কৃষিমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন

প্রকাশিত: 01 SEP 2026 4:28PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 

 

কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান আজ নতুনদিল্লির কৃষি ভবনে 'প্রধানমন্ত্রী ধান-ধান্য কৃষি যোজনা' (পিএম - ডিডিকেওয়াই)-র অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন। এই পর্যালোচনায় চিহ্নিত ১০০টি জেলায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা, জেলা-স্তরের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং গৃহীত পদক্ষেপগুলি যাতে কৃষকদের জন্য পরিমাপযোগ্য ফলাফল ও বাস্তব সুফল বয়ে আনে তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পর্যালোচনা চলাকালীন, প্রকল্পের ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে মন্ত্রীকে পিএম - ডিডিকেওয়াই-র অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এর মধ্যে ছিল জেলা-ভিত্তিক কর্মদক্ষতা, জেলা কর্মপরিকল্পনা, কেন্দ্রীয় নোডাল অফিসারদের দ্বারা প্রাথমিকপর্যায়ে তদারকি, আর্থিক অগ্রগতি, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রকল্পের সমন্বয় এবং সুবিধাভোগী-স্তরের ফলাফল ট্র্যাক করার জন্য তৈরি করা বিভিন্ন ব্যবস্থা।

১০০টি জেলায় তথ্য-ভিত্তিক তদারকি

পিএম - ডিডিকেওয়াই-র লক্ষ্য হলো কৃষি উৎপাদনশীলতা কম, শস্য নিবিড়তা কম এবং কৃষি ঋণ বিতরণের হার কম - এমন ভিত্তিতে চিহ্নিত ১০০টি জেলায় কৃষি উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা।
এই প্রকল্পটি ছয়টি মূল লক্ষ্যের ওপর গুরুত্ব দেয়। কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শস্য বৈচিত্র্যকরণ ও টেকসই কৃষি পদ্ধতির প্রসার, ফসল তোলার পরবর্তী পর্যায়ে সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, সেচ পরিকাঠামোর উন্নয়ন, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কৃষি ঋণ প্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি, এবং শাসনব্যবস্থা ও পরিষেবা প্রদানের মান উন্নয়ন।
১১টি মন্ত্রক ও বিভাগের ৩৬টি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সমন্বয়ের পাশাপাশি রাজ্য-স্তরের প্রকল্প এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বার্ষিক লক্ষ্যের বিপরীতে অগ্রগতি তদারকির জন্য ৩৬টি প্রকল্পের আওতায় মোট ১২১টি সূচক চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪টি 'আউটপুট' (ফলাফল-প্রক্রিয়া) সূচক এবং ৪৭টি 'আউটকাম' (বাস্তব প্রভাব) সূচক রয়েছে। পিএম - ডিডিকেওয়াই ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে আউটপুট সূচকগুলির ভিত্তিতে জেলাগুলির কর্মদক্ষতার ক্রমতালিকা তৈরি করা হয়। অন্যদিকে, আউটকাম সূচকগুলি ভিত্তিমানের (বেসলাইন) তুলনায় অগ্রগতির মূল্যায়ন করতে সহায়তা করবে।
ছয়টি লক্ষ্যের ক্ষেত্রে ১০০টি জেলার গড় স্কোর ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের ২২.৫৪ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ৩৮.৮৫-এ উন্নীত হয়েছে, যা ১৬.৩১ পয়েন্টের উন্নতি নির্দেশ করে।
এই সময়কালে লক্ষ্য-ভিত্তিক কর্মদক্ষতার ক্ষেত্রেও উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে। কৃষি উৎপাদনশীলতার গড় স্কোর এপ্রিলের ২.৫৩ থেকে বেড়ে জুলাই মাসে ৬.৭০ হয়েছে। ফসল বৈচিত্র্যকরণ ও টেকসই কৃষি চর্চা ৫.৬০ থেকে ৮.৬৫, ফসল-পরবর্তী সংরক্ষণ সক্ষমতা ২.৬১ থেকে ৩.৮২, সেচ পরিকাঠামো ১.৬৫ থেকে ৪.২০, কৃষি ঋণ প্রাপ্তির সুযোগ ২.৮১ থেকে ৫.৫৯, এবং সুশাসন ও সেবা প্রদান ৭.৯৪ থেকে ১০.৩৩।

১০০টি জেলাতেই 'ডিস্ট্রিক্ট অ্যাকশন প্ল্যান' (ডিএপি) আপলোড করা হয়েছে

পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, ১০০টি জেলাতেই তাদের 'ডিস্ট্রিক্ট অ্যাকশন প্ল্যান' (ডিএপি) আপলোড করা হয়েছে এবং প্রতিটি জেলার পরিকল্পনার ওপর প্রয়োজনীয় মতামত বা ফিডব্যাক প্রদান করা হয়েছে।
১০০টি জেলাতেই জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত 'আউটপুট ইন্ডিকেটর' বা ফলাফল-সূচকের বিপরীতে তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য 'আউটকাম-ইন্ডিকেটর' বা প্রভাব-সূচকের তথ্যও সব জেলা থেকে জমা পড়েছে।
পর্যালোচনা ও তদারকির জন্য রাজ্য, জেলা ও জাতীয় স্তরে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, কেন্দ্রীয় নোডাল অফিসাররা প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়মিতভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করছেন।

