• Sitemap
  • Advance Search
Technology

ভারতের বৈদ্যুতিন ও সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে ‘Whole-of-Industry’ পদ্ধতি

Posted On: 23 SEP 2026 11:38AM

নয়াদিল্লি, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

ভারতের বৈদ্যুতিন ও সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্র এখন এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। বড় বিনিয়োগ আসছে, উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির উপস্থিতিও বাড়ছে। ফলে, এই ব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ক্ষেত্রটির পরিসর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্প সংগঠনগুলির মধ্যে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন শিল্পক্ষেত্রের নেতারা। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব সক্ষমতাকে একত্র করে দেশের সামগ্রিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

শিল্পক্ষেত্রের নেতাদের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এই ক্ষেত্রের পরবর্তী পর্যায়ের অগ্রগতি কোনও একটি অংশের উপর নির্ভর করে সম্ভব নয়। সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিন পণ্য উৎপাদন, উপাদান, কাঁচামাল, ডিজাইন, প্যাকেজিং এবং ব্যবহারভিত্তিক পণ্য ও পরিষেবাগুলি পরস্পরের সঙ্গে ক্রমশ আরও বেশি যুক্ত হচ্ছে। তাই সাফল্যের জন্য শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও পরিকাঠামো যথেষ্ট নয়। শিল্পক্ষেত্রের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।

এই সহযোগিতার ভাবনাই SEMICON India 2026-এর সময় আয়োজিত “Industry Associations Advancing India’s National Agenda” শীর্ষক প্যানেল আলোচনার মূল বিষয় ছিল। India Semiconductor Mission (ISM)-এর CEO শ্রী অমিতেশ কুমার সিনহা আলোচনাটি পরিচালনা করেন। শীর্ষস্থানীয় শিল্প সংগঠনগুলির প্রবীণ প্রতিনিধিরা এই আলোচনায় অংশ নেন। ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ও বৈদ্যুতিন ক্ষেত্রে অগ্রগতিকে আরও দ্রুত করতে বৃহত্তর সহযোগিতা কিভাবে সহায়তা করতে পারে, তা নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন।

আলোচনায় শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে আরও সমন্বিত ‘Whole-of-Industry’ পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ক্রমবর্ধমান ঐকমত্যের প্রতিফলন দেখা যায়। অংশগ্রহণকারীরা জানান, বিভিন্ন শিল্প সংগঠন এই ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব করলেও তাঁদের লক্ষ্য এক। তা হল ভারতে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতায় সক্ষম একটি শক্তিশালী বৈদ্যুতিন ও সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্র গড়ে তোলা।

আলোচনায় প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রের মধ্যে বাড়তে থাকা সংযোগের বিষয়টি বারবার উঠে আসে। বর্তমানে চিপ একা কোনও পণ্যের মূল্য তৈরি করে না। বিভিন্ন যন্ত্র, পণ্য ও ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমেই চিপের ব্যবহারিক মূল্য তৈরি হয়। উন্নত চিপ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও যন্ত্রপাতির উপর নির্ভরতা রয়েছে। একইভাবে উৎপাদন ব্যবস্থা প্যাকেজিং, পরীক্ষা এবং বৃহত্তর বৈদ্যুতিন সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। শিল্পের এই পারস্পরিক নির্ভরতার কারণে মূল্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে আরও শক্তিশালী যোগাযোগ ও পরিকল্পিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

সম্মেলন ও অনুষ্ঠানের বাইরে নিয়মিতভাবে এই সহযোগিতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় উঠে আসে। শিল্পক্ষেত্রের নেতারা এমন একটি স্থায়ী সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। এর মাধ্যমে নিয়মিত মতবিনিময়, বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় এবং জাতীয় গুরুত্বের বিষয়গুলিতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য বিদ্যমান শিল্প সংগঠনগুলির বিশেষায়িত ভূমিকা পরিবর্তন করা নয় বরং তাঁদের নিজস্ব সক্ষমতাকে আরও কাজে লাগিয়ে এমন একটি সাধারণ মঞ্চ তৈরি করা, যেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্র ও মূল্যশৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলিতে একসঙ্গে কাজ করা যাবে। ভারত যখন শুধুমাত্র উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পর্যায় থেকে একটি সম্পূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে, তখন এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাকে ক্রমশ একটি কৌশলগত প্রয়োজন হিসাবে দেখা হচ্ছে।

এই আলোচনা বৃহত্তর “Silicon to Systems” ভাবনাকেও আরও স্পষ্ট করেছে। এই ভাবনার মূল কথা হল, ডিজাইন, উৎপাদন, প্যাকেজিং, বৈদ্যুতিন এবং প্রযুক্তিগত সমাধানগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল একটি ব্যবস্থা তৈরি করবে। ভারত যখন সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তখন শিল্পক্ষেত্রের নেতাদের মতে, আগামী পর্যায়ের অগ্রগতিতে মূলধনী বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি, সহযোগিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এই অগ্রগতিকে আরও গতি দিয়েছে SEMICON India 2026। অনুষ্ঠানে ৬০০-রও বেশি প্রদর্শক অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০০টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ছিল। ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ও বৈদ্যুতিন ব্যবস্থার প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ যে বাড়ছে, তা এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। উৎপাদন, ডিজাইন, প্যাকেজিং, AI, গবেষণা ও উন্নয়ন, লজিস্টিক্স  বা সরবরাহ ক্ষেত্র এবং দক্ষতা উন্নয়ন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানে ৫৬টি MoU, কৌশলগত উদ্যোগ এবং শিল্পক্ষেত্রের বিভিন্ন ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকারের সহায়তাও এই পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। Production Linked Incentive (PLI) প্রকল্প এবং India Semiconductor Mission-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো এবং একটি শক্তিশালী উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে। Semicon India কর্মসূচির আওতায় সরকার ১২টি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এবছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এর মধ্যে পাঁচটি বাণিজ্যিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র ইতিমধ্যেই উৎপাদন শুরু করেছে।

এই সমস্ত অগ্রগতি একটি বৃহত্তর বাস্তবতাকে সামনে আনছে। ভারতের সেমিকন্ডাক্টর যাত্রা এখন আর শুধু কারখানা তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন শিল্প, প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তির মধ্যে সংযোগ তৈরি করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। ভারতের বৈদ্যুতিন ও সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রের পরবর্তী পর্যায়ের অগ্রগতির ভিত্তি হিসাবে সহযোগিতার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

তথ্যসূত্র

Click to see pdf


***
SSS/AS...

(Features ID: 160129) आगंतुक पटल : 9
Provide suggestions / comments
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: Urdu , English , हिन्दी , Kannada , Malayalam