PIB Backgrounder
প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা
প্রতিটি কৃষকের জন্য সাশ্রয়ী ফসল বিমা
প্রকাশিত:
29 AUG 2026 6:53PM by PIB Kolkata
২৯ আগস্ট, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY) দেশজুড়ে খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, শিলাবৃষ্টি, কীটপতঙ্গ, রোগ, বীজ বপন করতে না পারা, স্থানীয় বিপর্যয়, জলমগ্নতার কারণে ক্ষতি, অসময়ের বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং নির্দিষ্ট ফসল কাটার পরবর্তী ক্ষতির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমা সুরক্ষা প্রদান করে। ২০২৬–২৭ সালের জন্য ১২,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে PMFBY কৃষকদের জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, জীবিকা সুরক্ষা, আয় স্থিতিশীলতা এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষিকে আরও শক্তিশালী করে চলেছে। প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর খরিফ ২০১৬ থেকে রবি ২০২৫–২৬ পর্যন্ত গত ১০ বছরে ৯২.৪৬ কোটিরও বেশি কৃষক আবেদন বিমার আওতায় এসেছে এবং ২৬.৩৩ কোটিরও বেশি কৃষক আবেদনের ক্ষেত্রে ২.০৬ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিমা দাবি মেটানো হয়েছে। ইল্ড এস্টিমেশন সিস্টেম বেসড অন টেকনোলজি (YES-TECH) এবং ওয়েদার ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ডেটা সিস্টেম (WINDS)-এর মতো প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের সংযুক্তিকরণ দ্রুততর, ন্যায্য এবং আরও স্বচ্ছভাবে বিমা দাবি নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রকল্পটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ফসল বিমার মাধ্যমে গ্রামীণ জীবিকা সুরক্ষিত করা
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রতিকূল আবহাওয়া, কীটপতঙ্গ এবং রোগের কারণে ফসলের ক্ষতি হলে ফসল বিমা কৃষকদের সুরক্ষা প্রদান করে। সময়মতো ক্ষতিপূরণ পাওয়ায় কৃষকরা আয়ের আকস্মিক ধাক্কা সামলাতে, ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে, ঋণ পরিশোধ করতে এবং পরবর্তী চাষের মরশুমে বিনিয়োগ করতে পারেন। এর ফলে, কৃষির সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়, জীবিকা সুরক্ষিত হয় এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতিতেও কৃষি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
২০১৬-র ১৮ ফেব্রুয়ারি সর্বাধিক সংখ্যক কৃষককে ফসল বিমার আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY) চালু করা হয়। এই প্রকল্পে বীজ বপনের আগের পর্যায় থেকে শুরু করে বীজ বপন করতে না পারা বা ব্যর্থ হওয়া, মরশুমের মাঝামাঝি ব্যাপক প্রতিকূল পরিস্থিতি, শিলাবৃষ্টি, জলমগ্নতা, ভূমিধস ইত্যাদির কারণে নির্দিষ্ট জমিতে স্থানীয় ক্ষয়ক্ষতি এবং ফসল কাটার পর ঘূর্ণিঝড়, অসময়ের বৃষ্টি ও অন্যান্য নির্দিষ্ট কারণে হওয়া ক্ষতির ঝুঁকিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কৃষকদের আরও বেশি সংখ্যায় এই প্রকল্পে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে বিমার প্রিমিয়ামের হার কম ও সাশ্রয়ী রাখা হয়েছে।
২০২৬–২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে PMFBY-এর জন্য ১২,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা ফসল বিমা এবং কৃষকদের বিমা সুরক্ষার প্রতি সরকারের ধারাবাহিক অঙ্গীকারকে আরও জোরদার করেছে।
PMFBY-এর বাস্তব প্রয়োগ: এক কৃষকের ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনি
অসমের নগাঁও জেলার চনখালা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আনোয়ার হুসেন তাঁর পরিবারের জীবিকার জন্য সম্পূর্ণভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। প্রবল বৃষ্টিতে তাঁর ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঋণ পরিশোধ এবং পরবর্তী মরশুমের চাষের জন্য অর্থের ব্যবস্থা নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন।
সৌভাগ্যবশত, আনোয়ার মাত্র ১০০ টাকা নামমাত্র প্রিমিয়াম দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় (PMFBY) নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। ফসলের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের পর তিনি এই প্রকল্পের আওতায় ৫০,৬০০ টাকা ক্ষতিপূরণ পান। সময়মতো পাওয়া এই আর্থিক সহায়তা তাঁকে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে, ঋণের একটি অংশ পরিশোধ করতে এবং পরবর্তী মরশুমের জন্য কৃষি উপকরণে বিনিয়োগ করতে সাহায্য করে। এই সহায়তার ফলে আনোয়ার আর্থিক সংকটে না পড়ে নতুন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম হন। বর্তমানে তিনি গ্রামের অন্যান্য কৃষকদেরও ফসল বিমা করানোর জন্য জোরালোভাবে উৎসাহিত করেন। তাঁর মতে, সংকটের সময় PMFBY একটি সুরক্ষা বলয় হিসাবে কাজ করে।
PMFBY ফসলের ক্ষতির বিরুদ্ধে আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করে এবং কৃষকদের আয় স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি, এটি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি, ফসলের বৈচিত্র্যকরণ এবং উৎপাদনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করে।
কৃষকদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক বিমা সুরক্ষা
নির্ধারিত যোগ্যতার শর্তসাপেক্ষে PMFBY বর্গাদার ও ভাগচাষি-সহ কৃষকদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ফসল বিমা সুরক্ষা প্রদান করে। কৃষকদের বিমাযোগ্য স্বার্থ থাকতে হবে এবং রাজ্যভিত্তিক পূর্বনির্ধারিত প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী বৈধ জমির নথি, জমির অধিকার বা চাষের চুক্তিপত্র অথবা বীজ বপনের শংসাপত্র থাকতে হবে।
পাশাপাশি, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে হবে। সকল কৃষকের ঝুঁকির আওতায় অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে PMFBY কৃষিঋণ গ্রহণকারী এবং কৃষিঋণ না নেওয়া- উভয় ধরনের কৃষককেই বিমা সুরক্ষা প্রদান করে।
কৃষিঋণ না নেওয়া কৃষক হলেন সেই কৃষকরা, যাঁদের কোনো ফসল ঋণ নেই অথবা যাঁদের কিষান ক্রেডিট কার্ড (KCC)-এর সঙ্গে যুক্ত ঋণ নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সক্রিয় নয়। তাঁরা স্বেচ্ছায় PMFBY-তে নাম নথিভুক্ত করে ফসল বিমার সুরক্ষা নিতে পারেন। গত ১০ বছরে গড়ে মোট কৃষকের ৫০ শতাংশ স্বেচ্ছায় কৃষিঋণ না নেওয়া কৃষক হিসেবে এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন। এর ফলে, কৃষকদের মধ্যে প্রকল্পটির প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে।
কৃষিঋণ গ্রহণকারী কৃষক হলেন সেই কৃষকরা, যাঁরা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে মরশুমি ফসল ঋণ নেন এবং তাঁদের ঋণ বা KCC সক্রিয় ও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী থাকে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তাঁদের ঋণের পরিমাণ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিমার প্রিমিয়াম কেটে নেয়।
PMFBY সাধারণভাবে ফসলের ক্ষতি বা নষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে এমন সব ধরনের প্রাকৃতিক ও জলবায়ুজনিত বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমা সুরক্ষা প্রদান করে। তবে, সংশ্লিষ্ট ফসলের বিমা করা থাকতে হবে এবং পূর্বনির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বিমা সংস্থার কাছে প্রয়োজনীয় প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে। তবে, বিমার আওতাভুক্ত নয় এমন এলাকায় ফসলের ক্ষতি, নির্ধারিত ফসল উৎপাদন পর্বের বাইরে অর্থাৎ বীজ বপনের আগে বা জমি থেকে ফসল সরিয়ে নেওয়ার পর হওয়া ক্ষতি এবং অবহেলা, মানুষের কারণে সৃষ্ট বা প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকির কারণে হওয়া ক্ষতি এই বিমার আওতায় পড়ে না।
