পোস্ট করার দিনক্ষণ:
03 SEP 2026 12:23PM by PIB Agartala
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ভারতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার ফলে সারা দেশে বিকেন্দ্রীভূত খাদ্যশস্য সংরক্ষণ পরিকাঠামোর গুরুত্ব বেড়েছে। ২০২৩ সালে চালু হওয়া সমবায় ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীভূত খাদ্যশস্য সংরক্ষণ পরিকল্পনা প্রাথমিক কৃষি ঋণ সমিতি (PACS)-এর মাধ্যমে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, সংগ্রহ এবং বণ্টন ব্যবস্থা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যমান সরকারি প্রকল্পগুলির সমন্বয়ের মাধ্যমে এই পরিকল্পনায় একটি সমন্বিত ও সমবায়ভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই উদ্যোগকে সমর্থন করা হচ্ছে। মোট ১১টি রাজ্যের PACS-এ ৯,৭৫০ মেট্রিক টন সংরক্ষণ ক্ষমতা নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সারা দেশের ৩১৩টি PACS-এ গুদাম নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে ১.৮০ লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি সংরক্ষণ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এই কাঠামোতে গুণমানের মানদণ্ড, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বর্ধনশীল কৃষি অর্থনীতির জন্য সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি
ভারতের খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা ঐতিহ্যবাহী সংরক্ষণ পদ্ধতি, বিকেন্দ্রীভূত স্থানীয় ব্যবস্থা এবং আধুনিক পরিকাঠামোর সমন্বয়ে ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে। এই সমন্বিত পদ্ধতি খাদ্যশস্য সংরক্ষণকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে। মাটির পাত্র বা ভাণ্ডার, মাটির নীচে গর্ত এবং মাটি দিয়ে প্রলেপ দেওয়া সংরক্ষণ কাঠামোর মতো ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির পাশাপাশি, গুদাম এবং সাইলো-ভিত্তিক আধুনিক পরিকাঠামোও ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তার চাহিদা বাড়ার ফলে, সারা দেশে আধুনিক ও বিকেন্দ্রীভূত সংরক্ষণ পরিকাঠামোর প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে।
তৃতীয় অগ্রিম হিসাব (২০২৫–২৬) অনুযায়ী, দেশে মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন ৩৭৬.৫৬৩ মিলিয়ন টন হওয়ার অনুমান করা হয়েছে। গত বছরের ৩৫৭.৭৩২ মিলিয়ন টন উৎপাদনের তুলনায় এটি প্রায় ১৮.৮ মিলিয়ন টন বা ৫.৩ শতাংশ বেশি। ভারত জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন, ২০১৩-এর আওতায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচিও পরিচালনা করে, যার মাধ্যমে প্রায় ৮০ কোটি মানুষ উপকৃত হন। এই চাহিদা পূরণের জন্য শক্তিশালী খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার প্রয়োজন। ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (FCI) এবং রাজ্য সংস্থাগুলির পরিচালিত কেন্দ্রীভূত সংরক্ষণ পরিকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিকেন্দ্রীভূত সংরক্ষণ ব্যবস্থাও সমানভাবে প্রয়োজনীয়। সমবায় মন্ত্রক উৎপাদন কেন্দ্রের কাছাকাছি খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এর ফলে, সংগ্রহ কেন্দ্র থেকে খাদ্যশস্য পরিবহণের খরচ কমানো, খাদ্যশস্যের অপচয় হ্রাস এবং খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে, সমবায় ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীভূত খাদ্যশস্য সংরক্ষণ পরিকল্পনা ৩১ মে ২০২৩ তারিখে একটি পাইলট প্রকল্প হিসাবে চালু করা হয়। সমবায়ের মাধ্যমে বিকেন্দ্রীভূত খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সমবায় কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল:
