PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

কৃষি-ভোল্টেইকস: ভারতের কৃষিক্ষেত্রে সৌরশক্তির সুষম ব্যবহার

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 02 NOV 2026 3:40PM by PIB Agartala
 

২ নভেম্বর ২০২৬

 

কৃষি ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সংযোগস্থলে রয়েছে কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির এক অভিনব পদ্ধতি। একই জমিতে ফসল উৎপাদন এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সমন্বয় ঘটায় কৃষি-ভোল্টাইকস (Agrivoltaics)। এর মাধ্যমে কৃষকরা তাঁদের আয়ের উৎস বহুমুখী করতে পারেন এবং একই সঙ্গে ভারতের পরিচ্ছন্ন শক্তির রূপান্তর প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে পারেন। খাদ্য উৎপাদন ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে একত্রিত করে এই ব্যবস্থা জমির দক্ষ ব্যবহার, কৃষিক্ষেত্রে স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ এলাকার সমৃদ্ধির এক সম্ভাবনাময় পথ খুলে দিয়েছে।

কৃষিজমিতে সৌরশক্তি: পরিচ্ছন্ন ভবিষ্যতের পথে

ভারতের অর্থনীতিতে কৃষিক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের প্রায় ৪৬.১ শতাংশ মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস হল কৃষি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের মোট মূল্য সংযোজন (GVA) ৫২.০৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছবে বলে অনুমান করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সেচ এবং অন্যান্য কৃষিকাজের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী শক্তির প্রয়োজন। সৌরশক্তি এই দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে সাহায্য করার পাশাপাশি, ভারতের পরিচ্ছন্ন শক্তির রূপান্তর প্রক্রিয়াকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: ভারতের কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের নতুন যুগ

ভারতের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে কৃষিকাজের সঙ্গে সৌরশক্তির সমন্বয়ের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৩-২৪ সালের ভূমি ব্যবহার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে মোট রিপোর্টেড এলাকা ৩০৬.৯৬ মিলিয়ন হেক্টর, যার প্রায় ৫৫ শতাংশ কৃষিজমি। নিট চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ১৩৮.৯৯ মিলিয়ন হেক্টর এবং মোট ফসলি এলাকার পরিমাণ ২১৭.৮৮ মিলিয়ন হেক্টর। এই বিশাল ভূমি-ভিত্তি কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

কৃষকরা সেচ পাম্প চালানোর জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারেন, প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারেন এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে সম্ভাব্য অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, সৌরচালিত সেচ পাম্প দিনের বেলায় ফসলে জল দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে এবং ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে।

কৃষি-ভোল্টাইকস এই সমন্বয়কে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। একই জমিতে ফসল চাষের পাশাপাশি, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ফসলের সারির উপরে অথবা মাঝখানে সৌর প্যানেল স্থাপন করে কৃষিকাজ অব্যাহত রেখেই বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়। ফসলের ধরন, প্যানেলের নকশা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আংশিক ছায়া মাটির আর্দ্রতা হ্রাসের পরিমাণও কমাতে পারে।

এই পদ্ধতি জমির ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃষকদের আয়ের উৎস বহুমুখীকরণ এবং খাদ্য ও শক্তি নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে। গবেষণা, মাঠপর্যায়ের প্রদর্শন এবং নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে ভারত বিভিন্ন কৃষি পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষি-ভোল্টেইকস ব্যবস্থাকে কার্যকর করার উপায় অনুসন্ধান করছে। কৃষকদের জীবিকা এবং ভারতের বৃহত্তর পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির লক্ষ্যের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর ক্ষেত্রে এটি একটি সম্ভাবনাময় পথ।

ভারত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সম্মেলন ও এক্সপো (Bharat RE) ২০২৬

‘Invest. Innovate. Inspire.’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬ সালের ২ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভারত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সম্মেলন ও এক্সপো (Bharat RE) ২০২৬।

চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ১৩০টিরও বেশি দেশের অংশগ্রহণকারী, ৪০ জনেরও বেশি মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পক্ষেত্রের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করছেন।

অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্য—এই নয়টি দেশ সম্মেলনে পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে অংশগ্রহণ করছে। ভারতের ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সম্ভাবনা, বিনিয়োগের সুযোগ এবং পরিচ্ছন্ন উৎপাদন ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরছে।

সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে সৌর ও বায়ুশক্তি, গ্রিন হাইড্রোজেন, শক্তি সঞ্চয়, গ্রিড সংযুক্তিকরণ, দেশীয় উৎপাদন, ডিজিটালাইজেশন এবং শক্তিক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ।

এই সম্মেলন পরিচ্ছন্ন শক্তিতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব এবং শিল্পক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ প্রদান করছে। এতে মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা, সিইও-দের গোলটেবিল বৈঠক, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ৪০০টিরও বেশি প্রদর্শককে নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

নবম আন্তর্জাতিক সৌর জোট (International Solar Alliance) সম্মেলন এবং চতুর্থ আন্তর্জাতিক গ্রীন হাইড্রোজেন সম্মেলনের পাশাপাশি, এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর ফলে, পরিচ্ছন্ন শক্তি বা জ্বালানি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ভারত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সম্মেলন ও এক্সপো ২০২৬

কৃষি-ভোল্টেইকস: কৃষি ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির মধ্যে সেতুবন্ধন

কৃষি-ভোল্টেইকস, যা এগ্রিসোলার বা ডুয়াল-ইউজ সোলার নামেও পরিচিত, জমির ব্যবহার দক্ষতা সর্বাধিক করে, ফসলের জন্য ছায়া প্রদান করে এবং কৃষকদের অতিরিক্ত সুবিধা সৃষ্টি করে।

কৃষি-ভোল্টেইকস ব্যবস্থার নকশা ও কার্যপ্রণালী

কৃষি-ভোল্টাইকস ব্যবস্থায় স্থানীয় কৃষি পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষি পরিকাঠামো এবং সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনাকে একত্রিত করা হয়। এই প্রযুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে।

*উঁচু সৌর কাঠামো:* সৌর প্যানেল সরাসরি মাটিতে স্থাপন না করে এমন উঁচু কাঠামোর ওপর বসানো হয়, যাতে নিচের ফসল পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও বৃষ্টির জল পেতে পারে। কৃষিজমিতে ব্যবহারের জন্য তৈরি এই উঁচু সৌর প্যানেলগুলির নিচ দিয়ে কৃষকরা সহজেই তাঁদের কৃষি যন্ত্রপাতি নিয়ে চলাচল করতে পারেন।

*আংশিক ছায়া:* সৌর প্যানেল ফসলের ওপর ছায়া প্রদান করে, যা অতিরিক্ত তাপ থেকে ফসলকে রক্ষা করতে এবং মাটি থেকে জলের বাষ্পীভবন কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে, উদ্ভিদের বৃদ্ধি সহায়ক অপেক্ষাকৃত শীতল ও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষত উষ্ণ ও শুষ্ক অঞ্চলে এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

*জমির দ্বৈত উৎপাদনশীলতা:* কৃষি-ভোল্টেইকস একই জমিতে ফসল চাষ অথবা পশুপালনের সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সমন্বয় ঘটিয়ে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে। এর মাধ্যমে কৃষিকাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায় এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি করে আয়ের আরেকটি উৎস তৈরি করা সম্ভব হয়।

ভারতে কৃষি-ভোল্টাইকসের বিকাশ

২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত ভারতে ৩৬টি কৃষি-ভোল্টেইকস প্রকল্প চালু ছিল, যার মোট স্থাপিত ক্ষমতা ৩৭.৫৪ মেগাওয়াট। পাশাপাশি, আরও ১০টি পাইলট প্রকল্পের উন্নয়নকাজ চলছিল।

এই প্রকল্পগুলি বিভিন্ন কৃষি-জলবায়ু অঞ্চলে বিস্তৃত। এগুলির মধ্যে উঁচু সৌর কাঠামো, প্যানেলের মধ্যবর্তী স্থানে চাষাবাদ এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবিকাশমান দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে।

ভারতে কৃষি-ভোল্টেইকসের সম্ভাবনা

ভারতে কৃষি-ভোল্টেইকসের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন অনুমান অনুযায়ী, দেশে কৃষি-ভোল্টেইকসের সম্ভাব্য ক্ষমতা ৩,০০০ গিগাওয়াট থেকে প্রায় ১৪,০০০ গিগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে। কৃষি ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সংযোগস্থলে এই বিপুল সম্ভাবনা ভবিষ্যতের সুযোগের ব্যাপ্তি তুলে ধরে।

