• Skip to Content
  • Sitemap
  • Advance Search
Infrastructure

স্বচ্ছ অভ্যাসে স্বচ্ছ ভারত: জাতীয় প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা

Posted On: 09 FEB 2026 2:19PM

নতুন দিল্লি, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ 

 

পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি জনস্বাস্থ্য, মর্যাদা এবং জীবনমানের ভিত্তি। পাড়ায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি থেকে শুরু করে যৌথ ব্যবহারের স্থান রক্ষার আচরণ পর্যন্ত এই অভ্যাসগুলি সমাজের কার্যকারিতা ও বিকাশে প্রভাব ফেলে। গত কয়েক বছরে স্বচ্ছ ভারত মিশন জাতীয় অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধিকে নিয়ে এসেছে। এর ফলে, ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়েছে, শৌচালয়ের সংখ্যা বেড়েছে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সম্মিলিত উদ্যোগ স্বাস্থ্যবিধিকে ব্যক্তিগত বিষয় থেকে যৌথ নাগরিক দায়িত্বে রাপন্তরিত করেছে।

পরিকাঠামো পরিবর্তনের পথ প্রসারিত করে। দৈনন্দিন আচরণই পরিবর্তনকে টিকিয়ে রাখে। দীর্ঘমেয়াদী অগ্রগতি নির্ভর করে নিয়মিত অভ্যাসের উপর। ‘স্বচ্ছ অভ্যাসে স্বচ্ছ ভারত’ এই পরিবর্তনকেই তুলে ধরে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক প্রত্যাখ্যান, আবর্জনা ছড়ানো ও থুতু ফেলা এড়ানো, সবুজ ও নীল বিনে নির্ধারিত বর্জ্য আলাদা করা, হাত পরিষ্কার রাখা, শৌচালয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং যেখানে সম্ভব সেখানে কম পণ্যের ব্যবহার, পুনর্ব্যবহার ও পুনর্চক্রায়ণ- এই কাজগুলি প্রতিদিন করলে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে ওঠে।

এই অভ্যাসগুলি মিলেই পরিচ্ছন্নতার ধারাবাহিকতার একটি বাস্তব কাঠামো তৈরি করে। এতে স্পষ্ট হয় যে, পরিচ্ছন্ন ভারত এককালীন প্রচেষ্টায় নয়। নিয়মিত অংশগ্রহণেই নির্মিত হয় একটি পরিচ্ছন্ন দেশ। দায়িত্বশীল আচরণ দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয় উঠলে সম্মিলিত চর্চার মাধ্যমে অগ্রগতি অব্যাহত থাকে।

দৈনন্দিন কাজ, স্থায়ী পরিবর্তন
নীতি ও পরিকল্পনার বাইরে স্থানীয় স্তরের কাজেই স্বাস্থ্যবিধি উদ্যোগের প্রকৃত প্রভাব দেখা যায়। আবাসিক রাস্তা থেকে শহরের পরিসর পর্যন্ত, সংহতি ও সাধারণ সম্পদকে আপন মনে করা যৌথ পরিবেশকে ধীরে ধীরে উন্নত করে।

বর্জ্য থেকে জনশিল্প
দিল্লির এমসিডি সাউথ জোনাল অফিসে বর্জ্য থেকে শিল্প উদ্যোগের মাধ্যমে পরিত্যক্ত উপকরণ নতুন ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শিশুদের বাতিল খেলাধুলার সরঞ্জামের পুরানো পাইপ ও অচল ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার করা চাকা দিয়ে একটি স্থাপনাকর্ম তৈরি হয়েছে। এই স্থাপনাকর্ম এখন অফিস প্রাঙ্গণে আগতদের স্বাগত জানায়।

২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে উন্মোচিত এই উদ্যোগ দেখায় যে, বর্জ্য হিসাবে ফেলে দেওয়া উপকরণ চিন্তাশীল পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে জনপরিসরে ফিরিয়ে আনা যায়। নকশার মাধ্যমে পুনর্ব্যবহার উপকরণের আয়ু বাড়ায়। নাগরিক পরিসরে দৃশ্যমান আকর্ষণও তৈরি হয়।
এই স্থাপনাকর্ম নিয়মিত পরিকল্পনায় সম্পদ সচেতন সিদ্ধান্তের সংযুক্তি তুলে ধরে। বর্জ্য হ্রাসের বৃহত্তর প্রচেষ্টায় এর সহায়ক ভূমিকা রয়েছে। দৈনন্দিন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ‘স্বচ্ছ অভ্যাসে স্বচ্ছ ভারত’ কিভাবে বাস্তব রূপ পায় এটি তার একটি দৃষ্টান্ত।

