প্রকাশিত:
25 OCT 2026 9:43AM by PIB Kolkata
২৫ অক্টোবর, ২০২৬
রামসার কনভেনশনের আওতায় আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমির ক্ষেত্রে ভারতে এই স্থানকেন্দ্রিক পরিমাপ ২০১৪ সালের পর থেকে প্রায় চার গুণ সম্প্রসারিত হয়েছে। নির্ধারিত জলাভূমির সংখ্যা ২৬ থেকে বেড়ে ১০৩ হয়েছে, যা ১৩.৮৭ লক্ষ হেক্টরেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। জলাভূমির সংখ্যার নিরিখে এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে তৃতীয় স্থানে থাকা এই বাস্তুতন্ত্রগুলি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন্যার প্রভাব প্রশমন, ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণ এবং জীবিকা নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জলাভূমি (সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা) বিধি, ২০১৭-র ভিত্তিতে ভারত সরকার জলজ বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের জাতীয় পরিকল্পনা (এনপিসিএ), অমৃত ধরোহর, মিষ্টি এবং মিশন সহভাগিতার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও জন-অংশগ্রহণের ভিত্তিতে সংরক্ষণ কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকে।
ভারতে রামসার সাইটগুলি - এক নজরে
রামসার কনভেনশন অনুযায়ী, “জলাভূমি বলতে জলাভূমি, জলসিক্ত তৃণভূমি, পিটভূমি বা জলপূর্ণ এলাকা বোঝায়, যেগুলি প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম, স্থায়ী বা অস্থায়ী হতে পারে। এই এলাকায় স্থির বা প্রবাহিত, মিষ্টি, আধা-লবণাক্ত বা লবণাক্ত জল থাকতে পারে। এর মধ্যে এমন সামুদ্রিক জলাঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত, যেখানে ভাটার সময় জলের গভীরতা ছয় মিটারের বেশি নয়।” স্থলভাগ ও জলভাগের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী জলাভূমি মিষ্টি জল সঞ্চয় করে, ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণ ঘটায়, বন্যার প্রভাব প্রশমিত করে এবং মৎস্যচাষ ও কৃষিকাজকে সহায়তা করে। এগুলি পরিযায়ী পাখি ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল হিসেবেও কাজ করে। ফলে, জলাভূমি পৃথিবীর অন্যতম উৎপাদনশীল বাস্তুতন্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশ্বজুড়ে এই জলাভূমিগুলি কনভেনশন অন ওয়েটল্যান্ডস বা রামসার কনভেনশন নামক একটি আন্তঃসরকারি চুক্তির আওতায় সুরক্ষিত। ১৯৭১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ইরানের রামসারে এই চুক্তি গৃহীত হয় এবং ১৯৭৫ সালে তা কার্যকর হয়। এ বছর অক্টোবর পর্যন্ত এই কনভেনশনের সদস্যপক্ষের সংখ্যা ১৭২ এবং বিশ্বজুড়ে নির্ধারিত রামসার সাইটের সংখ্যা ২,৫৩৬-এরও বেশি।
বহু জলাভূমির আবাসস্থল ভারত ১৯৮২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এই কনভেনশনের সদস্যপদ গ্রহণ করে। তারপর থেকে দেশে রামসার সাইটের নেটওয়ার্ক ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে, ভারতে ১০৩টি রামসার সাইট রয়েছে, যা ২০১৪ সালের মাত্র ২৬টি সাইটের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। সাইটের সংখ্যার নিরিখে ভারতের এই নেটওয়ার্ক এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। বস্তুত, ২৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে এই সাইটগুলি সম্মিলিতভাবে ১৩.৮৭ লক্ষ হেক্টরেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
রামসার সাইটগুলি সম্পর্কে ধারণা
রামসার কনভেনশনের আওতায় আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি হিসেবে স্বীকৃত জলাভূমিকে রামসার সাইট বলা হয়। এই সাইটগুলি তাদের পরিবেশগত, উদ্ভিদবৈজ্ঞানিক, প্রাণীবৈজ্ঞানিক, হ্রদবিজ্ঞান-সংক্রান্ত বা জলবিজ্ঞান-সংক্রান্ত গুরুত্বের জন্য স্বীকৃত। রামসার কনভেনশন তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এগুলি হল- সমস্ত জলাভূমির বিচক্ষণ ব্যবহার, রামসার স্থানগুলির স্বীকৃতি প্রদান ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং জলাভূমি সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
কিভাবে একটি জলাভূমিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়
ভারতে এই প্রক্রিয়া শুরু হয় রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসনের উপযুক্ত জলাভূমি চিহ্নিত করার মাধ্যমে। এরপর, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক অনুমোদন প্রক্রিয়ার সমন্বয় করে এবং প্রস্তাবটি রামসার সচিবালয়ে পাঠায়।
স্বীকৃতি প্রদানের মানদণ্ড
আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য কোনও জলাভূমিকে নয়টি মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত একটি পূরণ করতে হয়। এই মানদণ্ডগুলি দুটি ভাগে বিভক্ত- জলাভূমির ধরন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ।
|
গোষ্ঠী
|
মানদণ্ড
|
আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন হিসেবে বিবেচিত হওয়ার জন্য জলাভূমির যে বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত
|
|
গোষ্ঠী A: জলাভূমির ধরন
|
মানদণ্ড ১
|
উপযুক্ত জীব-ভৌগোলিক অঞ্চলে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক বা প্রায়-প্রাকৃতিক জলাভূমির ধরনের কোনও প্রতিনিধিত্বমূলক, বিরল বা অনন্য উদাহরণ ধারণ করলে।
|
|
গোষ্ঠী B: জীববৈচিত্র্য
|
প্রজাতি ও পরিবেশগত সম্প্রদায়ভিত্তিক মানদণ্ড
|
|
|
|
মানদণ্ড ২
|
বিপন্ন, বিপদাপন্ন বা চরম বিপদাপন্ন প্রজাতি কিংবা বিপন্ন পরিবেশগত সম্প্রদায়কে আশ্রয় দিলে।
|
|
|
মানদণ্ড ৩
|
কোনও নির্দিষ্ট জীবভৌগোলিক অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ ও/অথবা প্রাণী প্রজাতির জনসংখ্যাকে আশ্রয় দিলে।
|
|
|
মানদণ্ড ৪
|
উদ্ভিদ ও/অথবা প্রাণী প্রজাতির জীবনচক্রের কোনও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তাদের আশ্রয় দিলে অথবা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করলে।
|
|
|
জলচর পাখিভিত্তিক নির্দিষ্ট মানদণ্ড
|
|
|
|
মানদণ্ড ৫
|
নিয়মিতভাবে ২০,০০০ বা তার বেশি জলচর পাখিকে আশ্রয় দিলে।
|
|
|
মানদণ্ড ৬
|
কোনও এক প্রজাতি বা উপপ্রজাতির জলচর পাখির জনসংখ্যার অন্তত ১ শতাংশ পাখিকে নিয়মিতভাবে আশ্রয় দিলে।
|
|
|
মাছভিত্তিক নির্দিষ্ট মানদণ্ড
|
|
|
|
মানদণ্ড ৭
|
দেশীয় মাছের উপপ্রজাতি, প্রজাতি বা গোত্রের উল্লেখযোগ্য অংশ, তাদের জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়, প্রজাতিগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক এবং/অথবা এমন মাছের জনসংখ্যাকে আশ্রয় দিলে, যা জলাভূমির সুবিধা ও/অথবা মূল্যের প্রতিনিধিত্ব করে এবং এর ফলে বিশ্বব্যাপী জীববৈচিত্র্যে অবদান রাখে।
|
|
|
মানদণ্ড ৮
|
মাছের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উৎস, প্রজননক্ষেত্র, পোনা প্রতিপালনক্ষেত্র এবং/ অথবা পরিযানপথ হিসেবে কাজ করলে, যার ওপর জলাভূমির ভিতরে বা অন্যত্র মাছের মজুত নির্ভরশীল।
|
|
|
অন্যান্য শ্রেণীভুক্ত প্রাণীভিত্তিক নির্দিষ্ট মানদণ্ড
|
|
|
|
মানদণ্ড ৯
|
জলাভূমনির্ভর কোনও এক প্রজাতি বা উপপ্রজাতির অ-পক্ষী প্রাণীর জনসংখ্যার অন্তত ১ শতাংশ প্রাণীকে নিয়মিতভাবে আশ্রয় দিলে।
|
আপনি কি জানেন?
ট্যাক্সন (Taxon) বলতে অভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে একসঙ্গে শ্রেণীবদ্ধ জীবের একটি গোষ্ঠীকে বোঝায়। ট্যাক্সা (Taxa) হল এর বহুবচন, যা একাধিক গোষ্ঠীকে নির্দেশ করে। উদাহরণস্বরূপ, গোলাপের মতো ফুলধারী উদ্ভিদ একটি উদ্ভিদ ট্যাক্সন গঠন করে, অন্যদিকে প্রজাপতি পতঙ্গ ট্যাক্সনের অন্তর্ভুক্ত। জীববৈচিত্র্যের প্রধান ট্যাক্সাগুলির মধ্যে রয়েছে উভচর, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী প্রাণী।
রামসার তালিকায় জলাভূমিকে অন্তর্ভুক্ত করার সুফল
রামসার তালিকায় জলাভূমিকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং রামসার কনভেনশনের অঙ্গীকারগুলি পূরণ করা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টায় অবদান রাখে। রামসার স্থানগুলি কেবল কোনও একটি দেশের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বীকৃত। রামসার সাইটগুলিকে স্বীকৃতি প্রদান এবং সেগুলির সংরক্ষণ ও বিচক্ষণ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে-
- আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ সৃষ্টি করে: জলাভূমি সংরক্ষণ ও বিচক্ষণ ব্যবহার সংক্রান্ত প্রধান আন্তঃ-সরকারি মঞ্চে দেশগুলিকে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরার সুযোগ করে দেয়। জিম্বাবোয়ের ভিক্টোরিয়া ফলসে অনুষ্ঠিত রামসার কনভেনশনের পক্ষভুক্ত দেশগুলির ১৫তম সম্মেলনে ভারত ‘জলাভূমির বিচক্ষণ ব্যবহারের জন্য সুস্থায়ী জীবনযাত্রার প্রসার’ শীর্ষক একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে। সম্মেলনে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। রামসার কনভেনশনের ১৭২টি সদস্যপক্ষ, ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশীদার এবং অন্যান্য পর্যবেক্ষক এই প্রস্তাবকে বিপুল সমর্থন জানান।
- দৃশ্যমানতা ও স্বীকৃতি বৃদ্ধি করে: রামসার সাইটগুলির আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও স্বীকৃতি বাড়ায়। এর ফলে সেগুলির সংরক্ষণ ও বিচক্ষণ ব্যবহারের পক্ষে সমর্থন আরও জোরদার হতে পারে।
- আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও নির্দেশিকা পাওয়ার সুযোগ করে দেয়: আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি চিহ্নিত করার জন্য স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য পাওয়ার সুযোগ-ও করে দেয়। পাশাপাশি, জলাভূমির বিচক্ষণ ব্যবহার এবং ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রেও নির্দেশিকা প্রদান করে।
