PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

বিবর্তন, সহযোগিতা ও ভারতের নেতৃত্ব

প্রকাশিত: 10 SEP 2026 12:43PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ 

 

চারটি উদীয়মান অর্থনীতিকে সংজ্ঞা দিতে একটি সংক্ষিপ্ত নাম আজ অনেক বড় একটি মঞ্চে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে চারটি মহাদেশজুড়ে বিস্তৃত একটি ভূ-রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে BRICS-এর পরিচিতি তৈরি হয়েছে। চার দেশের আলাপ-আলোচনা থেকে আজকের বিস্তৃত গোষ্ঠীতে পরিণত হওয়ার পথে একের পর এক নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছে। তেল উৎপাদনকারী দেশ, আফ্রিকার বিভিন্ন অর্থনীতি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অংশীদার দেশগুলি এই গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছে। এই সম্প্রসারিত কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে ভারত। এ বছর, প্রতিষ্ঠার পর চতুর্থবারের মতো BRICS-এর সভাপতিত্ব অর্জন করেছে ভারত।

BRICS: অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে

প্রধান উদীয়মান অর্থনীতিগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক নীতির সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসাবে BRICS-এর গুরুত্ব বেড়েছে। আন্তর্জাতিক প্রশাসন ও বিশ্ব পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে সদস্য দেশগুলি এই মঞ্চে অভিন্ন অবস্থান তৈরি করে। ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে BRICS। উন্নয়ন, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং জনসম্পর্কের মতো বিভিন্ন বিষয় এর আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উদীয়মান অর্থনীতিগুলির ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে এই গোষ্ঠীতে। অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এবং অভিন্ন সমস্যার সমাধানে সদস্য দেশগুলিকে একটি যৌথ মঞ্চও দেয় BRICS।

২০২৬ সালে ভারতের সভাপতিত্বে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ১৮তম BRICS শীর্ষ সম্মেলন। ২০২৬ সালে চতুর্থবারের মতো BRICS-এর সভাপতিত্ব করছে ভারত। ভারতের সভাপতিত্বের মূল ভাবনা হল “স্থিতিশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও সুস্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ”। এই ভাবনার মাধ্যমে BRICS-এর অর্জনগুলিকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকারিতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন, সুস্থায়িত্ব ও উদ্ভাবনকে আলোচ্যসূচির কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে গ্লোবাল সাউথের প্রত্যাশাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গঠনমূলক ও সমাধানমুখী মঞ্চ হিসাবে BRICS-কে আরও শক্তিশালী করতে চায় ভারত।

বর্তমানে BRICS-এর সদস্য দেশ ১১টি। এগুলি হল ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। এই দেশগুলি সম্মিলিতভাবে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৯.৫ শতাংশ, আন্তর্জাতিক জিডিপির ৪০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ২৬ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। এই পরিসংখ্যানগুলি তাদের বিপুল জনসংখ্যাগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে। সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকা পর্যন্ত BRICS-এর ভৌগোলিক পরিসরও বেড়েছে। এই বৈচিত্র্যের মধ্যে রয়েছে বড় বাজার, প্রাকৃতিক সম্পদ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বিভিন্ন দেশের উন্নয়নের অভিজ্ঞতা।

BRICS-এর সূচনা

‘BRIC’ সংক্ষিপ্ত নামটি ২০০১ সালে গোল্ডম্যান স্যাকস তাদের ‘The World Needs Better Economic BRICs’ শীর্ষক Global Economics Paper-এ ব্যবহার করে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পরবর্তী পাঁচ দশকে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চিন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিগুলির মধ্যে থাকবে। তিনটি মহাদেশজুড়ে তাদের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও বিস্তৃত ভৌগোলিক অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাদের সম্ভাব্য গুরুত্ব তুলে ধরে। পরে BRIC একটি আনুষ্ঠানিক গোষ্ঠীতে পরিণত হয়। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যোগ দেওয়ার পর BRIC-এর নাম হয় BRICS। এর মাধ্যমে বিশ্লেষকদের চিহ্নিত একটি অর্থনৈতিক গোষ্ঠী থেকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক মঞ্চে BRICS-এর যাত্রা শুরু হয়।

লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সহযোগিতার ক্ষেত্র

আন্তর্জাতিক আলোচ্যসূচির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংলাপের মঞ্চ হিসাবে BRICS-এর প্রাথমিক ধারণা তৈরি হয়েছিল। শুরুতে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান তৈরির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আরও গণতান্ত্রিক, গ্রহণযোগ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। উদীয়মান অর্থনীতিগুলির মধ্যে সুস্থায়ী অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং সকলের সমৃদ্ধির উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে এই অগ্রাধিকারগুলি সদস্য দেশগুলির মধ্যে আরও গভীর ও বিস্তৃত সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে।

পরপর অনুষ্ঠিত বিভিন্ন শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে BRICS-এর সহযোগিতার ক্ষেত্র ক্রমশ বিস্তৃত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক কৌশলগত বিষয় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা। সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং কৃষি এই আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। শ্রম ও কর্মসংস্থান, টেলিযোগাযোগ, আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির পরিস্থিতি নিয়েও BRICS আলোচনা করে। WTO এবং আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থার মতো প্রতিষ্ঠানগুলিতে আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব ও সমতার পক্ষে BRICS অবস্থান নিয়েছে। এর লক্ষ্য আন্তর্জাতিক প্রশাসনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, কার্যকর এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তোলা।

BRICS-এর পথচলা: সংকট থেকে যৌথ উদ্যোগ

২০০৮ সালের আন্তর্জাতিক আর্থিক সংকট BRICS-এর বিবর্তনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে। এই সংকট আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সামনে নিয়ে আসে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রশাসন নিয়ে আরও বিস্তৃত ঐকমত্যের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়। চারটি BRIC দেশ এই বিষয়গুলিতে অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে। তারা আরও প্রতিনিধিত্বমূলক আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার দাবি জানায়। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (IMF) ও বিশ্বব্যাঙ্কে উদীয়মান অর্থনীতিগুলির আরও বেশি মতামতের সুযোগের পক্ষেও তারা সওয়াল করে। একইসঙ্গে সংরক্ষণবাদী নীতির বিরোধিতা করে উন্মুক্ত ও নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেয়। এই সমন্বিত উদ্যোগের ভিত্তিতেই ২০০৯ সালে রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে প্রথম BRIC শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চিনকে নিয়ে রাজনৈতিক সহযোগিতার মঞ্চ হিসেবে BRIC আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলির অভিন্ন লক্ষ্য ছিল আরও প্রতিনিধিত্বমূলক ও সমতাভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার পর BRIC-এর নাম হয় BRICS। এর ফলে, বিভিন্ন মহাদেশে গোষ্ঠীটির ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্ব আরও বিস্তৃত হয়। পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক বিষয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, জলবায়ু সংক্রান্ত উদ্যোগ, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের মতো ক্ষেত্রেও BRICS-এর আলোচনার পরিসর বাড়ে। এর ফলে, উদীয়মান অর্থনীতিগুলির মধ্যে সহযোগিতার আরও বিস্তৃত কাঠামো হিসাবে BRICS-এর গুরুত্ব বেড়েছে।

আরও বিস্তৃত BRICS: পরিসর বাড়ছে, সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে

BRICS-এর সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব শুরু হয় ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে। মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইন্দোনেশিয়া ১১তম পূর্ণ সদস্য হিসাবে যোগ দেয়। এর ফলে BRICS-এর ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একইসঙ্গে তৈরি হয়েছে Partner Country বা অংশীদার দেশ-এর নতুন শ্রেণী। ২০২৫ সালে এই কাঠামোর অধীনে ১০টি দেশ যোগ দেয়। দেশগুলি হল বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনাম। এই নতুন ব্যবস্থায় BRICS-এর সঙ্গে কাঠামোবদ্ধভাবে সহযোগিতার আরও একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অংশীদার দেশগুলির এই কাঠামো পূর্ণ সদস্যপদের কাঠামো পরিবর্তন না করেই BRICS-এর পরিসর আরও বাড়িয়েছে। এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ইউরেশিয়াজুড়ে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার সুযোগ আরও বেড়েছে। এই বিস্তৃত নেটওয়ার্কে বাণিজ্য, অর্থনীতি, জলবায়ু সংক্রান্ত উদ্যোগ এবং সুস্থায়ী উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগও তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রশাসন নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে উদীয়মান অর্থনীতিগুলির ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন ঘটেছে এই উদ্যোগে।

