উপ-রাষ্ট্রপতিরসচিবালয়
azadi ka amrit mahotsav

উপরাষ্ট্রপতি শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন আইআইপিএ-এর ৭২তম বার্ষিক সাধারণ সভায় ভাষণ দেন; ‘বিকশিত ভারত @ ২০৪৭’ লক্ষ্য অর্জনের জন্য জনপ্রশাসনে রূপান্তরমূলক সংস্কারের আহ্বান জানান

প্রকাশিত: 31 OCT 2026 4:55PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

 

ভারতের উপরাষ্ট্রপতি এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইআইপিএ)-এর সভাপতি শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন আজ নতুন দিল্লিতে আয়োজিত আইআইপিএ-এর সাধারণ পরিষদের ৭২তম বার্ষিক সভায় ভাষণ দেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা আইআইপিএ কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি ড. জিতেন্দ্র সিং; আইআইপিএ-এর মহাপরিচালক ড. সুরেন্দ্র কুমার বাগদে; সাধারণ পরিষদ ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ; অনুষদ সদস্যবৃন্দ; আঞ্চলিক ও স্থানীয় শাখাগুলোর প্রতিনিধিরা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

‘রাষ্ট্রীয় একতা দিবস’ এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫১তম জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে এই উপলক্ষটির কাকতালীয় মিলের ওপর আলোকপাত করে, উপরাষ্ট্রপতি ভারতের ‘লৌহমানব’-এর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি সর্দার প্যাটেলকে ভারতের রাজনৈতিক একীকরণের রূপকার হিসেবে অভিহিত করেন, যিনি শত শত দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করে একটি অখণ্ড জাতি গঠন করেছিলেন।

 

উপরাষ্ট্রপতি ২০২৬ সালে আইআইপিএ-এর গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলোর প্রশংসা করেন। এর মধ্যে রয়েছে নতুনভাবে সাজানো ৫২তম ‘অ্যাডভান্সড প্রফেশনাল প্রোগ্রাম’, সুসংগঠিত ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি এবং সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিসেস ও সেন্ট্রাল সিভিল অ্যাকাউন্টস সার্ভিসের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগগুলো প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও আর্থিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি ড. জিতেন্দ্র সিং-এর দিকনির্দেশনা ও সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং আইআইপিএ-কে জনপ্রশাসনের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মহাপরিচালক, অনুষদ সদস্য ও কর্মীদের প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

জনপ্রশাসন বর্তমানে এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করে শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন বলেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় দ্রুততা, নাগরিক-কেন্দ্রিকতা, প্রযুক্তিনির্ভরতা, তথ্য-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ফলাফল-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে। উপরাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, সুশাসনকে কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাপকাঠিতে বিচার করা উচিত নয়; বরং মানুষের সুখ, জীবনযাত্রার মান এবং সামগ্রিক কল্যাণের ওপর এর প্রভাবের ভিত্তিতেই তা মূল্যায়ন করা উচিত।

 

দারিদ্র্য বিমোচনে ভারতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে উপরাষ্ট্রপতি জানান, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে ২৫ কোটিরও বেশি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার বাইরে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। তিনি একে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেন, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দীর্ঘস্থায়ী প্রচেষ্টার প্রতিফলন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, শাসনব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং উন্নত সুযোগ-সুবিধায় রূপান্তরিত করা।

 

উপরাষ্ট্রপতি গুরুত্বারোপ করেন যে, কার্যকর জনপ্রশাসনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার এবং জেলা-স্তরের প্রশাসনের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয় থাকা আবশ্যক। তিনি বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর যখন একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষ্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করে, তখনই শাসনব্যবস্থা অর্থবহ ফলাফল প্রদান করতে পারে।

 

উপরাষ্ট্রপতি পরিবেশ সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের কল্যাণের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের বিচক্ষণ ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।

 

উপরাষ্ট্রপতি আইআইপিএ-কে ‘বিকশিত ভারত @ ২০৪৭’-এর লক্ষ্য অর্জনে সিভিল সার্ভিস বা অসামরিক পরিষেবার পরিবর্তনশীল ভূমিকার ওপর আলোকপাত করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতের প্রশাসনিক কাঠামো মূলত এমন এক সময়ে গড়ে উঠেছিল যখন দেশটি ছিল প্রধানত গ্রামীণ, আর জীবিকার প্রধান উৎস ছিল কৃষি। তবে, বর্তমানে দেশ দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; তাই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাকেও নতুন করে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। তিনি আইআইপিএ-কে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিতে এবং পরবর্তী প্রজন্মের সিভিল সার্ভেন্টদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।

 

নিজের বক্তব্যের শেষে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিকশিত ভারত @ ২০৪৭’-এর পথে ভারতের যাত্রায় আইআইপিএ-এর ওপর একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে। তিনি আইআইপিএ এবং এর সদস্যদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে ভারতের শাসন কাঠামো দায়িত্বশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক, নৈতিক এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী হয়ে ওঠে।

 

এই অনুষ্ঠানে উপরাষ্ট্রপতি ৭২তম বার্ষিক সাধারণ সভায় ‘পল এইচ. অ্যাপলবি অ্যাওয়ার্ড’, শিক্ষাগত উৎকর্ষের জন্য ‘ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘সেরা আইআইপিএ শাখা’ পুরস্কার প্রদান করেন। এর মাধ্যমে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইআইপিএ) এবং জনপ্রশাসন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের স্বীকৃতি জানানো হয়।

 

 

 

MH/SB/AS


(রিলিজ আইডি: 2331251) ভিজিটরের কাউন্টার : 11
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Gujarati , Tamil , Malayalam