- বিশেষজ্ঞদের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ করে দেয়: জাতীয় স্তরে এবং নির্দিষ্ট জলাভূমির ক্ষেত্রে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ করে দেয়। প্রয়োজন অনুযায়ী, রামসার সচিবালয়, তার সহযোগী সংস্থা এবং রামসার উপদেষ্টা মিশনের মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া যায়।
- আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তার প্রসার ঘটায়: জলাভূমি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে। পাশাপাশি, কনভেনশনের ক্ষুদ্র অনুদান কর্মসূচি এবং বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক অর্থায়নকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে প্রকল্পের জন্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগও করে দিতে পারে।
স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রতিশ্রুতি
স্বীকৃতি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জলাভূমি ও তার সম্পদের বিচক্ষণ ব্যবহারের অঙ্গীকার করে। জলাভূমি (সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা) বিধি, ২০১৭-এর আওতায় সংশ্লিষ্ট সাইটটিকে বিজ্ঞাপিত বলে গণ্য করা হয়। পাশাপাশি, নির্দেশিকায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাসহ এই বিধির অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞাপিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতি ছয় বছর অন্তর রামসার তথ্যপত্র হালনাগাদ করতে হয় এবং সাইটটির পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হয়। এই মানদণ্ড ও অঙ্গীকারগুলির ভিত্তিতে ভারত রামসার সাইটগুলির একটি বৃহৎ ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৈচিত্র্যময় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
ভারতের রামসার সাইটগুলি - ২৬ থেকে বেড়ে ১০৩
ভারতের রামসার স্থানগুলি উচ্চ পার্বত্য হ্রদ, নদীর প্লাবনভূমি, ম্যানগ্রোভ অরণ্য, প্রবাল প্রাচীর, গ্রামীণ জলাশয় এবং শহুরে জলাভূমি জুড়ে বিস্তৃত। তামিলনাড়ুতে সর্বাধিক ২০টি রামসার সাইট রয়েছে। এরপরেই রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, যেখানে রয়েছে ১৪টি রামসার স্থান। এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু ২০২৫ সালেই ১১টি জলাভূমি এই তালিকায় যুক্ত হয়, ফলে, দেশে মোট রামসার সাইটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৬। ২০২৬ সালের জুন মাসে উত্তরপ্রদেশের সুরহা তাল ১০০তম রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং আগস্ট মাসে গ্লাও হ্রদ ১০১তম রামসার সাইট হয়। ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতে রামসার স্থানের সংখ্যা বেড়ে ১০৩ হয়েছে। তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন হল চণ্ডীগড়ের সুখনা জলাভূমি এবং উত্তরপ্রদেশের সৌজ ঝিল।
আপনি কি জানেন?
প্রথম রামসার সাইটগুলি
ওড়িশার চিলিকা হ্রদ এবং রাজস্থানের কেওলাদেও জাতীয় উদ্যান ১৯৮১ সালের ১ অক্টোবর ভারতের প্রথম রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সফল পরিবেশগত পুনরুদ্ধারের পর ২০০২ সালে চিলিকা হ্রদকে মন্ট্রো রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে চিলিকা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রামসার জলাভূমি সংরক্ষণ পুরস্কার লাভ করে।
মন্ট্রো রেকর্ড কী: এটি এমন রামসার স্থানগুলির একটি তালিকা, যেখানে পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটেছে, ঘটছে অথবা ভবিষ্যতে ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। যে জলাভূমিগুলির সংরক্ষণে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন, এই তালিকা সেগুলিকে চিহ্নিত করে এবং পর্যবেক্ষণ, সংশোধনমূলক পদক্ষেপ ও সম্পদ বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্দেশনা দেয়। সংশ্লিষ্ট দেশ ও প্রাসঙ্গিক বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে স্থানগুলিকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সফল সংশোধনমূলক পদক্ষেপের প্রমাণ নথিভুক্ত হলে অথবা পরিবেশগত পরিবর্তনের আশঙ্কা আর না থাকলে এই স্থানগুলিকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে।
ভারতের রামসার সাইট বা স্থানগুলির সর্বশেষ সংযোজন
সুখনা জলাভূমি (চণ্ডীগড়) শিবালিক পাহাড়ের পাদদেশে ১৯৫৮ সালে নির্মিত একটি কৃত্রিম জলাধার। এটি প্যালাসের ফিশ ঈগল, কমন পোচার্ড এবং ব্ল্যাক পন্ড টার্টলের মতো বিপন্ন প্রজাতির আশ্রয়স্থল। মধ্য এশীয় পরিযানপথ ধরে যাতায়াতকারী পরিযায়ী পাখিরা খাদ্য সংগ্রহ ও শীতকাল যাপনের জন্য এই জলাভূমির ওপর নির্ভরশীল।
সৌজ ঝিল (উত্তরপ্রদেশ) মইনপুরী জেলার একটি অগভীর প্লাবনভূমির হ্রদ, যেখানে নিয়মিতভাবে ৩০,০০০-এরও বেশি জলচর পাখির সমাগম ঘটে। এটি সারস ক্রেন এবং বৃহৎ স্পটেড ঈগলের মতো বিপন্ন পাখিদের বাসা বাঁধা ও খাদ্য সংগ্রহের উপযুক্ত ক্ষেত্র প্রদান করে। এখানকার পদ্ম এবং বুনো আখের ঘন উদ্ভিদরাজি বাসা বাঁধা পাখি, মাছ ও উভচর প্রাণীদের আড়াল ও আশ্রয় জোগায়।
