• Skip to Content
  • Sitemap
  • Advance Search
Farmer's Welfare

পিএম বিশ্বকর্মা হাট ২০২৬

বিশ্বকর্মার অভিযান, বিকশিত ভারত নির্মাণ

Posted On: 24 JAN 2026 10:25AM

নয়াদিল্লি, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

 

দিল্লির কনকনে শীতের সকালে আইএনএ দিল্লি হাটের গেট খোলার সঙ্গে  সঙ্গেই লেহ-লাদাখের দক্ষ খোদাইশিল্পী পুঞ্চোক পালদান হাসি মুখে অতিথিদের স্বাগত জানান। পিএম বিশ্বকর্মা হাটে এটি তাঁর দ্বিতীয় বছর। গত বছর প্রায় ২ লক্ষ টাকার পণ্য বিক্রি করে তিনি এবার আরও আত্মবিশ্বাস এবং এই মঞ্চের প্রতি এক গভীর আপনবোধ নিয়ে ফিরে এসেছেন। তাঁর নিপুণ হাতে তৈরি কাঠের শিল্পকর্মগুলি তিনি অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে সাজিয়ে তুলেছেন।

দিল্লি হাটে আয়োজিত পিএম বিশ্বকর্মা হাট ২০২৬ কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, এটি ভারতের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের এক প্রাণস্পন্দিত মিলনমেলা। 

ক্ষুদ্র, ছোটো ও মাঝারি মন্ত্রকের উদ্যোগে ১৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এই হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১১৭ জনেরও বেশি কারিগর তাঁদের নিপুণ সৃষ্টি তুলে ধরছেন। প্রতিদিন সকাল ১০:৩০ থেকে রাত ১০:০০ পর্যন্ত খোলা এই প্রাঙ্গণে হস্তশিল্পের পাশাপাশি, মৃৎশিল্প ও পুতুল তৈরির মতো লাইভ প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও চলছে, যা "বিশ্বকর্মার অভিযান, বিকশিত ভারত নির্মাণ"-এর লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্প গ্রামীণ কারিগরদের মূল ধারার বাজারের সঙ্গে যুক্ত করে তাঁদের ক্ষমতায়নে এক ব্যাপক ভূমিকা নিচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় পরিচয়পত্র, ৫০০ টাকা দৈনিক ভাতা-সহ দক্ষতা প্রশিক্ষণ, ১৫,০০০ টাকার টুলকিট, বিনা জামানতে ঋণ এবং ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহ প্রদান করা হয়। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি, 'পিএম বিশ্বকর্মা হাট'-এর মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কারিগরদের পণ্যের বিপণন ও ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা "বিরাসত সে বিকাশ" অর্থাৎ  'ঐতিহ্য থেকে উন্নয়ন' মন্ত্রটিকে আর-ও এগিয়ে দিয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত এই প্রকল্পে ২.৭২ কোটি আবেদন জমা পড়েছে এবং প্রায় ৩০,০০০ কারিগর নিবন্ধিত হয়েছেন।

চামোলির কাঠের খোদাইশিল্পী দর্শন লাল তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বদ্রীনাথ মন্দিরের নির্মাণশৈলীর ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন। ২০০৮-০৯ সালে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ হিসেবে নিবন্ধিত হলেও, তাঁর শিল্পের প্রসারে বাজারের অভাব ছিল। পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের অধীনে প্রশিক্ষণ, টুলকিট এবং সহজ ঋণ পাওয়ার পর তিনি এবারই প্রথম দিল্লিতে প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি এখন অন্য কারিগরদেরও এই প্রকল্পে যুক্ত হতে উৎসাহিত করছেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, এটি কেবল একটি সরকারি পদ্ধতি নয় বরং উন্নতির এক নিশ্চিত পথ।

উত্তরকাশীর বিনোদ কুমার তাঁর পৈতৃক দেবদারু  শিল্পের সঙ্গে বাঁশ ও রিঙাল শিল্পের সমন্বয় ঘটিয়ে এক অনন্য নজির গড়েছেন। ২০০৮ সালে কাজ শুরু করে ২০২২ সালে তিনি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ  হিসেবে নিবন্ধিত হন এবং বর্তমানে উত্তরাখণ্ডের ১৩-টি জেলায় কারিগরদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। প্রদর্শনীতে ভাল বিক্রির পাশাপাশি তাঁর এই উদ্যোগ অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের প্রশিক্ষণ ও টুলকিটের সহায়তা নিয়ে তাঁর এই অগ্রযাত্রা এখন ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর জনগোষ্টীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