খাদ্যশস্যের অপচয় কমানো এবং খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করা,
কৃষকদের ফসল কম দামে বাধ্যতামূলকভাবে বিক্রি করা এড়ানোর সুযোগ বৃদ্ধি করা এবং উৎপাদিত ফসলের আরও ভালো দাম নিশ্চিত করতে সহায়তা করা,
সংগ্রহ কেন্দ্র, গুদাম এবং ন্যায্যমূল্যের দোকানের মধ্যে খাদ্যশস্য পরিবহণের খরচ কমানো,
কৃষি কার্যক্রমের বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে প্রাথমিক কৃষি ঋণ সমিতি (PACS)-এর ভূমিকা আরও সম্প্রসারিত করা। PACS হল গ্রাম-স্তরের প্রতিষ্ঠান, যা গ্রামীণ ঋণগ্রহীতাদের স্বল্পমেয়াদি ঋণ ও আর্থিক পরিষেবা প্রদান করে এবং ঋণ পরিশোধের অর্থ সংগ্রহে সহায়তা করে। এবং,
কৃষকদের জন্য আরও বেশি আয়ের সুযোগ তৈরি করতে সহায়তা করা।
সমন্বিত পরিকাঠামো ও অভিসারী কাঠামো
সমবায় ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীভূত খাদ্যশস্য সংরক্ষণ পরিকল্পনার লক্ষ্য হল PACS স্তরে সমন্বিত কৃষি পরিকাঠামো গড়ে তোলা।
বিদ্যমান সরকারি প্রকল্পগুলির সমন্বয়ের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা পরিচালিত হয়:
অ্যাগ্রিকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড (AIF) প্রকল্প — ফসল কাটার পরবর্তী পরিকাঠামো তৈরি ও উন্নত করার জন্য অর্থায়ন এবং সুদে ছাড়ের সহায়তা প্রদান করে।
অ্যাগ্রিকালচারাল মার্কেটিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার (AMI) প্রকল্প — খাদ্যশস্য সংরক্ষণ পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য পরবর্তী পর্যায়ে মূলধনী ভর্তুকি প্রদান করে।
সাব মিশন অন অ্যাগ্রিকালচারাল মেকানাইজেশন (SMAM) — কাস্টম হায়ারিং সেন্টার স্থাপন এবং কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে।
প্রধানমন্ত্রী ফরমালাইজেশন অফ মাইক্রো ফুড প্রসেসিং এন্টারপ্রাইজেস (PMFME) প্রকল্প — ক্ষুদ্র খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটগুলির আনুষ্ঠানিকীকরণ ও বিকাশে উৎসাহ দেয়।
এই প্রকল্পগুলির সমন্বয়ের ফলে PACS-গুলি সমন্বিত গ্রামীণ পরিষেবা কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষি পরিকাঠামো শক্তিশালী হচ্ছে, মূল্যশৃঙ্খলের উন্নতি ঘটছে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করা হচ্ছে।
সমবায় ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীভূত খাদ্যশস্য সংরক্ষণ পরিকল্পনার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও পরিষেবাগুলির মধ্যে রয়েছে:
কাস্টম হায়ারিং সেন্টার-এর মাধ্যমে PACS কৃষকদের ভাড়ায় দেওয়ার জন্য কৃষি যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে পারে। এর মধ্যে ট্র্যাক্টর, হারভেস্টার, টিলার এবং অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতি থাকতে পারে।
ন্যায্যমূল্যের দোকান-এর মাধ্যমে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে খাদ্যশস্য বণ্টন এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট-এ খাদ্যশস্য পরিষ্কার করা, বাছাই করা এবং শুকানোর মতো প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। এর ফলে কৃষিপণ্যের গুণমান ও বাজারজাত করার উপযোগিতা বৃদ্ধি পায়।
সংগ্রহ কেন্দ্র-এর মাধ্যমে রাজ্য সংস্থা এবং FCI-এর জন্য PACS-এর খাদ্যশস্য সংগ্রহের কাজে সহায়তা করা হয়।
এই পরিকল্পনার আওতায় সমবায়ভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থায় ৫০ মেট্রিক টন (MT), ১০০ মেট্রিক টন এবং ২০০ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন সাইলো-ভিত্তিক সংরক্ষণ পরিকাঠামো তৈরির ব্যবস্থা রয়েছে।
এই বাস্তবায়ন কাঠামোর আওতায় পরিকল্পনায় অংশগ্রহণকারী PACS-এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও যোগ্যতার মানদণ্ডও নির্ধারণ করা হয়েছে।
PACS নির্বাচন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
