PIB Backgrounder
যখন পরিচ্ছন্নতা একটি গণ-আন্দোলনে রূপায়িত হল
যৌথ প্রয়াস এবং আচরণগত পরিবর্তন গ্রামীণ স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থায় রূপান্তর ঘটাচ্ছে
প্রকাশিত:
20 SEP 2026 12:04PM by PIB Kolkata
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কয়েক দশক ধরে, গ্রামীণ স্বাস্থ্যবিধি বা পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা দেশব্যাপী একটি বড় উন্নয়নমূলক উদ্বেগ হিসাবে গণ্য হতো। ২০১৪ সালে যখন স্বচ্ছ ভারত মিশন (SBM) শুরু হয়, তখন স্যানিটেশন কভারেজ ছিল মাত্র ৩৯ শতাংশ। ২০১৯ সালের মধ্যে, গ্রামীণ ভারত ১০০ শতাংশ স্যানিটেশন কভারেজ অর্জন করে। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৩৬টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে ১০.২৮ কোটিরও বেশি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে গ্রামীণ ভারতকে 'উন্মুক্ত স্থানে শৌচমুক্ত' বা ওডিএফ (ODF) হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এই সাফল্য ভারতের স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থার অবয়ব পরিবর্তন করে দেয়। এর ফলে, ফোকাসটি প্রতিটি পরিবারে শৌচাগার তৈরির ওপর জোর দেওয়ার চেয়ে আরও বড় পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি অভ্যাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং গ্রাম স্তরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ের দিকে স্থানান্তরিত হয়। এটিই 'স্বচ্ছ ভারত মিশন-গ্রামীণ দ্বিতীয় পর্যায়' (Swachh Bharat Mission-Gramin Phase II)-এর মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে। এই পর্যায়টি ওডিএফ (ODF) মর্যাদা বজায় রাখা এবং কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেয়।
এই লক্ষ্যের প্রভাব এখন ভারতের গ্রামগুলিতে দৃশ্যমান। একটি ওডিএফ প্লাস গ্রাম কেবল ওডিএফ মর্যাদাই বজায় রাখে না, বরং দৃশ্যমান পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি কঠিন ও তরল বর্জ্যও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করে। ওডিএফ প্লাস গ্রামের মর্যাদা বজায় রাখার সাথে সাথে, এই গ্রামগুলিকে তিনটি প্রগতিশীল স্তরে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে: অ্যাসপায়ারিং, রাইজিং এবং মডেল। অ্যাসপায়ারিং গ্রামগুলি কঠিন অথবা তরল বর্জ্যের যেকোনো একটি ব্যবস্থাপনা করে। রাইজিং গ্রামগুলি কঠিন এবং তরল উভয় বর্জ্যই ব্যবস্থাপনা করে। মডেল গ্রামগুলি, উভয় ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি, দৃশ্যমান পরিচ্ছন্নতা প্রদর্শন করে এবং ওডিএফ প্লাস বার্তা বা মেসেজিং প্রদর্শন করে।
এ হছর ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, ভারত ৫.৬৯ লক্ষ ওডিএফ প্লাস গ্রাম অর্জন করেছে, যার মধ্যে ৫.২৫ লক্ষ গ্রাম ওডিএফ প্লাস মডেল মর্যাদা লাভ করেছে। এ ছাড়া, ৫.৩৮ লক্ষ গ্রামে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ৫.৬৫ লক্ষ গ্রামে তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে ৫৮২টি জেলায় ১,৩১৪টি গোবর্ধন (GOBARdhan) বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট সচল রয়েছে। গৃহস্থালি স্তরে, ১২.২২ কোটি একক শৌচাগার এবং ৯৮,২৭৩টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
গোবর্ধন—গ্যালভানাইজিং অর্গানিক বায়ো-অ্যাগ্রো রিসোর্সেস ধন
এটি এসবিএম-জি দ্বিতীয় পর্যায়ের অধীনে একটি ফ্ল্যাগশিপ আমব্রেলা উদ্যোগ, যা গবাদি পশুর গোবর, কৃষিজাত ফসলের অবশিষ্টাংশ এবং জৈব বর্জ্যকে বায়োগ্যাস, কমপ্রেসড বায়োগ্যাস (CBG) এবং জৈব সার/বায়ো-স্লারিতে রূপান্তরিত করে।