রাজ্যভিত্তিক রামসার স্থানগুলির তালিকা
নিচের সারণিতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অনুযায়ী ১০৩টি রামসার সাইটের তালিকা এবং সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সেগুলির প্রধান গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
|
রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল
|
রামসার সাইট
|
বিশেষ গুরুত্ব
|
|
অন্ধ্রপ্রদেশ
|
কোলেরু হ্রদ
|
মিষ্টি জলের হ্রদ; ধূসর পেলিক্যান ও পরিযায়ী জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
অরুণাচল প্রদেশ
|
গ্লাও হ্রদ
|
পূর্ব হিমালয়ের হ্রদ; ১৫০টিরও বেশি বৃক্ষ প্রজাতি ও ৪৯টি অর্কিড প্রজাতি
|
|
অসম
|
দীপোর বিল
|
ব্রহ্মপুত্রের প্লাবনভূমির জলাভূমি; পরিযায়ী জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
বিহার
|
কানওয়ার ঝিল (কাবরতাল)
|
প্লাবনভূমির জলাভূমি; পরিযায়ী পাখি ও মাছের আবাসস্থল
|
|
বিহার
|
নাগি পাখি অভয়ারণ্য
|
কৃত্রিম জলাধার; শীতকালীন জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
বিহার
|
নাকটি পাখি অভয়ারণ্য
|
কৃত্রিম জলাধার; শীতকালীন জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
বিহার
|
গোকুল জলাশয়
|
গঙ্গার অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ; পাখি, মৎস্যসম্পদ ও বন্যার প্রভাব প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ
|
|
বিহার
|
উদয়পুর ঝিল
|
অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ; শীতকালীন পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল
|
|
বিহার
|
গোগাবিল হ্রদ
|
অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ; স্থানীয় ও পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল
|
|
চণ্ডীগড়
|
সুখনা জলাভূমি
|
বৃষ্টির জলে পুষ্ট শহরতলির জলাধার; পরিযায়ী ও স্থানীয় পাখির আবাসস্থল
|
|
ছত্তিশগড়
|
কোপ্রা জলাশয়
|
জলাধার; স্থানীয় ও পরিযায়ী জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
গোয়া
|
নন্দা হ্রদ
|
মিষ্টি জলের জলাভূমি; শীতকালীন জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
গুজরাট
|
নল সরোবর
|
প্রাকৃতিক মিষ্টি জলের হ্রদ; সারস ক্রেন ও জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
গুজরাট
|
ওয়াধওয়ানা জলাভূমি
|
সেচের জলাধার; শীতকালীন পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল
|
|
গুজরাট
|
থোল হ্রদ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
|
কৃত্রিম জলাধার; সারস ক্রেন-সহ জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
গুজরাট
|
খিজাদিয়া বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
|
কচ্ছ উপসাগরের কাছে উপকূলীয় মিষ্টি জল ও লবণাক্ত জলাভূমি; বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থল
|
|
গুজরাট
|
ছাড়ি ধাঁধ
|
বান্নি অঞ্চলের কাছে মরুভূমির মরশুমি জলাভূমি; সারস ও ফ্লেমিঙ্গোর আবাসস্থল
|
|
হরিয়ানা
|
সুলতানপুর জাতীয় উদ্যান
|
স্থানীয় ও পরিযায়ী জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
হরিয়ানা
|
ভিন্দাওয়াস বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
|
কৃত্রিম মিষ্টি জলের জলাভূমি; পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল
|
|
হিমাচল প্রদেশ
|
পং বাঁধ হ্রদ
|
বিয়াস নদীর জলাধার; শীতকালীন জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
হিমাচল প্রদেশ
|
চন্দ্রতাল জলাভূমি
|
উচ্চ পার্বত্য হ্রদ; তুষারচিতার আবাসস্থল
|
|
হিমাচল প্রদেশ
|
রেণুকা জলাভূমি
|
ঝরনার জলে পুষ্ট হ্রদ; জলজ ও বনজ জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ
|
|
ঝাড়খণ্ড
|
উধওয়া হ্রদ পাখি অভয়ারণ্য
|
গঙ্গার সঙ্গে সংযুক্ত দুটি হ্রদ; স্থানীয় ও পরিযায়ী জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
কর্ণাটক
|
রঙ্গনাথিট্টু পাখি অভয়ারণ্য
|
কাবেরী নদীর ছোট দ্বীপসমূহ; বাসা বাঁধা জলচর পাখি ও মাগার কুমিরের আবাসস্থল
|
|
কর্ণাটক
|
আঘানাশিনী মোহনা
|
নদীর মোহনা ও ম্যানগ্রোভ অরণ্য; মৎস্যসম্পদে গুরুত্বপূর্ণ
|
|
কর্ণাটক
|
মাগাড়ি কেরে সংরক্ষণক্ষেত্র
|
কৃত্রিম জলাশয়; শীতকালীন বার-হেডেড গুজের আবাসস্থল
|
|
কর্ণাটক
|
আঙ্কাসমুদ্র পাখি সংরক্ষণক্ষেত্র
|
গ্রামের সেচের জলাশয়; বাসা বাঁধা জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
কেরল
|
অষ্টমুদি জলাভূমি
|
নদীর মোহনা-সংলগ্ন জলাঞ্চল; মৎস্যসম্পদ ও ম্যানগ্রোভ অরণ্যে সমৃদ্ধ
|
|
কেরল
|
শাস্তামকোত্তা হ্রদ
|
ঝরনার জলে পুষ্ট মিষ্টি জলের হ্রদ; পানীয় জলের উৎস
|
|
কেরল
|
ভেম্বানাদ-কোল জলাভূমি
|
দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের বৃহত্তম আধা-লবণাক্ত জলাভূমি
|
|
মধ্যপ্রদেশ
|
ভোজ জলাভূমি
|
ভোপালের উচ্চ ও নিম্ন হ্রদ; জল সরবরাহ ও পাখির আবাসস্থল
|
|
মধ্যপ্রদেশ
|
সিরপুর জলাভূমি
|
ইন্দোরের কৃত্রিম জলাভূমি; পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল
|
|
মধ্যপ্রদেশ
|
সাখ্য সাগর
|
মাধব জাতীয় উদ্যানের জলাধার; মাগার কুমিরের আবাসস্থল
|
|
মধ্যপ্রদেশ
|
যশবন্ত সাগর
|
ইন্দোরের কাছে জলাধার; সারস ক্রেনের আবাসস্থল ও জল সরবরাহের উৎস
|
|
মধ্যপ্রদেশ
|
তাওয়া জলাধার
|
সাতপুরা ব্যাঘ্র সংরক্ষণক্ষেত্রের জলাধার; জলজ প্রাণী ও পাখির আবাসস্থল
|
|
মহারাষ্ট্র
|
নান্দুর মাধমেশ্বর
|
পাখি অভয়ারণ্য; পরিযায়ী জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
মহারাষ্ট্র
|
লোনার হ্রদ
|
উল্কাপাতের ফলে সৃষ্ট গহ্বরের হ্রদ; লবণাক্ত-ক্ষারীয় বাস্তুতন্ত্র
|
|
মহারাষ্ট্র
|
থানে খাঁড়ি
|
ম্যানগ্রোভ অরণ্য; ফ্লেমিঙ্গো ও পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল
|
|
মণিপুর
|
লোকটাক হ্রদ
|
ভাসমান ফুমদি; সাঙ্গাই হরিণের আবাসস্থল
|
|
মিজোরাম
|
পালা জলাভূমি
|
মিজোরামের বৃহত্তম প্রাকৃতিক জলাভূমি; হুলক গিবনের আবাসস্থল
|
|
ওড়িশা
|
চিলিকা হ্রদ
|
আধা-লবণাক্ত উপহ্রদ; ইরাবতী ডলফিন, জলচর পাখি ও ১১৮টি মাছের প্রজাতির আবাসস্থল
|
|
ওড়িশা
|
ভিতরকণিকা ম্যানগ্রোভ অরণ্য
|
ম্যানগ্রোভ অরণ্য; লবণাক্ত জলের কুমির ও অলিভ রিডলি কচ্ছপের আবাসস্থল
|
|
ওড়িশা
|
সাতকোশিয়া গিরিখাত
|
মহানদীর গিরিখাত; ঘড়িয়াল ও মাগার কুমিরের আবাসস্থল
|
|
ওড়িশা
|
তম্পারা হ্রদ
|
মিষ্টি জলের হ্রদ; মাছ ও জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
ওড়িশা
|
হীরাকুদ জলাধার
|
বৃহৎ জলাধার; মাছ ও জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
ওড়িশা
|
আনসুপা হ্রদ
|
মহানদীর অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ; পাখি ও মাছের আবাসস্থল
|
|
পাঞ্জাব
|
হরিকে হ্রদ
|
নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত জলাধার; পরিযায়ী জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
পাঞ্জাব
|
কাঞ্জলি হ্রদ
|
কালী বেইন নদীর ওপর বাঁধের ফলে সৃষ্ট জলাভূমি; জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
পাঞ্জাব
|
রোপার হ্রদ
|
শতদ্রু নদীর ওপর বাঁধের জলাধার; জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
পাঞ্জাব
|
বিয়াস সংরক্ষণক্ষেত্র
|
নদীর একটি অংশ; সিন্ধু নদীর ডলফিন ও ঘড়িয়ালের আবাসস্থল
|
|
পাঞ্জাব
|
কেশোপুর-মিয়ানি কমিউনিটি সংরক্ষণক্ষেত্র
|
স্থানীয় জনগোষ্ঠী পরিচালিত জলাভূমি; জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
পাঞ্জাব
|
নাঙ্গল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
|
শিবালিক পাহাড়ের পাদদেশের জলাধার; জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
রাজস্থান
|
কেওলাদেও জাতীয় উদ্যান
|
জলচর পাখির আবাসস্থল; ঐতিহাসিকভাবে সাইবেরীয় সারসের শীতকালীন বিচরণক্ষেত্র
|
|
রাজস্থান
|
সাম্ভার হ্রদ
|
বৃহৎ অভ্যন্তরীণ লবণাক্ত হ্রদ; ফ্লেমিঙ্গোর আবাসস্থল
|
|
রাজস্থান
|
মেনার জলাভূমি সমষ্টি
|
স্থানীয় জনগোষ্ঠী-সুরক্ষিত গ্রামের জলাভূমি; পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল
|
|
রাজস্থান
|
খিচান জলাভূমি
|
শীতকালে ডেমোয়াজেল সারসের বিচরণক্ষেত্র; স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংরক্ষণ উদ্যোগ
|
|
রাজস্থান
|
সিলিসেঢ় হ্রদ
|
আলওয়ারের কাছে জলাধার; জলাভূমির জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ
|
|
সিকিম
|
খেচেওপালরি জলাভূমি
|
পবিত্র হিমালয়ান হ্রদ; পিটভূমি ও বনাঞ্চল রয়েছে
|
|
তামিলনাড়ু
|
পয়েন্ট ক্যালিমের বন্যপ্রাণী ও পাখি অভয়ারণ্য
|
উপকূলীয় জলাভূমি; ফ্লেমিঙ্গো ও পরিযায়ী উপকূলীয় পাখির আবাসস্থল
|
|
তামিলনাড়ু
|
কুন্থানকুলাম পাখি অভয়ারণ্য
|
দক্ষিণ ভারতের বৃহত্তম জলচর পাখির প্রজননক্ষেত্র
|
|
তামিলনাড়ু
|
চিত্রাঙ্গুড়ি পাখি অভয়ারণ্য
|
জলচর পাখির প্রজনন ও শীতকালীন বিচরণক্ষেত্র
|
|
তামিলনাড়ু
|
কারিকিলি পাখি অভয়ারণ্য
|
প্রজননকারী জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
তামিলনাড়ু
|
পিচাভরম ম্যানগ্রোভ অরণ্য
|
ভারতের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্যগুলির অন্যতম; মাছের পোনা প্রতিপালনক্ষেত্র
|
|
তামিলনাড়ু
|
পল্লিকরণাই জলাভূমি সংরক্ষিত বনাঞ্চল
|
শহুরে জলাভূমি; বন্যার প্রভাব প্রশমন ও পাখির আবাসস্থলে গুরুত্বপূর্ণ
|
|
তামিলনাড়ু
|
মান্নার উপসাগর সামুদ্রিক জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র
|
প্রবাল প্রাচীর ও ডুগং-এর আবাসস্থল
|
|
তামিলনাড়ু
|
ভেম্বান্নুর জলাভূমি সমষ্টি
|
কৃত্রিম সেচের জলাশয়; জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
তামিলনাড়ু
|
ভেল্লোডে পাখি অভয়ারণ্য
