Economy
শ্রমিক বিধি: সরলীকৃত নিয়ম মানার প্রক্রিয়া ও মজবুত শ্রমিক সুরক্ষার মাধ্যমে ভারতের বস্ত্রশিল্পের রূপান্তর
प्रविष्टि तिथि:
29 NOV 2025 11:41 AM
২৯ নভেম্বর ২০২৫
মূল বার্তা
নতুন শ্রমিক বিধি ২৯-টি আইনকে সরল করে চারটি সমন্বিত বিধিতে একত্রিত করেছে, যার ফলে, বস্ত্রশিল্প এমএসএমইগুলির নিয়ম মানার প্রক্রিয়ার কাঠিন্য কমেছে এবং ব্যবসা পরিচালনা সহজতর হয়েছে।
দ্রুততর বিবাদ নিষ্পত্তি, ডিজিটাল রেকর্ড, একক নথিভুক্তিকরণ এবং সময়সীমাবদ্ধ অনুমোদন বস্ত্রশিল্প ক্ষেত্র জুড়ে কার্যকারিতা বাড়িয়েছে।
সংশোধিত নিরাপত্তা মানদণ্ড, নিরপেক্ষ নিরীক্ষা এবং অভিন্ন জাতীয় ওএসএইচ মান কর্মস্থলের নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করেছে এবং ভারতকে আন্তর্জাতিক শ্রম নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে।
শ্রমিকরা সর্বজনীন ন্যূনতম মজুরি, দ্বিগুণ ওভারটাইম, ইএসআইসি সুবিধা, নিয়োগপত্র এবং বেতন-সহ বাৎসরিক ছুটির মাধ্যমে সুরক্ষা পাচ্ছেন।
নারী শ্রমিকরা লিঙ্গ-নিরপেক্ষ নিয়োগ, রাতের পালার জন্য প্রসারিত নিরাপত্তা বিধি এবং সামাজিক সুরক্ষায় বিস্তৃত পারিবারিক সুবিধা পাচ্ছেন।
সমান সুবিধা-সহ স্থায়ী সময়কালীন নিয়োগ স্বচ্ছতা বাড়ায় এবং মরসুমি বস্ত্রশিল্প শ্রমিকদের জন্য ন্যায় ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
নয়াদিল্লি, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
ভূমিকা
বস্ত্রশিল্প ভারতের অন্যতম প্রাচীন এবং প্রধান ক্ষেত্র। এটি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জিডিপির ২.৩ শতাংশ, মোট শিল্প উৎপাদনের ১৩ শতাংশ এবং মোট রপ্তানির ১২ শতাংশ অবদান এই ক্ষেত্রটির। কৃষির পরে এটি দায়িত্বের সঙ্গে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী ক্ষেত্র; প্রত্যক্ষভাবে ৪.৫ কোটির বেশি মানুষ এতে জড়িত, তাদের মধ্যে অনেকেই নারী এবং গ্রামীণ শ্রমিক। প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রটি এমএসএমইর মাধ্যমে চলে। এতে শিল্পের অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকাঠামো নির্দিষ্ট হয়।
নতুন শ্রমিক বিধি বাস্তবায়নের ফলে বস্ত্রশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। মজুরি, কর্মচুক্তি, কর্মস্থলের নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য একটি পরিকাঠামো তৈরির ফলে নিয়ম মানার প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে এবং শ্রমিক কল্যাণ উন্নত হয়েছে। শ্রমনির্ভর এই ক্ষেত্রের জন্য এই সংস্কারগুলি ন্যায্য আচরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং উন্নত সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে, এবং নিয়োগদাতাদের কর্মী ব্যবস্থাপনায় সরল প্রক্রিয়ার সুযোগ দেয়।
শ্রমিক বিধির অধীনে বস্ত্রশিল্প নিয়োগদাতাদের সুবিধা
১. শ্রম আইনসমূহের সংহতিকরণ
