পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন, ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত গ্রাম স্বরাজ যোজনা’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 28 OCT 2026 3:57PM by PIB Agartala

নয়াদিল্লী, ২৮ অক্টোবর ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির পৌরোহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত গ্রাম স্বরাজ যোজনা’ নামে একটি কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাধীন প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। বিকশিত ভারত গড়ার জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই প্রকল্পটি গ্রামীণ শাসনব্যবস্থার রূপান্তরের লক্ষ্যে এক নতুন প্রজন্মের উদ্যোগ। ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই প্রকল্পটি কার্যকর থাকবে, যা ষোড়শ অর্থ কমিশনের মেয়াদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আর্থিক প্রভাব:

এই প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ৭,৩৯৫.৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ৪,৮৬৯.৪৮ কোটি টাকা এবং রাজ্য সরকারের অংশ ২,৫২৬.০৭ কোটি টাকা।

উপকৃত হবেন যাঁরা:

দেশের ২.৫৫ লক্ষেরও বেশি পঞ্চায়েত ও প্রথাগত স্থানীয় স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩২ লক্ষ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, পঞ্চায়েতের কর্মী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই প্রকল্পের সরাসরি সুবিধাভোগী হবেন। সচেতনতা বৃদ্ধির প্রতিটি কর্মসূচির মাধ্যমে অন্তত ১ কোটি নাগরিকের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাসহ প্রধান প্রভাব:

১. অংশগ্রহণমূলক ও তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতি বছর ই-গ্রামস্বরাজ পোর্টালে ২.৫৫ লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েতের সামগ্রিক গ্রাম পঞ্চায়েত উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করা হবে। এর মাধ্যমে গ্রামের অগ্রাধিকার, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি দফতরের উদ্যোগ এবং উপলব্ধ সম্পদের সমন্বয় ঘটানো হবে।

২. বিদ্যমান ডিজিটাল ও জনসংযোগ মাধ্যম, গ্রামসভা এবং পঞ্চায়েতের অন্যান্য মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রতিটি সমন্বিত কর্মসূচির মাধ্যমে অন্তত ১ কোটি নাগরিকের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও জাতীয় উদ্যোগ সম্পর্কে মানুষের ধারণা স্পষ্ট হবে এবং স্থানীয় স্তরে সেগুলির প্রভাব নিয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনায় উৎসাহ মিলবে।

৩. সামগ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সস্থায়ী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে প্রতি বছর প্রায় ৩২ লক্ষ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, পঞ্চায়েত কর্মী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে। এ জন্য প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

৪. প্রতি বছর অন্তত ২.৫৫ লক্ষ পঞ্চায়েতের অনলাইন অডিট পরিকল্পনা তৈরি এবং ‘অডিটঅনলাইন’ পোর্টালের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট অডিট সম্পন্ন করতে সহায়তা করা হবে। পাশাপাশি হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি, আর্থিক তথ্যের প্রকাশ্য ঘোষণা এবং নিজস্ব রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধির মাধ্যমে উপলব্ধ তহবিলের ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে পঞ্চায়েতগুলির আর্থিক স্বনির্ভরতা আরও শক্তিশালী হবে।

এই প্রকল্পের আওতায় কোনও স্থায়ী পদ সৃষ্টি করা হবে না। তবে প্রকল্পের লক্ষ্য পূরণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে রাজ্য, জেলা ও ব্লক স্তরে প্রয়োজন অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করা যেতে পারে।

যে সমস্ত রাজ্য ও জেলায় প্রকল্পটি কার্যকর হবে:

এই প্রকল্প দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কার্যকর হবে। পাশাপাশি, সংবিধানের নবম ভাগের  আওতাভুক্ত নয়, এমন এলাকায় যেখানে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা নেই, সেখানকার প্রথাগত গ্রামীণ স্থানীয় স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলিও এই প্রকল্পের আওতায় আসবে।

বিস্তারিত বিবরণ:
১. তৃণমূল স্তরে জাতীয় রূপান্তরমূলক সংস্কারের সুফল গ্রহণের সুযোগ

গত ১২ বছরে গৃহীত বিভিন্ন জাতীয় সংস্কার ও সরকারি উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, জনপরিষেবার উন্নতি এবং গ্রামীণ বিকাশের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। এই সুযোগগুলিকে কাজে লাগাতে তৃণমূল স্তরে সচেতন অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন উদ্যোগের প্রভাব বিবেচনা করে স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করা জরুরি।

ষোড়শ অর্থ কমিশন ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত গ্রামীণ স্থানীয় স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য প্রায় ৪.৩৫ লক্ষ কোটি টাকার অনুদানের সুপারিশ করেছে। এই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পঞ্চায়েতগুলির জাতীয় অগ্রাধিকার, সরকারি প্রকল্প, উপলব্ধ সম্পদ এবং স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশার মধ্যে সমন্বয় সাধনের সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।

‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত গ্রাম স্বরাজ যোজনা’ সামগ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয়, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গ্রামসভার মাধ্যমে তথ্যভিত্তিক আলোচনায় সহায়তা করবে। এর ফলে জাতীয় স্তরের উদ্যোগ ও বর্ধিত আর্থিক সম্পদকে স্থানীয় প্রয়োজনের উপযোগী উন্নয়নের কাজে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে, যা বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

