Farmer's Welfare
সবুজ বৃন্ত থেকে হরিৎ উদ্যোগ
ঐতিহ্যবাহী বাঁশ কিভাবে নতুন জীবিকা, উদ্যোগ ও সুযোগ সৃষ্টি করছে
Posted On:
12 SEP 2026 11:07AM
নয়াদিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শহরের বাজারের একটি সাধারণ বাঁশের ব্যাগ দেখলে সেটিকে আর পাঁচটা পণ্যের মতোই মনে হতে পারে। কিন্তু এই ব্যাগ তৈরির নেপথ্যে রয়েছে একটি ছোট উদ্যোগ থেকে জাতীয় নীতিতে পরিবর্তনের দীর্ঘ যাত্রা। এবছর গুরুগ্রামে আয়োজিত SARAS Aajeevika Mela-তে এমনই একটি কাহিনী সামনের সারিতে এসেছে। অসমের বিশাখা দিদির তৈরি বাঁশের ব্যাগ সেখানে প্রদর্শিত হয়েছে।
২০১৪ সালে তিনি একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে যোগ দেন। নতুন নকশা নিয়ে কাজ করে শ্বশুরের বাঁশের হস্তশিল্পের উদ্যোগকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন।
সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন প্রদর্শনী তাঁকে আরও বড় বাজারে পৌঁছাতে সাহায্য করে। ২০২৫ সালে তিনি India International Trade Fair-এ অংশ নেন। তাঁর তৈরি বাঁশের পণ্য ২ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়।
তাঁর এই যাত্রা দেখায়, কিভাবে ঘরোয়া হস্তশিল্প একটি সফল উদ্যোগে পরিণত হতে পারে।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জীবিকার সঙ্গে বাঁশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে, একসময় একটি পুরনো আইনি বিধিনিষেধ বাঁশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।
ব্রিটিশ আমলের একটি আইনে বাঁশকে গাছের শ্রেণীতে ফেলা হয়েছিল। ফলে, বাঁশের উপর নির্ভরশীল মানুষের জন্য তা সংগ্রহ ও পরিবহণ কঠিন হয়ে পড়ে।
২০১৭ সালে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে বাঁশকে এই শ্রেণীবিন্যাস থেকে বাদ দেয়। এর ফলে, বাঁশ কঠোর বনকেন্দ্রিক বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত হয়।
এই নীতিগত পরিবর্তন বাঁশের ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, উদ্যোগ ও মূল্য সংযোজনের নতুন সুযোগ তৈরি করে। এর গুরুত্ব এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতে বাঁশ কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও উদ্ভাবনের নতুন সুযোগ তৈরি করছে। এর একটি উদাহরণ সিকিমের গ্যাংটকের কাছে ফ্যাশন ডিজাইনার ও সুস্থায়ী উদ্ভাবক চিমি ওংমু ভুটিয়ার Lagstal Design Studio।
মহিলাদের পরিচালিত এই উৎপাদন উদ্যোগে বাঁশের হস্তশিল্প, ধূপকাঠি, আসবাবপত্র, অন্দরসজ্জার সামগ্রী-সহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি হয়।এখানে বাঁশ শুধু ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক নকশা ও উদ্যোগের সঙ্গেও বাঁশ যুক্ত হচ্ছে। চিমির এই উদ্যোগ বৃহত্তর একটি পরিবর্তনের অংশ।
ত্রিপুরায় বিজয় সূত্রধর বাঁশের পণ্য তৈরির কাজে প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নত করেছেন। নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরের আশপাশে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি বাঁশজাত খাদ্যপণ্যে মূল্য সংযোজন করছে। একই সঙ্গে Khorolo Creative Crafts-এর মতো স্থানীয় উদ্যোগগুলি আসবাবপত্র ও হস্তশিল্প তৈরি করছে।
অন্যদিকে, মিজোরামের মামিত জেলায় বাঁশের টিস্যু কালচার ও পলিহাউস ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাঁশ চাষে কাজ চলছে। এই উদাহরণগুলি দেখায়, বাঁশের ক্ষেত্রটি আরও বৈচিত্র্যময়, উদ্ভাবননির্ভর এবং মূল্যভিত্তিক হয়ে উঠছে।
এই ধরনের বড় পরিবর্তনের জন্য শুধু দক্ষ হাতই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন প্রযুক্তি, প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং বাজারের সঙ্গে আরও শক্তিশালী সংযোগ। এখানেই সরকারি সহায়তার গুরুত্ব রয়েছে।
National Bamboo Mission বাঁশচাষি, উৎপাদক ও বিক্রেতাদের জন্য বাঁশ চাষ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বাজারে পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি করছে। উন্নত মানের চারা উৎপাদনের জন্য নার্সারিকেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষিক্ষেত্রে এই সরকারি প্রকল্পের প্রভাব বোঝার জন্য একটি উদাহরণ দেখা যেতে পারে।
মধ্যপ্রদেশের বিজয় পাটিদার ২০১৯ সালে প্রচলিত চাষে বারবার ক্ষতির পর বাঁশ চাষের দিকে এগিয়ে আসেন।
Bamboo Mission-এর সহায়তায় তিনি প্রায় ৪,০০০টি বাঁশের চারা রোপণ করেন। দুই বছরের মধ্যে বাঁশের খুঁটি বিক্রি করে তিনি প্রায় ৭৫,০০০ টাকা আয় করেন।
বাঁশের সঙ্গে তিনি লঙ্কা, ক্যাপসিকাম, আদা ও রসুনের চাষও করেন।
তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, বাঁশ একদিকে ফসল হিসাবে কাজ করতে পারে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী জীবিকার সম্পদ হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া North East Centre for Technology Application & Reach (NECTAR) বিভিন্ন বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বাঁশভিত্তিক প্রযুক্তির প্রসারে সহায়তা করছে।