বিদ্যমান ২৯-টি শ্রম আইনকে মজুরি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস, অকুপেশনাল সেফটি হেলথ অ্যান্ড ওয়ার্কিং কন্ডিশনস এবং সামাজিক সুরক্ষা, এই চারটি সরলীকৃত বিধিতে একত্রিত করা হয়েছে। এর ফলে, বিভ্রান্তি ও নিয়মের সংঘাত দূর হয়েছে। বস্ত্রশিল্প নিয়োগদাতারা এখন একক আইন ব্যবস্থার অধীনে কাজ করবেন- একই সংজ্ঞা, একই কর্তৃপক্ষ। এতে প্রশাসনিক বিভ্রান্তি কমে এবং উৎপাদন কেন্দ্র ও রাজ্য জুড়ে অভিন্ন নিয়ম মানার প্রক্রিয়া নিশ্চিত হবে। বহু রাজ্যে সক্রিয় বড় বস্ত্রশিল্প কেন্দ্রগুলির জন্য এটি বিশেষভাবে লাভজনক; সময় ও খরচ কম হবে, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে এবং ব্যবসার পূর্বানুমান বৃদ্ধি পাবে।
২. স্ট্যান্ডিং অর্ডারের প্রযোজ্যতা সীমা ১০০ থেকে ৩০০ কর্মী
স্ট্যান্ডিং অর্ডারের প্রযোজ্যতা সীমা ১০০ থেকে ৩০০ কর্মী করার ফলে ছোট ও মাঝারি বস্ত্রশিল্প কেন্দ্রগুলির উপর নিয়ম মানার প্রক্রিয়ার চাপ কমেছে। এই কেন্দ্রগুলিই ভারতের পোষাক ও কাপড় তৈরির মূল ভিত্তি। সার্টিফায়েড স্ট্যান্ডিং অর্ডারের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়ে তারা উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানির প্রস্তুতিতে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে, ফলে তাদের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।
৩. শিল্প বিবাদ নিষ্পত্তির সরলীকরণ
আগে শিল্প বিবাদ শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তাদের বিবেচনায় বিশেষ বিচারদল পাঠানো হতো, যে কারণে দীর্ঘ বিলম্ব হতো। নতুন বিধি দ্রুত সমঝোতা এবং মামলার সংখ্যা কমিয়ে দেয়। বস্ত্রশিল্প যে কেন্দ্রগুলির রপ্তানি আদেশানুসারে সঠিক সময়ে উৎপাদন জরুরি, সেগুলি দ্রুত বিবাদ নিষ্পত্তির ফলে, অপারেশন ধারাবাহিক রাখতে পারবে এবং শিল্প শান্তি বজায় থাকবে।
৪. একক নথিভুক্তিকরণ, সাধারণ ফেরত ও জাতীয় অনুমতিপত্র
একক নথিভুক্তিকরণ, সাধারণ ফেরত এবং বিবেচিত অনুমোদনের সঙ্গে পাঁচ বছরের জাতীয় লাইসেন্স নিয়ম মানার প্রক্রিয়া সহজ করেছে। রাজ্য জুড়ে সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খল পরিচালনাকারী বস্ত্রশিল্প কোম্পানিরা আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব ও প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে পারবে, দ্রুত স্টার্টআপ, সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে পারবে। এছাড়া ওএসএইচ ও ডব্লিউসি বিধি কন্ট্রাক্ট লেবার নিয়োগ এবং প্রতিষ্ঠানের অনলাইন পরিচালনার জন্য সাধারণ লাইসেন্সিং দেয়। এতে বস্ত্র প্রক্রিয়াগুলি সাব-কন্ট্রাক্ট করা সহজ হয় এবং সরবরাহ শৃঙ্খল নির্বিঘ্ন থাকে।
৫. কারখানা লাইসেন্সের সীমা সংশোধন ও সময়সীমাবদ্ধ অনুমোদন
কারখানা লাইসেন্সের সীমা বিদ্যুৎচালিত ইউনিটে ১০ থেকে ২০-ছন কর্মী এবং বিদ্যুৎবিহীন ইউনিটে ২০ থেকে ৪০ কর্মী করা হয়েছে। এতে ছোট বস্ত্র ইউনিটগুলি লাইসেন্স বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হবে। তদুপরি কারখানা নির্মাণ, সম্প্রসারণ বা বিপজ্জনক প্রক্রিয়ার অনুমোদনের জন্য ৩০ দিনের সীমা নির্ধারণের ফলে উদ্যোগগুলি দ্রুত নতুন রপ্তানি আদেশ মোকাবিলা, নতুন ইউনিট স্থাপন বা বিদ্যমান ইউনিট সম্প্রসারণ করতে পারবে কোনো আইনি জটিলতা ছাড়াই।
৬. জাতীয় মানদণ্ড ও কেন্দ্রীয় বোর্ড