BRICS-এর বিবর্তন দেখায়, চার দেশের অর্থনৈতিক সংলাপ থেকে এটি এখন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আর্থিক ও সামাজিক সহযোগিতার একটি বিস্তৃত কাঠামোয় পরিণত হয়েছে। সম্প্রসারণের ফলে এর জনসংখ্যাগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব ও সহযোগিতার ক্ষেত্র। উদীয়মান অর্থনীতিগুলির পরিবর্তিত অগ্রাধিকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে BRICS-এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোও বিকশিত হয়েছে।

BRICS-এর সভাপতিত্ব : পর্যায়ক্রম ও দায়িত্ব

BRICS-এর সংক্ষিপ্ত নামের অক্ষরগুলির ক্রম অনুযায়ী প্রতি বছর সভাপতিত্বের দায়িত্ব পরিবর্তিত হয়। প্রতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশের সভাপতিত্ব থাকে। যে দেশ সভাপতিত্ব করে, সেই দেশ ওই বছরের আলোচ্যসূচির অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে। বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজনের পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক ও ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক পরিচালনার দায়িত্বও থাকে সভাপতিত্বকারী দেশের। সাম্প্রতিক সময়ে BRICS-এর সদস্য সংখ্যা বাড়ায় সভাপতিত্বের নতুন পর্যায়ক্রম নিয়েও সদস্য দেশগুলির মধ্যে আলোচনা চলছে।

BRICS-এর নেতৃত্বে ভারত : ধারাবাহিকতা থেকে ঐকমত্যের পথে

এ বছর তো বটেই, ভারত এর আগেও ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে BRICS-এর সভাপতিত্ব করেছে। প্রতিটি সভাপতিত্বের সময় সংশ্লিষ্ট সময়ের অগ্রাধিকার ও চ্যালেঞ্জকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বারবার BRICS-এর নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে এই গোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হয়েছে। একইসঙ্গে গঠনমূলক বহুপাক্ষিকতা এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলির অগ্রাধিকারের প্রতি ভারতের অঙ্গীকারও প্রতিফলিত হয়েছে।

২০১২ : আরও শক্তিশালী সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি

২০১২ সালের ২৯ মার্চ নয়াদিল্লিতে চতুর্থ BRICS শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে ভারত। “BRICS Partnership for Global Stability, Security and Prosperity” বা “আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য BRICS অংশীদারিত্ব” ছিল সম্মেলনের মূল ভাবনা। আন্তর্জাতিক প্রশাসনের সংস্কার, সুস্থায়ী উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে BRICS সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে দিল্লি ঘোষণা এবং একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এর ফলে, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়।

প্রধান ফলাফল

- পরিকাঠামো ও সুস্থায়ী উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ জোগানের জন্য নতুন একটি উন্নয়ন ব্যাঙ্ক গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটি BRICS-এর পাশাপাশি, অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলিকেও সহায়তা করার জন্য কাজ করবে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে বিদ্যমান বহুপাক্ষিক ও আঞ্চলিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির পরিপূরক হিসাবে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল এই প্রতিষ্ঠানের।

- সদস্য দেশগুলি স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা এবং BRICS-এর সদস্য দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে Master Agreement on Extending Credit Facility in Local Currency-তে স্বাক্ষর করে।

- BRICS-এর সদস্য দেশগুলির জন্য আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসাবে Contingent Reserve Arrangement (CRA) তৈরির ভিত্তিও এই সম্মেলনে গড়ে ওঠে। এর লক্ষ্য ছিল স্বল্পমেয়াদী তরল সহায়তা দেওয়া এবং আর্থিক অস্থিরতা মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলিকে সহায়তা করা।

- কৃষি, স্বাস্থ্য এবং বিজ্ঞান ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতার জন্য নতুন যৌথ উদ্যোগ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয় ভারত।