|
জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
তামিলনাড়ু
|
উদয়মার্থান্ডপুরম পাখি অভয়ারণ্য
|
পরিযায়ী জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
তামিলনাড়ু
|
বেদান্তঙ্গল পাখি অভয়ারণ্য
|
ভারতের প্রাচীনতম পাখি সংরক্ষণক্ষেত্রগুলির অন্যতম; পাখিদের বাসা বাঁধার স্থান
|
|
তামিলনাড়ু
|
সুচীন্দ্রম-থেরুর জলাভূমি সমষ্টি
|
সেচের জলাশয়; পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল
|
|
তামিলনাড়ু
|
ভাদুভুর পাখি অভয়ারণ্য
|
শীতকালীন জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
তামিলনাড়ু
|
কাঞ্জিরানকুলাম পাখি অভয়ারণ্য
|
বাসা বাঁধা বক ও রঙিন সারসের আবাসস্থল
|
|
তামিলনাড়ু
|
কারাইভেট্টি পাখি অভয়ারণ্য
|
বৃহৎ অভ্যন্তরীণ মিষ্টি জলের হ্রদ; বাসা বাঁধা জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
তামিলনাড়ু
|
লংউড শোলা সংরক্ষিত বনাঞ্চল
|
নীলগিরির শোলা বন; স্থানীয়ভাবে বিশেষভাবে দেখা যায় এমন পাখির আবাসস্থল
|
|
তামিলনাড়ু
|
কাজুভেলি পাখি অভয়ারণ্য
|
আধা-লবণাক্ত উপকূলীয় হ্রদ; পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল
|
|
তামিলনাড়ু
|
নানজারায়ান পাখি অভয়ারণ্য
|
হ্রদ; স্থানীয় ও পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল
|
|
তামিলনাড়ু
|
সাক্কারাকোট্টাই পাখি অভয়ারণ্য
|
পরিযায়ী জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
তামিলনাড়ু
|
থেরথাঙ্গল পাখি অভয়ারণ্য
|
বাসা বাঁধা জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
ত্রিপুরা
|
রুদ্রসাগর হ্রদ
|
জলাধার-হ্রদ; মাছ ও তিন-ডোরা ছাদ কচ্ছপের আবাসস্থল
|
|
উত্তরপ্রদেশ
|
উচ্চ গঙ্গা নদী (বৃজঘাট থেকে নরোরা)
|
গাঙ্গেয় ডলফিন, ঘড়িয়াল ও কচ্ছপের আবাসস্থল
|
|
উত্তরপ্রদেশ
|
নবাবগঞ্জ পাখি অভয়ারণ্য
|
পরিযায়ী জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
উত্তরপ্রদেশ
|
সরসাই নওয়ার ঝিল
|
সারস ক্রেনের আবাসস্থল
|
|
উত্তরপ্রদেশ
|
সান্ডি পাখি অভয়ারণ্য
|
মিষ্টি জলের জলাভূমি; জলচর পাখি ও সারস ক্রেনের আবাসস্থল
|
|
উত্তরপ্রদেশ
|
সামসপুর পাখি অভয়ারণ্য
|
জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
উত্তরপ্রদেশ
|
পার্বতী-আরগা পাখি অভয়ারণ্য
|
দুটি অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ; জলচর পাখি ও শকুনের আবাসস্থল
|
|
উত্তরপ্রদেশ
|
সামান পাখি অভয়ারণ্য
|
অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ; শীতকালীন জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
উত্তরপ্রদেশ
|
সুর সরোবর
|
আগ্রার কাছে কৃত্রিম জলাধার; জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
উত্তরপ্রদেশ
|
হায়দরপুর জলাভূমি
|
গঙ্গার প্লাবনভূমি; ঘড়িয়াল, জলাভূমির হরিণ ও জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
উত্তরপ্রদেশ
|
বাখিরা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
|
পূর্ব উত্তরপ্রদেশের বৃহত্তম প্রাকৃতিক প্লাবনভূমির জলাভূমি
|
|
উত্তরপ্রদেশ
|
পাটনা পাখি অভয়ারণ্য
|
জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
উত্তরপ্রদেশ
|
শেখা ঝিল পাখি অভয়ারণ্য
|
শীতকালীন বার-হেডেড গুজ ও রঙিন সারসের আবাসস্থল
|
|
উত্তরপ্রদেশ
|
জয়প্রকাশ নারায়ণ পাখি অভয়ারণ্য (সুরহা তাল)
|
সমৃদ্ধ পাখিজগৎ; পরিযায়ী ও স্থানীয় পাখির আবাসস্থল
|
|
উত্তরপ্রদেশ
|
সৌজ ঝিল
|
অগভীর, সারা বছর জলপূর্ণ প্লাবনভূমির জলাভূমি; পরিযায়ী ও স্থানীয় জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
উত্তরাখণ্ড
|
আসন সংরক্ষণক্ষেত্র
|
আসন ও যমুনা নদীর সঙ্গমস্থল; পরিযায়ী জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
পশ্চিমবঙ্গ
|
পূর্ব কলকাতা জলাভূমি
|
বর্জ্যজলনির্ভর মৎস্যচাষ ও কৃষিকাজ
|
|
পশ্চিমবঙ্গ
|
সুন্দরবন জলাভূমি
|
ম্যানগ্রোভ অরণ্য; রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল
|
|
জম্মু ও কাশ্মীর (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল)
|
উলার হ্রদ
|
বৃহৎ মিষ্টি জলের হ্রদ; মৎস্যসম্পদে গুরুত্বপূর্ণ
|
|
জম্মু ও কাশ্মীর (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল)
|
সুরিনসর-মানসর হ্রদ
|
দুটি মিষ্টি জলের হ্রদ
|
|
জম্মু ও কাশ্মীর (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল)
|
হোকেরা জলাভূমি
|
নলখাগড়ার বন; হোয়াইট-আইড পোচার্ডের আবাসস্থল
|
|
জম্মু ও কাশ্মীর (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল)
|
হাইগাম জলাভূমি সংরক্ষণক্ষেত্র
|
বন্যার জল ধারণকারী অববাহিকা; জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
জম্মু ও কাশ্মীর (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল)
|
শালবুগ জলাভূমি সংরক্ষণক্ষেত্র
|
জলচর পাখির আবাসস্থল
|
|
লাদাখ (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল)