আওতাভুক্ত ঝুঁকি
চাষাবাদ ও ফসল কাটার বিভিন্ন পর্যায়ে ফসলের ক্ষতির বিরুদ্ধে PMFBY বিমা সুরক্ষা প্রদান করে:
ফসলের ফলন হ্রাস (দাঁড়িয়ে থাকা ফসল, বিজ্ঞপ্তি জারি করা এলাকার ভিত্তিতে): PMFBY বিজ্ঞপ্তি জারি করা এলাকার ভিত্তিতে খরা, বৃষ্টিহীন শুষ্ক সময়, বন্যা, জলমগ্নতা, ঘূর্ণিঝড়, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত, কীটপতঙ্গ ও রোগের মতো প্রতিরোধ করা যায় না এমন ঝুঁকির বিরুদ্ধে বিমা সুরক্ষা প্রদান করে।
বীজ বপন করতে না পারা: বিমাকৃত কৃষকরা চাষের জন্য খরচ করার পরও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বীজ বপন করতে না পারলে, তাঁরা বিমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য হবেন।
ফসল কাটার পরবর্তী ক্ষতি: জমিতে শুকানোর জন্য “কেটে জমিতে ছড়িয়ে রাখা” অবস্থায় থাকা ফসল ফসল কাটার পর সর্বোচ্চ ১৪ দিন পর্যন্ত নির্দিষ্ট ঘূর্ণিঝড় ও অসময়ের বৃষ্টির কারণে হওয়া ক্ষতির বিরুদ্ধে বিমার আওতায় থাকবে।
স্থানীয় বিপর্যয়: নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে শিলাবৃষ্টি, ভূমিধস, জলমগ্নতা, মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক আগুনের কারণে পৃথক কৃষিজমিতে হওয়া ক্ষতি বিমার আওতায় রয়েছে।
তবে, যুদ্ধ, পারমাণবিক ঝুঁকি, দাঙ্গা, চুরি, নির্দিষ্ট ফসল কাটার পরবর্তী পরিস্থিতি এবং অন্যান্য প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকির কারণে হওয়া ক্ষতি PMFBY-এর আওতায় পড়ে না।
PMFBY-এর অগ্রগতি ও সাফল্য
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে PMFBY-তে কৃষকদের অংশগ্রহণ, বিমার আওতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। খরিফ মরশুমের খাদ্যশস্য ও তৈলবীজ ফসলের জন্য কৃষকদের সর্বোচ্চ ২ শতাংশ এবং রবি মরশুমের খাদ্যশস্য ও তৈলবীজ ফসলের জন্য সর্বোচ্চ ১.৫ শতাংশ প্রিমিয়াম দিতে হয়। বাণিজ্যিক ও উদ্যানপালন ফসলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রিমিয়াম ৫ শতাংশ। বাকি প্রিমিয়ামের খরচ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার ৫০:৫০ অনুপাতে বহন করে। উত্তর-পূর্ব ও হিমালয়ান রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কৃষকদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের ভর্তুকির অনুপাত ৯০:১০। এই সাশ্রয়ী প্রিমিয়াম কাঠামো দেশের সর্বত্র আরও বেশি সংখ্যক কৃষকের কাছে ফসল বিমাকে সহজলভ্য করে তুলতে সাহায্য করেছে।
২০২৬-এর খরিফ মরশুমে বর্তমানে ২৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে PMFBY বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকে ৯২.৪৬ কোটিরও বেশি কৃষক আবেদন বিমার আওতায় এসেছে এবং ২৬.৩৩ কোটিরও বেশি কৃষক আবেদনের ক্ষেত্রে ২.০৬ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিমা দাবি মেটানো হয়েছে।
২০২৫-এর খরিফ মরশুমে ২২৯.৭৭ লক্ষ কৃষক ২৬৯.৩৮ লক্ষ হেক্টর জমির জন্য ফসল বিমার আওতায় এসেছিলেন। এর মাধ্যমে ফসল সংক্রান্ত বিভিন্ন ঝুঁকির বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। এবছর খরিফ মরশুমে ইতিমধ্যেই বিমার আওতায় আসা কৃষকের সংখ্যা এবং বিমাকৃত জমির পরিমাণ ২০২৫-এর খরিফ মরশুমের তুলনায় বেশি হয়েছে। এ বছর ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ২৪১.৩৮ লক্ষ কৃষক বিমার আওতায় এসেছেন এবং ২৭৮.১২ লক্ষ হেক্টর জমি বিমাকৃত হয়েছে, যা দেশে ফসল বিমার ধারাবাহিক বিস্তারের চিত্র তুলে ধরে।