শৌচাগার নির্মাণ থেকে অভ্যাস গঠন
জাতীয় স্তরের এই সংখ্যাগুলি ব্যক্তি এবং সম্প্রদায় স্তরে বড় ধরণের পরিবর্তনগুলিকে প্রতিফলিত করে, কারণ স্থায়ী রূপান্তর শুরু হয় দৈনন্দিন আচরণের মধ্য দিয়ে। একটি শৌচাগার তখনই সার্থক হয়ে ওঠে যখন পরিবারগুলি এটি ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং টিকিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। একইভাবে, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুরু হয় প্রতিটি পরিবারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও অভ্যাসের মধ্য দিয়ে। এই বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিয়ে, এসবিএম-জি (SBM-G) ওডিএফ ফলাফলগুলি বজায় রাখার ক্ষেত্রে আচরণগত পরিবর্তন যোগাযোগ বা বিসিসি-কে কেন্দ্রে রেখেছে।
পরিবারগুলিকে নিরাপদ শৌচাগার ব্যবহার ও বর্জ্য নিষ্কাশন পদ্ধতি গ্রহণ করতে, উপযুক্ত স্যানিটেশন প্রযুক্তি বুঝতে এবং কম্পোস্ট পিট বা বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে ভেজা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে উৎসাহিত করা হয়। এই লক্ষ্যটি হাত ধোয়া, নিরাপদ পানি সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সুবিধা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জনসমক্ষে আবর্জনা ফেলা ও থুতু ফেলা এড়িয়ে চলা,সহ দৈনন্দিন স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলনের ক্ষেত্রেও প্রসারিত। এইভাবে, স্যানিটেশন কেবল পরিকাঠামো প্রদানের গণ্ডি পেরিয়ে বিস্তৃত হয়। এটি প্রতিটি পরিবারের অভ্যন্তরে গৃহীত, সম্প্রদায়ের মাধ্যমে জোরদার হওয়া এবং যৌথ আচরণের মাধ্যমে বজায় থাকা দৈনন্দিন অভ্যাসের একটি অংশ হয়ে ওঠে।
যখন নারীরা পরিবর্তনের রূপকার হয়ে উঠলেন
নারীরা এই রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি সরাসরি নারীদের গোপনীয়তা, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। তাঁরা কেবল এই উদ্যোগগুলির উপকারভোগী নন, বরং উন্নয়নের সক্রিয় অংশীদার এবং সামাজিক পরিবর্তনের রূপকার। এসবিএম-জি (SBM-G) নির্দেশিকাগুলিতে 'স্বচ্ছাগ্ৰহী' হিসিবে নারীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকায় ডে-এনআরএলএম (DAY-NRLM) স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে (SHGs) আচরণগত পরিবর্তন যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পরিবার এবং সম্প্রদায়গুলির সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে, স্বচ্ছাগ্ৰহীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্নতা যাচাইকরণের পাশাপাশি, শৌচাগার ব্যবহার গ্রহণ ও তা বজায় রাখতে পরিবারগুলিকে সহায়তা করেন। এই সম্প্রদায়-ভিত্তিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে, তাঁরা স্যানিটেশন উদ্যোগগুলিকে ধারাবাহিক দৈনন্দিন অভ্যাসে রূপান্তর করতে সাহায্য করেন।
নারী সংগঠনগুলি পরিচ্ছন্নতার সচেতনতাকে ধারাবাহিক সামাজিক পদক্ষেপে রূপান্তর করতে সাহায্য করেছে। পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায়, স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি (SHGs) গঙ্গার তীরবর্তী ১৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত জুড়ে একটি প্লাস্টিক বর্জন কর্মসূচিকে সমর্থন করেছে এবং ১৮ দিনের মধ্যে ৯.৩২ টন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করেছে। এই উদ্যোগটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী ফেডারেশনের মাধ্যমে একটি নিয়মিত প্লাস্টিক সংগ্রহের নেটওয়ার্কও প্রতিষ্ঠা করেছে। এটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যৌথ প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতে নির্বাচিত প্রতিনিধি, পঞ্চায়েত কর্মী, সম্প্রদায়ের সদস্য এবং বাজারের বিক্রেতাদের একসাথে নিয়ে এসেছে।