বহু বোর্ড প্রতিস্থাপিত করে একটি জাতীয় ত্রিদলীয় বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বস্ত্রশিল্প, যেখানে একাধিক রাজ্যে ইউনিট আছে, সেখানকার জন্য এই অভিন্ন ওএসএইচ মানদণ্ড ন্যায্যতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং সরল নিয়ম মানার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে। সামঞ্জস্যপূর্ণ জাতীয় মান আন্তর্জাতিক শ্রম মানের সঙ্গে মিল রেখে ভারতের বস্ত্রশিল্পের প্রতিযোগিতা এবং ক্রেতাদের আস্থা বাড়াবে।
৭. তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষা ও মানপত্র প্রদান
ওএসএইচ বিধিতে তৃতীয় পক্ষ নিরীক্ষার সুযোগ থাকায় বস্ত্র সংস্থা, বিশেষত স্টার্টআপগুলি, সরাসরি সরকারি তদারকি ছাড়াই সেফটি সার্টিফিকেশন বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শংসাপত্র পেতে পারবে। এতে তদারকের হস্তক্ষেপ কমবে এবং স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা অগ্রগতি বজায় থাকবে। স্বাধীন নিরীক্ষা আন্তর্জাতিক মান সম্মতিতে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে এবং নৈতিক সোর্সিং মেনে চলা ব্র্যান্ডগুলির কাছে ভারতীয় বস্ত্র পণ্য গ্রহণযোগ্য হবে।
৮. রেজিস্টার ও রেকর্ডের ডিজিটাইজেশন
রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রেজিস্টারের সংখ্যা হ্রাস ও ডিজিটাল রেকর্ড রীতির প্রচারে নিয়ম মানার প্রক্রিয়া কাগজবিহীন, দ্রুত এবং স্বচ্ছ হয়েছে। একাধিক সাব-কন্ট্রাক্টর-সহ রপ্তানি ক্লাস্টারগুলি সহজ ডিজিটাল নথীকরণ, উন্নত তথ্য উপস্থাপন এবং অডিটের জন্য প্রস্তুত থাকছে।
৯. ইপিএফ তদন্তের সময়সীমা
ইপিএফ তদন্ত শুরু করার সময়সীমা পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেটা সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ দুই বছর সময় আছে, এক বছর বাড়ানো যেতে পারে। এতে দীর্ঘ তদন্তের ঝুঁকি কমে এবং আইনি নিশ্চয়তা বাড়ে, ফলে, ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ বাড়ে।
১০. ইপিএফও আবেদনের আমানত হ্রাস
ইপিএফও ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার জন্য বাধ্যতামূলক আমানত ৪০ থেকে ৭০ শতাংশের বদলে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে আর্থিক বোঝা কমে এবং বিরোধ মীমাংসা সহজ হয়।
১১. স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পুনরায় মামলা খোলার ক্ষমতা বিলুপ্তি
ইপিএফ অ্যান্ড এমপি আইন, ১৯৫২-এর অধীনে স্বপ্রণোদিতভাবে মামলাগুলি পুনরায় চালু করার ক্ষমতা সোশ্যাল সিকিউরিটি কোড, ২০২০-এর মাধ্যমে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে, অনুমান করা সহজ হয় এবং নিয়ম মানার প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা কমে।
১২. অপরাধের ডিক্রিমিনালাইজেশন
প্রক্রিয়াগত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পরিবর্তে আর্থিক জরিমানা আরোপ এবং আইনি পদক্ষেপের আগে ৩০ দিনের সুযোগ প্রদানের বিধান শাস্তিমূলক নীতির বদলে সহায়ক নীতি প্রচলিত করছে। এতে স্বতঃস্ফূর্ত নিয়ম মানার প্রক্রিয়া উৎসাহিত হবে এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে আইনি আশঙ্কা কমবে।
১৩. অপরাধের সংযোজন
প্রথমবারের অপরাধগুলিকে সর্বোচ্চ জরিমানার পঞ্চাশ শতাংশে কম্পাউন্ড করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র ত্রুটিগুলি দ্রুত মিটিয়ে উৎপাদন ধারাবাহিক রাখা সম্ভব হবে এবং আইনি জটিলতা থেকে রেহাই মিলবে।
১৪.