কৃষি-ভোল্টেইকস ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকদের আয়ের উৎসও বহুমুখী হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে প্রতি একর জমিতে বার্ষিক আয় প্রায় ৬০,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ লক্ষ টাকারও বেশি হতে পারে।

কৃষি-ভোল্টেইকসের উন্নয়নের সম্ভাবনা

*জমির উপযুক্ততা:* পরিবেশগত, কৃষিগত এবং প্রযুক্তিগত মানদণ্ড প্রয়োগ করে GIS-ভিত্তিক জাতীয় সমীক্ষায় ৪৭.৩৫ মিলিয়ন হেক্টর ‘সীমাবদ্ধ কৃষিজমি’কে কৃষি-ভোল্টেইকস (AgriPV)-এর উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই মূল্যায়ন একটি সতর্ক ও জলবায়ু-সহনশীল ভূমি-ভিত্তির প্রতিফলন।

*ফসলের সামঞ্জস্য:* ফল, শাকসবজি, মশলা এবং ঔষধি উদ্ভিদ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনার পাশাপাশি, চাষের জন্য সম্ভাবনাময় বিকল্প।

*উচ্চ সম্ভাবনাময় রাজ্য:* মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক এবং উত্তরপ্রদেশ—এই রাজ্যগুলি সম্মিলিতভাবে ভারতের আনুমানিক কৃষি-ভোল্টেইকস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভাবনার প্রায় ৫০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। কৃষিজমির প্রাপ্যতা, সৌরশক্তির উৎস এবং কৃষি-জলবায়ুগত পরিস্থিতির অনুকূল সমন্বয় এই সম্ভাবনার প্রধান কারণ।

*মাঝারি সম্ভাবনাময় রাজ্য:* ওড়িশা, তামিলনাড়ু, কেরল, তেলঙ্গানা, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গে কৃষি-ভোল্টেইকসের মাঝারি সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহৎ পরিসরে কৃষি-ভোল্টেইকস স্থাপনের জন্য ভারতের দক্ষিণ, পশ্চিম এবং মধ্যাঞ্চলে সৌর বিকিরণ, জমির প্রাপ্যতা এবং উদ্যানপালনের ব্যাপ্তির অনুকূল সমন্বয় দেখা যায়।

কৃষি-ভোল্টেইকসের বিকাশে সরকারি উদ্যোগ

দেশজুড়ে কৃষি-ভোল্টেইকসের গ্রহণযোগ্যতা এবং সম্প্রসারণ বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারত সরকার বিভিন্ন নীতি, গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং বাস্তবায়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী কিষান উর্জা সুরক্ষা এবং উত্থান মহাভিযান (PM KUSUM)

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া এই প্রকল্প কৃষিক্ষেত্রে সৌরশক্তির ব্যবহারকে উৎসাহিত করে, ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমায় এবং কৃষকদের আয়ের উৎস বহুমুখী করার সুযোগ সৃষ্টি করে।

এই প্রকল্পে প্রায় ৩৪,৪২২ কোটি টাকার কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কৃষি পাম্পের সৌরীকরণের মাধ্যমে কৃষিকাজের সঙ্গে সৌরশক্তির সংযুক্তিকরণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

PM KUSUM প্রকল্প

কৃষি-ভোল্টেইকসের উৎকর্ষ কেন্দ্র (Centre of Excellence on Agrivoltaics)

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ সোলার এনার্জি (NISE), ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের (ICAR) ইন্ডিয়ান অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় কৃষি-ভোল্টেইকসের গবেষণা, প্রদর্শন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য একটি উৎকর্ষ কেন্দ্র (CoE) প্রতিষ্ঠা করেছে।

এই কেন্দ্রের অধীনে একাধিক পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিয়ান অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ১০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কৃষি-ভোল্টেইকস ব্যবস্থা স্থাপন উল্লেখযোগ্য।