নারীরা স্যানিটেশন কর্মী, উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় পরিষেবা প্রদানকারী হিসাবেও আত্মপ্রকাশ করেছেন। উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে, প্রায় এক ডজন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নারী একটি রিসোর্স রিকভারি সেন্টার পরিচালনা করেন, যেখানে গৃহস্থালির বর্জ্য সংগ্রহ করে তা ভেজা এবং শুকনো বর্জ্যে পৃথক করা হয়। ভেজা বর্জ্য কেঁচো সারে (vermicompost) রূপান্তরিত করা হয়, আর শুকনো বর্জ্য বিক্রির জন্য পাঠানো হয়, যা এই নারীদের জন্য মজুরি এবং অতিরিক্ত আয় তৈরি করে।
মধ্যপ্রদেশের ভোপালে, একটি ক্লাস্টার লেভেল ফেডারেশন মেটেরিয়াল রিকভারি ফেসিলিটি পরিচালনা করে, যা এই কেন্দ্রে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য কেনা-বেচার জন্য স্বচ্ছ ভারত মিশন-গ্রামাঞ্চলের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) দ্বারা সমর্থিত। স্বাস্থ্যবিধি নারীদের অংশগ্রহণ, সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণ থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জীবিকা সৃষ্টি এবং স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
বিদ্যালয় থেকে ঘরে ফেরে পরিবর্তন
নারী সংগঠনগুলির পাশাপাশি, বিদ্যালয়গুলি পরিচ্ছন্নতার সচেতনতাকে দৈনন্দিন অভ্যাসে রূপান্তর করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। এগুলো এমন একটি সুসংহত পরিবেশ প্রদান করে যেখানে শিশুরা স্বাস্থ্যবিধি, স্যানিটেশন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে, পাশাপাশি তাদের পরিবার ও সম্প্রদায়ের অভ্যাসের ওপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। এসবিএম-জি দ্বিতীয় পর্যায় স্যানিটেশনের ফলাফলগুলি বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিদ্যালয়গুলিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্পষ্টভাবে স্বীকৃতি দেয়। এতে সচল স্বাস্থ্যবিধিকেন্দ্রিক সুবিধা এবং পচনশীল ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিধান রয়েছে। ঝাড়খণ্ডের চাণ্ডিলে, একটি বিদ্যালয় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করেছে এবং গ্রে-ওয়াটার বা ধূসর জল (রান্নাঘর এবং স্নানাগার থেকে নির্গত গৃহস্থালির বর্জ্য জল) ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সোক পিট নির্মাণ করেছে। শিক্ষকরাও নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি এবং বয়ঃসন্ধিকালীন বিষয়গুলি নিয়ে সম্পৃক্ত করেন। এই ধরনের প্রচেষ্টা আচরণগত পরিবর্তনের একটি দ্বিমুখী প্রবাহ তৈরি করে। শিশুরা বিদ্যালয়ে স্যানিটেশন শেখে ও অনুশীলন করে এবং এই অভ্যাসগুলি তাদের ঘরে নিয়ে যায়, আর পরিবারগুলিও ফলস্বরূপ পরিচ্ছন্নতা এবং দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি বৃহত্তর সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে।
পরিচ্ছন্নতার জন্য যুব-নেতৃত্বাধীন একটি বৃহত্তর আন্দোলনে শিশুদের ভূমিকা আরও প্রসারিত হচ্ছে।