এর মধ্যে রয়েছে খাদ্য ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ, নির্মাণসামগ্রী, উৎপাদন যন্ত্রপাতি, পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি, শিল্পপণ্য-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্র।
এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩ কোটি মানব-কর্মদিবসের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে বাঁশজাত পণ্যে মূল্য সংযোজন ১০% থেকে বেড়ে ৭০% পর্যন্ত হয়েছে। এর একটি উদাহরণ ইঞ্জিনিয়ার্ড বাঁশ। নির্মাণ ক্ষেত্রে এটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
ইঞ্জিনিয়ার্ড বাঁশ হল কাঁচা বাঁশের তন্তু, ফালি বা কণাকে একসঙ্গে জুড়ে ও চাপ দিয়ে তৈরি একটি যৌগিক উপাদান।
নতুন নকশার ইঞ্জিনিয়ার্ড বাঁশের আসবাবপত্র জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। স্থপতি, নকশাবিদ ও অন্দরসজ্জাবিদদের কাছেও এটি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ফলে দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্বাসনের কাজে ৪২ লক্ষ বর্গফুটেরও বেশি ইঞ্জিনিয়ার্ড বাঁশের কাঠামো তৈরি হয়েছে।
ছত্তিশগড়ে ইঞ্জিনিয়ার্ড বাঁশ দিয়ে ৫৭৬টি স্কুলকক্ষ তৈরি হয়েছে। সেখানে প্রায় ২০,০০০ শিশু পড়াশোনা করছে। এতে দেখা যাচ্ছে, বাঁশ এখন এমন নির্মাণ ক্ষেত্রেও ব্যবহার হচ্ছে, যেখানে আগে প্রচলিত শিল্পসামগ্রীর ব্যবহারই বেশি ছিল।
বাঁশের মূল্যশৃঙ্খল শুধু নতুন নতুন পণ্য তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।
এই নতুন ব্যবস্থায় মহিলাদের গোষ্ঠীগুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলিতে মহিলাদের জীবিকার এমনই একটি উদাহরণ দেখা যায়। Gadchiroli Agarbatti Project নামে বাঁশভিত্তিক ধূপকাঠি তৈরির উদ্যোগটি ২০১২ সালে জেলার বিভিন্ন উৎপাদন কেন্দ্রে কাজ শুরু করে।
২০২০ সালের মধ্যে সেখানে ৩২টি কেন্দ্র তৈরি হয়। প্রায় ১,১০০ জন সেখানে কাজ করতেন। তাঁদের প্রায় ৯০ শতাংশই ছিলেন মহিলা। প্রতিটি মহিলা মাসে প্রায় ৫,০০০ টাকা আয় করতেন।
কর্মসংস্থানের সময়ও বছরে প্রায় ৪৫ থেকে ৬০ দিন থেকে বেড়ে ২২৫ দিনের বেশি হয়েছে।
কাজের সুযোগ বাড়ির কাছাকাছি এসেছে। কাজের শারীরিক পরিশ্রমও কমেছে।
মহিলাদের নতুন দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এই উদ্যোগ জীবিকার জন্য বনজ সম্পদের উপর নির্ভরতাও কমিয়েছে।
এই ধরনের উদ্যোগ সম্ভব হয়েছে দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে।
CSIR-National Environmental Engineering Research Institute (CSIR-NEERI), নাগপুর, এবছর জুন মাসে মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জন্য বাঁশের হস্তশিল্প নিয়ে পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করে। প্রশিক্ষণের বিষয় ছিল “উড়ন্ত ছাইয়ের স্তূপে উৎপাদিত বাঁশ দিয়ে বাঁশের হস্তশিল্পের মাধ্যমে মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ক্ষমতায়ন”।
এই প্রশিক্ষণে বাঁশ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও পরিচর্যা, হস্তশিল্প তৈরি, মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি, উদ্যোগ পরিচালনা, ব্র্যান্ডিং, বিপণন ও পণ্যের নকশা তৈরির ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এই উদ্যোগ দেখিয়েছে, পরিত্যক্ত উড়ন্ত ছাইয়ের স্তূপের জমিকেও উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। এর মাধ্যমে পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন দুটোই সম্ভব।
বাঁশের এই কল্পকথা এখন মানুষ, সম্ভাবনা ও পরিবর্তনের গল্প হয়ে উঠছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাঁশ নতুন জীবিকা, উদ্যোগ ও সুস্থায়ী সুযোগ তৈরি করছে।
তাই ভারতে বাঁশের কাহিনী শুধু বাঁশ দিয়ে কি তৈরি করা যায়, সেই আখ্যান নয়। প্রযুক্তি, উদ্যোগ ও সুযোগের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী এই সম্পদকে যুক্ত করলে একটি সম্প্রদায়ের জীবন কিভাবে বদলে যেতে পারে, তার-ও নিপুন কাহিনীও।
তথ্যসূত্র
Ministry of Agriculture & Farmers Welfare
https://nbm.da.gov.in/Success-Stories
Prime Minister’s Office
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2255656&lang=2®=48
Ministry of Information & Broadcasting
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2255645®=48&lang=2
Ministry of Science & Technology
https://dst.gov.in/development-bamboo-based-technology-value-added-products-improving-life-and-livelihood-ne
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2273722&lang=1®=1
PIB Backgrounders
https://www.pib.gov.in/FeaturesDeatils.aspx?ModuleId=2&NoteId=157507&lang=1®=6
https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=155112&ModuleId=3®=48&lang=2
Click here to see pdf
****
SSS/AS
(Features ID: 159966)
आगंतुक पटल : 4
Provide suggestions / comments