“মার্গদর্শিকা” (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) অনুযায়ী, ডিস্ট্রিক্ট কোঅপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট কমিটি (DCDC)-এর মাধ্যমে PACS চিহ্নিত ও অনুমোদিত হয়। যেখানে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের চাহিদা রয়েছে, সেইসব এলাকায় PACS নির্বাচন করা হয়।
পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনায় জমি সংক্রান্ত কিছু শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। PACS-এর ক্ষেত্রে নিজস্ব জমি থাকা অগ্রাধিকারযোগ্য। জমিটি জলমগ্ন হওয়া যাবে না এবং বনাঞ্চলে অবস্থিত হওয়া যাবে না। জমি ব্যবহারের জন্য PACS সদস্যদের সম্মতি প্রয়োজন। লিজ নেওয়া জমির ক্ষেত্রে লিজের মেয়াদ ২০ বছরের বেশি হওয়া আবশ্যক।
বাস্তবায়ন ব্যবস্থা:
ন্যাশনাল কোঅপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (NCDC) হল সমবায় ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীভূত খাদ্যশস্য সংরক্ষণ পরিকল্পনার বাস্তবায়নকারী সংস্থা।
জাতীয়, রাজ্য এবং জেলা স্তরে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করা হয়। জাতীয় স্তরে একটি ইন্টার-মিনিস্টেরিয়াল কমিটি (IMC) পরিকল্পনাটির সামগ্রিক বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করে। ন্যাশনাল লেভেল কোঅর্ডিনেশন কমিটি (NLCC) অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলির মধ্যে কার্যকরী সমন্বয়ে সহায়তা করে। স্টেট কোঅপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট কমিটি (SCDC) এবং ডিস্ট্রিক্ট কোঅপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট বা জেলা সমবায় উন্নয়ন কমিটি (DCDC) রাজ্য ও জেলা স্তরে বাস্তবায়ন এবং সমন্বয়ে সহায়তা করে।
আর্থিক সহায়তা ও প্রকল্পের কার্যকারিতা
পরিকল্পনার আওতায় প্রকল্পের আর্থিক কার্যকারিতা বাড়াতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে AMI প্রকল্পের আওতায় ভর্তুকি ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৩.৩৩ শতাংশ করা, মার্জিন মানির প্রয়োজনীয়তা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা এবং গুদাম নির্মাণের জন্য ব্যয়ের মানদণ্ডে সংশোধন আনা।
যোগ্য প্রকল্পগুলির জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সুদে ছাড় এবং ঋণ সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমেও আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়। AMI প্রকল্পের আওতায় ন্যাশনাল ব্যাংক ফর অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট (NABARD) যোগ্য প্রকল্পগুলির জন্য ভর্তুকি প্রদানের সংস্থা হিসেবে কাজ করে। স্টেট কোঅপারেটিভ ব্যাংক এবং ডিস্ট্রিক্ট সেন্ট্রাল কোঅপারেটিভ ব্যাংক PACS-এর প্রধান ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করে। বাস্তবায়ন কাঠামোর অধীনে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর রয়েছে।
অংশগ্রহণকারী সমবায়গুলির আর্থিক বোঝা কমাতে পরিকল্পনার আওতায় NABARD-এর বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন সুবিধাও ব্যবহার করা হয়। AIF-এর আওতায় পাওয়া ৩ শতাংশ সুদে ছাড়ের সঙ্গে এই সুবিধা যুক্ত হলে, পরিকল্পনার অধীনে PACS-এর কার্যকর ঋণের সুদের হার ১ শতাংশে নেমে আসে।
FCI-কেও নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে পরিকল্পনার আওতায় নির্মিত যোগ্য গুদামগুলি নিশ্চিতভাবে ভাড়ায় নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা সংরক্ষণ প্রকল্পগুলির আর্থিক কার্যকারিতা বাড়ায় এবং PACS-এর আরও বেশি অংশগ্রহণে উৎসাহিত করে।
এই কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণের মাধ্যমে পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পাইলট প্রকল্প থেকে সম্প্রসারণ
পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু করে ধাপে ধাপে বৃহত্তর পরিসরে সম্প্রসারণের মাধ্যমে পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাইলট পর্যায়ে ১১টি রাজ্যের ১১টি PACS-এ গুদাম নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে ৯,৭৫০ মেট্রিক টন সংরক্ষণ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এই পাইলট প্রকল্পগুলি মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, অসম, কর্ণাটক এবং ত্রিপুরা-তে বাস্তবায়িত হয়েছে। এই পাইলট প্রকল্পগুলি কার্যকর বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে এবং সমবায় স্তরে স্থানীয় সংরক্ষণ পরিকাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা প্রমাণ করেছে।
এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত পরিকল্পনার আওতায় ১,০১২টি PACS বা সমবায় সমিতি চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সময় পর্যন্ত ৩১৩টি PACS-এ গুদাম নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে ১.৮০ লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি সংরক্ষণ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
এই অগ্রগতি পরিকল্পনার ধারণাগত পর্যায় থেকে বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিফলন।
বাস্তবে সমবায়ভিত্তিক সংরক্ষণ: নেরপিঙ্গলাই PACS
মহারাষ্ট্রের অমরাবতীর নেরপিঙ্গলাই PACS সমবায় ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীভূত খাদ্যশস্য সংরক্ষণ পরিকল্পনার আওতায় ৩,০০০ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি গুদাম নির্মাণ করেছে। প্রকল্পটি অ্যাগ্রিকালচারাল মার্কেটিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার (AMI) এবং অ্যাগ্রিকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড (AIF) প্রকল্পের আওতায় সহায়তা পেয়েছে। NABARD-এর পুনঃঅর্থায়ন সহায়তার ফলে প্রকল্পটির কার্যকর ঋণের সুদের হার কমে ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৩০০ জন কৃষক এই গুদামে প্রায় ৩২,০০০ বস্তা সয়াবিন সংরক্ষণ করছেন। সংরক্ষিত কৃষিপণ্যের বিপরীতে সমিতি প্রায় ৪.৫০ কোটি টাকা অগ্রিম প্রদান করেছে। এর ফলে, কৃষকরা প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান পেতে পারছেন এবং কম দামে বাধ্যতামূলকভাবে ফসল বিক্রি করা এড়াতে পারছেন। PACS-এর বার্ষিক ভাড়া বাবদ প্রায় ৭.৬৮ লক্ষ টাকা এবং বার্ষিক সুদ বাবদ প্রায় ৫৪ লক্ষ টাকা আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই গুদাম পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষকদের সংরক্ষণ সুবিধা আরও সহজলভ্য করেছে এবং সমবায় সমিতির আয়ের ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে। এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, কিভাবে বিকেন্দ্রীভূত সংরক্ষণ পরিকাঠামো কৃষক সহায়তা ব্যবস্থা এবং গ্রামীণ সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করতে পারে।
গুণমানের মানদণ্ড, ব্র্যান্ডিং ও স্বচ্ছতা
এই পরিকল্পনার আওতায় তৈরি সংরক্ষণ পরিকাঠামোর জন্য অভিন্ন ব্র্যান্ডিং নির্দেশিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি সংরক্ষণ কাঠামোতে অনুমোদিত খাদ্যশস্য সংরক্ষণ লোগো এবং নির্ধারিত রঙের ব্যবহার করতে হবে। এর উদ্দেশ্য হল, এই উদ্যোগের একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো।
গুণমান নিশ্চিতকরণ:
এই মডেলে গুদাম নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গুণমানের মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। সংরক্ষণ কাঠামোকে ওয়্যারহাউসিং ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (WDRA)-এর নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এবং স্থানীয় পরিবেশগত পরিস্থিতির উপযোগী হতে হবে। নির্মাণকাজে দীর্ঘস্থায়ী ও ক্ষয়রোধী উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি, খাদ্যশস্যের নষ্ট হওয়া রোধ এবং গুণমান বজায় রাখতে যথাযথ বায়ু চলাচলের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