'স্বচ্ছতা হি সেবা ২০২৬' শিক্ষার্থী এবং যুবসমাজকে দীর্ঘস্থায়ী আচরণগত পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে। পরিচ্ছন্নতাকে একটি 'সংস্কার' হিসাবে গড়ে তোলার স্থান হিসেবে বিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছতা জ্ঞান যাত্রা, বিদ্যালয় সংবাদ এবং উৎস স্তরে বর্জ্য পৃথকীকরণের প্রদর্শনী। শিক্ষার্থীরা 'স্বচ্ছতা এবং জল সংবাদ'-এও অংশ নেবে এবং সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট (SWM) রুলস, ২০২৬ বা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধি, ২০২৬ সম্পর্কে জানতে পারবে। এই পদ্ধতিটি বিদ্যালয়-থেকে-বাড়ি চক্রটিকে একটি বৃহত্তর বিদ্যালয়-থেকে-সম্প্রদায়ের আন্দোলনে পরিণত করে।
প্রচলিত পরিচ্ছন্নতার গণ্ডি পেরিয়ে
মজার বিষয় হল, শিশুরা এসবিএম-জি (SBM-G)-কে প্রচলিত পরিচ্ছন্নতার গণ্ডি পেরিয়ে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ঝাড়খণ্ডে, শিশু ক্যাবিনেটের সদস্যরা পিরিয়ডকালীন বা ঋতুস্রাব সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা (Menstrual Hygiene Management - MHM) কার্যক্রমের দায়িত্ব নিয়েছে। একটি বিদ্যালয়ে, ছাত্রীরা স্যানিটারি প্যাডের স্টক রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ করে, আর শিশু ক্যাবিনেটের সদস্যরা এর নিয়মিত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
ঝিকপানির কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়ে, শিশু ক্যাবিনেটের মন্ত্রীরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে একটি এমএইচএম (MHM) ল্যাবরেটরি বা গবেষণাগার স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের তহবিল এবং বহিরাগত সহায়তার মাধ্যমে এই গবেষণাগারটি স্থাপন করা হয়।
যখন একটি গ্রাম নিজের দায়িত্ব নিজেই নেয়
যেহেতু স্যানিটেশন বা পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসগুলি পরিবার এবং বিদ্যালয়গুলির অভ্যন্তরে শিকড় গেড়ে বসছে, তাই সমাজ বা সম্প্রদায় স্তরে সেগুলিকে টিকিয়ে রাখার জন্য যৌথ ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গৃহস্থালির বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ এবং প্রক্রিয়াজাত করা প্রয়োজন; ধূসর জল বা গ্রে-ওয়াটারের জন্য উপযুক্ত নিষ্কাশন ও অপসারণ ব্যবস্থা প্রয়োজন; এবং গণপরিসরগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। এখানেই গ্রাম পঞ্চায়েত একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা গ্রহণ করে।
এসবিএম-জি (SBM-G)-এর অধীনে, গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি গ্রাম স্তরের স্যানিটেশন কার্যক্রমের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের জন্য দায়ী। তাদের ভূমিকা কেবল পরিকাঠামো তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ, চাহিদা তৈরি, স্বাস্থ্যবিধি প্রচার, তথ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ (IEC) এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বিস্তৃত। এইভাবে, গ্রাম পঞ্চায়েত সেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রদান করে যা যৌথ স্যানিটেশন ফলাফলের সাথে ব্যক্তিগত অভ্যাসগুলিকে সংযুক্ত করে।