২০১৬: গোয়া সম্মেলনে BRICS-এর পরিসর আরও বাড়ল

২০১৬ সালের অক্টোবরে গোয়ায় অষ্টম BRICS শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে ভারত। “Building Responsive, Inclusive and Collective Solutions” বা “দায়বদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও যৌথ সমাধান গড়ে তোলা” ছিল সম্মেলনের মূল ভাবনা। ভারতের সভাপতিত্বে BRICS-এর সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি, বাইরের দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, বাণিজ্য, উদ্ভাবন এবং বহুপাক্ষিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া হয়। গোয়া সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উদীয়মান চ্যালেঞ্জ এবং বাস্তব সহযোগিতার উপর BRICS-এর গুরুত্ব আরও জোরালো হয়।

প্রধান ফলাফল

- নবগঠিত New Development Bank (NDB)-এর কার্যক্রম আরও সুসংহত হয়। প্রথম দফার ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে এর কাজ আরও এগিয়ে যায়। এই ঋণের বড় অংশ পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে দেওয়া হয়।

- পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির সুযোগ বাড়ানো, পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকে যৌথ অগ্রাধিকার হিসাবে তুলে ধরা হয়।

- HIV ও যক্ষ্মা মোকাবিলায় আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

- সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় BRICS-এর ঘোষণায় আরও জোরালো অবস্থান নিশ্চিত করে ভারত। একইসঙ্গে FATF (Financial Action Task Force)-এর মানদণ্ড মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

- Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation (BIMSTEC)-এর আউটরিচ সম্মেলনের মাধ্যমে BRICS এবং বৃহত্তর বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিনিয়োগ, পরিবেশ, প্রযুক্তি ও পরিকাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়।

- BRICS Agriculture Research Platform, BRICS Railway Research Network, BRICS Sports Council এবং যুবসমাজকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সহযোগিতার মঞ্চ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়।

২০২১: পরিবর্তনশীল বিশ্বে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা

২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ভার্চুয়াল মাধ্যমে ১৩তম BRICS শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে ভারত। BRICS-এর ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বছরেই এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। “BRICS@15: Intra-BRICS Cooperation for Continuity, Consolidation and Consensus” ছিল সম্মেলনের মূল ভাবনা। প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং বৃহত্তর ঐকমত্য গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেয় ভারত। স্বাস্থ্য, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং সুস্থায়ী উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া হয়।

প্রধান ফলাফল

- ভারত BRICS Counter-Terrorism Action Plan গ্রহণে নেতৃত্ব দেয়।

- ভারতের সভাপতিত্বে প্রথমবারের মতো BRICS Digital Health Summit অনুষ্ঠিত হয়।

- বর্তমান ও ভবিষ্যতের অতিমারি মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের লক্ষ্যে BRICS Vaccine Research and Development Center গড়ে তোলা হয়।

- BRICS Remote Sensing Satellite Constellation নিয়ে সহযোগিতার চুক্তি হয়। এর মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পর্যবেক্ষণের জন্য সদস্য দেশগুলি দূর অনুধাবন প্রযুক্তির তথ্য ভাগ করে নিতে পারে।

- সুস্থায়ী সম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ভারত নতুন মন্ত্রী পর্যায়ের সহযোগিতার উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে ছিল BRICS Alliance for Green Tourism এবং প্রথম BRICS Water Ministers Meeting।

পরপর BRICS-এর সভাপতিত্ব করার মাধ্যমে এর প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকরী বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে ভারত।

 আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতের অগ্রাধিকারগুলিও বদলেছে। একইসঙ্গে বাস্তব সহযোগিতার উপর গুরুত্ব বজায় রয়েছে। এ বছর ভারতের সভাপতিত্ব এই অভিজ্ঞতা এবং BRICS-এর সম্প্রসারিত সদস্যপদের উপর ভিত্তি করে এগিয়ে চলেছে।

BRICS 2026: মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক থেকে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল

