পরমাণুশক্তিদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

ভারতের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে নিবেদিত- ড. জিতেন্দ্র সিং

প্রকাশিত: 20 OCT 2026 2:15PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২০ অক্টোবর ২০২৬

 

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং বলেছেন ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে নিবেদিত, যুদ্ধের জন্য নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গিই শুরু থেকেই ভারতের পারমাণবিক যাত্রাকে পথ দেখিয়ে আসছে।

 

ব্লুমবার্গ ইকোনমি ফোরাম ২০২৬-এর অবসরে এক একান্ত আলোচনায় মন্ত্রী বলেন, ভারতের ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পারমাণবিক শক্তি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এআই অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডেটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণও এর অন্তর্গত।

 

ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচির রূপকার ড. হোমি ভাবার দৃষ্টিভঙ্গির অবতারণা করে ড. জিতেন্দ্র সিং বলেন, ভারত সবসময়ই শান্তিপূর্ণ প্রয়োগ এবং জাতীয় উন্নয়নের জন্য পারমাণবিক শক্তিকে কাজে লাগানোর নীতি অনুসরণ করে এসেছে। উন্নয়নমূলক ও প্রযুক্তিগত প্রয়োজন মেটাতে ভারত যখন নিজের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তখনও পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি মূল নীতি হিসেবেই অটুট রয়েছে।

 

মন্ত্রী বলেন, ভারতের পারমাণবিক শক্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত। ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন এবং ২০৭০ সালের মধ্যে নেট জিরো অর্থাৎ কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগোচ্ছে ভারত। এই প্রক্রিয়ায় পারমাণবিক শক্তি অন্যান্য জ্বালানি উৎসের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

 

পারমাণবিক শক্তিকে প্রযুক্তিগত বিকাশের পরবর্তী পর্যায়ের সঙ্গে যুক্ত করে ড. জিতেন্দ্র সিং বলেন, এআই এবং ডেটা সেন্টারের প্রসারের জন্য এমন নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ উৎসের প্রয়োজন, যা বিপুল ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম। তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক শক্তি ভারতের অন্যান্য জ্বালানি কর্মসূচির পরিপূরক হবে এবং প্রযুক্তি-নির্ভর অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে কাজে লাগবে।

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ভূমিকার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এআই-কে একটি স্বতন্ত্র ক্ষেত্র হিসেবে না দেখে, বরং সব খাতে প্রয়োগযোগ্য একটি হাতিয়ার হিসেবে দেখা উচিত। মহাকাশ গবেষণা ও জীবন বিজ্ঞান থেকে শুরু করে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠছে। এর প্রয়োগে মানুষের বিচারবুদ্ধির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এআই ব্যবহার করতে হবে। ড. জিতেন্দ্র সিং বলেছেন যে, এআই বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুবিধা প্রদান করে; তবে এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর অপব্যবহার রোধ করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও এ বিষয়ে নিয়মকানুন রয়েছে, তবুও তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রযুক্তিটির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য ব্যক্তিগত ও জাতীয় উভয় পর্যায়েই সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত এই লক্ষ্যে প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

মোদী সরকারের আমলে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলোকে বেসরকারি অংশীদারদের জন্য আরও উন্মুক্ত করার বিষয়টিও তুলে ধরেন ড.সিং। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে এমন সব ক্ষেত্রে বেসরকারি ক্ষেত্রগুলির অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা আগে অনেক বেশি সীমাবদ্ধ ছিল।

 

ড. জিতেন্দ্র সিং-এর এই বক্তব্যে ভারতের উন্নয়নের যাত্রাপথের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের সংযোজন করে। তা হল, পরিবেশবান্ধব শক্তির নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে পারমাণবিক শক্তিকে শক্তিশালী করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান প্রযুক্তিগুলোকে দায়িত্বশীল ও মানব-নিয়ন্ত্রিত উপায়ে কাজে লাগানো। ২০৪৭ সালের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং ২০৭০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা। অর্থাৎ এই লক্ষ্যপূরণের পথে এগিয়ে যেতে ভারতের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি পরিকাঠামো এবং কৌশলগত ক্ষেত্রগুলির ব্যাপক অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

 

SC/AB/NS


(রিলিজ আইডি: 2325489) ভিজিটরের কাউন্টার : 5
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Marathi , Gujarati , Tamil