ইন্সপেক্টর-কাম-ফেসিলিটেটর ও ওয়েবভিত্তিক পরিদর্শন
প্রথাগত ইন্সপেক্টরদের বদলে ইন্সপেক্টর-কাম-ফেসিলিটেটর এবং স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর পরিদর্শন গ্রহণের ফলে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ছে। নিয়োগদাতাদের হয়রানি কমবে এবং পরিদর্শন আরও নিরপেক্ষ হবে। ইন্সপেক্টররা এখন সহায়ক অংশী হিসেবেই কাজ করে নিরাপত্তা ও কল্যাণ মানসম্পন্নভাবে বাস্তবায়নে অংশ নেবেন।
১৫. স্থায়ী সময়কালীন নিয়োগ
বিধিগুলি নিয়োগদাতাদের জন্য স্থায়ী সময়কালীন কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেয়, তাদের স্থায়ী কর্মীদের সমান মজুরি ও সুবিধা নিশ্চিত করে। বস্ত্রশিল্প ইউনিটগুলির জন্য, বিশেষত যেগুলি রপ্তানির চাহিদার কারণে মরসুমী ওঠানামায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এটি কর্মী নিয়োগ সরল করে দেয় এবং উৎপাদনশীর্ষ সময়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
১৬. জাতীয় অসংগঠিত শ্রমিক তথ্যসমূহ
সোশ্যাল সিকিউরিটি কোড, ২০২০-এ ই-শ্রম পোর্টালের মাধ্যমে সহজলভ্য এই তথ্যসমূহ নিয়োগদাতাদের মূল উৎপাদনের সময় যাচাই করে দক্ষ শ্রমিক সরবরাহ করতে সাহায্য করবে। এতে দীর্ঘকালীন শ্রম ঘাটতি সমস্যার স্থায়ী সমাধান সহজ হবে।
শ্রমিক বিধির অধীনে বস্ত্রশিল্প শ্রমিকদের সুবিধা
১. ন্যূনতম মজুরি
সব ধরনের বস্ত্রশিল্প শ্রমিকই এখন ন্যূনতম মজুরির অধিকারী। কাজের প্রকৃতি যাই হোক না কেন, ন্যায়সঙ্গত পারিশ্রমিক নিশ্চিত হবে, ফলে, মজুরি বৈষম্য কমবে এবং শোষণ রোধ হবে।
২. ফ্লোর ওয়েজ
জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে কেন্দ্রের নির্ধারিত ফ্লোর ওয়েজ রাজ্যভিত্তিক মজুরি বৈষম্য হ্রাস করবে এবং নিম্ন মজুরি অঞ্চলের শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করবে।
৩. ওভারটাইমে বা সময় অতিরিক্ত হলে দ্বিগুণ মজুরি
বর্ধিত উৎপাদন চাহিদার সময় শ্রমিকদের জন্য ওভারটাইমে সাধারণ হারের দ্বিগুণ মজুরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে বস্ত্রশিল্পের রপ্তানি-কেন্দ্রিক ইউনিটগুলোর শ্রমিকরা উপকৃত হবেন এবং অবৈতনিক অতিরিক্ত কর্মপ্রবণতা হ্রাস পাবে।
৪. সময়মতো মজুরি প্রদান ও অননুমোদিত হ্রাস নিষিদ্ধ
মাসিক বেতনভিত্তিক শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মজুরি প্রদান বাধ্যতামূলক এবং অননুমোদিত হ্রাস নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে, ভরসাযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা বাড়ে।
৫. দাবি দায়েরের সময়সীমা তিন বছর
মজুরি বা সুবিধা সংক্রান্ত বিরোধে নিয়োগকর্তার পরিবর্তন বা দীর্ঘ কাজে নিয়োজিত থাকার কারণে দীর্ঘমেয়াদী দাবি উঠলে শ্রমিকরা তিন বছরের মধ্যে দ্রুত ন্যায়সংশোধন দাবি করতে পারবেন।
৬. লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ
নিয়োগ, বেতন এবং কর্মপরিবেশে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বস্ত্রশিল্পে যেখানে নারী শ্রমিকের অংশ বেশি, সেখানে এই বিধান বিশেষ ভূমিকা পালন করবে এবং উৎকর্ষ ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।
৭. যাতায়াতজনিত দুর্ঘটনায় সুরক্ষা
কর্মস্থল থেকে দূরত্বে থাকা শ্রমিকদের যাতায়াতজনিত দুর্ঘটনাও কর্মসংস্থানজনিত ঘটনা হিসেবে গণ্য হবে এবং তারা ক্ষতিপূরণের দাবিদার হবে
৮. সারা দেশের ইএসআইসি কভারেজ
অল্প আয়ের ইউনিট বা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের জন্য সারাদেশে ইএসআইসি সুরক্ষা এবং স্বেচ্ছায় নাম লেখানোর সুযোগ দেয়া হয়েছে। এতে চিকিৎসা ও মাতৃত্ব সুবিধা সম্প্রসারিত হবে।
৯. পারিবারিক সংজ্ঞার বিস্তৃতি
নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে শ্বশুর-শাশুড়িকে পরিবারে অন্তর্ভুক্ত করে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার ক্ষেত্র বাড়ানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা বেড়েছে।
১০. নিয়োগপত্রের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামো সুনিশ্চিত করা