২০২৫-এর খরিফ মরশুমের জন্য ইতিমধ্যেই ৬০.৮৯ লক্ষ যোগ্য কৃষককে ৯,৮৩৭.৬১ কোটি টাকার বিমা দাবি মেটানো হয়েছে, যা ফসলের ক্ষতির সময় কৃষকদের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
২০২৪–২৫ সালে দেশে PMFBY-তে কৃষকদের নাম নথিভুক্তির সংখ্যা সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। এই সময়ে ১৫.২৩ কোটিরও বেশি কৃষক আবেদন বিমার আওতায় এসেছে। এর মাধ্যমে ৪ কোটিরও বেশি কৃষক এবং ৬২৩ লক্ষেরও বেশি হেক্টর জমি বিমার আওতায় এসেছে।
বর্গাদার ও ভাগচাষি কৃষকরাও এই প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত ও বিমাকৃত হন। ২০১৮ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে ১.৪৪ কোটিরও বেশি এই ধরনের কৃষক এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন।
রাজ্যভিত্তিক অগ্রগতি ও গুরুত্বপূর্ণ দিক
প্রধান রাজ্যগুলির পুনরায় যুক্ত হওয়া প্রকল্পের প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন
PMFBY-এর কাঠামোর প্রতি রাজ্য সরকারগুলির আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রমাণ মিলছে দেশের প্রধান কৃষিপ্রধান রাজ্যগুলির পুনরায় এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে। এর আগে এই রাজ্যগুলির কয়েকটি PMFBY থেকে সরে গিয়ে নিজেদের ফসল সহায়তা বা ত্রাণ প্রকল্প চালু করেছিল।
অন্ধ্রপ্রদেশ ২০২২-এর খরিফ মরশুম থেকে পুনরায় PMFBY-তে যুক্ত হয়েছে।
ঝাড়খণ্ড ২০২৪-এর খরিফ মরশুম থেকে পুনরায় PMFBY-তে যুক্ত হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ ২০২৬-এর খরিফ মরশুম থেকে পুনরায় PMFBY-তে যুক্ত হয়েছে।
বিহারও জাতীয় এই প্রকল্পের আওতায় ফিরে এসে ২০২৬–২৭ সালের রবি মরশুম থেকে PMFBY বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজ্যগুলির এই পুনরায় যুক্ত হওয়ার প্রবণতা আঞ্চলিক, বিমাহীন ত্রাণভিত্তিক মডেলের তুলনায় কেন্দ্রীভূত এই প্রকল্পের কার্যকারিতা এবং কৃষকদের জন্য এর আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে।
মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্রপ্রদেশে সর্বজনীনকরণ ব্যবস্থা বন্ধের প্রভাব:
রাজ্যভিত্তিক নাম নথিভুক্তির প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫–২৬ মরশুমে দেশে বিমার আওতায় আসা কৃষক আবেদনের সামান্য হ্রাস মূলত মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্রপ্রদেশে কেন্দ্রীভূত। এর প্রধান কারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতিতে পরিবর্তন, কৃষকদের মধ্যে প্রকল্পটির প্রতি আস্থার ব্যাপক হ্রাস নয়।
২০২৩ ও ২০২৪ সালে উভয় রাজ্যেই “সর্বজনীনকরণ পদ্ধতি” চালু ছিল। এই ব্যবস্থায় সমস্ত কৃষকের হয়ে রাজ্য সরকার বিমার প্রিমিয়ামের ১০০ শতাংশ বহন করত। এর ফলে, ২০২৪-এর খরিফ মরশুমে কৃষকদের নাম নথিভুক্তির হার অত্যন্ত বেশি হয়েছিল।
২০২৫ সালে উভয় রাজ্যই কৃষকদের প্রিমিয়ামের ১০০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার এই ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে প্রত্যাশিতভাবেই কৃষকদের নাম নথিভুক্তির সংখ্যা কমে যায়:
২০২৫-এর খরিফ মরশুমে অন্ধ্রপ্রদেশে কৃষকদের নাম নথিভুক্তির সংখ্যা ৭৭ শতাংশ কমে যায়। ২০২৪-এর খরিফ মরশুমে এই সংখ্যা ৩১.৯২ লক্ষ থেকে ২০২৫-এর খরিফ মরশুমে ৭.৪৩ লক্ষে নেমে আসে। ২০২৬-এর খরিফ মরশুমে অবশ্য এই প্রবণতার পরিবর্তন হয়েছে। এ বছর ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ১৬.২২ লক্ষ কৃষক এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন, যা ২০২৫-এর খরিফ মরশুমের তুলনায় ১০৮ শতাংশ বৃদ্ধি।