উত্তর প্রদেশে স্বচ্ছতা চর্চার প্রদর্শন

উত্তর প্রদেশে প্যারেড গ্রাউন্ডে স্বচ্ছ ভারত মিশনের ট্যাবলোতে সমন্বিত ব্যবস্থা ও নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে দৈনন্দিন স্বাস্থ্যবিধি চর্চা কিভাবে মজবুত করা হচ্ছে তা তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনীতে বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ, উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণ, স্বচ্ছ সারথি ক্লাবের ভূমিকা, প্লাস্টিক-মুক্ত উদ্যোগ, ১৫৩৩ টোল-ফ্রি হেল্পলাইন এবং পরিষ্কার জন-শৌচালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ দেখানো হয়। এই প্রদর্শনীতে রুটিন চর্চার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জনপরিসর গঠনের স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়।

শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ

বেঙ্গালুরুতে পরিত্যক্ত সোফা বর্জ্যের বাড়তে থাকা সমস্যা মানুষকে একত্র করেছে। একদল পেশাজীবী এই সমস্যার বাস্তব ও সম্প্রদায়নির্ভর সমাধান গড়ে তুলেছে। ভারী বর্জ্যের দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার উপর জোর দিয়ে উদ্যোগটি নির্দিষ্ট শহুরে স্বাস্থ্যবিধি কাঠিন্যে কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
চেন্নাইয়ে ল্যান্ডফিল বর্জ্য পুনর্চক্রায়ণে যুক্ত দলগুলি প্রক্রিয়াভিত্তিক কাজের মাধ্যমে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের দীর্ঘমেয়াদী চাপ কমিয়েছে। সংহতি ও ব্যবস্থাগত ভাবনার গুরুত্ব এখানে স্পষ্ট।

আজমগড়ে তমসা নদীর পুনরুজ্জীবন

উত্তর প্রদেশের আজমগড়ে সম্প্রদায়নির্ভর উদ্যোগ তমসা নদীতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। অযোধ্যা থেকে প্রবাহিত হয়ে গঙ্গায় মিশে যাওয়া এই নদী অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। দূষণ, বর্জ্য সঞ্চয় এবং অবহেলার ফলে সময়ের সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। পরিবেশগত স্বাস্থ্য ও নদীর সামাজিক ভূমিকা দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নদীর গুরুত্ব অনুধাবন করে স্থানীয় বাসিন্দারা দায়িত্ববোধ নিয়ে একত্রিত হন। নদীর তল পরিষ্কার, বর্জ্য অপসারণ এবং তীর পুনরুজ্জীবন এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। নদীতীরে ছায়াদানকারী ও ফলবাহী গাছ রোপণ করা হয়। এতে এলাকাটি স্থিতিশীল হয়েছে। পরিবেশগত মানও উন্নত হয়েছে।

সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের ফলে ধীরে ধীরে নদীর প্রবাহ ফিরে আসে। তামসার পুনরুজ্জীবন দেখায় যে অভ্যাস ও স্থানীয় উদ্যোগে নিয়মিত কাজ পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ পরিবেশ গঠনে সহায়ক।

জম্মু ও কাশ্মীরে পরিচ্ছন্নতার পক্ষে সম্প্রদায়ের কণ্ঠ
জম্মু ও কাশ্মীরের বাহু প্লাজায় ‘গণতন্ত্র কি আওয়াজ স্বচ্ছতার সঙ্গে’ শিল্প ও সংলাপের মাধ্যমে নাগরিক দায়িত্বের প্রকাশ ঘটায়। ওপেন-মাইক মঞ্চে কবিতা, সঙ্গীত ও কথ্য পরিবেশনা একত্রিত হয়। পরিচ্ছন্নতা, দেশপ্রেম ও সম্প্রদায়গত গর্বের বিষয় উঠে আসে।
এই অনুষ্ঠান প্রমান করে যে,  জনসচেতনতা প্রাতিষ্ঠানিক প্রচারের বাইরে গিয়েও বিস্তৃত হতে পারে। সাংস্কৃতিক প্রকাশ নাগরিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে। অংশগ্রহণ ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ‘স্বচ্ছ অভ্যাসে স্বচ্ছ ভারত’-এর বার্তা গভীরভাবে প্রচারিত হয়।