২. স্থানীয় শাসনব্যবস্থার কেন্দ্র হিসেবে গ্রাম পঞ্চায়েত

‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত গ্রাম স্বরাজ যোজনা’ গ্রাম পঞ্চায়েতকে সামগ্রিক স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলির সমন্বয়ের কেন্দ্রে স্থাপন করবে।

গ্রামের অগ্রাধিকার, প্রাসঙ্গিক সরকারি উদ্যোগ এবং উপলব্ধ সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধনে পঞ্চায়েতগুলিকে সহায়তা করা হবে। এর ফলে গ্রামীণ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পঞ্চায়েতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিকশিত ভারত গড়ার জাতীয় ভাবনার সঙ্গে গ্রামীণ জনসমাজের চাহিদা, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার সংযোগ স্থাপন করা হবে।

৩. গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে সামগ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন

এই প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিষ্ট সমস্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও দপ্তর এবং রাজ্য সরকারগুলির পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হবে। এর মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সামগ্রিক গ্রাম পঞ্চায়েত উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। এর ফলে পঞ্চায়েত ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলি উন্নয়নের ঘাটতিগুলি চিহ্নিত করতে, বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে এবং কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের অনুদান-সহ উপলব্ধ সম্পদের আরও কার্যকর ব্যবহার করতে পারবে।তবে, পৃথক সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বর্তমানে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিতে যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে।

- প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের উন্নয়নের চিত্র সহজে অনুধাবনের ব্যবস্থা: ই-গ্রামস্বরাজ এবং বিদ্যমান ই-পঞ্চায়েত ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে এই প্রকল্পের আওতায় সরকারি প্রকল্প, সুবিধাভোগী, প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, জনসম্পদ এবং উপলব্ধ সম্পদ-সংক্রান্ত তথ্য একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হবে। এর ফলে পঞ্চায়েতগুলি উন্নয়নের ঘাটতি চিহ্নিত করতে, স্থানীয় চাহিদা পূরণ করতে এবং পরিকল্পনা প্রণয়ন, সমন্বয় ও নজরদারি ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারবে।

- জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে স্থানীয় চাহিদার সংযোগ স্থাপন: সরকারি প্রকল্প ও জাতীয় উদ্যোগ সম্পর্কে সহজবোধ্য ভাষায় তথ্য পৌঁছে দিতে পিএম ভিজিএসওয়াই বিদ্যমান প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল ও জনসংযোগ মাধ্যমগুলিকে কাজে লাগাবে। এর মধ্যে রয়েছে পঞ্চম (PANCHAM)—১৭টি ভারতীয় ভাষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত, বহুভাষিক ও দ্বিমুখী যোগাযোগের একটি প্ল্যাটফর্ম। গ্রামসভা এবং পঞ্চায়েতের বিভিন্ন মঞ্চে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে স্থানীয় চাহিদা ও গ্রামের উন্নয়ন লক্ষ্যের সংযোগ স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হবে।

- পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষতা বৃদ্ধি: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কার্যকর ব্যবহার, সরকারি প্রকল্প ও উপলব্ধ সম্পদ-সংক্রান্ত তথ্যের বিশ্লেষণ, সামগ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি সহায়তা করবে। এর ফলে প্রাপ্ত তথ্য ও সচেতন আলোচনার ভিত্তিতে পঞ্চায়েতগুলি স্থানীয় প্রয়োজনের উপযোগী উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে।

- উপলব্ধ সম্পদের স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবহার: অর্থ কমিশনের অনুদান ও অন্যান্য তহবিলের যথাযথ ব্যবহার, নিজস্ব রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং অনলাইন হিসাবরক্ষণ, অডিট ও আর্থিক তথ্যের প্রকাশ্য ঘোষণার ক্ষেত্রে পঞ্চায়েতগুলির সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হবে। এর ফলে সম্পদের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, স্থানীয় উন্নয়নের ঘাটতি পূরণে সহায়তা মিলবে এবং পঞ্চায়েতগুলিতে জবাবদিহি ও আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি পাবে।

বাস্তবায়ন কৌশল:

এই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের লক্ষ্য ও নির্দেশিকা অনুসারে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা জমা দেবে। এই পরিকল্পনায় প্রস্তাবিত কার্যক্রম, অগ্রাধিকার এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি উল্লেখ থাকবে।

নির্ধারিত কেন্দ্রীয় ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি প্রযোজ্য পদ্ধতি ও নিয়ম অনুসারে এই কর্মপরিকল্পনাগুলি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেবে।

কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসন নিজ নিজ দায়িত্বের আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এই প্রক্রিয়ায় পারস্পরিক সমন্বয়, প্রযুক্তিগত সহায়তা, নজরদারি এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকল্পের বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করা হবে।

তৃণমূল স্তরে প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো হবে।

****

PS/SG
 


(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2330077) ভিজিটরদের কাউন্টার : 11
এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন এভাবে: Kannada , Malayalam , English , Urdu , हिन्दी , Marathi , Punjabi , Gujarati , Tamil