নিয়োগপত্র বাধ্যতামূলক করা হলে অস্থায়ী কর্মীদের শর্ত স্পষ্ট হবে। এতে চাকরির নিরাপত্তা, আইনি স্বীকৃতি এবং সামাজিক সুবিধা পাওয়া সহজ হবে।
১১. বিনামূল্যে বাৎসরিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা
প্রতিবার বাৎসরিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হওয়ায় শ্বাসজনিত রোগ বা কর্মস্থল নির্ভর রোগগুলির প্রাথমিক সনাক্তকরণ হবে। এতে শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা উন্নত হবে।
১২. বেতন-সহ বাৎসরিক ছুটির যোগ্যতার শর্ত ২৪০ থেকে ১৮০ দিন করা
যোগ্যতা শর্ত ২৪০ দিন থেকে ১৮০ দিনে নেমে আসায় মৌসুমি ও চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকরা বেতন-সহ বাৎসরিক ছুটির যোগ্য হয়ে উঠবেন। এতে বিশ্রাম, স্বাস্থ্যের রক্ষা এবং কর্ম-উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে বিনা আয়ের ক্ষতির।
১৩. আন্তঃরাজ্য অভিবাসী শ্রমিকের বিস্তৃত সংজ্ঞা
নতুন সংজ্ঞায় সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত এবং স্বনিযুক্ত শ্রমিক, দুই সুবিধা পাবে। ফলে, বস্ত্রশিল্পে ব্যাপকভাবে কাজ করা অভিবাসী শ্রমিকরা সমান মজুরি, আবাস ও কল্যাণ সুবিধা পাবে এবং শোষণের ঝুঁকি কমবে।
১৪. অভিন্ন স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ সুবিধা
শৌচাগার, পানীয় জল, বিশ্রামকক্ষ এবং ক্যান্টিনের মতো সুবিধার জন্য অভিন্ন মানদণ্ড নিশ্চিত করে সম্মানজনক ও আরামদায়ক কর্মপরিবেশ প্রদান করা হয়েছে। ১০০-র বেশি কর্মীসম্পন্ন কারখানাতে এসব বাধ্যতামূলক হবে। রাজ্য জুড়ে সমতা থাকায় আন্তর্জাতিক নিরীক্ষায় সহায়তা হবে এবং ভারতের দায়িত্বশীল উৎস সরবরাহকারী হিসেবে খ্যাতি বাড়বে।
১৫. সমান সুবিধা-সহ স্থায়ী সময়কালীন নিয়োগ
স্থায়ী সময়কালীন কর্মীদের জন্য প্রো-রেটা ভিত্তিতে গ্র্যাচুইটি সহ সমান সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে মরসুমি শ্রমিকদের জন্য চাকরির নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বাড়ে।
১৬. নারী শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামূলক কল্যাণ ও নিরাপত্তা মানদণ্ড
রাতের পালায় কর্মরত নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টা চলমান রপ্তানি ইউনিটগুলিতে এটি নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে এবং লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
১৭. দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের তহবিল
ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোডে উল্লেখিত প্রশিক্ষণের তহবিল প্রাক্তন শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগী করে তুলবে এবং স্বল্প-মেয়াদে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে।
সমাপ্তি
নতুন শ্রমিক বিধি ভারতের বস্ত্রশিল্পকে একটি সরল, ন্যায্য এবং কার্যকর শ্রমিক পরিকাঠামো এনে দিয়েছে। নিয়োগদাতাদের জন্য নিয়ম মানার প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে, ব্যবসা পরিচালনা নির্বিঘ্ন হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রমিকদের জন্য মজুরি সুরক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক সুরক্ষা এবং সমান আচরণ নিশ্চিত হয়েছে—বিশেষ করে নারী ও অভিবাসী শ্রমিকরা উপকৃত হবেন। একসঙ্গে এই সংস্কারগুলি উৎপাদনশীলতা, আনুষ্ঠানিককরণ এবং শিল্পের স্থিতিশীলতা বাড়াবে। ফলে, বস্ত্রশিল্প বিকশিত ভারত ২০৪৭-র লক্ষ্য অর্জনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে এবং বর্ধিত প্রবৃদ্ধি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুস্থায়ী হবে।
শ্রমিক বিধি: সরলীকৃত নিয়ম মানার প্রক্রিয়া ও মজবুত শ্রমিক সুরক্ষার মাধ্যমে ভারতের বস্ত্রশিল্পের রূপান্তর ঘটবে।
তথ্যসূত্র
Labour Codes: Transforming India’s Textile Sector with Simplified Compliance and Stronger Worker Welfare
****
SSS/RS.........
(तथ्य सामग्री आईडी: 150510)
आगंतुक पटल : 11
Provide suggestions / comments