কৃষকদের কাছে সুফল ও ফলাফল পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব

পর্যালোচনায় কেবল কর্মসূচি ও ব্যয়ের হিসাব রাখার গণ্ডি পেরিয়ে, প্রকৃত ফলাফল এবং কৃষকরা কী সুফল পাচ্ছেন তা পরিমাপের লক্ষ্যে তদারকি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পিএম - ডিডিকেওয়াই ড্যাশবোর্ডের 'আর্থিক অগ্রগতি মডিউল' চালু করা হয়েছে। সুবিধাভোগীদের অগ্রগতির তথ্য সুশৃঙ্খলভাবে সংগ্রহের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে 'সুবিধাভোগী অগ্রগতি মডিউল' চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
উন্নত ও শক্তিশালী এই ড্যাশবোর্ডটি 'ধন-ধান্য' জেলাগুলিতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রকল্প এবং অন্যান্য উৎস থেকে গৃহীত বিনিয়োগ ও পদক্ষেপগুলির তথ্য একত্রিত করতে সহায়তা করবে।
এর ফলে চিহ্নিত জেলাগুলিতে নিয়োজিত সম্পদ, গৃহীত কার্যক্রম, উপকৃত কৃষক এবং অর্জিত ফলাফলের একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

কৃষক ও সম্প্রসারণ কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি

সক্ষমতা বৃদ্ধি পিএম - ডিডিকেওয়াই বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ সময়ের মধ্যে মোট ৬,৯০,৫৩০ জন কৃষক এবং ৮৮,৯৬১ জন সম্প্রসারণ কর্মীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, এই সময়ের মধ্যে ২,২০,৬৮৩ জন কৃষক ও সম্প্রসারণ কর্মীকে প্রাকৃতিক কৃষি বা 'ন্যাচারাল ফার্মিং'-এর ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রমের জন্য 'কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র'গুলিকে কারিগরি সহযোগী হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে; এর মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং কৃষকদের মাঝে উন্নত কৃষি পদ্ধতির প্রসার ঘটানো সহজ হচ্ছে।

সমন্বয় ও অংশীদারিত্ব জোরদারকরণ

পর্যালোচনায় ১১টি মন্ত্রক ও বিভাগের ৩৬টি কেন্দ্রীয় প্রকল্প, রাজ্য প্রকল্প এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের উদ্যোগগুলির মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গণ-উদ্যোগ বিভাগ ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ সালের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারি ক্ষেত্রের সংস্থাগুলির দ্বারা সিএসআর কর্মসূচির আওতায় পিএম-ডিডিকেওয়াই (পিএম - ডিডিকেওয়াই) জেলাগুলিকে দত্তক নেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে চিহ্নিত জেলাগুলিতে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তার একটি অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এই ধরনের সমন্বয় ও বিনিয়োগের বিষয়গুলি নথিবদ্ধ করার লক্ষ্যে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে জোরদার করা হচ্ছে, যাতে 'ধন-ধান্য' জেলাগুলিতে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগের সম্মিলিত প্রভাব মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়।

অক্টোবর মাসে পিএম-ডিডিকেওয়াই-এর এক বছর পূর্তি

২০২৫ সালের ১৬ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা পিএম-ডিডিকেওয়াই-এর অনুমোদন দেয় এবং ১১ অক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এর সূচনা করেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে পিএম-ডিডিকেওয়াই ড্যাশবোর্ডটি চালু করা হয় এবং নভেম্বর মাস থেকে মাসিক ফলাফল-সূচক ভিত্তিক র‍্যাঙ্কিং বা ক্রমতালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়।
যেহেতু ২০২৬ সালের অক্টোবরে এই প্রকল্পের প্রথম বছর পূর্ণ হতে চলেছে, তাই ১০০টি 'ধন-ধান্য' জেলার অগ্রগতি ও কর্মদক্ষতা তুলে ধরার জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া রবি মরসুম সংক্রান্ত এবং আঞ্চলিক সম্মেলনগুলিতেও এই অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরা হবে।
পর্যালোচনা সভায় কৃষি মন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একটি বৈঠক আয়োজনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি জেলা 'ধন-ধান্য' কমিটিতে দুজন করে প্রগতিশীল কৃষককে মনোনীত করার প্রস্তাবের মাধ্যমে কৃষকদের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

 


SC/PM/SB


(রিলিজ আইডি: 2305600) ভিজিটরের কাউন্টার : 4
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , हिन्दी , Gujarati , Tamil