ভিলেজ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন কমিটিগুলি গ্রাম স্তরের পরিকল্পনা, উদ্বুদ্ধকরণ, বাস্তবায়ন, তত্ত্বাবধান এবং আচরণগত পরিবর্তনে সহায়তা করে এই সম্প্রদায়-ভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে। এই ধরনের যৌথ মালিকানার প্রভাব হরিয়ানার গাদলি গ্রাম পঞ্চায়েতে স্পষ্ট, যা একটি প্রক্রিয়া-চালিত সামাজিক পদ্ধতির মাধ্যমে 'ওডিএফ প্লাস মডেল' মর্যাদা অর্জন করেছে। সরপঞ্চ, কান্তা কানওয়ার পরিচ্ছন্নতা কমিটির সাথে কাজ করে সামাজিক ও পৃথক শৌচাগার, গ্রামব্যাপী নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পাঁচটি পুকুরের মাধ্যমে ধূসর জল বা গ্রে-ওয়াটার শোধন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। গ্রামটি গোবর্ধন বায়োগ্যাস প্ল্যান্টও গ্রহণ করেছে, যা গোবরকে সার এবং বায়োগ্যাসে রূপান্তরিত করে, যার ফলে উৎপন্ন স্লাড়ি কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়। গণর্যালি, সভা এবং ঘোষণার মাধ্যমে এই অভ্যাসগুলিকে আরও জোরদার করা হয়েছে। গাদলি এটিই প্রদর্শন করে যে, কিভাবে ব্যক্তিগত স্যানিটেশন অভ্যাসগুলি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং যৌথ প্রয়াসের দ্বারা সমর্থিত হলে একটি গ্রামব্যাপী স্যানিটেশন ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হতে পারে।
জনগণ নেতৃত্ব দেয়, প্রতিষ্ঠান স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে
জনগণের নেতৃত্বাধীন এই পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি অর্থায়ন, অভিসরণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করে। এসবিএম-জি (SBM-G) সরকারি বরাদ্দ, অর্থ কমিশন অনুদান, বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)-এর তহবিল এবং অন্যান্য রাজস্ব-উৎপাদনকারী ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সম্পদ সংগ্রহ করে। দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা – জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন (DAY-NRLM)-এর সাথে অভিসরণ স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG) এবং ক্লাস্টার লেভেল ফেডারেশন (CLF)-গুলিকে সম্পৃক্ত করে, যেখানে দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলি মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা বাড়ায় এবং জল জীবন মিশন ধূসর জল বা গ্রে-ওয়াটার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে। এই বহুমুখী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সরকারি সহায়তার সাথে সামাজিক পদক্ষেপকে সংযুক্ত করে: গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেয়, ব্লকগুলি প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করে, জেলাগুলি কারিগরি সহায়তা প্রদান করে এবং রাজ্য ও কেন্দ্র অর্থায়ন, অভিসরণ ও পরিধি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
পরিচ্ছন্নতা যখন একটি যৌথ উৎসবে পরিণত হয়
জনভাগীদারী (Jan Bhagidari) পরিচ্ছন্নতাকে একটি যৌথ সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে আরও সুদৃঢ় করে। পরিচ্ছন্নতার অভিযানগুলি পঞ্চায়েত প্রতিনিধি, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, যুবসমাজ, বিদ্যালয় এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে একসাথে নিয়ে আসে, যাতে যৌথ মালিকানাকে নিয়মিত কার্যকলাপে রূপান্তর করা যায়। কর্ণাটকের 'স্বচ্ছ শনিবার' এর একটি অন্যতম উদাহরণ। প্রতিটি অভিযানের আগে, পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা গ্রামের সাধারণ মানুষ, যুব সংগঠন, সমবায় এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির সাথে আলোচনা করেন। প্রতি মাসের প্রথম শনিবারে, স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যালয়, অঙ্গনওয়াড়ি, হাসপাতাল, কার্যালয়, জলের উৎস, মন্দির এবং অন্যান্য গণপরিসর জুড়ে পরিচ্ছন্নতার কাজ পরিচালনা করেন। এই কার্যক্রমগুলির মধ্যে রয়েছে শ্রমদান, বর্জ্য পৃথকীকরণ, নর্দমা পরিষ্কার, কম্পোস্ট পিটের জন্য জায়গা নির্ধারণ এবং দেওয়ালে লেখার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার বার্তা বা মেসেজগুলিকে আরও জোরদার করা।