এবছর ১ জানুয়ারি চতুর্থবারের মতো BRICS-এর সভাপতিত্ব গ্রহণ করে ভারত। সভাপতিত্বের সময় BRICS সহযোগিতার অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলিতে একাধিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করে ভারত। সারা বছর ধরে সদস্য দেশগুলি অভিন্ন অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে মতামত বিনিময় করেছে। এই আলোচনার মাধ্যমে BRICS-এর তিনটি মূল স্তম্ভে সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই তিনটি স্তম্ভ হল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক ও জনসম্পর্কের আদান-প্রদান।

ভারতের সভাপতিত্বে ২৫টি শহরে ৩৫০টিরও বেশি বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠক থেকে সহযোগিতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাস্তবমুখী ও উন্নয়নকেন্দ্রিক ফলাফল উঠে এসেছে। ২০২৬ সালে ভারতের BRICS সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকগুলির উল্লেখযোগ্য ফলাফলগুলি হল:

কৃষি ও কৃষি গবেষণা

- BRICS Centres of Excellence on Agro-Ecology গড়ে তোলার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। প্রাকৃতিক, জৈব ও পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি পদ্ধতি নিয়ে যৌথ গবেষণা, জ্ঞান বিনিময় ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এটি একটি সহযোগিতার মঞ্চ হিসাবে কাজ করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম ও সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য। প্রাথমিকভাবে এর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবে ICAR-Indian Institute of Farming Systems Research, Modipuram।

- BRICS Network on Digital Agriculture গড়ে তোলার মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা, ভূ-স্থানিক প্রযুক্তি, IoT-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং উন্নত তথ্য বিশ্লেষণের ব্যবহার ও প্রসার আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবে IIT Delhi।

- BRICS AGRIN (Agro-Inputs, Genetic Resources and Information Network) গড়ে তোলার বিষয়ে সম্মতি হয়েছে। BRICS-এর সদস্য দেশগুলির মধ্যে বীজ, জার্মপ্লাজম ও কৃষি উপকরণ নিয়ে সহযোগিতা বাড়াতে এটি একটি স্বেচ্ছাভিত্তিক ও কৃষককেন্দ্রিক কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।

স্বাস্থ্য ও সুস্থ জীবনযাপন

- BRICS Mission for Healthy Lifestyle-এর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে BRICS Roadmap for a Joint Initiative on Healthy Lifestyle Promotion (2026-2029)-ও গ্রহণ করা হয়েছে। স্থূলতা এবং অন্যান্য অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় এবং সমন্বিত সচেতনতা কর্মসূচির জন্য এটি একটি যৌথ মঞ্চ হিসাবে কাজ করবে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

- BRICS Expert Working Group on Traditional, Complementary and Integrative Medicine (TCIM) গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। TCIM নিয়ে নীতি আলোচনা, গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক তথ্য তৈরি, দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষাগত আদান-প্রদান, ডিজিটাল জ্ঞানভিত্তিক মঞ্চ, গুণমান ও নিয়ন্ত্রক মান এবং ঐতিহ্যবাহী ও আদিবাসী জ্ঞান সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কাঠামোবদ্ধ সহযোগিতার মঞ্চ হিসাবে এটি কাজ করবে।

- BRICS Training Hub Network এবং BRICS Network of Centres of Excellence-এর মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতের NIMHANS এই উদ্যোগের সমন্বয়কারী কেন্দ্র হিসাবে কাজ করবে। দক্ষতা বৃদ্ধি, দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবায় মানবসম্পদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে মানসিক সুস্থতাকে যুক্ত করাই এর লক্ষ্য।

ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও সুস্থায়ী জীবনযাপন

- জনকেন্দ্রিক ও সম্প্রদায়ভিত্তিক অভিযোজনের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় BRICS Principles for Advancing Climate Resilience through People-centric and Community-based Adaptation গ্রহণ করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী ও আদিবাসী জ্ঞান ব্যবস্থায় শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা শক্তিশালী করার জন্য BRICS Guiding Principles on Strengthening Academic Collaboration on Traditional and Indigenous Knowledge Systems-ও গ্রহণ করা হয়েছে।