উত্তর-পূর্ব ভারতে যুব নেতৃত্বাধীন পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগ
অরুণাচল প্রদেশে তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা জনপরিসরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে। ইটানগর থেকে শুরু করে তারা নিয়মিত যত্নের প্রয়োজন এমন এলাকা চিহ্নিত করে পরিষ্কার করেছে। এই উদ্যোগে যৌথ কর্মসূচীর মাধ্যমে পরিবেশ উন্নত করার অঙ্গীকার সুস্পষ্ট।

ইটানগরের পর এই কাজ নাহারলাগুন, ডইমুখ, সেপ্পা, পালিন ও পাশিঘাটে বিস্তৃত হয়েছে। একাধিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ধারাবাহিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১১ লাখ কিলোগ্রামের বেশি বর্জ্য জনপরিসর থেকে অপসারণ করা হয়েছে। উদ্যোগের পরিসর ও ধারাবাহিকতা দৃশ্যমান ও স্থায়ী পরিবর্তনের প্রমাণ দেয়।
অসমের নগাঁও শহরে বাসিন্দারা তাদের পাড়াগুলির সঙ্গে আবেগপূর্ণভাবে যুক্ত। এই পরিচিত স্থান রক্ষার প্রয়োজন উপলব্ধি করে নাগরিকরা একত্রিত হন। উদ্যোগে গতি এলে আরও মানুষ যুক্ত হন। একটি নিবেদিত দল গড়ে ওঠে। দলটি রাস্তা থেকে বিপুল পরিমাণ জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
এই সব উদাহরণ দেখায় যে ‘স্বচ্ছ অভ্যাসে স্বচ্ছ ভারত’ দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে। এককালীন অভিযানে নয়। অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি, যৌথ দায়িত্ব এবং স্থানীয় উদ্যোগই পরিচ্ছন্নতাকে টিকিয়ে রাখে।

অভ্যাস যখন মিশনকে এগিয়ে নিয়ে যায় অঞ্চলভিত্তিক অভিজ্ঞতা একটি স্পষ্ট সত্য তুলে ধরে। স্থায়ী পরিবর্তন গড়ে ওঠে মানুষের প্রতিদিনের কাজে। নাগরিকদের জনপরিসর পুনরুদ্ধার, তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের বারবার একই রাস্তায় ফেরা কিংবা মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ পুনরুজ্জীবনে সম্প্রদায়ের উদ্যোগ এই ধারাবাহিক দায়িত্ববোধের শক্তি দেখায়।

এই গল্পগুলি প্রমাণ করে যে ‘স্বচ্ছ অভ্যাসে স্বচ্ছ ভারত’-এর শক্তি একক হস্তক্ষেপে নয়। ধারাবাহিকতায়। পরিবেশের যত্ন যখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয় তখন নিয়মিত তদারকি ছাড়াই ফল টিকে থাকে। কাজকে ঘটনায় নয়, নিয়মে রূপ দেওয়ার এই নীরব পরিবর্তন অর্জিত সাফল্য ধরে রাখার পথ দেখায়। প্রজন্মের পর প্রজন্মে শহর ও সম্প্রদায় জুড়ে উন্নতি অব্যাহত থাকে।

তথ্যসূত্র

Prime Minister’s Office

https://www.pmindia.gov.in/en/major_initiatives/swachh-bharat-abhiyan/

https://x.com/mannkibaat/status/2015298688718094590?s=20

 

Ministry of Housing and Urban Affairs

https://x.com/SwachhBharatGov/status/2015304683552911533?s=20

https://x.com/SwachhBharatGov/status/2015324308542017671?s=20

https://x.com/SwachhBharatGov/status/2015723377202434493?s=20

https://x.com/SwachhBharatGov/status/2015683083845198289?s=20

Click here to see pdf

 

SSS/RS/.....

(Features ID: 157270) आगंतुक पटल : 13
Provide suggestions / comments
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Kannada
Link mygov.in
National Portal Of India
STQC Certificate