স্বচ্ছতা হি সেবা:
অংশগ্রহণকে গণআন্দোলনে রূপান্তর
২০১৭ সালে শুরু হওয়া 'স্বচ্ছতা হি সেবা' (SHS) হলো পরিচ্ছন্নতায় নাগরিকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত একটি বার্ষিক প্রচার অভিযান। এটি পরিচ্ছন্নতার যৌথ দায়িত্বকে কেন্দ্র করে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সংস্থা, সংগঠন এবং নাগরিকদের এক সুতোয় বেঁধে দেয়। এই অভিযানটি পরিচ্ছন্নতাকে একটি দৈনন্দিন অভ্যাস হিসাবে উৎসাহিত করে জনভাগীদারী পদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। 'স্বচ্ছতা হি সেবা ২০২৫' অভিযানে ১৮.০৬ কোটিরও বেশি নাগরিক অংশ নিয়েছিলেন। 'স্বচ্ছতা হি সেবা ২০২৬' আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে। এর মূল ভাবনা বা থিম হলো “স্বচ্ছতায় সহভাগ; স্বচ্ছ ভারত, বিকশিত ভারত”। আগামী ১ অক্টোবর, নাগরিকরা “এক দিন, এক ঘণ্টা, এক সাথ” উদ্যোগের অধীনে যৌথ শ্রমদান পরিচালনা করবেন। ২ অক্টোবর, গ্রামগুলিতে বিশেষ গ্রাম সভা এবং পরিচ্ছন্নতা সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। এই অভিযানটি আরও পরিচ্ছন্ন গণপরিসর এবং দীর্ঘস্থায়ী পরিচ্ছন্নতার জন্য সামাজিক পদক্ষেপকেও উৎসাহিত করবে।
পরিচ্ছন্নতাকে কেন্দ্র করে এক নতুন অর্থনীতি
যৌথ স্বাস্থ্যবিধি বা পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা গড়ে ওঠার সাথে সাথে তা জীবিকার নতুন সুযোগও তৈরি করতে পারে।
মধ্যপ্রদেশের বেতুলে, ববিতা ধুর্ভে গৃহস্থালির বর্জ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জীবিকার একটি নতুন পথ খুঁজে পেয়েছেন। ২০২১ সালে বাবা-মা উভয়কেই হারানোর পর, তিনি বর্জ্য সংগ্রহের জন্য একটি ই-রিকশা চালানোর আবেদন নিয়ে তাঁর গ্রাম পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হন। শুরুতে সমাজের পক্ষ থেকে কিছুটা বাধা আসা সত্ত্বেও, তিনি গাড়িটি চালানো শেখেন এবং জেলার প্রথম নারী ই-রিকশা বর্জ্য সংগ্রাহক হয়ে ওঠেন, যা তাঁকে নিজের গ্রামে থেকেই জীবিকা অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে। বেতুলের প্রায় ১০০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এখন বর্জ্য সংগ্রহের যানবাহন ব্যবহার করায়, এই উদ্যোগটি এটিই প্রদর্শন করে যে, কীভাবে স্যানিটেশন ব্যবস্থা একই সাথে গ্রামের পরিচ্ছন্নতা বাড়াতে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।
স্যানিটেশনে জীবিকার সম্ভাবনা কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পরিচ্ছন্নতার পরিকাঠামো টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং পরিষেবার ক্ষেত্রেও বিস্তৃত। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ায়, শৌচাগার নির্মাণের প্রসারের ফলে প্রশিক্ষিত রাজমিস্ত্রিদের চাহিদা তৈরি হয়, যার ফলে দুটি রাজমিস্ত্রি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়। সেখানে প্রায় ২,৪০০ জন পুরুষ ও নারীকে শৌচাগার নির্মাণের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এটি প্রতিফলিত করে যে স্যানিটেশন ব্যবস্থা নির্মাণ, সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ জুড়ে জীবিকার একটি বৃহত্তর স্থানীয় ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারে।
বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করছে এসবিএম-জি