একইভাবে, ২০২৫-এর খরিফ মরশুমে মহারাষ্ট্রে কৃষকদের নাম নথিভুক্তির সংখ্যা ৪০ শতাংশ কমে যায়। ২০২৪-এর খরিফ মরশুমে এই সংখ্যা ৭৬.৫৯ লক্ষ থেকে ২০২৫-এর খরিফ মরশুমে ৪৫.৯৯ লক্ষে নেমে আসে। ২০২৬-এর খরিফ মরশুমে ২৮ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ৪২.৫৫ লক্ষ কৃষক নাম নথিভুক্ত করেছেন, যা ২০২৫-এর খরিফ মরশুমের সংখ্যার ৯২ শতাংশ। এই সামান্য হ্রাস মূলত প্রকল্পের আওতা থেকে রাজ্যের কিছু অতিরিক্ত বিমা দাবিকে বাদ দেওয়ার কারণে হয়েছে।
অন্যান্য প্রধান রাজ্যগুলিতে ধারাবাহিক ও শক্তিশালী বৃদ্ধি
এই রাজ্যভিত্তিক ও স্থানীয় নীতিগত পরিবর্তনের সম্পূর্ণ বিপরীতে, অন্যান্য প্রধান কৃষিপ্রধান রাজ্যগুলিতে ২০২৫-এর খরিফ মরশুমে কৃষকদের নাম নথিভুক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে:
উত্তরপ্রদেশে সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে। বিমার আওতায় থাকা কৃষকের সংখ্যা ১৫.৪৮ লক্ষ থেকে বেড়ে ২০.৮৪ লক্ষে পৌঁছেছে।
হরিয়ানায়ও ধারাবাহিক বৃদ্ধির প্রবণতা বজায় রয়েছে। ২০২৫-এর খরিফ মরশুমে বিমার আওতায় আসা কৃষকের সংখ্যা ২০ শতাংশ বেড়ে ৪.৪৯ লক্ষে পৌঁছেছে, যা ২০২৪-এর খরিফ মরশুমের ৩.৭৫ লক্ষ থেকে বেশি। এর আগে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কৃষক নথিভুক্তির ক্ষেত্রে ৮২ শতাংশ উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল।
রাজস্থানে বিমার আওতায় থাকা কৃষকের সংখ্যা ১৯ শতাংশ বেড়েছে। কৃষকের সংখ্যা ৩০.৫৯ লক্ষ থেকে বেড়ে ৩৬.৪৫ লক্ষে পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রদেশে বিমার আওতায় থাকা কৃষকের সংখ্যা ১২ শতাংশ বেড়ে ২৬.৮০ লক্ষে পৌঁছেছে।
ছত্তিশগড়ে বিমার আওতায় থাকা কৃষকের সংখ্যা ৯ শতাংশ বেড়ে ১৫.৭৫ লক্ষে পৌঁছেছে।
ওড়িশায় বিমার আওতায় থাকা কৃষকের সংখ্যা ৫ শতাংশ বেড়ে ২৪.৯২ লক্ষে পৌঁছেছে।
এই ধারাবাহিক ইতিবাচক বৃদ্ধির প্রবণতা দেশের প্রধান কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলিতে কৃষি ঝুঁকির বিরুদ্ধে বিমা সুরক্ষার জন্য কৃষকদের দৃঢ় ও স্বতঃস্ফূর্ত চাহিদার প্রমাণ দেয়।
PMFBY বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী করতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ
স্বচ্ছ, সময়মতো এবং নির্ভুল ফসল বিমা পরিষেবা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ডিজিটাল ও প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে PMFBY বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ন্যাশনাল ক্রপ ইন্স্যুরেন্স পোর্টাল (NCIP)-এর মাধ্যমে কৃষকদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে নাম নথিভুক্তি, ভর্তুকি পরিচালনা, সমন্বয় এবং তথ্যপ্রচার করা হয়। এর পাশাপাশি, বিমার আওতায় থাকা কৃষকদের তথ্য পাওয়া, প্রাপ্য বিমা দাবির হিসাব করা এবং সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বৈদ্যুতিন পদ্ধতিতে বিমার অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থাও এই পোর্টালের মাধ্যমে করা হয়।
NCIP-এর সঙ্গে জমির নথির সংযুক্তিকরণ: রাজ্যগুলির ই-ল্যান্ড রেকর্ডের মাধ্যমে বিমার আওতায় থাকা জমির পরিমাণ যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, কর্ণাটক, হরিয়ানা, হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ এবং ওড়িশায় জমির নথির ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই রাজ্যগুলিতে বিমার আওতায় থাকা জমির প্রায় ৮৫ শতাংশ এখন সংযুক্ত জমির নথির মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। এর ফলে, জমির সঠিক অবস্থান, বিমাকৃত জমির পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কৃষককে সঠিকভাবে শনাক্ত করা নিশ্চিত হচ্ছে।
ডিজিক্লেম মডিউল: ২০২২-এর খরিফ মরশুম থেকে চালু হওয়া এই মডিউলের মাধ্যমে NCIP-এ স্বচ্ছভাবে বিমা দাবির হিসাব ও নিষ্পত্তি করা হয়।