|
সো মোরিরি
|
উচ্চ পার্বত্য হ্রদ; কালো-ঘাড় সারস ও বার-হেডেড গুজের আবাসস্থল
|
|
লাদাখ (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল)
|
সো কার জলাভূমি সমষ্টি
|
উচ্চ পার্বত্য হ্রদসমূহ; কালো-ঘাড় সারসের প্রজননক্ষেত্র
|
আপনি কি জানেন?
বৃহত্তম রামসার সাইট বা স্থান
পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন জলাভূমি, যা ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পায়, ৪,২৩,০০০ হেক্টর আয়তন নিয়ে ভারতের বৃহত্তম রামসার স্থান। এখানে ভারতের ৬০ শতাংশেরও বেশি ম্যানগ্রোভ অঞ্চল রয়েছে। সুন্দরবনের বাঘ জলে শিকার করার অনন্য দক্ষতার জন্য পরিচিত।
সংরক্ষণে রামসার সাইটগুলির ভূমিকা
রামসার সাইটের স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট জলাভূমিগুলিকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি, বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনা এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ করে দেয়। পাশাপাশি, পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি সাইটের পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য সুরক্ষিত রাখার সুস্পষ্ট দায়িত্ব রাজ্যগুলির ওপর বর্তায়।
- বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার: চিলিকা হ্রদ দেখায়, ধারাবাহিক পুনরুদ্ধারমূলক উদ্যোগ কিভাবে একটি জলাভূমি এবং তার ওপর নির্ভরশীল জনসমাজকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। বর্তমানে এই উপহ্রদে ১১৮ প্রজাতির মাছ রয়েছে। এটি জলচর পাখিদের প্রজনন, শীতকালীন আবাস এবং যাত্রাপথে বিশ্রাম নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
- জীবিকা সুরক্ষা: পূর্ব কলকাতা জলাভূমিতে প্রায় ৪,০০০ হেক্টর জুড়ে থাকা মাছের ভেড়ির মাধ্যমে প্রাকৃতিক উপায়ে শহরের বর্জ্যজলের পরিশোধন হয়। এই জলাভূমি থেকে বছরে প্রায় ১০,৫০০ টন মাছ উৎপাদিত হয় এবং প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৫০,০০০ মানুষের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা মেলে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি: সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ত জলের অনুপ্রবেশ থেকে অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলিকে সুরক্ষা দেয়। পাশাপাশি, এই অরণ্য মাছ ও খোলসযুক্ত জলজ প্রাণীর প্রজনন ও বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে এবং ভারতের সমগ্র পূর্ব উপকূলের মৎস্যসম্পদকে সহায়তা করে।
- বিপন্ন প্রজাতির পুনরুজ্জীবন: পাঞ্জাবের বিয়াস সংরক্ষণ ক্ষেত্রে বিপন্ন সিন্ধু নদীর ডলফিনের ভারতের একমাত্র পরিচিত জনসংখ্যা রয়েছে। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া পুনঃপ্রবর্তন কর্মসূচির আওতায় ৪৭টি ঘড়িয়াল ছাড়া হয়, নদীটি থেকে এই প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার প্রায় তিন দশক পরে। নদীর ১৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অংশে ৫০০-রও বেশি প্রজাতির পাখি এবং ৯০-টিরও বেশি প্রজাতির মাছের বাস।
- জনসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণে সংরক্ষণ: রাজস্থানের খিচান জলাভূমিতে মাত্র ৫৪ হেক্টর এলাকায় প্রতি বছর শীতকালে ২২,০০০-এরও বেশি ডেমোয়াজেল সারস আসে। সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দারা বিদ্যুতের তারে ধাক্কা লেগে এবং পথকুকুরের আক্রমণে পাখিদের মৃত্যু রুখতে সক্রিয়ভাবে তাদের সুরক্ষা দেন।
জলাভূমি সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ
ভারতের রামসার সাইটগুলির নেটওয়ার্ক আইন, বিভিন্ন প্রকল্প এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণের একটি সুদৃঢ় কাঠামোর মাধ্যমে সমর্থিত।
জলাভূমি (সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা) বিধি, ২০১৭
পরিবেশ (সুরক্ষা) আইন, ১৯৮৬-এর অধীনে বিজ্ঞাপিত এই বিধিগুলি জলাভূমি সংরক্ষণের নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রদান করে। এই বিধির আওতায় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে জলাভূমি কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়। পাশাপাশি, জলাভূমি দখল, বর্জ্য ফেলা এবং অপরিশোধিত বর্জ্যজল নিষ্কাশনের মতো কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জলজ বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের জাতীয় পরিকল্পনা (এনপিসিএ)
এনপিসিএ হ্রদ ও জলাভূমি সংরক্ষণের জাতীয় কর্মসূচিগুলিকে একটিমাত্র প্রকল্পের আওতায় নিয়ে এসেছে। ২০২৪ সালে জারি করা এনপিসিএ-র সংশোধিত নির্দেশিকা রাজ্যগুলিকে জলাভূমি পরিচালনার জন্য একটি সমন্বিত ও বৈজ্ঞানিক কাঠামো প্রদান করে।
অমৃত ধরোহর
