠিত হয় উত্তরাখন্ডের সালুর – দুংরা এই দুটি গ্রামে প্রতি বছর এপ্রিল মাসের শেষের দিকে। এর মাধ্যমে পূজিত হন স্থানীয় দেবতা ভুমিয়াল। রীতিনীতি বেশ জটিল। রামায়ণের অংশ-বিশেষ পাঠ, সঙ্গীত, মুখোশ নৃত্যের সংমিশ্রণ ঘটেছে এর মধ্যে। যেসব বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার হয়, তার মধ্যে রয়েছে -
- ঢোল
- দামাউ
- মঞ্জিরা
- ঝঞ্ঝার
- ভাঙ্করা
|
এই তাল বাদ্যগুলি বেজে ওঠে মন্ত্রোচ্চারণ এবং নাচের সঙ্গে।
নাটক, সঙ্গীত, প্রচলিত কাহিনী, ঐতিহাসিক নানা ঘটনার পুনর্নির্মাণে এই শিল্পকলা তুলে ধরে স্থানীয় মানুষের সাংস্কৃতিক চেতনাকে। এই ধারা বজায় রাখতে তৎপর স্থানীয় মানুষজন।
পৌরাণিক আখ্যান – রামায়ণের অংশবিশেষ পাঠ করেন শিল্পীরা। সঙ্গে থাকে মুখোশ নৃত্যও। এই উপস্থাপনার মধ্যে এলাকার রীতিও মিশে থাকে।
ধর্মীয় পরিসর – সালোর দুংরার ভুমিয়াল দেবতার মন্দিরে পরিবেশিত হয় এই নৃত্যনাট্য শিল্পকলা।
সাধারণের অংশগ্রহণ – জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব বয়সের মানুষ জড়িত থাকেন এই পরিবেশনার সঙ্গে।
পরম্পরা ও মূল্যবোধ – মুখে মুখে প্রচলিত মহাকাব্যের নানান আখ্যান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এই শিল্পকলার মাধ্যমে।
বিভিন্ন শিল্প ধারার সংমিশ্রণ – বর্ণন, মুখোশ নৃত্য, সঙ্গীত, নানা শিল্পধারার সংমিশ্রণে সমৃদ্ধ এই শিল্পকলা।
রামলীলা
|
রামায়ণের উপস্থাপনা রামলীলার মূল কথা। পর্যায়ক্রমে নানান আখ্যান তুলে ধরা হয় সঙ্গীত, বর্ণন, আবৃত্তি এবং সংলাপের মাধ্যমে। দশেরার সময়ে উত্তর ভারত জুড়ে পরিবেশিত হয় রামলীলা। অযোধ্যা, রামনগর, বারাণসী, বৃন্দাবন, আলমোড়া, সাতনা এবং মধুবনীর রামলীলা বিখ্যাত।
ষোড়শ শতকের কবি তুলসীদাসের রামচরিতমানসের উপর ভিত্তি করে পরিবেশিত হয় রামলীলা। সংস্কৃত মহাকাব্যের সহজ হিন্দি অনুবাদ অত্যন্ত জনপ্রিয় সাধারণ মানুষের কাছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ১০-১২ দিন ধরে রামলীলার আয়োজন হয়। তবে, রামনগরে রামলীলা চলে এক মাস ধরে। এর মাধ্যমে মূলত বনবাস থেকে রামের প্রত্যাবর্তন এবং রাবনের সঙ্গে লড়াইয়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
|

|
পৌরাণিক আখ্যান – রামায়ণের নানা কাহিনী নাটকীয়ভাবে তুলে ধরা হয় রামলীলায়
ধর্মীয় পরিসর – মন্দিরের প্রাঙ্গণ, জনপরিসর, এমনকি খোলা জায়গাতেও রামলীলা পরিবেশিত হয়ে থাকে।
সাধারণের অংশগ্রহণ – সংগঠন ও অর্থায়নে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন সাধারণ মানুষ। অভিনয়েও অংশগ্রহণ করেন তাঁরা।
|

|
পরম্পরা ও মূল্যবোধ – বার্ষিক এই পরিবেশনায় তুলে ধরা হয় ন্যায়বিচার, আধ্যাত্মিকতা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ।
বিভিন্ন শিল্প ধারার সংমিশ্রণ – নাট্য, সঙ্গীত ও নৃত্যকলার অনুষঙ্গে নাটকীয় সংলাপ এবং আকর্ষণীয় পোশাক সহজেই নজর কেড়ে নেয় সাধারণ মানুষের।
|
সংগীত নাটক অ্যাকাডেমির ভূমিকা