অসমের ধুবরির জ্যোৎস্না পালের কাছে মৃৎশিল্প হলো পারিবারিক ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধন। ২০২০ সালে ক্ষুদ্র,ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার পর সরকারি সহযোগিতায় তিনি অসম, বারাণসী এবং নয়ডার গণ্ডি পেরিয়ে এখন দিল্লির বাজারেও পৌঁছে গিয়েছেন। যাতায়াত ও থাকার খরচ বহন করার মাধ্যমে সরকার তাঁর মতো ক্ষুদ্র শিল্পীদের ঝুঁকি কমিয়ে বড় বাজারের সুযোগ করে দিচ্ছে। চলতি 'পিএম বিশ্বকর্মা হাট ২০২৬'-এ ইতিমধ্যেই তিনি ২০,০০০ টাকার মতো পণ্য বিক্রি করেছেন। তবে এই মঞ্চ তাঁর কাছে কেবল উপার্জনের মাধ্যম নয়, বরং নিজের শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি স্থায়ী পথ।

কেরলের সুধীশ ভি.ডি. কাঠের সূক্ষ্ম কারুকার্যের পাশাপাশি, ডিজিটাল প্রচারের মাধ্যমে তাঁর শিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ২০২৪ সালে ক্ষুদ্র,ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ  হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে তিনি মাত্র ৫ শতাংশ সুদে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ এবং ১৫,০০০ টাকার বিনামূল্যের টুলকিট পেয়েছেন।
প্রদর্শনীগুলিতে গড়ে ২০,০০০ টাকার বেশি বিক্রির পাশাপাশি, ইনস্টাগ্রাম ও ডিজিটাল পেমেন্টের সাহায্যে তিনি ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এখন আর কেবল স্থানীয় বাজারের ওপর নির্ভরশীল নয়।

দিল্লি হাটের বিপুল জনসমাগমকে কাজে লাগিয়ে কাশ্মীরি কুর্তি থেকে শুরু করে সাড়ে ৬ ফুটের পাথরের মূর্তি - সবই এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্র্যান্ডেড শপিং ব্যাগ একদিকে কারিগরদের প্যাকিং খরচ কমাচ্ছে, অন্যদিকে প্রচারের কাজও করছে। এছাড়া, প্রতিটি স্টলে থাকা পরিচয়পত্র বা প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে কারিগরদের নাম, ঠিকানা ও উৎপাদন ক্ষমতা স্পষ্টভাবে জানা যাচ্ছে। এই স্বচ্ছতা কারিগরদের সাময়িক স্টলকে একটি পেশাদার ক্ষুদ্র উদ্যোগে রূপান্তর করেছে, যা ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরিতে বিশেষ সাহায্য করছে।

কারিগরদের মধ্যে সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের অধীনে সুলভ ঋণ, ব্যাংকের তুলনায় কম সুদের হার এবং প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে টুলকিট ও আর্থিক সহায়তার যে সমন্বিত ব্যবস্থা রয়েছে, সে সম্পর্কে তাঁরা সম্যক অবগত। এছাড়া, গ্রামীণ এলাকায় ইউপিআই-এর ব্যাপক ব্যবহার তাঁদের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং প্রথাগত ব্যাংকিং পরিষেবার প্রসারের বিষয়টিকেই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

এই মেলাগুলির সাফল্যের মূল কারণ হল, কারিগরদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আস্থার পরিবেশ। এখানে সুশাসন কেবল কাগজে-কলমে নয়, বরং সরাসরি মানুষের জীবিকার উন্নতির মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে। 'সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস'-এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তৃণমূল স্তরে আত্মনির্ভর ভারত ও ২০৪৭ সালের মধ্যে 'বিকশিত ভারত' গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে। 'পিএম বিশ্বকর্মা হাট ২০২৬' কারিগরদের তাৎক্ষণিক উন্নতির পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী সুযোগ, পরিচিতি এবং মর্যাদা প্রদান করছে। এখানে ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতি কেবল প্রদর্শনীতে বন্দী নয়, বরং তা কারিগরদের দক্ষ হাতে এবং সরকারি নীতি সহায়তায় এক প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে।

তথ্যসূত্র

Ministry of Micro, Small and Medium Enterprises

https://pmvishwakarma.gov.in/

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2215839&reg=3&lang=2

PM Vishwakarma Haat 2026

 

SSS/AS

(Features ID: 157073) आगंतुक पटल : 2
Provide suggestions / comments
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , हिन्दी
Link mygov.in
National Portal Of India
STQC Certificate