ইন্ডিয়া এগ্রিভোল্টেইকস অ্যালায়েন্স

ন্যাশনাল সোলার এনার্জি ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (NSEFI)-এর নেতৃত্বে গঠিত ইন্ডিয়া এগ্রিভোল্টেইকস অ্যালায়েন্স (IAA) হল একটি বহু-অংশীদারভিত্তিক মঞ্চ, যা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কৃষিকাজের জন্য জমির দ্বৈত ব্যবহারের প্রসারে কাজ করে।

২০২৩ সালে চালু হওয়ার পর এই অ্যালায়েন্সের সদস্যসংখ্যা ৪০-এরও বেশি হয়েছে। এটি কৃষি-ভোল্টেইকসের উন্নয়নে নীতি প্রণয়ন, গবেষণা এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রক ও শিল্পক্ষেত্রের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে।

এই জোট জ্ঞানভিত্তিক উপকরণ তৈরি করে, পাইলট প্রকল্পকে উৎসাহিত করে এবং বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়নযোগ্য ব্যবসায়িক মডেলকে সহায়তা করে। এর লক্ষ্য হল জমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষকদের আয়ের উৎস বহুমুখীকরণ এবং গ্রামীণ অঞ্চলে শক্তির প্রাপ্যতা আরও শক্তিশালী করা।

রাজ্যভিত্তিক উদ্যোগ

বিভিন্ন রাজ্য নিজ নিজ অঞ্চলের উপযোগী প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে সৌরশক্তির ব্যবহারকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী সৌর কৃষি বাহিনী যোজনা ২.০, মহারাষ্ট্র

এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩৫,০০০ একর সরকারি ও বেসরকারি জমিতে ১৬,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হল কৃষি উপভোক্তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহে সহায়তা করা।

কিষান সূর্যোদয় যোজনা, গুজরাট

কৃষকদের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। কৃষিকাজের জন্য দিনের বেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।

পর্যায়ক্রমে সৌরশক্তি এবং অন্যান্য অপ্রচলিত শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র চালু করার মাধ্যমে প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

সূর্য রাইথা প্রকল্প, কর্ণাটক

এই প্রকল্প সৌরচালিত সেচ পাম্পের ব্যবহারকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং কৃষকদের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে আয় করার সুযোগ দেয়। সৌর পাম্প কৃষকদের ফসলে জল দেওয়ার জন্য শক্তি সরবরাহ করতে পারে এবং ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করে।

কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকার নীতিগত পদক্ষেপ ও নির্দিষ্ট কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে সৌরশক্তির ব্যবহারকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই উদ্যোগগুলি একই স্থানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৃষি উৎপাদনের সমন্বয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে ভারতের কৃষি-ভোল্টেইকস ক্ষেত্রকে বিকশিত করছে।

কৃষি ও পরিচ্ছন্ন শক্তির সমন্বয়ে সমৃদ্ধির পথে

কৃষি-ভোল্টেইকস ভারতের কৃষকদের জীবিকা শক্তিশালী করার পাশাপাশি, পরিবেশগত স্থায়িত্বের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের সমন্বয়ে জমির আরও দক্ষ ব্যবহার, উপযুক্ত পরিস্থিতিতে জল সংরক্ষণ এবং আর্থিক স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পিএম-কুসুমের মতো ভারত সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কৃষি-ভোল্টেইকস সম্প্রসারণের প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলি গ্রামীণ উন্নয়নের সঙ্গে পরিচ্ছন্ন শক্তির লক্ষ্যকে সংযুক্ত করার প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

এই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন যত বাড়বে, ততই স্থানীয় পরিস্থিতির উপযোগী নকশা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং কৃষকদের অংশগ্রহণ কৃষি উৎপাদনশীলতা ও শক্তির চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই পদ্ধতি ভারতের জন্য আরও স্থিতিস্থাপক, সুস্থায়ী এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।

তথ্যবিবরণী:

Ministry of New and Renewable Energy

Department of Agriculture and Farmers Welfare

Government of Maharashtra

Government of Gujarat

Government of Karnataka

The Energy and Resources Institute(TERI)

India Agrivoltaics Alliance

India Brand Equity Foundation

US Department of Energy

Click Here for pdf file.

*****

PS/AL


(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2331647) ভিজিটরদের কাউন্টার : 7
এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন এভাবে: English , Urdu , Bengali , Gujarati