- জ্ঞান বিনিময়, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং সুস্থায়ী জীবনযাপনের প্রসারে Network of BRICS Institutions to Advance Knowledge Sharing, Research & Innovation এবং Sustainable Lifestyles Week-এর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নীতি, কর্মসূচি, উদ্যোগ ও সেরা পদ্ধতি নিয়ে জ্ঞান বিনিময়, বিভিন্ন বিষয়ের উপর দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মশালা এবং শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অংশীদারের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। বিভিন্ন উদ্যোগের সাফল্যের উদাহরণও সংকলন করা হবে।

দক্ষতা ও কর্মসংস্থান

- BRICS CONNECT for Skilling গড়ে তোলা হয়েছে। এটি BRICS Virtual Liaison Office-এর উপর ভিত্তি করে সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং নতুন দক্ষতা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার একটি নেটওয়ার্ক। সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নিয়ে চারটি ক্ষেত্রে এটি কাজ করবে। এই সহযোগিতা স্বেচ্ছাভিত্তিক এবং বাধ্যতামূলক নয়।

জ্বালানি ও নগর পরিকাঠামো

- Smart Grids and Energy Storage-এর ক্ষেত্রে BRICS Guiding Principles on Energy Storage and Smart Grids গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে BRICS Digital Centre of Excellence for Smart Grids and Energy Storage চালু করা হয়েছে। সদস্য দেশগুলির মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, দক্ষতা বৃদ্ধি, নীতি ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার সেরা পদ্ধতি ভাগ করে নেওয়া এবং পরীক্ষামূলক উদ্যোগের প্রসারে এটি একটি স্বেচ্ছাভিত্তিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে।

- BRICS Urban Mobility Hub প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নগর পরিকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। সুস্থায়ী নগর পরিবহণের ক্ষেত্রে জ্ঞান বিনিময়, দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার জন্য এটি একটি ভার্চুয়াল যৌথ মঞ্চ।

- জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকিকে নগর পরিকল্পনা, নকশা, বিনিয়োগ, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করতে BRICS Voluntary Principles for Climate Resilient Urban Infrastructure গ্রহণ করা হয়েছে।

- প্রয়োগভিত্তিক নগর গবেষণা, বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার জন্য BRICS Urban Research and Knowledge Network গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

MSME ও স্টার্টআপ

- BRICS MSME Cooperation Portal গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। BRICS-এর সব সদস্য দেশের জন্য উন্মুক্ত এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ, প্রযুক্তি কেন্দ্র ও ক্লাস্টার, বাণিজ্য সংগঠন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীদাররা সুবিধা পাবেন। MSME-গুলির আন্তর্জাতিকীকরণের জন্য Dialogue on MSME Finance এবং একটি Workplan on the Internationalisation of MSMEs-ও গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাজার ও অর্থায়নের সুযোগ আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

- BRICS Incubator Network গড়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে BRICS-এর বিভিন্ন দেশের জাতীয় নোডাল সংস্থা, নির্বাচিত ইনকিউবেটর এবং স্টার্টআপগুলিকে যুক্ত করা হবে। অংশগ্রহণকারী ইনকিউবেটরগুলিতে নিবন্ধন ও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। যোগ্য স্টার্টআপগুলিকে অন্য BRICS দেশের ইনকিউবেটরের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে।

- প্রাথমিক ও সম্প্রসারণ পর্যায়ের স্টার্টআপগুলির জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে এবং উদ্ভাবনভিত্তিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে BRICS Startup Innovation Fund গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞান, গবেষণা ও সরবরাহ ব্যবস্থা

- BRICS Science and Research Repository-কে সদস্য দেশগুলির মধ্যে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান সংরক্ষণ ও বিনিময়ের একটি কাঠামোবদ্ধ মঞ্চ হিসাবে গ্রহণ করা হয়েছে।

- BRICS Logistics Supply-Chain Cooperation Framework একটি স্বেচ্ছাভিত্তিক ও ঐকমত্যভিত্তিক কাঠামো হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও সুস্থায়ী করাই এর লক্ষ্য। সরবরাহ ব্যবস্থার বিচ্ছিন্নতা ও দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত আদান-প্রদান, পণ্য পরিবহণ ও জাহাজ পরিষেবা নিয়ে জ্ঞান বিনিময়, স্থানীয় উৎপাদন ও সংযোজন ব্যবস্থা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একইসঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা

- GVC Action Plan 2026-2030-এর মাধ্যমে BRICS Cooperation on Global Value Chains এগিয়ে নেওয়া হবে। এর মধ্যে একটি Technical Council এবং GVC Joint Study রয়েছে। এর লক্ষ্য BRICS-এর সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মূল্যশৃঙ্খলকে আরও স্থিতিশীল, কার্যকর ও উৎপাদনশীল করা। একইসঙ্গে বাজার উন্মুক্ত করা এবং সদস্য দেশগুলির অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

- BRICS Agreement on Cooperation and Mutual Administrative Assistance in Customs Matters-এর ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলি নীতিগতভাবে অনুমোদন এবং চুক্তিতে স্বাক্ষরের ইচ্ছা নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে বাণিজ্য আরও দ্রুত করা, লেনদেনের খরচ কমানো, সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়ানো, বাণিজ্য সহজ করা, ব্যবসা পরিচালনার সুবিধা বাড়ানো এবং অবৈধ বাণিজ্য মোকাবিলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

- Cooperation in the Field of Standardization-এর জন্য BRICS-এর জাতীয় মান নির্ধারণকারী সংস্থাগুলির প্রধানদের মধ্যে একটি MoU স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে মান তৈরি, গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। তথ্য বিনিময়, সেরা পদ্ধতি ভাগ করে নেওয়া, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, গুণমানের পরিকাঠামো শক্তিশালী করা, ভোক্তা সুরক্ষা বাড়ানো এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বাধা কমানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া

- BRICS Youth Cooperation Framework 2026 গ্রহণ করা হয়েছে। BRICS Youth Track-এর অধীনে ভবিষ্যতের আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাস্তব উদ্যোগের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা ও সুসংগঠিত সহযোগিতা নিশ্চিত করতে এটি একটি নির্দেশিকা হিসাবে কাজ করবে।

- নতুন একটি Working Group-এর মাধ্যমে Sport Technology Cooperation-কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভালো পদ্ধতি, প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গবেষণার ফলাফল বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

ভারতের ২০২৬ সালের BRICS সভাপতিত্বে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকগুলির ফলাফল থেকে বাস্তব সহযোগিতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং গ্লোবাল সাউথের জন্য আরও শক্তিশালী কণ্ঠস্বরের উপর ধারাবাহিক গুরুত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

২০২৬: আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের পথে BRICS

ভারতের ২০২৬ সালের BRICS সভাপতিত্ব এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা অর্থনৈতিক বিভাজন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও সম্পদের উপর চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত এই চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতির প্রতি সংবেদনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সংলাপ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায় BRICS গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সম্প্রসারিত সদস্যপদ বড় বড় উদীয়মান অর্থনীতির বিভিন্ন মতামতকে এক মঞ্চে নিয়ে এসেছে। উন্নয়ন, জলবায়ু সংক্রান্ত উদ্যোগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে BRICS গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার নিয়েও আলোচনায় অবদান রাখতে পারে এই গোষ্ঠী।

ভারতের কাছে লক্ষ্য শুধু BRICS-এর পরিসর বাড়ানো নয়। আরও বেশি প্রতিনিধিত্বকে কার্যকর সহযোগিতা ও বাস্তব ফলাফলে পরিণত করাই মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন সদস্য দেশের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলার পাশাপাশি, বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলির কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর উপর ভারতের সভাপতিত্বে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গঠনমূলক শক্তি হিসাবে BRICS-কে আরও শক্তিশালী করতে চায় ভারত।

তথ্যসূত্র

Cabinet

Special Service and Features

 

Prime Minister's Office

Ministry of Commerce & Industry

Ministry of Environment, Forest and Climate Change

Ministry of Micro, Small & Medium Enterprises

BRICS

Ministry of External Affairs

Ministry Of Agriculture and Farmers Welfare

  • https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/185/AU271_UZhNkJ.pdf?source=pqals

Ministry of Health and Family Welfare

Click here to see pdf

 


*****
SSS/SS.......


(রিলিজ আইডি: 2308823) ভিজিটরের কাউন্টার : 3
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Gujarati , Urdu , हिन्दी