স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হওয়ার সাথে সাথে, সামাজিক বা সম্প্রদায়-ভিত্তিক প্রচেষ্টার জন্য ক্রমেই উপযুক্ত পরিকাঠামো এবং কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন দেখা দেয়। গুজরাটের বেদঞ্চা প্রদর্শন করে যে, কীভাবে সামাজিক চাহিদা একটি স্থানীয়ভাবে ডিজাইন করা বর্জ্য জল ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হতে পারে। এর ধূসর জল বা গ্রে-ওয়াটার শোধন ব্যবস্থাটি স্থানীয় জমি এবং জলপ্রবাহের ধরনের ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যেখানে স্থানীয় ঠিকাদারেরা সহায়তা প্রদান করেন
এর পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত ছিলেন। পঞ্চায়েত সদস্য, অপারেটর এবং অংশগ্রহণকারী নাগরিকদেরও এই ব্যবস্থাটি পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এই সিস্টেমটি প্রতিদিন ২০০ কিলো-লিটার ধূসর জল বা গ্রে-ওয়াটার শোধন করে, যা সেচকাজ এবং ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই কম্পোস্ট এবং শোধিত জলের পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে পঞ্চায়েত বার্ষিক প্রায় ২.৫ লক্ষ টাকা আয় করে। একই সাথে, এই উদ্যোগটি জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নেও অবদান রেখেছে, যার মধ্যে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ এবং মশা-বাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব হ্রাস পাওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এই মডেলটি প্রদর্শন করে যে, কীভাবে স্যানিটেশন কেবল বর্জ্য নিষ্কাশন এবং সম্পদ পুনরুদ্ধার থেকে পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং স্থানীয় মূল্য সৃষ্টির দিকে অগ্রসর হতে পারে।
তাই, গ্রামীণ স্যানিটেশনের মূল উদ্দেশ্য হল, দীর্ঘস্থায়ী আচরণগত পরিবর্তন এবং সামাজিক বা যৌথ মালিকানা। একটি ওডিএফ প্লাস (ODF Plus) গ্রামকে কেবল ওডিএফ মর্যাদা বজায় রাখলেই চলবে না, বরং কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে হবে এবং একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। ফলস্বরূপ, ভারতের স্যানিটেশন যাত্রা সহজলভ্যতা বা অ্যাক্সেস থেকে ব্যবহারের দিকে এবং ব্যবহার থেকে স্থায়িত্বের দিকে এগিয়ে গেছে।
স্বচ্ছ ভারতের দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য কেবল তৈরি হওয়া পরিকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সাধারণ মানুষ এবং সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও একটি দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে কি না, তার ওপর নির্ভর করে। “পরিচ্ছন্ন গ্রাম সমাজের জন্য তৈরি করা হয় না; পরিচ্ছন্ন গ্রাম সমাজ নিজেই তৈরি করে।”
তথ্যবিবরণী
Ministry of Jal Shakti
https://gobardhan.sbm.gov.in/
https://sbm.gov.in/SBMGDashboard/StatesDashboard.aspx
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1820414®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/newsite/PrintRelease.aspx?relid=151337®=48&lang=2
https://swachhbharatmission.ddws.gov.in/sites/default/files/Technical-Notes/Voices-from-the-States-29-April-2023.pdf
https://swachhbharatmission.ddws.gov.in/sites/default/files/Guidelines/SBMG%20Phase-II%20Operational%20Guidelines.pdf
PIB Backgrounders
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2191618®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=160036&ModuleId=3®=3&lang=1
Click here to see PDF
*******
SSS/RP.....
(রিলিজ আইডি: 2312801)
ভিজিটরের কাউন্টার : 3