NCIP-এর মাধ্যমে বিমা দাবিগুলি প্রক্রিয়াকরণ করা হয় এবং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (PFMS)-এর মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হয়। কৃষক পর্যায় পর্যন্ত বিমা দাবির পুরো প্রক্রিয়ার নজরদারিও এই ব্যবস্থার মাধ্যমে করা সম্ভব। এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৫৫,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিমা দাবির হিসাব করা হয়েছে এবং অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
ক্রপ কাটিং এক্সপেরিমেন্ট (CCE)-Agri App: এই অ্যাপের মাধ্যমে CCE-এর ফলন সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহ করে NCIP-এ আপলোড করা যায়। এই ফলনের তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিমা ইউনিটের প্রকৃত ফলন নির্ধারণ করা হয় এবং ফসলের ফলন কমে যাওয়ার কারণে প্রাপ্য বিমা দাবির হিসাব করা হয়। বিমা সংস্থাগুলিও CCE প্রত্যক্ষ করতে পারে। এর ফলে, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং সময়মতো বিমা দাবি নিষ্পত্তিতে সহায়তা করে।
ডিজিটাল উদ্ভাবনের মাধ্যমে ফসল বিমা পরিষেবা আরও শক্তিশালী করা
PMFBY-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কৃষক, বিমা সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থাগুলিকে একটি একক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে তথ্য আদান-প্রদান, স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং আরও সহজ ও সুসংগঠিত ফসল বিমা পরিষেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই পোর্টালের মাধ্যমে জমির এলাকা, ফসল এবং প্রকল্প সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি ডিজিটাল করা হয়েছে, হাতে-কলমে কাজের প্রয়োজন কমেছে এবং বিমা পরিষেবায় প্রবেশাধিকার আরও সহজ হয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এবং আর্থিকভাবে দুর্বল কৃষকরা এর মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন।
ইল্ড এস্টিমেশন সিস্টেম বেসড অন টেকনোলজি (YES-TECH) রিমোট সেন্সিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি ব্যবহার করে ফসলের ফলনের ন্যায্য ও নির্ভুল হিসাব করতে সাহায্য করে। ২০২৩-এর খরিফ মরশুমে ধান ও গম এবং ২০২৪-এর খরিফ মরশুমে সয়াবিনের জন্য এটি চালু করা হয়। শুরুতে YES-TECH-এর মাধ্যমে নির্ধারিত ফলনকে অন্তত ৩০ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হতো। বর্তমানে কয়েকটি রাজ্যে এই গুরুত্বের হার বেড়ে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ হয়েছে।
ওয়েদার ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ডেটা সিস্টেম (WINDS) ব্লক ও গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে অত্যন্ত স্থানীয় আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন এবং অটোমেটিক রেন গেজ ব্যবহার করে। এই তথ্য ফল, সবজি ও বাগান ফসলের জন্য আবহাওয়াভিত্তিক ফসল বিমা প্রকল্প বাস্তবায়ন, YES-TECH-এর মাধ্যমে ফসলের ফলন নির্ধারণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং অন্যান্য পরামিতিভিত্তিক বিমা পরিষেবায় সহায়তা করে।
কালেকশন অফ রিয়েল-টাইম ফোটোস অ্যান্ড অবজারভেশনস অফ ক্রপস (CROPIC): এই ব্যবস্থায় জিও-ট্যাগযুক্ত ছবি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট বিমা ইউনিটে ফসলের সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়মিতভাবে যাচাই করা হয়। ছবিভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন এবং ফলন নির্ধারণেও এটি সহায়তা করবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর জন্য দেশজুড়ে পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কৃষি রক্ষক পোর্টাল ও হেল্পলাইন (KRPH)-এর মাধ্যমে কৃষকরা ফসল বিমা সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে, সহায়তা চাইতে এবং অভিযোগের নিষ্পত্তির অগ্রগতি জানতে একটি নির্দিষ্ট টোল-ফ্রি হেল্পলাইন (১৪৪৪৭) ব্যবহার করতে পারেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দেশজুড়ে এটি চালু করা হয়। তারপর থেকে বিমাকৃত কৃষকদের ২৬.১২ লক্ষ অভিযোগের সমাধান করা হয়েছে এবং ৯৯.৬৬ শতাংশ অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে।
লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (LMS) একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে ফসল বিমা সম্পর্কে জ্ঞান ও ধারণা আরও বিস্তৃত করে। অ্যাপ ফর ইন্টারমিডিয়ারি এনরোলমেন্ট (AIDE)-এর মাধ্যমে কৃষিঋণ না নেওয়া কৃষকদের বাড়ির দোরগোড়ায় গিয়ে নাম নথিভুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। বিমা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ফসল বিমাকে আরও সহজলভ্য করে তুলছে এই ব্যবস্থা। একইভাবে, ক্রপ লস অ্যাসেসমেন্ট অ্যাপ (CLAP) স্থানীয় বিপর্যয়ের কারণে পৃথক কৃষিজমিতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে, তা ফসলের ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত সমীক্ষার মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিভুক্ত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে, দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বিমা দাবির হিসাব এবং নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে।
এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগগুলি দ্রুত কৃষক নথিভুক্তি, নির্ভুল ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন, সময়মতো বিমা দাবি নিষ্পত্তি এবং কৃষকদের অভিযোগের কার্যকর সমাধানের মাধ্যমে PMFBY-কে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলেছে।
পুনর্গঠিত আবহাওয়াভিত্তিক ফসল বিমা প্রকল্প (RWBCIS)
PMFBY-এর পাশাপাশি, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার পুনর্গঠিত আবহাওয়াভিত্তিক ফসল বিমা প্রকল্প (RWBCIS) বাস্তবায়ন করছে। RWBCIS একটি আবহাওয়া সূচকভিত্তিক প্রকল্প, যেখানে ফসলের প্রকৃত ফলন হ্রাসের মূল্যায়নের পরিবর্তে নির্দিষ্ট আবহাওয়াগত পরামিতিকে ফসলের ক্ষতির একটি “সূচক” হিসাবে ব্যবহার করে প্রাপ্য বিমা দাবির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ফসলের জীবনচক্রকে বিভিন্ন নির্দিষ্ট বৃদ্ধির পর্যায়ে ভাগ করা হয় এবং প্রতিটি পর্যায়ে ফসলের ঝুঁকিপ্রবণতার ভিত্তিতে বিমাকৃত অর্থ বরাদ্দ করা হয়।
প্রকল্পটি নির্ধারিত রেফারেন্স ইউনিট এলাকা (RUA)-এর ভিত্তিতে “এরিয়া অ্যাপ্রোচ” অনুসরণ করে পরিচালিত হয়।
স্থানীয় বিজ্ঞপ্তিপ্রাপ্ত আবহাওয়া কেন্দ্রগুলিতে মাপা
বৃষ্টিপাতের ঘাটতি বা অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, শুষ্ক সময়, অত্যধিক তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং বাতাসের গতির মতো পরিমাপযোগ্য আবহাওয়াগত সূচক পূর্বনির্ধারিত সীমা থেকে নির্দিষ্ট মাত্রায় পরিবর্তিত হলে বিমার অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা কার্যকর হয়। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি শিলাবৃষ্টি ও মেঘভাঙা বৃষ্টির মতো তীব্র স্থানীয় বিপর্যয়ের জন্য কৃষিজমি পর্যায়ে অতিরিক্ত বিমা সুরক্ষাও দিতে পারে। PMFBY-এর মতোই সাশ্রয়ী প্রিমিয়াম হারে—ফসলের ধরন অনুযায়ী ১.৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ—চালু থাকায় RWBCIS একটি জনপ্রিয় আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসাবে রয়েছে। বিশেষ করে ফল, সবজি ও বাগান ফসলের ক্ষেত্রে ২০২৬-এর খরিফ মরশুমে ২৫.৯৫ লক্ষ কৃষক আবেদন এবং ১২.৩১ লক্ষ হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে।
PMFBY-এর মাধ্যমে কৃষি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পরিবর্তন
গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা
(PMFBY) ভারতের কৃষি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উঠে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনা এবং জৈবিক ঝুঁকির বিরুদ্ধে এটি লক্ষ লক্ষ কৃষককে আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করছে। সাশ্রয়ী প্রিমিয়ামের সঙ্গে ফসলের সমগ্র জীবনচক্রকে বিমার আওতায় এনে এই প্রকল্প কৃষকদের আয়ের আকস্মিক ধাক্কার ঝুঁকি কমিয়েছে। পাশাপাশি, আধুনিক কৃষি উপকরণ, উন্নত বীজ এবং উন্নত কৃষি পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে কৃষকদের সক্ষমতাও বাড়িয়েছে।
NCIP, DigiClaim, CCE Agri App, CLAP, YES-TECH এবং WINDS-এর মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ PMFBY-এর আওতায় বিমা দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও গতি বাড়িয়েছে। এই প্রযুক্তিগুলি PMFBY-কে আরও কার্যকর ও দায়বদ্ধ করে তুলেছে। ভারত যখন জলবায়ু-সহনশীল কৃষির দিকে এগিয়ে চলেছে, তখন আগামী দিনগুলিতে কৃষকদের জীবিকা সুরক্ষিত রাখা, কৃষিক্ষেত্রে সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে PMFBY গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।
তথ্যবিবরণী
Ministry of Agriculture and Farmers Welfare
https://pmfby.gov.in/pdf/New%20Schemes-english_.pdf
https://agriwelfare.gov.in/en/CropInsurance
https://www.myscheme.gov.in/schemes/pmfby
https://agriwelfare.gov.in/en/CropInsurance
https://www.pib.gov.in/PressReleseDetail.aspx?PRID=2097959®=3&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2089250®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2148513®=3&lang=2
Microsoft Word - lu431
https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/186/AU1610_Vz2gT8.pdf?source=pqals
https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/184/AU269_UCTI1z.pdf?source=pqals
https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/186/AU2752_K8yh1l.pdf?source=pqalshttps://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/186/AU2582_mUayeg.pdf?source=pqals
https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/186/AU2608_FGMVt9.pdf?source=pqals
https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/187/AU496_DO5aVo.pdf?source=pqals
https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/184/AU431_EwtiAQ.pdf?source=pqals
https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/184/AU431_EwtiAQ.pdf?source=pqalsHhttps://www.myscheme.gov.in/schemes/pmfby
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2004173®=48&lang=2
https://agriwelfare.gov.in/en/CropInsurance
https://pmfby.gov.in/pdf/New%20Schemes-english_.pdf
https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/186/AU2582_mUayeg.pdf?source=pqals
https://pmfby.gov.in/adminStatistics/dashboard
https://pmfby.gov.in/aboutUs
https://pmfby.gov.in/pdf/RWBCIS_Revised_Guidelines_1.pdf
Ministry of Finance
https://www.indiabudget.gov.in/doc/eb/allsbe.pdf
Success Story
https://www.youtube.com/watch?v=sXEjHod1ltY
PIB Backgrounders
https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?id=155010&NoteId=155010&ModuleId=3®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/FactsheetDetails.aspx?ModuleId=16&NoteId=150838&id=150838&lang=2®=48&utm_source
Click here to see PDF
SSS/RP......
(রিলিজ আইডি: 2304621)
ভিজিটরের কাউন্টার : 2