ভারতের বৈচিত্র্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণ এবং সেগুলির প্রসারের জন্য ১৯৫৩ সালে পারফর্মিং আর্টসে প্রধান সংস্থা হিসেবে সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ভারতের বিভিন্ন ঐতিহ্যকে আধুনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের জন্য এই প্রতিষ্ঠান কাজ করে।
- বিভিন্ন তথ্যের সংরক্ষণ : সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অডিও ভিজ্যুয়াল রেকর্ডিং, পান্ডুলিপি এবং বিভিন্ন প্রকাশনার মাধ্যমে চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলিকে সংরক্ষণ করছে। বর্তমানে এর জাতীয় আর্কাইভটি ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাচ্ছে – (https://sangeetnatak.gov.in/public/uploads/reports/16409317172892.pdf)
- প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা বিকাশ : গুরু শিষ্য পরম্পরার মাধ্যমে সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি বিভিন্ন শিক্ষানবীশ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে অর্জিত শিক্ষাকে হস্তান্তর করার জন্য এই প্রতিষ্ঠান নানা কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করে।
- পুরস্কার ও স্বীকৃতি : সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি কিংবদন্তী শিল্পীদের বিভিন্ন পুরস্কার, ফেলোশিপ এবং উস্তাদ বিসমিল্লা খান যুব পুরস্কার প্রদান করে।
- গবেষণা ও প্রকাশনা : অ্যাকাডেমি নানা ধরনের গবেষণামূলক কাজে যুক্ত। চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপর বিভিন্ন বই, ম্যাগাজিন এবং মনোগ্রাফ প্রকাশ করে থাকে। এগুলি অ্যাকাডেমির গ্রন্থাগার ও অনলাইন পোর্টালে পাওয়া যায়।
- উৎসব ও অনুষ্ঠান : জাতীয় ও আঞ্চলিক স্তরে বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অ্যাকাডেমি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জাতীয় থিয়েটার উৎসব ও নৃত্য উৎসব। সংশ্লিষ্ট উৎসবগুলিতে শিল্পীরা তাঁদের শিল্পকলা উপস্থাপন করেন। এই উৎসবগুলি সম্পর্কে জানতে হলে – https://sangeetnatak.gov.in/ লিঙ্কে ক্লিক করুন।
- ইউনেস্কো এবং রাজ্যস্তরে সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ : ভারতের চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি ইউনেস্কোর সঙ্গে যৌথভাবে কুটিয়াট্টমের মতো বিভিন্ন ঐতিহ্যকে মনোনীত করেছে। উত্তরাখণ্ডে রাম্মান-কে তালিকাভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সঙ্গে কাজ করেছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় স্তরে সহায়তা এবং আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
- শিল্পীদের সহায়তা : সাহিত্য নাটক অ্যাকাডেমি শিল্পীদের নানা ধরনের অনুদান ও স্টাইপেন্ড দিয়ে থাকে। এছাড়াও তাদের প্রশিক্ষণ এবং সাজসজ্জার জন্য আর্থিক সহায়তাও করে থাকে।

উপসংহার
ভারতের বৈচিত্র্যপূর্ণ সাংস্কৃতির মধ্যে এই চিরায়ত থিয়েটারগুলি শাস্বত সেতুবন্ধের কাজ করে। বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী, সঙ্গীত এবং নানা ধরনের ঐতিহ্যের সংরক্ষণের জন্য বিবিধ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কেরালার মন্দিরগুলিতে কুটিয়াট্টমের অঙ্গভঙ্গী, হিমালয়ের গাড়োয়াল অঞ্চলের রাম্মান নৃত্যশৈলী সহ দেশের নানা প্রান্তের নানাবিধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে সকলের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ঐতিহ্য হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষানবীশ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
তথ্য সূত্র
সংস্কৃতি মন্ত্রক
প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো
কেরালা সরকার
ইউনেস্কো
SC/CB/CS…
(Explainer ID: 155312)
आगंतुक पटल : 67
Provide suggestions / comments