অমৃত ধরোহর ভারতের রামসার সাইটগুলির অনন্য সংরক্ষণগত গুরুত্ব তুলে ধরে। এই উদ্যোগের আওতায় প্রজাতি ও বাসস্থানের সংরক্ষণ, প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটন, জলাভূমি-নির্ভর জীবিকা এবং জলাভূমিতে কার্বনের পরিমাণ নিরূপণের বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর অধীনে, ভারতের উদ্ভিদ সমীক্ষা (বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া) এবং ভারতের প্রাণী সমীক্ষা (জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া) যথাক্রমে ৭৫টি রামসার সাইটের উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের তালিকা তৈরির জন্য সমীক্ষা চালিয়েছে। জলাভূমিতে কার্বনের সঞ্চয় নিরূপণের জন্য ‘জলাভূমিতে কার্বন সঞ্চয় মূল্যায়নের প্রমিত কার্যপদ্ধতি’ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের ৩৯টি রামসার সাইটে কার্বন সঞ্চয়ের পরিমাণ নিরূপণে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
মিশন সহভাগিতা এবং সেভ ওয়েটল্যান্ডস অভিযান
মিশন সহভাগিতা জনসাধারণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংরক্ষণকে উৎসাহিত করে। এই উদ্যোগের অধীনে সেভ ওয়েটল্যান্ডস অভিযান ২০২৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি গোয়ায় শুরু হয়। তারপর থেকে ২০ লক্ষেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী নাগরিক দেশজুড়ে ১.৭ লক্ষেরও বেশি জলাভূমির মানচিত্র তৈরিতে সহায়তা করেছেন।
উপকূলীয় বাসস্থান ও প্রত্যক্ষ আয় বৃদ্ধির জন্য ম্যানগ্রোভ উদ্যোগ (মিষ্টি)
মিষ্টি উদ্যোগের লক্ষ্য হল নয়টি রাজ্য ও চারটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৫৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার করা। এখনও পর্যন্ত অবক্ষয়িত ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারের জন্য ৮৮.৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার আওতায় ৯,৯৪৯.৫ হেক্টর এলাকার ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ওয়েটল্যান্ডস অফ ইন্ডিয়া পোর্টাল
২০২১ সালের ২ অক্টোবর উদ্বোধন করা এই পোর্টালটি ভারতের জলাভূমি সম্পর্কে একটি গতিশীল জ্ঞানভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে জলাভূমি পরিচালনাকারী এবং সাধারণ নাগরিকেরা সাইট, প্রকল্প, উদ্যোগ ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য একটিমাত্র প্ল্যাটফর্মে পেতে পারেন।
ওয়েটল্যান্ড সিটি স্বীকৃতি
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইন্দোর ও উদয়পুর ভারতের প্রথম রামসার-স্বীকৃত ওয়েটল্যান্ড সিটি হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এর মাধ্যমে শহর দুটি রামসার-স্বীকৃত ওয়েটল্যান্ড সিটিগুলির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়।
আগামীর পথ
ভারতে রামসার সাইটের ক্রমবর্ধমান নেটওয়ার্ক বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং জনসমাজের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জলাভূমি সংরক্ষণ আরও জোরদার করার সুযোগ করে দিয়েছে। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে দীর্ঘস্থায়ী পরিবেশগত সুফলে রূপান্তরিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, তথ্যপ্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনা এবং সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনসমাজের মধ্যে সমন্বয় এই জলাভূমিগুলির পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীববৈচিত্র্য, জল সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার সক্ষমতা এবং জীবিকা নির্বাহে জলাভূমিগুলির অবদান অব্যাহত রাখতে ধারাবাহিক উদ্যোগ অপরিহার্য।
বৃহত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে জলাভূমি সংরক্ষণকে যুক্ত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় স্তরে সংরক্ষণের দায়িত্ব ও অংশগ্রহণ জোরদার করা, তথ্য ও জ্ঞান বিনিময়ের উন্নতি ঘটানো এবং সুস্থায়ী জীবিকার সুযোগ প্রসারিত করার মাধ্যমে সংরক্ষণের উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। পরিবেশগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে জনসমাজের চাহিদার সমন্বয় ঘটিয়ে ভারত জলাভূমি ব্যবস্থাপনায আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষম পদ্ধতি গড়ে তুলতে পারে। এর ফলে, দীর্ঘমেয়াদে এই বাস্তুতন্ত্রগুলির উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা এবং সেগুলিকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।
তথ্যবিবরণী
Ministry of Environment, Forest and Climate Change (MoEFCC)
Parliament of India (Lok Sabha)
Ministry of Jal Shakti (National Water Mission)
Tamil Nadu State Wetlands Authority
Government of Bihar
Government of Gujarat (Gujarat Tourism)
Convention on Wetlands (Ramsar Secretariat)
Click to see pdf
*******************
SSS/RP.......