নির্ধারিত নকশা ও নিরাপত্তার মানদণ্ড মেনে চলা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন ও গুণমান নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। PACS সদস্যরা প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস (PMC) নির্মাণকাজ এবং ব্যয়ের বিষয়ে নিয়মিত তথ্য প্রদান করবেন। এর ফলে, বাস্তবায়ন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।
এই পদক্ষেপগুলির লক্ষ্য হল পরিকল্পনার আওতায় তৈরি পরিকাঠামো দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী, জবাবদিহিমূলক এবং নির্ধারিত গুণমানের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে তা নিশ্চিত করা।
ভারতের বিকেন্দ্রীভূত খাদ্যশস্য সংরক্ষণ নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করা
সমবায় ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীভূত খাদ্যশস্য সংরক্ষণ পরিকল্পনা সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়নে একটি সমন্বিত পদ্ধতির প্রতিনিধিত্ব করে। PACS স্তরে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, সংগ্রহ এবং বণ্টন ব্যবস্থাকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে এই পরিকল্পনা উৎপাদন কেন্দ্রের কাছাকাছি খাদ্যশস্য ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করে।
এই উদ্যোগ খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি, খাদ্যশস্যের অপচয় কমায় এবং গ্রামীণ সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করে। বিদ্যমান প্রকল্পগুলির সমন্বয়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিকল্পনাটির পর্যায়ক্রমিক সম্প্রসারণকে সমর্থন করা হচ্ছে। দেশের বিকেন্দ্রীভূত কৃষি পরিকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদী খাদ্যশস্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই কাঠামো একটি সমবায়ভিত্তিক পদ্ধতির প্রতিফলন।
তথ্যবিবরণী
Ministry of Cooperation
https://www.cooperation.gov.in/en/worlds-largest-grain-storage-plan-cooperative-sector-0
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2146718®=3&lang=2
https://www.cooperation.gov.in/sites/default/files/2025-08/DGSP%20English%20Margdarshika%20SOP.pdf
https://www.cooperation.gov.in/en/worlds-largest-decentralized-grain-storage-program-cooperative-sector-ensure-food-security
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2241928®=3&lang=1
Ministry of Agriculture and Farmers Welfare and ICAR
http://www.ftic.co.il/2016NewDelhiPDF/PP047-052-A008-SESSION02.pdf
https://agriwelfare.gov.in/Documents/Time_Series_3rdAE_2025_26_En.pdf
Ministry of Consumer Affairs, Food & Public Distribution
https://dfpd.gov.in/WriteReadData/AnnualRecordUploadDocuments/b9c640b8-5889-4ffd-a62d-5b56c5d4f029_Food%20AR%202024-25%20English%20small%20size.pdf
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2210211
Ministry of Finance
https://www.indiabudget.gov.in/economicsurvey/doc/echapter.pdf
PIB Backgrounder
https://www.pib.gov.in/PressReleseDetailm.aspx?PRID=2172351®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2215759®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/FactsheetDetails.aspx?Id=150721®=48&lang=1
Click to see pdf
*****
PS/AL